All posts by jitu

জাতিসংঘ: পরাশক্তিগুলোর অনুগত সংস্থা?

মোহাম্মদ মনির হোসেন:

জাতিসংঘ (United Nations) একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার মহান লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বসূরি ‘লীগ অফ নেশনস’-এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। জাতিসংঘ সনদে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং শক্তির ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নীতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রায় আট দশক পেরিয়ে আসার পরও, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল, ইউক্রেন, সিরিয়া বা ইয়েমেনের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোর দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে: জাতিসংঘ কি তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম? নাকি এটি কেবলই বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাধর হাতে থাকা পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন) রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি “অনুগত সংস্থা” বা ‘ট্রয় হর্স’?

জাতিসংঘ গঠনের প্রেক্ষাপট ও কাঠামোগত দুর্বলতা:

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত ‘লীগ অফ নেশনস’ ব্যর্থ হয়েছিল বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে রক্ষা করতে। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে অগণিত মানুষের প্রাণহানি এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতা বিশ্বনেতাদের নতুন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনে বাধ্য করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী মিত্রশক্তি, যাদের হাতেই ছিল সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা, তারাই এই নতুন সংস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। জাতিসংঘের মূল অঙ্গগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো নিরাপত্তা পরিষদ। এর গঠন প্রক্রিয়াই সংস্থাটির অনুগত হওয়ার বীজ বপন করে দেয়। কারণ, বিজয়ী পাঁচটি পরাশক্তি – যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া), চীন এবং ফ্রান্স – নিজেদের জন্য স্থায়ী সদস্যপদ এবং সর্বেসর্বা ভেটো (Veto) ক্ষমতা নিশ্চিত করে নেয়।

ভেটো ক্ষমতা হলো এক ধরণের অগণতান্ত্রিক অধিকার, যা নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে যেকোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবকে এককভাবে বাতিল করার ক্ষমতা দেয়। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থায়ী সদস্যদের সম্মতি অপরিহার্য। এই বিধানটিই কার্যত জাতিসংঘকে পরাশক্তিগুলোর জাতীয় স্বার্থের কাছে জিম্মি করে রেখেছে।

জাতিসংঘের জন্মলগ্ন থেকেই এর মূল কাঠামোতে ভেটো ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ হলো: বিশ্ব সংস্থাটি কোনো সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর করতে পারবে, যখন তা অন্তত এই পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কারও স্বার্থের পরিপন্থী হবে না। ফলস্বরূপ, সংস্থাটি কেবল তখনই কার্যকর হতে পারে, যখন স্থায়ী সদস্যরা একমত হয়; অথবা যখন সংঘাত এমন কোনো ছোট দেশকে ঘিরে ঘটে, যেখানে কোনো পরাশক্তির বড় ধরনের স্বার্থ জড়িত নেই। এই কাঠামোগত দুর্বলতা থেকেই জন্ম নেয় “পরাশক্তিগুলোর অনুগত সংস্থা” হওয়ার অভিযোগ।

বর্তমানে বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে অক্ষমতা: পরাশক্তির স্বার্থের ছায়া:

জাতিসংঘের প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। অথচ সমকালীন বিশ্বের প্রতিটি বড় সংঘাতে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এই সংঘাতগুলো বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী সদস্যরা প্রায়শই তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে, যা সংস্থাটির অক্ষমতাকে প্রকট করে তোলে।

ইউক্রেন যুদ্ধ: ২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ করে, তখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কারণ, স্থায়ী সদস্য হিসেবে রাশিয়া নিজেই তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের বিরুদ্ধে আনা যেকোনো নিন্দা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্ট করে যে, যখন কোনো পরাশক্তি সরাসরি আগ্রাসী ভূমিকায় নামে, তখন জাতিসংঘ কেবল ‘নীরব দর্শক’ হিসেবেই বিরাজ করে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে গাজা সংকটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বা নিন্দা জানাতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে আসছে। এর ফলে সাধারণ পরিষদ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে জোরালো দাবি উঠলেও, নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, পরাশক্তিগুলো তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের নীতি-নৈতিকতা এবং বিশ্বজনমতকে অগ্রাহ্য করতে দ্বিধা করে না।

গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যর্থতা: জাতিসংঘের অন্যতম লক্ষ্য হলো গণহত্যা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ করা। অথচ বসনিয়া, রুয়ান্ডা, দারফুর এবং সিরিয়ার মতো অঞ্চলে যখন চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে, তখন নিরাপত্তা পরিষদ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল— সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থায়ী কোনো সদস্যের কৌশলগত বা অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকা। সিরিয়ায় রাশিয়ার এবং মিয়ানমারে চীনের রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব বা প্রতিকূল অবস্থান সংস্থাটির নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

আর্থিক নির্ভরতা এবং রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা: জাতিসংঘের কার্যক্রম মূলত তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চাঁদার ওপর নির্ভরশীল। স্থায়ী সদস্য এবং অন্যান্য ধনী রাষ্ট্রগুলোই এর বড় অংশের অর্থ সরবরাহ করে। বলা হয়ে থাকে, “অর্থ যেখানে, ক্ষমতা সেখানে”। এই আর্থিক নির্ভরতাও পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে। বড় চাঁদা প্রদানকারী দেশগুলোর স্বার্থের বিপরীতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া জাতিসংঘের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘ তার উদ্দেশ্য থেকে সরে এসে পরাশক্তিগুলোর ‘অনুগত সংস্থা’তে পরিণত হয়েছে— এমন অভিযোগের ভিত্তি হলো নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতা এবং পরাশক্তিগুলোর সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের কাছে সংস্থার নীতিগত অবস্থানের পরাজয়।

ভবিষ্যতে জাতিসংঘকে যুগোপযোগী করণে করণীয়:

জাতিসংঘ তার কাঠামোগত ত্রুটি সত্ত্বেও বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। কারণ, বর্তমানে এর চেয়ে শক্তিশালী বা নিরপেক্ষ কোনো বৈশ্বিক সংস্থা নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, দারিদ্র্য বিমোচন, এবং মানবাধিকারের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এর সহযোগী সংস্থাগুলো (WHO, UNICEF, UNDP, ইত্যাদি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং, প্রয়োজন এটিকে বাতিল করা নয়, বরং যুগোপযোগী করে সংস্কার করা।

জাতিসংঘকে পরাশক্তিগুলোর প্রভাবমুক্ত করে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করার জন্য নিম্নলিখিত সংস্কারগুলো জরুরি:

ভেটো ক্ষমতার সংশোধন বা নিয়ন্ত্রণ: ভেটো ক্ষমতার বিলুপ্তি সম্ভব না হলেও, এর ব্যবহারকে সীমিত করার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করা উচিত। গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা বাতিল করা যেতে পারে। অথবা, সাধারণ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে ভেটো বাতিল করার বিধান রাখা যেতে পারে। সম্প্রতি সাধারণ পরিষদে ভেটো প্রদানকারী রাষ্ট্রকে তার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে বাধ্য করার যে উদ্যোগ (Veto Initiative) নেওয়া হয়েছে, তা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ ও প্রতিনিধিত্বশীলতা বৃদ্ধি: ১৯৪৫ সালের বিশ্ব আর আজকের বিশ্বের রাজনৈতিক ভূগোল এক নয়। বর্তমানে ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি, জাপান, এবং আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর মতো উদীয়মান শক্তিগুলোকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া উচিত। এটি পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য আনবে এবং এর বৈধতা বৃদ্ধি করবে। স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা বৃদ্ধি: নিরাপত্তা পরিষদ যখন ভেটোর কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ পরিষদকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ পরিষদের রেজল্যুশনকে (যা প্রায় সকল রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে) আরও বেশি বাধ্যতামূলক ও শক্তিশালী মর্যাদা দেওয়া উচিত, বিশেষ করে যখন শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে ভেটো প্রয়োগ করা হয়।

