All posts by jitu

সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষককে গালিগালাজ করার অডিও ভাইরাল

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার তিতাসে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে।
তিতাস উপজেলার কেশবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী গোফরানকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সোহেল মুন্সি তিতাস উপজেলা জাসাসের যুগ্ম-আহ্বায়ক।

শুক্রবার রাতে ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনের অডিওতে শোনা যাচ্ছে, জাসাস নেতা সোহেল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষক আলী গোফরানকে বলেন, আমি সাংবাদিক সোহেল মুন্সি, আপনি কই আছেন। শিক্ষক বলেন আমি ছুটি নিয়ে কুমিল্লায় আছি। আপনার নামে অনেক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে এলাকায়, আপনি কখন আসবেন? আইসা দেখা কইরেন, না হয় নিউজ করে দিবো, এরপর বুঝবেন। কি নিউজ করবেন শিক্ষকের এমন প্রশ্নে বলেন, ওই যে মেয়েরা আপনার নামে কমপ্লিন দিছে।

এভাবে কথা বলে একজন হেড স্যারের সাথে শিক্ষকের এমন প্রশ্নে সোহেল বলেন , ওইমিয়া আমনে কি মাষ্টর, ছাগলের ঘরে ছাগল, তুই আমারে সালাম দিছিলি , আমিযে সালাম দিছিলাম সালাম লইছিলি। বেআক্কল কোনখানের!
শিক্ষক- এভাবে কথা বলে

সোহেল মুন্সি- ওই মিয়া আপনের থেকে আমার কথা শিখতে অইবো, ওই কোন স্কুলের মাস্টার আমনে মিয়া, বড় বড় হাইস্কুলের মাষ্টাররাও আমগো লগে এইভাবে কথা বলে না। ফাজলামি চোদান মিয়া।—— আমি একজন সাম্বাদিক পরিচয় দিছি, তারপরও আপনি আমার সাথে তর্ক করেন। যত বড় চাকরী করেন তার চেয়ে বেশি ভাব লন, ওই মিয়া শিক্ষা অফিসাররাওতো আমাদের সাথে এইভাবে কথা বলে না। বদমাশি করার একটা সীমানা রাহিস কইদিলাম।
পুরো কথোপকথনে প্রধান শিক্ষকের উদ্দেশে সোহেল মুন্সিকে অশালীন কথাবার্তা বলতে শোনা যায়।

তিতাস উপজেলা জাসাসের যুগ্ন আহবায়ক সোহেল মুন্সি নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে বলেন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পষ্টবাদী পত্রিকার তিতাস প্রতিনিধি। যে রেকর্ডটি ছাড়া হয়েছে তা কাটছাট করে ছাড়া হয়েছে। গালিগালাজের বিষয়টি এড়ায়ে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে অভিযোগের বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন করে দেখা করতে বলেছি।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক আলী গোফরান বলেন, আমি প্রায় ১৩ বছর ওই বিদ্যালয়ে চাকরি করছি। ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে আমার উপর মব সৃষ্টি করে হামলার চেষ্টা হয়। তিতাসে অনেক সাংবাদিককেই চিনি জানি, তবে সোহেল মুন্সি নামে কোন সাংবাদিককে চিনি না। ওই ব্যাক্তি( সোহেল) ফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। আমি ছুটিতে আছি বলার পরও গালিগালাজ করেন। ২৬ তারিখে ঘটনা আর সাংবাদিক পরিচয়ে ফোনে গালিগালাজ হুমকিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

এদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সদস্য সচিব এস এম মিজান বলেন, তিতাসের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল মুন্সির বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওর ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর জাসাসের পরিচয়ে কেউ কোন অপরাধে জড়িত হলে সেই দায় জাসাস নেবে না।

বুড়িচং উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখলাক হায়দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা ও বুড়িচং থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল হক। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আখলাক হায়দার কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি সরকার বিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন।

আখলাক হায়দার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টানা দুই মেয়াদে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে একই দিন আরেক অভিযানে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের আবিদপুর গ্রাম থেকে যুবলীগ নেতা আবু মুসাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দাউদকান্দির জিংলাতলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলম গ্রেফতার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় হওয়া হত্যা মামলার আসামি মো. শাহ আলম ওরফে পা কাটা আলম (৩৬) কে গ্রেফতার করেছে গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের গোপচর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে ওই গ্রামের পোদ্দার বাড়ির মৃত বজলু মিয়ার ছেলে এবং জিংলাতুলি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার এজহারভূক্ত আসামি মো. শাহ আলম গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাসহ মোট ১৪ টি মামলা রয়েছে। তাকে জেল হাজতে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গোমতী নদী দিয়ে অভিনব কৌশলে পাচারের চেষ্টা; বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা গোমতী নদী দিয়ে অভিনব কৌশলে পাচারের চেষ্টা করা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার ভোর রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি বিওপি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ১০ বিজিবি।

কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ শুক্রবার সকাল ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাদক জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মাদককারবারিরা সীমান্তপথে নিয়মিত অভিনব কৌশল ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা চালায়। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে গোমতী নদীতে কলাগাছ ও ককশীটের সঙ্গে বেঁধে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, ভদকা, বিয়ারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে পানিতে ভেসে আসা এসব মাদক জব্দ করে।

তবে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমসে জমা করা হয়েছে।

দেবিদ্বারে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা: প্রধান আসামি গ্রেফতার

মোঃ জামাল উদ্দিন দুলাল:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া ৮ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৩৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের পর শুক্রবার বিকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শাহজাহান (৫০) কে গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার এলাহাবাদ পূর্বপাড়া (উটখাড়ার) মৃত শামসু মিয়ার ছেলে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় এশিয়ান টিভির দেবিদ্বার প্রতিনিধি মোঃ নেসার উদ্দিন বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করেন। এতে ৫ জনের নাম উল্লেখ্যসহ ৩৫ জনকে আসামী করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের এলাহাবাদ পূর্বপাড়া (উটখাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও দৈনিক আজকের কুমিল্লার সাংবাদিক সোহরাব হোসেন এর বসত বাড়ির চলাচলের এক মাত্র রাস্তাটি পাকা দেয়াল নির্মাণ করে গত প্রায় এক মাস পূর্বে বন্ধ করে দেয় পাশ্ববতর্ী শাহজাহান ও তার লোকজন। ওই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকালে সংবাদ সংগ্রহে যায় স্থানীয় ৮ সাংবাদিক। সে সময় সাংবাদিকরা উটখাড়ার হাকিম মিয়ার চা দোকানে বসে ঘটনার খোঁজ খবর নিচ্ছিল। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতির সংবাদে উটখাড়া সাহেব বাড়ির শাহজাহান(৫০) এর নেতৃত্বে প্রায় ২৫/৩০ জন দৌড়ে গিয়ে অতর্কিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালায়। সাংবাদিকরা তাদের উপর হামলার কারন জানতে চাইলে কোন জবাব না দিয়েই তাদের বেধরক মারধরই করে এবং তাদের মোবাইল, ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় হামলায় আহত হয় স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ৮ সাংবাদিক। তাদের মধ্যে গুরতর আহত দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি পারভেজ সরকার, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি নেসার উদ্দিন, দৈনিক ডাক প্রতিদিনের প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেন ও দৈনিক আজকের কুমিল্লা’র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেনকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া একই ঘটনায় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনের পিতা মো. জাকির হোসেন(৫০)’র মাথা ফাটিয়ে দেয়, সোহরাবের মা’ নার্গিস বেগম(৪২), স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার(২০)’কে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে এবং তার ছোট বোন রুমি আক্তার(১৮)’র হাত ভেঙ্গে দেয়।

সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় এশিয়ান টিভির দেবিদ্বার প্রতিনিধি মোঃ নেসার উদ্দিন বাদী হয়ে এলাহাবাদ পূর্বপাড়ার মৃত শামসু মিয়ার ছেলে শাহজাহান(৫০) কে প্রধান আসামি করে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক আরো অজ্ঞাত ৩০ জনসহ ৩৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হলে শুক্রবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শাহজাহান (৫০) কে গ্রেফতার করেছে।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৫ মিনিটি মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার বিকালে মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকী এজাহার ভূক্ত আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

কোটি টাকা খরচ করে এমপি হতে চায় ব্যবসা করার জন্য : হাসনাত আব্দুল্লাহ

মোঃ জামাল উদিন দুলাল:

শত কোটি টাকা খরচ করে এমপি হতে চায় ব্যবসা করার জন্য বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা করা! জনগণের সেবা এবং দেশের উন্নয়ন তাদের লক্ষ্য নয়।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা, হাটবাজারে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের ব্যবসা করার দরকার নাই, আমাদের দরকার হচ্ছে এলাকার উন্নয়ন। এলাকার উন্নয়নের জন্য যা করা দরকার আমরা তাই করব। সঠিকভাবে উন্নয়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে ভোট চাইতে হয় না।

