All posts by jitu

মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহবান গৌরীপুর প্রাইভেট মাদরাসা ঐক্য পরিষদের

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

মাদরাসা শিক্ষা ও মাদরাসা সম্পর্কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর প্রাইভেট মাদরাসা ঐক্য পরিষদ।

সোমবার(১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরীপুর বাজারের মদিনা মাদরাসা মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি এই আহবান জানান।

মাদরাসা প্রতিষ্টা ও শিক্ষার অবদান নিয়ে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা নাজির আহম্মেদ বলেন, মাদরাসা আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি অনেক মাদরাসায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য সাধারণ বিষয়ও পড়ানো হয়। তাই মাদরাসা শিক্ষা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো ধরনের ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য/প্রচার করা হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার বন্ধ, কোনো অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে উপস্থাপন এবং সাংবাদিকদের সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই পূর্বক সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা নজরুল ইসলাম ও মাওলানা নজির আহমেদ কাসেমী।

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকার, গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেন, কোনো একটি ঘটনার কারণে পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দোষারোপ না করে, যেখানে অনৈতিকতা বা অনিয়ম আছে সেখানে নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহিতা, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবী জানান।

দাউদকান্দিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন গ্রেপ্তার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দির গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন ভুইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(১২সেপ্টেম্বর) রাতে জুরানপুর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আজ রবিবার তাকে কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মুক্তার হোসেন ভুইয়া গোয়ালমারী ইউনিয়নের জুরানপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল(অবঃ) সুবিদ আলী ভুইয়ার ভাতিজা।

তিনি দুই মেয়াদে গোয়ালমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই রাতে মনির হোসেন নামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ । মনির হোসেন ঢাকার গাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ডাকাতি, পরোয়ানাভূক্ত ও ভ্রাম্মমান আদালতে সাজা দেয়া আরও ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি, জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মাদক সেবনের অপরাধে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করে। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, থানার এসআই মোহাম্মদ মাহতাব হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এফআইআর নং-২৪, দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬/১১৪ ধারার মামলার পলাতক আসামি মোঃ শফিউল প্রকাশ সফিউলকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার রামনগর এলাকার জজু মেম্বারের বাড়ির মোঃ মনির হোসেনের ছেলে।

অপর এক অভিযানে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩) ধারার মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিমকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের নাইঘর-নোয়াপাড়া এলাকার মোঃ জালাল হোসেনের ছেলে।

এছাড়া এএসআই মোঃ নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোসাঃ জরিনা খাতুনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়ধুশিয়া এলাকার মৃত. আকমত আলীর স্ত্রী।

অন্যদিকে এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, এএসআই ইমরান হোসেন, এএসআই মোঃ সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও এএসআই মোঃ নুর আল-আহসানের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে ৭ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ধান্যদৌল এলাকার মোঃ সুজন (৩৫), বরুড়ার চেংগাহাটা এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), দক্ষিণ বালুয়া এলাকার মোঃ শাহ জাহান (৫২), নশরতপুর এলাকার মোঃ ফয়সাল কবির (৪২), হায়দ্রাবাজ এলাকার মোঃ মহসিন খান প্রকাশ রাজু (২৯), ব্রাহ্মণপাড়ার সিদলাই এলাকার মোঃ সারোয়ার (৪২) এবং কল্পবাস এলাকার মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৫)।

পুলিশ জানায়, মাদক সেবনের অপরাধে আটক ৭ জনকে সামারি ট্রায়ালের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার অপর ৩ আসামিকেও আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে: চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে: চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “চাঁদপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পৌরসভার উদ্যোগে ও অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ শহরের ১৯টি স্থানে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম যাতে পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকসেবীদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ইউনিট চালু করার চিন্তা চলছে। কারাগারে থাকা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।” মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “সন্তানরা কখন ঘুম থেকে উঠছে, কখন ঘুমাতে যাচ্ছে এবং সারাদিন কী করছে— এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সংস্কৃতি চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে তরুণদের অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”

জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি, প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মাদক, বিদ্যুৎ, জননিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করার আহ্বান জানান। বাজার মনিটরিং ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধ ইটভাটা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটায় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। ইটভাটায় খালের মাটি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার এলাকায় নদীতে চলাচলকারী ট্রলার থেকে একটি কুচক্রী মহল চাঁদা আদায় করছে—এমন তথ্য প্রশাসনের কাছে এসেছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নদীপথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানি বরদাশত করা হবে না।” জেলা প্রশাসক জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। পুলিশ সুপার বলেন, “চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকসেবীদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি। কারাগারে থাকা মাদকসেবী বন্দিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। অটোরিকশা আটক করা হলে অনেকেই শুধু পৌরসভার লাইসেন্স দেখান। আমার মনে হয় না, চাঁদপুর পৌরসভা এত বিপুলসংখ্যক লাইসেন্স দিয়েছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়— এমন কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না।”

সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমাতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা প্রয়োজন। সিসিটিভি স্থাপন কার্যক্রমকে মডেল হিসেবে নিয়ে এর তদারকির দায়িত্ব জেলা পুলিশকে দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিট স্থাপন করা যেতে পারে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ডিবি পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।সোহেল রুশদী আরও বলেন, “চাঁদপুরে মাদক প্রবেশের প্রধান তিনটি পথ হলো সড়ক, রেল ও নৌপথ। এসব রুটে নিয়মিত অভিযান ও চেকিং জোরদার করা হলে মাদক প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।”

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমার পরিচালনায় সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।

ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে টাটেরা হাজী মাষ্টার রেহান উদ্দিন আখন্দ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা হাতে লাল কার্ড নিয়ে দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার শপথ নেন।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া মডেল একাডেমীর অধ্যক্ষ মোঃ খোরশেদ আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন টাটেরা হাজী মাষ্টার রেহান উদ্দিন আখন্দ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ আব্দুল মুবিন আখন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সুপার মাওঃ ফয়েজ আহাম্মদ ভূঁইয়া, সহশিক্ষক মোসাঃ শামিমা আক্তার, সহশিক্ষক মারুফা আক্তার, ক্রীড়া শিক্ষক সালেকা বেগম, সহশিক্ষক মাওঃ মোঃ আবুল হাশেম, সহশিক্ষক মাওঃ মোঃ মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, সহশিক্ষক মাওঃ মোঃ শাহিনুল ইসলাম, সহশিক্ষক আশিকুর রহমান, সহশিক্ষক মোঃ রুবেল প্রামানিক, ইবি: প্রধান মাওঃ মোঃ জাকারিয়া, ইবি: সহশিক্ষক গোলেনুর আক্তার, ক্বারী মাওঃ মোঃ আঃ হাই ভূঁইয়া, ইবি: সহশিক্ষক মোঃ সাদ্দাম হোসেন, অফিস সহকারী মোসাঃ জেসমিন আক্তার, ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান সোহেলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতি ও মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীরা দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির পাশের গর্তে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির পাশের গর্তে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির পাশের মাটিকাটা গর্তে পড়ে সাবা মণি (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চান্দলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাবা মণি ওই এলাকার জাকির মেম্বারের বাড়ির সোহাগ মিয়ার মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে সাবা মণির মা তার আরেক বাচ্চাকে ঘরে বসে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সাবা বাড়ির বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের মাটিকাটা গর্তের পানিতে শিশুটিকে ভাসতে দেখেন সজনরা। তারা দ্রুত গর্ত থেকে সাবাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন বলেন, পানিতে পড়া এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন স্বজনরা। শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতলে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের অভিযানে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের অভিযানে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ রহিম (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কামাল্লা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোঃ রহিম রাজনগর গ্রামের নানু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় মুরাদনগর থানার এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাজনগর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মার্কস অলরাউন্ডারে সেরা পাঁচে কুমিল্লার পরম্পরায়ের রাধিকা সাহা

