All posts by jitu

অর্থনীতিতে বড় লাফ: ২০২৯ সালের মধ্যেই ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাচ্ছে ভারতের জিডিপি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক:

আইএমএফের (IMF) প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৮-২৯ অর্থবছরে (FY29) ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই তথ্য জানান।

​সংবাদটির বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় তা হলো এই যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬)’ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বর্তমান মূল্যে ভারতের জিডিপি (GDP) আনুমানিক ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

​অর্থমন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং, এমএসএমই (MSME), অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে এক সমন্বিত প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করেছে।

প্রধান কৌশল ও উদ্যোগসমূহ
​সরকার অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে শক্তিশালী করতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

​১. ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্প খাত
​উৎপাদন বৃদ্ধি: প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন লজিস্টিকস পলিসির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​এমএসএমই (MSME) সহায়তা: জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (ECGS), সহজ ‘উদ্যম রেজিস্ট্রেশন’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

​২. সেবা ও উদীয়মান খাত
​ডিজিটাল ও অবকাঠামো: ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বাস্তুতন্ত্র শক্তিশালী করা হচ্ছে।

​২০২৬-২৭ বাজেট ঘোষণা: জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট স্থাপন, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং ‘এভিজিসি’ (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস) কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

​কৌশলগত খাত: সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, ক্লিন এনার্জি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উচ্চ-প্রযুক্তির খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘পিএম-সেতু’ (PM-SETU) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

​৩. কৃষি ও বাণিজ্য
​কৃষিতে সেচ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।

​পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্প্রসারণ এবং জিএসটি (GST) ও আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য
​অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান:
​সারফায়েসাই আইন (SARFAESI Act): ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ১,০৩,১৮০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২,১৫,৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে।

​পুনরুদ্ধার: এর মধ্যে ব্যাংকগুলো সফলভাবে ৩২,৪৬৬ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

শ্রদ্ধা, স্মরণ ও অঙ্গীকারে নোবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচিসমূহে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এদিন সকাল ১০টায় নোবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। শোভাযাত্রা শেষে নোবিপ্রবি শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অতীতের মতো ঐক্য ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নোবিপ্রবিতে একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী কার্যক্রম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচনা থেকে যেটা উঠে এসেছে তা হলো আমাদের ঐক্য দরকার। গণতন্ত্রের জন্য এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে শতশত মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং আহত হয়েছে। আমরা কি জবাব দিবো সেই মাকে যেই মা সন্তান হারিয়েছে, যিনি আজও দরজায় দাঁড়িয়ে সন্তানের আগমনের অপেক্ষা করছে। যখন কোথাও ঐক্য না থাকে তখনই তৃতীয় শক্তি আসার সুযোগ পায়। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি তাহলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে চাই। আজ জুলাই যোদ্ধা এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে যারা উপস্থিত রয়েছেন তাদের এবং আয়োজনকে স্বার্থক করার জন্য বিভিন্ন কমিটিতে যারা কাজ করেছেন তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। অভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং ভবিষ্যতেও দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্য ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানায়।

আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম। এ সময় নোবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, দপ্তর ও শাখা প্রধান, ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল, ভিডিও প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান, দোয়া ও মুনাজাত। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও চিত্রাঙ্কন ও নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জুলাই বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এদিন বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নোবিপ্রবিতে জুলাইয়ের তিন মুখ, আজ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

দুই বছর আগের সেই উত্তাল জুলাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির ঘটনার বিরুদ্ধে যখন অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ছিলেন, তখন মাত্র তিনজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিন শিক্ষকই আজ দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন।

সেই সময় আন্দোলন ঘিরে দেশে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির খবর আসছিল বিভিন্ন স্থান থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব পালন।

দুই বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের তিনজনই এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলনের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ প্রথমে নোবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ঐসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছিল , এক পর্যায়ে তারা সব শিক্ষকদের মেইল করে অনুরোধ করে ওদের সাথে থাকার জন্য। আমরাও আগে থেকে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এরপর ওদের মেইল পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরাও ওদের সাথে গিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করবো। বিশেষ করে আমি, জাহাঙ্গীর স্যার, শফিক স্যার আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই।

তিনি আরও বলেন , তখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে নামিনি। আমার অনুভূতি ছিলো আমরা তো শিক্ষক আমাদের ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে থাকা যতটা ইম্পর্ট্যান্ট, যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে তখন তাদের পাশে থাকা আরো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এতে আমরা চাকরিচ্যুত হওয়া, এরেস্ট হওয়া এবং মেরেও ফেলতে পারতো এগুলো নিয়ে চিন্তা না করে আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাড়াই।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহিদ মিনারের সামনে দাড়িয়েছি যখন দেখেছি আমাদের ছাত্রদের দাবি ন্যায্য, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছিলো, তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয় তখন আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করি। ঐসময় এই চিন্তা করিনি আমাদের চাকরি চলে যাবে আমাদের ক্ষতি হবে বা এরকম কিছু।

