All posts by jitu

নোয়াখালীতে যুবকের ম’রদেহ উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা থেকে পুলিশ এক যুবকের ম’রদেহ উদ্ধার করেছে।

নিহত যুবকের নাম মোশারেফ হোসেন (৩০)। সে উপজেলার ৬নং কাবিলপুর ইউনিয়নের পূর্ব ইয়ারপুর গ্রামের ফজর আলী টেন্ডল বাড়ির মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের পূর্ব ইয়ারপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বসত ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহ’ত্যা করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্ত্রীর সাথে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যে দেখা দেয় মোশারেফ হোসেনের। এ ঘটনার জের ধরে সে তার নিজ বসত ঘরের আড়ার সঙেঙ্গ ফাঁস লাগিয়ে আত্মহ’ত্যা করে। খবর পেয়ে সেনবাগ থানার এসআই বিকাশ সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লা’শটি উদ্ধারপূর্বক সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে থানায় নিয়ে আসেন।

সেনবাগ থানার ওসি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ম’রদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃ’ত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আমার সাংবাদিকতার স্মৃতিতে তোয়াব খান

 

আবুল হাসানাত বাবুল :

১৯৮০ সালের আগস্ট মাসে ঢাকার সার্কিট হাউজ সড়কে বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পাবার সুযোগ পেয়েছিলাম। সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লার তিনজন এই প্রশিক্ষণ পাবার সুযোগ লাভ করে। তার মধ্যে আমি একজন। সাপ্তাহিক আমোদ থেকে আমার নাম পাঠিয়েছিলেন আমার সাংবাদিকতার অভিভাবক আমোদ সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী।

আমাদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন হোটেল গোল্ডেন গেইটে। একদিন আগে যাই। রাত্রিযাপন করি। সকাল সাড়ে সাতটায় পিআইবির গাড়ি হোটেল থেকে আমাদের নিয়ে যায়। পিআইবির পুরনো ভবনের প্রশিক্ষণ কক্ষে প্রবেশ করি। ঢাকার ১২ জন সহ মোট ১৫ জন দশদিনের এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি। অংশগ্রহণকারীদের নাম, পত্রিকার নাম টেবিলে দেখতে পেলাম। এসব দেখে গৌরববোধ করলাম। দৈনিক বাংলা, সংবাদ, বিচিত্রা, সচিত্র সন্ধানী, হলিডে, দৈনিক দেশ, সংগ্রামসহ আরো কিছু পত্রিকার নাম দেখলাম।

সূচনায় যিনি পরিচয়পর্ব জানতে চাইলেন তিনি নিজেকে পরিচয় দিলেন ঊর্মি জাহাঙ্গীর নামে। পাশে ছিলেন পিআইবির প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রশিক্ষক আমার অগ্রজ সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম নাসিম। একইসঙ্গে ঊর্মি জানালেন আপনাদের প্রথম ক্লাশ নেবেন পিআইবির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক তোয়াব খান। তাকে প্রথমে দেখে আমার মনে হয়েছিল তিনি নিশ্চয়ই ইউরোপীয়। সুন্দর, সুপুরুষ। গায়ের রঙ চাঁপাফুলের মতো। যখন কথা বলা শুরু করলেন তখন বুঝতে পারলাম তিনি খাঁটি বাঙ্গালী। প্রথমে সবার পরিচয় আরেকবার জানলেন। আমরা যারা ঢাকার বাইরের তাদের হোটেলে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা, কোন অসুবিধা আছে কিনা তা জানতে চেয়ে এত সহজে আমাদের সঙ্গে মিশে গেলেন তারপর তাঁর থেকে আর চোখ ফিরিয়ে নিতে পারি নাই। বুনিয়াদি সাংবাদিকতায় আমার প্রথম প্রশিক্ষক তোয়াব খানের প্রথম কথাটাই ছিল, “আপনার লেখা সংবাদটাকে পাঠক সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।” এই শ্রদ্ধেয় প্রশিক্ষকের সেদিনের প্রথম কথাটা ৪২ বছর ধরে আজো অন্তরে ধারণ করি। একজন সাংবাদিক হবেন সবচেয়ে বিশ্বাসী মানুষ। তারপরে কঠিন বাস্তব কথাটা বললেন। “যত প্রশিক্ষণই আপনারা গ্রহণ করেন আপনাদের মালিক-সম্পাদক আপনাদেরে যেভাবে খবর রচনা করতে বলবেন আপনারা সেভাবেই সংবাদ লিখতে বাধ্য হবেন। কেননা মালিক-সম্পাদকের লক্ষ্যই বাণিজ্য। বাণিজ্যে সফল হলেই সংবাদপত্র সফল।” ৪২ বছর আগে তার কথাগুলো জীবনের প্রতিটি ধাপে দেখতে পেয়েছি। পাচ্ছি। তারপর পাঁচ ডব্লিউ ভাল করেই বুঝালেন। এও বললেন কম করে হলেও তিন ডব্লিউ লাগবেই। কিভাবে যে চল্লিশ মিনিট চলে গেল বুঝতেই পারিনি। পাশের কক্ষে প্রবেশ করলাম। সকালের নাস্তা করলাম। পরের ক্লাস নিতে এলেন দৈনিক বাংলার সম্পাদক আহমেদ হুমায়ুন। তিনিও সুন্দর-সুপুরুষ। দীর্ঘদেহী কিন্তু তোয়াব খানের শারীরিক গঠন, কথা বলার ধরণ এতটা আন্তরিক ছিল যেকারণে কোনদিন তাকে ভুলে যাইনি। আহমেদ হুমায়ুনের হাতে সেদিনের দুটি পত্রিকা থাকতো। একটি দৈনিক বাংলা। অপরটি কলকাতার আনন্দ বাজার। নিজে যে সংবাদপত্রের সম্পাদক সেই পত্রিকার খবরের এবং শিরোনামের ভুল ধরতেন। পাশাপাশি আনন্দবাজারের খবরের, খবরের শিরোনামের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতেন। সেই সময়কালে মহানায়ক উত্তম কুমার মারা গিয়েছিলেন। খবরের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে তার উপমা দিয়েছিলেন আনন্দবাজার থেকে। উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর অমর নায়িকা সুচিত্রা সেন যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তা ছিল, “আমি হেরে গেলাম”, তার নিচে সুচিত্রা সেন।

