All posts by jitu

চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুর:

চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার। চাঁদপুর জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে আহমেদ মো. নাজমুল ইসলাম সরকার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পরিচালক পদে নিযুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ নিয়োগের অংশ হিসেবে আরও ১৪ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

নতুন ডিসি পাওয়া জেলাগুলো হলো— ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, নড়াইল, জামালপুর, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ ও চাঁদপুর। এদিকে চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তনের পর চাঁদপুরে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ মোহসিন উদ্দিন। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে চাঁদপুরবাসীর মন জয় করেছেন। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব পদে বদলী করা হয়।

তিতাসের আসমানিয়া এলাকায় বিএনপি নেতা মনোয়ার সরকারের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার তিতাসের নারিন্দা ইউনিয়নের আসমানীয়া বাজার এবং বলরামপুর ইউনিয়নের গাজীপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ সভাপতি মনোয়ার সরকার।

এসময় তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে। এই জন্য বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, বেকারত্ব দূর হবে।”

তিনি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, তিতাস উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লায় ৩৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় র‌্যাব-১১ এর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব সদস্যরা। রবিবার (৯ নভেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি দল কোতয়ালী মডেল থানার মনাগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে মোঃ মইনুদ্দিন (৪৪) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মইনুদ্দিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার বড়চর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করত।

র‌্যাব-১১ জানায়, সমাজ থেকে মাদক নামের এই ভয়াবহ ব্যাধি নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লাকসামে বিএনপি নেত্রী সামিরা আজিম দোলার গণসংযোগে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেত্রীর গণসংযোগে প্রতিপক্ষের হামলায় সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের কন্যা ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরের দিকে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছনগাঁও এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ওই এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় একই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী আবুল কালামের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলা, বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান বাদলসহ অন্তত ১০ জন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

কুমিল্লা-৬ আসনে তৃণমূলের দাবি— হাজী ইয়াছিনই উপযুক্ত, সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় নগরীর টাউন হল মাঠের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মঞ্চে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব চৌধুরীর স্ত্রী নাসরিন খানম।

তিনি বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি সমর্থন করার কারণে বহু পরিবারের স্বামী, বাবা, ভাই ও সন্তানেরা মামলা, হামলা, কারাবরণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই কঠিন সময়ে এসব পরিবারের পাশে থেকে আইনি সহায়তা, আটক নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের ভরণপোষণ, আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসনসহ মানবিক সহায়তা দিয়েছেন আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

লিখিত বক্তব্যে নাসরিন খানম দাবি করেন, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এ সময়ে শত শত মামলা হয়েছে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। নেতাকর্মীরা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেননি, নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজ বাড়িতে রাত যাপন করতে পারেননি, এমনকি স্বজনদের জানাজা ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। সে সময় পরিবারগুলোর অন্যতম ভরসা ছিলেন আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় কুমিল্লা-৬ আসনে আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের নামের পরিবর্তে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাকে এ অঞ্চলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কাছে “কম পরিচিত” বলে উল্লেখ করেন তারা। বক্তাদের দাবি, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক সংকট ও নির্যাতনের সময়ে মনিরুল হক চৌধুরী এলাকায় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না।

তারা বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে দলের ত্যাগী, জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতাকে মনোনয়ন না দিলে বিজয় অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উদ্দেশে দাবি জানানো হয়—কুমিল্লা বিএনপির দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের অভিভাবকের ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতা আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে চূড়ান্তভাবে কুমিল্লা-৬ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুর স্ত্রী আনা আজিজা বলেন, আমার স্বামীর নামে ৩২টি মামলা ছিলো। প্রতিটি মামলার আইনী সহায়তা জেলখানায় পিসির টাকা, চিকিৎসা, জামিন, পরিবারের দেখাশুনাসহ সকল কিছুই দায়িত্ব নিয়েছিলেন হাজী ইয়াছিন। জেল খানায় থাকাবস্থায় অসহায় এই পরিবারের সর্বক্ষনিক দেখাশুনাসহ সকল কিছুই করেছেন তিনি। বিগত ১৭ বছর তিনি আমার মত শত শত নির্যাতিত নেতাকর্মীর অভিভাবক হয়ে বট বৃক্ষের মত ছায়া হয়েছিলেন। আমরা দেশ নায়ক তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানাই আমাদের বট বৃক্ষকে যেন উপড়ে না ফেলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী আবিদা সুলতানা প্রমী, বিএনপি নেতা ইকরাম হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বেগম, মনির হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার, মো. আক্তার হোসেনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার, আবুল কাশেমের স্ত্রী জাহেলা বেগম, মহানগর যুবদল নেতা মনছুর নিজামীর স্ত্রী মহিমা আক্তারসহ অন্যরা।

