All posts by jitu

কুমিল্লা নগরীতে মানববন্ধন চলাকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে টিফিন পিরিয়ডে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নগরীর মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী অপুর সাথে তার আত্মীয় সাব্বিরের দ্বন্দ্বের রেশ ধরে মানববন্ধনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ইথান ওরফে প্রেম (১২) নামের গুলিবিদ্ধ এক স্কুলছাত্রকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতরা কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে কাঁটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের মহড়া দেয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে দাবির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় সাব্বিরের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্র ইথান (প্রেম)সহ অন্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। যারা গুলি চালিয়েছে তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারাই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনার পরই সন্ত্রাসীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছেন।

ঢাকাস্থ ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়ন ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর পরিবাগস্থ জিহান ফুটওয়্যার লিমিটেড অফিসে ঢাকাস্থ ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়ন ফোরাম আয়োজিত একটি মতবিনিময় ও পুনর্মিলনী প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোরামটি ইতিমধ্যে বেশ সুনামের সাথে বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও মেধাবীদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করে আসছে।এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ঢাকায় বসবাসরত ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন পেশাজীবী ভাইদের উপস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বিভিন্ন কাযর্ক্রম বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কুমিল্লা – ৫, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া মাননীয় সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন এমপি উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে এবং এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ মিলেমিশে একসাথে করার আশ্বাস ও দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে এমপি মহোদয়ের নিকট কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়।এই সময় তিনি ভারেল্লা দক্ষিণে একটি টেকনিক্যাল কলেজ, একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে , একটি স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ,মাদক নিরাময়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার ব্যাপারে একমত হন ও আলোচনা সভায় দাওয়াতের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং সংগঠনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। সংগঠনের উপদেষ্টা, জিহান ফুটওয়্যার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব শাহজাদা আহমেদ রনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সভাপতি জনাব ওবায়েদ উল্লাহ, সহসভাপতি মো: শফিউল্লাহ, মো: জাকির হোসেন ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক:কৃষিবিদ ড. হাসান সিদ্দিকী ডালিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ইমাম হোসেন ডালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক: হাবিবুর রহমান বুলবুল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক: রেজাউল করিম দুলাল, তাজুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক: ইঞ্জি: সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ : মমিনুল ইসলাম সজিব, সহ কোষাধ্যক্ষ : ইঞ্জি: আবুল কালাম আজাদ, আবু বকর সিদ্দিক, মাস্টার আনোয়ার হোসেন, ফয়সাল ইসলাম,কাজী মহব্বত আলী, আমির হোসেনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান,বিশেষ করে এমপি মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা জানান।ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে প্রোগ্রাম করার ও সামাজিক ও মানবিক কাজগুলো ব্যাপকভাবে করার ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করেন।প্রোগ্রামটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জনাব কৃষিবিদ ড: হাসান সিদ্দিকী ডালিম।

ফুটবলপাগল বাংলাদেশ কেন বিশ্ব ফুটবলে এত পিছিয়ে?

অদিতি করিম:

বাংলাদেশজুড়ে এখন চলছে ফুটবল উন্মাদনা। রাতভর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার উৎসব। গোটা দেশ যেন দুই ভাগে বিভক্ত, আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল। অবশ্য এর বাইরেও কয়েকটি দলের সমর্থকও নেহাতই কম নয়। এমবাপ্পের ফ্রান্স, রোনালদোর পর্তুগাল, হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড, হাকিমির মরক্কো, চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সমর্থক আছেন অনেক।

এবারের বিশ্বকাপে দুটি ড্র করে হইচই ফেলে দেওয়া ৬ লাখ মানুষের দেশ নবাগত কেপ ভার্দের বাংলাদেশি সমর্থক নিশ্চিতভাবেই সে দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে শহর থেকে গ্রামে বড় স্কিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়।

