All posts by jitu

গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা! ২০ শতক জমির লাউ গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকিত্তা এলাকার এক কৃষকের চাষ করা লাউ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার রাতে মুরাদনগর উপজেলার ও হোমনা উপজেলার সীমানাঘেষা তিতাস নদীর পাড়ের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচকিত্তা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম মিয়ার নিজেরও নেই কোন জমি। অন্যের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে সবজি চাষ করেন তিনি। এ বছরও একটি এনজিওর কাছ থেকে কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ২০ শতক জমিতে আগাম সবজির চাষাবাদ করেছেন। রবিবার সকালে খেতে গিয়ে দেখেন তার জমির শত শত গাছ কাটা। মরে যাচ্ছে ৪০ দিন আগে জমিতে চাষ করা লাউ গাছ।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ফসলের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা।

কৃষক ইব্রাহিম মিয়ার দাবি, লাউ চাষ করা জমিটি অন্য এক ব্যক্তি ভাড়া নিতে চেয়েছিলেন। জমিটি ভাড়া নিতে না পেরে, ক্ষুব্ধ হয়ে এই কাজ করতে পারেন বলে ধারণা তার। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে হোমনা উপজেলার সর্বস্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

কৃষক ইব্রাহিম আরো জানান, কিছুদিন পরেই জমিতে চাষ করা গাছের লাউ গুলো বিক্রয়ের উপযোগী হত। আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা বিক্রয় করা যেত চাষ করা লাউ। কিন্তু এক রাতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চৌচির। কিছুক্ষণ পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কৃষক ইব্রাহিম। বারবার একটা কথাই বলছেন, এখন আমি এই কিস্তির ঋণ কিভাবে শোধ করব? আর সংসারের খরচইবা চালাবো কিভাবে?

হোমনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি তার নজরে এসেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ভুক্তভোগী কে সুষ্ঠু বিচার পাইয়ে দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি রিপোর্ট প্রদান করা হবে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষককে সুষ্ঠু বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। একজন কৃষকের কষ্ট করে লাগানো গাছের লাউ বিক্রয়ের টাকায় হয়তো তার সংসার চলত। যে এই ন্যাক্কারজনক কাজের সাথে জড়িত তার যেন বিচার হয়, সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লায় জেলা মাসিক রাজস্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় জেলা মাসিক রাজস্ব সম্মেলন ও নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সারের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামানের সঞ্চালনায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলাসমূহের রাজস্ব আদায়, ইজারা প্রদান, মামলার অগ্রগতি এবং রাজস্ব সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সম্মেলনে সরকারি রাজস্ব আদায়ে সকল কর্মকর্তাকে আরও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও দাবি, নামজারী মোকদ্দমা পরিস্থিতি, ভূমি অফিসের ব্যবস্থাপনা, খাসজমি বন্দোবস্ত ও উদ্ধার ইত্যাদি বিষয় আলোচিত এবং করণীয় বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি পরিদর্শক সাদেকুর রহমান, বিভিন্ন ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

সভায় জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার জানান, গোমতীর আইলে অবৈধ উচ্ছেদ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। মরা গোমতীর অবৈধ দখলের তালিকা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করার তাগিদ দেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্ব স্ব ইউএনওদের আবারও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দেয়। গোমতী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগের কথাও সভায় জানানো হয়।

প্রযুক্তির আসক্তির ভয়াবহতা: এক অদৃশ্য ব্যাধি ও উত্তরণের পথ

মোহাম্মদ মনির হোসেন:

একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানবসভ্যতা প্রযুক্তির আশীর্বাদে অভূতপূর্ব উন্নতি লাভ করেছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি – জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিন্তু এই আশীর্বাদই যখন মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্তিতে পরিণত হয়, তখন তা সমাজ ও ব্যক্তির জন্য ডেকে আনে ভয়াবহ বিপর্যয়। বিশেষ করে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের প্রতি শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষের এই লাগামহীন আসক্তি বর্তমানে এক নীরব মহামারীর আকার নিয়েছে। এই লেখনিতে প্রযুক্তির আসক্তির ভয়াবহ দিক, এর বহুমাত্রিক প্রভাব এবং তা থেকে উত্তরণের কার্যকর উপায়সমূহ বিশ্লেষণ করা হলো।

প্রযুক্তি আসক্তি কী এবং কেন হয়?