তিনি জানান, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আমাদের ১৯৭১ এ জন্ম হয়নি দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো দাড়াতে হয় দেশের জন্য আবারো দাড়াবো, ইনশাআল্লাহ।

অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, আমি আন্দোলন করেছি একটি বৈষম্যবিরোধী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকার ফিরে পাক। এর জন্য যে আমাকে কিছু পেতে হবে তাই আন্দোলন করিনি। ছাত্র সমাজের উপর হামলা, সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এর প্রতিবাদে ঐ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় ধারণ করি; আজকের ছাত্র আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করার আমি করি। দায়িত্ব পেয়েছি এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকারকেও ধন্যবাদ। দায়িত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারাই মূল বিষয়।

দুই বছরের ব্যবধানে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সেই ছোট্ট প্রতিবাদ আজ ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সমাবেশে উপস্থিত তিন শিক্ষক এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অংশ। তাঁদের এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সংকটময় সময়ে নৈতিক অবস্থান, শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি উপলক্ষ।

জুলাই যুদ্ধ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অর্জন: মনিরুল হক চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দিতে পারিনি। সব জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি, যেমনিভাবে বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। ঈমানি দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বাস করি জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন, জুলাই যুদ্ধ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অর্জন।

মনির চৌধুরী বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তারাই এখন দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে। তারাই জনগণকে শেখাচ্ছে দেশপ্রেমের বয়ান।

বুধবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নানা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি টাউনহল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আবু রায়হান, শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়াসহ জুলাইযোদ্ধা, আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

চৌদ্দগ্রামে রাস্তার জায়গায় নিয়ে হামলায় যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার আহত হওয়ার ১১দিন পর মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত বিল্লাল হোসেন(২৬) উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের আবদুল হামিদের একমাত্র ছেলে। বিল্লাল হোসেন পেশায় ত্রি-হুইলার চালক ও দুই সন্তানের জনক। বুধবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

‎নিহত বিল্লাল হোসেনের চাচা মোঃ জহির জানায়, গত ২৪ জুলাই চলাচলের রাস্তায় প্রতিবেশি জয়নাল আবেদীন ছেলেরাসহ বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে এলে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেনের দা এর কোপে মাথায় গুরুতর আহত হয় মিশুক চালক বিল্লাল হোসেন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

‎‎বিল্লাল হোসেনের বাবা আবদুল হামিদ বলেন, চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে গিয়ে আমার ছেলের মাথায় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার রাতে আমার একমাত্র ছেলেটাকে হারাই। আমি খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার চাই।

‎‎অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ঝগড়ার সময় আমার ছেলের হাতে মোবাইল ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। আমার স্বামী এবং ছেলেরা তাদের ১২-১৩ জন লোকের হাতে মার খেয়েছে। তাঁর জেঠাতো ভাই মনির আমার ছেলে মোশারফকে দা দিয়ে আঘাত করতে গেলে আমার ছেলে সরে যাওয়াতে দা এর আঘাত বিল্লাল হোসেনের মাথায় লাগে। মনিরের অস্ত্রের আঘাতে বিল্লাল হোসেন আহত হয়।

তিনি আরও বলেন, ‎বিল্লাল শুধু মাথায় আঘাতের কারনে মারা যায়নি। আগে থেকেই তার কিডনির সমস্যা ছিল এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালেও ছিল। ঘটনার দিন বিল্লাল হোসেনের মাথায় সেলাই করে বাড়িতে নিয়ে আসে আসার পর সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে আবার হাসপাতালে নিলে গেলে তার কিডনির সেই সমস্যাটা বেশী দেখা যায়। কিডনির সমস্যার জন্য কুমিল্লা টাওয়ারে তাকে ডায়ালসিস করা হয়। তার মেডিকেল রিপোর্ট অথবা হাসপাতাল থেকে তথ্য নিলেই প্রশাসন সব কিছু জানতে পারবে।

‎মোজাম্মেলের চাচা আবদুল হানিফ বলেন, আবদুল হামিদ গংকে চলাচলের জন্য আমার বড় ভাই তার বাড়ির সামনের দিক দিয়ে আরো একটি রাস্তা দেয়। সমাজের বিচারকদের সিদ্ধান্তে বাড়ির পেছনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিতে গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি ও দুপক্ষের সংঘর্ষ ঘটে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত যুবক বিল্লাল হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের বাবা আবদুল হামিদ বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার:

