All posts by jitu

মেঘনায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাদক মামলার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বকশিকান্দা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামির নাম মো. সোহাগ খান। তিনি ওই গ্রামের শাহাব উদ্দিন খানের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের একটি মাদক মামলায় আদালত সোহাগ খানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেঘনা থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চাঁদপুরে ৩ কেজি ওজনের এক ইলিশ বিক্রি হলো ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে প্রায় তিন কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়। মৌসুমের শুরুতেই এত দামে একটি ইলিশ বিক্রি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ সীমিত এবং ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে মাছটি বিক্রির জন্য চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ বাজারে আনা হয়। পরে রাজধানীর ঢাকার অনিক নামে এক ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেন।

চাঁদপুর বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের শান্তি আড়তের সম্রাট বেপারী জানান, মাছটির ওজন ছিল ২ কেজি ৯৯০ গ্রাম। প্রতি মণের দাম উঠেছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬২৫ টাকা। বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাওয়া গেছে।

বাজার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেলে সুজনের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে বেশি দামের আশায় সেটি চাঁদপুরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে আনা হয়। প্রত্যাশামতো বাজারে আসার পরই উচ্চমূল্যে বিক্রি হয় মাছটি।

আড়ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ইলিশের মূল মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে দক্ষিণাঞ্চলের সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে ইতোমধ্যে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়ায় বাজারে এর মূল্য বেশি।

শান্তি আড়তের সম্রাট বেপারী আরও জানান, মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন দামে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এখন বড় ইলিশ খুব কম আসছে, তাই দাম বেশি।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানায়, বর্ষা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার পরিস্থিতিও বদলাবে। তবে বর্তমানে সীমিত সরবরাহ এবং ক্রেতাদের উচ্চ চাহিদার কারণে বড় আকারের ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

বরুড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পথচারী ও শ্রমজীবীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কুমিল্লার বরুড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় বরুড়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক *মুক্তির লড়াই* পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. কামরুজ্জামান জনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন মিয়া, দপ্তর সম্পাদক রোটা. ওমর ফারুক, প্রচার সম্পাদক মো. শরিফ উদ্দিনসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার আহ্বান জানান।

বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান জনি বলেন, “সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই এই কর্মসূচি একদিনের নয়, পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হবে।”

উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বান ও নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরুড়া প্রেসক্লাব এ গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এইচএসসি পরীক্ষার ২য় দিনে কুমিল্লা বোর্ডে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ডেস্ক রিপোর্ট:

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা প্রথমদিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আজ শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারা দেশে অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ হাজার ৩২৭ জন।

এদিন অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে প্রথমদিনের পরীক্ষায় বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল সাতজন। সে হিসাবে দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানায়।

এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্র, মাদরাসায় সাধারণ বিভাগে আরবি প্রথমপত্র এবং বিজ্ঞান ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগে আরবি সাহিত্য ও কারিগরিতে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে রাজশাহী বোর্ডে একজন, কুমিল্লা বোর্ডে দুজন, বরিশাল বোর্ডে দুজন, দিনাজপুর বোর্ডে একজন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন বহিষ্কার হয়েছেন। ঢাকা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন। তাদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৯ জন।

মাদরাসা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় মোট ৮৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ২০২ জন। এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৮৩ হাজার ২৬৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৮৬ জন। সেখানে বহিষ্কার হয়েছেন তিনজন পরীক্ষার্থী।

লাকসামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি মানবিক সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে ত্রাণের চাল ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় লাকসাম উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা-৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম। সভাপতিত্ব করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল আমিন, লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী কামরুন্নাহার লাইলী, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বাদল, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুক, পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মানু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুশু, পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আবুল হোসেন মিলন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান মানিক।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সরকারি বরাদ্দের চাল ও নগদ অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অতিথিরা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ ৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের ৯ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মধ্যবয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকায় একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার (৪ জুলাই) সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৮ মিনিটের দিকে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মাঝবয়সি নারীর কাছে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরেই পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত হিসেবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকার দুলা মিয়ার ছেলে খোকনকে (৫০) শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ‘ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনার আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

লাকসামে চুরির টাকা উদ্ধার, মালিকের পরিবারকে বুঝিয়ে দিল পুলিশ

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে চুরির অভিযোগের তদন্তে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উদ্ধারকৃত অর্থ প্রকৃত মালিকের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে লাকসাম থানা পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) লাকসাম থানায় এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নরপাটি তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবু তাহের তার বসতঘর থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি চুরির অভিযোগে তার জামাতা মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাইফুদ্দিন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিভিন্ন অনুসন্ধানের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উদ্ধারকৃত অর্থ প্রকৃত মালিক মো. আবু তাহেরের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, চুরির ঘটনায় উদ্ধার না হওয়া স্বর্ণের আংটির বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও সফল তদন্তের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে অর্থ উদ্ধার এবং পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য লাকসাম থানা পুলিশ, বিশেষ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিলাসবহুল ভাসমান বাড়ি ‘মুন অব টাঙ্গুয়া’

ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের জন্য যাত্রা শুরু করেছে নতুন প্রিমিয়াম হাউসবোট ‘মুন অব টাঙ্গুয়া’। রুপসী বাংলা ট্যুরিজমের উদ্যোগে নির্মিত এ হাউসবোটটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নান্দনিক নকশা ও প্রকৃতিবান্ধব পরিবেশের সমন্বয়ে তৈরি।