পিআইবিতে ১৯৯১ সালে দৈনিক রূপসী বাংলা থেকে ‘পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতা’য় প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ১৯৯৬ সালে নিজের সংবাদপত্র অভিবাদন থেকে ‘নির্বাচনে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেছিলাম কিন্তু ১৯৮০ সালে তোয়াব খানের ক্লাসের সঙ্গে আর কারো ক্লাসকে মিলাতেই পারি না। ১৯৮৬ সালে পিআইবি’র মহাপরিচালক হিসেবে তোয়াব খান কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সম্মেলনে এসেছিলেন। সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন চৌধুরী।

সমিতির নীতিমালা অনুযায়ী দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ এবং পরিচয়পত্র থাকতে হয়। দৈনিক রূপসী বাংলায় রাতদিন কাজ করলেও আমার নিয়োগপত্র ছিল চট্টগ্রামের দৈনিক মিছিলের। এর ফলে সেই সময়কালে সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলাম। সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠান উপস্থাপন করতে গিয়ে সমিতির সব দাবী-দাওয়া তুলে ধরি। এবিষয়ে সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আবেগ দিয়ে দাবীনামা পেশ করেছিলেন। অতিথি অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম এডভোকেট, কুমিল্লা পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সাংবাদিকদের দাবী মেনে নিয়েছিলেন। সবার শেষে তোয়াব খান বলেছিলেন, “আমরা সবাই আপনাদের দাবী মেনে নিলাম কিন্তু আপনাদের মালিক-সম্পাদকরা কি আপনাদের দাবী মেনে নেবেন?” একজন পেশাদার অসাধারণ সাংবাদিক তোয়াব খানের পক্ষেই এমন মন্তব্য মানায়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতায় আমার প্রথম প্রশিক্ষক তোয়াব খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ৮৭ বছর বয়সে তিনি চিরবিদায় নিলেও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস থেকে তিনি কোনদিন বিদায় নেবেন না।

দেবিদ্বারে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার শিকারের অভিযোগ এমপি ও চেয়ারম্যান গ্রুপের

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন – এমন অভিযোগ একে অপরের বিরুদ্ধে করেছেন স্থানীয় সাংসদ রাজী ফখরুল ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো.আবুল কালাম আজাদের সমর্থিত নেতাকর্মীরা । তবে স্থানীয় সূত্রমতে, ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।এ সময় দুই গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ভিংলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সোমবার রাতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে পৌরসভার আলিয়াবাদ এলাকায় পূজামন্ডপ পরিদর্শনে আসেন। একই সময়ে একই এলাকায় স্থানীয় এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলও তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে পূজামন্ডপ পরিদর্শন করছিলেন । ওই সময় বহরের গাড়ি রাখা নিয়ে উভয়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

