All posts by jitu

কুমিল্লায় অনলাইন জুয়ায় ১৫ দিনে ২২ লাখ টাকা হেরে প্রবাসীর আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় বিপুল অঙ্কের টাকা হারিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এক প্রবাসী। শেষ পর্যন্ত সেই হতাশা সহ্য করতে না পেরে বিষাক্ত কীটনাশক ট্যাবলেট (কেরির বড়ি) খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) হোমনা উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মেরাজুল ইসলাম (৪৪) উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে।

জানা যায়, গত ১৫ দিনে অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে মেরাজুল ইসলাম প্রায় ২২ লাখ টাকা হারান। বিপুল এই আর্থিক ক্ষতির পর তিনি চরম মানসিক চাপে ও বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার তিনি বিষাক্ত কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নিজ গ্রাম আসাদপুরে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানায়, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে এবং মঙ্গলবার রাতে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মেরাজুল ও তার এক ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা তীব্র অর্থসংকটে পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আর্থিক সংকটজনিত হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানায় ওসি।

কুমিল্লায় নিষিদ্ধ আ. লীগের ব্যানার টানিয়ে ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গাছে ব্যানার টানানোর অভিযোগে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বাতাকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দিবাগত রাতে ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাঁর নিজ এলাকায় উলুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশের দুটি গাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কুমিল্লা–১ আসনের (দাউদকান্দি–তিতাস) সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সবুরের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার টানান। ব্যানারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসার পর তিতাস থানা–পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম আজাদকে উপজেলার বাতাকান্দি বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক জানান, গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদকে আজ বুধবার কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

দাউদকান্দিতে মাদক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযানে ১ কেজি গাঁজা ও ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া নিয়মিত মামলার দুই আসামি, চুরি মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন একজন এবং দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার (২৪ জুন) দাউদকান্দি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এহসানুল হাসান এক প্রেস রিলিজে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারীর নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে উপজেলার গোয়ালমারী এলাকা থেকে আহসান মোল্লা (৩৫), আবু হানিফ (৩০) ও ইয়াছিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা ও ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

একই দিন রাত ৮টা ২০ মিনিটে মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিজান (৩৫) ও জুম্মন হোসাইনকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে চুরি মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে টুটুল মিয়া (৪৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া বুধবার ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে মালিগাঁও এলাকা থেকে নন-জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মাইনুদ্দিনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক আরেক অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাজ্জাদ হোসেনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ ৯ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের ৯ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

লাকসামে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে ৬ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. মানিক মিয়া (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা বড় বাড়ি এলাকার মৃত আলী মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাবুদ্দিন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২১ জুন) বিকেলে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যায়। অভিযোগ রয়েছে, দোকানদার মানিক মিয়া শিশুটিকে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন।

এ সময় শিশুটির মা অন্য একটি বাড়ি থেকে ফেরার পথে দোকানের সামনে মেয়েকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দোকানদার কোনো সদুত্তর দেননি। পরে শিশুটি ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে মাকে ঘটনার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করে।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেন। তবে তাদের উপস্থিতির আগেই মানিক মিয়া এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) তাকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় ১০ লাখের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে কুমিল্লা জেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১০ লাখেরও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

রোববার (২৮ জুন) দিনব্যাপী জেলার ১৭টি উপজেলা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে জেলার ৫ হাজার ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১০ লাখ ৮ হাজার ৯৭ জন শিশুকে বয়সভেদে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ হাজার ৭৮ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।

আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমদ।

তিনি জানান, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত জটিলতা হ্রাস এবং সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিয়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্যাপসুল নিরাপদ ও কার্যকর। এর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি গুজবে কান না দিয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওসমান হোসাইন জাবীর এবং সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আল মামুন।

আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমার শঙ্কা, ক্ষতির মুখে সংশ্লিষ্ট শিল্প

স্টাফ রিপোর্টার:

দীর্ঘদিনের মন্দার মধ্যেই নতুন করে করের বোঝা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের বাড়তি খরচে দেশের আবাসন খাত গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আবাসন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পে কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবাসন বাজারে স্থবিরতা নেমে আসে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যাশিত হারে বাজারে গতি ফেরেনি। বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা এবং দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এর মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কর আরোপ এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আবাসন খাতের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঐশী প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মো. আইয়ূব আলী বলেন, চলতি বছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলেও গত পাঁচ মাসে একটি ফ্ল্যাটও বিক্রি হয়নি। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে কয়েকটি ইউনিট বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে বাজার প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম আবাসন প্রতিষ্ঠান শেলটেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. শাহজাহান জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, নতুন করের কারণে ফ্ল্যাটের মূল্য বাড়লে নিবন্ধনের সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নির্মাণ খাতের প্রধান কাঁচামাল রডের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রড উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক-কর বৃদ্ধি এবং প্রতি টন রডের ভ্যাট ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) বলছে, কর বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে অতিরিক্ত ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে রডের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে। তবে বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই বহন করতে হবে।

আবাসন উদ্যোক্তাদের মতে, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জমির মালিকদের জন্যও নতুন করের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জমি উন্নয়ন চুক্তির আওতায় সাইনিং মানির পাশাপাশি ডেভেলপারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধার ওপর ১৫ শতাংশ ‘ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স’ বা মূলধনি লাভ কর দিতে হবে।

রিহ্যাব নেতারা বলছেন, এ ধরনের কর আরোপের ফলে জমির মালিকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, ২৪ ইউনিটের একটি প্রকল্পে জমির মালিক ১২টি ফ্ল্যাট পেলে এবং সেগুলোর বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকা হলে তাকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।

