All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামে পুলিশের অভিযানে ৩৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৬কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করেছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো; ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার মেসিডেঙ্গী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে রমজান আলী (৩৭), নওগাঁ জেলার পত্নিতলা থানার পাটিছড়া গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেন (৪৩) ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কালীকৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত আলী নেওয়াজের ছেলে মোঃ শাহআলম (৪৫)।

বুধবার (১ই আগষ্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই তারেক আকাশ।

জানা যায়, বুধবার ভোররাত আনুমানিক ০৩.৩০ ঘটিকার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বীরচন্দ্রনগর আলীম মাদ্রাসার সামনে সন্দেহভাজন একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে মো: রমজান আলী আটক করে তল্লাসি কারা হয়। এসময় কাভার্ডভ্যান থেকে ১৬ কেজি গাজা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া থানা পুলিশের পৃথক আরেকটি অভিযানে গত মঙ্গলবার রাত ৭.৩০ ঘটিকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমানগন্ডা বাবুলের হোটেলের সামনে একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। এসময় ২০কেজি গাঁজাসহ মোঃ আবু হোসেন ও মো: শাহ আলম কে আটক করে পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসাইন জানান, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে একাধিক অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

এ সময় পৃথক অভিযানে ৩৬ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করে এবং কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুইটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় নতুন এক উপজেলার অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট:

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। উপজেলা তিনটি হচ্ছে- চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনিসংহের ‘পাগলা’। একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন হয়। এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা প্রকল্পের অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি নতুন উপজেলা হচ্ছে—চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরাগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘পাগলা’ উপজেলা।
এ ছাড়াও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার এই বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

লাকসামে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের মৃত্যু, অপমৃত্যুর মামলা

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বেলতলা এলাকায় মইন উদ্দিন (৩৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লাকসাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহত মইন উদ্দিন বেলতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি আবুল হাসেম ও রানু বেগমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ও জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বিরোধ ও ঝামেলা চলমান ছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

বুধবার (০১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে তার ছেলে ঘরের ভেতরে মইন উদ্দিনকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে খবর দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে।

এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

আজ বুধবার (০১ জুলাই)  বিজিবি থেকে  এ তথ্য পাঠানো হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির টহলদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মঈনপুর, চন্ডিদার ও কসবা এলাকা এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদানদী ও মাদলা সীমান্ত এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে ভারতীয় বাসমতি চাল, শাড়ি, উন্নতমানের সাবান, পশু, চকলেট, মরিচের বীজ, নিউরোবিন ফোর্টি ট্যাবলেট, চিংড়ি মাছের রেণু এবং গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বিক্রয় মূল্য ১,৪১,৩৪,০০০/- (এক কোটি একচল্লিশ লাখ চৌত্রিশ হাজার) টাকা।

জব্দকৃত মালামালসমূহের বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উদ্ধারকৃত পণ্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর এবং মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য জব্দকৃত আলামতের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে ভারতীয় সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে নারীর মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী এলাকার আদর্শগ্রাম-সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে রোকেয়া বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সীমান্ত এলাকার স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকেয়া বেগম জগন্নাথদিঘির গুচ্চগ্রামের মৃত আলী আশরাফের স্ত্রী। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। রাতে সীমান্তবর্তী নো-ম্যান্স ল্যান্ডে তার  মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

রোকেয়া বেগমের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিজিবির জগন্নাথদিঘী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোরশেদ জানায়, খবর পেয়ে ১৪১৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে পড়ে থাকা নারীর মরদেহের বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাকে অবহিত করা হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কুমিল্লায় শৃঙ্খলা ফেরানোর অভিযান

নাসির উদ্দিন:

একটি শহরেরও ক্লান্তি থাকে। থাকে দীর্ঘশ্বাস, ক্ষোভ আর নীরব কান্না। বছরের পর বছর অবহেলা, দখল আর বিশৃঙ্খলার ভার বয়ে একসময় শহরও যেন হাঁপিয়ে ওঠে। কুমিল্লা ঠিক তেমনই এক শহর—ইতিহাসের গৌরব বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রতিদিনের জীবন যেন হারিয়ে গিয়েছিল অব্যবস্থা আর দুর্ভোগের গোলকধাঁধায়।

