All posts by jitu

জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও বর্ণাঢ্য র‍্যালী উদযাপন

মো: সোহরাব হোসেন, দেবিদ্বার:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালী শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। র‍্যালীতে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা চান্দিনা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে চান্দিনা ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে দলীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ডক্টর খন্দকার মারুফ হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ আখতারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব এ.এফ.এম তারেক মুন্সি, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুবি আক্তার।

কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, “নারীর অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে মহিলা দল সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মিছিলে আমাদের অঙ্গীকার—নারীর অধিকার ও গণতন্ত্রের লড়াই আরও শক্তিশালী করা।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহিলা দল শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মহিলা দলের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মুরাদনগরে অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে ছাই, ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে অগ্নিকাণ্ডে একটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ওই দোকান মালিক।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচকিত্তা পুরাতন বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে হঠাৎ করে দোকানের ভিতরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মহূর্তেই দোকানে থাকা মুরগি, কাঁচামাল, ডেকোরেটর ও সেনেটারির মালামালসহ জেনারেটর মেশিনে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পূর্বেই দোকানটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে দোকানে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা সহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

পার্শ্ববর্তী সবজি দোকানদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, মাঝরাতে খবর পেয়ে আমরা দৌড়ে বাজারে আসি। সবার সহযোগিতায় অল্পের জন্য আমার দোকানটি রক্ষা পায়। আমার দোকানে আগুন লাগলে আরো কয়েকটি দোকান পুড়ে যেত।

দোকান মালিক আব্দুল কাদির জানান, অন্যান্য দিনের মতো ঘটনার দিন রাতে মালপত্র গুছিয়ে দোকান তালাবদ্ধ করে কর্মচারীসহ আমরা সবাই বাড়িতে চলে যাই। দোকানে কেউ ছিলো না। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে দোকানে আগুন লাগার সংবাদ পাই। কোথা থেকে আগুন লেগেছে আমার ধারণার বাইরে। দোকানে নগদ ২ লাখ টাকার মত ছিল। সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি।

ভোট বানচালের ক্ষমতা কারও নেই: শফিকুল আলম

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভোট বানচালের ক্ষমতা কারও নেই মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘সবদল সৎ থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো বাধা নেই, দেশের মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসবে। কোনো শক্তিই সুষ্ঠু নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন ভালো হবে, তার একটা প্রতিফলন দেখা গেছে ডাকসুতে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়সূচি থেকে কেউ সরে আসতে চাইলে তা জাতির জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮ লাখ পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।’

শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু সরকারের ইচ্ছায় নয়, সমাজের বিভিন্ন অংশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপরও নির্ভর করে। ইলেকশন করে সোসাইটি, পলিটিক্যাল পার্টিগুলো- তারা যদি চায়, তাহলে একটি ভালো নির্বাচন অবশ্যই সম্ভব।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘জনগণ যদি বন্যার জলের মতো ভোট দিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন, তাহলে কোনো শক্তিই সুষ্ঠু নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ অবস্থানে সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করলে আগামী নির্বাচন হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।’

কুবিতে মধ্যরাতে মব তৈরী করে সাংবাদিকদের হেনস্তা

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

সংবাদ প্রকাশের জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাংবাদিকদের উপর মব তৈরি করে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩০৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আইন অমান্য করে এমন মব তৈরি করাকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লা নিউজ-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বি. এম. ফয়সাল এবং একই কক্ষে অবস্থানরত মানবকন্ঠের সাংবাদিক জুবায়ের রহমান ও খোলা কাগজ’র হাছিবুল ইসলাম সবুজ। এসময় সেখানে উপস্থিত রূপালী বাংলাদেশের সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম ও দৈনিক কুমিল্লার ক্যাম্পাস সাংবাদিক মাসুম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজের সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিজয় ২৪ হলের ৩০৫ রুমে এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ফয়সালকে হুমকি দিতে শুরু করেন কয়েকজন। এরপর ২০-২৫ জন এসে মব তৈরি করার চেষ্টা করে। তখন মানবকন্ঠের সাংবাদিক জুবায়ের হোসেন বেড থেকে উঠে তারা কেন এসেছেন প্রশ্ন করেন। এসময় মব সৃষ্টিকারীরা ভুক্তভোগী ফয়সালকে বের করে আনার নির্দেশ দেয় এবং সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন। এসময় প্রতিবাদ করলে তারা সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে ফয়সালকে মারতে তেড়ে আসে এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এসময় সেখানে রূপালী বাংলাদেশ’র সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত হতে গেলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম পলাশ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ধর ধর বলে গলা চেপে ধরে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অর্থনীতি বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তু দাস নিয়ম ভেঙে বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে বহিরাগত এক নারী (যাকে ‘খালা’ পরিচয়ে এনেছিলেন) এবং আরও দুজন পুরুষ নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে অন্তু দাস সাংবাদিকদের ‘বাড়াবাড়ি না করতে’ বলেন। তিনি দাবি করেন, হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামের অনুমতি নিয়েছিলেন। তবে ওই কর্মকর্তা জানান, তিনি কোনো অনুমতি দেননি এবং বিষয়টি তার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্ট সূত্রে জানা যায়, হলে আইন অনুযায়ী বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। ঐ ঘটনার পর হল প্রভোস্ট আবারও একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। সেখানে বলা হয় হলের কোনো শিক্ষার্থীদের গেস্ট (পুরুষ-মহিলা) হলের ভিতরে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। বিশেষ কারণবশত, হল প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

হলে বহিরাগত প্রবেশে নিয়ে “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়-২৪ হল কক্ষে বহিরাগত নারী-পুরুষ; শিক্ষার্থীরা বিব্রত” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের জের ধরে রাত ১২টার দিকে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ফয়সালের কক্ষে গিয়ে মব তৈরি করে হামলার চেষ্টা চালায় এবং উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের হেনস্তার চেষ্টা করে।

মব তৈরি করে হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ ফয়সাল, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী তন্ময় সরকার, নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রান্তিক অঙ্গন দাশ, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম পলাশ, বাংলা বিভাগের জয় ঘোষ ও রকিবুল ইসলাম জিসান, গণিত বিভাগের ফারহান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আরেফিন তাজবীহ, ইংরেজি বিভাগের কাজী তাহসিন ও রুহিত পাল এবং মার্কেটিং বিভাগের সাজিদসহ অনেকে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বি. এম. ফয়সাল বলেন, “আমি রুমে বসে পড়ছিলাম। হঠাৎ হলের বর্ধিত অংশ থেকে প্রায় ২০-৩০ জন আমার নাম ধরে ‘ধর ধর’ বলে মব তৈরি করে রুমে প্রবেশ করে। তখন আমার রুমমেট জুবায়ের ভাই বাধা দিতে গেলে তার ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করে। পরে আরো কিছু শিক্ষার্থী মবের উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়।

সাংবাদিকের হাতে আসা ভিডিও ও মেসেঞ্জার গ্রুপের ছবিতে দেখা যায়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের তন্ময় সরকার মব তৈরি করার জন্য উসকে দেয়। তিনি মেসেঞ্জার গ্রুপে লিখেন, “১৫ ব্যাচের সবাই উপরে আয় ১৮ এত্ত সাহস কেমনে পায়।” এর পর হলের কিছু শিক্ষার্থীের নিয়ে মব করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর কক্ষে চলে যান। প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা যায়, তন্ময় ও প্রান্তিক সরকার ভুক্তভোগীদের সাথে উচ্চবাচ্য করেন এবং মারতে এগিয়ে আসেন।”

এসব বিষয়ে জানতে তন্ময় সরকারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, জুনিয়র যদি বেয়াদবি করে তখন আমি কী বসে থাকবো? আমি গ্রুপে মেসেজ দিয়েছি সবাইকে আসার জন্য। আর আমি সেখানে মব কন্ট্রোল করার জন্যই গিয়েছি।

সাংবাদিককে ধর ধর বলে তার গলা চেপে ধরার বিষয়ে জানতে একাধিক কল দেওয়া হলেও জহিরুল ইসলাম পলাশ কল ধরেননি।

আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল ভুক্তভোগী সাংবাদিককে মারার উদ্দেশ্যে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় কক্ষের অন্য সাংবাদিকরা তাকে বাধা দিলে তাদের সাথে উচ্চবাচ্যে কথা বলা শুরু করেন।

তবে অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ঐ রুমে যাইনি এবং কিছু করিনি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।”

মব তৈরি করে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট ড. মাহমুদুল হাসান খান বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধি অমান্য করে সাংবাদিকদের উপর মব তৈরি করা ও হেনস্তা করার ঘটনাকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।

বিজয় ২৪ হলের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘সাংবাদিক যদি যদি কোনো ধরনের ভুল করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেয়া টাই ঠিক। কোনোভাবেই মব লিঞ্চিং করা ঠিক নয়, এটা অন্যায়। এছাড়াও ‘মা-খালা যাইহোক অনুমতি ব্যাতীত হলে প্রবেশ করানো ঠিক হয়নি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি মিথ্যা তথ্য বা কোনো কিছুকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাহলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ লিপি পাঠানো যায়। যদি তাতেও না হয় প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা যায় ও আইনি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কাউকে বিচার বহির্ভূতভাবে শাস্তি দেয়া যায় না

বিশ্ববিদ্যালয় উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করবেই। তবে যদি সাংবাদিক মিথ্যা তথ্য ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা না করে সাংবাদিককে হেনস্তা কিংবা মব তৈরি করে হামলা করা কোনো ভাবেই কাম্য নয়।

 

উল্লেখ্য, বিজয়-২৪ হলে অবাধে বহিরাগতদের প্রবেশের কারণে গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল, ল্যাপটপ ও হলের সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে আসছে বলে যায়। সবশেষ, গতমাসের ৩১ তারিখে ৪২৩ নম্বর কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।

নাঙ্গলকোটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই আরোহী নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পৌরসভার মডেল মহিলা কলেজের সামনে খিলা–নাঙ্গলকোট সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খিলা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, মৌকরা ইউনিয়নের কেশতলা গ্রামের আহসান হাবীব (৪৫) খিলা থেকে নাঙ্গলকোটের দিকে আসছিলেন। একই সময়ে নাঙ্গলকোট আফছারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আলীম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, পেরিয়া গ্রামের হাফেজ আরিফুর রহমান নয়ন (১৮) নাঙ্গলকোট থেকে হেসাখাল যাচ্ছিলেন। দ্রুতগতির দুই মোটরসাইকেল কলেজের সামনে মুখোমুখি ধাক্কা খেলে তারা গুরুতর আহত হন।

আহত হাফেজ নয়নকে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত আহসান হাবীবকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১২টার দিকে সেখানেই মারা যান।

এ ঘটনায় দুই পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।”

কুবিতে মানববন্ধনঃ সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যার বিচারের দাবি

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শহিদ আবদুল কাইয়ুম চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে লোক প্রশাসন বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

এ সময়, “তুমি কে আমি কে, সুমাইয়া সুমাইয়া; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, হত্যা কারীর ফাঁসি চাই ; জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে ; আমার বোন খুন কেন, প্রশাসন জবাব চাই; বিচার নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না” বলে স্লোগান দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোরসালিনা বেগম বলেন, “আমরা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই যে তথ্যগুলো পাচ্ছি সবগুলোতে অসংগতি লক্ষ্য করছি। আমরা পুলিশ সুপারের কাছে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে উনি তা এড়িয়ে যান, সর্বোপরি আমরা প্রশাসনের কাছে। আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসন সুমাইয়া হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে ।”

ইনকিলাব মঞ্চ কুবির আহ্বায়ক মো. হান্নান রাহিম বলেন, “এত নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আগে কখনো হয়নি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, কিন্তু প্রশাসন দৃশ্যমান কোন বিচার না করায় এমন ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করি এবং সামনে এমন ঘটনা যদি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীদের সাথে ঘটে আমরা কুমিল্লার জমিনকে নাড়িয়ে দেবো”।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দীন মোহাম্মদ রুবেল বলেন “আমরা এখনো বলতে পারছি না হত্যার আসল রহস্য কী? আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চাচ্ছি, তারা যেন এ বিষয়ে কনসার্ন হন। আসামিদের এমন দৃশ্যমান বিচার চাই যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। সুমাইয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে ছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত না এ ঘটনার বিচার পাচ্ছি শেষ পর্যন্ত আমরা লেগে থাকব।”

লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোসা: শামসুন্নাহার বলেন,”ঘরের মধ্যে ঢুকে হত্যা করা এটা কল্পনাও করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিভাগ এই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে আছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু এখনো জানি না আসামীর সাথে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া যেন বিলম্বিত না হয় প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, এর আগে হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, এসপি অফিস ঘেরাও, মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছেন লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ব্রাহ্মণপাড়ায় কীটনাশক খেয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় কেড়ির বড়ি (কীটনাশক) খেয়ে সহিদুল ইসলাম (৬৮) নামে এক বৃদ্ধের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

নিহত সহিদুল ইসলাম উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীদের জানান যে তিনি কেড়ির বড়ি খেয়েছেন।

অবস্থা গুরুতর হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ এলাকায় পৌছালে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়।

পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মেহের রেলস্টেশন মাস্টারের ওপর হামলা: বিএনপি নেতা আটক