এসময় গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিবারের তিনশতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে-(কুবি) সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও পোস্টারিং কার্যক্রম চালিয়েছে কুবি শাখা ছাত্রদল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানায়। মানববন্ধন শেষে তারা প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

জানা যায়‚ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কুবি হবে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত শনিবার (৮ নভেম্বর) মুক্তমঞ্চে ছাত্রদল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই আলোচনা সভা আয়োজন করে। একই সঙ্গে মূল ফটক ও বিজয় ২৪ হলে পোস্টারিং করে।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ক্যাম্পাস। এখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে কার্যক্রম চালানোর অধিকার কারও নেই। কিন্তু গতকাল আমরা মুক্তমঞ্চে ছাত্রদলের কার্যক্রম দেখেছি। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা যদি সমঝোতা করতে চায়, সেটা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক; নইলে আইন বাস্তবায়ন করুক।’

বক্তব্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক আল নাহিয়ান বলেন, ‘নামে-বেনামে যারাই রাজনীতি করবে, আমরা তার বিরোধিতা করি। ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাহত করে। প্রশাসন রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করলেও বাস্তবে তা কার্যকর করতে পারছে না।’

এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম মোহাইমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনীতি থাকবে, কিন্তু কুবির ৫০ একরের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম আমরা চাই না। অতীতে রাজনীতির কারণে এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, অনেককে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। আমরা চাই কুবি রাজনৈতিক আধিপত্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকুক।’

স্মারকলিপি জমা নেওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘গতকাল যে প্রোগ্রামটি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, সেটির জন্য প্রক্টরিয়াল বডির কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এতে করে কোনো বিশৃঙ্খলার দায়ভার প্রশাসন নেবে না। আমরা বারবার রিকোয়েস্ট করেছি ১ম ও ১০০তম সিন্ডিকেটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কুবি হবে রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস। তবুও কিছু ঘটনা অগোচরে ঘটছে।’

নিয়ম ভঙ্গের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামী সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। যারা নিয়ম ভঙ্গ করেছে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত ১৫ বছর ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চলেছে; বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধান করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

খেজুরের যত গুণ ও উপকারিতা

তৌফিক সুলতান:

খেজুর পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও পুষ্টিকর ফল। এটি শুধু একটি সাধারণ খাদ্য নয়, বরং শক্তি, স্বাস্থ্য ও বরকতের এক জীবন্ত প্রতীক। হাজার বছরের মানবসভ্যতার ইতিহাসে খেজুর তার অনন্য স্থান দখল করে আছে। মরুভূমির বালুকায় খেজুরগাছ টিকে থাকে অল্প পানিতে, তীব্র রোদে, কঠিন পরিবেশে; তবুও এটি ফল দেয়, জীবন দেয়, ছায়া দেয়। ঠিক তেমনি মানবজীবনের প্রতীক হয়ে খেজুর আজও ধৈর্য, সহনশীলতা ও আশার বার্তা দেয়।

খেজুরের বৈজ্ঞানিক নাম Phoenix dactylifera। এটি পাম গাছ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় চাষ হয়। পৃথিবীর উষ্ণ অঞ্চলে খেজুরগাছের উপস্থিতি যেন জীবনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছর আগে থেকেই খেজুর মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া, পারস্য ও মিশরীয় সভ্যতায় এটি ছিল পবিত্র ফল। ফেরাউনের কবরেও খেজুর রাখা হতো, কারণ তারা বিশ্বাস করত—মৃত্যুর পরের জীবনে এটি আত্মাকে শক্তি দেবে।

