All posts by jitu

স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যদের নিয়েই এনসিপির কমিটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

সাকলাইন এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাবের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সমন্বয় কমিটি গঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাকলাইন এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাকলাইন আহম্মেদও যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকেও অনেকে পদ পাননি এই কমিটিতে। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

গত ৪ জুন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরকৃত এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন মাহি ভুঁইয়া। এছাড়াও রিয়াদ হোসেন, আল আমিন হোসেন রকি, মশিউর রহমান মাহিন, রনি হোসেন, ফরহাদ হোসেন এবং মাসুদ রানা সদস্য হিসেবে এনসিপির এই কমিটিতে রয়েছেন।

এই কমিটির জন্য নাম সংগ্রহ করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির কয়েকজন নেতাকর্মী। কিন্তু সাকলাইন ও তার সহযোগীরা দাপট দেখিয়ে নিজেদের পছন্দের সদস্যদের নাম সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

সাকলাইন ও মাহি দূর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার ভাতিজা। দূর্গাপুরে তাদের অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তারা এলাকায় মারধরসহ নানা ধরনের অরাজকতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অন্তত ২০ জন গ্রামবাসীর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের কিন্তু তাদেরকে নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছে গ্রামের মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, সাকলাইন ভাই আন্দোলনের সময় ছিল না। আমরা চেয়েছিলাম আমরা যাব এই কমিটিতে কিন্তু দাপট দেখিয়ে সাকলাইন নিয়ে গেছে। ওনার পছন্দমতো উনার ক্লাবের সবাইকে নিয়ে নিছে কমিটিতে। ওনারা এই এলাকায় অনেক প্রভাবশালী তাই ভয়ে কেউ তখন কিছু বলেনি। এখন এই এনসিপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা করতেছে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম আমরা উনারা কোথা থেকে এসে কমিটি পেয়ে গেলেন। আন্দোলন না করেও তাহলে এনসিপির কমিটি পাওয়া যায়।

এনসিপির এই কমিটিতে নাম দেওয়ার জন্য গ্রামের অনেক মানুষকে অনুরোধ করেন প্রধান সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান, সাকলাইন ও তাদের সহযোগীরা। এমনটা অভিযোগ করেছেন গ্রামের অনেকে। কিন্তু কেউই তা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

কামরুজ্জামান একটি দোকানে আড্ডা দেন। সেই দোকানদারকেও এনসিপির একটি পদ দিতে চান। কিন্তু সেই দোকানদার সেটা নিতে অস্বীকৃতী জানান। এমনটা জানিয়েছেন ওই দোকানদার।

মো: বিল্লাল বলেন, আমাকে বলেছিলো এনসিপিতে একটা পদ নিতে আমি নেইনি।

রায়হান বলেন, এই কমিটিতে আমার কয়েকজন বন্ধু আছে। আমাকে বারবার ওরা অনুরোধ করেছে পদ নিতে এনসিপিতে। আমি নেইনি।

এনসিপির এই পদ পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করেছেন কামরুজ্জামান, সাকলাইন, মাহি, জামালসহ বেশ কয়েকজন। এমন অভিযোগ করেছেন অনেকে। কিন্তু ওরা অনেক প্রভাবশালী ও উশৃঙ্খল হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাকলাইনের এক প্রতিবেশী বলেন, ওরা সব সরকারের আমলেই সুবিধাবাদী। ওদের পরিবারের কেউ আওয়ামী কেউবা আবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এখন মাহি আর সাকলাইন এনসিপিতে যোগ দিয়েছে৷ যে কারণে তারা সব সময় দাপট দেখিয়ে যেতে পারে।

গত জুলাইয়ে পাওনা টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় এরশাদ মিয়ার বাড়ি ও টিভি, ফ্রিজ ভাংচুর করে পাওনাদার। এরশাদ মিয়ার শ্যালক ১ লাখ টাকা নিয়েছিলেন এই পাওনাদার থেকে। এই ভাংচুরের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহি ভূঁইয়া।
একালাবাসীরা জানান, যখন ভাংচুর করা হয় মাহি ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে এই ঘটনা স্থানীয়রা নিষ্পত্তি করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মাহি ভূঁইয়া বলেন, এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা আমি সেটা অবগত নই। আমি সেখানে ছিলাম না। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে প্রমাণসহ আমার সাথে বসুক।