প্রযুক্তি আসক্তি বলতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (যেমন: মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার) প্রতি এক ধরনের মানসিক ও আচরণগত নির্ভরতাকে বোঝায়, যেখানে ব্যক্তি এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং এর অভাবে মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগ অনুভব করে। ইন্টারনেট আসক্তি, গেমিং আসক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।

তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি (Instant Gratification): ডিভাইস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সামান্য একটি ‘লাইক’ বা নতুন নোটিফিকেশন মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ করে, যা ক্ষণিকের জন্য আনন্দ দেয় এবং পুনরায় সেই অভিজ্ঞতা পেতে মস্তিষ্কে তাড়না সৃষ্টি করে।

বাস্তব জীবনের অপূর্ণতা থেকে পলায়ন: একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, ব্যর্থতা বা সামাজিক ভীতি থেকে মুক্তি পেতে অনেকে ভার্চুয়াল জগতে আশ্রয় খোঁজে।

নকশার ফাঁদ (Addictive Design): অ্যাপস ও গেমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় (যেমন: ইনফিনিট স্ক্রলিং, পুশ নোটিফিকেশন) যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোতে আটকে থাকে।

সামাজিক চাপ: অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বা সমাজের অংশ থাকতেও এই ডিভাইস ব্যবহার অপরিহার্য মনে হয়।

শিশু-কিশোরদের জীবনে প্রযুক্তি আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব:

শিশু ও কৈশোরকাল হল মানসিক, সামাজিক ও শারীরিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে প্রযুক্তির আসক্তি, বিশেষত মোবাইল ও ট্যাবলেটের অতিরিক্ত ব্যবহার, তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্রাথমিক বিকাশগত সমস্যা: দেরিতে কথা বলা ও ভাষার বিকাশ ব্যাহত হওয়া (Delayed Speech and Language Development)। শিশুদের কথা বলা শেখা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা প্রধানত মানুষের সাথে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া (Face-to-face interaction), কথোপকথন শোনা এবং অনুকরণের মাধ্যমে ঘটে। স্ক্রিন টাইম এই প্রাকৃতিক শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।

মিথস্ক্রিয়ার অভাব: যখন অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়কের সাথে শিশুর খেলার সময় বা যোগাযোগের সময় মোবাইল ব্যবহার করা হয়, তখন শিশুর মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র (Language Processing Center) প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা পায় না। গবেষণা অনুযায়ী, ১৮ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুরা যত বেশি স্ক্রিন টাইম পায়, তাদের প্রতি শব্দ বলার হার তত কমে যায়।

একমুখী যোগাযোগ: মোবাইল বা ট্যাবের মাধ্যমে শিশুরা কেবল তথ্য ও শব্দ গ্রহণ করে, কিন্তু তাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কথা বলার জন্য যে ‘আদান-প্রদান’ (Reciprocal Communication) প্রয়োজন, তা ডিজিটাল ডিভাইসে অনুপস্থিত। ফলে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংযোগ তৈরি হয় না এবং বহু শিশুই দেরিতে কথা বলা শেখে বা তাদের ভাষার বিকাশ ব্যাহত হয়।

অস্পষ্ট উচ্চারণ ও শব্দভান্ডারের সীমাবদ্ধতা: স্ক্রিনে দেখা দ্রুতগতির চিত্র বা কার্টুন বাস্তব জীবনের মানুষের কণ্ঠস্বর, আবেগ বা উচ্চারণের মতো জটিল বিষয়গুলো শেখাতে পারে না, যা তাদের শব্দভান্ডারকে সীমাবদ্ধ করে তোলে এবং স্পষ্ট উচ্চারণে বাধা সৃষ্টি করে।
মনোযোগ ধরে রাখার অক্ষমতা ও জ্ঞানীয় দুর্বলতা (Inability to Maintain Attention and Cognitive Weakness)

টিকটক, রিলস বা গেমিং প্ল্যাটফর্মের মতো দ্রুতগতির কনটেন্টগুলো শিশুর মস্তিষ্কের মনোযোগের স্প্যান (Attention Span) মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।

অস্থির মস্তিষ্কের গঠন: এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতি কয়েক সেকেন্ড পরপর নতুন উদ্দীপনা আসে, যা মস্তিষ্ককে দীর্ঘমেয়াদী স্থির উদ্দীপনা বা কাজের জন্য অভ্যস্ত হতে দেয় না। মস্তিষ্ক তখন কেবল তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ও উত্তেজনা খুঁজতে থাকে।