শান্তিরক্ষার জন্য নতুন মডেল: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও দ্রুত, শক্তিশালী এবং পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল দিয়ে সাজাতে হবে। পরাশক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ কমাতে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ সামরিক পরিষদ গঠন করা যেতে পারে, যা সরাসরি জাতিসংঘের মহাসচিবের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

জাতিসংঘ কি পরাশক্তিগুলোর অনুগত সংস্থা? এর উত্তর কিছুটা জটিল। এটি সম্পূর্ণ অনুগত না হলেও, ভেটো ক্ষমতা এবং আর্থিক নির্ভরতার কারণে এটি পরাশক্তিগুলোর ‘রাজনৈতিক ইচ্ছার অধীন’ একটি সংস্থা। এর কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বিজয়ী শক্তিগুলোর আধিপত্য চিরস্থায়ী হয়। তবে জাতিসংঘকে কেবল তার ব্যর্থতা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। এর উন্নয়নমূলক কাজগুলো, আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রসমূহের জন্য সংলাপের একটি মঞ্চ তৈরি করার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সত্যিই একটি ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব চায়, তবে তাদের অবশ্যই ভেটো ক্ষমতার বেড়াজাল থেকে নিরাপত্তা পরিষদকে মুক্ত করতে হবে এবং জাতিসংঘের কাঠামোতে একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা প্রতিফলিত করতে হবে। জাতিসংঘকে একটি দুর্বল মঞ্চ হিসেবে টিকিয়ে রাখার চেয়ে, একে সংস্কার করে বিশ্ববাসীর প্রতি তার দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সংস্থাটির উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু কাঠামোটি দুর্বল; এই কাঠামোর সংস্কারেই নিহিত রয়েছে এর ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা ও নিরপেক্ষতা।

লেখক:
মোহাম্মদ মনির হোসেন
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, মেহের ডিগ্রি কলেজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর। +8801811656353, mamoniracc@gmail.com

যেভাবে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়

ডাঃ তৌফিক সুলতান:

মাথাব্যথা এমন একটি শারীরিক উপসর্গ যা বিশ্বজুড়ে প্রায় সবাই কখনো না কখনো অনুভব করেন। কেউ সামান্য সময়ের জন্য মাথাব্যথায় ভোগেন, আবার কারও ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে জীবনযাত্রায় বিরক্তিকর প্রভাব ফেলে। মাথাব্যথা অনেক সময় নিজেই একটি সমস্যা, আবার কখনও এটি শরীরের ভেতরের অন্য কোনো রোগ বা অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত দেয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথাব্যথাকে একক কোনো রোগ হিসেবে না দেখে, বরং একটি লক্ষণ (Symptom) হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার কারণ বহুবিধ হতে পারে।

মাথাব্যথার ধরন ও বৈশিষ্ট্য

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মাথাব্যথাকে সাধারণত দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়— প্রাথমিক (Primary Headache) এবং দ্বিতীয়িক (Secondary Headache)।

প্রাথমিক মাথাব্যথা হলো এমন মাথাব্যথা যার পেছনে অন্য কোনো নির্দিষ্ট রোগ নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ তিনটি ধরন হলো—
১. টেনশন হেডেক (Tension Headache): এটি সবচেয়ে প্রচলিত ধরন। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা বা অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে সাধারণত এই ব্যথা হয়। মাথার দু’পাশে চাপ বা ভার অনুভূত হয়, যেন মাথা শক্ত করে বাঁধা রয়েছে।
২. মাইগ্রেন (Migraine): এটি এক ধরনের স্নায়বিক সমস্যা। মাথার এক পাশ বা দুই পাশে ধকধক ব্যথা হয়, যা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বমি বমি ভাব, বমি, আলো বা শব্দে অস্বস্তি এবং দৃষ্টিবিভ্রম (Aura) এই রোগের সাধারণ লক্ষণ।
৩. ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headache): এটি তুলনামূলক বিরল হলেও খুবই তীব্র। চোখের চারপাশে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়, সাধারণত রাতের দিকে বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর এ ধরনের আক্রমণ দেখা দেয়।

