All posts by jitu

‎সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

‎মো. বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া:

‎কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

‎বুধবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কসবা ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া এবং বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করেন।

‎বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার উন্নতমানের ভারতীয় শাড়ি এবং ১ কোটি টাকার বিভিন্ন কসমেটিকস, খাদ্যসামগ্রী ও আতশবাজি। এসব পণ্য পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় মজুত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

‎এ বিষয়ে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান (পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, এএসসি) বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৬০ বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম সর্বদা চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ পণ্য জব্দ করা হচ্ছে।

‎জব্দ করা পণ্যসমূহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে লীল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তার ছেলে জসিম মিয়াকে (৪৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলাম এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের জিনোদপুর ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামে পাট কাটা নিয়ে লীল মিয়ার (৭৫) সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় ছেলে জসিম উদ্দিনের।

এরই একপর্যায়ে ঘর থেকে কাঠের লাঠি (স্থানীয় ভাষায় ছেহাইট) দিয়ে বাবা লীল মিয়ার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে ছেলে জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল জসিমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালত একই বছরের ২৭ আগস্ট একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিচারার্থে আমলে নেন এবং ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আসামি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২/৩২৩ ধারায় চার্জ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন খান এই রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেলেন।’

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী নাজমুল হক রিটন অবশ্য এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

কুমিল্লা সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ছাত্র সংসদ (ছাত্রসংসদ) নির্বাচনের পুনরায় আয়োজনের দাবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা সরকারি কলেজ শাখা একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নূরুর রহমান খানের নিকট এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এসময় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কলেজ শাখার সভাপতি কাইফ বিন হাবিব ভূঁঞা নেতৃত্ব দেন।b

স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্র নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা জরুরি।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ছাত্র সমাজই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উৎস। তাই নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য।”

স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়— একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি, সকল সংগঠনের জন্য সমঅধিকার বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কলেজ শাখার সভাপতি কাইফ বিন হাবিব ভূঁঞা বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক রাজনীতিকে সুসংহত করবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কলেজ প্রশাসনের প্রতি আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

চৌদ্দগ্রাম গোপালনগর মহিলা মাদ্রাসার নবীনবরণ ও মা সমাবেশ 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গোপালনগর মহিলা মাদ্রাসার ২০২৫/২৬ আলিম শিক্ষাবের্ষর শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও মা সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মাদ্রাসা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নিবাহী কমকর্তা মোঃ জামাল হোসেন।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির আজীবন দাতা সদস্য ডাঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেন ,শ্রীপুর ৪নং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা নুরজজামান ,বীরমুক্তিযোদ্বা আলী আশ্রাফ ,দাতা সদস্য অহিদুর রহমান ,লহরী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবদুল হাকিম ,শ্রীপুর ৪নং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম ,গোপালনগর মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর হোসেন , শিক্ষিকা যোবায়েদআকতার , আরও উপস্থিতি ছিলেন অভিবাক নাছির উদ্দীন , আবুল হাসেম ,,আবদুস সাত্তার ,শাহ আলম প্রমুখ।

কুমিল্লায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ী ও মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ী, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ও একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে আদর্শ সদর উপজেলার কামারখাঁ জোড়া ব্রীজ এলাকায় অভিযান করে এই ভারতীয় মালামাল জব্দ করে।

বিজিবি জানায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি-এর আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৭ কিলোমিটার ভেতরে কামারখাঁ জোড়া ব্রীজ এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৯০১ পিস অবৈধ ভারতীয় শাড়ী, ১,৪৯৭ পিস বিভিন্ন প্রকার মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে এবং ১টি মিনি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিতভাবে চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন অভিযান পরিচালনা করছে। জব্দকৃত সকল মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

★ দীর্ঘদিন প্রেষণে ১২জন চিকিৎসক।
★ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার মানুষ

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ভেঙে পড়েছে দাউদকান্দির চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দোনারচর ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও শহিদনগর ট্রমা সেন্টারে বর্তমান জনবল কাঠামো অনুযায়ী এর সংখ্যা ২২৩ জন হলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ১৩৫ জন। ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে খালি। আর ১২ জন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত আছেন। একদিকে লোকবল সংকট আবার ১২জন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার মানুষ। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণে রাখার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি এলাকাবাসীর।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন দোনারচর ২০ শয্যা এবং শহিদনগর ট্রমা সেন্টারসহ বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৩টি। এর মধ্যে শূন্য ১২ টি পদ। বাকি ২১ জনের মধ্যে ১২ জন চিকিৎসক কাগজে কলমে কর্মরত। তারা প্রেষণে রাজধানী ঢাকা কিংবা তাদের সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। শুধু বেতন ভাতার সময় তারা দাউদকান্দিতে আসেন। দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে এ অবস্থা। অথচ প্রতিদিন গড়ে কর্মরত থাকেন মাত্র চার থেকে পাঁচ জন । ফলে উপজেলার সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, দোনারচর ২০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বিশেষজ্ঞসহ ৬জন চিকিৎসকসহ ২৪ পদের মধ্যে ১৭টি পদ খালি রয়েছে। শহিদনগর ট্রমা সেন্টারে অর্থপেডিক ও এ্যানেসথেসিয়া পদসহ ২৪টি পদের মধ্যে ১২টি পদে কোন লোকবল নেই। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১৭৫জনের মধ্যে ৫৯টি পদ খালি। এর মধ্যে ২৪জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ১৬ জন। তার মধ্যে ৯ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেষণে অন্যত্র।