ইসলামের ইতিহাসে খেজুরের স্থান অনন্য। কুরআনে একাধিক স্থানে খেজুরের উল্লেখ রয়েছে। সূরা মারইয়ামে বলা হয়েছে, নবী ঈসা (আ.)-এর মা মরিয়ম যখন সন্তান জন্মদানের সময় তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে খেজুরগাছ নাড়াতে বলেন, যাতে গাছ থেকে পাকা খেজুর পড়ে। মরিয়ম সেই খেজুর খেয়ে শক্তি পান এবং নবজাতক সন্তানের জন্ম দেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে খেজুরে আছে প্রাকৃতিক শক্তি, যা শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং প্রসবের সময় সহনশক্তি বাড়ায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও খেজুরের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি প্রায় প্রতিদিন খেজুর খেতেন এবং তাঁর সাহাবিদেরও খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা রোজা ভাঙো খেজুর দিয়ে, যদি তা না পাও তবে পানি দিয়ে।” (তিরমিজি)। এই হাদীস আমাদের জানায়, খেজুর হলো প্রাকৃতিক শক্তির উৎস এবং রোজার দীর্ঘ সময় পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে এর জুড়ি নেই। আরেক হাদীসে নবী করিম (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তার ওপর কোনো বিষ বা জাদুর প্রভাব পড়বে না।” (বুখারি)। এ থেকেই বোঝা যায় খেজুর কেবল পুষ্টিকর নয়, বরং আত্মিক ও শারীরিক নিরাপত্তার প্রতীকও বটে।

খেজুরের পুষ্টিগুণ সত্যিই বিস্ময়কর। এতে আছে প্রাকৃতিক চিনি—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ, যা দেহে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭ ক্যালোরি শক্তি, ৭৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৭ গ্রাম ফাইবার, ২ গ্রাম প্রোটিন, ৬৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৫৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১ মিলিগ্রাম আয়রন এবং ৬৯৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন–বি৬, ভিটামিন–কে, ফলেট ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—খেজুরে কোনো কোলেস্টেরল বা ট্রান্স ফ্যাট নেই। এই কারণে এটি হৃদরোগী ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সীমিত পরিমাণে নিরাপদ ও উপকারী।

খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এগুলো শরীরের ভিতরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নামক ক্ষতিকর অণু দূর করে, যা ক্যান্সার, হৃদরোগ ও বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদপিণ্ডকে সক্রিয় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, আর আয়রন ও ফলেট রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে।

খেজুরের আরেকটি বিশেষ গুণ হলো এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর খেজুর শরীরে গ্লুকোজ সরবরাহ করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে। তাই মুসলমানরা ইফতারে প্রথমেই খেজুর খান—এটি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যনীতি।

নিয়মিত খেজুর খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের ছন্দ ঠিক রাখে এবং রক্তনালিকে মজবুত করে। ফ্ল্যাভোনয়েড কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তে জমে থাকা চর্বি হ্রাস করে। এতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

খেজুর রক্তশূন্যতা দূর করতেও কার্যকর। এতে থাকা আয়রন ও ফলেট রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য খেজুর অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন তিন থেকে চারটি খেজুর খেলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং মনোযোগ বাড়ে।

হজমে খেজুরের ভূমিকা অপরিসীম। এতে প্রচুর ফাইবার আছে, যা অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রিক, অম্লতা ও হজমের গণ্ডগোলও প্রতিরোধ করে।

খেজুরে উপস্থিত ফেনোলিক যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এই উপাদানগুলো ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে এবং নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে।

খেজুরে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এটি হাড় ও দাঁতের জন্যও খুব উপকারী। এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করে। শিশুদের হাড়ের গঠন শক্ত করতে নিয়মিত খেজুর খাওয়ানো ভালো।

গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য খেজুর একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। সূরা মারইয়ামের ঘটনা অনুযায়ী যেমন আল্লাহ খেজুরকে প্রসবকালীন খাদ্য হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও তেমনই বলছে—খেজুর গর্ভাবস্থায় জরায়ুর পেশি শক্ত করে, প্রসব সহজ করে এবং প্রসবের পর রক্তক্ষয় কমায়। এতে থাকা ফোলেট শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে।