অন্যদিকে, দ্বিতীয়িক মাথাব্যথা হয় শরীরের অন্য কোনো রোগের কারণে। যেমন— সাইনাস ইনফেকশন, চোখের দৃষ্টিজনিত সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিউমার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা আঘাতজনিত জটিলতা।

মাথাব্যথার সাধারণ কারণ

মাথাব্যথার কারণ অনেক বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো—

  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত ঘুম
  • পানিশূন্যতা (Dehydration)
  • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা
  • অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ
  • দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা
  • উচ্চ রক্তচাপ বা হরমোনের পরিবর্তন
  • চোখে পাওয়ার সমস্যা বা দৃষ্টিবিভ্রাট
  • আবহাওয়া পরিবর্তন, অতিরিক্ত রোদ বা শব্দ দূষণ
  • ঘাড় ও কাঁধের পেশীর টান বা অস্বাভাবিক ভঙ্গি

এছাড়া মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের আগে বা গর্ভাবস্থায় হরমোন পরিবর্তনের কারণে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

মাথাব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

মাথাব্যথা উপশমে প্রথম ও প্রধান করণীয় হলো জীবনযাপন ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনা।

১. পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরে পানির ঘাটতি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় ঘাম ঝরলে শরীরের তরল দ্রুত কমে যায়, তখন স্যালাইন বা ফলের রসও কার্যকর।

২. পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও স্নায়বিক ভারসাম্য নষ্ট করে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমানোর আগে মোবাইল, কফি বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

৩. মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা: অতিরিক্ত মানসিক চাপ মাথাব্যথাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, ধ্যান বা প্রার্থনা মনকে শান্ত রাখে। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজ যেমন বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোও মানসিক প্রশান্তি দেয়।

৪. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তৈলাক্ত, অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার মাথাব্যথা বাড়াতে পারে। সকালে নাশতা না করলে অনেক সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা হয়।

৫. চোখের যত্ন: যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে কাজ করেন, তাঁদের চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এজন্য ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা উচিত— প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের দিকে তাকান। এটি চোখ ও মস্তিষ্ক উভয়কেই বিশ্রাম দেয়।

৬. ঠান্ডা বা গরম সেঁক: মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে ঠান্ডা সেঁক কার্যকর, আর টেনশন হেডেকের ক্ষেত্রে গরম সেঁক ভালো ফল দেয়। একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ মুড়িয়ে কপালে বা ঘাড়ে লাগানো যেতে পারে।

৭. শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায় এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ৩০ মিনিট হাঁটা উপকারী।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

যদি মাথাব্যথা নিয়মিত হয়, দিনে বারবার হয় বা ব্যথার ধরন পরিবর্তিত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। অনেক সময় ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার নিজেই “মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক” নামক নতুন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই-এর মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করেন। যদি উচ্চ রক্তচাপ, দৃষ্টি সমস্যা বা সাইনাসের সংক্রমণ থাকে, সেগুলোর চিকিৎসার মাধ্যমে মাথাব্যথাও নিয়ন্ত্রণে আসে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

যদি মাথাব্যথা হঠাৎ শুরু হয় ও অত্যন্ত তীব্র হয়, চোখে ঝাপসা দেখা দেয়, কথা জড়িয়ে যায়, জ্ঞান হারানোর প্রবণতা দেখা দেয়, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, অথবা কোনো আঘাতের পর মাথাব্যথা শুরু হয়— তখন অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। এগুলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ইনফ্লামেশন বা অন্য কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।

প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা

মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি ও ঘুম নিশ্চিত করা, এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া, স্ক্রিন টাইম কমানো ও শারীরিক ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে মাথাব্যথার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাথাব্যথা হলে শুধুমাত্র ব্যথানাশক খেয়ে নিজেকে সাময়িকভাবে স্বস্তি না দিয়ে এর মূল কারণ চিহ্নিত করা। সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা অনুসরণ করলেই মাথাব্যথা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ডাঃ তৌফিক সুলতান
(প্রাক্তন ইন্টার্ন শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ)

বর্তমান তরুণরা সময়কে গুরুত্ব সহকারে কাজে লাগাতে হবে- ডিসি মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন

মোঃ রাছেল,কচুয়া:

চাঁদপুরের কচুয়ায় দ্বিতীয় ইউএনও গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফাইনাল খেলা পৌরসভা বনাম বিতারা ইউনিয়ন পরিষদ একাদশ মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ৯০ মিনিট খেলায় বিতারা ইউনিয়ন পরিষদকে শূন্য গোলে হারিয়ে ১ গোলে পৌরসভায় চ্যাম্পিয়ন অর্জন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবু নাছিরের সঞ্চালনায় খেলার মাঠ প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

এসময় তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই সময় দেখেছি যে, এই ধরনের ফুটবল খেলাধুলাতে মারামারি হয়। এই কারনে যারা এই খেলাটির উদ্যোক্তা ছিলো তারা মনেপ্রাণে জুড়ে খেলাটি পরিচালনা করে ছিলো। আমার খুব ভালো লেগেছে, ১৬টি টিম নিয়ে একটি সুন্দর টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। এটা শুধু প্রশাসন, পুলিশসহ খেলোয়াড়দের পক্ষে সম্ভব ছিলো না, সকলের সহযোগীতায় সুন্দর একটি টুর্র্নামেন্ট উপহার দিয়েছেন। দুটি দলেই ভালো খেলেছে। পৌরসভা বিজয়ী হয়েছে,সঠিক সময়ে পৌরসভা গোল করে বিজয়ী হয়েছে। তরুণ সমাজ এইদিক সেদিক ভুল কাজ করে। সময়টা পার হয়ে গেলে তুমি সঠিক জায়গায় যেতে পারবে না। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে। সময়টা যখন হেলায় পার হয়ে যাবে,সে সময়টা আর পাবে না। প্রত্যেককে এই বিষয়টি জীবনের ক্ষেত্রে মনে করে রাখবে। এই সুন্দর টুর্নামেন্টের আয়োজককারী বিশেষ করে দর্শকদের ধন্যবাদ জানাই। বিজয়ী দল পৌরসভাকে অভিনন্দন ও রানারআপ বিতারা ইউনিয়নকেও অভিনন্দন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব পিপিএম,এসময় তিনি বলেন, আজকে যে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে, এটা যেনো এখানে শেষ না হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন,প্রত্যেক স্টুডেন্ট এই ধরনের খেলা অব্যাহত রাখতে হবে। খেলার মাধ্যমে আমরা মাদক মুক্ত সমাজ, মাদক মুক্ত পরিবার,মাদক মুক্ত কচুয়া উপজেলা হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম,কচুয়া কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তপু আহমেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ ফেরদৌস আহম্মেদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.আতাউল করিম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফখরুল ইসলাম ।

এসময় উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো.খায়রুল আবেদীন স্বপন,উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক শাহ জালাল প্রধান জালাল,উত্তর কচুয়া বিএনপি সাধারন সম্পাদক মো.ইউসুফ মিয়াজী,উপজেলা জামায়াতের আমির এ্যাডভোকেট মো.আবু তাহের মেছবাহ,উপজেলা বিএনপি যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সারফিন হোসাইন,মাহবুব আলম মৃধা,কচুয়া পৌর বিএনপি সভাপতি মো,বিল্লাল হোসেন মজুমদার,সাধারন সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী,সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কমিশনার, কচুয়া পৌর জামায়াতের আমির শাহ মুহাম্মদ জাকির উল্লাহ শাহজুলী, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুন নবী সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন পাটওয়ারী, খেলা দায়িত্ব থাকা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য জাফরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ,নাছির উদ্দিন নসু,জাহাঙ্গীর আলমসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা,উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও কচুয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার ফুটবল প্রেমিক হাজার হাজার দর্শকরা উপস্থিত হয়ে খেলা উপভোগ করেন।

মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে হত্যার আল্টিমেটাম, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার:

আসামি ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নাশকতা সৃষ্টি, তথ্য বিভ্রান্তি ও অরাজকতার মাধ্যমে মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ ও হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা চালিয়ে আসছে। শুভ্রর অভিযোগ, “এই অপরাধীদের পরোক্ষ সহচর ও গুপ্তচর হিসেবে আমার পরিচিত কিছু ব্যক্তি অনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার পিছনে লেগে আছে।”

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বলেন, “আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও যদি অভিযুক্ত আসামিরা এমন অপরাধ করে, এর চেয়ে নিন্দনীয় কিছু হতে পারে না। প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তারা যদি আত্মগোপনে থেকে হামলা চালায়, তবে এর দায়ভার কে নেবে?”