হাসনাত বলেন, নির্বাচনের নামে যারা ব্যবসার জন্য আসে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের মতলব বুঝতে হবে। এসব ভোট ব্যবসায়ীদেরকে ভোট দিলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পাওয়া যাবে না। আমাদের নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে।

হাসনাত অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে দেবিদ্বার উন্নয়ন থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা, এখন আমরা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছি।

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মজা লুটে। আমরা যেন এলাকা ও নিজেদের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি।

এসময় গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন দেবিদ্বার উপজেলা এনসিপির ও যুবশক্তির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ সুউচ্চ আলোকস্তম্ভ সম্বলিত এক অনির্বাণ বাতিঘর

সিহাব আহমেদ শাহীন:

কুমিল্লা জিলা স্কুলের মতনই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজও আমার কাছে একটি ভালোবাসার নাম!

অবিভক্ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ শতাব্দী প্রাচীন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছিল, সে যুগে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত অন্ধকারাচ্ছন্ন পূর্ববঙ্গের এই অঞ্চলের সুউচ্চ আলোকস্তম্ভ সম্বলিত এক অনির্বাণ বাতিঘর।

পূর্ব কথাঃ

১৮৮৬ সালে জমিদার রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায় কুমিল্লা শহরের রাণীর দিঘির পশ্চিম-দক্ষিণ কোনে ‘রায় এন্ট্রান্স স্কুল’ নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৮ সালে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বের সুবর্ণ জয়ন্তী’কে (৫০বছর) স্মরণীয় করে রাখার জন্য আনন্দচন্দ্র স্কুলটিকে মহারাণীর নামে ‘ভিক্টোরিয়া স্কুল’ নামে নামকরণ করেন যা বর্তমানে ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল’ হিসাবে পরিচিতি।

স্কুলের সাফল্য এবং অবিভক্ত বাংলার পূর্বাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায় ১৮৯৯ সালে ভিক্টোরিয়া স্কুলেই, কলেজের ক্লাস চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৯ সালের ২২ জুন এফ.এ স্ট্যান্ডার্ড পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন দিয়ে স্কুলটিকে, কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কলেজ পরিচালনার জন্য শুরুতে আনন্দচন্দ্র রায়, নিজেকে সভাপতি এবং কলেজের অধ্যক্ষকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেন।

স্পটলাইট অন রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায়ঃ

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পথিকৃৎ রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায়ের জন্ম ১৮৬৩ সালের ২৪ নভেম্বর। বাবা রামদুলাল রায়ের প্রথম সন্তান আনন্দ চন্দ্র রায়, মেধা, মনন, প্রজ্ঞা, বিদ্যোৎসাহীতা, বিচক্ষণতা ও মানবিকতার জন্য প্রজাসাধারণের কাছে ছিলেন খুবই প্রিয় এবং প্রজাহিতৈষী জমিদার। ১৮৮৬ সালে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘রায় এন্ট্রান্স স্কুল’কে ভিক্টোরিয়া স্কুল নামকরণের পরপরই বৃটিশ সরকার তাঁকে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে তিনি স্কুলটিকে কলেজে উন্নীত করেন। প্রকৃতপক্ষে, জমিদার আনন্দচন্দ্র রায় ও তাঁর ভ্রাতা সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্যম ও উদ্যোগেই প্রধানত ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপিত হয়েছিল। ১৯২০ সালের ৮ নভেম্বর রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায় পরলোকগমন করেন।

 

কলেজের উন্নয়নে ট্রাষ্ট প্রতিষ্ঠাঃ

ট্রাষ্টিদের প্রথম চুক্তিঃ

ভিক্টোরিয়া কলেজের ন্যায় বাংলাদেশের প্রাচীন বিদ্যাপীঠের অধিকাংশগুলি প্রতিষ্ঠার মূলে রয়েছে তৎকালীন জমিদার শ্রেণীর শিক্ষানুরাগ, বিদ্যোৎসাহিতা ও আর্থিক আনুকূল্য। ১৮৯৯ সালে কয়েকটি টালির ঘর নিয়ে শুরু হওয়া ভিক্টোরিয়া কলেজের জন্য জমি বরাদ্ধ এবং আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠার প্রয়োজনে আনন্দচন্দ্র রায় একটি ট্রাষ্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ১৯০৪ সালে পার্বত্য ত্রিপুরার রাজা ও চাকলা-রোসনাবাদের জমিদার, পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের ত্রিপুরা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায়ের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি ট্রাষ্টি বোর্ড গঠিত হয় এবং সেই বছরই এই ট্রাষ্টিদের একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি’র মাধ্যমে স্কুল ও কলেজটিকে পৃথক করা হয়।