এই আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুটবল খেলা দেখা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের খেলার দিন টিএসসি চত্বর যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলে রূপ নেয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নয়, বিভিন্ন স্তরের মানুষ খেলা দেখতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

এখানে খেলা দেখতে এসে আপনি মনে করতেই পারেন হয়তো কোনো স্টেডিয়ামে খেলা দেখছেন। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড করার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে এসে খেলা উপভোগ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যে রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসো বলেন, ‘আমি নিজের দেশের মতো অনুভব করছি। মনে হচ্ছে, আমি আর্জেন্টিনায় আছি।’ এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা সব হলে।

ঢাবি ছাড়াও সারা দেশে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উপলক্ষে চলে জমকালো আয়োজন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নয়, এখন পাঁচতারকা হোটেল থেকে বিভিন্ন ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টে চলছে বিশ্বকাপের বিশেষ আয়োজন। বাসাবাড়িতেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাত জেগে খেলা দেখার ধুম পড়েছে।

তরুণ-তরুণীরা তাদের পছন্দের দলের জার্সি গায়ে খেলা উপভোগ করেন। অনেকেই পুরো বিশ্বকাপের সময় পছন্দের জার্সি পরেই থাকেন। সারা বাংলাদেশ যেন ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। তার ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু ফ্রান্স, জার্মান ও পর্তুগালের পতাকা দেখা যায়।

কয়েকটি গ্রাম তো আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকার সাজে সাজানো হয়েছে। এই দুই দলের সমর্থকরা দলের বিজয়ে মিছিল করেন। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। অনেকে আবার খেলা উপলক্ষে গরু খাসি কোরবানি দিয়ে সমর্থকদের আপ্যায়ন করেন। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনাও ঘটছে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তো চলছে ট্রল আর কমেন্টের প্রতিযোগিতা।

বিশ্বকাপ যেন আমাদের সব ভুলিয়ে দিয়েছে দেড় মাসের জন্য। আমাদের চারপাশে অভাব অনটন, অনিশ্চয়তা, হতাশা আর উৎকণ্ঠা পাশে রেখে আমরা মেতে উঠেছি বিশ্বকাপ উন্মাদনায়। বিশ কোটি মানুষের এই দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যিনি ফুটবল পছন্দ করেন না, কিংবা বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এদেশের মানুষ ফুটবল পাগল। এই দেশে উৎসবের উপলক্ষ খুব কম। বিশ্বকাপ ফুটবল যেন আমাদের এক মহা উৎসবের আমেজ এনে দেয়।

কিন্তু ফুটবলপাগল এই দেশটি কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি। বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, স্বাধীনতার পর এশিয়া কাপ ফুটবল খেলেছিল একবার ১৯৮০ সালে। এ বছর নারী ফুটবল দল নারী এশিয়া কাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করে। সাফ ফুটবলেও আমাদের রেকর্ড ভালো না। ২০০৩ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তারপর এই আসরেও আমাদের সাফল্য নেই। ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১।

কোটি ভক্তের এই দেশে ফুটবলের কেন এমন করুণ দশা? ফিফার এক গবেষণায় জানা যায়, একটি দেশের ফুটবলের বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো দর্শকদের। কোনো দেশে যদি ফুটবল জনপ্রিয় হয় তাহলে সেই দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণা কতটা সঠিক? বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনীয়। কিন্তু তবুও কেন আমাদের ফুটবল রুগ্ণ, মৃতপ্রায়? বিশ্বকাপ নিয়ে এত উত্তেজনার মধ্যে আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার। বাংলাদেশের ফুটবল এখনো যে টিকে আছে সেটা দেশের বৃহত্তম শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার অবদান। বসুন্ধরা বাংলাদেশের ফুটবলের এখন একমাত্র ভরসা।

