All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামে অস্ত্রধারী যুবলীগ নেতার অস্ত্রটি জমা দিলেন স্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান জুয়েলের ব্যবহৃত এ-৩৫৪৯১৬ মডেলের রাইফেল, ৮৬ রাউন্ড গুলিসহ চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা প্রদান করেছেন তার স্ত্রী ফারজানা হক।

সম্প্রতি যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান জুয়েলের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রটির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সেটি তার স্ত্রী ফারজানা হক চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা দিয়েছেন। আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা। এর আগে শুক্রবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্রটি থানায় জমা দেওয়া হয়।

ওসি জানান, ‘মনিরুজ্জামান জুয়েলের হাতে থাকা অস্ত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মনিরুজ্জামান জুয়েলের অস্ত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় জনমনে ভয়ভীতি ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাই অস্ত্রটি জমা নেওয়া হয়। পরে আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্রটি থানায় জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করি। এরপর তাঁর স্ত্রী ফারজানা হক গতকাল রাতে থানায় এসে ছাড়পত্র নিয়ে ৮৬ রাউন্ড গুলিসহ জার্মানির তৈরি ২ পয়েন্ট ২ বোর অস্ত্রটি আমাদের কাছে জমা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু অস্ত্রটি মনিরুজ্জামান জুয়েলের লাইসেন্স করা, তাই আমরা তাঁর পরিবারকে অস্ত্রটি থানায় জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করি।’ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘আপাতত অস্ত্রটি জমা নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদারের ওপর নালঘর বাজারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর শাহাজালালের ফেসবুক আইডি থেকে মনিরুজ্জামান জুয়েলের হাতে অত্যাধুনিক একটি আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি ভাইরাল হয়। তবে এখনো মনিরুজ্জামান জুয়েলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

কে এই অস্ত্রধারি জুয়েল ?

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লাজুড়ে এখন ভাইরাল চৌদ্দগ্রামের মোস্তফা মনিরুজ্জামান। এলাকায় তিনি জুয়েল নামেই পরিচিত। এক সময় বেলজিয়ামে থাকায় কেউ কেউ তাঁকে ডাকেন বেলজিয়াম জুয়েল নামেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে তিনি এখন ভাইরাল। অত্যাধুনিক মডেলের সেই অস্ত্র নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনাও। কেউ কেউ বলছেন, এমন ‘ভারী’ অস্ত্র গেল কী করে তাঁর কাছে? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুয়েলের নামে ওই অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। দেখতে অস্ত্রটি ভারী মনে হলেও এটি পয়েন্ট টু টু বোরের, যা পাবলিক বোর হওয়ায় লাইসেন্স পাওয়া যায়।

অবশ্য অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্স থাকলেও এ ধরনের অস্ত্র জনমনে ভীতি ছড়ায়। এজন্য দেখতে ভারী, এমন অস্ত্র লাইসেন্সের বিপরীতে বিক্রিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এর আগে পয়েন্ট টু টু বোরের উজি মডেলের রাইফেল আমদানিও নিরুৎসাহিত করে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্র নিয়ে ভাইরাল হওয়া জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর পরও তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন কী করে- সেই প্রশ্নও উঠেছে। তাঁর নামে ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্সের কপিতে দেখা যায়, গত বছরের ২৯ আগস্ট কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইস্যু করা হয়েছে সেটি। লাইসেন্সের ২০২১-২০২২ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, দলে কোনো পদ-পদবি না থাকলেও জুয়েল চৌদ্দগ্রামে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কর্মী হলেও দাপটের সঙ্গেই চলেন। সব সময় অস্ত্র হাতে থাকায় লোকজনও তাঁকে ‘সমীহ’ করে চলেন। নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও রাজনীতির পাশাপাশি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্ব দেন এই জুয়েল। পরে বিদেশি অস্ত্র হাতে থাকা তাঁর দুটি ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পরই আলোচনায় আসেন তিনি। যদিও ভাইরাল হওয়ার পর আত্মগোপনে তিনি।