ট্রাষ্টিদের দ্বিতীয় চুক্তিঃ

১৯০৮ সালে ২৪শে মার্চ, রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায় তৎকালীন পার্বত্য ত্রিপুরার রাজা রাধাকিশোর দেববর্মণ মাণিক্য ও পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের ত্রিপুরা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট এ.এইচ. ক্লেটন সাহেবের সঙ্গে আরেকটি ‘ট্রাষ্ট চুক্তি’-তে স্বাক্ষর করেন। এই ‘ট্রাষ্ট চুক্তি’র আওতায় পার্বত্য ত্রিপুরার রাজা কলেজ ভবন, হোষ্টেল (বোর্ডিং হাউস) এবং অধ্যক্ষের বাসভবনের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিনামূল্যে জমি প্রদান করেন। এছাড়াও, কলেজের পাকা ভবন নির্মাণের জন্য ৫০০০ রুপি, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের জন্য ৫০০০রুপি এবং বার্ষিক ৫০০রুপি স্থায়ী অনুদান কলেজকে প্রদান করেন। অন্যদিকে, চুক্তি অনুসারে প্রতিষ্ঠাতা আনন্দ চন্দ্র রায় তাঁর জীবনের সময়কালে কলেজকে বার্ষিক ৩০০ রুপি অনুদান প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসাথে, কলেজসমূহের গ্র্যান্ট-ইন-এইড পোগ্রামের আওতায় ভিক্টোরিয়া কলেজ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের সরকারের নিকট থেকে স্পেশাল গ্র্যান্ট হিসেবে এককালীন ২৮০০০ টাকা এবং রেকারিং গ্র্যান্ট হিসেবে প্রতি বছর ২৫০০ টাকা করে পাবে।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদঃ

কলেজ পরিচালনার জন্য ত্রিপুরা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কলেজ অধ্যক্ষ ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায়ের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা পর্ষদ ছিল। আনন্দচন্দ্র রায় ছিলেন এই পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সম্পাদক।

একাডেমিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদঃ

পদাধিকারবলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন সেই পরিষদের সভাপতি।, অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন, মিষ্টার প্রবোধচন্দ্র রায়, মৌলবী হাসান ইমাম, মিষ্টার অতীন্দ্রমোহন রায়, প্রফেসর আবদুল জব্বার এম.এ, প্রফেসর এস. এ. ভূঞা এম.এ, এবং সদস্যসচিব ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ। এই উপদেষ্টা পরিষদ পঞ্চাশের দশকের শেষদিক পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

সহ-শিক্ষাঃ

কলেজ প্রতিষ্ঠার তিনদশক পর ১৯২৯ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজে একটি বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রথম সহশিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত ভিক্টোরিয়া কলেজ ক্রনিক্যাল থেকে জানা যায়, ইতিপূর্বে কাশী হিন্দু বিদ্যাপীঠ ও ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট বোর্ডে পড়ালেখা করা, স্থানীয় বিশিষ্ট সভ্রান্ত পরিবারে এক সন্তানবতী মা’র, নানান কারণে সেই সময়ে কুমিল্লা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব ছিলনা, তাই, তিনি তাঁর অসমাপ্ত লেখাপড়া সম্পূর্ণ করার জন্য ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তির (পড়িবার) জন্য আবেদন করেন। তৎকালীন সহ-অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত রাধাগোবিন্দ নাথ মহোদয়ের বিশেষ চেষ্টায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তখনকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিষ্টার রবার্টস তাহার এই প্রার্থনা মঞ্জুর করে ভিক্টোরিয়া কলেজে সহ-শিক্ষার ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। ঐ বর্ষীয়সী মহিলার মহৎ দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৩১ সালে আইএ প্রথম শ্রেণিতে ৪জন ছাত্রী ভর্তি হয় এবং তখন থেকেই ভিক্টোরিয়া কলেজে সহ-শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১-৪৩ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজ সামরিক বাহিনীর একটি ছাউনীতে পরিণত হয়েছিল। ১৪শ বাহিনীর সেনা-নায়ক লর্ড ওয়েডেল এই ছাউনীতে অবস্থান পূর্বক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রণাঙ্গন পরিচালনা করেন। ফলশ্রুতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ভিক্টোরিয়া কলেজকে দুটি ইউনিটে বিভক্ত করে একটি চাঁদপুরে অন্যটি কালিয়াজুরী আইনুদ্দীন শাহর দরগাহ সংলগ্ন পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে সামুয়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