দুনিয়াজুড়ে দেশে দেশে ফুটবল সংস্কৃতির অভিভাবক হলো ক্লাব। সেই প্রথম থেকেই ফুটবলকে লালন-পালন, নতুন প্রতিভার বিকাশ, ধারাবাহিকতার সঙ্গে খেলোয়াড় সৃষ্টি এবং খেলাকে জনপ্রিয় করার পেছনে ফুটবলের প্রাণভোমরা ক্লাবগুলোর অবদান সব সময় স্মরণীয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আর্সেনাল, ম্যানসিটি প্রভৃতি অ্যাকাডেমির কার্যক্রম তো ফুটবল দুনিয়ার আলোচিত এবং অনুকরণীয়।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ক্লাবগুলো কখনো পরিকল্পনামাফিক একদম ‘এন্ট্রি লেবেল’ থেকে খেলোয়াড় সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় রেডিমেড এবং বাফুফের অনুমোদিত খেলোয়াড়রাই ভরসা। এতে দেশের ফুটবল স্বাবলম্বী হতে পারেনি। গত ৫৩ বছরের ফুটবল মাঠের ছবি দেশের ফুটবলের সঙ্গে প্রতারণার দলিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা কিংস প্রথম স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে পেশাদার ফুটবল ক্লাব।

যারা বিশ্বে ক্লাব ফুটবলের আদলে বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামোকে পাল্টানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ক্লাবটি দেশের ফুটবলের প্রেক্ষাপট এবং রং পাল্টে দিয়েছে। প্রথম থেকেই হেঁটেছে ফুটবলে সংস্কারের পথ ধরে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমে ক্লাবটি দেশের মানচিত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবং এর বাইরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে একমাত্র ‘সত্যিকারের পেশাজীবী’ ক্লাব হিসেবে আলোচনার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল লড়াইয়ে সাফল্যের ক্ষেত্রে অতীতের সব ধরনের রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে।

আধুনিক চিন্তা-ভাবনায় উজ্জীবিত ক্লাবটি প্রথম থেকেই দেশের ক্লাব ফুটবলে নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে। ক্লাবটি হতে পেরেছে অন্যান্য ক্লাবের কাছে আদর্শ। ক্লাবটি দেশের ফুটবলের প্রেক্ষাপট এবং রং পাল্টে দিয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানোন্নয়ন, ক্রীড়াচর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পেছনে আছে গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের খেলাধুলার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং ভালোবাসা।

কিন্তু বসুন্ধরার মতো অন্য কোনো শিল্প উদ্যোক্তা বা শিল্পগোষ্ঠী ফুটবলের মান উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি। এটা দুঃখজনক। বসুন্ধরা কিংস ছাড়া অন্য ক্লাবগুলো এখনো পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেনি। আবাহনী, মোহামেডান কিংবা ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো একসময়ের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই। চাঁদা এবং ক্লাবে হাউজি খেলার টাকা দিয়ে ক্লাব কোনোরকমে চালানো যায় হয়তো কিন্তু ফুটবলের মান উন্নয়ন করা যায় না।

বাংলাদেশে কমবেশি ত্রিশটির মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আছে। প্রত্যেকে যদি একটা ক্লাবের দায়িত্ব নেয়, বসুন্ধরা কিংসের আদলে ক্লাব গড়ে তোলে তাহলে আমাদের ফুটবলের সুদিন আসতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। এজন্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতে হবে সরকারকে।

পাশাপাশি কৈশোর থেকে ফুটবলার গড়ে তোলার জন্য গড়ে তুলতে হবে ফুটবল একাডেমি। এই একাডেমি সারা দেশ থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করবে। তাদের পরিপূর্ণ এবং সমন্বিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী দিনের ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলবে। এসব একাডেমি হবে ভবিষ্যতের সেরা ফুটবলার সৃষ্টির কারখানা। বর্তমানে বাংলাদেশে বসুন্ধরা ফুটবল একাডেমি এবং বিকেএসপি ছাড়া আর কোনো একাডেমি নেই।