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মেহের রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলার অভিযোগে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে মেহের স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জিআরপি থানার ওসি রাজিব চন্দ্র কর ঘটনাস্থলে তদন্তে যান।

তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন স্টেশন মাস্টারের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারেন। মুহূর্তেই এলাকাবাসী সেখানে ভিড় জমায়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত অসম্পূর্ণ রেখেই স্থান ত্যাগ করেন।পরে শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেলোয়ার হোসেন রেলওয়ের জমি কৃষি লিজ নিয়ে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাই। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই তিনি আমাকে মারধর করেন।”

এ বিষয়ে জিআরপি থানার ওসি রাজিব চন্দ্র কর জানান, “আমি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে গিয়েছিলাম। তদন্ত চলাকালীন সময়ে দেলোয়ার হোসেন স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলা চালান।” অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ভুল হয়েছে, গায়ে হাত তোলা উচিত হয়নি।

অসুস্থ বিধবা নারী ও পুরুষ রোগীর পাশে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার:

“আসুন আর্তমানবতার সেবায়, আমরা এগিয়ে আসি” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার ১৭নং রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর আমতলী বাজার সংলগ্ন সুমন সাহেবের দোকানের সামনে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুজন অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

সংস্থার পক্ষ থেকে একজন বিধবা নারী ও একজন অসুস্থ পুরুষ রোগীকে তাদের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাফিয়া বেগম (বিধবা) পেয়েছেন ১০,০০০/- টাকা এবং আমির হোসেন পেয়েছেন ৮,০০০/- টাকা। সব মিলিয়ে মোট ১৮,০০০/- টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়।

দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ওমর ফারুক সাহেব এই প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সমাজের অসহায়, দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের আনন্দ। ভবিষ্যতেও আমরা আমাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চাই, যাতে সমাজের আরও বেশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”

উল্লেখ্য, দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা ২০১৯ সালে এলাকার মেধাবী তরুণ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি শিক্ষা, চিকিৎসা ও দুঃস্থ মানুষের সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: সুমন সাহেব, মো: মানিক হোসাইন, মো: আনোয়ার হোসেন, ডা: মো: তাহের, মো: গাজু সাহেব, মেম্বার জামাল হোসেন সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নব-নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ)-এর নব-নির্বাচিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জেলা কমিটির সভাপতি মীর মাহদী আল মানছুর এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাতের যৌথ স্বাক্ষরে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবঘোষিত কমিটিতে জনাব ওমর সানি পারবেজ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আক্তারুজ্জামান (অন্তর) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ আবু তালহা মোঃ শেখবাতুল্লা।

কমিটির অনান্য সদস্যরা হলেন, সহ সভাপতি – সোহরাব হোসেন, সহ সভাপতি – মোঃ রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মাইনুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক – বাইজিদ আলম ছামিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক – জুয়েল আহমেদ আবির, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক – মো: জুবায়ের, কোষাধ্যক্ষ – ইলিয়াস হোসেন, সহ কোষাধ্যক্ষ – ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক – জিহাদ হোসেন, সহ দপ্তর সম্পাদক – নাহিদ হাসান জয়, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক – হাসান আহমেদ হৃদয়, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক – মোঃ আতাউল ইসলাম, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক – শরিফুল ইসলাম রিমন, লিঙ্গ ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক – জাহিদুল ইসলাম সুজন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক – আবু কাইয়ুম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক – মো: মাহবুব, শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক – সুমন, পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক – তাজুল ইসলাম রতন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক – নোভানা আলম নূর, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক – মামুন, সমাজসেবা সম্পাদক – ইমরান হোসেন সাগর, সাস্থসেবা সম্পাদক – মাসুদ রানা, কার্য নির্বাহী সম্পাদক – তাজুল ইসলাম শাওন, কার্য নিবাহী সদস্য – আরাফাত হোসেন, কার্য নির্বাহী সদস্য – মাশরাফি, কার্য নিবাহী সদস্য – মোঃ হাবিব, কার্য নির্বাহী সদস্য – নিমাই চন্দ্র পাল ও কার্য নির্বাহী সদস্য – আরিফ হোসেন।

নবগঠিত এই কমিটি আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও সমর্থন জানিয়ে জেলা কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তারুজ্জামান (অন্তর)। তিনি বলেন,”আমরা সকলের সহযোগিতায় সদর দক্ষিণ উপজেলায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তুলতে চাই।”

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। নবনির্বাচিত সদর দক্ষিণ উপজেলা কমিটির মাধ্যমে কুমিল্লার এই অঞ্চলেও সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।