শহরের অদূরে ধর্মপুরে কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তরঃ

১৯৬২-৬৩ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখায় বিভক্ত করা হয়। একই প্রাশাসনিক কর্তৃপক্ষের কর্তৃত্বে মূল কলেজ ভবন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে শহরের অদূরে ধর্মপুর এলাকায় ডিগ্রি শাখা খোলা হয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ শফিকুর রহমানের প্রচেষ্টায় ও তত্ত্বাবধানে ডিগ্রি শাখার ২২ একর জমি বুঝে নেওয়াসহ নতুন কলেজ ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তৎকালীন প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী জনাব মফিজউদ্দিন আহমদ ১৯৬২ সালে ধর্মপুরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের ডিগ্রী শাখার নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪-৬৫ সালে অধ্যক্ষ সামসুল বার চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ডিগ্রী কলেজের সামনের রাস্তা পাকা করা হয়।

সরকারীকরণঃ

১৯৬৮ সালের পয়লা মে’তে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক গভর্ণর জনাব আবদুল মোনায়েম খান এবং কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম সি.এস.পি (জেলা প্রশাসক) ও অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে এক চুক্তির ফলে এই কলেজকে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন এর নাম হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।

কলেজের একাডেমিক বিবর্তনঃ

জন্মলগ্ন থেকেই ভিক্টোরিয়া কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। এই সময়েই এ কলেজে এফএ স্ট্যান্ডার্ড (ফার্স্ট আর্ট প্রথম বর্ষ) চালু হয়। এর কিছু কাল পর আইএ স্ট্যান্ডার্ড চালু হয়। ১৯১৮ সালের দিকে কলেজের নতুন ভবনটি নির্মিত হয় এবং ঐ বছরেই স্নাতক শ্রেণি খোলার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি প্রদান করে। ১৯২৪ সালে আইএসসি স্ট্যান্ডার্ডের এফিলিয়েশন পায়। কলেজে বিশ শতকের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৯২৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ইংরেজি, গণিত, সংস্কৃত, রাজনীতিক অর্থনীতি ও আরবি বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলা হয়। ১৯৪২ সালে বিএসসি কোর্স, ১৯৪৭-৪৮ সাল থেকে আই.কম কোর্স এবং ১৯৫৬-৫৭ সালের দিকে বি.কম কোর্স চালু হয়। ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে এ-কলেজে নাইট শিফট শুরু হয় এবং ১৯৬৮ সালের পয়লা মে পর্যন্ত তা চালু ছিল।

৪৭’এ দেশ বিভাগের ফলে ভিক্টোরিয়া কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হয়। ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকেই ভিক্টোরিয়া কলেজ চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে চলে যায়। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, রাজনীতি বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন প্রভৃতি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। ১৯৯৬ সালে এই কলেজে আরো ৯টি বিষয়ে অনার্স খোলা হয়। বর্তমানে ২২টি বিষয়ে অনার্স ও ১৯টি বিষয়ে মাস্টার্সের এই কলেজ প্রাঙ্গণ প্রায় ২৭ হাজার ছাত্রছাত্রীর পদচারণায় মুখরিত।

প্রথম নারী শিক্ষকঃ

১৯৪৯ সালের দিকে প্রফেসর মেহের কবীর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে স্নাতক পর্যায়ে রসায়ন বিভাগে শিক্ষা দান করেছেন। তিনিই ছিলেন এই কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রথম নারী শিক্ষক। আর ইংরেজির প্রফেসর লায়লা নুর ছিলেন ইংরেজি বিষয়ের প্রথম নারী শিক্ষক।

ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষগণঃ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষের অধিকাংশই ছিলেন অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী, উৎসর্গীকৃত, প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব। ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষদের তালিকায় একজন ডি.লিট ও ছয়জন পিএইচডি রয়েছেন।

