All posts by jitu

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষ, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের হয়েছে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন চার শিক্ষার্থী।

বোরবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১২ টা দিকে কলেজের কান্দিরপাড়ের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পর কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আহতরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন ও মো. রিজভী। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টার পর কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ব্যবসা শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী জিসান ও ফাহাদের সঙ্গে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তানভীন সিফাতের সঙ্গে কথাকাটি হয়। এঘটনার সময় সিপাত ফাহাদকে হামলা করে এবং জিসানকে মারধরের হুমকি দেয়। পরে পাহাদ ও সিফাতের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সিফাত তার বিভিন্ন কলেজে থাকা বন্ধুদের কল দিলে তারাও সিপাতের সঙ্গে এসে যোগ দেয়। বেলা ১২ টার কিছু সময় পর কলেজের শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু হলে সিফাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে। এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে ধারলো রামদা নিয়ে অন্য তরুণদের দৌড়াচ্ছে। এসময় এক তরুণদের হাতে পিস্তল দেখা যায়। তবে তার চেহারা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো না। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাওয়া ঐ তরুণ সিফাত বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনায় আহত ৪ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক জনের অবস্থা আশংকাজনক।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, এ ঘটনায় পর কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনায় যতটুকু জেনেছি আহতদের কেউ ভিক্টোরিয়া কলেজের নয়। তবে ভিক্টোরিয়া কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং এঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থা করছি।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে কুয়েতের শ্রমবাজার

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশিদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে কুয়েতের শ্রমবাজার। শিগগিরই এ নিয়ে ঢাকার সঙ্গে সমঝোতা সই করতে যাচ্ছে দেশটি।

রোববার ফরেন অফিস কনসালটেশন শেষে এ কথা জানায় দেশটির এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামি ঈসা জোহর হায়াত।

এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা, সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা জানায় তিনি।

সূত্র: চ্যানেল২৪

কুমিল্লায় তারুণ্যনির্ভর উন্নত, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও জাতি গঠন বিষয়ে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

জেলা তথ্য অফিস, কুমিল্লার আয়োজনে আদর্শ সদর উপজেলার কালিকাপুর কাজী বাড়ী মাঠে তারুণ্যনির্ভর উন্নত, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও জাতি গঠন, তথ্য অধিকার আইন, মাদক, বাল্যবিবাহ, গুজব, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের পরিচালক মীর হোসেন আহসানুল কবীর’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ঢাকার মহাপরিচালক মো: আবদুল জলিল।স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র তথ্য অফিসার জেলা তথ্য অফিস কুমিল্লা মোহাম্মদ নূরুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহতাব, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কাজী আবুল কালাম রতন, চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা আক্তার ও হাসমতের নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাকলী পারভীন।

নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি বলেন, বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য শিক্ষা অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের গৃহস্থলি কাজের পাশাপাশি কারিগরিমূলক শিক্ষা বা ট্রেনিং গ্রহণ খুবই জরুরী। নারীদের তথ্য স্বনির্ভর ও কর্তব্য পরায়ন হতে হবে। সকল ক্ষেত্রে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চাকুরীতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত জরুরী। ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি সকল অভিভাবককে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে কিশোর গ্যাং, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রমে আপনার সন্তান যুক্ত হতে না পারে। সকল শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ গঠনে নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বক্তাগণ আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২৫ মাস পর্যন্ত চলমান ৯ মাস থেকে ১৫ বছর সকল শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। নারী সমাবেশের শুরুতে চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লায় বিজিবি অভিযানে ১ কোটি অধিক টাকার ভারতীয় শাড়ি ও মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় পোশাক সামগ্রী ও মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবের বাজার বিওপি এবং একইদিন দুপুরে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি’র আওতাধীন কটকবাজার পোস্ট এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির টহলদল।

বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযান চলাকালে সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার ভেতরে বুড়িচং ও পাঁচতোবি নামক স্থানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩২৩ পিস ভারতীয় শাড়ি, ১৮০ পিস শাল এবং ১ হাজার ৭১৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা এসব মালামাল শিগগিরই কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর ২০২৫) সকালে পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই প্যারেডে জেলার বিভিন্ন ইউনিট ইনচার্জ ও অফিসার ফোর্সরা অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সুসজ্জিত অভিবাদন মঞ্চ থেকে সালাম গ্রহণ করেন এবং পরে প্যারেড পরিদর্শন করেন। এ সময় প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।

প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার অংশগ্রহণকারী অফিসার ফোর্সদের শারীরিক ফিটনেস ও টার্ন আউট পর্যবেক্ষণ করে যোগ্যদের জিএস (গুড সার্ভিস) মার্ক প্রদান করেন। এছাড়া তিনি প্যারেডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলা পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) পংকজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) কামরুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তারা।

কুমিল্লায় গাঁজা পাচারের সময় র‍্যাবের হাতে মাদক কারবারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় অভিনব কায়দায় মিশুকের সীটের নিচে করে মাদক পাচারের সময় র‍্যাবের অভিযানে মাদকসহ এক মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ১১ সিপিসি ২।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন কনেশতলা এলাকায় মাদকবিরোধী এই অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। এই সময় একটি মিশুকের সীটের নিচে তল্লাশী করে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক (মিশুক) জব্দ করা হয়।

একই দিন দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব ১১।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারী গ্রেফতারকৃত আলমগীর হোসেন কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার একবালিয়া গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর র‍্যাব জানায়, মাদক কারবারী আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

কুমিল্লায় আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)। শনিবার রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দ পণ্যের মধ্যে রয়েছে- মোবাইলের ডিসপ্লে, শাড়ি, খাদ্য সামগ্রী ও পটকা।

৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৬০ বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোৎভাবে অব্যাহত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইলের ডিসপ্লে, এক কোটি চার লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, খাদ্য সামগ্রী ও পটকা জব্দ করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় তিনি।

“পার্বত্য জেলা: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির কর্ণধার”

মোহাম্মদ মনির হোসেন:

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তিন পার্বত্য জেলা – রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান – দেশের মোট আয়তনের এক-দশমাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে বিস্তৃত। পাহাড়, নদী, বন-জঙ্গল ও বৈচিত্র্যময় জনজীবনের এই লীলাভূমি প্রকৃতি ও সম্পদের এক অপার ভাণ্ডার। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অনুন্নয়নের বেড়াজাল অতিক্রম করে এই অঞ্চল এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার অমিত সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই বিশ্লেষণমূলক লেখায় পার্বত্য জেলার খনিজ সম্পদ, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা আনয়নের চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের ভূমিকা তুলে ধরা হলো।

খনিজ সম্পদের অফুরন্ত সম্ভাবনা:

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-গর্ভে লুকিয়ে আছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ। যদিও তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধান পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকেই চলে আসছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের মাটির গঠন খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথাই বলে। জালদি, সিতাপাহাড়, পটিয়া, পাথারিয়া, সুনেত্র এবং কাসালং-এ প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য বান্দরবান জেলাও কিছু খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। তেল, গ্যাস ছাড়াও কঠিন শিলা, সাধারণ পাথর, সিলিকা বালু, এবং খনিজ বালুর মতো সম্পদের সন্ধানও পাওয়া যেতে পারে। এই খনিজ সম্পদগুলো দেশের শিল্পায়ন ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, খনিজ সম্পদ উত্তোলনের পূর্বে স্থানীয় জনগণের মতামত, পরিবেশের উপর এর প্রভাব এবং জীবনবৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা জরুরি। একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উত্তোলন প্রক্রিয়া পার্বত্য জেলার অর্থনৈতিক ভিতকে মজবুত করতে পারে।