পুলিশের দাবি, ভাইরাল হওয়া ছবি দুটি আগের। হামলার সময়ের নয়। তবে বিষয়টি তদন্তের পর প্রমাণ হলে জুয়েলের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নালঘর গ্রামের আলী আকবর মজুমদারের দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে জুয়েল ছোট। জুয়েলের বড় ভাই মোস্তফা নুরেরজ্জমান খোকন ছিলেন চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। জুয়েলের বোনেরা সবাই বেলজিয়াম প্রবাসী। জুয়েলও দীর্ঘদিন বেলজিয়ামে অবস্থান করে বছর খানেক আগে দেশে ফিরে এসে যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। জুয়েল এবং তাঁর পরিবার স্থানীয় এমপি ও সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের অনুসারী। তবে দলে তাঁদের কোনো পদ-পদবি নেই। বাবা আলী আকবর মজুমদার এবং হামলায় আহত চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার চাচাতো ভাই। এক সময় মুজিবুল হকের সঙ্গে শাহজালাল মজুমদারের গুরু-শিষ্যের মতো রাজনৈতিক সখ্য থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি এবং ১৮ জানুয়ারিতে তাঁকে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অনাস্থা প্রদান করা হয়। এর পর থেকে গুরু-শিষ্যে বেশ টানাপোড়েন ও গ্রুপিং চলছে। এতে জুয়েলও শাহজালালের সঙ্গ ত্যাগ করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, জুয়েল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের মিয়াবাজারের গ্রিন ভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে এক হাতে অস্ত্র ও অন্য হাতে সিগারেট টানছেন। অন্য একটি ছবিতে একটি রাস্তায় একই অস্ত্র হাতে হাঁটছেন জুয়েল। আহত শাহজালাল মজুমদারের অভিযোগ, ভাইরাল হওয়া অস্ত্র নিয়েই মনিরুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে। তবে জুয়েল আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

শুক্রবার স্থানীয় এমপি মুজিবুল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস ছোবহান ভূঁইয়া হাসানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

তবে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান এখনও কোনো অভিযোগ দেননি। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পেরেছে হামলার সময় জুয়েলের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা-পয়সা লেনদেনের তিনটি মামলায় থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে ওসি বলেন, তারা তদন্ত করে দেখেছেন অস্ত্রটি লাইসেন্স করা। পুরো বিষয়টি তদন্ত চলছে। সে বৈধ অস্ত্র অবৈধ কাজে প্রদর্শন করার প্রমাণ পেলে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অ্যান্টি ইলিগ্যাল আর্মস টিমের একজন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেন, এম-ফাইভ মডেলের এই অস্ত্র অটোমেটিক নয়, এটি সিঙ্গেল শটের। তবে এটি দেখে জনভীতি তৈরি হওয়ায় এসব অস্ত্র ব্যবহারে সব সময়েই নিরুৎসাহিত করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, কয়েক বছর আগে এ ধরনের অস্ত্র আমদানি করেছিলেন বৈধ ডিলাররা।

সূত্র: সমকাল।

সরাসরি বৈঠকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে খাসোগি ‘হত্যাকারী’ বললেন বাইডেন

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

শুক্রবার সৌদি আরব সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেখানে সকল সন্দেহ বাতিল করে দিয়ে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকেই অভিযুক্ত করলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি তেলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সৌদি আরবকে চাপ দিলেন।

নিউ ডেইলির খবরে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব পৌঁছানোর পর বাইডেনকে স্বাগত জানান ক্রাউন প্রিন্স নিজেই। তবে তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাইডেন জানান, তিনি খাসোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্রাউন প্রিন্সকেই দায়ি করেছেন। এছাড়া দুই নেতার মধ্যে জ্বালানি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। সৌদি আরব জ্বালানি সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যা করা হয় ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স নিজেই। যদিও প্রথম থেকেই তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে বাইডেন আবারও নতুন করে তাকেই দোষী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বাইডেন বলেন, আমি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমি সে সময় এ নিয়ে যা ভাবতাম এবং এ নিয়ে আমার এখনকার অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করেছি তার কাছে।

এ নিয়ে আমি একদম সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমার দৃষ্টিভঙ্গি তার কাছে পানির মতো স্বচ্ছ করার চেষ্টা করেছি। তাকে আমি বলেছি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি মানবাধিকার নিয়ে চুপ থাকতে পারি না। এটি হবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাইডেন বলেন, ক্রাউন প্রিন্স এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আমি তাকে বলেছি যে, আমার বিশ্বাস আপনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের নির্বাচনী প্রচারণা চলার সময়েও বাইডেন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। খাসোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি আরবকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনেন বাইডেন। তাতে স্পষ্ট হয় যে, ক্রাউন প্রিন্সের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বাইডেন। শুক্রবার জেদ্দার আস-সালাম প্রাসাদে এই আলোচনা হয় বলে সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সি জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সফরের শেষ পর্যায়ে বাইডেন এখন সৌদি আরব রয়েছেন। প্রথমেই তিনি ইসরাইল এবং পরে ফিলিস্তিন সফর করেন বাইডেন। পরে তিনি ইসরাইলের তেল আবিব থেকে সরারসি ফ্লাইটে জেদ্দা আসেন। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই সরাসরি ইসরাইল থেকে সৌদি আরব আগমন ঘটল।

খাসোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্রাউন প্রিন্সকে অভিযুক্ত করলেও এমবিএসের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক মিত্রতা নিয়ে আলোচনা করেন বাইডেন। এছাড়া আঞ্চলিক ও বিশ্ব-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন। আস-সালাম প্রাসাদে বাদশাহ সালমানের সাথেও বৈঠক করেন বাইডেন। পরে শুক্রবার জেদ্দা হোটেলে বক্তৃতায় বাইডেন বলেন, তিনি বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানেরস সাথে ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ইয়েমেনে ‘স্থিতিশীলকরণে’ সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাইডেন ঘোষণা করেন, তিরান ও সানাফিরের শান্তিরক্ষী বাহিনী তাদের অবস্থান ত্যাগ করবে। এর ফলে দ্বীপ দুটিতে বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়বে। তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

মনোহরগঞ্জে ঘুমের মধ্যে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা: ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে গৃহবধূ সরস্বতী রানীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী রঞ্জিত চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করেছে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ওইদিন বিকাল ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী সরস্বতী রানী (৩০) কে কুপিয়ে হত্যা করে রঞ্জিত চন্দ্র দাস।

নিহত গৃহবধূ সরস্বতী রানী হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে। হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষনপুর ইউনিয়নের লক্ষনপুর মালাকার বাড়ির ঝাল মুড়ি বিক্রেতা সুশীল চন্দ্র দাসের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র দাসের সঙ্গে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে সরস্বতী রানীর গত ১২ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তান হওয়ার পর থেকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত কয়েক মাস আগে সরস্বতী রানী ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে একাই বসবাস শুরু করেন। এ দিকে তার স্বামী রঞ্জিত দাস নিজ এলাকায় একটি সেলুন দোকানে কর্মরত আছেন। তাদের সন্তান দাদা-দাদীর সাথে থাকে। ঈদের ৪ দিন আগে স্বামী রঞ্জিত ঢাকায় গিয়ে স্ত্রী সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার স্বজনদের সাথে দুপুরের খাবার শেষে নিজ ঘরে যায় তারা। বিকাল ৩ টার দিকে সরস্বতী রানীর শোর চিৎকারে আশেপাশে থাকা স্বজনরা গিয়ে দেখেন সরস্বতী রানী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। এসময় তার স্বামী রঞ্জিত চন্দ্র দাস দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয় চিকিৎসককে ডেকে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের বড় ভাই মিন্টু দাস বাদি হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তপন কুমার বাকচীর নেতৃত্বে এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল হক অভিযান চালিয়ে উত্তর হাওলার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ঘাতক রঞ্জিত চন্দ্র দাসকে আটক করে। এসময় তার দেয়া তথ্যমতে তার বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ের কাঁদামাটি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোড়াটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তপন কুমার বাকচী বলেন, নিহতের বড় ভাই মিন্টু দাসের দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আমরা অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী রঞ্জিত চন্দ্র দাসকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোড়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

কুমিল্লার লাকসামে অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল নাসির উদ্দীন (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ-চিতোষী সড়ক মাওলানা সাহেববাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাসির রাজাপুর নাসা হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে চাকরি করতেন। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলা নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের ভরল্লা গ্রামের আবু সায়েদের ছেলে।

নিহত নাসির উদ্দীনের মামাশ্বশুর আজহার মজুমদার বলেন, বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কাজ শেষ করে মাওলানা সাহেববাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাসা হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ খান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেবিদ্বারে শান্ত হত্যা: ১ মিনিটেই হত্যার মিশন শেষ করে ঘাতক সাজিব

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মেহেদী হাসান শান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আদালতে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনার অন্যতম দুই প্রত্যক্ষদর্শী ও ছুরিকাঘাতে আহত আরমান আলম (সিকাব) ও নুরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেন। রাত ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত খাদেমুল বাহার।

আদালতে জবানবন্দীতে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘ধারালো ছোরা হাতে আমেরিকা প্রবাসী আজমুল ফুয়াদ সাজিব (২৩) যখন এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে যাচ্ছিল তখন তাকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে খুন হন মেহেদী হাছান শান্ত। পুরো কিলিং মিশন শেষ হয় এক মিনিটের মধ্যেই। পরে ঘাতক সাজিব মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।’

কিন্তু হত্যা মামলায় সাজিবকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়। জবানবন্দী রেকর্ড করেন আমলী আদালত ৪ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা।