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রর ওপর ধারাবাহিক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি: “স্যার নামীয় চক্র”র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত ও চলমান রয়েছি। উক্ত সাংবাদিক ও পেশাজীবি মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দায়ের করা মামলাসমুহ আদালতের বিচারাধীন পক্রিয়ারে চলমান রয়েছে ইতিমধ্যে। মওদুদ আব্দুল্লাহ দায়ের করা মামলা অপরাধে অভিজুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অবস্থাই আসামীদের পক্ষের পরোক্ষ লোকজন সত্যি মিথ্যা ভাবে বিভিন্ন প্রশাসনের পদ পরিচয় প্রদান করে এবং বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারন করে নারী পুরুষ সিন্ডিকেট চক্র এবং তাদের মনোনীত গুপ্তচর বাহিনী বাদী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র’র সহ তার পরিবার পরিজন সদস্যদের ক্ষতি করার প্রচেষ্টার চেস্টায় প্রতিনিয়ত লিপ্ত আছে। এই ব্যাপারে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত জি ডি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এখতিয়ার সম্পন্ন প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, কুমিল্লা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার সহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং কুমিল্লার ডি বি পুলিশ, কুমিল্লা সদর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প অধিনায়ক, কুমিল্লা র‍্যাব ১১ কোম্পানি কমান্ডার,সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি সহ কুমিল্লার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা শাখার এখতিয়ার সম্পন্ন সকল কর্মকর্তাগণদের বরাবরে উক্ত বিষয়ক বিশেষ অবগতি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত অভিযোগ সহ সংযুক্ত মওদুদ আব্দুল্লাহ দায়ের করা মামলার নথিপত্র, সহ অপরাধে অভিজুক্ত অপরাধী চক্রদের সকলের অপরাধ ছবি সহ সকল অপরাধীদের ঘটানো অপরাধের ঘটনা ও আলামত সবকিছু ইতিমধ্যে দাখিল করা হয়।

আসামি ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নাশকতা সৃষ্টি, তথ্য বিভ্রান্তি ও অরাজকতার মাধ্যমে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ ও হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা চালিয়ে আসছে। শুভ্রর অভিযোগ, “এই অপরাধীদের পরোক্ষ সহচর ও গুপ্তচর হিসেবে আমার পরিচিত কিছু ব্যক্তি অনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার পিছনে লেগে আছে।”

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বলেন, “আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও যদি অভিযুক্ত আসামিরা এমন অপরাধ করে, এর চেয়ে নিন্দনীয় কিছু হতে পারে না। প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তারা যদি আত্মগোপনে থেকে হামলা চালায়, তবে এর দায়ভার কে নেবে?”

মামলার বাদী শুভ্র জানান, তার দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি আবারও কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-১৮৮২, তারিখ: ২৬.১০.২০২৫ইং) দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আসামিরা ‘স্যার নামীয় চক্র গ্রুপ’ নামে নারী-পুরুষের যৌথ সিন্ডিকেট গঠন করে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মামলার গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তারা প্রশাসনের ছদ্মবেশে শুভ্রকে মোবাইলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, এমনকি তার কাছ থেকে মামলা প্রত্যাহারের চাপও দিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর শুভ্রকে লক্ষ করে মোটরসাইকেল আরোহী হেলমেট পরিহিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে, তার মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে এবং মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করে (মামলা নং: ৫০, জিআর–৮১২, তারিখ: ১৭.১০.২০২৫ইং)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চক্রটি কুমিল্লা শহরজুড়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ দস্যু দল। তাদের গ্রেফতারে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সজীব দত্ত। তিনি বলেন, “আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং লুট হওয়া মালামাল দ্রুত উদ্ধার করা হবে।”

কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মইনুল ইসলাম বলেন, “মানবধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রর দায়ের করা মামলার সকল আসামিকে অতি দ্রুত গ্রেফতারের আওতায় আনা হবে।”

সদরের সাহাপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান: দেশীয় এলজি, কার্তুজ ও মাদকসহ যুবক আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের সাহাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় এলজি, কার্তুজ ও মাদকসহ আব্দুল মান্নান (৪৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে সদর আর্মি ক্যাম্প।

রবিবার (৯ নভেম্বর) ভোর রাত ৪ টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী সাহাপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ।

আটক হওয়া আব্দুল মান্নান সদরের সাহাপুর এলাকার মৃত. আব্দুল সোবহার ছেলে।

অভিযানে একটি দেশীয় অস্ত্র এল জি, ২টি কার্তুজ ও ৩০০ পিস কার্পেন্টাইল ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

উল্লেখিত আসামিকে অস্ত্রসহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে ।

ময়নামতির কমনওয়েলথ যুদ্ধসমাধিতে নিহত সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানালেন ৮ দেশ

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন ময়নামতি কমনওয়েলথ যুদ্ধসমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আট দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও প্রতিনিধিগণ।

কমনওয়েলথ দিবসে শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের নেতৃত্বে আট দেশের প্রতিনিধিরা স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুজান রাইল, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং জার্মানীর রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ । এছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিসহ প্রায় ১২০ জন সেখানে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ১০১ বিগ্রেড কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিউগলে বেজে উঠে করুণ সুর। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অতিথিরা স্মৃতিফলক ঘুরে দেখেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে হাইকমিশনার ও প্রতিনিধিরা ময়নামতির যুদ্ধ সমাধির হলিক্রস পাদদেশে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নিহত সৈনিকদের স্মরণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা সমাধিস্থল পরিদর্শন এবং দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। এর আগে শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের উত্তরে বুড়িচং উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ময়নামতি যুদ্ধসমাধিতে ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৭৩৮ জন সেনাকে সমাহিত করা হয়। ১৯৬২ সালে একজনের দেহাবশেষসহ সমাধির মাটি তার স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে সেখানে সমাধি রয়েছে ৭৩৭ জনের। কমনওয়েলথ গ্রেভ ইয়ার্ড কমিশন এ যুদ্ধসমাধি ক্ষেত্র তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। প্রতি বছর এ সময় কমনওয়েলথ্ভুক্ত দেশের হাইকমিশনাররা সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তাদের স্মরণ করেন।

সৌদি আরবে সেননগরের প্রবাসী জামাল মিয়ার মৃত্যু

বিপ্লব সিকদার:

কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার সেননগর গ্রামের প্রবাসী মোঃ জামাল মিয়া সৌদি আরবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর বারোটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মরহুম মোঃ জামাল মিয়া সেননগর গ্রামের মোহাম্মদ দরবেশ মিয়ার পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছয় মাস বয়সী কন্যা সন্তান, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সমাজসেবক, প্রবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

চাঁদপুরে প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় মেধা মূল্যায়ন বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর শহরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদরাসা ২টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে উক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এদিকে বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রকাশক সোহেল রুশদী। এ সময় সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি মাওলানা নূরে আলম সিদ্দীকী। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অতিথি ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এসোসিয়েশনের চাঁদপুর জেলা সভাপতি ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ.ন.ম ফখরুল ইসলাম মাসুম ও সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আহমাদুল্লাহ চাঁদপুরী। পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শণ শেষে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসোসিয়েশনের চাঁদপুর জেলা সভাপতি ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ.ন.ম ফখরুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