পরে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ তাঁর গাড়ি বহর নিয়ে পৌরসভার ফতেহাবাদ এলাকার একটি পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ভিংলাবাড়ি সড়কে আসেন।ওই সময় এমপি রাজী ফখরুলের গাড়ি বহর আলিয়াবাদের মন্ডপ পরিদর্শন শেষে ফতেহাবাদ এলাকার অন্য আরেকটি মন্ডপে যাওয়ার পথে ভিংলাবাড়ি সড়কে আসলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তখন ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।এতে উভয়পক্ষের ১০/১২ জন আহত হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিটি পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় এমপি রাজী ফখরুলের নেতা-কর্মীরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আলিয়াবাদ এলাকায় আমার নেতা-কর্মীদের মারধর করে। পরে আমি আমার নেতা-কর্মীদের নিয়ে ফতেহাবাদ এলাকায় একটি পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ভিংলাবাড়ি এলাকায় পৌছালে পুনরায় তাঁরা হামলা চালায়। আমি থামাতে গেলে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। সন্ত্রাসীরা আমার ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করেছে এবং আমার সরকারি গাড়ীতেও গুলি করেছে, সৌভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে যাই। আমার ৫/৬জন নেতা-কর্মীকে পিঠিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত সজিব নামে একজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল জানান, আমরা লক্ষ্য করছি গতকাল রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও কয়েকটি মিডিয়ায় মিথ্যাচার করছে উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন। পূজা চলাকালে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে যার যার কাজ তাদের শান্তিপূর্নভাবে করা উচিত ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান আজাদ গ্রুপ পরিস্থিতি অন্য দিকে ধাবিত করার জন্য নোংরা রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছে। আমার গাড়ি বহর আলিয়াবাদের মন্ডপ পরিদর্শন শেষে ফতেহাবাদ এলাকার অন্য আরেকটি মন্ডপে যাচ্ছিল। ওই পথে অপেক্ষা করছিলেন উপজেলা চেয়ারম্য্না ও তার লোকজন। যখনই আমার গাড়ি ওই সড়ক অতিক্রম করছিলেন, তখন উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদের লোকজন আমার গাড়ি বহর লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং চারদিক থেকে লাঠিসোঠা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা করে। যদিও গুলিবর্ষণের আগেই আমার গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থল অতিক্রম করায় কোন ক্ষতি হয়নি। তবে গাড়ি বহরে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমার নেতাকর্মীরাও সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে । পরে শুনেছি স্থানীয় লোকজন চেয়ারম্যানের কর্মীদেরকে ধাওয়া করেছে।স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি- চারদিক থেকে তাদের নেতাকর্মীর ছোড়া ইটপাটকেলে তাদের কয়েকটা গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গেছে। মূলত ঘটনা এটি। চেয়ারম্যান গ্রুপ ঘটনা অন্য দিকে ধাবিত করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। বিগত কয়েক মাসে দেবিদ্বারে অনেক অনাকাংখিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে চেয়ারম্যান আজাদ গ্রুপ। কিন্তু আমি সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। সংঘর্ষে না জড়াতে আমার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি । বিগত কয়েক মাস পূর্বেও চেয়ারম্যান আজাদের নেতৃত্বে আমার গাড়ি আটকিয়ে “ নৌকার দালালেরা হুশিয়ার সাবধান” শ্লোগান দিয়েছিল। গাড়িতে লাথি দিয়েছিল। কিন্তু আমি যেহেতু শান্তিপূর্ণ রাজনীতি পচ্ছন্দ করি , তাই নেতাকর্মীদের চুপ থাকতে বলেছিলাম। ধৈর্য সহকারে প্রায় ২ ঘন্টা আজাদের অবরোধে ছিলাম। বিগত কয়েক মাসে আমার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সাজানো মামলায় আসামি করা হয়েছে । আমরা যদি নোংরা রাজনীতি করতাম তাহলে অনেক আগেই অনেকবার সংঘর্ষে লিপ্ত হতাম।কিন্তু আমি নোংরা রাজনীতিকে ঘৃণা করি। হিন্দু ধর্মীয় বড় অনুষ্ঠান চলাকালে আমরা কেন হামলা করতে যাবো-এটা হাস্যকর অভিযোগ। মূলত আমরা যাতে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে না যেতে পারি সেজন্য আমাদের বহরে হামলা করেছে। পরে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করছে। আমি আশা করবো তারা নোংরা রাজনীতির পথ ছেড়ে সুষ্ঠু ও ঐক্যের রাজনীতি শুরু করবে।