শিশুদের জন্য খেজুর হলো প্রাকৃতিক মাল্টিভিটামিন। খেজুরের রস দুধ বা পায়েসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে এটি শিশুদের শক্তি, বুদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মানসিক স্বাস্থ্যে খেজুরের প্রভাবও প্রশংসনীয়। এতে থাকা পলিফেনল মস্তিষ্কের কোষে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ঘুমে সহায়তা করে। খেজুরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন উৎপন্ন করে, যা মনোভাব উন্নত করে এবং বিষণ্নতা প্রতিরোধ করে।

যৌন স্বাস্থ্যেও খেজুর কার্যকর। এটি প্রাকৃতিক অ্যাফ্রোডিসিয়াক হিসেবে কাজ করে। খেজুর দুধে ভিজিয়ে খেলে পুরুষদের শক্তি, সহনশক্তি ও শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রেও এটি হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রজননক্ষমতা উন্নত করে।

বিশ্বে খেজুরের প্রায় তিন শতাধিক প্রজাতি আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো মদিনার আজওয়া খেজুর। হাদীসে বর্ণিত আছে, আজওয়া খেজুর জাদু ও বিষ থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও মাবরুম, সুক্কারী, সাফাওয়ি, মেজুল, ডেগলেট নুর ইত্যাদি জাতের খেজুরও জনপ্রিয়। আজওয়া খেজুরের রঙ কালচে, স্বাদ মোলায়েম, আর এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ অন্যান্য খেজুরের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশেও খেজুর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও বরিশাল অঞ্চলে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় ও পাটালি তৈরি করা হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে খেজুরের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসায় খেজুরকে ‘প্রাণদায়ী ফল’ বলা হয়। দুর্বলতা, ক্লান্তি, জ্বরের পর অবসাদ দূর করতে এটি কার্যকর। ইউনানি চিকিৎসায় বলা হয়, খেজুর শরীরে রক্ত বাড়ায়, বল বৃদ্ধি করে, যৌন দুর্বলতা দূর করে এবং মন শান্ত রাখে। আধুনিক গবেষণাও বলছে, খেজুর দেহে গ্লাইকোজেন সঞ্চয় বাড়ায়, ফলে শরীর দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে।

বিশ্বব্যাপী খেজুর একটি বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরব, ইরান, মিশর, আলজেরিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৪০টিরও বেশি দেশে খেজুরের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় নয় মিলিয়ন টন খেজুর উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য বিলিয়ন ডলারে গোনা হয়। খেজুর থেকে তৈরি হচ্ছে সিরাপ, পেস্ট, স্বাস্থ্য পানীয়, মিষ্টান্ন, এমনকি কসমেটিক সামগ্রীও।

খেজুর সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হয়। অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে রাখলে এতে ছত্রাক জন্মায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই খেজুর সবসময় শুকনো, ঠান্ডা স্থানে রাখা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে দিনে দুই থেকে তিনটির বেশি খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও অতিরিক্ত পরিমাণে তা রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে।

খেজুর শুধু খাদ্য নয়, এটি মানবজীবনের নৈতিক প্রতীক। মরুভূমিতে যেমন খেজুরগাছ সামান্য পানিতে বেঁচে থাকে, তেমনি মানুষকেও সীমিত উপকরণে বড় কিছু অর্জন করার শিক্ষা দেয়। আরব কবিরা বলেন—“যেমন খেজুরগাছ শুকনো বালিতে শিকড় ছড়িয়ে আকাশ ছোঁয়, তেমনি মানুষও কষ্ট সহ্য করে উন্নতির শিখরে পৌঁছায়।”

খেজুর আমাদের শেখায় সহনশীলতা, দানশীলতা ও ধৈর্যের পাঠ। এটি শুধু শরীর নয়, মনকেও পুষ্ট করে। নবীর প্রিয় ফল হিসেবে খেজুর আমাদের জন্য বরকতের প্রতীক, জীবনের শক্তি ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