তিনি বলেন, উক্ত বৃত্তি পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠু হওয়ায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটবে এবং সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হবে। এসোসিয়েশনের এই পরীক্ষায় যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠা অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেনি সে সব প্রতিষ্ঠান আগামীতে উক্ত এসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আহবান জানচ্ছি।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি মাওলানা নূরে আলম সিদ্দীকী, হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আ.জ.ম ইসমাইল হোসেন (আযাদ), ফাউন্ডেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আসাদুজ্জামান দেওয়ান, এসোসিয়েশনের চাঁদপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুজাম্মিল হোসাইন আনসারী, বৃত্তি পরীক্ষার হল সুপার আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, আন নাজির আইডিয়াল মাদরাসা প্রতিনিধি মাওলানা হারিস দেওয়ান, ইকরা তাহফীজুল কোরআন মডেল একাডেমী মতলব দক্ষিণের প্রতিষ্ঠতা ও পরিচালক হাফেজ মাওলানা খালিদ হাসান।

দেবীদ্বারে আটক আ. লীগ নেতাকে, বিএনপি নেতাদের তদবিরে ছেড়ে দেয় পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বদিউল আলম বদু (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে আটক করে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেবীদ্বারের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ী গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে বদিউল আলম বদুও ছিলেন।

শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও বদিউল আলম বদুকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের তদবিরে পুলিশ ছেড়ে দেয়া হয়। এদিন সকালে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি মহিউদ্দিন সরকার মাহফুজের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী বদুকে ছাড়ানোর দাবিতে থানায় অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বদিউল আলম বদু অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে মিছিল-সমাবেশেও তাকে দেখা যায়, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে। তার ছেলে জামির হোসেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এবং গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা মামলার ৫৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। সম্প্রতি বদু নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি মহিউদ্দিন সরকার মাহফুজ বলেন, ‘বদিউল আলম বদু দেবীদ্বার পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক।

আগে তিনি পৌর বিএনপির সহসভাপতিও ছিলেন। সে পূর্বে আওয়ামী লীগ করতেন কি না, তা আমাদের জানা নেই। গত জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তবে তার ছেলে যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত, সেটা সত্য।’
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

থানার অন্য কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। থানা সূত্রে জানা যায়, ওসির নির্দেশেই বদিউল আলম বদুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন বলেন, ‘পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ছেড়ে দিতে পারেন। অভিযোগ থাকলে আবারও আটক করা হবে। এতে বড় কোনো সমস্যা নেই।’

সূত্র: কালের কন্ঠ

জামায়াতকে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: কায়কোবাদ

মুরাদনগর প্রতিনিধি:

‘শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সাহেব যখন বাকশাল গঠনের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দল সহ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল সেদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইল সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার প্রচার ও নির্বাচন উপলক্ষে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এসব কথা বলেন।

কায়কোবাদ আরো বলেন, ‘নির্বাচন আসছে। একটি ইসলামী দল নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে, আরো কয়েকটি দল নির্বাচনে আসবে। জামায়াতে ইসলামী এখন আবোলতাবোল কথা বলে। আসন্ন নির্বাচনে তারা মানুষকে নানা কথা বলে মন গলাতে চেষ্টা করবে। তাদের মুনাফেকি থেকে সাবধান থাকবেন।’

২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাদের ১৮টি আসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ওই সময়ে দুজনকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। তারা মন্ত্রণালয়ে বসে দলকে সংগঠিত করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘টর্নেডোতে চারজনের ঘর উড়ে গেছে। সবাইকে আমরা নানা সহায়তা দিয়েছিলাম। টাকা দিইনি। এদের একজনকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে জানলাম তিনি জামায়াত করেন। জামায়াত তাদের টাকা দিয়েছে।

শুনে অবাক হলাম। বাকিরা কি মুসলিম নন! আমাদের নেতা তারেক রহমান অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দেশে আসবেন। আমরা মুরাদনগরের মানুষ তাকে বরণ করে নেব।’

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, বেলজিয়াম প্রবাসী আমজাদ হোসেন তছু, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ দুলাল সরকার, মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ রানা প্রমুখ।

দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে ব্যানার, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভাস্থলে এসে উপস্থিত হন।