All posts by jitu

মুরাদনগরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার তাকে বরখাস্ত করেন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদানের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়ে ৭ মাস কারাগারে ছিলেন প্রতারক ওই কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে মো. ইসমাইল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তার এ কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের সামিল হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধিমোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং এই বরখাস্তের আদেশ তার চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্ম সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ নানা সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জনসাধারণকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন। এলাকার লোকজন তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর অন্ধ বিশ্বাস নয়, নিজের সক্ষমতা বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর অন্ধ বিশ্বাস নয়, নিজের সক্ষমতা বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মুখে সিউল এখন নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় শেষ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে দাঁড়িয়ে শাসক দলের নেতা কিম মিন-সক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো দয়ালু বড় ভাই নয়। তারা এখন নিজেদের স্বার্থে কঠিন দরকষাকষি করছে। তাই সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন থেকেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এই উদ্বেগের মূল কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শিগগির বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে খরচের অজুহাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, এসব মহড়ায় অনেক টাকা নষ্ট হয় এবং উত্তর কোরিয়াকে অযথা উসকে দেওয়া হয়।

সিউলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে বাধ্য না করে শুধু নতুন অস্ত্র তৈরি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কোনো চুক্তিতে রাজি হয়ে যেতে পারে। এ কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টি মনে করে, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে হঠাৎ কোনো চুক্তি হলেও যেন দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বিপন্ন না হয়, সে জন্য স্বাধীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া উপায় নেই। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পথ খোঁজারও পরামর্শ দিয়েছে তারা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তিতাস নদীতে দেড় কোটি টাকার মালবোঝাই নৌকাডুবি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তিতাস নদীর তীরে প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়বাজার নৌকা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নৌকায় প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য ছিল বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। নৌকাটিতে অতিরিক্ত পণ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডুবে যাওয়া নৌকা এবং মালামাল উদ্ধারে শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

চরফ্যাশনে ৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক দুইচরফ্যাশনে ৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক দুই
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জগৎবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে একটি বড় নৌকা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আখাউড়ার বড়বাজার ঘাটে ভিড়ছিল। এ সময় নদীতে স্রোত বেশি থাকায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাছ ধরার নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি উল্টে যায়। এতে নৌকায় থাকা মালামালের অধিকাংশই নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।

বড়বাজারের ইজারাদার লুৎফর রহমান চৌধুরী বলেন, নৌকায় সড়কবাজার ও বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল। ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি মালামাল নৌকাটিতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফিফার বাধা পেরিয়ে আবারও চেনা রূপে বসুন্ধরা কিংস

স্পোর্টস ডেস্ক: ​

ফিফার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়েছে আবাহনী লিমিটেড, বসুন্ধরা কিংস ও ইয়াংমেনস ফকিরেরপুল ক্লাব। বকেয়া মিটিয়ে তারা লাইসেন্সিংয়ের প্রাথমিক বাধা পার করেছে। এটা দেশের ফুটবল অঙ্গনের জন্য বিরাট স্বস্তি।

বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী ছাড়া ২০২৬-২৭ মৌসুমের লীগের কথা কল্পনা করাও কঠিন ছিল। ২০০৭ সালে পেশাদার লীগ শুরু হওয়ার পর থেকে এ দুটি ক্লাবই ছয়বার করে শিরোপা ঘরে তুলেছে। যা ফুটবল অঙ্গনে তাদের প্রভাবের বড় প্রমাণ।

​মাঠের বাইরের আলোচনা কাটিয়ে এখন দল গঠনের হিড়িক লেগেছে। মোহামেডান শুরু থেকেই ফুরফুরে মেজাজে দল গুছিয়ে বিদেশি কোচ নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে আবাহনী চমক দেখিয়েছে নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ফরোয়ার্ড মাইকেল বাবাতুন্দেকে দলে নিয়ে। ১৩ দলের অংশগ্রহণে আসন্ন লীগের কাগজ-কলমের শক্তি নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই সাতটি দলের মূল শিরোপা দৌড়ে থাকার সম্ভাবনা মৌসুমকে জমজমাট করে তুলবে।

​২০১৮-১৯ মৌসুমে আত্মপ্রকাশের পর থেকে বসুন্ধরা কিংস কেবল একটানা পাঁচটি লীগ ট্রফি জয়ই করেনি, দেশের ফুটবল ব্যবস্থাপনার সংস্কৃতিটাই বদলে দিয়েছে। দেশের ফুটবল ইতিহাসে একটানা এতগুলো শিরোপা জয়ের রেকর্ড আর কারও নেই। নারী দলসহ তাদের ট্রফি কেবিনেটে জমা হয়েছে মোট ২০টি শিরোপা। যা এক অনন্য নজির। পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা এবং দারুণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে দলটি তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

​সাম্প্রতিক সময়ের নানা পারিপার্শ্বিক সংকটে কিংস কঠিন পথ অতিক্রম করলেও পরিচালনা পর্ষদ দৃঢ় বিশ্বাস ধরে রেখেছিল। সভাপতি মো. ইমরুল হাসানের ব্যবস্থাপনা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোহবানের অব্যাহত সমর্থনে ক্লাবটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