খেজুর হলো এমন এক ফল যা প্রকৃতি, ধর্ম, বিজ্ঞান ও মানবজীবনের প্রতিটি দিকেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি খেজুর রাখলে শরীর পায় পুষ্টি, মন পায় প্রশান্তি, আর আত্মা পায় বরকত। সত্যিই, খেজুর কেবল একটি ফল নয়—এটি জীবনের মিষ্টতা ও সুস্থতার প্রতীক।

হাত-পায়ের তালু ঘামার কারণ ও প্রতিকার

ডাঃ তৌফিক সুলতান:

মানবদেহে ঘাম একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, শরীর ঠান্ডা রাখে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু অনেকের হাত ও পায়ের তালুতে অতিরিক্ত ঘাম হয়, যা কোনো শারীরিক পরিশ্রম বা গরমের কারণ ছাড়াই দেখা দেয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় “পামার ও প্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস (Palmar and Plantar Hyperhidrosis)”। এটি শুধু শারীরিক অস্বস্তিই নয়, বরং মানসিক চাপ, সামাজিক লজ্জা ও দৈনন্দিন জীবনের অসুবিধার কারণ হয়ে ওঠে।

হাত-পা ঘামা অনেক সময় ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করেন এটি স্নায়ুর সমস্যা, কেউ বলেন মানসিক উদ্বেগ বা ভয় থেকেই এমন হয়। আসলে এই সমস্যার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের অতিসক্রিয়তা। শরীরের এই স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ঘর্মগ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু যখন এটি অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়, তখন অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়—বিশেষ করে হাত ও পায়ের তালুতে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের এই সমস্যা আছে, তাদের প্রায় অর্ধেকের পরিবারেও একই সমস্যা থাকে। অর্থাৎ এটি অনেক সময় বংশগতভাবেও ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া হরমোনজনিত পরিবর্তন, যেমন কৈশোর, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় ঘামের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। আবার থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা (Hyperthyroidism), ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা মানসিক উদ্বেগ থেকেও হাত-পা ঘামার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ একটু নার্ভাস হলে, সাক্ষাৎকারে গেলে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে উপস্থিত হলে তার হাত-পা ঘামতে শুরু করে। এই অবস্থাকে বলে সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস, যা মানসিক চাপ বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেখা দেয়।

অতিরিক্ত ঘাম প্রথমে ছোটখাটো বিষয় মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে এটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে ওঠে। যেমন—লেখার সময় কলম পিছলে যাওয়া, কাগজ ভিজে যাওয়া, মোবাইল বা হ্যান্ডশেক করতে অস্বস্তি হওয়া, এমনকি পায়ের ঘামের কারণে দুর্গন্ধ বা ছত্রাক সংক্রমণ পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। অনেকেই এই কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন।

তবে সুসংবাদ হলো—এই সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের উপায় এখন দেশে সহজলভ্য। প্রথমেই বলা যায়, টপিকাল থেরাপি বা অ্যান্টিপারসপিরেন্ট ব্যবহার সবচেয়ে সহজ ও প্রাথমিক চিকিৎসা। এতে ব্যবহৃত হয় অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট (Aluminum Chloride Hexahydrate), যা ঘর্মগ্রন্থিকে সংকুচিত করে ঘাম কমায়। সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে হাতে ও পায়ে এটি লাগাতে হয়। বাজারে Drysol বা Driclor নামের প্রস্তুতিগুলো পাওয়া যায়।

পরবর্তী ধাপে আছে আয়োনটোফোরেসিস (Iontophoresis), যা আধুনিক ও নিরাপদ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে হাত বা পা পানিতে ডুবিয়ে হালকা বৈদ্যুতিক প্রবাহ দেওয়া হয়। এতে ঘর্মগ্রন্থি কিছু সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, ফলে ঘাম কমে আসে। সপ্তাহে কয়েকবার নিয়মিত করলে এর প্রভাব স্থায়ী হয়।

যদি এই চিকিৎসায় কাজ না হয়, চিকিৎসকরা Anticholinergic শ্রেণির কিছু মুখে খাওয়ার ওষুধ দেন, যেমন—Glycopyrrolate বা Oxybutynin। এগুলো ঘাম উৎপাদন কমায়, তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হালকা মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়।