এছাড়াও সাকলাইনের এগ্রো ফার্মে প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার আসর বসে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীরা জানান, সাকলাইন এলাকার ছেলেদের টুর্নামেন্টের সময় ক্রীড়া সামগ্রী দিয়ে থাকেন। তিনি নিজেও দূর্গাপুর প্রিমিয়ার লিগ নামে একটি টুর্নামেন্ট পরিচালনা করেন। যে কারণে তিনি এলাকার যুবকদের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠেছেন। এসবের আড়ালে তিনি মাদক ও ক্যাসিনোতে ঠেলে দেন যুবকদের।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাকলাইনের সাথে এনসিপির প্যাডে দেওয়া নাম্বার থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করা হলে একজন মহিলা কলটি রিসিভ করে কথা না বলে কন্ঠ পরিবর্তন করে “হ্যালো, হ্যালো” করতে থাকেন। এরপর আবার চেষ্টা করা হলে কেউ একজন ফোন রিসিভ করে বলেন আমি সাকলাইন না। এনসিপির প্যাডে এই নাম্বার দেওয়া ছিল বলার পর তিনি বলেন, আপনি যাকে খুঁজছেন আমি সে না।

এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাবিদ নওরোজ শাহ বলেন, আমরা নিবন্ধনের জন্য তড়িঘড়ি করে কমিটি দিয়েছি। যার কারণে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ ছিল না। আমরা এই বিষয়গুলো অবগত নই। যদি এসব বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে থাকি তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিব। এনসিপিতে এসবের সুযোগ নেই।

কুমিল্লা পলিটেকনিকে অনুষ্ঠিত হলো এসেট স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে এসেট স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫। এটি এসেট প্রজেক্ট, ডিটিই এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে ইনস্টিটিউট পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দক্ষতা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেছে।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োগ এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা বিকাশের জন্য এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের বাস্তবধর্মী উদ্ভাবনী মডেল ও প্রযুক্তিগত সমাধান প্রদর্শন করে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত এ আয়োজনে প্রতিযোগীদের ভেতর থেকে সেরা প্রজেক্ট বাছাই করা হবে। পরবর্তী ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

মুক্তি পেলো আলো সাহা আল্পনার মিউজিক ভিডিও ‘মন তবু তোমাকে চায়’

স্টাফ রিপোর্টার:

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুক্তি পেলো কুমিল্লার তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলো সাহা আল্পনার গাওয়া গানের মিউজিক ভিডিও ‘মন তবু তোমাকে চায়’।

গানটির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষ্যে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর একটি হোটেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলো আলো সাহার আল্পনার নিজের ব্যান্ড এ এন্ড এফ এর মিউজিক পারফরম্যান্স, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন,নৃত্য, কেক কাটা পর্বসহ বিশেষ অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য। এছাড়াও ঢাকা থেকে আগত ডান্স গ্রুপের পরিবেশনা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সঙ্গীত শিল্পী আলো সাহা আল্পনা জানান, আমার বেশ আনন্দিত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা গাওয়া মৌলিক গান ‘মন তবু তোমাকে চায়’ এর রিলিজ হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমার গাওয়া আরো তিনটি গান রিলিজ হবে।

,‘মন তবু তোমাকে চায়’ গানটির গীতিকার এস দাস, সুরকার এস দাস এবং রাশেদ মজুমদার। গানের কম্পোজার ভারতের প্রতীক প্রধান। অডিও স্টুডিও: দ্য সাউন্ড স্টুডিও ইন্ডিয়া।
আলো সাহা আল্পনা জানান, ‘মন তবু তোমাকে চায়’ গানটির রেকর্ডিং হয়েছে ভারতে, মিক্স বম্বেতে। গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে কক্সবাজার এবং টেকনাফে। মিউজিক ভিডিও ডিরেক্টর সাফায়েত বাঁধন এবং কো-ডিরেক্টর নূর জাহান ইসলাম।


অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শোয়েব সোহেল, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, ফরিদ গ্রুপের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন মানিক, হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান টগর, চিকিৎসক তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষ, আমার শহর সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ, টাউনহলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর সাজ্জাদ, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন। উপস্থাপনা করেন প্রভাষক সিলতানা পারভীন দিপালী।

আজ মহা ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে কচুয়ায় ৩৮টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা শুরু

মোঃ রাছেল,কচুয়া:

সনাতন বাঙালি ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ বছর কচুয়ায় ৩৮টি পূজামন্ডপের দেবী মায়ের ভক্তদের মাঝে অন্যান্য বছরের ন্যায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত রোববার মহালয়ের মধ্যে দেবীদুর্গা পা রাখেন মর্ত্যলোকে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হচ্ছে আজ রবিবার দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে। এই বোধনের মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বাংলার ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজানো, আলোকসজ্জা, ধূপ-ধুনো, ঢাক-ঢোল সব মিলিয়ে যেন এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। শরৎকালের দুর্গাপূজায় এ বোধন করার বিধান রয়েছে। বিভিন্ন পুরাণ অনুসারে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধের উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজা করেন। তিনি অকালে এ বোধন করেন বলেই এটি অকালবোধন নামে খ্যাত। তবে বসন্তকালে চৈত্র মাসে যে দুর্গাপূজা বা বাসন্তীপূজা অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বোধনের প্রয়োজন হয় না। দুর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজা। পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। আর দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়বেন দোলা বা পালকিতে চড়ে।

জানা যায়, উপজেলায় এবার পৌরসভার ও ১২টি ইউনিয়নে ৩৮টি পূজামন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ৩৮টি পূজামন্ডপের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন পূজামন্ডপ হচ্ছে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন দূর্গামণ্ডপ। এই বছর এ মন্ডপে ১৪৫তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছে।

প্রতিমা শিল্পী কালু গোস্বামীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শেষ মুহূর্তে এসে তারাহুড়া করে কাজ করে রঙের ছোঁয়ায় প্রতিমাকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। দেবীকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারলেই কাজ করে নিজের মধ্যে প্রশান্তি আসে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী জানান, প্রতিটি পূজামন্ডপে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকল পূজামন্ডপে পুলিশ, আনসার নিয়োগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পূজামন্ডপে বিশেষ নজরে রাখা হবে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৩৮টি পূজামন্ডপে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে যেকোন অপতৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন সকলের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর সর্বজনীন উৎসব করতে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে কিংবদন্তি বক্সার আরবিন্দ লালওয়ানি

স্পোর্টস রিপোর্টার:

এশিয়ার কিংবদন্তি বক্সার সিঙ্গাপুরের আরবিন্দ লালওয়ানি। তিনি শুক্রবার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর এরিনার উদ্যোগে দুই দিনের জন্য ঢাকায় এসেছেন। তিনি জুলকানে বাংলাদেশি বক্সারদের নিয়ে একটা বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু করেছেন।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আরবিন্দ লালওয়ানি বলেন, “জুলকান এরিনার সুযোগ সুবিধা গুলো বিশ্বমানের। এই সুযোগ-সুবিধা দেখে আমি মুগ্ধ। সিঙ্গাপুরের ক্লাবগুলোতেও এ রকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই। বিশ্বে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করলেও এই ক্লাব উপরের দিকেই থাকবে। অনেক দেশেই বক্সিংয়ের এ রকম সুযোগ-সুবিধা নেই। ভালো মানের বক্সার তৈরি করতে হলে সব কিছুই উন্নত হতে হবে। জুলকান অ্যারেনা এককথায় দারুণ। ভবিষ্যতে এটা আরো এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, আরবিন্দ লালওয়ানি সরাসরি মোহাম্মদ আলীর ট্রেইনার এঞ্জেলো ডান্ডি এর অধীনে অনুশীলন করেছেন।

লালওয়ানি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের বক্সিংয়ের মান ও সক্ষমতার মান পাল্টে দিতে পারে।

এই উদ্যোগকে ঘিরে আয়োজকেরা আশাবাদী যে বসুন্ধরার এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের বক্সিংয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

ওই ক্যাম্পে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর মোঃ মোহসিনুল করিম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বক্সিংকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলায় পরিণত করা। আমরা চাই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাক।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ঘিরে স্থানীয় প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশি বক্সিংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পথে আরবিন্দ লালওয়ানির এই সফর নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। বসুন্ধরার এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশের বক্সিং খেলাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করবে।

যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ, সেখানে বাংলাদেশ, সেখানে জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান

মামলার কবির:

সবার আগে বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ, সেখানে বাংলাদেশ, সেখানে জাতীয়তাবাদ।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা দক্ষিন জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ যেভাবে চায় আমাদের সেভাবে কাজ করতে হবে। জনগনের পাশে দাড়াতে হবে। জনগনের কাছে যেতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি সেটা বোঝাতে হবে। জনগণই ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন দেশ পুণর্গঠনে আমাদের ঐক্যবন্ধ হতে হবে। সারাদেশে জাতীয়তাবাদী সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ না হলে, বিএনপির নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না হলে আবারো ওয়ান ইলেভেনের মত আশঙ্কা থেকে যাবে।

আজকে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে এই সম্মেলন হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন কিছু করতে হলে সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। দেশ পুনর্গঠনে জনগনের কাছে যেওতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন ঘরে ঘরে জন্মাদের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। দেশকে কিভাবে গড়তে হবে সেটা জানাতে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি তথা সর্বস্তরের মানুষের কাছে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য জনগণ এবং দেশ পুকঠিন। সম্পেনে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, সম্পেনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ঐক্য, জনগণ ও দেশ পুনর্গঠন।

এসময় তিনি বলেন, আগামী কিছুদিন পরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদেরকে কাজ করতে হবে। জনগলণকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসময় বহু নেতাকর্মী হাতকড়া অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।

প্রধান বক্তার ভাষনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন সবার আগে বাংলাদেশ। বর্তমানে যে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে আগামীতে সেটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা এক্যবদ্ধ থাকলে কোন বড়যন্ত্রই টিকবে না। আমরা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। রাজনীতি দিয়ে ইসলামকে বিভক্ত করতে চায় যারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা চলবে না। সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এটার শুরু আছে শেষ নেই। বিএনপির ইতিহাস সংস্কারের ইতিহাস, যুগোপযোগী ইতিহাস।

৩১ দফা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে জাতীয় আকাঙ্খার কথা তুলে ধরা হয়েছে। গণহত্যা, নিপিড়ন, নির্যাতন প্রতিটি ঘটনার বিচার বাংলাদেশে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিও একটি চলমান প্রক্রিয়া।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা যেন ভুলে না যাই ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের একটি গবেষনার কথা। যেখানে বলা হয়েছে, ২৯ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট, মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতি, ব‍্যাংকিং খাতে লুটপাট, ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু নির্মানে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, ৫ লক্ষ কোটি টাকার খেলাপি ঋন, জাতিসংঘের রিপোর্টে ১৪ হত্যা কান্ড, ১৫ হাজারের বেশী আহত পঙ্গু ও অফ হয়ে যাওয়া। আর এসবের বিনিময়েই আজকের এই বিজয়। আমরা যেন ভুলে না যাই এসব কিছু। সমাবেশ শেষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষনা করা হয়।

তবে, সম্মেলনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সভাপতি সাধারন সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতা নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় সম্মেলনের আকর্ষন আগেই কমে যায়। আর সম্পেনের শুরুতেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা অসংখ্য নেতা-কর্মীরা তীব্র গরমে সভাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

স্টাফ রিপোর্টার:

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়ছার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। এসময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে তারা পূজা উদযাপন পরিষদ, মন্ডপ কমিটি ও উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জেলা পুলিশ সুপার পূজা মন্ডপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে উৎসব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি প্রতিটি পূজা মন্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নিয়মিত মনিটরিং, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে বলে আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, “পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত।”

এসময় কুমিল্লা জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

২৪-এর আন্দোলনে আ’লীগ ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে : সালাহউদ্দিন আহমদ

স্টাফ রিপোর্টার:

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস লুটপাট আর সন্ত্রাসের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস চুরি আর অর্থপাচারের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস। ২৪-এর আন্দোলনে ১৪০০ মানুষকে আওয়ামী লীগ হত্যা করেছে। ২০ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এত রক্ত, এত ত্যাগের মধ্য দিয়ে হাসিনার পতনের পর আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি। আমরা যেন আমাদের রক্তাক্ত ইতিহাস ভুলে না যাই।’

