All posts by jitu

দূর্নীতির বরপুত্র যুগ্ম-কমিশনার মারুফুর

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:

দেশের বৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে দূর্নীতির আতুরঘরে পরিণত করেছেন যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান। তার অনিয়ম ও দূর্নীতি নির্বিঘ্ন করতে তৈরি করেছেন একাধিক সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই তিনি আদায় করে কোটি কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন সংস্থায় বার বার অভিযোগ দেয়া হলেও সকল অভিযোগ অঙ্কুরেই বিনাশ করেন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মারুফুর রহমান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত করেছেন। ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুদক ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় একাধিক অভিযোগ দেয়া হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি এসব অভিযোগ তদন্ত শুরুর আগেই শেষ করে দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ দূর্নীতির আতুরঘরে পরিণত হয়েছেন যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান। তিনি দূর্নীতি নির্বিঘ্ন করতে তৈরি করেছেন একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তার অধীনে চলা একটি সিন্ডিকেটে রয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে একজন সহকারি কমিশনার, একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিনজন সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা।

এ সিন্ডিকেট অধীনে মদ, সিগারেটের বিভিন্ন চালান প্রতি আদায় করেন ২-৪ কোটি টাকা ঘুষ। আরেকটি সিন্ডিকেটে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মো নজরুল, রেজাউল এবং ‘ফালতু’ রাজু। এ সিন্ডিকেট প্রতি সপ্তাহে ১ কোটি টাকা ঘুষ সংগ্রহ করে মারুফকে দেন। তাছাড়া গ্রীণ চ্যানেল থেকে রাজু অবৈধ ফেব্রিক্স আমদানির চালান প্রতি ২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মারুফকে দেন। শুল্কায়ন গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সজিবের মাধ্যমেও প্রতি সপ্তাহে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করেন। যা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ওপনে সিক্রেট। তাছাড়া অফডকে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি রফতানি চালান থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেন এ কর্মকর্তা। বন্দরে আসা সমুদ্রগামী জাহাজ বন্দর ত্যাগের আগে তিন সংস্থা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়।

এ তিনটি সংস্থা হলো নৌবাণিজ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস। সমুদ্রগামী জাহাজের সব মাশুল পরিশোধ করা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পর ছাড়পত্র দেয়া হয়। ছাড়পত্র পেতে দেরি হলে জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগ করতে পারেনা। সময় মত ছাড়পত্র নিতে না পারলে বাড়তি মাশুল গুনতে হয়। এটাকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে নিয়ে ছাড়পত্র দিতে মোটা অংকের টাকা নেন মারুফুর রহমান। ঘুরে ফিরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ করেন মারুফুর। এক সময় এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের শ্যালক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এ পরিচয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে রাখতেন। বর্তমানে এনবিআরের ২ জন মেম্বারের নাম ভাঙ্গিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতির মাফিয়া হয়ে উঠেন।

এছাড়া তিনি বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয় বলেও সব জায়গাতে নিজেকে জাহির করেন। তার ব্যক্তিগত ২০১৮ এবং ২০২২ মডেলের ২টি প্রিমিও গাড়ি রয়েছে। আর নতুন করে তিনি একটি হ্যারিয়ার গাড়ি ক্রয় করেছেন। এ হ্যারিয়ার গাড়িতে করে উঠতি বয়সি নানা মডেলদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান। মারুফুর রহমানের নারী ঘটিত কারণে তার প্রথম স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। তার বর্তমান স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে বসবাস করেন। এমনকি স্ত্রীকে লন্ডনে বাড়ি কিনে দিয়েছেন এবং সন্তানরা লন্ডনে পড়ালেখা করছে।