মনোযোগের ঘাটতি: এর ফলস্বরূপ, শিশুরা ক্লাসে শিক্ষক বা বইয়ের পাঠের মতো দীর্ঘ ও স্থির তথ্যে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। তারা সহজেই অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে এবং কোনো কাজ বা পড়াশোনায় দীর্ঘক্ষণ মনোনিবেশ করতে ব্যর্থ হয়।

জ্ঞানীয় দুর্বলতা: এই প্রবণতা অনেক সময় মনোযোগের ঘাটতিজনিত অতিসক্রিয়তা ব্যাধি (Attention Deficit Hyperactivity Disorder – ADHD)-এর মতো সমস্যার জন্ম দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষণ প্রক্রিয়ার জন্য যে গভীর চিন্তাভাবনা এবং বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতার প্রয়োজন, তা স্ক্রিন আসক্তির কারণে দুর্বল হয়ে যায়।

একাকীত্ব জীবন ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Loneliness and Social Isolation)
প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি শিশুদের মধ্যে একাকীত্বপূর্ণ জীবন গড়ে তোলে, যা তাদের সামাজিক ও আবেগিক স্বাস্থ্যের জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতির কারণ।

ভার্চুয়াল আশ্রয়ের খোঁজে: বাস্তব জীবনে বন্ধু-বান্ধব বা খেলার সাথীর অভাব, অথবা পারিবারিক সময় ও মনোযোগের অভাব হলে শিশুরা সহজে মোবাইলে আশ্রয় খোঁজে। তারা ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের একটি স্ব-নির্মিত জগতে আটকে ফেলে, যা তাদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও ধীরে ধীরে বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

সামাজিক দক্ষতার হ্রাস: বাস্তব জগতের মানুষজনের সাথে মিশতে অনীহা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ে। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন, তাদের আবেগ বোঝা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দক্ষতাগুলো (Social Skills) তাদের মধ্যে তৈরি হয় না। ফলে তারা বড় হয়েও সামাজিক ও পেশাগত জীবনে অস্বস্তি এবং বিচ্ছিন্নতায় ভোগে।

আবেগিক বুদ্ধি দুর্বলতা (Emotional Intelligence): তারা মানুষের মুখের ভাব বা শারীরিক ভাষা দেখে আবেগ বুঝতে পারে না, কারণ তাদের সমস্ত মিথস্ক্রিয়া হয় স্ক্রিনের মাধ্যমে। মানুষের আবেগ বুঝতে না পারার এই অক্ষমতা তাদের মধ্যে সহমর্মিতা (Empathy) এবং আবেগিক বুদ্ধি (EQ) দুর্বল করে দেয়।

সকলের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির আসক্তির বহুমাত্রিক ভয়াবহতা

শিশু-কিশোর ছাড়াও প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনে প্রযুক্তির আসক্তি মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।
পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনে শিথিলতা: পরিবারের সদস্যদের সাথে কথোপকথন ও সময় কাটানো কমে যায়, ফলে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়। বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলো দুর্বল হয়ে ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলোতে নির্ভরতা বাড়ে। অনেক সময় দাম্পত্য কলহ বা পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অনলাইন চ্যাটিং সাইটগুলো ভূমিকা রাখে।

পেশাগত জীবনের ক্ষতি:

কাজের সময় বারবার নোটিফিকেশন চেক করার প্রবণতা কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কমায়। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অপচয় হয়। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া।

আর্থিক ঝুঁকি ও অপরাধ প্রবণতা:

অতিরিক্ত ইন্টারনেট বিল ও অনলাইন কেনাকাটায় বিপুল অর্থ খরচ। বিভিন্ন প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া এবং সাইবার অপরাধের শিকার হওয়ার ঝুঁকি। জুয়া বা অনলাইন গেমিংয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা।

আসক্তি থেকে উত্তরণের কার্যকর পথ

প্রযুক্তির আসক্তি একটি মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরতা, যা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা।

