,

কুমিল্লায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 2, 2026
news-image

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নুরপুর (গুদিরপুকুর পাড়) এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ অমান্য করে অবৈধভাবে বসতবাড়ির জমি দখল, গাছপালা কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী মো: আবুল কালাম আজাদ সর্দার (৬০) বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন— ঐ এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে সালেহ আহমেদ (৪৫), সাদেক (৩৫) ও মাহাবুবুল ইসলাম (৪০)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বাদী আবুল কালাম আজাদ সর্দার শর্তসাপেক্ষে আনোয়ার হোসেনের নিকট ০৬ শতক জায়গা বিক্রি করেন। তবে পরবর্তীতে শর্ত ভঙ্গ করে আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গত ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল মালিককে না জানিয়ে বিবাদীগণের নিকট উক্ত জায়গা বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে বাদীর প্রিয়েমশন মামলা (নং- ৪১৮/২০২৬) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীগণ গাছপালা কেটে অবৈধ নির্মাণকাজ শুরু করলে বিজ্ঞ আদালত গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে উক্ত জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Injunction) জারি করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় বাদী আদালতে একটি ভায়োলেশন মামলা (নং- ০৫/২০২৬) দায়ের করেন। এছাড়া নক্সা অনুমোদন না থাকায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষও (স্মারক নং-৩০৮) বিবাদীগণকে নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণকাজ স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার নোটিশ দেয়।

ভূক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ সর্দার জানান, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ উপেক্ষা করে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিবাদীগণ ১৫-২০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে পুনরায় আমাদের বসতবাড়িতে অবৈধ কাজ শুরু করে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করা এবং বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

ঘটনা তদন্তের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন পাটোয়ারী জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো প্রকার বেআইনি কাজ বা বিশৃঙ্খলা ঘটানোর সুযোগ নেই। তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।”