শুধু ক্লাব পরিচালনা নয়, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্রীড়াকাঠামো তৈরি করে দক্ষিণ এশিয়ায় এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

​বসুন্ধরা কিংসের নজর এখন আগামী মৌসুমে সবকটি ট্রফি নিজেদের করে রাখা। জাতীয় দলের কিছু খেলোয়াড় বিদায় নিলেও রবসন রোবিনহোর প্রত্যাবর্তন এবং দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞদের নিয়ে ৩৫ সদস্যের দল ক্লাবটিকে বিশাল মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে। অভিজ্ঞ স্থানীয় কোচিং প্যানেলের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন শুরু হয়ে গেছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করে ঐতিহ্য ও সুনামের পতাকাকে আবারও উঁচুতে তুলে ধরতেই প্রস্তুত বসুন্ধরা কিংস।

সুমাইয়া ও তাঁর মা হত্যার এক বছর, বিচারপ্রক্রিয়াতে ধীরগতি

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী (২৩) ও তাঁর মা তাহমিনা বেগম (৫২) হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এরই মধ্যে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি তাঁর মা দেখে ফেলায় প্রথমে তাহমিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনো মামলার কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’

আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’

সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চারজন সাক্ষী দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’

নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে।’
চাইলে এটিকে প্রথম আলোর মতো আরও ঝরঝরে ও অনুসন্ধানধর্মী সংবাদভাষায়, তবে তথ্য অপরিবর্তিত রেখে, আরেকটু শক্তিশালী করে দিতে পারি।

চৌদ্দগ্রামের বাতিসায় মাদক বিরোধী সমাবেশ

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নে থানা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেলে বাতিসা মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয় মিলনায়তনে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গুলজার আলম।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় মাদকের কুফল নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রাখেন বাতিসা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, বাতিসা মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা তাহেরা বেগম, ইউনিয়ন জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম তালুকদার, চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রফেসার সোহরাব হোসেন মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সেলিম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন ডেভিড, বিদ্যালয়ের সাবেক সদস্য শাহাদাত হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের কার্যকর সদস্য আনিছুর রহমান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, দীপঙ্কর বিশ্বাস, পুলিশের এসআই আসাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেট্রোলিয়াম বাজারে প্রতিযোগিতা আসছে: কমবে বিপিসির একচেটিয়া প্রভাব

বিশেষ প্রতিনিধি:

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকারি নীতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) একচ্ছত্রভাবে তেল আমদানি, বণ্টন ও খুচরা বিক্রির কাজ করে আসছে। এই একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ব্যবসার সুযোগ দিয়ে একটি নতুন নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব বিপিসিকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি মজুত করার সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং বেসরকারি খাতের বিদ্যমান অবকাঠামো ও বিনিয়োগের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়। এর সিংহভাগই বিপিসি নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানি উৎপাদন করলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রির অনুমতি নেই—উৎপাদিত তেল বিপিসির কাছেই বিক্রি করতে হয়। শুধুমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজস্ব ফার্নেস ওয়েল আমদানি করতে পারে। বিপিসির এই দীর্ঘদিনের একচেটিয়া প্রভাবে তেল চুরি, অপচয় ও ভেজালের মতো অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। বেসরকারি খাত যুক্ত হলে একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যেমনটি দেখা গেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে, যেখানে ৯৮ শতাংশ চাহিদাই বেসরকারি খাত পূরণ করছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও আইইউবি-র উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশগ্রহণে বাজার উদারীকরণ করা ইতিবাচক, তবে এর সুফল যেন সাধারণ ভোক্তারা পান, সেজন্য কঠোর সরকারি তদারকি প্রয়োজন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিপিসির বদলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হাতে দেওয়া উচিত। ইতোমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপসহ অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি খাতে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

কুমিল্লায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার পাঁচ ছিনতাইকারী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে যাত্রীবাহী বাসসহ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে পৃথক অভিযানে নগরী ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

গ্রেফতার ছিনতাইকারীরা হলেন- সাকির হোসেন, কামাল হোসেন, আরিফ হোসেন, মাহমুদ পিয়াল ও মিনার হোসেন।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গ্রেফতার পাঁচজন কুমিল্লা নগরী ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত মাদক সেবন ও মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে তারা ছিনতাই করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

অন্যদিকে, রোববার ভোরে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় বাসচালক দিদারুল আলম চৌধুরী ও তার সহযোগী আমির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান শেষে ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অস্ত্র-মাদক উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশসেরা কুমিল্লার পুলিশ সুপার

স্টাফ রিপোর্টার:

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সততা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে ত্রৈমাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এই অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান পিপিএম কে পুরষ্কৃত করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এই অর্জন পুরো জেলা পুলিশের টিমওয়ার্ক। এ ধরনের স্বীকৃতি কাজের গতি আরও তরান্বিত করে।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও তিনি কুমিল্লাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এমন অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

দাউদকান্দিতে দুই মাসে তিন কোটি টাকার মাদক-অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ২৮৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের অভিযানে গত দুই মাসে তিন কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে। এসব অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় ২৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত দুই মাসে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৬৬ পিস ইয়াবা, ৭২৭ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৫৭৫ বোতল ফেয়ারডিল,