এ ধরনের একাডেমি গড়ে তুলতে না পারলে শুধু ফুটবল নয়; কোনো খেলারই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব একাডেমি হবে ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভা বিকাশের মূল ভিত্তি। এ ধরনের ক্রীড়া একাডেমি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উদ্যোগ নেবে তাদের দিতে হবে বিশেষ প্রণোদনা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

বাংলাদেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন)। বাফুফেকে ফুটবলের মান উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। বিশ্বের কোনো দেশের ফুটবল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিকশিত হয়নি। ফুটবল বিকাশের একমাত্র পরীক্ষিত উপায় হলো ক্লাব ফুটবলের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।

বর্তমান ফুটবল যুগের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন চলছে। এই মেসিকে কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তৈরি করেনি, করেছে বার্সেলোনা। ছোটবেলায় শারীরিক বৃদ্ধি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা এক লাজুক ছেলের বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। শৈশবে গ্রোনদোলি ও নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে খেলার সময় তার গ্রোথ হরমোন সমস্যা ধরা পড়ে।

চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান এবং বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। আজকের মেসির জন্ম হয় আসলে বার্সেলোনা ক্লাবে। শুধু মেসি নন, সব ফুটবল তারকার আসল জীবন শুরু হয় ক্লাব থেকে। বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন জীবন দিতে হলে ক্লাব ফুটবলের জাগরণ ঘটাতে হবে। মৃতপ্রায় ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে বসুন্ধরা কিংস।

দেশের ফুটবলের জাগরণ ঘটাতে হলে বসুন্ধরার মতো আরও পরিপূর্ণ ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে বাফুফে এবং সরকারকে দিতে হবে সহযোগিতা। একটি পরিকল্পনার আলোকে আমাদের ফুটবলকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। কোটি কোটি ফুটবলভক্তের এই দেশে ফুটবল এত পিছিয়ে থাকবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

অদিতি করিম
লেখক ও নাট্যকার

কুমিল্লায় সোয়া ১ কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৭৫৪ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন বিকেলে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে এবং কুমিল্লা বিজিবি ১০ ব্যাটালিয়নের অ্যাডজুট্যান্টের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি, কসমেটিকস সামগ্রী ও বাসমতি চাল রয়েছে।

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৭৫৪ টাকা। জব্দকৃত পণ্যসমূহের বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মনোহরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন

মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:

“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” — এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানো, আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির প্রসার, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস এ মেলার আয়োজন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভিন রুহি। উদ্বোধনের পর তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত দেশীয় ফল, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার তুষার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজালা পারভিন রুহি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ফল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ফল শুধু মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণেই নয়, কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলের অপচয় রোধ এবং বছরজুড়ে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে ফলের গাছ রোপণ এবং নিয়মিত দেশীয় ফল গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুর রহমান পাঠান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মজিবুল হাছান চৌধুরী, মনোহরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিএম আহসান উল্লাহসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান দেশীয় ফল এবং ফলভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করছেন। মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিল এবিজি ফাউন্ডেশন

স্টাফ রিপোর্টার :

দেশের খ্যাতিমান বাউলশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন)। চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য শিল্পীর হাতে নগদ এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর কল্যাণপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে অবস্থিত সুফিয়া একাডেমি ভবনে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক মো. আমিনুল ইসলাম কাঙালিনী সুফিয়ার হাতে অর্থ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মো. আমির হোসেন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, অর্থাভাবে কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর শিল্পীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