হাউসবোটটির অন্যতম পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন ফারুক বলেন, এটি শুধু একটি বোট নয়, বরং পানির ওপর নির্মিত একটি পূর্ণাঙ্গ ভাসমান বাড়ি। কাঠের তৈরি বোটটিতে রয়েছে সাতটি প্রশস্ত কেবিন, প্রতিটি কেবিনে সংযুক্ত আধুনিক ওয়াশরুম, আরামদায়ক আসবাব, ডোর-লক সুবিধা, প্রশস্ত বেড, ড্রেসিং টেবিল, লকার, চার্জিং পয়েন্ট, ফ্যান ও প্রয়োজনীয় টয়লেট্রিজ।

অতিথিদের জন্য রয়েছে বড় একটি লবি, ওপেন লাউঞ্জ, রুফটপ ডাইনিং, ছাদবাগান, বারবিকিউ জোন, জুস বার এবং সুন্দরভাবে সাজানো দোলনা ও ফটোগ্রাফির জন্য খোলামেলা জায়গা। পুরো বোটজুড়ে কাঠের ব্যবহার গরম কমাতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বিনোদনের জন্য কেরাম, দাবা, লুডু, ফুটবল, তাস খেলার ব্যবস্থা ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, ফার্স্ট এইড বক্স এবং অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। অতিথিদের সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকেন আটজন দক্ষ কর্মী।

দুই দিন এক রাতের ভ্রমণ

রুপসী বাংলা ট্যুরিজম সুনামগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত দুই দিন এক রাতের প্যাকেজ পরিচালনা করে। প্রথম দিন সকাল ৭টায় চেক-ইন এবং দ্বিতীয় দিন রাত ৯টায় চেক-আউট।

ভ্রমণের সময় পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওর, ওয়াচ টাওয়ার, নীলাদ্রি লেক, লাকমা ছড়া, বারেক টিলা, শিমুল বাগান ও যাদুকাটা নদী ঘুরিয়ে দেখানো হয়। পুরো সফরে অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ও দক্ষ বাবুর্চি সঙ্গে থাকেন।

পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে আনোয়ারপুর বা তাহিরপুর থেকে যাত্রা শুরু ও শেষ করা হবে। এ ক্ষেত্রে শহর থেকে যাতায়াতের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করবে বোট কর্তৃপক্ষ। আবার পানি স্বল্পতা বা প্রশাসনিক কারণে কোনো স্পটে বোটে যাওয়া সম্ভব না হলে বাইক বা অটোরিকশায় ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে এবং এর ভাড়াও বহন করবে কর্তৃপক্ষ।

প্যাকেজ মূল্য

দুই দিন এক রাতের ফুল বোট রিজার্ভ প্যাকেজের মূল্য-

* ১৪-১৮ জন: জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা
* ১৯-২৪ জন: জনপ্রতি ৯,০০০ টাকা
* ২৫ জন বা তার বেশি: জনপ্রতি ৭,৫০০ টাকা

এছাড়া দুইজন থেকেও বুকিং করা যাবে। সেক্ষেত্রে জনপ্রতি খরচ ১০,০০০ টাকা। বুকিং নিশ্চিত করতে মোট প্যাকেজ মূল্যের ৫০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে, যা ব্যাংক, বিকাশ বা সরাসরি অফিসে দেওয়া যাবে।

শিশুদের জন্য বিশেষ ছাড়

তিন বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তিন থেকে সাত বছর বয়সী শিশুদের জন্য জনপ্রতি ৪,৫০০ টাকা (অভিভাবকের সঙ্গে একই কক্ষে অবস্থান সাপেক্ষে)। সাত বছরের বেশি বয়সীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ মূল্য প্রযোজ্য।

প্যাকেজে যা থাকছে

প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি প্রিমিয়াম হাউসবোটে থাকা, সাতটি প্রশস্ত কেবিন, ওপেন লাউঞ্জ, রুফটপ ডাইনিং, ছাদবাগান, বারবিকিউ জোন, জুস বার, দিনে ১৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সুবিধা, অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড, সার্বক্ষণিক রুম সার্ভিস, চা-কফি, স্ন্যাক্স, কোমল পানীয়, ট্র্যাডিশনাল ফ্রেশ খাবার এবং নির্ধারিত দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ।

দুই দিন এক রাতের সফরে ছয় বেলার প্রধান খাবার, চার বেলার নাস্তা এবং সার্বক্ষণিক চা, কফি ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পর্যটকদের জন্য নির্দেশনা

বোটে ওঠার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। ভ্রমণের সময় স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মাদকদ্রব্য বহন বা সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রিপ থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবহাওয়া বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রয়োজন হলে ট্রিপ স্থগিত বা বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে বোট কর্তৃপক্ষ।

বুকিং ও যোগাযোগ: ০১৯৭৫-০৮৬২৯৫ (মো. মাঈন উদ্দিন ফারুক)

নিজ হাতে পবিত্র কোরআন লিখে নজির গড়লেন কুমিল্লার সুরাইয়া

ডেস্ক রিপোর্ট:

পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে দীর্ঘ আট মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআনুল কারিম হাতে লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার সুরাইয়া জান্নাত। তার এই ব্যতিক্রমী অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সম্প্রতি লাকসাম উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে সুরাইয়া জান্নাতের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

সুরাইয়া জান্নাত উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, মহান আল্লাহর বাণী নিজের হাতের লেখায় সংরক্ষণ করার প্রবল আগ্রহ থেকেই তিনি এই উদ্যোগ নেন। এরপর টানা আট মাস প্রতিদিন ধৈর্য, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরা ও আয়াত সুন্দর হস্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ করেন। তার এই অসাধারণ প্রচেষ্টা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস সুলতানা। তিনি সুরাইয়া জান্নাতের এই সৃজনশীল ও ধর্মীয় উদ্যোগের প্রশংসা করে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সহপাঠীরা।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সুরাইয়া জান্নাত বলেন, পবিত্র কোরআন হাতে লিখে শেষ করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এ কাজে পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক উৎসাহ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ও সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।