তারা হলেন, দোনারচর ২০ শয্যা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট(গাইনী) ডাঃ আফরোজা আক্তার শিল্পী ২০২১সালের ২৬এপ্রিল থেকে প্রেষণে ডিএনসিসি আইসোলেশন সেন্টার মহাখালীতে। আর জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এ্যানেসথেসিয়া) ডাঃ তাসনুভা তানজিল গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে , আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে আইএইচসি মহাখালীতে , দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট( চর্ম ও যৌন) ডাঃ তাসলিমা সুলতানা গত বছরের ১৭ আগষ্ট থেকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে , মেডিকেল অফিসার ডাঃ আংশুমান পাল গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে , ডাঃ ইমাম মেহেদী হাসান ৫ মে থেকে মালীগাঁও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে , ডাঃ মোঃ রিপন আহম্মেদ ২০২০ সালের ২৯ জুলাই থেকে ঢাকা বিমান বন্দর স্বাস্থ্য অফিসে, সহকারী সার্জন ডাঃ লোপা ঘোষ ৩ ফেব্রুয়ারী থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে , সহকারী সার্জন ডাঃ বিপ্লব চন্দ্র বন্দ গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে , সহকারী সার্জন ডাঃ আয়েশা আফরোজ গত বছরের ১১ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে , সহাকরী সার্জন ডাঃ মোসাঃ ফারজানা মালেক ববি গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও সহকারী সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সায়েম ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে চাইল্ড হেল্থ ট্রেনিং এন্ড রিসার্স ইন্সটিটিউট মীরপুরে প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রিয়াদ বলেন, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকে ৬০ থেকে ৭০ জন। আবার বহির্বিভাগেও প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ১০০০ রোগী উপস্থিত থাকে। ফলে চিকিৎসক সংকট থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্টানটি ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে এবং ভৌগোলিকভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজের কারনে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ চিকিৎসার জন্য এখানে আসে। সেইসাথে সড়ক দুর্ঘটনার রোগীসহ চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমরাও সমস্যায় আছি। লোকবলের কারনে শহিদনগর ট্রমা সেন্টার এবং দোনারচর ২০ হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালাতে পারছি না। প্রেষণ বাতিলের জন্য একাধিকবার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। তা ছাড়া শূন্যপদ পূরণের জন্যও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

“কুমিল্লা” নামে বিভাগের দাবিতে, সাধারণ ছাত্রজনতার সমাবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

‘আমরা কুমিল্লা বিভাগ চাই’ এই স্লোগানে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে কুমিল্লা নগরী। মঙ্গলবার নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ করেন। সমাবেশস্থলে ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ছেয়ে যায় চারদিক।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে সেখানে এসে অবস্থান নেন।

কেউ হাতে জাতীয় পতাকা, কারো কণ্ঠে স্লোগান। সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা মনছুর নিজামী, গোলাম সামদানী, ছাত্রনেতা ওমর ফারুক শুভ, রিদোয়ান জাহান জিসান, ইয়াসির ফাহিম, মুনতাসীর জারিফসহ অন্যরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রাচীন সমতট সভ্যতার ঐতিহাসিক রাজধানী ছিল কুমিল্লা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এই অঞ্চল বরাবরই ছিল অগ্রগামী।

তারা প্রশ্ন তোলেন যেখানে বৃহত্তর কুমিল্লার ৬টি জেলার ৪২টি আঞ্চলিক দপ্তর ইতিমধ্যেই কুমিল্লায় পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করতে এত বিলম্ব কেন?

তারা আরো বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি কোনো রাজনৈতিক নয়, এটি প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন। উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে, জনসেবা সহজ করতে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা জরুরি। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে মিছিল করেন।

‎ব্রাহ্মণপাড়া তেতাঁভূমি গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে আলোচনা সভা

‎মোঃ বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া:

‎কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা শশীদল ইউনিয়ন। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের মধ্যে রমরমা ব্যবসায় চলে। সেজন্য সীমান্তবর্তী এলাকা তেতাঁভূমি গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে এক পরামর্শ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন পাঠ করা হয়।

এতে বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ জহিরুল কাইয়ুম কাজল এর সভাপতিত্বে ও বিল্লাল হোসেন মাষ্টার ও আশিক মাহমুদ এর যৌথ পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ মাহবুব আলম।