গত ৯ জুলাই বিকালে দেবিদ্বার উপজেলার নুরপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমেরিকা প্রবাসী আজমুল ফুয়াদ সাজিব এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করলে তাকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন মেহেদী হাসান শান্ত। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন আরও ৪ জন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে পর দিন একই গ্রামের আল আমিন, সাদ্দাম, ছগির, বায়েজিদ, সিরাজ ও মোখলেছসহ ৬ জনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত আরমান আলম (সিকাব) ও নুরুল ইসলাম আদালতে জবানবন্দী শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোরা নিয়ে সাজিব ছুরিকাঘাত করে শান্তকে হত্যাসহ আমাদের আরও ৪ জনকে আহত করেছিল, এক মিনিটের মধ্যেই কিলিং মিশন শেষ করা হয়। এ ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে, কিন্তু সাজিবকে আসামি না করে মামলায় ৫ নম্বর সাক্ষী করা হয়।’

তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত হওয়ায় জবানবন্দীতে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত তুলে ধরেছেন বলেও জানান। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত না থাকলেও হত্যা মামলায় ২ নম্বর আসামি করা হয় ক্যান্সার আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনকে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আদালতে জবানবন্দীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) খাদেমুল বাহার।

তিনি বলেন, হত্যা মামলায় বাদী সাজিবের নাম না দিলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত দুই যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে সাজিবের নাম বলেছে। এসব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে প্রবাসী সাজিব পলাতক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একই ঘটনায় ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত আশরাফুল ও রাসেল নামের দুই যুবক এখনো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

এ ঘটনায় আহত আরমানের বাবা খোরশেদ আলম বাদী হয়ে সাজিবকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে বুধবার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যা আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় এফআইআর করা হয়েছে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ঘুমের মধ্যে স্ত্রীকে কুপিয়ে হ’ত্যা, স্বামী পলাতক

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ঝগড়ার পর সরস্বতী রানী (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ঘুমের মধ্যে কুপিয়ে হ’ত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর রঞ্জিত চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে কুপিয়ে হ’ত্যার পর রঞ্জিত চন্দ্র দাস এখন পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ৩ টার দিকে উপজেলার লক্ষনপুর মালেকার বাড়ির নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বিকাল ৫ টার পর পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত গৃহবধূ সরস্বতী রানী মনোহরগঞ্জ লক্ষনপুর মালেকার বাড়ির রঞ্জিত চন্দ্র দাসের স্ত্রী ও হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ লক্ষনপুর ইউনিয়নের লক্ষনপুর মালেকার বাড়ির ঝাল মুড়ি বিক্রিতা সুশীল চন্দ্র দাসের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র দাসের সঙ্গে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে সরস্বতী রানীর সঙ্গে ১২ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বজনদের সাথে দুপুরের খাবারের শেষে নিজ ঘরে যায় তারা। বিকাল ৩ টার দিকে গৃহবধূ সরস্বতী রানীর চিৎকারে আশপাশে থাকা স্বজনরা গিয়ে দেখন সরস্বতী রানীর দেহের বিভিন্ন স্থান কুপানো র’ক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। এসময় তার স্বামী রঞ্জিত দাস দরজা খুলে দৌঁড়ে গিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে পরিবারের লোকজন স্থানী চিকিৎসক নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃ’ত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত গৃহবধূর দেবর সঞ্জিত এর স্ত্রী পপিরানী দাস বলেন, তাদের বিবাহ হওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে অমীল দেখা যায়। দুই থেকে তিন বছর পর তারা আলাদা বসবাস করে। গত কয়েকদিন আগে একসাথে বাড়িতে আসেন, আজ দুপুরে খাবারের পর নিজ ঘরে যায় তারা।পরে তাদের চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে দেখি সরস্বতী রানী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আর তার স্বামী রঞ্জিত দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তপন কুমার বাপ্পি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, তবে এখন পর্যন্ত নিহতের স্বজনেরা কেউ থানায় আসেনি।

সব স্কুলে দেখানো হবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচ

স্পোর্টস ডেস্কঃ

সব মিলিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে টানা ৩৩ ম্যাচ ধরে অপরাজিত আর্জেন্টিনা দল।

এবারের কাতার বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার লিওনেল মেসির দল।

ব্রাজিলের মাঠ থেকে কোপা আমেরিকার শিরোপা ছিনিয়ে আনার পর থেকেই মেসিদের ওপর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে আর্জেন্টিনা দেশটির।

সেই প্রত্যাশায় বিশ্বকাপ শুরুর চার মাস আগেই আর্জেন্টিনার শিক্ষামন্ত্রী জেমি পারজাইক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, কাতার বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ দেশটির সব স্কুলে টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে।