All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামের কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে শনিবার চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের পরিচালনায় সাংবাদিকদের সামনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার মিন্টু।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ ভুঁইয়া, সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াছিন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাইউম মানিক, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল হোসাইন কাউছার, কমিটির সদস্য কাজী এবি সিদ্দিক হান্নান, ফেরদৌস আলম দুলাল, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল করিম মিন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মজুমদার মিন্টু বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসে যে কোন প্রতিষ্ঠানের সুবর্ণ জয়ন্তী একবারই আসে। কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী আগামী ২৫ ডিসেম্বর পালন করা হবে। এ লক্ষ্যে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ১৯৭৫-২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্যসহ বিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্মরণিকা প্রকাশ, সম্মাননা স্মারক প্রদান, গিফট বিতরণ ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে’।

ইতিমধ্যে সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে ৫ শতাধিক এ্যালামনাই সদস্যের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫ উপলক্ষে কুমিল্লা ট্যুরিজম কমিউনিটির আয়োজনে কুমিল্লার রাস্তায় প্রাণের ছোঁয়া!

স্টাফ রিপোর্টার:

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা নগরীতে এক সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করে কুমিল্লা ট্যুরিজম কমিউনিটি ।

শনিবার সকাল দশটায় নগরীর ঈদগা মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।

কুমিল্লা ট্যুরিজম কমিউনিটির সংগঠকরা জানান, বাংলাদেশ শুধু প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টি আর মানুষের আতিথেয়তায় ভরপুর এক সম্ভাবনাময় পর্যটনগন্তব্য।

চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে শুরু করে সুন্দরবনের বাঘ, সিলেটের চা-বাগান থেকে রাঙ্গামাটির লেক, পানাম নগর থেকে মহাস্থানগড়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে পাহাড়পুর বিহার— প্রতিটি স্থানই একেকটি গল্প, একেকটি অনুভব।

আজকের র‍্যালি শুধু কুমিল্লার নয় — এটি গোটা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার ডাক। চলুন, সবাই মিলে গড়ে তুলি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও অতিথিপরায়ণ বাংলাদেশ — যেখানে প্রতিটি স্থান হবে একটি নতুন অভিজ্ঞতা, আর প্রতিটি মানুষ হবে একেকজন পর্যটনের শুভেচ্ছাদূত।

চৌদ্দগ্রামে একাধিক হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা শুটার সোহেল আটক

স্টাফ রিপোর্টার: 

জুলাই আগস্ট বিপ্লবের শহীদ জামশেদুর রহমান মিয়াজির জুয়েল হত্যা মামলার আসামী, সন্ত্রাসী ও মাদক চোরাকারবারি মোঃ সোহেল মিয়াজীকে গ্রেফতার করেছে ২৩ বীর এবং সিপিসি-২, র‍্যাব-১১ এর যৌথ অভিযান দল।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে টিক্কার চর এলাকায় সেনা ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত সোহেল চৌদ্দগ্রাম পৌর সদরের রামরায়গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা, মাদক মামলাসহ ৬টি মামলা রয়েছে।

সেনাবাহিনী ২৩ বীর ও র‍্যাব-১১ এর সূত্র জানায়, সোহেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সোহেল চৌদ্দগ্রাম জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। সে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বশীল। জুলাই আগষ্টের বিপ্লবের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শহীদ জামশেদুর রহমান মিয়াজী জুয়েল হত্যা মামলার অন্যতম এবং স্থানীয় যুবক রাহাত হত্যা মামলার মূল আসামি সোহেল। তাকে  এলাকাবাসী “খুনি সোহেল” নামে চেনে। ২০২৩ সালের ৬ই জুন চৌদ্দগ্রাামে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বন্ধুক হাতে সোহেলের একটি ছবি দেশব্যাপী ভাইরাল হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মাদক কারবারসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

শুধু উদ্যোক্তা নন, হাজারো মানুষের ‘ভ্রমণ অভিভাবক’ মিল্কী

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে আজ যাদের নাম উচ্চারিত হয় আস্থার সঙ্গে, তৌহিদুল আলম মিল্কী তাদের অন্যতম। তিনি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তা নন, বরং অনেকের কাছে হয়ে উঠেছেন প্রকৃত ‘ভ্রমণ বন্ধু’। কারণ তিনি মানুষকে শুধু ভ্রমণের পরিকল্পনা দেন না, বরং স্বপ্ন দেখান, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথও দেখান।

শুরুটা ছিল একেবারে সাধারণ। রাজধানীর একটি ছোট্ট ভবনে হাতে গোনা কিছু প্যাকেজ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন মিল্কী। কিন্তু স্বপ্ন ছিল বড়। একসময় আলোচিত হন মাত্র ৬৬ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অসাধারণ অফার দিয়ে। আবার ৬১ হাজার টাকায় মালদ্বীপ কিংবা শ্রীলঙ্কার ট্যুর প্যাকেজ মানুষকে দেখিয়ে দেয়, ভ্রমণ কেবল ধনীদের বিলাস নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই সম্ভব।

আজ তার প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ‘আকাশবাড়ি হলিডেজ’ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত ভ্রমণ সংস্থা। ৬টি অফিস, প্রায় ২০০ জন কর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ অনুসারী তার সাফল্যের প্রমাণ বহন করছে। শুধু ব্যবসা নয়, তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে অসংখ্য তরুণের মুখে হাসিও ফুটিয়েছেন।

মিল্কীর আরেকটি উদ্যোগ হলো বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। খুব সামান্য খরচে ভিসা প্রসেসিং, ডকুমেন্টেশন, টিকিট বুকিংসহ সব ধরনের সমন্বয় করে দেন তিনি। যেসব শিক্ষার্থী একা এসব প্রক্রিয়া সামলাতে ভয় পান, তাদের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন এক বিশ্বস্ত অভিভাবক।

কক্সবাজারের টেকনাফে তার গড়া ‘মিল্কী রিসোর্ট’ও এখন আলোচিত একটি নাম। তিন তারকা মানের এই রিসোর্টে পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা মিলছে। এতে বোঝা যায়, কেবল ট্যুর প্যাকেজ নয়, আবাসন খাতেও তিনি সমান মনোযোগী।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মিল্কী ভীষণ আশাবাদী। তার মতে, শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, রাতভর বিনোদন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, বিচ পার্টি, সঙ্গীত-নৃত্যের অভিজ্ঞতা দিয়েই পর্যটন শিল্পকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। এজন্য তিনি কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বিশেষ পর্যটন জোন’, ঝুলন্ত ব্রিজ, কেবলকার ও নদীভিত্তিক প্রকল্পের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ থাকলেও তিনি এসবকে ভয় না পেয়ে বরং নতুন সম্ভাবনার পথ হিসেবে দেখছেন।

ভ্রমণপ্রেমীরা তাকে ভালোবেসে ডাকে ‘ভ্রমণ বন্ধু’। তার উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসা নয়— মানুষকে আনন্দ, বিশ্রাম আর সহজলভ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়া। বিশ্ব পর্যটন দিবসে তার স্বপ্ন হলো, বাংলাদেশের সাধারণ পরিবারগুলোও সীমিত বাজেটে নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ উপভোগ করুক, ভ্রমণ হোক সবার অধিকার।

তৌহিদুল আলম মিল্কী প্রমাণ করেছেন— পর্যটন শুধু স্বপ্ন নয়, তা বাস্তবও হতে পারে, যদি থাকে সাহস, সৃজনশীলতা আর মানুষের প্রতি আন্তরিকতা।

কুমিল্লার তমাল এবার জয় করলেন পৃথীবির “অষ্টম” সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ “মানাসলু”

শাইরাজ হোসেন ইউশা:

পৃথীবির “অষ্টম” সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ “মানাসলু” জয় করার লক্ষ্যে গত ১লা সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করেন তিনি। (২৪ সেপ্টেম্বর) বুধবার দিবাগত রাত্রি ৩টায় “মানাসলু” পর্বত জয় করেন তিনি।

পর্বতে তমালের উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্য গুলো হলো, মাউন্ট আমা দাবলাম (৬ হাজার ৮১৪ মিটার), ভাগীরথী-২ (৬ হাজার ৫১২ মিটার), আইল্যান্ড পিক (৬ হাজার ১৬০ মিটার), থারপু চুলি (৫ হাজার ৬৯৫ মিটার), মাউন্ট কানামোসহ (৫ হাজার ৯৭০ মিটার। নতুন করে যুক্ত হলো “মানাসলু” যার উচ্চতা ৮১৬৩ মিটার।

তৌফিক আহমেদ তমালের বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। পাহাড়ের প্রতি এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে কলেজে পড়ার সময় থেকে। পাহাড়ে পাহাড়ে ভ্রমণ করতে করতে একসময় এই পাহাড়ই হয়ে ওঠে তার আরেক ঠিকানা। যেখানে তার বেশিরভাগ সময়ই তিনি অতিবাহিত করেছেন।

তৌফিক আহমেদ তমাল ২০১৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন। তবে পাহাড়ের ভালোবাসায় তিনি চাকুরীতে স্থীর থাকলেন না।

পরের বছর চাকরি ছেড়ে ভ্রমণ আয়োজনকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন। প্রথম দিকে পর্যটকদের গাইড হিসেবে দেশের পাহাড়ে নিয়ে যেতেন। তারপর ভ্রমণ পরিচালনা শুরু করেন ভারত ও নেপালের বিভিন্ন পাহাড়গুলোতে । তমাল এভারেস্ট বেজক্যাম্প, অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্পসহ বিভিন্ন গন্তব্যে গাইড হিসেবে বাংলাদেশিদের নিয়ে যান।

তার পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা দেখে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মরাও পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা প্রেমী হয়ে উঠেছে এবং তাদের ভ্রমণের অন্যতম স্থান পাহাড়কে বেছে নিয়েছেন।

তমালের এই অর্জনকে সাধারণ মানুষেরা শুধু তমালের গর্ব বলে আখ্যা দেননি বরং তারা এই অর্জনকে “কুমিল্লা”-র একটি গৌরবময় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলন || সমঝোতার মাধ্যমে শীর্ষ ৫ পদ চূড়ান্ত

  • ৫টি ইউনিট ছাড়া বাকি ৯টি ইউনিটের কমিটি জমা না হওয়ায় কাউন্সিলর ( ভোটার) চূড়ান্ত হয়নি

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

আজ শনিবার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা (বুলু)।

আজ সম্মেলনে কোন ভোট হচ্ছে না। কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় তা প্রকাশও করা সম্ভব হয়নি। এদিকে সমঝোতার মাধ্যমে শীর্ষ ৫ পদ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শীর্ষ ৫ পদ ঘোষণা করা হবে সম্মেলনে:
সভাপতি পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এদিকে গত প্রায় একমাস ধরে জেলা বিএনপির লাখ লাখ কর্মী তাদের পছন্দের নেতাকে নেতৃত্বে দেখতে অপেক্ষায় ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে জনপ্রিয় দুই নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী করায় পুরো জেলাজুড়ে ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল।

প্রতিদিনই জেলার সর্বত্র নেতাকর্মীদের আলোচনায় ছিল সাধারণ সম্পাদক দুই প্রার্থীর নাম। কিন্তু হঠাৎ সম্মেলনের ৩ দিন আগে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা কিংবা ছাড় দেয়ার ফলে আমীরুজ্জামান আমীর সরে গেলে বা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে সম্মেলনের আগেই আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

সিনিয়র সহ সভাপতি পদে ৩ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারা হলেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীতা থেকে সরে আসা আমীরুজ্জামান আমীর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হাজী জসিম উদ্দিন ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিক মিয়া। তবে এখানে সমঝোতার মাধ্যমে আমীরুজ্জামান আমীর সিনিয়র সহ-সভাপতি হতে যাচ্ছেন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

তারা হলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক স্বপন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম চৌধুরী ও সদর দক্ষিণের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমান । এ পদে কামরুল হুদা সমঝোতার মাধ্যমে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৩ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা জামান , দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হক ভূইয়া স্বপন। এ পদে সমঝোতার মাধ্যমে নজরুল হক ভূইয়া স্বপন নির্বাচিত হচ্ছেন।

যে কারনে কাউন্সিলর ( ভোটার) চূড়ান্ত করতে পারেনি আহ্বায়ক কমিটি:

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভা মিলিয়ে মোট ১৪টি ইউনিট আছে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১০১ জন কাউন্সিলর (ভোটার) আছেন। সে ক্ষেত্রে কোনো পদে ভোট হলে মোট ১ হাজার ৪১৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে ৫টি ইউনিট ছাড়া বাকি ৯টি ইউনিটের কমিটি জেলাতে জমা না হওয়ায় কাউন্সিলর ( ভোটার) চূড়ান্ত হয়নি। ফলে প্রার্থী থাকলেও ভোট সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। তাই সমঝোতার মাধ্যমে সেরা ৫ পদ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি পদগুলো পরে ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া প্রচার সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মোজাহিদ চৌধুরী।
মো: মোজাহিদ চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে যারা ছাত্রদল করে আসছে, যারা জেলা ও মহানগরে স্থান পায়নি, তাদের জেলা কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

সহ-সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা: গোলাম কাদের চৌধুরী নোবেল জানান, প্রথমত আমি চাই জেলা দক্ষিণ বিএনপির এই সম্মেলন সফল হোক। সাংগঠনিক যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই পদ পাবে এই প্রত্যাশা করছি। জাকারিয়া তাহের সুমনের নেতৃত্বে নতুন কমিটি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আলোচনায় আমীরুজ্জামান আমীর জানান, সকলের প্রচেষ্টায় একটি সফল ও সার্থক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আশা করি যোগ্য ব্যক্তিরা পদে আসবে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম জানান, আমরা একটি জাকঁজমকপূর্ণ, সার্থক ও সফল সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছি।

মুরাদনগরে দুই দিনে কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক আহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

মুরাদনগরে বেশ কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ২০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার চাপিতলা, বাঙ্গরা পূর্ব, বাঙ্গরা পশ্চিম, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ধনপতিখোলা, দিঘিরপাড়, বিষ্ণুপুর, শ্রীরামপুর, পুষ্করনিরপাড়, পাকগাজীপুর, খামারগ্রাম, সিংহারিয়া, বাখরনগর ও রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিক এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

গুরুতর আহতরা হলেন, উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আড়াই বছর বয়সী জান্নাত আক্তার, লিটন (৩৫ ), ফয়সাল (৩৫ ), জজ মিয়া (৫২), বেবি আক্তার (৪০), বেবি আক্তার-২ (৩৫), নুরজাহান (৮০), শ্রীরামপুর গ্রামের মাজেদা (২০), হাবিবুল্লাহ (৬ ), লুৎফা (২২), সিফাত (৪), রাজনগর গ্রামের হুজাইফা (সাড়ে তিন বছর), সিংহারিয়া গ্রামের আলম (৪৫), পুস্করনিরপাড় গ্রামের নুসরাত (৫), পাকগাজীপুর গ্রামের আবু সাঈদ (৫), হামদু মিয়া (৭০), ধনপতিখোলা গ্রামের তাজুল ইসলাম (৬৫), বাখরনগর গ্রামের মঙ্গল মিয়া (৬২), দিঘিরপাড় গ্রামের হামিদা (৮) ও খামারগ্রাম গ্রামের বাহাদুর (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হঠাৎ উপজেলায় বেশ কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর উৎপাত বেড়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়েছে কুকুর। এভাবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-শিশু ও পুরুষকে কামড়ায় কুকুর।

এদিকে শুক্রবার উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামার গ্রামে ৫ জনকে কামড়ানোর পর গ্রামবাসী একটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনেকে আবার আমাদের এখানে না এসে জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান জানান, শুনেছি পাগলা কুকুর খুবই ভয়ংকরভাবে আক্রমণ করেছে। কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

‘গোমতী বাচাঁও, কুমিল্লা বাচাঁও’ স্লোগানে কুমিল্লায় ম্যারাথন

 

স্টাফ রিপোর্টার:
গোমতী বাঁচাও, কুমিল্লা বাঁচাও—এই শ্লোগানে কুমিল্লায় নেক্সজেরা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১৫ কিলোমিটার ও ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা সদরের চাঁনপুর গোমতী নদীর পাড় ম্যারাথন দৌড় শুরু হয়ে একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

ম্যারাথন দৌড় শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনসাফ হাউজিং সোসাইটি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক মামুন, রোটা: আবদুল্লাহীল বাকীসহ আরও অনেকে।

১৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড়ে পুরুষ বিভাগে প্রথম হয়েছেন পলাশ শেখ ১ম, ২য় মেহেদী হাসান, ৩য় মো. সিয়াম শেখ, মহিলা-মেহজাবিন মোস্তফা ১ম, সুইটি কবির ২য়, মায়াচিঙ্গ মারমা ৩য় হয়েছেন। এদিকে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড়ে পুরুষ-মো. জাকির হোসেন ১ম, ২য় মোহাম্মদ সুজন, ৩য় মো. রহিম উদ্দিন, আফরিদ জাহান মিম ১ম, রুনা আক্তার ২য়, আফিফা নওরিন সামিহা ৩য় স্থান অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলা থেকে এক হাজার ৫০০ দৌড়বিদ অংশ নেন। নেক্সজেরা ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রকি বলেন, ‘নেক্সজেরা ফাউন্ডেশন সমাজ সচেতনা, শিক্ষা ও বেকার যুবকদের নিয়ে কাজ করে। গোমতী নদীতে মাটি খেকোদের অবৈধ মাটি কাটার কারণে গোমতী এখন কুমিল্লার দুঃখ। গোমতী রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষে ‘গোমতী বাঁচাও, কুমিল্লা বাঁচাও’শ্লোগানে এই আয়োজন।

টাউনহলে বিএনপির সম্মেলন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ

হাবিবুর রহমান মুন্না:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন। ১৬ বছর পর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ জেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। জেলায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র কুমিল্লা টাউনহলে বিশাল প্যান্ডেল, পুরোটা অংশজুড়ে আলোকোজ্জ্বল করা হয়েছে। কুমিল্লা নগরী, জেলার বিভিন্ন উপজেলা, সম্মেলনস্থল কুমিল্লা টাউনহলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি, ব্যানার ও পোষ্টার শোভা পাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন নেতাকর্মীর ব্যানার, পোষ্টার শোভা পাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে। এরপর নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আন্দোলন-সংগ্রাম, ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জেলা কমিটি পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি। তবে এবার নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে আবারও সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে দলটি। সম্মেলন উপলক্ষে জেলা শহরজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, মিছিল ও মিটিংয়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজপথ। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সম্মেলন সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। জানা গেছে, সম্মেলন আয়োজনে গঠিত প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক প্রস্তুতি কমিটির সদস্য বলেন, “সম্মেলন সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে, তা বিগত কয়েক বছরে দেখা যায়নি।” দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, “এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটবে। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিএনপি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিতভাবে অংশ নিতে পারবে। সেইসাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এত বছর পর এমন সম্মেলন দলের ভিতরে আশার সঞ্চার করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, তারা চান এমন নেতৃত্ব, যারা মাঠে থাকবে, কর্মীদের পাশে থাকবে, এবং আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। দীর্ঘ বিরতির পর এই সম্মেলন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জন্য একটি নতুন যাত্রার সূচনা।

চান্দিনায় খাল ভরাট করে স’মিল ব্যবসা চালাচ্ছেন সাবেক যুবদল নেতা

 

শরীফুল ইসলাম, চান্দিনা :
কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি খাল ভরাট করে স’মিল ব্যবসা সাজিয়ে বসেছেন লোকমান হোসেন শাহজাহান নামে সাবেক এক যুবদল নেতা। খালটি ভরাটের ফলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মহিচাইল বাজার, মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয়, মহিচাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ আশ-পাশের বাড়ির পানি নিস্কাশনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। মহিচাইল বাজারের যে পুকুরটির সাথে ‘ছোরা’ খালটির সংযোগ ওই সংযোগ স্থলেই খালটির প্রায় আড়াইশ ফুট ভরাট করায় পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

খাল ভরাট উচ্ছেদের মাধ্যমে খালটি পুনঃখনন করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত ওই অভিযোগটি দায়ের করেন তিনি।

লোকমান হোসেন শাহজাহান চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক এর ছেলে।  তিনি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি। তবে তিনি এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে রাজনৈতিক দল বদল করেছেন কয়েকবার। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে আওয়ামী লীগের এমপি’র ঘনিষ্ঠজন হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিও করেছেন। তিনবার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনও। ৫ আগস্টের পর আবারও ফিরেছেন বিএনপির রাজনীতিতে।

প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে- বাজার সংলগ্ন পুকুরটিতে মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয়, মহিচাইল বাজার, মহিচাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আশপাশের বাড়ির বৃষ্টির পানি বাজার সংলগ্ন পুকুরটিতে জমে। ওই পুকুরের সাথে সংযুক্ত ছিল একটি খাল। যা সিএস ম্যাপ থেকে শুরু করে বিএস ম্যাপেও ওই খালটি রয়েছে। পুকুরের অতিরিক্ত পানি ওই খাল দিয়ে নিস্কাশন হতো। কিন্তু  লোকমান হোসেন শাহজাহান ও তার ভাই আবুল কালাম আজাদ কয়েক বছর যাবত সরকারি ওই খালটি অবৈধ ভাবে ভরাট করে সেখানে স’মিল ব্যবসাসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এদিকে, বর্ষা মৌসুমেই বিদ্যালয় দুইটির পানি, বাজারের পানিসহ আশাপাশের পানি পুকুরটিতে জমে ধ্বসে পড়ছে পাকা সড়ক। জলাবদ্ধতার ফলে মাধাইয়া-নবাবপুর সড়কের মহিচাইল বাজার সংলগ্ন ওই পুকুরটির পাড় রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করতে হচ্ছে রিটার্নিং ওয়াল।

স্থানীয় বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন, মোসলেম স্বর্ণকার, আব্দুল জব্বার সহ একাধিক ব্যক্তি জানান- জন্মের পর থেকেই পুকুরটির সাথে খালটির সংযোগ দেখে আসছি। কয়েক বছর আগে হঠাৎ ওই খালটির মুখ বন্ধ করে দেন লোকমান হোসেন শাহজাহান। পুকুরটির পশ্চিম পাড় মাধাইয়া-রহিমানগর পাকা সড়ক, তার সাথে মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজার। দক্ষিণ পাড়ে কাঁচা সড়ক, বাজার ও মহিচাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব ও উত্তর পাড়ে বাড়ি ঘর। উত্তর পূর্ব কোনে ছিল খালটি। যার নাম ‘ছোরা খাল’। ওই খালটির প্রধান মুখটি বন্ধ করে দেয়ায় বৃষ্টি হলেই পুকুরের দক্ষিন পাড়ের কাঁচা সড়কটি ডুবে যায়, অতিরিক্ত পানি স্কুল মাঠে ঢুকে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিম পাড়ের পাকা সড়কটি ধ্বসে যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগি হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সরকার রিটার্নিং ওয়াল করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু পুকুরের সাথে খালের সংযোগটি থাকলে অতিরিক্ত পানি খালে নিস্কাশন হতো। আমরা দ্রুত খালটি পুনঃউদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

পুকুরের পাড় ও পাকা সড়ক ধ্বসে পড়ার ফলে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ প্রসঙ্গে চান্দিনা উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান- পুকুরের পানি নিষ্কাশনে কোন ব্যবস্থা না থাকায় স্কুলের মাঠে জলাবদ্ধতা এবং সড়ক ধ্বসে পড়ে এটা সত্য। কিন্তু আমি আগে জানতাম না যে পুকুরটির সাথে খালের সংযোগ ছিল এবং তা সরকারি নকশায়ও আছে। আমি শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে খালটি পুনঃউদ্ধারের চেষ্টা করবো।

সাবেক যুবদল নেতা লোকমান হোসেন শাহজাহান জানান- নকশায় কোন খাল নেই, তবে পুকুরের সাথে খালের একটি সংযোগ ছিল। পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য সংযোগটি বন্ধ করেছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সঠিক না।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুর জানান- অভিযোগের ঘটনাটি সত্য। আমরা সরেজমিন তদন্ত করেছি এবং মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ানে শ্রেণি খাল রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে সেখানে খালের কোন অস্তিত্বই নেই। আমরা খুব শীঘ্রই খালটি পুনঃরুদ্ধার করবো।