All posts by jitu

ডাকসু নির্বাচন: ২৮ পদের ২৩টিতেই ছাত্রশিবিরের জয়

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি-জিএস, এজিএসসহ ২৮টি পদে ২৩টিতেই বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার পর ঢাবির সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিক ফলাফলে তাদের নাম ঘোষণা করেন ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

ভিপি পদে ছাত্রশিবির প্যানেলের মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়েছেন।

১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন এসএম ফরহাদ। তিনিও ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে লড়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। এছাড়া প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসু ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

এজিএস পদেও বিজয়ী হন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুহা. মহিউদ্দীন খান। তিনি ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়েছেন। ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট।

এছাড়া আরও ২০ পদে বিজয় লাভ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৩১ ভোট। ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়ী হন ইকবাল হায়দার। আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে খান জসিম পেয়েছেন ৯ হাজার ৭০৬ ভোট।

ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক হিসেবে লড়ে আসিফ আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬১ ভোট। ৭ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন আরমান হোসাইন। কমন রুম, রিডিং রুম ও কাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে উম্মে ছালমা পেয়েছেন ৯ হাজার ৯২০ ভোট। ১১ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক হন সাখাওয়াত জাকারিয়া। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে এমএম আল মিনহাজ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮ ভোট। এছাড়া ৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক বিজয় ছিনিয়ে আনেন মাজহারুল ইসলাম।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে সদস্য হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন সাবিকুন্নাহার তামান্না (১০ হাজার ৪৮ ভোট), সর্বমিত্র (৮ হাজার ৯৮৮ ভোট), আনাস ইবনে মুনির (৫ হাজার ১৫ ভোট), ইমরান হোসেন (৬ হাজার ২৫৬), তাজিনুর রহমান (৫ হাজার ৬৯০), মেফতাহুল হোসেন আল মারুফ (৫ হাজার ১৫), বেলাল হোসাইন অপু খান (৪ হাজার ৮৬৫), রাইসুল ইসলাম (৪ হাজার ৫৩৫), মো. শাহিনুর রহমান (৪ হাজার ৩৯০), মোছা. আফসানা আক্তার (৫ হাজার ৭৪৭) ও রায়হান উদ্দীন (৫ হাজার ৮২ ভোট)।

প্যানেলের বাইরে বাকি পাঁচ পদে জয়ী হয়েছেন অন্য প্রার্থীরা। তারা হলেন- সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবাইর বিন নেছারী। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বী। সদস্য পদে হেমা চাকমা ও উম্মু উসউয়াতুন রাফিয়া।

এর আগে, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীন বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ডাকসুর ৩৮তম নির্বাচন। এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হয়েছে ১৩টি পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৩৫ জন।

ডাকসুতে এবার মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ আর ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার ছিলেন।

কুমিল্লায় ছাত্রলীগ নেতা রাজন মজুমদার গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।

রাজন মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত রাজনৈতিক মন্তব্য ও পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের জুলাই মাসে বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা আন্দোলন চলাকালে তাঁর সক্রিয়তা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে রাজনের ভূমিকা নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঐ সময় তিনি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোঃ রাজন মজুমদারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলা বা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি থানা কর্তৃপক্ষ।

সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন,“আমরা পূর্বের কিছু মামলার ভিত্তিতে তাঁকে আটক করেছি। বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।”

গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

নেপালের পতদ্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী কে এই কেপি শর্মা অলি

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত বছরের জুলাইয়ে যখন চতুর্থবারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কেপি শর্মা অলি, তখন তার বয়স ৭৩। কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট–লেনিনিস্ট) বা সিপিএন–ইউএমএল-এর এই অভিজ্ঞ নেতা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের। ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত দেশ নেপালের জন্য তিনি তখন আশা জাগানো নেতৃত্ব ছিলেন।

কিশোর বয়স থেকেই অলির রাজনৈতিক পথচলা শুরু। রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে দীর্ঘ ১৪ বছর কারাভোগ করতে হয়। এই কারাবাসই তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জনমানসে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিপ্লবীর ভাবমূর্তি তৈরি করে।

১৯৫২ সালে পূর্ব নেপালে জন্ম নেওয়া অলির শৈশব ছিল দুর্দশাপূর্ণ। মাত্র চার বছর বয়সে গুটি বসন্তে তার মা মারা যান। ভয়াবহ বন্যায় বাস্তুচ্যুত হয়ে পরিবারকে অন্যত্র চলে যেতে হয়। শৈশবের এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা তাকে দাদাবাড়িতে বড় হতে বাধ্য করে।

অলি তরুণ বয়সে কমিউনিস্ট আদর্শে দীক্ষিত হন এবং সিপিএন–ইউএমএল-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক জোট গঠনে দক্ষতা দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন। রাজনীতির নানা পর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন, যা তাকে ধাপে ধাপে দেশের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছে দেয়।

অলি প্রথমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৫ সালে। সে সময় দেশটি ভারতের সীমান্ত অবরোধের মুখে পড়ে, যার ফলে কয়েক মাস ধরে জ্বালানি ও ওষুধের ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। সেই কঠিন সময়ে অলি নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশকে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, অলি তুলনামূলকভাবে চীনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম মেয়াদেই তিনি ভারতের প্রতি কঠোর অবস্থান নেন। জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিয়ে তিনি নেপালের মানচিত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন বিতর্কিত ভূখণ্ড যুক্ত করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

জেন-জির ব্যাপক আন্দোলনের মুখে এবার পদত্যাগ করে দুবাই চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এই প্রবীণ নেতা।

ব্রাহ্মণপাড়ায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফোরসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

মোঃ সাইফুল ইসলাম ভুইয়া:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফোরসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে৷

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার সাহেবাবাদ ডিগ্রী কলেজ মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়৷

উপজেলা বিএনপির সদস্য হাজী আমানত খান এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাজী আমির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজাহান সাজু, সাহেবাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফরিদ উদ্দিন ডিলার, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোঃ মোস্তফা জামান, সমাজ সেবক মোঃ আলী আজ্জম মেম্বার৷ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ সাহেবাবাদ ইউনিয়ন এর আয়োজনে টুর্নামেন্টে সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্মআহবায়ক মোঃ সাইদুল ইসলাম হোসেন৷ টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মোঃ রহমত উল্লাহ, মোঃ মোহন মিয়া, মোঃ ইকরামুল খান৷

টুর্নামেন্টে সার্বিক সহযোগিতায় আছেন কুমিল্লা জেলা সৌদি আরব বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী কাইয়ুম খান৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন একমাত্র খেলাধুলাই পারে যুবসমাজ কে মাদক থেকে দুরে রাখতে৷ মাদকের থাবা থেকে দেশ তথা সমাজকে বাচাতে চাইলে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই৷ আজকের যুবসমাজ আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে৷ তাই অবশ্যই প্রতিটি যুবক কে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে৷ তার জন্য দেশের প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে৷ উদ্বোধনী খেলায় অংশ নেয় সাহেবাবাদ আর্দশ পূর্বপাড়া ফুটবল একাদশ বনাম কসবা ইউনাইটেড ফুটবল একাদশ৷

চাঁদপুরে শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী পেল বাইসাইকেল

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষিত নারীই পারেন সমাজের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। তারা যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হবেন তখন আশেপাশের মানুষগুলো অন্তত নড়েচড়ে বসবে। কোনও কিছু চাপিয়ে দিতে তারা ভাববে। এখন সময় এসেছে নারীদের নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার। জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করা এবং ঝরে পড়া রোধে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারবে এবং পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী হবে।

ডিসি আরও বলেন বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকার বিভিন্ন প্রোগ্রাম, প্রকল্প ও কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাল্যবিয়ে কমে আসবে। সরকার বাল্যবিয়ের বিষয়ে সচেতন হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরাও এ বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তারা বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে। বাল্যবিয়ে রোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে সচেতনা ও শিক্ষা। কেননা যখন সবাই সচেতন হবে তখন বাল্যবিয়ে রোধে সবাই ভূমিকা রাখতে পারবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকতের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রাহাত আমিন পাটোয়ারী, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাহার মিয়া, বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হোসেন, চান্দ্রা বাজার নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এটিএম এম মোস্তফা।

৫২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ১১৫টি বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। বাইসাইকেল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের ঝলক ফুটে ওঠে। তারা জানান, দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে যেতে তাদের কষ্ট হতো। এখন সাইকেল পেয়ে সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচবে। অভিভাবকেরাও সরকারের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মুরাদনগরে মাছ ধরার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল পুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ করেন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুর রহমান।

পরে জব্দকৃত জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মুরাদনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুমন লাল দেবনাথসহ অন্যান্য কর্মচারীরা।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবদুর রহমান বলেন, দেশিয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় এবং জনস্বার্থে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুরাদনগরে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধর, ২ যুবক গ্রেপ্তার

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধরের ঘটনায় দুই যুবক কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টারদিকে উপজেলা সদরের মুরাদনগর বাজার থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, উপজেলা সদরের মুরাদনগর মধ্যপাড়া গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে সাজিদ খাঁন (২৩) ও কাউছার মাহির এর ছেলে সিহাব আহাম্মেদ মাহি (২২)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুর গ্রামের মোঃ বাদশা মিয়া তার চাচাতো ভাই বাবু মিয়া ও চাচাতো বোন ফাহিমা আক্তার মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়।

ঘোরাফেরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে মুরাদনগর উপজেলা সদরের দিলালপুর এলাকায় আসলে বাদশা মিয়ার মোটরসাইকেলের পথরোধ করে সাজিদ খাঁন ও সিহাব আহাম্মেদ মাহি সহ কয়েকজন যুবক।

পরে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে বাদশা মিয়া ও তার চাচাতো ভাই বাবু মিয়াকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত যুবকরা পালিয়ে যায়।

অভিযোগে ভুক্তভোগী বাদশা মিয়া আরো দাবি করেন, তাদের সাথে থাকা ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে গেছে অভিযুক্ত সাজিদ খাঁন ও সিহাব আহাম্মেদ মাহি সহ কয়েকজন যুবক।

এই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে মোঃ বাদশা মিয়া বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মারামারির ঘটনায় তাদের দুইজন কে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সুমাইয়া ও তার মাকে হত্যার মূলহোতা মোবারক গ্রেফতার

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও তার মা হত্যার ঘটনার মূলহোতা মোবারক হোসেনকে নগরীর দুর্গাপুর এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ ছিলেন। গতকাল সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়া সেই কবিরাজই তিনি।

গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে অন্যাত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত পানি পড়া, বোতল, জামা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও চুরি হওয়া ৪টি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, মোবারকের আগে থেকেই এই পরিবারে যাতায়াত ছিল। যে কারণে সে এই সুযোগটা নিয়েছে। তবে সে কেন হত্যা করেছে এটা আমরা এখনো জানতে পারিনি। তিনি এই পরিবারে পানি পড়া আর ঝাড়ফুঁক করতেন। হত্যার আগে তিনি প্রায় তিন ঘন্টা ধরে তাদেরকে পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁক করে অজ্ঞান করা হয়। এরপর তার মাকে শ্বাসরোধ করে এবং সুমাইয়াকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে গতকাল দুপুর ২.৩০ টায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এখানে পরিবারের কেউ যুক্ত আছে কিনা সেটা আমরা এখনো জানতে পারিনি। আমরা সব উদ্ধার করার চেষ্টা করতেছি। বিকালের মধ্যে আপনাদেরকে আমরা প্রেস রিলিজ দিয়ে দিব।

সংবাদ সম্মেলন পেছানোয় শিক্ষার্থীদের কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তাঁর মা তাহমিনা আক্তার ফাতেমাকে হত্যার ঘটনায় দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে দুপুর ২টায় নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তাঁদের মুখে শোনা যায়— “প্রশাসন না মুলা? মুলা, মুলা” আমার বোন কবরে, খুনি কেনো বাহিরে”, “ধিক্কার ধিক্কার, প্রশাসন ধিক্কার”, “প্রশাসন কি করে, আমার বোন কবরে” ইত্যাদি শ্লোগান।

এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি, দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। সংবাদ সম্মেলন বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে। আমরা চাই, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনকে একাধিকবার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।

কুবি শিক্ষার্থী ও মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই কবিরাজ আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিন বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে, তদন্তে স্বার্থে নামপরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম। আটক হওয়া দুইজনই পেশায় কবিরাজ। একজনের নাম আব্দুর রব (৭৩)। বাড়ি নাঙ্গলকোট। সোমবার র‍্যাব এই তথ্য জানিয়েছিল।

ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, ‘এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। তবে, তদন্তে স্বার্থে আর কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত বলা হবে।’

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরীতে নিজ বাসা থেকে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।