আরও উন্নত চিকিৎসা হলো বোটক্স ইনজেকশন (Botulinum Toxin Type A)। এতে ঘর্মগ্রন্থির স্নায়ু সংযোগকে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়, ফলে ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ঘাম বন্ধ থাকে। এটি অত্যন্ত কার্যকর, তবে কিছুটা ব্যয়বহুল। অনেক দেশে এখন এটি জনপ্রিয় চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সবশেষে, অন্য কোনো চিকিৎসা কাজ না করলে Endoscopic Thoracic Sympathectomy (ETS) নামের সার্জারি করা যায়। এতে বুকে অবস্থিত সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুকে কেটে বা ক্লিপ দিয়ে ঘামের প্রবাহ বন্ধ করা হয়। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যেমন শরীরের অন্য অংশে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। তাই এটি শেষ বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত।

শুধু চিকিৎসাই নয়, কিছু জীবনযাপন পরিবর্তন করেও হাত-পা ঘামা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। যেমন—হাত-পা সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, তুলার মোজা পরা, বায়ু চলাচল হয় এমন জুতা ব্যবহার করা, ক্যাফেইন, গরম বা মশলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা।

হাত-পা ঘামা সাধারণত কোনো প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে মানসিক ও সামাজিক জীবনে এটি বড় প্রভাব ফেলে। করমর্দনের অস্বস্তি, অফিস বা শিক্ষাঙ্গনে কাজের অসুবিধা, এমনকি নিজের আত্মসম্মানে আঘাত পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা, সচেতনতা ও জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

অনেক সময় রোগীরা লজ্জার কারণে চিকিৎসকের কাছে যান না। কিন্তু জানা উচিত—এই সমস্যা গোপন করার নয়, চিকিৎসা করার। আধুনিক চিকিৎসা এখন সহজলভ্য, নিরাপদ ও কার্যকর। তাই লজ্জা নয়, সচেতনতা হোক প্রথম পদক্ষেপ। মনে রাখবেন, ঘাম কোনো অভিশাপ নয়, বরং শরীরের এক প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া—যা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই জীবনের স্বাভাবিকতা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া যায়।

ডাঃ তৌফিক সুলতান
পেরামেডিক্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।

“লটারি আর অটোপাশ: শিক্ষার সর্বনাশ”

মোহাম্মদ মনির হোসেন:

শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ সেই মেরুদণ্ডকেই দুর্বল করে দিচ্ছে বলে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্কুল-কলেজে ভর্তিতে লটারি প্রবর্তন এবং কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ‘অটোপাশ’ প্রদান। এই দুটি সিদ্ধান্ত সাময়িক সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্পৃহা, এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষাজীবনের ওপর এক গভীর ও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ‘লটারি আর অটোপাশ: শিক্ষার সর্বনাশ’-এই শিরোনামে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার এই দুটি প্রধান দুর্বলতা, এর কারণ, ফলাফল এবং উত্তরণের পথ নিয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।

ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তির ফল: পাঠবিমুখতা ও মেধার অবমূল্যায়ন:

স্কুল ও কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও পাঠ্যক্রমের প্রতি আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। পূর্বে একটি ভালো বা আকাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কঠিন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হতো, যা তাদেরকে বছরের শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করত। এখন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় মেধা বা পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের পরিবর্তে ভাগ্যের (লটারি) ভূমিকা প্রধান হওয়ায়, শিক্ষার্থীরা মনে করছে যে কঠোর পরিশ্রমের কোনো প্রয়োজন নেই। ভালো ফল বা বেশি জ্ঞান অর্জন এখন আর ভালো স্কুলে ভর্তির মানদণ্ড নয়, বরং ভাগ্যই নির্ধারণ করে দিচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপ।

এর ফলে:

পাঠবিমুখতা: ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি এক ধরনের অনীহা বা পাঠবিমুখতা তৈরি হচ্ছে। তারা জানে যে পড়াশোনায় ভালো করলেও লটারিতে তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এতে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা বিলুপ্ত হচ্ছে।