ভিক্টোরিয়া কলেজে যারা অধ্যাপনা করতেন সেই সুদক্ষ ও নিষ্ঠাবানশিক্ষকবৃন্দ ছিলেন আদর্শ মানব জীবনের সাক্ষাৎ চলমান পাঠক্রম।

শিক্ষার্থীদের গৌরবগাঁথাঃ

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্ররা ভালো ফলাফল করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরকাড়ে। ৪৭’এ দেশভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনেও সেই ধারা অব্যাহত থাকে।

১৯২৭ সালে শিক্ষার্থী আবদুল মজিদ ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩১ সালে আই.এ. পরীক্ষায় সত্যরঞ্জন ভট্টাচার্য্য অতি উচ্চ নম্বর পেয়ে সর্বোচ্চ বিভাগীয় বৃত্তি লাভ করেন। আই. এস, সিতে সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী সমগ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলা ভাষায় সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেন। এছাড়া স্নাতক পরীক্ষায় ৫ জন ডিসটিংশন ও ৩ জন অনার্স লাভ করেন। ১৯৩৮ সালে ননীগোপাল সেনশর্মা ইংরেজি অনার্সে তৃতীয় স্থান দখল করেন।

১৯৪৪ সালে এই কলেজের বি.এস.সির প্রথম ব্যাচের ৬ জন ডিসটিঙ্কশন নিয়ে এবং একজন সুনীলচন্দ্র দাশগুপ্ত অনার্স পেয়ে পাশ করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে চতুর্থ স্থান ছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগেও সাতটি পজিশন পেয়েছিল। বি.এসসি.তে এগার জন এবং বি. এ. তে ২ জন ডিসটিঙ্কশন লাভ করেন এবং একজন অর্থনীতিতে অনার্স পায়।

পঞ্চাশের দশকে, অধ্যক্ষ আখতার হামিদ খানের আমলে একবার মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের ছাত্ররা সর্বমোট ১০টি পজিশন লাভ করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে অধ্যক্ষ আবদার রশীদ-এর আমলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে প্রথম স্থান (সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে) অধিকার ছাড়াও সর্বমোট ২০টি পজিশন দখল করেছিলেন এ-কলেজের মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রগণ।

আলোকিত ছাত্ররা:

বাংলাদেশ নামক জাতি রাষ্ট্রের বিনির্মাণে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের যে সকল শিক্ষার্থী অনন্য অবদান রেখেছে তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজনঃ

কথাশিল্পী অদ্বৈত মল্লবর্মণ, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ভাষাসৈনিক অধ্যাপক অজিতকুমার গুহ, ক্যাপ্টেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ওসমান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী ও অধ্যাপক শামসুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, সাংবাদিক এ বি এম মূসা, ভাস্কর নভেরা আহমদ, কথাশিল্পী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জনাব আ.ন.ম ইউসুফ, সিএসপি, জনাব এম, আখতার আলী সিএসপি, জনাব এ, এইচ, মোফাজ্জল করিম সিএসপি, জনাব এ.এস.এম. শাহজাহান, প্রাক্তন আইজিপি, জনাব মোবারক হোসেন খান, প্রাক্তন মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমী।

[রি-পোষ্টিং; গৌরবের ইতিহাসের নিত্যতা ফুরায় না, তাই]

লেখক:
সিহাব আহমেদ শাহীন
সাবেক শিক্ষার্থী, কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের ১০ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবৃষ্টিসহ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

দেবিদ্বারে ৮ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া ৮ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ৮ সাংবাদিকসহ ১২ জন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মোবাইল, ক্যামেরা এবং নগদ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

আহত সাংবাদিকরা হলেন, স্থানীয়রা জানান, উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের উটখাড়া মাজারের দায়িত্বে নিয়োজিত খাদেম মৃত: আব্দুল খালেক ফকির’র স্ত্রী কমলা খাতুনের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী সাহেব বাড়ির শাহজাহানের পরিবারের দির্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরধরে শাহজাহানের পরিবারের লোকজন কমলা খাতুনের পরিবারের উপর একাধিকবার হামলা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিসও হয়। সালিসে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই ঘটনার জেরে ৩ টি মামলা দায়ের হয়। মামলাগুলো তদন্তাধিন।