বক্তব্য রাখেন মোঃ শাহিন আলম, মোঃ আবু তাহের, মোঃ আলেক মিয়া মেম্বার, মোঃ আলী মিয়া, মোঃ সিরাজুর রহমান, মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ, মোঃ হেলাল হোসেন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাকিব মাহমুদ, মোঃ ইসমাইল হোসেন। সভায় বক্তারা বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। মাদক একটি দেশকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণরা মাদক সেবনে বেশি জড়িয়ে পড়ছে। সমাজ থেকে মাদক দূর করতে হলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। তাহলেই মাদক দূর করা যাবে।

সভায় সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মাদক বন্ধ করার জন্য তেতাঁভূমি গ্রামবাসী একাত্নতা প্রকাশ করেন। এসময় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও তরুণ-যুবকরা উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে যায়নি আমন্ত্রিত অতিথিরা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্নসাতে অভিযুক্ত উপজেলার প্রধান শিক্ষক পরিষদের সভাপতি, উপজেলা আ’লীগ নেতা মোঃ কামরুজ্জামানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যায়নি আমন্ত্রিত অতিথিরা।

মঙ্গলবার (১৪ই অক্টোবর) সকালে কামরুজ্জামান বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন। দুর্নীতির বিপক্ষে প্রতিবাদ করায় অতিথি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির প্রশংসা করছে নেটিজেনরা। কামরুজ্জামান তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আ’লীগের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। সোমবার ও মঙ্গলবার বিভিন্ন মিডিয়ায় এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যায়নি প্রধান অতিথি ইউএনও, বিশেষ অতিথি শিক্ষা অফিসার ও সভাপতিসহ অতিথিবৃন্দ।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর মো. কামরুজ্জামান তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৯ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আভ্যন্তরীণ এক নিরীক্ষায় ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৬ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। পরে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের মধ্যস্থতায় ৪ কিস্তিতে বিদ্যালয়কে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ শর্তে রফাদফা হয়।

এরপর কামরুজ্জামান বিদ্যালয় তহবিলে ২ কিস্তি পরিষদের পর ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে তিনি আর টাকা জমা দেননি। এদিকে বর্তমান পরিচালনা কমিটি ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করে ১৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮১ টাকা আত্মসাতের প্রমান পান। এরপর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম মজুমদার গত ৩০ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামানকে নিরীক্ষা কপিসহ নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিরুদ্ধে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা আগামী তিন দিনের মধ্যে সভাপতি বরাবর লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ রইল।

অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নোটিশ প্রদানের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি এর কোন জবাব দেননি। বরং তড়িগড়ি করে নিজ উদ্যোগে মঙ্গলবার নিজের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এরই মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

প্রথমে ব্যানারে ইউএনও, শিক্ষা অফিসার, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করেছিল। এনিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর ও জামায়াতের ধমক খেয়ে নেতৃবৃন্দের নাম বাদ দিয়ে ইউএনও, শিক্ষা অফিসার ও সভাপতির নাম রাখা হয় ব্যানারে। তবে ব্যানারে উল্লেখিত কোন অতিথি এবং সভাপতি বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিলেন না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মতিউর রহমান সুমন, শিক্ষক প্রতিনিধি আলমগীর আলম মাঝি, অন্যান্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে জামাল হোসেন, ইফতেখারুল আলম, আলী হোসেন, আরশাদ উল্যাহ, আবুল হাশেম, শাহজাহান কবির।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মোঃ কামরুজ্জামান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের সহযোগীতায় ২০১১ সালের তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। ওই সময়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরিচালনা কমিটির একাংশের সাথে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পক্ষের সন্ত্রাসীরা দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মোকতার আহমেদ চৌধুরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে পাঁচ দিন পর্যন্ত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবিতে ওই বছরের ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ৩টি বিষয়ে নির্বাচনী পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনসহ শ্রেণী কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ওই সময়ে তিনি উপজেলা আ’লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক থাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আন্দোলন দমন করে ১০ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম মজুমদার বলেন, ‘সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। প্রধান শিক্ষক নিজেই নিজের সংবর্ধনার আয়োজন করে। তাছাড়া আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তাই, প্রধান শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা দেয়ার প্রশ্নই আসে না’।

মঙ্গলবার বিকেলে বিদায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি, সে কারণে অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি করে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুসারে বিধিগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

মুরাদনগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৪৫০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ৩৪ হাজার ৩শত টাকাসহ মোঃ রাছেল (২৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মোঃ রাছেল মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে মোচাগড়া বাজারের আলীম মিয়ার ৩য় তলা ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মোচাগড়া বাজারে মাদক ব্যবসায়ী মো: রাছেল মাদক মজুদ রেখে বিক্রি করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ও মুরাদনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জালাল উদ্দিনের সঙ্গীয় ফোর্সসহ যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া বাজারের আলী মিয়ার ৩য় তলা ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ওই ভবনের ভাড়াটিয়া মোঃ রাছেল এর কাছ থেকে ৪ শত ৫০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ৩৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।