মার্কস অলরাউন্ডারে সেরা পাঁচে কুমিল্লার পরম্পরায়ের রাধিকা সাহা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এর চূড়ান্ত বাছাইয়ে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন কুমিল্লার পরম্পরায়ের অনলাইন আবৃত্তি শিক্ষার্থী রাধিকা সাহা। এর ফলে প্রতিযোগিতার টেলিভিশন রাউন্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের কয়েক ধাপের প্রতিযোগিতা ও মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত পর্বের জন্য পাঁচজনকে নির্বাচিত করা হয়। এই তালিকায় জায়গা করে নিয়ে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন রাধিকা।

পরম্পরায়ের অনলাইন আবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত আবৃত্তিচর্চা করছেন রাধিকা সাহা। আবৃত্তির পাশাপাশি তাঁর উপস্থাপন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসও প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রাধিকার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পরম্পরায়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, টেলিভিশন রাউন্ডেও নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন তিনি।

পরম্পরায়ের সংশ্লিষ্টরা বলেন, নিয়মিত অনুশীলন, মেধা, উপস্থাপনা দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে রাধিকার এই সাফল্য এসেছে। টেলিভিশন রাউন্ডে তাঁর জন্য সবার শুভকামনা রয়েছে।

এ বিষয়ে রাধিকা সাহা বলেন, মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। এই অর্জনের পেছনে আমার পরিবার, শিক্ষক এবং পরম্পরায়ের সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে। আগামী টিভি রাউন্ডে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করব। সবার দোয়া ও শুভকামনা চাই।

কোটি টাকার ডেমু পড়ে আছে লাকসাম লোকোশেডে, মরিচায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ

লাকসাম প্রতিনিধি:

ট্রেন আছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম। আবার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ডেমু পড়ে আছে লোকোশেডে। কুমিল্লা অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে বন্ধ হয়েছে ১৮ জোড়া ট্রেন। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য চালু করা চার জোড়া ডেমু ট্রেনও রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেমুগুলোর একটি এখন লাকসাম জংশনের লোকোশেডে পড়ে থেকে ধ্বংস হচ্ছে। কোটি টাকা মূল্যের এই ট্রেনের শরীরজুড়ে মরিচা ধরেছে, নষ্ট হচ্ছে সিট, পাখা, ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। অথচ লাকসাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন হওয়ায় প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় লাকসামসহ কুমিল্লা অঞ্চলে যাত্রীচাপ ও ভোগান্তি বাড়ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে ২০ জোড়া এবং কুমিল্লা-ঢাকা ও কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৪ জোড়াসহ লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে একসময় মোট ৫৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করত। গত পাঁচ বছরে এর মধ্যে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া ট্রেনের মধ্যে চার জোড়া ডেমু।

বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে আন্তনগর ও লোকাল মিলিয়ে ৩৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, চলমান ট্রেনগুলোতে যাত্রী চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বাধ্য হয়ে সড়কপথে যাতায়াত করছেন।

লাকসাম লোকোশেডে পড়ে আছে কোটি টাকার ডেমু

২০১২ সালে চীন থেকে ২০ সেট ডেমু ট্রেন আমদানি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব ট্রেন আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ডেমু বিকল হয়ে পড়ে।

কুমিল্লা অঞ্চলে চলাচলের জন্য বরাদ্দ ছিল চার সেট ডেমু। বর্তমানে চারটিই অচল। এর মধ্যে একটি পড়ে আছে লাকসাম জংশনের লোকোশেডে। তিন কোচ ও দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট ট্রেনটির পুরো শরীরজুড়ে মরিচা। খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় ভাঙাচোরা সিট, পাখা ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ।
লাকসাম জংশনের লোকোশেড ইনচার্জের তথ্য অনুযায়ী, ডেমুটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অচল। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় ট্রেনটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।