একসময় কান্দিরপাড়, চকবাজার, রানীরবাজার, রাজগঞ্জ, নজরুল এভিনিউ কিংবা রামঘাটলা, এসব নাম শুনলেই মনে ভেসে উঠত প্রাণচঞ্চল এক নগরের ছবি। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ছবির রং ফিকে হয়ে যায়। ফুটপাত আর পথচারীর থাকে না, সড়ক আর যানবাহনের থাকে না। ভ্যান, ফুডকার্ট, অস্থায়ী দোকান আর অবৈধ দখলের স্তরে স্তরে চাপা পড়ে যায় শহরের স্বাভাবিক ছন্দ।

মানুষ তখন হাঁটত না, যেন প্রতিদিন যুদ্ধ করত। স্কুলগামী শিশুর ছোট্ট হাত শক্ত করে ধরে মা রাস্তা পার হতেন আতঙ্কে। বৃদ্ধ মানুষ ফুটপাত না পেয়ে ব্যস্ত সড়কে জীবন হাতে নিয়ে এগোতেন। অফিসফেরত কর্মজীবী মানুষ যানজটের দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। শহরটি যেন প্রতিদিন তার নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইত, “আমি ভালো নেই, এজন্য তোমাদের ভালোবাসা হারিয়েছি।”

এই দৃশ্য কি কারও চোখে পড়েনি? নিশ্চয়ই পড়েছিল। কিন্তু অনেক সময় অন্যায়েরও শিকড় গজিয়ে যায়। ফুটপাতের দখল শুধু দখল ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অবৈধ স্বার্থ, চাঁদাবাজির অদৃশ্য অর্থনীতি আর দীর্ঘদিনের নীরব আপস। ফলে নগরবাসীর কষ্ট যেন ধীরে ধীরে সবার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল।

ঠিক তখনই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখালেন। যে সিদ্ধান্ত জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনে। শুরু হলো উচ্ছেদ অভিযান। মাত্র চার দিনের মধ্যেই পাঁচ শতাধিক অবৈধ ভ্যান, ফুডকার্ট ও ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন পরে মানুষ আবার ফুটপাতের অস্তিত্ব দেখতে পেল। যেন ধুলায় ঢাকা একটি জানালা হঠাৎ খুলে গিয়ে আলো ঢুকে পড়ল শহরের ভেতর।

তবে এই অভিযানের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক ছিল অন্য জায়গায়। শুধু উচ্ছেদ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়নি। সিটি মার্কেটের কয়েকটি তলায় দুই শতাধিক দোকান প্রস্তুত করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নামমাত্র সেলামি ও স্বল্প ভাড়ায় দোকান বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যে ভবন একসময় এই উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছিল, দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতায় যার দরজা কার্যত বন্ধ ছিল, সেই ভবনই আজ নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে।

কুমিল্লার বাস্তবতা কঠিন। এমনিতেই এই শহরে সড়কের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। একটি পরিকল্পিত নগরে মোট আয়তনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকা উচিত। অথচ কুমিল্লায় তা মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ। এত অল্প জায়গার ওপর যদি আবার ফুটপাতও দখল হয়ে যায়, তবে যানজট, বিশৃঙ্খলা আর দুর্ভোগ তো অবশ্যম্ভাবী। তাই ফুটপাত ফিরিয়ে দেওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের ছয় দফা ট্রাফিক অ্যাকশন প্ল্যান, অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, কালার-কোডেড রুট ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড, বাধ্যতামূলক পার্কিং, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ২০২১ সালের প্রায় ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, (যার ৭০ ভাগ, আগেই শেষ হয়ে গেছে) যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কুমিল্লা হয়তো আবার একটি সুশৃঙ্খল নগরের পরিচয় ফিরে পাবে।

তবু গল্প এখানেই শেষ নয়।
কারণ প্রতিটি ফুটপাতের দোকানের পেছনেও একটি পরিবার আছে। একটি শিশুর স্কুলব্যাগ আছে। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ আছে। মাস শেষে ঘরভাড়ার দুশ্চিন্তা আছে। যে মানুষটি বছরের পর বছর ফুটপাতে চা, ফল, সবজি কিংবা ছোটখাটো পণ্য বিক্রি করেছেন, তিনি হয়তো আইন ভেঙেছেন; কিন্তু অনেক সময় তা করেছেন অভাবের কাছে হার মেনে, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।

তাদের জীবিকার পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু একজন ব্যবসায়ী নয়, একটি পরিবার বিপন্ন হয়। আর বহু পরিবার যখন একসঙ্গে সংকটে পড়ে, তখন তার অভিঘাত সমাজের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। বেকারত্ব থেকে জন্ম নিতে পারে হতাশা, ঋণগ্রস্ততা, অপরাধপ্রবণতা। এমনিতেই কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই আর চাঁদাবাজি নিয়ে কুমিল্লার মানুষ উদ্বিগ্ন। তাই পুনর্বাসন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি ভবিষ্যতের সামাজিক স্থিতিশীলতারও পূর্বশর্ত।