সহায়তা গ্রহণের পর কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। অর্থসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। বর্তমানে তার ডান হাতও ভেঙে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাওয়ায় তিনি এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাজবাড়ীতে নিজ বাড়ির বাথরুমে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে আহত হন কাঙালিনী সুফিয়া। এরপর থেকে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের কারণে তার চিকিৎসা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এবিজি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগে তার চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রশিবিরনেতা নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নগরীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুল্লাহ বিন জহির (২৬) নামে এক ছাত্রশিবির নেতার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) রাতে নগরীর ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ বিন জহির কুমিল্লা মহানগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, রাতে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টারে তার মৃত্যু হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানায়, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ আর কে চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার সায়েদাবাদস্থ ‘আর কে চৌধুরী কলেজ’-এর অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক হাসিনা আক্তার তাঁর ন্যায্য বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য শিক্ষা সচিবের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ২০ জুন, ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব বরাবর তিনি একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।

আবেদনে তিনি কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বকেয়া টাকা আটকে রাখার এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।

লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, হাসিনা আক্তার অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দীর্ঘ কর্মজীবন পার করে গত ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে স্বাভাবিক অবসরে যান। বর্তমানে তিনি আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। চিকিৎসার খরচ মেটাতে তাঁর চাকরি জীবনের অর্জিত বাড়ি ভাড়া ও বকেয়া বেতন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘ ৩টি বছর অতিবাহিত হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর ন্যায্য পাওনা পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে কলেজ প্রশাসনের কাছে কলেজের অংশ বাবদ তাঁর বাড়ি ভাড়া ও বকেয়া বেতন হিসেবে সর্বমোট ৫,৪৩,০০০/- (পাঁচ লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার) টাকা পাওনা রয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে জীবনের শেষ সময়ে এসে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা তাঁকে সামাজিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটের মুখে ফেলেছে।

হাসিনা আক্তার তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য তিনি কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরীর কাছে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।

শিক্ষিকার দাবি, তিনি অধ্যক্ষের রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নমত লালন করেন এবং তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও মহিলা এমপি প্রার্থী ছিলেন বলেই তাঁর সাথে এই অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর আগে, সমসাময়িক বা পরে যারা উক্ত কলেজ থেকে অবসর নিয়েছেন, তাদের সকলের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হলেও কেবল তাঁর টাকাই আটকে রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মানবিক ও প্রশাসনিক দিক বিবেচনা করে কলেজের অধ্যক্ষকে দ্রুত উক্ত ৫,৪৩,০০০/- টাকা বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য করার জন্য শিক্ষা সচিবের নিকট প্রয়োজনীয় ও জরুরি নির্দেশনা প্রদানের আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

বিশেষ অনুরোে উক্ত শিক্ষিকার কলেজ থেকে বকেয়া পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পালের সাথে কথা বলেন, মাউশির মহা পরিচালক প্রফেসর ড, মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

প্রফেসর সোহেল প্রতিবেদককে জানান, কলেজের ফান্তে, টাকা কম থাকায় অধ্যক্ষ উৎপল পালের কাছথেকে হাসিনা আকতারের পাওনা টাকা পরিশোধের কোন সহযোগীতা পাওয়া যাবে না, এমনটাই জানান তিনি।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ উৎপল পালের সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।

নাঙ্গলকোটে বোন, ভাগিনা ও ভগ্নিপতির হামলায় নিহত ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে তুচ্ছ ঘটনায় বোন, ভাগিনা ও ভগ্নিপতির হামলায় কৃষক ভাই ইব্রাহিম হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌছইর মধ্যপাড়া হাজী সৈয়দ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইব্রাহিম হোসেন ওই গ্রামের মরহুম রাজা মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত বোন নাছিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

নিহত ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী আফরোজ আক্তার বলেন, আমার ফুফু নাছিমা আক্তার, ফুফাত ভাই অজিউল্লাহ ও আমার ফুফা কোব্বাত আলী জোরপূর্বক আমাদের বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে আমার বাবা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফুফু, ফুফাতো ভাই ও ফুফা আমার বাবার তল পেট ও বুকেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসী জানায়, ১৯৯২ সালে নছিমা আক্তার তার দেবর পেয়ার আহম্মেদকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে নাছিমা আক্তারকে থানা পুলিশ জেলেহাজতে পাঠায়। নাছিমা আক্তার সমাজের প্রভাবশালী ও খারাপ লোকদের হাত করে প্রতিনিয়ত পরিবারটিতে নির্যাতন করে আসছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করছি।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাছিমা আক্তারকে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লায় সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ এর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর ৩নং ওয়ার্ড কালিয়াজুরীতে সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ জুন) কালিয়াজুরী শীলবাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ইতি রানী শীল (২৭)।