১. সময়সীমা নির্ধারণ ও ডিজিটাল ডিটক্স:
দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন: দিনে সর্বোচ্চ ২-৩ ঘণ্টা) নির্ধারণ করা। মোবাইলের সেটিংস বা থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট অ্যাপসের ব্যবহার সীমিত করা। সপ্তাহে একদিন বা মাসে কয়েকদিনের জন্য সম্পূর্ণভাবে “ডিজিটাল ডিটক্স” (ডিভাইস থেকে দূরে থাকা) অনুশীলন করা। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ রাখা।

২. বিকল্প বিনোদন ও সদ্ব্যবহার:
ইন্টারনেটে সময় কাটানোর পরিবর্তে বই পড়া, খেলাধুলা করা, বাগান করা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা সৃজনশীল কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বা আড্ডা দেওয়া এবং সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। প্রযুক্তিকে শেখা, উদ্ভাবন বা পেশাগত উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা, কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়।

৩. পারিপার্শ্বিক সচেতনতা ও পারিবারিক ভূমিকা:
পরিবারের সদস্যদের জন্য “নো-ফোন জোন” (যেমন: খাবার টেবিল, বেডরুম) তৈরি করা। অভিভাবকদের নিজেদের মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন করা, কারণ শিশুরা তাদের বড়দের অনুকরণ করে। সন্তানকে ট্যাবলেট বা মোবাইল দেওয়ার আগে এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। সন্তানদের পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, যাতে তারা বাস্তব জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

৪. পেশাদার সাহায্য গ্রহণ:
যদি আসক্তি গুরুতর পর্যায়ে চলে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বিঘ্নিত করে, তবে মনোবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) বা পারিবারিক থেরাপির মাধ্যমে আসক্তি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

প্রযুক্তি আমাদের আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা নিয়ে আসছে। প্রযুক্তির আসক্তি কেবল সময়ের অপচয় নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা এবং সামাজিক সম্পর্কগুলোকে তিলে তিলে ক্ষয় করে দেয়। এই নীরব ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং প্রযুক্তির যথাযথ ও পরিমিত ব্যবহার। প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত হওয়ার জন্য এর ‘ব্যবহার’ জরুরি, এর ‘দাসত্ব’ নয়। সঠিক পদক্ষেপ এবং সচেতনতার মাধ্যমেই কেবল আমরা প্রযুক্তির আশীর্বাদকে কাজে লাগিয়ে এর অভিশাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

লেখক:
মোহাম্মদ মনির হোসেন
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, মেহের ডিগ্রি কলেজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।

করপোরেট ফুটবল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫ প্লেট চ্যাম্পিয়ন ওয়ালটন

ডেস্ক রিপোর্ট:

‘করপোরেট ফুটবল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫’ এর প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়ালটন। শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ফুটসাল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে ওয়ালটনের প্রতিপক্ষ ছিল ইউনাইটেড হেলথকেয়ার। প্রতিপক্ষ দল মাঠে অনুপস্থিত থাকায় ওয়াকওভারে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়ালটন।

এর আগে গত দুইদিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে টুর্নামেন্টের ৬ দলের মধ্যে। এরমধ্যে একটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করে প্লেট ফাইনালে ওঠে ওয়ালটন।

টিম ওয়ালটনের হাতে ট্রফি এবং প্রাইজমানির চেক তুলে দেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকর কুমার কল্যাণ এবং ওয়ালটনে সিনিয়র ডেপুটি অপারেটিভ ডিরেক্টর কাব্বির হোসাইন।

উল্লেখ্য, করপোরেট জগতের মহা কর্মব্যস্ত সময়ের মাঝে বিরতি নিয়ে খানিকটা সময় খেলাধুলার আনন্দে মাতিয়ে তুলতে ‘করপোরেট ফুটবল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫’ এর আয়োজন করে ‘জে কে স্পোর্টস ইভেন্ট’। সেভেন-এ সাইড এবং ৩০ মিনিট ফরম‌্যাটে দেশের শীর্ষ সব করপোরেট হাউজে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে ছিল সিটি ব্যাংক, মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এবং নগদ।

ওয়ালটন করপোরেট ফুটবল টিমের সদস্য জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘‘ওয়ালটনের সুবাদে এটা আমার প্রথম করপোরেট টুর্নামেন্ট। প্লেট পর্বের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এই টুর্নামেন্টে যতগুলো টিম খেলেছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে ফেয়ার খেলেছে আমাদের ওয়ালটন টিম।’’