কু‌মিল্লা নগরী‌র হো‌টেল ও ফা‌র্মেসী‌তে অ‌ভিযা‌ন: ৩ প্রতিষ্ঠান‌কে জ‌রিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:

কু‌মিল্লা মহানগরী‌তে ভোক্তা অ‌ধিদপ্ত‌রের তদার‌কি অ‌ভিযা‌নে ৩ প্রতিষ্ঠান‌কে জ‌রিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ৪ অ‌ক্টোবর) সকাল ১০টা থে‌কে ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ অ‌ধিদপ্তর, কু‌মিল্লা কার্যাল‌য়ের সহকারী প‌রিচালক মো: আছাদুল ইসলা‌মের নেতৃ‌ত্বে নিউমা‌র্কেট ও সদর হাসপাতাল এলাকার নিত‌্যপণ‌্য, হো‌টেল ও ফা‌র্মেসী‌তে তদার‌কি অ‌ভিযান প‌রিচালনা করা হয়।  এ অ‌ভিযা‌নে জেলা পু‌লি‌শের এক‌টি টিম উপ‌স্থিত থে‌কে সা‌র্বিক সহ‌যো‌গিতা ক‌রেন।

এ সময় নিউমা‌র্কেট এলাকায় সরকার নির্ধা‌রিত রে‌টে চি‌নি ও সয়া‌বিন তেল বি‌ক্রি হ‌চ্ছে কিনা তদার‌কি করা হয়, ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল‌কে সরকার নির্ধা‌রিত রে‌টে ক্রয়-‌বিক্রয় কর‌তে নি‌র্দেশনা দেওয়া হয়।

অস্বাস্থ‌্যকর প‌রি‌বে‌শে খাবার প্রস্তুত, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও সেবার মূল‌্য তা‌লিকা দুশ‌্যমান স্থা‌নে না থাকায় নিউমা‌র্কেট এলাকার আমা‌নিয়া হো‌টেল এন্ড রেস্টু‌রেন্ট‌কে ৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয় এবং ৫ কে‌জি বা‌সি খাবার ধ্বংস করা হয়। অনু‌মোদনহীন লবণ ব‌্যবহার ও অস্বাস্থ‌্যকরভা‌বে খাবার প্রক্রিয়াকরণ করার অ‌ভি‌যো‌গে মিনার্ভা হো‌টেল‌কে ৩ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়। আর মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বি‌ক্রির উ‌দ্দে‌শ্যে সংরক্ষণ করায় সদর হাসপাতাল এলাকার সি‌টি ফা‌র্মেসী‌কে ১০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয় এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ ক‌রে ধ্বংস করা হয়। আজ মোট তিন প্রতিষ্ঠান‌কে ১৮ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয় এবং সকল‌কে ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ আইন মে‌নে সরকার নির্ধা‌রিত রে‌টে ক্রয়-‌বিক্রয় করার নি‌র্দেশনা দেওয়া হয়।

 

তৃতীয়বারের মতো কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী তৃতীয় বারের মতো  জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য  মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীকে শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে।

কয়েক বছর যাবৎ সরকারি নির্দেশনায় দেশের অন্যান্য উপজেলার মত দাউদকান্দি উপজেলায়ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য শুধু স্থানীয় সহযোগিতায় মিড ডে মিল স্থায়ী করা যায় না। তাই মিড ডে মিল স্থায়ী করার লক্ষ্যে মেজর মোহাম্মদ আলী দাউদকান্দি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে নতুন বই বিতরণের সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ১টি করে টিফিন বক্স প্রদান করেন। ইতোমধ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের ৩০,০০০ টিফিন বক্স বিতরণ করেছেন। নতুন টিফিন বক্স পাওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের বিরতির সময় বাড়িতে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে এবং তাদের দৈনিক উপস্থিতি সুনিশ্চিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, দাউদকান্দি উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুতায়তন করে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করার পদ্ধতি চালু করাসহ প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলগামী করতে অসামান্য আবদান রাখা, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার সমগ্রি বিতরণসহ নানান অবদানের জন্য দাউদকান্দি উপজেলার চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনীত হন। পরে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় বারের মতো জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঐ বছরই চট্রগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরও জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী।

কুবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বলবৎ থাকবে- টক শোতে জানালেন জয়

 

নাঈমুর রহমান রিজভী, কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বলবৎ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

সোমবার (৩ অক্টোবর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভ টক শো’তে তিনি বিষয় নিশ্চিত করেন।

টক শো’তে তিনি বলেন, বর্তমানে যে কমিটি আছে সেটি বলবৎ থাকবে। এ মাসের শেষে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের হাতে কমিটি তুলে দিব।