তাদের দাবি, নতুন করব্যবস্থা কার্যকর হলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে এবং মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসন শিল্পের সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী, ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিক, রং, পরিবহনসহ প্রায় ২৬৯টি শিল্প খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে আবাসন খাতের স্থবিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী গুপ্ত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে চৌদ্দগ্রামে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী গুপ্ত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই জায়গায় শেষে হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি জিএম তাহের পলাশী।

মঙ্গলবার(২৩জুন) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম হল প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহ আলম রাজু’র সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্যে রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মজুমদার, সহসভাপতি শাহ আলম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুরুন্নবী পাটোয়ারী নুরু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী শহিদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী দুলাল, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জামাল উদ্দিন মামুন, পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক মোঃ হাসান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মোঃ খোরশেদ আলম, উপজেলা সভাপতি ফখরুল হাসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির চৌধুরী, পৌরসভা ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার জাকির বাঁধন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মৎস্যজীবিদল ও কৃষকদলের নেতৃবৃন্দ।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর নির্দেশনায় বরুড়ায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি’র নির্দেশনায় বরুড়া উপজেলায় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত *৩০ জনের মাঝে* প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন এবং বরুড়া উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বলেন, মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজের অসহায় মানুষের সহায়তায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নাঙ্গলকোটে সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, জনদুর্ভোগ চরমে

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌর সদরের বাইপাস সড়ক ও রেললাইনের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় করার ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রতিদিন ভ্যান ও ট্রাকে করে বাজার কুড়ানো আবর্জনা, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও কশাই খানার দূষিত বর্জ্য এই ভাগাড়ে ফেলছে যত্রতত্র। এর ফলে বর্জ্যের পঁচা দুর্গন্ধে আশ-পাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমাট হয়ে যায়,এবং পানি গুলো বিষাক্ত হয়ে ওঠে। ভাগাড়ের চারপাশে বসত বাড়ি, স্কুল, মসজিদ, হসপিটাল ও মাদ্রাসা থাকলেও দেখার কেউ নেই। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার-হাজার পথচারি চলাচল করে।
ব্যাস্ততম এই সড়ক দিয়ে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা শত-শত মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে।

এছাড়া স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থীরা তাদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ভাগাড়ের দুর্গন্ধ যুক্ত মিশ্রিত বাতাস গ্রহনে তারা ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নাঙ্গলকোট পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। এই পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানে বসবাসরত নাগরিকরা প্রথম শ্রেনীর নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও পৌর করের জাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন পৌরবাসী। কোন রকম মুল্যায়ন ছাড়াই গত ১০ বছরে পৌরকর বৃদ্ধি করা হয়েছে কয়েক গুণ। বাড়েনি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।

পৌরসভায় সেবা নিতে গেলে পদে পদে পৌরবাসীকে নাজেহাল হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তার বেহাল দশা, ড্রেন এবং প্রায় সড়কে রোড লাইট না থাকলেও কর আদায় করা হচ্ছে যথারিতী। এদিকে সড়কের প্রায়ই স্থানে ময়লার স্তুপে সয়লাব থাকে।

২০০২ সালে ৫নং নাঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম ও মৌকরা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামসহ মোট ১৯টি গ্রামকে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপি সরকারের আমলে। ফলে নাঙ্গলকোট ইউনিয়নকে বিলুপ্ত করে পৌরসভার উত্তরের অংশ ৫নং মক্রবপুর ইউনিয়ন এবং পশ্চিমের অংশ ১২নং হেসাখাল ইউনিয়ন নামে দুইটি আলাদা ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়।

একাধিক পথচারি ও চালক বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে পার হতে হলে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড দম বন্ধ করে পার হতে হয়। তখন আমাদের অনেক কষ্ট হয়।এবং একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। পানিগুলো খুব বিষাক্ত হয়ে যায়। তখন পায়ে হেঁটে পার হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

ডক্টরস এন্ড মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন নাঙ্গলকোট (ডিমসান)সভাপতি নজির নোবেল বলেন, সব ধরনের বর্জ্য পরিবেশের সাথে সাথে জনস্বাস্থ্যে বিরুপ প্রভাব ফেলছে, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা বহু রোগের নীরব উৎস।বিভিন্ন নষ্ট খাদ্যের উচ্ছিষ্ট অংশ মাছি, মশা বংশবিস্তারের জন্য উত্তমস্থান এতে ওই এলাকায়রডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে,অন্যদিক বর্জ্য পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়ে হাঁপানি ও বিভিন্ন ফুসফুসের রোগের কারন হতে পারে। যার সবচেয়ে বড় শিকার এলাকার শিশু এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষরা।

তাছাড়া হাসপাতালের বর্জ্য হিসাবে থাকা বিভিন্ন কেমিক্যাল, এন্টিবায়োটিক রেজিটেন্স করে দিতে পারে ফলে যেকোনো রোগ সহজে ভালো হবে না, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক আবর্জনাতে রয়েছে ভারীধাতু সমুহ যা পরিবেশে মিশলে কিডনী সহ স্নায়ুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি করতে পারে,এছাড়াও ময়লাগুলো বৃষ্টির সময় পানির সাথে মিশে পানি-বাহিত রোগ ছড়াতে পারে, চিকিৎসাবিদ্যায় একটি কথা আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ আবু রায়হান বলেন, আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার জায়গা না থাকায় সড়কের ধারেই ফেলতে হচ্ছে। গার্বেজ স্টেশন করার জন্য পৌরসভার অধীনে জায়গা খোঁজা হচ্ছে। যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে সেখানে বাউন্ডারি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।