এরকম একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন টিমের ক্যাপ্টেন রবিউল ইসলাম মিলটন। তিনি বলেন, ‘‘কাজের ফাঁকে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে, তাদের মনোবল বাড়ায়। ওয়ালটন বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় সম্পৃ্ক্ত রয়েছে। এর আগে বহুবার আমরা করপোরেট ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছি। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকব।’’

ওয়ালটন করপোরেট ফুটবল টিমের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মো. নাহিদ হাসান, আজিজুল ইসলাম, সৌরভ সিংহ, আরিফুল ইসলাম, রায়ান আহমেদ, নাজমুস সাকিব, সাহেল মিয়া, রেজোয়ানুল ইসলাম শাওন, সফিকুল ইসলাম এবং ইউনুস আলী।

চৌদ্দগ্রামে একাধিক পুরুষকে দিয়ে নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করালেন স্বামী, অভিযুক্তরা আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অন্য পুরুষ দিয়ে টানা ৩দিন ধর্ষণ করানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী বাদী হয়ে স্বামীসহ ৫জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আটককৃতরা হলেন, ধর্ষিতার স্বামী নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার রামহরিতালুক গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রাজু আহমেদ(২৬), একই এলাকার মৃত সিরাজ মাঝির ছেলে বেলাল হোসেন(৩৫), আবুল কাশেমের ছেলে হৃদয়(২৫), চাঁন মিয়া মাঝির ছেলে মহিন(২৬), একই থানার মুন্সীতালুক গ্রামের শাহ আলমের ছেলে আবুল কালাম(৪৫)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মিরশ্বানী এলাকার ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ডের শ্রমিকদের থাকার ঘরে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার করি। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানায় দায়েরকৃত মামলায় জানা যায়, স্ত্রী বিউটি আক্তার (২০, ছদ্মনাম) ও স্বামী রাজুর সাথে বিয়ে হয় ২০২৩ সালে। বিয়ের পর থেকে রাজু নেশাগ্রস্ত হওয়ায় বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে বিউটি বাবার বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম থানার মাব্দারতলী গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। চলতি মাসে প্রথম দিকে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিউটিকে পুনরায় রাজু বাড়ি নিয়ে যায়।

গত ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে থাকার কথা বলে রাজুর কর্মস্থল উপজেলার মিরশ্বানিতে ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে ব্রিক ফিল্ড শ্রমিক বেলাল হোসেন একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। ১৬ অক্টোবর রাত ১০টার সময় বেলাল ও আবুল কালাম রুমে প্রবেশ করে আমার স্বামী রাজুর সাথে কিছুক্ষণ আলাপ করে কালাম বাইরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী আমার মুখ চেপে ধরে এবং বেলাল আমাকে ধর্ষণ করে। চক্ষুলজ্জায় কাউকে কিছু জানাই নাই। ১৮ অক্টোবর রাতে হৃদয় ও মহিন উদ্দিন রুমে প্রবেশ করলে আবারো আমার স্বামী জোরপূর্বক আমার মুখ চেপে ধরে। এসময় ওই দুই জন পালাক্রমে আমাকে ধর্ষণ করে। ২০ অক্টোবর রাতে হৃদয় আমার স্বামীর উপস্থিতিতে জোরপূর্বক ঘুমন্ত অবস্থায় আমাকে আবার ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় আমি চিৎকার চেঁচামেচি করলে হৃদয় পালিয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রামে মালবোঝাই মিশুক উল্টে চালকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মালবোঝাই মিশুক উল্টে চালক নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন একজন। নিহত চালকের নাম জিহাদ(১৯), সে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের আবদুল হকের সন্তান। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে আঞ্চলিক আটগ্রাম-শরিফপুর সড়কে বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী নামক স্থানে।

ঘটনার সময় সাথে থাকা পরিবেশক কোম্পানির প্রতিনিধি আহত সিয়াম বলেন, সড়কের ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় উঁচুনিচু থাকায় হঠাৎ মিশুকটি উল্টে যায়। এসময় আমি ছিঁটকে পড়ি পাশের জমিতে, জিহাদ মিশুকের নিচে চাপা পড়ে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আমাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রবিউল হাসান বলেন,’আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এখানে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার আগেই সে মারা যায়।’

থানার এসআই লিটন জানান, ‘দুর্ঘটনায় নিহত মিশুক চালকের পরিবার ময়নাতদন্ত না করে লাশ নেওয়ার আবেদন করলে ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।’