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে কুমিল্লা জেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লা জেলা শহরের টাউন হলে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুমিল্লা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

পরে শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

কুমিল্লায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা না দেওয়া নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের বাবাকে হত্যার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা বাদশা মিয়া (৫০)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের স্বামী মহিউদ্দিন, শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের কাইল্লা মিস্ত্রির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন।

নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও স্বজনদের অভিযোগ, এক বছর আগে সামাজিক ও ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

তাদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন। এসময় আগামী শুক্রবার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে নাস্তা দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাদশা মিয়াকে মারধর ও তলপেটে লাথি মারেন মতিন মিয়া। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল থেকে শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাই আগষ্ট বিপ্লবে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি তাহের পলাশী, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোছাইন, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেবায়ের হোসেন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সুফিয়ান, এনসিপির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক মামুন মজুমদার, জুলাই শহীদ শাহাদাত হোসেনের ছোট ভাই ও জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা।

বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত যোদ্ধাদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ ও যোদ্ধাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

পরে অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং রাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেন হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুধীজন, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘জুলাই ২০২৪-এর আত্মত্যাগ এবং আমাদের নাগরিক দায়বদ্ধতা”

শাহাদাত হোসেন:

 

​জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও সর্বজনীন গণতান্ত্রিক এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরাচারী মনোভাব ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের এ এক ঐতিহাসিক বলিষ্ঠ অবস্থান। কিন্তু আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই অসামান্য অর্জনের মর্যাদা রক্ষা ও মূল ভাবনার সঠিক বাস্তবায়ন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

 

​আইনের শাসন ও ‘মব কালচার’-এর সংকট

 

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সাম্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া, গণপিটুনি, ‘মব জাস্টিস’ (Mob Justice) এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রোশ মেটানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আন্দোলনের চেতনা ও বৈষম্যহীন সমাজের মূল দর্শনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

 

প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতা ও পুনর্বাসনে ধীরগতি

 

প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা ও ধীরগতির সংস্কার সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা আশা করা হয়েছিল, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পাশাপাশি, আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের যথাযথ মূল্যায়ন, আহতদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের গতি আশানুরূপ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও জীবনের টানাপোড়েন

 

অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানের সাথে সাথে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও দুর্নীতির লাগাম টানার যে তীব্র প্রত্যাশা ছিল, অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পদক্ষেপের অভাবে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

 

জাতীয় ঐক্যের ফাটল ও রাজনৈতিক কৃতিত্বের লড়াই

 

আন্দোলন চলাকালীন যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল—যেখানে ছাত্র, শ্রমজীবী, সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এক পতাকাতলে এসে দাঁড়িয়েছিল—বর্তমানে সেই ঐক্যে চিড় ধরার স্পষ্ট আলামত দেখা যাচ্ছে। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং পারস্পরিক বিভাজন বিপ্লবের মূল অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে।

 

ভবিষ্যৎ পথরেখা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা

 

জুলাই ২০২৪ কোনো একটি নির্দিষ্ট দিন বা মুহূর্তের ঘটনা নয়; এটি একটি চলমান দর্শন এবং দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিবর্তনের সূচনা। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের রক্ত লালিত স্বপ্নকে কেবল স্মৃতিচারণায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বিশৃঙ্খলা, বিভাজন ও সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তায় আটকে থাকলে আমরা জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের উপযুক্ত সম্মান দিতে ব্যর্থ হব। এই ভুলভ্রান্তিগুলো শুধরে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সুনির্দিষ্ট সংস্কার, সহনশীলতা প্রদর্শন, পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা এবং নাগরিক হিসেবে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি। তবেই জুলাইয়ের ত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং একটি সত্যিকার অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

লেখক

লায়ন শাহাদাত হোসেন

সমাজসেবক ও সংগঠক

কুমিল্লায় তিন উপজেলার সব ধরনের নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আসছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

নৌযানের সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার (ডেটাবেজ) তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে কুমিল্লার হোমনা, মেঘনা ও দাউদকান্দি উপজেলার সব ধরনের নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ বাস্তবায়ন বিষয়ে এক অবহিতকরণ সেমিনারের আয়োজন করে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তার জানান, নৌখাতকে সুশৃঙ্খল ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে নৌযান শুমারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নদীনির্ভর হোমনা, মেঘনা ও দাউদকান্দি উপজেলার চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এর মাধ্যমে একটি নির্ভুল নৌযান ডেটাবেজ তৈরি হবে, যা নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে। এতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের অংশগ্রহণে শুমারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে।

সেমিনারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক এজাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।