All posts by jitu

কুমিল্লা নগরীতে নাগরিক অধিকার ফোরামের মাদকবিরোধী মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার:

‘মাদককে বর্জন করি, সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লাকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয়ে মানববন্ধন করেছে নাগরিক অধিকার ফোরাম, কুমিল্লা।

সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হল গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে মাদকের গডফাদার, অর্থের জোগানদাতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

কুমিল্লা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, মাদক আজ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়া বলেন, বিগত ১৭ বছরে রাজনীতির নামে বিরাজনীতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন এলাকায় গডফাদারভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের কারণে মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বজনীন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে শুধু মুখের জিরো টলারেন্স নয়, দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

এ সময় মানববন্ধনে নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সভাপতি ডা. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লার নায়েবে আমীর মোসলেহ উদ্দিন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম, কুমিল্লা ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুল আলম হেলাল, ব্রাহ্মণপাড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খলিল উদ্দিন আখন্দ, বাপা কুমিল্লার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর সাজ্জাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক ফারুক,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুমিল্লার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু, মানবাধিকার সংগঠক তরিকুল ইসলাম লিটন, মাদকবিরোধী জোট কুমিল্লার আহ্বায়ক মো. আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কুমিল্লার সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মমিন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি সিরাজুল হক প্রমুখ।

বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, ইথান আজ শয্যাশায়ী। এমন ঘটনা পুরো কুমিল্লাবাসীর জন্য লজ্জার। মাদককে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, অস্ত্রের ব্যবহার, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে মাদক এখন জাতীয় দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, এর নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অধিকাংশ সময় মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও প্রকৃত গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সরকার পরিবর্তন হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, কিন্তু মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকদের খুব কমই বিচারের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না। তারা মাদক চক্রের অর্থদাতা, আশ্রয়দাতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সমাজে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা এমনকি অনেক হত্যাকাণ্ডের পেছনেও মাদকের ভয়াবহ প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব চোর ও ছিনতাইকারী আটক হয়েছে, তাদের অনেকেই মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। তাই মাদক নির্মূল করা গেলে সমাজে অপরাধের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

এ সময় সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ মাদক প্রবেশ বন্ধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, মাদকের উৎস বন্ধ না করলে কেবল মাঠপর্যায়ের অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আন্তঃজেলা মাদক চক্র ভেঙে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

এসময়, মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে কলেজটির প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এবং প্রভাষক শরীফের নেতৃত্বে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সংহতি প্রকাশ করেন ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম ভূইয়াসহ আরো অনেকে।

কুমিল্লায় ২ পুলিশ কর্মকর্তার গাঁজা বিক্রির বিষয়ে ওসি যা বললেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কে একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গতকাল সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন এবং এএসআই হাফিজুর রহমান।

দাউদকান্দি থানার একাধিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান টোলপ্লাজার পুলিশ চেকপোস্ট ও ফায়ার সার্ভিসের সামনে গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছিল। ওই কাভার্ডভ্যানে ১৬০ কেজি গাঁজা ছিল বলে জানা যায়। সে সময় নাইট ডিউটিতে ছিলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সামনে অপেক্ষমাণ কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালান। এ সময় তিনটি গাইটভর্তি ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। কাভার্ডভ্যানটি চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর রাত ১২টার দিকে তিন মাদককারবারির কাছে ধাপে ধাপে গাঁজাগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাঁজা বিক্রির পর ৩০ হাজার টাকা নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি গাঁজা ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, সেদিন রাত ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে এসআই ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। সে সময় সিএনজি নিয়ে কয়েকজন মাদককারবারির আনাগোনা দেখা যায়।

তবে প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিষয়টি সমাধানের জন্য ওসির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

এসআই ইমাম উদ্দিন জানান, ওই সময় আমি নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এএসআই হাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।

দাউদকান্দি থানার ওসি এমএ বারী বলেন, এসআই ইমাম একটা ডাকাত। তার এই কাজটা ঠিক হয়নি। ১০০ কেজি দিয়ে মামলা করে বাকিটা এদিক-সেদিক করলে আমি কিছুই বলতাম না। এখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ হলে আমার কিছু বলার নেই।

দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র:যুগান্তর

চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ে না করায় কিশোরী প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের মা সুফিয়া পারভিন ডেইজি বাদি হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে ।

সোমবার (২৯শে জুন) সন্ধ্যায় নিহত সিয়ামের প্রেমিকা নাঈমা ও বন্ধু আরিয়ানকে আসামী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় তিনি মামলাটি দায়ের করেন। আসামীরা দুইজনই ঘটনাস্থল থেকে আটক হয়ে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

সোমবার (২৯শে জুন) ভোরে পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের বড় ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রেমিকা নাইমা জাহানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মরহুম জলিল মৃদার মেয়ে নাইমা জাহানের সাথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের হাজী এনামুলে হকের ছেলে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক ঘড়ে উঠে।

এরই মধ্যে দুইজনে ঢাকায় আবাসিক হোটেলে কয়েকবার রাত্রীযাপন করেছিল। সম্প্রতি নাইমা জাহানের তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে সিয়াম। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকে।

এরই মধ্যে নাইমা জাহানকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয় সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাইমা রোববার রাতে লক্ষীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আসে নাইমা জাহান।

সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু পাশ^বর্তী বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের কাজী বাড়ির আরিয়ান রাত্রীযাপন করে। ভোরে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম প্রেমিকা নাইমা জাহানকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলে ‘যাতে আশ-পাশের কেউ না দেখে’। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করে প্রেমিকা নাইমা জাহান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল বন্ধু আরিয়ান।