এই কারণেই প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা, স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা, সহজ শর্তে দোকান বরাদ্দ দেওয়া, প্রয়োজন হলে নতুন এলাকায় হকার্স মার্কেট করে দেওয়া এবং ক্ষুদ্রঋণ ও ব্যবসায়িক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে সমাজে স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয় আর সুযোগসন্ধানী কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই উদ্যোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব রয়েছে নাগরিকদেরও। আমরা যদি আবার ফুটপাত দখল হতে দিই, যদি যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করি, যদি নিয়ম ভাঙাকেই স্বাভাবিক মনে করি, নিজেকে প্রভাবশালী মনে করি তাহলে কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগই স্থায়ী সাফল্য আনতে পারবে না। একটি শহর শুধু সরকারের নয়; তার প্রতিটি নাগরিকেরও।

কুমিল্লা শুধু একটি শহরের নাম নয়। এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্মৃতি আর সম্ভাবনার এক অনন্য ঠিকানা। এই শহর নতুন করে শ্বাস নিতে চায়। চায় এমন এক সকাল, যেখানে ফুটপাত থাকবে পথচারীর জন্য, সড়ক থাকবে যান চলাচলের জন্য, আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করবেন।

একটি সুন্দর শহর গড়ে ওঠে কেবল ইট-পাথর দিয়ে নয়; ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলা, মানবিকতা আর নাগরিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে। যদি সেই ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তবে কুমিল্লা শুধু দখলমুক্তই হবে না, আবারও হয়ে উঠবে মানুষের স্বপ্নের, স্বস্তির এবং গর্বের নগর।

সূত্র: ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়া হয়েছে।

নেট জাল অপসারণে বরুড়ায় ইউএনওর অভিযান

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল ও জলাশয়ে অবৈধভাবে স্থাপন করা নেট জাল অপসারণে অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশীয় মাছের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে খাল ও জলাশয়ে পেতে রাখা নেট জাল অপসারণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, খাল ও জলাশয়ে অবৈধভাবে নেট জাল স্থাপনের ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকালে বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল জলিল সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণপাড়ায় সাঁকো পার হওয়ার সময় খালে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় খালে পড়ে মো. সজিব (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস তার মরদেহ উদ্ধার করে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুরা পশ্চিমপাড়া শ্মশানখলা খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সজিব উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের পূর্ব উত্তরপাড়া এলাকার ওজাকাজীর বাড়ির বাসিন্দা মো. শরীফ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে একটি মামলা-সংক্রান্ত কাজে সজিবের বাবা শরীফ মিয়া কুমিল্লা আদালতে যান। একই সময়ে অসুস্থ হয়ে তার মা রোজিনা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন। এ অবস্থায় সজিবকে পাশের বেজুরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় তার ফুফুর বাড়িতে রেখে দাদী হাসপাতালে যান।

সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সজিব ফুফুর বাড়ি থেকে বের হয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে রাস্তায় যাওয়ার সময় পা পিছলে খালে পড়ে যায়। পরে দাদী হাসপাতালে থেকে ফিরে এসে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খালের পানিতে ভাসতে থাকা সজিবের একটি জুতা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খোঁজ শুরু করা হয়। স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে না পেরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

খবর পেয়ে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর সাঁকো থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে খালের পানির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুড়িচং ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা আতাউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পানির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত সরকারের

ডেস্ক রিপোর্ট:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন ৩টি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে গত রোববার জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।

সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।
অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

বাসস

কুমিল্লা নগরীতে টহলরত পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নগরীতে টহলরত অবস্থায় শরীফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাতে নগরীর থিরাপুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত শরীফুলকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

আহত শরীফুল ইসলাম কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত আছেন।

মঙ্গলবার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, সোমবার রাতে নগরীতে টহলরত ছিলেন এএসআই শরীফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স। নগরীর থিরাপুকুরপাড় এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার সময় একদল যুবক আতশবাজি ফাটিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে। এতে শরীফুল ইসলাম তাদের থামাতে গেলে ভিড়ের মাঝখান থেকে তাকে পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়।

ওসি আরো বলেন, ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এএসআই শরিফুল সুস্থ আছেন।