কমিটি’র বিলুপ্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা একই দিনে ৩টি ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ দিয়েছি। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে যে প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে সেটাতে সম্মেলনের তারিখ দেওয়ার চিন্তা ছিল। কিন্তু ভুলবশত সম্মেলনের তারিখ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে প্রেস রিলিজটি শেয়ার হয়ে গেছে এবং আমরা এই অনাকাঙিক্ষত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

এর আগে গত শুক্রবার রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি করা হয়। পরে নোটিশ সরিয়ে নিলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বাড়তে শুরু করে। পরে কমিটি বিলুপ্তি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদের একাধিক নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের মধ্যে তথ্যগত পার্থক্য দেখা যায়।

পরে কমিটি বিলুপ্তির সংবাদে বহিরাগতদের নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে প্রতিপক্ষ। এসময় ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকাগুলি করে তারা। তারা বের হয়ে গেলে বর্তমান কমিটির সভাপতির অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বের হন এবং প্রশাসনের সাথে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার জের ধরে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল আবাসিক হল বন্ধে ঘোষণা করে এবং পরে হল সিলগালা করে দেওয়া হয়। হলত্যাগের সময় কয়েকজন নেতা প্রতিপক্ষের মারধরের শিকার হোন।

 

যেন রাতের তারারা কাশবনে

 

-রেজাউল করিম (সাকিব)

সাদা কাশফুলের দোলা
শরৎ এর মাতাল হাওয়া
উড়ে ভেড়ায় সাদা মেঘেরা

ঐ কাশ ফুলের বনে
যেন সাদা মেঘেরা দোলে
পাখির মিতালি সুরে
সন্ধ্যায় কাশ বনে সূর্য্য যায় হারিয়ে

পূর্ণিমায় চাঁদের আলোয়
শরতের মুগ্ধতার মাতাল হাওয়া

জোনাক পোকার আলোয় কাশবনে
যেন রাতের তারারা কাশবনে
জোছনার আলোয় মিঠু পথে
নদীর কলকল ধ্বনি কানে বাজে
আহা কি মুগ্ধ এই রূপ

ইহা আমার গ্রামের শরতের রূপ
আহা কি মায়াবী রূপ

সামান্য বৃষ্টিতেই তিতাসের বাতাকান্দি বাজারে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বৃহত্তর বাতাকান্দি বাজারে অথৈই পানি, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে হাটু পানি। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতারা পরে চরম ভোগান্তিতে।

রবিবার রাতের বৃষ্টিতে বাতাকান্দি বাজার জামে মসজিদ রাস্তায় জমেছে হাটু পানি। রাস্তার দুপাশে রয়েছে কাপড় দোকান, লাইব্রেরি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও চায়ের দোকান।সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো দোকানে নেই ক্রেতা, দোকানিরা চুপ হয়ে বসে আছে। বাজারের মুসল্লিরাও কয়েক গলি ঘুরে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে হয়।

কাপড় দোকানী আবদুল হালিম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে এই রাস্তায় হাটু পানি জমে থাকে, একারনে ক্রেতারা এই রাস্তা দিয়ে না আসায় আমাদের বেচা বিক্রি নাই। আরেক দোকানী আলম বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই এখানে হাটু পানি জমে থাকে।

চা বিক্রেতা হুমায়ন মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে আমার চা বিক্রি কমে যায়। কারন রাস্তায় পানি জমে থাকায় চা পিপাসিরা আর আসেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে দুইটি কমিটি আছে কিন্তু বাজারের পানি নিষ্কাশনের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো.নুর নবী চেয়ারম্যান বলেন, কিছু দিন পূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার ও উপজেলা প্রকৌশলীসহ আমরা একটা পরিকল্পনা করেছি শুটকি বাজার দিয়ে একটি ড্রেনেজ নির্মাণ করা হবে এবং পুরাতন ড্রেন গুলো আরও প্রসস্থ করে সংযোগ করে দেয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, বাতাকান্দি বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেছি। আশা করি চলতি অর্থ বছরেই ব্যবস্থা হবে।

মুরাদনগরে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টায় শিক্ষক কারাগারে

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ৭ বছরের এক ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা মামলায় মাদ্রাসা
শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকর উত্তর ত্রিশ গ্রামের দারুল
কোরআন হিফজ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (২৩) মুরাদনগর উপজেলার গান্দ্রা গ্রামের
আবুল হোসেনের ছেলে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের গ্রামের আবুল হাশেম এর ৩য় তলা ভবনের নিচ à¦