মেধার অবমূল্যায়ন: মেধা ও প্রজ্ঞার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। যে শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করে ভালো ফল অর্জন করছে, সে লটারির কারণে পিছিয়ে পড়ছে, যেখানে কম পরিশ্রমী ছাত্রও সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং মেধার অবমূল্যায়ন করছে।

শিখন শূন্যতা (Learning Gap): ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি না নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই দুর্বলতা নিয়ে উচ্চতর স্তরে প্রবেশ করছে। এতে উচ্চ স্তরের পাঠ্যক্রম বুঝতে তাদের সমস্যা হচ্ছে এবং শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে একটি বড় ধরনের ‘শিখন শূন্যতা’ তৈরি হচ্ছে।

কোভিড-কালে অটোপাশের ক্ষতি এবং শিখন শূন্যতা:

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে পরীক্ষা ছাড়াই অর্থাৎ পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ‘অটোপাশ’ দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গৃহীত একটি জরুরি পদক্ষেপ। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিগুলো এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

জ্ঞানের ভিত্তি দুর্বল: পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানের প্রকৃত গভীরতা যাচাই করার সুযোগ পায়নি। কেবল পূর্ববর্তী ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে উচ্চশিক্ষা স্তরে প্রবেশ করায় তাদের জ্ঞানের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। বিশেষত উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় এর প্রতিফলন দেখা গেছে, যেখানে বহু ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীও ন্যূনতম নম্বর পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

মেধার সঠিক মানদণ্ড নির্ধারণে ব্যর্থতা: অটোপাশের কারণে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় উল্লম্ফন দেখা গেলেও, সেই ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার সঠিক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারেনি।

উচ্চশিক্ষা স্তরে ভোগান্তি: শিখন শূন্যতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষা স্তরের পড়াশোনায় হোঁচট খাচ্ছে। তাদের পক্ষে ক্লাসের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনেও প্রভাব ফেলবে।

অনলাইন ক্লাস ও মোবাইল আসক্তি:

কোভিড-১৯ চলাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ‘অনলাইন ক্লাস’ চালু হয়। শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, কিন্তু এর অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন সমস্যা নিয়ে এসেছে – মোবাইল ও ডিভাইস আসক্তি।

অনলাইন গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্নতা: অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন আসায় ক্লাসের বাইরের সময়টুকু তারা অনলাইন গেম, সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ফলপ্রসূ নয় এমন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু শিক্ষার্থীই অনলাইন ডিভাইস ব্যবহার করছে গেম খেলা বা ভিডিও দেখার মতো অফলপ্রসূ কাজে, যা তাদের পড়াশোনা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

মনোযোগের অভাব: অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের অভাব, একাকীত্ব ও হতাশা বাড়ছে। স্ক্রিন-টাইম বাড়ায় তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শ্রেণিকক্ষেও অনেক শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করছে, যা তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট করছে।

পর্নোগ্রাফির মতো ক্ষতিকর কন্টেন্টে প্রবেশ: অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা অবাধে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় পর্নোগ্রাফি বা অন্যান্য ক্ষতিকর কন্টেন্টে সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশ ও আচরণে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

উত্তরণের পথ: ভর্তি পরীক্ষা চালু করণের সুপারিশ ও অন্যান্য পদক্ষেপ:

শিক্ষাব্যবস্থার এই সর্বনাশ থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেধাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া পুনঃস্থাপন করা।

মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা পুনঃপ্রবর্তন: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রথা বাতিল করে পূর্বের মতো মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা অপরিহার্য। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনবে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে।

শিখন শূন্যতা পূরণে বিশেষ কর্মসূচি: অটোপাশ ও লটারি প্রথার কারণে সৃষ্ট শিখন শূন্যতা পূরণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ বা প্রতিকারমূলক (Remedial) ক্লাস, ওয়ার্কশপ ও পাঠ্যক্রমের ব্যবস্থা করতে হবে।

মোবাইল ব্যবহারের সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়মকানুন তৈরি করতে হবে। অনলাইন ক্লাসের বাইরে ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ এবং বই পড়ার মতো ফলপ্রসূ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: শিক্ষকদের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