সিয়ামের চিৎকার শুনে আশ-পাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ান আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার ও দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত দুইজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঁদপুরে ২ হাজার উপকারভোগী পেল ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের ২ কোটি টাকা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জীবিকা চাঁদপুর-৫’ প্রকল্পের আওতায় তহবিল হস্তান্তর ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে চাঁদপুরের বাবুরহাটে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল শাখায় যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত ‘মানব উন্নয়ন কর্মসূচি-৫’ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার উপকারভোগীর মাঝে ২ কোটি টাকার তহবিল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, যাকাত কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয়, এটি একটি কার্যকর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় যাকাতের অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই মানব উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করে, তবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। আজ যারা এই সহায়তা গ্রহণ করেছেন, তারা যেন এ অর্থকে ভোগের পরিবর্তে উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। তাহলেই এ প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল গ্রুপের সিইও ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নূর খান, ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. জাফর ইকবাল খান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বাবুরহাট কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উপাধ্যক্ষ আই. কে. হেলাল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজে টেকসই মানব উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কচুয়ায় সিঁদকেটে বৃদ্ধা হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যেই খুনি গ্রেফতার

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের কচুয়ার আলোচিত বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামির কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামি ওই গ্রামের মিয়াজী বাড়ির বগু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (২২)।

সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেফতার করায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম ও সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাজ্জাদ হোসেন ধন্যবাদ জানিয়েছেন কচুয়া বাসী।

গত রবিবার রাতে পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলামের নির্দেশে মাঠে নামে সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাজ্জাদ হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আজ ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে লুট করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, গত দুই দিনে দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড জরিত আসামিদেরকে দ্রুততম গ্রেপ্তার করে কচুয়ার এক নজিরবিহীন ইতিহাস করেছেন সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাজ্জাদ হোসেন।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, কচুয়ায় কোনো অপরাধী পার পাবে না। অপরাধ দমনে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। তাই অতীতের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সব কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংক খাতের অনিয়মের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডও দুদকের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, “দুর্নীতি কোথায় হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা জড়িত—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করতে হবে।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা বিরাজ করেছিল। সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডও জনস্বার্থে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে অভিযোগ করছেন না; বরং প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সামনে রেখেই তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তাঁর মতে, কোনো সরকারই দায়মুক্তির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রস্তুত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জবাবদিহির অভাবে দেশে “লুটেরা অর্থনীতি” ও “ক্রনি ক্যাপিটালিজম” বিস্তার লাভ করে। এ সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক পরিচালনা এবং মেগাপ্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সবাই মিলে ওই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছিল। সব বিষয়ে মতৈক্য না থাকলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পাঁচ বছর নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল, যা বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ ও আসল মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে “নিউ ইকোনমিক অর্ডারের বাজেট” হিসেবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। ফলে বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেনি।

বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট অর্থনৈতিক রূপান্তরের কথা তুলে ধরে তিনি সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ দেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকারও সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। পাশাপাশি তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। থানায় মামলা গ্রহণেও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রয়োজন হয় না বলে দাবি করেন তিনি।

কোনো নতুন করারোপ ছাড়াই বরুড়া পৌরসভার ৭১ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কোনো প্রকার নতুন করারোপ ছাড়াই কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৫ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেট অধিবেশনে পৌর প্রশাসক ও বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি এ বাজেট ঘোষণা করেন।

ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তুলনায় এবার বাজেটের আকার প্রায় ৪১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন কোনো কর আরোপ না করেই উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাজেট অধিবেশনে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পৌর প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনি বলেন, নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক, ড্রেনেজ ও আলোকসজ্জাসহ পৌর এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে

আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে জলবায়ু পরিবর্তন ও সচেতনতায় র‍্যালী ও আলোচনা সভা

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনার আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে জলবায়ু পরিবর্তন ও সচেতনতা বিষয়ক র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আয়োজনে জলবায়ুর পরিবর্তন ও সচেতনতায় একটি র‍্যালী বিদ্যালয়ের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয় হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান, শিক্ষক মানিক মিয়া, মমতাজ বেগম, নাজমা আক্তার, শাহনাজ আক্তার, রাসেল মিয়া, রুবেল হোসেন, মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, জাকির হোসেন খন্দকার সহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগন উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শিক্ষকগণ জলবায়ু পরিবর্তন ও সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

এসময় জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপন করা হয়।

কসবায় ইটবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ২ শ্রমিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইটবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে উলটে গেলে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের মান্দারপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— জেলার সরাইল উপজেলার বৈশ্বামোড়া এলাকার মৃত আরব মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া (১৮) এবং ফরহাদ মিয়ার ছেলে আরমান মিয়া (১৭)। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ও তার সহযোগী আহত হয়েছেন।

কসবা থানার এসআই আব্দুর রহিম জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একটি ইটভাটা থেকে ইটবোঝাই করে ট্রাকটি চারগাছ এলাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে মান্দারপুর এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ট্রাকটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে উলটে যায়। ট্রাকের ওপর থাকা দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত ট্রাকচালক ও তার সহযোগীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সেলফিতে উচ্ছ্বসিত কুমিল্লার শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৫ শিক্ষার্থী ও ৪ শিক্ষক জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্বপ্ন পূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের শুভেচ্ছা বিনিময়। তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। স্মরণীয় মুহূর্ত এভাবে ধারণ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন এবং তাদের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, নীলকান্ত সরকারি কলেজ, নাথের পেটুয়া ডিগ্রি কলেজ এবং শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজ।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছে প্রথমে এলডি হল পরিদর্শন করে বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনের নান্দনিক স্থাপত্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তারা চলমান বাজেট অধিবেশন সরাসরি উপভোগ করেন। পাশাপাশি সংসদের উত্তর ও দক্ষিণ প্লাজা, মনোরম ক্রিসেন্ট লেক, অধিবেশন কক্ষ এবং সমৃদ্ধ সংসদ গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।