ইতি রানী শীল নগরীর ৩নং ওয়ার্ড কালিয়াজুরী শীলবাড়ির বাসিন্দা পিতা মৃত গোপাল চন্দ্র শীল এর মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে ইতি রানী শীল বলেন, আমার শারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল এবং তার স্ত্রী প্রতিমা রানী শীল।

তাদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৮ বছর আগে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হই এবং ঢাকায় আমার বড় বোনের আশ্রয়ে চলে যাই। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বোনের সংসারের টানাপোড়েনের কারণে আমি আবারও কুমিল্লার পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসি। কিন্তু বাড়িতে ফেরার মাত্র ৮ মাসের মাথায় আমার সৎ ভাই ও ভাবি আবারও আমার ওপর পুরোনো কায়দায় নির্যাতন শুরু করেন।”

তিনি আরো বলেন, “কোনো উপায় না পেয়ে, আমি গত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থায় (লিগ্যাল এইড) একটি অভিযোগ দায়ের করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিনামূল্যে আইনি সহায়তার আওতায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিউলী বেগম আমাদের পক্ষে লড়াই করেন। লিগ্যাল এইডে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে, আমার সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল আমাকে প্রতি মাসে ভরণপোষণ ও হাত খরচ বাবদ ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা প্রদান করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমার সৎ ভাই আমাকে কোনো টাকা পয়সা দেননি।

তিনি বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করার পর, আমি ও আমার বড় বোন মনি রানী শীল কুমিল্লা নগরীর ৩নং ওয়ার্ড নিজ এলাকার সমাজ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার প্রার্থী হই। কালিয়াজুরী এলাকার সামাজিক বৈঠক বসে। হিন্দু আইন অনুযায়ী পিতা বা পরিবারের সম্পত্তিতে একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সমাজ সেই নিয়ম মেনেই অভিযুক্ত কেশব শীলকে আমার ভরণপোষণ দিতে বলে। কিন্তু ভাই ও ভাবির ক্রমাগত মারধর এবং মেরে ফেলার হুমকির কারণে আমি তাদের সাথে থাকতে অস্বীকৃতি জানাই।

এমতাবস্থায়, আমাদের পৈতৃক ২৮ শতাংশ ভূমি- হতে সামাজিকভাবে আমার নামে ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু লোভী সৎ ভাই কেশব ও তার পরিবার এই সামান্য জমি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

শুধু তাই নয়, সমাজের লোকজন চলে যাওয়ার পর আমার সৎ ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তানেরা মিলে আমাকে এবং আমার বোনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পৈতৃক ভিটের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়—যেন এই সীমানার আশেপাশে আমাদের আর কখনো না দেখা যায়।”

ইতি রানী শীল প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করে বলেন, হিন্দু আইন অনুযায়ী একজন অবিবাহিত- প্রতিবন্ধী সন্তান কোনোভাবেই পৈতৃক আশ্রয় ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। আজ আমি নিজের ঘরেই পরবাসী। আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নিয়ে আমাকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমরা কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা মাননীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। লিগ্যাল এইডের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এবং আমাকে, আমার বোনকে ঘরছাড়া করা নির্যাতনকারী সৎ ভাই কেশস চন্দ্র শীল ও তার স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শীল বাড়ির সর্দার নারায়ন চন্দ্র শীল, শুনিল চন্দ্র শীল, আশিস কুমার রায়,নিকিল চন্দ্র শীল, রেনু মিয়া এবং মিজানুর রহমানসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।