এরই মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর কমলা খাতুনের বসত বাড়ির চলাচলের এক মাত্র রাস্তাটি পাকা দেয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেয় শাহজাহান। এ ঘটনায় উটখাড়া মাজারের খাদেম কমলা খাতুনের নাতী সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভ‚মি) ও দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবরে আবেদন করেন। এ ঘটনায় দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন তদন্ত করে শেষে স্থানীয় এলাহাবাদ ইউপি’র ৩ নং ওয়ার্ড’র মেম্বার লিটন মিয়াকে দায়িত্ব দেন। লিটন মেম্বার আজ বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় এলাহাবাদ পূর্বপাড়া (উটখাড়া) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সালিস ডাকেন। সালিসে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশংকা বিদ্যমান ছিল।

ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া ৮ সাংবাদিক সালিসের অদূরে হাকিম মিয়ার চা দোকানে বসে খোঁজ খবর নিচ্ছিল। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতির সংবাদে সাহেব বাড়ির শাহজাহান(৪৫), জসীম উদ্দিন(৩০), সাগর(২৫), মজলু(৩০), বিল্লাল(২৭)’র নেতৃত্বে প্রায় ২৫/৩০ জন দৌড়ে গিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। সাংবাদিকরা তাদের উপর হামলার কারন জানতে চাইলে কোন জবাব না দিয়েই তাদের বেধরক মারধরই করে এবং তাদের মোবাইল, ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আহতরা হলেন, দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি পারভেজ সরকার, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি নেছার উদ্দিন, দৈনিক আজকের কুমিল্লা’র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন, দৈনিক ডাক প্রতিদিনের প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি আবু বক্কর ছিদ্দিক, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম মারুফ, দৈনিক ভোরের দর্পন পত্রিকার মো. শাহজালাল, এটিএন (এমসিএল) নিউজের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সজিব।

পরে হামলাকারীরা সালিসে উপস্থিত হওয়া সাংবাদিক সোহরাব হোসেনের পিতা- মো. জাকির হোসেন(৫০)’র মাথা ফাটিয়ে দেয়, সোহরাবের মা’ নার্গিস বেগম(৪২), স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার(২০)’কে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে এবং তার ছোট বোন রুমি আক্তার(১৮)’র হাত ভেঙ্গে দেয়।

এদের মধ্যে গুরতর আহত সাংবাদিক পারভেজ সরকার, নেছার উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, মো. আনোয়ার হোসেন ও সাংবাদিক সোহরাব হোসেনের পিতা মো. জাকির হোসেন, মা’ নার্গিস বেগম ও তার ছোট বোন রুমি আক্তারকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েয়ে।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, আমাদের এক সহকর্মী সাংবাদিক সোহরাব হোসেনের পরিবারকে তাদের বাড়ির রাস্তা প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ করে জিম্মি করে রাখে। ওই ঘটনায় আজ গ্রাম্য সালিস বসার কথা। আমরা ৮ সাংবাদিক রাস্তা বন্ধের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে যাই। সালিস বসার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২শত গজ দূরে হাকিমের চা দোকানে বসে স্থানীয়দের সাথে কথা বলছিলাম। হঠাৎ ২৫/৩০ জন এসে কোন কথা না বলেই আমাদের উপর অতর্কীত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মোবাইল, ক্যামেরা, টাকা ছিনিয়ে নেয়। মারাত্মক আহতদের দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই।

হামলাকারীদের পক্ষের শাহজাহানসহ একাধিক ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তবে স্থানীয় ইউপি মেম্বার লিটন মিয়া জানান, মাজারের মোয়াল্লী কমলা খাতুনের বাড়ির রাস্তা প্রতিপক্ষের লোকজন পাকা দেয়াল তৈরী করে বন্ধ করে রাখে। ওই ঘটনার মিমাংসায় আজ সালিস ডাকি। সালিসের আগেই অদুরে একটি চা দোকানে মারামারি শুরু হয়। আমি ঘটনাস্থলে যেয়ে সাংবাদিকদের রক্ষার চেষ্টা কারি।

এ ব্যপারে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মাঈনুদ্দিন জানান, আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে চিকিৎসারত সাংবাদিকদের খোঁজ খবর নিয়েছে। এ ব্যপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

রকিবুল ইসলাম (ম্যাক):

কুমিল্লার রাজাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কুমিল্লা রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সহিদার রহমান ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা রেলস্টেশনে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে সিআইডি দলের সদস্যরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন। নিহত যুবকের নাম মনির মিয়া। তার পিতার নাম আয়াত আলী এবং মাতা মৃত সেলিনা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা বাবুপুর পোস্ট অফিস, গোলকপুর, ৯নং ওয়ার্ড, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ, সিলেট।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।