লটারি আর অটোপাশের মতো সাময়িক স্বস্তির সিদ্ধান্ত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে দিয়েছে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন ও মেধার বিকাশ। এই উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে মেধার অবমূল্যায়ন চলতে থাকলে জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে পড়ব। সময় এসেছে এই ‘সর্বনাশ’ থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য ভর্তি পরীক্ষা পুনঃপ্রবর্তন, শিখন শূন্যতা পূরণ এবং মোবাইল আসক্তি নিয়ন্ত্রণের মতো কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও প্রজ্ঞাকে রক্ষা করাই এখন শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ

লেখক:
মোহাম্মদ মনির হোসেন
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, মেহের ডিগ্রি কলেজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর। +8801811656353, mamoniracc@gmail.com

চাঁদপুরে সাহিত্য সংগঠন ‘শিল্পনন্দন’ এর কমিটি ঘোষণা ও পরিচিতি সভা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে সাহিত্য সংগঠন ‘শিল্পনন্দন’-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির নাসীরউদ্দিন মিলনায়তনে চিত্রশিল্পী মইনুদ্দিন লিটন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এইচএম জাকিরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি ও গল্পকার দেওয়ান মোঃ মাসুদুর রহমান। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কেএম সালাউদ্দিন, চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মু. নূরে আলম পাটওয়ারী, নজরুল গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুন গনি, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী।

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক, সাহিত্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সাদ আল আমিন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্য শেষে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ-এর ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর ১০জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।

ঘোষিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ও দেওয়ান মাসুদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক এইচএম জাকির, সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস ও জিহাদ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান শাকির ইমরু, অর্থ সম্পাদক আবু বকর বিন ফারুকী, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক কাজী আজিজুল হক নাহিন, প্রকাশনা সম্পাদক আজম পাটওয়ারী, আয়োজন সম্পাদক সালাহ্উদ্দিন হাজরা, সাহিত্য সম্পাদক সজীব খান, সংস্কৃতি সম্পাদক ইসতিয়াক সৈকত, পাঠচক্র সম্পাদক খাইরুল আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাসুদ হোসেন, আবৃত্তি সম্পাদক সামিরা মেহনাজ নুসরাত, কার্যনির্বাহী সদস্য উজ্জ্বল হোসাইন, নূরুল ইসলাম ফরহাদ, নূরে আলম, মুহাম্মদ হানিফ, এমআরএম শোভন, মারিয়া আক্তার অনুপমা, তাসফিয়া ইসলাম, মুসলিম হোসেন ও মো. আবুল হাসেম সাহরীয়ার স্বপন।

তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এইচএম জাকির জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্পনন্দন চাঁদপুরের লেখকদের বইয়ের পাঠক সৃষ্টিতে কাজ করেছে, যা আগামীতেও অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি এটি অব্যাহত থাকবে। শিল্পনন্দন সাহিত্য অঙ্গনে পাঠক ও লেখক সৃষ্টিসহ সৃজনশীলতার বিকাশে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন নব গঠিত কমিটির সভাপতি মোরশেদা খানম বেবী। সভাপতি আরও জানান— শিল্পনন্দন চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। নবগঠিত কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সাহিত্যচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। তরুণ লেখক– পাঠকদের সৃষ্টি-উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। খুব দ্রুতই একটি বর্ণিল অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তুলতে চাই। চাঁদপুরের শিল্প– সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

জানা যায়, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৪ জুলাই। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি চাঁদপুরের লেখকদের বইয়ের প্রমোশন ও পাঠকের হাতে পৌঁছাতে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সৃষ্টিশীলতায় উদ্বুদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সংগঠনের স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে— “শিল্পে সৌন্দর্য, সৃষ্টিতে আনন্দ”। আজীবন সদস্য— মির্জা জাকির, গিয়াস উদ্দিন মিলন, সোহেল রুশদী, জসীম মেহেদী, শরীফ হোসাইন ও মো. সাইফুল ইসলাম সুমন। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন— মইনুদ্দিন লিটন, ইলিয়াস ফারুকী, ড. নিলুফা আখতার ও কাজী নজরুল ইসলাম।