চাঁদপুরে ১২৫ শিক্ষার্থীর হাতে ত্রুটিপূর্ণ বাইসাইকেল তুলে দিল প্রশাসন

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠান হলেও নিম্নমানের সাইকেল পাওয়ায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভের। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে ১২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে আনন্দের ঝলক ফুটে উঠলেও সাইকেল হাতে নিয়েই সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতরণকৃত সাইকেলগুলোতে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। ১২৫টি সাইকেলের একটিতেও নেই বেল। চাকা, ব্রেক, চেইন, প্যাডেল, মাডগার্ড এমনকি স্ট্যান্ড পর্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলো ব্যবহার উপযোগী নয়। সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা ছিল- একটি সাইকেলের চাকায়ও হাওয়া দেওয়া হয়নি। ফলে সাইকেল হাতে পেয়েই শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়তে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা সাইকেল পেয়ে খুশি হলেও এতে কোনো মান নেই। চাকার হাওয়া নেই, ঠেলে নিতে হচ্ছে। সরঞ্জাম এত নড়বড়ে যে খুলে পড়ার উপক্রম। একটিতেও বেল দেওয়া হয়নি। এখন দোকানে নিয়ে মেরামত করাতে হবে।

শিক্ষকরা বিষয়টিকে “উদ্যোগের অপব্যবহার” ও “অবহেলার চরম দৃষ্টান্ত” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, এভাবে অব্যবহারযোগ্য সাইকেল বিতরণ করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হওয়ার বদলে বিড়ম্বনার শিকার হবে এবং উৎসাহ হারাবে। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উন্মোচন ও মানসম্মত সাইকেল প্রদানের দাবি জানান তারা। বাইসাইকেল বিতরণ কাজে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মো. মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাইকেল ঠিকাদারি কাজে আমি ছিলাম না। তবে কারা এই কাজ করেছেন সে বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত আমিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে ফোনে জানান, কতটি সাইকেল দেওয়া হয়েছে এবং সাইকেলের বরাদ্দ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। অফিসে এসে ফাইল দেখে জানাবেন বললেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অব্যবহারযোগ্য সাইকেল বিতরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে নীতিমালা অনুসারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সাইকেল টেন্ডারের কাজ দেওয়া হয়েছে। কাজে কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রভাষক হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে যোগদান করলেন আব্দুল কুদ্দুস

মোঃ রাছেল, কচুয়া :

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের কুটিয়া গ্রামের কৃতিসন্তান প্রভাষক আব্দুল কুদ্দুস। বি.সি.এস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের স্বাক্ষরিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গত ০৯ সেপ্টেম্বর এ বদলি আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে নবনিযুক্ত প্রভাষক আব্দুল কুদ্দুস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি ৪০তম বিসিএস থেকে (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে প্রথমে নবীনগর সরকারি কলেজে পোস্টিং হয়। ৯ সেপ্টেম্বর ভিক্টোরিয়া কলেজে বদলি হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। যোগদানের পর তিনি বলেন, “এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ ।” আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

শিক্ষক, ছাত্র ও সহকর্মীরা তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁর যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য যে, উচ্চ মাধ্যমিক কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ-২০১৩ ব্যাচ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্নাস ও মাস্টার্স করেন আব্দুল কুদ্দুস।

কুমিল্লা দেবিদ্বারের মেয়ে ডাকসুর নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে সদস্য পদে বিজয়ী

মো সোহরাব হোসেন, দেবিদ্বার:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন সাবিকুন নাহার তামান্না। তিনি ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ডাকসু নির্বাচনে তিনি সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ৮৪টি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভোটে দিনভর ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা।

সাবিকুন নাহার তামান্না কুমিল্লা জেলা দেবিদ্বার উপজেলা ইউছুফপুর গ্রামে ছফর উদ্দিন সরকার বাড়ীর মোঃ বেলাল হোসেনের দ্বিতীয় মেয়ে তিনি বর্তমান গাজীপুর জেলা কালিয়াকৈর উপজেলা বসবাস করেন, তিনি ২০১৫ সনে থেকে সপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করছেন,তার বাবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালিয়াকৈর উপজেলার আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এ প্যানেলটি ২৮টি কেন্পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয়লাভ করেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

সাবিকুন নাহার তামান্নার বাবাকে মেয়ের জয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাস শহীদ আব্দুল মালেক, শহীদ নিজামী, শহীদ অধ্যাপক গোলাম আজম এর বিজরিত পদধূলি, এবং ২৪শে জুলাইয়ে বিল্পবের গণআন্দোলন সিপাহিদের আত্ম ত্যাগের ক্যাম্পাস, আমি সকল শহীদে আত্মা মাগফিরাত কামনা করছি, সকল শিক্ষার্থীদের কাছে আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী কুমিল্লা (০৪) এর মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহিদকে সাবিকুন নাহার তামান্না বিজয়ী বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবিকুন নাহার তামান্না আমাদের দেবিদ্বারের গর্ব পাশ্চাচ্য খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাহী সদস্য পদে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটে নির্বাচিত হয়ে সে আমাদের দেবিদ্বারকে সম্মানিত করেছে আমরা এই প্রিয় মেধাবী নেত্রীর প্রতি শুভ কামনা রহিল, আগামী দিনে বৃহত্তর অঙ্গনে সে তার মেধা প্রতিভা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করবে এবং নারী জাগরণের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। আমি তার পরিবারের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।

এইদিকে’ সাবিকুন নাহার তামান্নার এ অর্জনে দেবিদ্বারসহ কুমিল্লা জেলায় আনন্দের বন্যা বইছে।

প্রান্তিক মানুষের আস্থার নাম সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক

মোঃ রাছেল, কচুয়া (চাঁদপুর):

চাঁদপুরের কচুয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম সরাইলকান্দি। চারদিকে সবুজ মাঠ, খোলা প্রকৃতি—সেই মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি ভবন, যার নাম সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক। গ্রামের মানুষদের কাছে এটাই ভরসার জায়গা, সান্ত্বনার আশ্রয়। কারণ, এখান থেকেই মিলছে তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সঠিক পরামর্শ আর নতুন করে বাঁচার আশা। প্রতিদিন সকাল ৯টা বাজতেই দরজায় কড়া নাড়ে কোনো না কোনো রোগী। গর্ভবতী মায়েরা আসেন ওজন মাপতে, রক্তচাপ কিংবা ব্লাড সুগার পরীক্ষা করতে। শুধু তাই নয়, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর যত্ন নিয়ে এখানে দেওয়া হয় পরামর্শ। “আমরা এখানে এলে শুধু ওষুধ পাই না, পাই ভরসাও। স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাদের মা–বোনের মতো যত্ন নিয়ে কথা শোনেন”—বলছিলেন এক গর্ভবতী মা।

প্রতি মাসে একবার ক্লিনিক প্রাঙ্গণে বসে কিশোর-কিশোরীদের সেমিনার। বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর কিশোরীদের শারীরিক পরিবর্তিত সময়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যা সমন্ধে পরামর্শ প্রদান করা হয়। এই আয়োজন তাদের কাছে যেন বন্ধুর মতো পরামর্শদাতা। এ ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বাধন বসু। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চাকরি স্থানান্তরজনিত জটিলতায় বেতন পাচ্ছেন না, তবুও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। “মানুষ আমার কাছে আসে, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। যতটুকু পারি সাহায্য করি”—বলছিলেন তিনি শান্ত হাসি মুখে।

রোগীরা বলেন, “উনি আমাদের ভরসা। বিনা পয়সায়, আন্তরিকভাবে সেবা দেন এমন মানুষ খুব কমই আছে।” সেবার পাশাপাশি রয়েছে সীমাবদ্ধতাও। ক্লিনিক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, যে কারণে ভবনটি এখন কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। তবুও সীমিত সম্পদ নিয়েই এখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা চলছে, চলছে সেবা কার্যক্রম। সরাইলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক আজ প্রান্তিক মানুষের আস্থার নাম। এখানে হয়তো বড় কোনো চিকিৎসা হয় না, হয়তো সীমাবদ্ধতা অনেক, কিন্তু বিনামূল্যে পরামর্শ, ঔষধ বিতরণ আর সচেতনতার আলো ছড়িয়ে মানুষকে সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে দিচ্ছে এই ছোট্ট ক্লিনিক।

মুরাদনগরে ইভটিজিং কে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে হামলা, দুই শিক্ষকসহ আহত ১৫

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ইভটিজিং এর অভিযোগে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। হামলায় বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকসহ আহত হয়েছে প্রায় ১৫ জন। এ ঘটনায় বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাকিব হাসান খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে আনেন।

বুধবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আনা হয় একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বাকি বিল্লাহর বিরুদ্ধে।

ইভটিজিংয়ের অভিযোগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয় থেকে নবম শ্রেণীর ছাত্র বাকি বিল্লাহ কে তুলে নিতে আসে ওই ছাত্রীর বড় ভাই ইমন সহ ৫ জন বহিরাগত।

এ সময় বাকি বিল্লাহ কে না পেয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া তার দুই বন্ধু শাহজালাল ও আরমান কে তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ের গেইটের বাইরে মারধর করতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বাধা দিলে তার ওপরেও হামলা চালায় বহিরাগতরা। বিষয়টি বিদ্যালয়ে জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ও গণিত বিভাগের শিক্ষক জহিরুল ইসলামসহ দুই পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বহিরাগতদের কে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য শাহজাহান খান বাবুল বলেন, যদি কোন ছাত্রীকে কেউ ইভটিজিং করে থাকে। তাহলে সেটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিল। এইভাবে বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদেরকে টানা-হেঁচড়া করে বাহিরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা এটা মোটেও কাম্য নয়। এটার সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ইভটিজিংয়ের অভিযোগের বিষয়টি বিদ্যালয়ের কারোই জানা নেই। বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী যদি ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে আগে জানানোর দরকার ছিল।
কিন্তু তারা সেটা না করে মঙ্গলবার বিকেলেও এই বহিরাগত ছেলেগুলো নবম শ্রেণীর ছাত্র বাকি বিল্লাহ কে তুলে নিতে বিদ্যালয়ে এসেছিল। তখন তাদেরকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। তারা সেটি না করে বুধবার সকালে এসে দুইজন শিক্ষার্থীকে টানা-হেঁচড়া করে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে মারধর করে। আমি প্রতিবাদ করাতে তারা আমাকেও ধাক্কা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগতদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাদেরকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ও এসিল্যান্ড স্যার এসে তাদেরকে মুরাদনগর থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাহিদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ে যে বহিরাগত ৫ জন গিয়েছিল। তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কিছু শিক্ষার্থীদেরকেও ডাকা হয়েছে। তারা আসার পরে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবদুর রহমান জানান, আমাকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে আমি সেখানে এসিল্যান্ডকে পাঠাই আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টা দেখার জন্য। যেহেতু এটা মোবাইল কোর্টের আওতায় আসেনা, সেজন্য মুরাদনগর থানার ওসিকে বিষয়টা দেখার জন্য বলা হয়েছে।

‎ব্রাহ্মণপাড়ায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) কমিটি গঠন

‎মো. বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া:

‎নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নব-নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। (৯ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) কুমিল্লা জেলার সভাপতি মীর মাহদী আল মানছুর ও সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত এর যৌথ স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি অনুমোদন দেন।

এতে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ষাইটশালা দরবার শরীফের পীরজাদা এস.এম মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি, মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিনকে সাধারন সম্পাদক ও ওমর সানিকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

এই নব-নির্বাচিত কমিটি আগামী ১ বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় জেলা কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি এস.এম মোস্তাফিজুর রহমান।

লালমাইয়ে রেললাইনের পাশে মিলল যুবকের মরদেহ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা লালমাই উপজেলার পেরুল এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ।

লাকসাম রেলওয়ে থানা’র অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জসিম উদ্দিন জানায়, বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টায় এলাকাবাসীর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পেরুল উত্তর পাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনটির পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাতনামা যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ হবে।

নিহত অজ্ঞাতনামা যুবকের মাথার ডান পাশে রক্তাক্ত জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে বলে জানিয়েছে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ।

লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আরো জানায়, আমরা মৃত অজ্ঞাতনামা যুবকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য যুবকের লাশটি প্রেরণ করা হবে। অজ্ঞাতনামা যুবকের পরিচয় সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

তবে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুমাইয়া হত্যাকাণ্ডে মৌন মিছিলে বিভাগের ১২ শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ১ জন

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথি ও তার মা তাহমিনা আক্তার ফাতেমা হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করে মৌন মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্রধান ফটক ঘুরে কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন পাহাড়তলী সড়ক হয়ে আবার গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে অংশগ্রহণ করেন লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুন ফেরদৌস।

সুমাইয়ার সহপাঠী নূর মোহাম্মদ সোহান বলেন, “গতকাল রাতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা এই প্রতীকী আন্দোলন করবো। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লোক প্রশাসন পরিবারের এসেছেন নিজেদের ইচ্ছায়। বিভাগের শিক্ষকদের দাওয়াত দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি, যাদের ভিতর মানবিকতা আছে তারা স্বেচ্ছায় দাঁড়াবে। আমরা মনে করি তাদের মধ্যে নৈতিকতার কমতি আছে, এমনকি তারা জানাজায় ও উপস্থিত হয়নি।”

তার আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, “পুলিশ যেন তদন্তটা তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করেন। তারা তদন্তের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় দেয়নি। এখানে অনেক কিছু আমাদের অজানা রয়ে গেছে। তার যেন এটা আদালতে পাঠায়, বিচারের মাধ্যমে যেন আমরা সবকিছু জানতে পারি। ওরা যদি মন থেকে চায় প্রমাণ করা দ্রুত সম্ভব। পুলিশ চাইলে দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারে।”

চাঁদপুরে ১৯ সাংবাদিক পেল সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলার ১৯ জন সাংবাদিকের মাঝে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে দেশের ৬৪ জেলার ৩২০জন সাংবাদিককে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হচ্ছে। প্রতি ৩ মাস পরপর এই অনুদান দেয়া হয়। চাঁদপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য আছে। অধিকাংশরাই পেশাদার সাংবাদিক। যাচাই-বাছাইতে স্বচ্ছতা থাকায় ১৯ টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, আমার কাছে দল-মত কোন কিছুই নেই, যিনি একজন প্রকৃত সাংবাদিক এবং অসুস্থ তাকে অনুদান থেকে কোনভাবেই বঞ্চিত করছি না। কারণ এই অর্থ রাষ্ট্রের। এর আগে একটি দলের সাংবাদিককে সব সময় বঞ্চিত করা হয়েছে।

এই সাংবাদিক নেতা বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করছি বঞ্চিত ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে থাকার জন্য। তারপরও কেউ কেউ আমাদের বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি সারাদেশে সাংবাদিকদের নানা সমস্যা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সহায়তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, যারা সিনিয়র এবং বয়স্ক সাংবাদিক তাদের জন্য মাসিক ভাতা ব্যবস্থা করার জন্যই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসিন উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, চাঁদপুর পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য শাহীন হাসনাত, জেলা তথ্য অফিসার তপন ব্যাপারী ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা।

আরো বক্তব্য দেন সাংবাদিক জালাল চৌধুরী, মুনীর চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, সোহেল রুশদী, আলম পলাশ, লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, মো. শওকত আলী, আবদুল আউয়াল রুবেল, চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম, কেএম সালাহউদ্দিন।অনুদানের চেক পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন, সাংবাদিক মির্জা জাকির, আল ইমরান শোভন, হাসান মাহমুদ, জিসান আহমেদ নান্নু, এমরান হোসেন রাজন ও মিজানুর রহমান লিটন।

অনুদান প্রাপ্ত অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকরা সাংবাদিক কল্যাণ রাষ্ট্রের এই আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামীতে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতা এবং জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।