পর্যটন শিল্পের অপার দিগন্ত:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে পার্বত্য জেলাগুলো পর্যটন শিল্পের জন্য একটি অপার সম্ভাবনাময় স্থান। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু, বান্দরবানের নীলগিরি, নীলাচল, চিম্বুক, এবং খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি (যা এখন পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়) এবং আলুটিলা গুহা প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে। পর্যটন এখানে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার এক বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, হস্তশিল্পের দোকান ও পরিবহন ব্যবস্থার সাথে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় পর্যটনকে কেন্দ্র করে। তবে, এই শিল্পের পূর্ণ বিকাশের পথে কিছু বাধা রয়েছে, যেমন আধুনিক মানের হোটেল-মোটেলের অভাব, পর্যটন স্পটগুলোতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব। সর্বোপরি, পাহাড়ে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। সরকারের উচিত একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা। ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় ও টেকসই করা সম্ভব।

দুষ্টচক্র দমনে কঠোরতা ও স্থিতিশীলতা আনয়নের চ্যালেঞ্জ:

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা, গোষ্ঠীগত সংঘাত এবং চাঁদাবাজির মতো ‘দুষ্টচক্র’। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের (১৯৯৭) পরেও এই অঞ্চলে শান্তি পুরোপুরি ফিরে আসেনি। ভূমি বিরোধ, চুক্তি বাস্তবায়নের অসঙ্গতি এবং উপদলীয় কোন্দলের কারণে হামলা, পাল্টা-হামলা ও খুনাখুনি লেগেই থাকে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পর্যটন এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই দুষ্টচক্র দমনে সরকারের কঠোরতা ও আন্তরিকতা জরুরি। শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত বাস্তবায়ন স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। একই সাথে, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র সংঘাতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে বিনিয়োগকারীরা যেমন উৎসাহিত হবেন, তেমনি স্থানীয় জনগণও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারবে। এটি নিছক আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক সমস্যা, যার সমাধানে সকল পক্ষের সাথে উন্মুক্ত আলোচনা ও জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।

পার্বত্য জেলা রক্ষায় সরকারের ভূমিকা:

পার্বত্য জেলা রক্ষায় এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন: পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ভূমি সংক্রান্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করে ভূমি সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

অবকাঠামো উন্নয়ন: যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা।

অর্থনৈতিক উদ্যোগ: স্থানীয়দের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ফলিত কৃষি, বনজ সম্পদ এবং পর্যটনকে কেন্দ্র করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও প্রকল্প গ্রহণ করা।

নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করে পাহাড়ে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি স্থানীয়দের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে, তবে তা যেন স্থানীয় জনগণের অধিকার ও প্রথাগত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।

সাংস্কৃতিক সুরক্ষা: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।

যোগাযোগ ও স্বচ্ছতা: বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং প্রশাসনের সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

পার্বত্য জেলা প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের কারণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির এক বিশাল কর্ণধার হতে পারে। এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ দেশের জ্বালানি ও শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, আর পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তবে, অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দুষ্টচক্র দমন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এই সম্ভাবনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য পূর্বশর্ত। সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমেই এই অঞ্চলকে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল স্রোতে আনা সম্ভব। স্থিতিশীল পার্বত্য চট্টগ্রামই হতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি।

লেখক:
মোহাম্মদ মনির হোসেন
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, মেহের ডিগ্রি কলেজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।

লাউয়াডুগি যুব সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৫ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

লাউয়াডুগি যুব সংগঠনের উদ্যোগে শুক্রবার সকালে “বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি লাউয়াডুগি বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুবকর সরকার, সভাপতি, লাউয়াডুগি যুব সংগঠন।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এরশাদ হোসেন সরকার, আহ্বায়ক, গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, লাউয়াডুগি যুব সংগঠন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোঃ রেজাউল করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ আনিসুর রহমান সোহাগ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ তাজুল ইসলাম সরকার, সভাপতি, মসজিদ কমিটি; বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল কাশেম সরকার, মোঃ খোরশেদ আলম সরকার, আব্দুল বাতেন সরকার, রমিজ উদ্দিন সরকার, আব্দুর রব সরকার এবং তাজুল ইসলাম (আর্মি), মোঃ ফখরুল ইসলাম মোল্লা, ইমাম ও খতিব, লাউয়াডুগি বাইতুন্নাজাত জামে মসজিদ; মোঃ আবুল বাশার, মেম্বার, ৭নং ওয়ার্ড, গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ; মোঃ জালাল সরকার, মোঃ শাহিন সরকারসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫০০টি চারা রোপণ করা হয় এবং উপস্থিত অতিথিদের মাঝে ১০০টি চারা বিতরণ করা হয়। পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানের সফল আয়োজন ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোঃ মামুন সরকার, আহ্বায়ক, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি।

আবাসিকে ভাজির পরিবর্তে আলুর ভর্তা দেয়ায় প্রতিবাদ করায় অভিভাবককে মাদ্রাসা সুপারের বেত্রাঘাত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদ্রাসা সুপারের বেত্রাঘাতে আহত হয়েছেন এক অভিভাবক। মাদ্রাসার খাবারে আলু ভাজির বদলে আলুর ভর্তা দেয়ার সামান্য বিষয়ে প্রতিবাদ করে মারধরের শিকার অভিভাবক মাদরাসা সুপারের হাত থেকে বাঁচতে কল দিয়েছেন পুলিশের জরুরী সহায়তা নাম্বার ৯৯৯এ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বাজারে ইকরা মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ অভিভাবকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে মাদ্রাসা থেকে সটকে পড়েন সুপার মাও: হাবিবুর রহমান। এর আগেও মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় অভিভাবকদের উপর চড়াও হন বিতর্কিত এ মাদ্রাসা সুপার।

জানা গেছে, মুন্সীরহাট বাজারে মুন্সীরহাট ইকরা মহিলা মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর আবাসিক ছাত্র একই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের তানভীর আলম ও মাহিয়ান। শুক্রবার রাতের খাবারের মেনুতে থাকা আলু ভাজির পরিবর্তে আলু ভর্তা পরিবেশন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি পরিবারকে জানায় ওই দুই ছাত্র। শনিবার সকালে ওই ছাত্রদের অভিভাবক মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের ছেলে আলাউদ্দিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান মাদ্রাসা সুপারের কক্ষে। তখন মাদ্রাসা সুপার হাবিব উত্তেজিত হয়ে বেত হাতে নিয়ে ওই ছাত্রদেরকে পিটিয়ে মাদ্রাসা থেকে পিটিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। এই পর্যায়ে আলাউদ্দিন বেত কেন নিলেন বলে প্রতিবাদ করায় সুপার হাবিব মুষ্টাঘাত করেন। এরপর মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের সহায়তায় আলাউদ্দিনকে এলোপাথাড়ি বেত্রাঘাত করেন। এসময় ওই দুই ছাত্র আলাউদ্দিনের ভাতিজা ও ভাগিনা ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।

দুই ছাত্র জানায়, আলু ভাজির বদলে আলুর ভর্তা কেন জানতে চাইলে মাদ্রাসা সুপারের স্ত্রী হল সুপার আমাদেরকে ভীষণ বকাবকি। এরপর আমরা বিষয়টি বাড়িতে জানাই।

স্থানীয়রা জানায়, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার হাবিব এর আগে বেশ কয়েকজন অভিভাবককে মারধর করেন। তার স্বেচ্ছাচারিতায় অনেকেই এখন সন্তানদেরকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন। গত মাসেও শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করার কারণে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার আলাউদ্দিন জানায়, সুপারের কক্ষে আমাকে শিক্ষক কর্মচারীরা জাফটে ধরে রাখে, এই সুযোগে সুপার হাবিব আমাকে বেদম বেত্রাঘাত ও কিল ঘুষিতে নীলা ফুলা করে ফেলে। তারা মাদ্রাসার কলাপসিবল গেট আটকে আমাকে অবরুদ্ধ রাখে। তখন আমি কৌশলে ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

মাদরাসা সুপার মাও: হাবিবুর রহমান উল্টো দোষ চাপান মারধরের শিকার আলাউদ্দিনের উপর। ঘটনার সত্যতা শিকার করে তিনি জরুরী কাজে লাকসাম আছেন বলে জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করা হবে। এবং মারামারির ঘটনায় কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চৌদ্দগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হিলাল উদ্দিন বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিভাবককে উদ্ধার করে। এবং সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে সন্ধ্যায় থানায় আসার নির্দেশনা দেয়া হয়।