নির্বাচনী দায়িত্বে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে কুমিল্লায় পুলিশের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) এ কর্মশালার চতুর্থ পর্যায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম)আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ, বিপিএম। সভাপতিত্ব করেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মোঃ ফারুক হোসেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হলো নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করা। আমাদের লক্ষ্য—‘নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।’”

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, প্রশিক্ষকবৃন্দ ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে ২৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার:

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১১ এর বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন কোরপাই কলাবাগান এলাকা থেকে ২৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার চর ফকিরা গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে আবুল বাশার সুমন (৩০) কে আটক করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে ২৫ কেজি গাঁজা ও একটি কন্টেইনার ক্যারিয়ার (প্রাইম মুভার) উদ্ধার করা হয়, যা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিল।

র‌্যাব-১১ জানায়, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদকসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, র‌্যাব-১১ গত আগস্ট ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ২৩৯ জন চাঞ্চল্যকর অপরাধী, ১৮৬ জন হত্যা মামলার আসামি, ৯৩ জন ধর্ষণ মামলার আসামি এবং ৪৪৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। এছাড়া, ১০৮টি অস্ত্র, ১৩৫৫ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১ জানিয়েছে, সমাজ থেকে মাদকসহ সকল প্রকার অপরাধ নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে নাসিরউদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাচ্চু ও হারুন গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সকালে উত্তেজনার জেরে দুপক্ষের লোকজন মাথায় হেলমেট, গায়ে লাইফ জ্যাকেট পরে এবং হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নাসিরউদ্দিন গুরুতর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

লাকসাম-মনোহরগঞ্জে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছেন সামিরা আজিম দোলা

সেলিম সজীব:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আসন সমন্বয় শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে দলটি। কুমিল্লা ০৯ আসন লাকসাম মনোহরগঞ্জ উপজেলা এর ব্যতিক্রম নয়। তবে দল থেকে কোনো সবুজ সংকেত না দিলেও নিজেকে প্রস্তুত করছেন সামিরা আজিম দোলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রয়াত এমপি কর্ণেল (অব.) আনোয়ারুল আজিমের কন্যা কুমিল্লা-৯ আসনে দলের সুনজরে আছেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন বাছাই কৌশল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বিবিসি বাংলায় বলেছেন, ‘আমরা কখনোই পেশিশক্তি, টাকার প্রভাব প্রার্থী মনোনয়ন দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমরা যে বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিই, সেটি হলো—প্রার্থী যেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানেন, মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা থাকে, এবং ওই এলাকার জনগণের কল্যাণে কাজ করার সক্ষমতা রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন একজন প্রার্থী, যার সঙ্গে এলাকার তরুণ, নারী, মুরুব্বি, ছাত্রছাত্রী—সব শ্রেণির মানুষের যোগাযোগ আছে। যার প্রতি মানুষের আস্থা ও জনসমর্থন রয়েছে। জনগণের সমর্থন যার সঙ্গে থাকবে, তাকেই আমরা প্রাধান্য দেব।’

সে দিক বিবেচনায় জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই কুমিল্লা-৯ আসনের গ্রামগঞ্জের প্রতিটি নেতাকর্মীর খোজখবর রাখছেন সামিরা আজিম দোলা তারই পরিপ্রেক্ষিতে তার ভালোবাসার কর্মীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নে পোস্টার, ব্যানার, গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় তার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল কর্মীরা তাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হচ্ছে। গ্রামগঞ্জের ছোট ছোট চায়ের স্টলেও আলোচনা চলছে সামিরা আজিম দোলাকে নিয়ে।

মাঠের কর্মীরা বিশ্বাস করেন, সামিরা আজিম দোলা হচ্ছে তাদের আস্থার প্রতীক ও বিশ্বাসের জায়গা। লাকসাম- মনোহরগঞ্জ আসনের সামিরা আজিম দোলার বিকল্প নেই। বিশেষ করে তার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তিনি।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান যিনি সত্যিকারের অর্থে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করবেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, অতীতে কর্নেল আজিম সাহেবের উদ্যোগে তারা নানাভাবে উপকৃত হয়েছেন। তার মেয়েও আমাদের হতাশ করবেন না। তরুণ ভোটাররা মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। নারী ভোটারদের মতে, তিনি সমাজে নারী শিক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন।