All posts by jitu

কুমিল্লায় ইউপি সদস্যের বাড়ির ছাদে শুকানো হচ্ছিল গাঁজা, আটক ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলামের বাড়ির ছাদ থেকে ১০০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর শশীদলে নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে কাউছার (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে কাউছারের তথ্যের ভিত্তিতে নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ির ছাদে শুকানো অবস্থায় আরো ৬০ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়।

অভিযানের সময় ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।

আটককৃত কাউছার শশীদলের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে এবং নূরুল ইসলামের সহযোগী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও কাউছার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দাউদকান্দিতে ট্রাকচালক হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় ট্রাকচালককে হত্যার প্রধান আসামি দ্বীন ইসলাম ডালিমকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২।

রোববার রাতে ঢাকার বনানী থানাধীন কাকলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডালিমের বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার পূর্ব হাউষদি গ্রামের পাঁচগাছিয়া এলাকায়। সোমবার সকালে নগরীর শাকতলা র‌্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম।

র‌্যাব জানায়, গত ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব হাউষদি গ্রামে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় ট্রাকচালক আলামিন মিয়া (৩৫) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দ্বীন ইসলাম ডালিম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিহত আলামিন মাদক বিক্রির প্রতিবাদ ও বাধা দেওয়ায় আসামির সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই ডালিম ও তার সহযোগীরা আলামিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর সকালে পূর্ব হাউষদি গ্রামের আল মদিনা মসজিদের সামনে আলামিনের উপর ডালিম ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে আলামিনকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পরে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি দ্বীন ইসলাম ডালিম ঢাকার বনানী থানাধীন কাকলীতে অবস্থান করছে। রোববার রাতে র‌্যাবের একটি দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কাকলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাকে দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

লাগাতার অগ্নিকাণ্ড হাসিনা বিহীন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখানোর ষড়যন্ত্র: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার:

লাগাতার অগ্নিকাণ্ড; হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ ঠিকমতো চলছে না আন্তর্জাতিকভাবে দেখানোর দেশীয় ও বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফুলমুড়ি গ্রামে অন্ধ কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর আলমকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন এসব অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিশৃঙ্খলা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোন বাধা হবে না। এরপরও সরকার এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা মনে করি যে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত তাদের যে দৃঢ়তা তারা দেখিয়েছেন, সবাইকে একত্রিত করা, নীতির প্রশ্নে যে প্রশ্নগুলো নির্বাচন কমিশনের আইনের মধ্যে পড়ে না বা রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে পড়ে না সেই ব্যাপারে তাদের দৃঢ় অবস্থান। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি সেটা হল নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও ইনক্লুসিভ নির্বাচন সম্পন্ন করা সক্ষম।

বক্তব্যে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন প্রশাসনের ভিতর দোসরদের যে লোকরা আছে এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সম্প্রতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামের অন্ধ কন্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর আলম বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি গান পরিবেশন করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গানটি নজরে আসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। সোমবার তারেক রহমানের নির্দেশে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর আগে চান্দিনায় জুলাই আন্দোলনের নিহত এক শহীদের কবর জিয়ারত করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রামে রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন এর রশিদ ইয়াছিন, আমরা বিএনপি পরিবার সংগঠনের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সাবেক সদস্য আমিরুজ্জামান আমির, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. কামরুল হুদাসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মেঘনা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দিপুর স্বাস্থ্যের খবর নিতে হাসপাতালে গেলেন ড.খন্দকার মারুফ হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান দিপুর স্বাস্থ্যের খোজ খবর নিতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, আইনজীবী ড.খন্দকার মারুফ হোসেন। আজ সোমবার(২০ অক্টোবর) দুপুরে মুগদা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন দিপুকে দেখতে যান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এম মিজানুর রহমান, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ভিপি সাহাবুদ্দিন ভুইয়া, সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য গত ১৮ অক্টোবর উপজেলার বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। সভা চলাকালীন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়।

আজ দুপুরে মেঘনা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান দিপুকে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে দেখতে যান এবং তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

“ভাইরাল নাকি ভাইরাস: সস্তা খ্যাতির ইঁদুরদৌড় ও সামাজিক অবক্ষয়ের দলিল”

মোহাম্মদ মনির হোসেন:

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত সমাজের বাসিন্দা। এই সমাজে খ্যাতি বা ‘পরিচিতি’ যেন এক উন্মত্ত নেশা, যা পাওয়ার জন্য মানুষ নিজের মান, হুঁশ, এমনকি ন্যূনতম শালীনতাও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসারে ‘ভাইরাল’ হওয়া এখন সাফল্যের নতুন মাপকাঠি। কিন্তু এই তথাকথিত ‘ভাইরাল’ হওয়ার পেছনে লুকিয়ে থাকা অসুস্থ প্রতিযোগিতা, নির্লজ্জতা আর ব্যক্তিগত জীবনের লাগামহীন প্রদর্শন—এসব কি স্রেফ পরিচিতি? নাকি ধীরে ধীরে সমাজকে গ্রাস করে নেওয়া এক মারণব্যাধি, এক ‘ভাইরাস’? বর্তমান যুগে ভাইরাল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কীভাবে মানুষকে নৈতিকতার গণ্ডি পেরিয়ে এক গভীর সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এই বিশ্লেষণে তা-ই তুলে ধরা হবে।

খ্যাতির নতুন সংজ্ঞা: ‘ভাইরাল’ হওয়াটাই শেষ কথা

একসময় খ্যাতি অর্জন করতে প্রয়োজন হতো দীর্ঘদিনের সাধনা, মেধা ও প্রতিভার। শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী—সকলেই পরিচিতি লাভ করতেন নিজেদের সৃষ্টিশীল বা গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে। কিন্তু এখন চিত্রটা পাল্টে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত টিকটক, ইউটিউব, ফেসবুক রিলস-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সস্তা জনপ্রিয়তার এক সহজ রাস্তা খুলে দিয়েছে। রাতারাতি ‘স্টার’ হয়ে ওঠার হাতছানি পেয়ে বহু মানুষ মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির বদলে বেছে নিচ্ছেন চটকদার, বিতর্কিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে অশ্লীল পথ। একটি সাধারণ বা হাস্যকর ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, আর সেই ভিউ ও লাইকের সংখ্যাই যেন এখন ব্যক্তির আত্মমর্যাদা পরিমাপের নিক্তি। এই পরিচিতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সেই নেশা যেন মরফিন থেকেও তীব্র।

মানসম্মান বিসর্জন দিয়ে কনটেন্ট তৈরি: সস্তা বিনোদনের অন্ধকার দিক:

ভিডিও কনটেন্ট তৈরি বর্তমানে একটি পেশায় পরিণত হয়েছে। অর্থ উপার্জন, ব্র্যান্ডিং এবং স্রেফ ‘ফলোয়ার’ বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতায় কনটেন্ট নির্মাতাদের একটি বড় অংশ নিজেদের সৃজনশীলতা বাদ দিয়ে বেছে নিয়েছেন ‘লজ্জা ত্যাগ’ বা ‘মান-বিসর্জন’-এর কৌশল। সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ, পারিবারিক ঐতিহ্য বা শালীনতা তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় বোঝা মাত্র। ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি, অশালীন পোশাক বা বিতর্কিত ও অসংলগ্ন বক্তব্যকে তারা পরিণত করেছেন পুঁজি হিসেবে। একজনের মানসম্মানের হানি অন্য অনেকের কাছে সস্তা বিনোদনের খোরাক। একটি ভিডিও কতটা ভাইরাল হবে, তা যেন নির্ভর করে তার ‘শক ভ্যালু’-এর ওপর। যত বেশি অরুচিকর, উদ্ভট বা বিতর্কিত, তত বেশি মনোযোগ। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার সামনে সর্বজনীন পণ্যে পরিণত করছেন, যেখানে ভিউয়ারের রুচির স্তরে নেমে আসতে দ্বিধা করছেন না। এটি একদিকে যেমন তাদের নিজেদের ব্যক্তিত্বের অবনমন ঘটাচ্ছে, তেমনি সমাজে এক ধরনের অসুস্থ রুচিকেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

নির্লজ্জভাবে টিকটক ভিডিও তৈরি: গণ-উন্মাদনা ও অবক্ষয়ের প্ল্যাটফর্ম:

টিকটক-এর মতো শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো ‘ভাইরাল হওয়ার ভাইরাস’-এর অন্যতম প্রধান বাহক। এখানে কিছু মানুষ নিজেদের শারীরিক ভাষা, পোশাক এবং আচরণের চরম নির্লজ্জ প্রদর্শনী করতে দ্বিধা করছেন না। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি জনসমাগমের স্থানেও অদ্ভূত বা যৌন-উত্তেজক নাচের ভঙ্গি, অশালীন সংলাপ এবং বেসামাল কার্যকলাপের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে ‘ট্রেন্ড’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

অ্যাপগুলোর আসক্তি যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে বাস্তব জীবন থেকে দূরে। তারকাখ্যাতি পাওয়ার নিরর্থক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে অনেকে জীবনের ঝুঁকিও নিচ্ছেন, যা প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মে অশ্লীলতা, যৌনতা ও সহিংসতা প্রাধান্য পাওয়ায় এটি পরিণত হয়েছে এক সামাজিক ব্যাধিতে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক ধরনের আসক্তি, যা মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর। সমাজের একটা বিশাল অংশের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী এই নেশায় বুঁদ হয়ে তাদের শিক্ষাজীবন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে।

কাপল ভিডিওর নামে ব্যক্তিগত জীবনের নগ্ন প্রদর্শন:

সাম্প্রতিক সময়ে ‘কাপল ভ্লগ’ বা দম্পতিদের ভিডিও কনটেন্ট একটি নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত জীবনের নগ্ন প্রদর্শনে পরিণত হচ্ছে। সম্পর্কের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো, বেডরুমের খুনসুটি, এমনকি একান্ত ব্যক্তিগত আলোচনাগুলোও এখন ক্যামেরার লেন্সে বন্দি হয়ে লক্ষ লক্ষ দর্শকের সামনে উন্মুক্ত হচ্ছে। বিবাহের মতো পবিত্র বন্ধনকে ব্যবহার করা হচ্ছে স্রেফ ভিউ আর সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য। ফুলশয্যার রাতের মতো একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ব্লগিং বা দাম্পত্য কলহকে জনসমক্ষে আনা—এইগুলো স্রেফ কনটেন্ট নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের পবিত্রতার প্রতি এক চরম উদাসীনতা ও অসম্মানের পরিচায়ক। দর্শকরা মজা পেলেও এই ধরনের ভিডিও সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিপথ, মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ধারণাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এটি প্রমাণ করে যে, খ্যাতির মোহে ব্যক্তিরা সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ও মর্যাদা বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত। এই লাগামহীন প্রদর্শন সমাজে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’-এর মতো মৌলিক ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ভাইরাল নাকি ভাইরাস: বিশ্লেষণ

ভাইরাল হওয়ার এই উন্মাদনা একটি দ্বিমুখী তলোয়ার। একদিকে এটি মানুষকে পরিচিতি এবং আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু যখন এই পরিচিতি অর্জন করতে গিয়ে মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের নৈতিক মানদণ্ড বিসর্জন দেয়, নির্লজ্জতাকে প্রশ্রয় দেয় এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সর্বজনীন তামাশায় পরিণত করে, তখন তা আর ‘ভাইরাল’ থাকে না; তা হয়ে ওঠে এক ‘ভাইরাস’। এটি এমন এক ভাইরাস, যা দ্রুত ছড়ায় এবং সমাজের সুস্থ চিন্তাধারাকে পচিয়ে দেয়। এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো হলো—মান-অপমানবোধহীনতা, সস্তা খ্যাতির প্রতি আসক্তি, নৈতিকতার প্রতি উদাসীনতা এবং বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল লাইক-কমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। এর ফলে, সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা, কমে যাচ্ছে মানসম্মত কনটেন্টের কদর, এবং তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে—ভাবছে যে নির্লজ্জতাই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি।

‘ভাইরাল নাকি ভাইরাস’—এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে ভাইরাসের দিকেই ইঙ্গিত করছে। খ্যাতি বা পরিচিতি অবশ্যই কাম্য, কিন্তু তা যেন আসে গঠনমূলক কাজ, মেধা ও শালীনতার মাধ্যমে। যদি জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য মানসম্মানকে বিসর্জন দিতে হয়, তবে সেই খ্যাতি সমাজকে কোনো ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে না। বরং, তা কেবল সমাজের অভ্যন্তরে একটি ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে। এই ‘ভাইরাস’ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে কনটেন্ট নির্মাতাদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি দর্শকদেরও রুচির মান উন্নত করতে হবে। সস্তা, অশ্লীল ও নির্লজ্জ কনটেন্টকে প্রত্যাখ্যান করতে পারলেই সুস্থ ও শালীন ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নয়তো এই ‘ভাইরাল’ নেশা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিবে।

বর্ষা-মাহিরের প্রেমের বলি কুমিল্লার ছেলে জোবায়েদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

জোবায়েদের ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে মাহির নামে একটি ছেলের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বর্ষা মাহিরকে জানায় সে তার শিক্ষক জোবায়েদকে পছন্দ করে। এটা জেনে মাহির ও তার বন্ধু মিলে খুন করেছে জোবায়েদকে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সোমবার সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে মাহির রহমানের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির রহমান বোরহান উদ্দীন কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। আর বর্ষা পড়ে ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে। ছোট থেকে পাশাপাশি বাড়িতে তাদের বেড়ে উঠা।

তাদের মধ্যে ছিল দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একে অপরকে পছন্দ করতো। কিন্তু সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানা পোড়েন ঘটে। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের ভাঙন হয়।

ওসি বলেন, সম্প্রতি বর্ষা মাহিরকে জানায় সে জোবায়েদকে পছন্দ করে। কিন্তু জোবায়েদকে সে তার পছন্দের কথা এখনও জানায়নি। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। তাদের মধ্যে এ ধরনের কোনো মেসেজও পাওয়া যায়নি। কিন্তু বর্ষার কথার ওপর ভিত্তি করে রাগে ক্ষোভে বর্ষার বয়ফ্রেন্ড তার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে জোবায়েদকে খুন করে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের বন্ধু সৈকতের পরিচয় হয় ফেসবুকে। এ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের কথা হতো না। বা অন্য কোনো সম্পর্কও ছিল না। যেহেতু সৈকত জোবায়েদের বন্ধু ছিল এ জন্য জোবায়েদের মৃত্যুর খবর দিয়ে সৈকতকে মেসেজ করে বর্ষা।

ওসি বলেন, বর্ষার মধ্যে কোনো হতাশা বা কান্নার ছাপ পাওয়া যায়নি। তার মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো নার্ভাসনেসও পাওয়া যায়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ষাকে চিন্তামুক্ত দেখা গেছে। আমরা আরো বিস্তর তদন্ত করব। পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত জানানো হবে আনুষ্ঠানিকভাবে।

জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে পদার্থ, রসায়ন ও বায়োলজি পড়াতেন। ওই ছাত্রী বর্ষার বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন।

গতকাল রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় জোবায়েদ খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে তাকে দেখা যায়।

এ ঘটনায় রবিবার রাত ১টা থেকে নিহতের পরিবার মামলা করার চেষ্টা করলেও সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জোবায়েদ খুনের মামলা হয়নি। গ্রেপ্তার হয়নি মাহির রহমান ও তার বন্ধু। তবে পুলিশ বলছে অভিযান চলছে।

মামলায় বিলম্বের বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, যে কয়েকজনের নামে মামলা দিতে চায় নেব, তবে তাদের বলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে।

দাউদকান্দিতে বন্ধন পরিবারের নৌ-আনন্দ উৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত

ইমরান মাসুদ:

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর এলাকায় অবস্থিত দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ “বন্ধন” এর উদ্যোগে আয়োজিত “নৌ আনন্দ উৎসব ২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে দাউদকান্দি-মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে আগত শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সকালে উৎসবের শুরু হয় বন্ধন পরিবারের সদস্যদের টি-শার্ট বিতরণ ও বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালির মাধ্যমে। দাউদকান্দি ঘাট থেকে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে নৌযাত্রা শুরু হয়।

 

পথিমধ্যে আয়োজকদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক চমৎকার লাইভ কনসার্ট, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

দুপুর ১২টার দিকে নৌযানগুলো পৌঁছে মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রে, যেখানে প্রায় দুই যুগ পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পুনর্মিলনের মুহূর্ত।

দুপুরের খাবারের পর শুরু হয় পরিচয় পর্ব ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, যেখানে বন্ধুরা কলেজ জীবনের নানা স্মৃতি রোমন্থন করেন।

পরে শুরু হয় আলোচনা সভা, যা সভাপতিত্ব করেন বন্ধন পরিবারের সিনিয়র উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম তালুকদার। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ফেসবুক গ্রুপ “বন্ধন”-এর ক্রিয়েটর ও অ্যাডমিন ইমরান মাসুদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমিনুল ইসলাম, রাজীব খান, ডি. কে. সবুজ, ইঞ্জিনিয়ার মুজাহিদ ইসলাম, ছয়ফুর রহমান সবুজ, কুলসুম আক্তার, সাইফুল ইসলাম, আছমা আক্তার ও আজিজুর রহমান।

এছাড়া দেশ-বিদেশ থেকে আগত নিজাম উদ্দীন, সাইফুল ইসলাম প্রধান, সুমন মুছা, ইসমাইল, ইয়াকুব মিয়াজী, মো. খালিদ,আমির হামজা, খানসামা, মমিন প্রধান, হুমায়ুন, রোমানা চৌধুরী, শামীমা, রিমি, বাসার, তারেক, কবির ও বাবুলসহ অসংখ্য বন্ধন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় র‍্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, যা সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মোয়াজ্জেম তালুকদার অংশগ্রহণকারী সকল সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম, যিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

একইভাবে প্রবাস থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান বন্ধন উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য সারওয়ার হক মুন্না। তিনি বন্ধন পরিবারের সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রতি বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে এমন মিলনমেলা আয়োজনের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এই নৌ-আনন্দ উৎসব পরিণত হয় বন্ধুত্ব, স্মৃতি ও ভালোবাসায় ভরা এক অনন্য পুনর্মিলনীতে—যা অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে যায় অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় মূলহোতা সিফাত ও আবরারসহ ১৭ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনায় মূলহোতা সিফাত ও আবরারসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কোতয়ালী থানার পুলিশ ও র‍্যাব। রবিবার ও সোমবার পুলিশের অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও বুড়িচং উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো: আব্দুল্লাহ

রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায় কয়েকজনের হাতে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় চারজন। পরে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন ও মো. রিজভী। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, রোববার সকালে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ব্যবসা শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী জিসান ও তাহফিদের সঙ্গে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তানভীন সিফাতের কথাকাটি হয়। এঘটনার সময় সিপাত ফাহাদকে হামলা করে এবং জিসানকে মারধরের হুমকি দেয়। পরে ফাহাদ ও সিফাতের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সিফাত তার বিভিন্ন কলেজে থাকা বন্ধুদের কল দিলে তারাও তার সঙ্গে এসে যোগ দেয়। বেলা ১২ টার কিছু সময় পর কলেজের শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু হলে সিফাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে। এঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে ধারলো রামদা নিয়ে অন্য তরুণদের দৌড়াচ্ছে। এসময় এক তরুণের হাতে পিস্তল দেখা যায়। তবে তার চেহারা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো না। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে হাতে অস্ত্রসহ দেখা যাওয়া ঐ তরুণ সিফাত বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, এঘটনায় পর কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনায় যতটুকু জেনেছি আহতদের কেউ ভিক্টোরিয়া কলেজের নয়। তবে ভিক্টোরিয়া কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং এঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থা করছি।

এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো: মহিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে এসময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র কয়েকজনের হাতে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ও বুড়িচং উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে মূলহোতাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ জন এবং র‍্যাব ২ জনকে গ্রেফতার করে।

চৌদ্দগ্রামের জনগণ গাড়িবহর, হাঙ্গামা, চাঁদাবাজি ও দখলের রাজনীতি দেখতে চায় না- জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নাহিদ

স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় পার্টি’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এর সুযোগ্য ভাতিজা কাজী মোঃ নাহিদ বলেন চৌদ্দগ্রামের মানুষ পরিবর্তন চায়, আমি যেদিকে যাচ্ছি জনগণ যেভাবে সাড়া দিচ্ছে এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ।

চৌদ্দগ্রামের জনগণ এখন গাড়ি,মোটরসাইকেলের বহর, হাঙ্গামা, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, দখলের রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা চায় শান্তিতে বসবাস করতে। আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই আমার চাচা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের উত্তরসূরি হিসেবে আপনাদের খেদমত করতে চাই। কাজী জাফরের শাসনামলে চৌদ্দগ্রামে হানাহানি মারামারি মামলা টেন্ডারবাজি হয় নাই মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে।

তিনি রবিবার (১৯শে অক্টোবর) দিনব্যাপী চৌদ্দগ্রামে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) উদ্যোগে কনকাপৈত ইউনিয়নের তারাশাইল বাজার,করপাটি বাজার,কনকাপৈত বাজার,পন্নারা, মলিয়ারা কাকাইশ,মরকোটা, শাহাজাহান পুর,করপাটি, আকব বাজারে, চানখার দীঘিরপাড় এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন।

গণসংযোগে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির যুবসংহতি আহবায়ক কাজী শহীদ,কনকাপৈত ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি জাফর আহমদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন মজুমদার, কনকাপৈত ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন আমিন, কনকাপৈত ইউনিয়ন যুবসংহতি আহবায়ক মোহাম্মদ শাহিন,ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতা বেলাল হোসেন, বাচ্চা মিয়া, মোহাম্মদ ইয়াসিন, আব্দুল মতিন, হারুন রশিদ, লোকমান হোসেন, কনকাপৈত ইউনিয়ন ছাত্র সমাজের নেতা আনোয়ার হোসেন, মনির আহমদ, লোকমান হোসেন, রিয়াদ আহমেদ, আমজাদ হোসেন, রেদোয়ান আহমেদ, গোলাম হাকিম, চিওড়া ইউনিয়ন শ্রমিক পার্টির নেতা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, ছাত্র সমাজের সাবেক নেতা মোহাম্মদ মাসুম, ইউনিয়ন জাতীয় কৃষক পার্টির নেতা মোঃ শাহ আলম, মোহমমদ মোস্তফা, মোঃ আবু আলম প্রমুখ ।

পরিত্যক্ত ভবন থেকে জবি ছাত্রদল নেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

পুরান ঢাকার একটি পরিত্যাক্ত ভবন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল নেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

জানা গেছে, নিহত জুবায়েদ রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ছিলেন।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম । তিনি বলেন, ছুরিকাঘাতে জবি শিক্ষার্থী মারা গেছেন। ওইটা তার টিউশনির বাসা ছিল। ওই বাসায় তার টিউশনি ছিল। এখনো কোন কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করছি। নিহত জুবায়েদ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।