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস সংস্কারের ইতিহাস। বিএনপির ইতিহাস রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ধারণাকে ধারণ করার ইতিহাস। বিএনপির ইতিহাস এ দেশে সংস্কারের মধ্য দিয়ে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিহাস।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘৭১-এর চেতনার ব্যবসা করতে করতে হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। চেতনা ব্যবসা করতে করতে হাসিনার মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। সুতরাং ৭১-এর চেতনা ব্যবসা যেমন চলবে না, এই দেশে ধর্ম নিয়ে ব্যবসাও চলবে না।

তেমনিভাবে জুলাই বিক্রি করেও ব্যবসা চলবে না। জনগণ এখন সচেতন। কোনো চেতনা ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘কারা যেন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে চায়। কেউ কি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে পারে? যারা বিক্রি করতে চায় তারা ধর্ম ব্যবসায়ী।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তারা যে সংস্কারের কথা বলে, তারা জানে না বর্তমানে সংস্কারের জনক তারেক রহমান। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফাই এ দেশের প্রকৃত সংস্কার। আমরা ৩১ দফা সিলগালা করে দিইনি। কেউ যদি আরো যৌক্তিক কোনো সংস্কার আনে তা-ও যুক্ত করা হবে। সংস্কার শেষ হয় না, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘কেউ বলেছে বিচার ও সংস্কার না হলে নির্বাচন হবে না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার আসবে আমার বিশ্বাস।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ থাকতে হবে। সব অপপ্রচারের জবাব আপনাদের দিতে হবে আপনাদের। প্রতিনিয়ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ অপপ্রচারের জবাব দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ থাকতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে সত্যটুকু তুলে ধরতে হবে।’

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালামম, কুমিল্লা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন ও সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

গণঐক্য গড়তে না পারলে আসবে স্বৈরাচার: কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ না হয়, তাহলে ফের দেশে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব ঘটতে পারে।”

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “২০০৮ সালের তথাকথিত নির্বাচন ও ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখন আবার ঐক্য না হলে তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। জনগণ যেভাবে চায়, আমাদের সেভাবেই চলতে হবে। একটি কথাই শেষ কথা সবার আগে বাংলাদেশ।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “বক্তব্য অনেক হয়েছে, এখন সময় কাজের। আজকের সম্মেলনের শ্লোগান হোক—ঐক্য, জনগণ ও পুনর্গঠন। আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীরা কারাবরণ করেছেন, গুম হয়েছেন, তবুও পিছিয়ে যাননি। এই ঐক্য ধরে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনই সময় ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর। শুধু মিটিং করেই জনগণের মন জয় করা যাবে না। প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে, জানাতে হবে তাদের অধিকার ও আমাদের লক্ষ্য।”

সম্মেলনের প্রধান বক্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “১৬ বছর পর এমন একটি ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হলাম। আজকের সম্মেলন আমাদের নতুন পথচলার প্রতীক। আমরা যেন অতীত ভুলে না যাই।”

তিনি বলেন, “এই দেশের ব্যাংকিং সেক্টর এখন পাঁচ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণে জর্জরিত। দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এসব টাকা দিয়ে ৪০টি পদ্মা সেতু তৈরি করা যেত। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে শুধু লুটপাট করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। এসব অন্যায়ের বিচার অবশ্যই হবে। কিন্তু তার জন্য নির্বাচন বিলম্বিত করা চলবে না।”

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।

মধ্যম চান্দিশকরা ফ্রেন্ডস ক্লাবের উপদেষ্টা হলেন এসকে শামিম ও আবুল হাশেম

স্টাফ রিপোর্টার:

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রিড়া সংগঠন মধ্যম চান্দিশকরা ফ্রেন্ডস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রিড়া সংগঠক এসকে শামিম। উপদেষ্টা সদস্য হয়েছেন আবুল হাশেম। সৌদি প্রবাসী এসকে শামিম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের কবরুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি প্রবাস বাংলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের কুমিল্লা ষ্টার টিম, এসকে শামিম ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির মালিক। এছাড়াও এসকে শামিম দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রিড়া সংগঠনের সাথে জড়িত।

সৌদি প্রবাসী আবুল হাসেম চিওড়া ইউনিয়নের কাপড়চোতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিও বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাথে জড়িত।

এদিকে নব মনোনীত উপদেষ্টা এসকে শামিম ও আবুল হাসেমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মধ্যম চান্দিশকরা ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি ডা: কামরুল হাসান মুন্না ও সেক্রেটারী বেলাল হোসেন পাটোয়ারী লিমন।