All posts by jitu

সদর দক্ষিণে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে আ’লীগের সুবিধাভোগী অরন্ডি কাশেমের মামলা দায়ের

ষ্টাফ  রিপোর্টারঃ
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপি’র কমিটি নির্বাচনের সময় বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সুবিধা ভোগী আবুল কাশেম হট্টগোল সৃষ্টি করে উল্টো বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২৬ অক্টোবর শনিবার উপজেলার বারপাড়া আমেনা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই  সময় কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বারপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম(অরন্ডি কাশেম) সাংগঠনিক সম্পাদক পদ প্রার্থী রোবেলকে আওয়ামী লীগ বলে হট্টগোল সৃষ্টি করে,  অথচ কাশেম নিজেই গত ১৬ বছর  আওয়ামীলীগ সুবিধা ভোগী কর্মী ছিল। কাশেমের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় হাতাহতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সম্মেলন থেকে তাড়িয়ে দেন কাশেমকে। পরে অরন্ডি কাশেম ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় এজাহার নামীয় ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ জনকে আসামি করে একটি  মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা  সৃষ্টি হয় এলাকাতে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,বারপাড়া গ্রামের মৃত. আজগর আলীর ছেলে অরন্ডি কাশেম বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ওঠাবসা করে নানান সুবিধা ভোগ করেন। আওয়ামীলীগ দলীয় তকমা ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে নানান অপকর্মে জড়িয়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষের জায়গা জমি ঘরবাড়ি দখল লুটতরাজসহ নানান অপকর্ম চালিয়েছিল। ওই এলাকায় সে আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল হিসেবে বেশ পরিচিত। আওয়ামীলীগ নেতাদের গুপ্তচর হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ গ্রহণ করে সেখানকার খবর পৌছে দিতেন আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে। এছাড়াও মিটিং গুলাতে এলাকার কে কে অংশ নেয় তার লিস্ট পৌছে দিতো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে। ফলে বিভিন্ন হুমকি-ধমকির সম্মুখীন হতো  স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা। আওয়ামী লীগের লোকদের সাথে মিলিত হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট চুরিতে সবার আগে থাকতেন কাশেম। ২০২১ সালের ৩০শে জানুয়ারী বরুড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষ হয়ে বরুড়া কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে বরুড়া উপজেলা বিএনপি নেতাদের ধাওয়া খান  এ কাশেম।

২০১৯ সালে রতনপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আওয়ামীলীগ কর্মী খলিল গং এর দীর্ঘদিন জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় খলিলের  পক্ষে জাহাঙ্গীরের জায়গা দখলের উদ্দেশ্য তার বাড়িঘর হামলা করে ভাঙচুর করে বাড়ি ঘর লুটপাট করে। এ সময় জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে আহত করে । এ ঘটনায় অরন্ডি কাশেমসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন লোকদের বিরুদ্ধে ১২ নভেম্বর  জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নাসিমা বেগম  সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলা নাম্বার জি আর ৫২৫/১৯। তার বিরুদ্ধের এ মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।

এছাড়াও জাহাঙ্গীরের সাথে জমি বিরোধের শত্রুতার জেরে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আব্দুল লতিফকে কাশেম ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য লোকজন মিলে খলিলের পক্ষ হয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর আব্দুল লতিফের স্ত্রী মোহসেনা বেগম কাশেম ও আওয়ামী লীগের লোকদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন । মামলার নাম্বার জি আর ৪৭১/১৯। কাশেমের এ মামলাটিও এখনো চলমান।

২০১২ সালে হরশপুর গ্রামের বিল্লালের পুত্র আবুল হোসেন গংদের সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আলী আক্কাছের জমি নিয়ে বিরোধে আলী আক্কাসের পক্ষ নিয়ে কাশেম আওয়ামী লীগের লোকদের সাথে নিয়ে বিল্লালের জমির দখল দিতে গেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায়  আবুল হোসেন বাদী হয়ে অরন্ডি কাশেম সহ অন্যদের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছিল।

২০১৪ সালে রতনপুর গ্রামের মরহুম নুরুল ইসলামের সাথে ধর্মপুর গ্রামের জহির গংদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে দীর্ঘদিনের। নূরুল ইসলামের বাড়িতে বসতের সাথের ঘাস জমি দখল করতে আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে আসেন এ কাশেম।  এসময় দু পক্ষের সংঘর্ষ হয় সংঘর্ষে নুরুল ইসলামের মাথা ফাটিয়ে তাদের জমি দখলে নেয় কাশেম সহ আওয়ামীলীগের লোকেরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয় পত্রপত্রিকা ও মিডিয়ায়। পরে নুরুল ইসলাম এর স্ত্রী ছালেহা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় কাশেম ও আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৩ সালে রতনপুর গ্রামের মিজানুর রহমান গংদের সাথে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা খলিল গংদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধে কাশেম ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য লোকজন মিজান গংদের জমি দখল দিতে গেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এ ঘটনায় ২২/০১/২০১৩ তারিখে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে কাশেমসহ অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নাম্বার ৩৯/১৩।

এছাড়াও ২০১৮ সালে বারপাড়া গ্রামের হিন্দুপাড়ার সুভাষ গং এর সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ির দীনেশ গং এর বসতের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিলো।এ ঝামেলায় কাশেম সুবিধা নিতে আওয়ামিলীগ নেতাদের সাথে নিয়ে দীনেশের পক্ষে বার বার জমি দখল করতে যায়।এক পর্যায়ে দীনেশকে ট্যাপে পেলে যায়গা দখলে নিয়ে জমির মালিক বানিয়ে দিবে আশ্বস্ত করে আওয়ামীলীগের দলীয় পাওয়ারের প্রভাব খাটিয়ে ঐ জমির পাওয়ার দলীল নিয়ে নেয় কাশেম ও আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর। পাওয়ার দলীর নাম্বার ৩৯৭৮। পাওয়ার দলীল নেয়ার পরে জমি সহজে দখলের জন্য সুবাস গংদের হয়রানী করার উদ্দেশ্যে কাশেমের স্ত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ এনে কাশেম বাদী হয়ে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ নং আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নাম্বার ৩৭৩/১৮।এ মামলায় সুবাস সহ একাধিক বিএনপি কর্মীকে হয়রানী করা হয়।

পরে সদর দক্ষিণ  উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার ও স্হানীয় লোকদের মাধ্যমে শালিশ মিমাংসা করা হয়। শালিশে এ জমির মালিক সুবাস গং সাব্যস্ত হয়। এছাড়াও কাশেমের বিরুদ্ধে আরো অনেক মামলা ও অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।গত ২১শে মে২০২৪ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন ইন্জিনিয়ার রিপন। সে নির্বাচনের কেন্দ্র খরচের ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এলাকায় গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে থেকে সুবিধাভোগী এ কাশেম এত অপকর্মের পরেও কিভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে ওঠাবসা করে?নিজ দলীয় লোকের টাকা আত্মসাৎ করা কাশেমকে ওয়ার্ড সমন্বয়কের দায়িত্ব কি ভাবে দেয়া হয়? এছাড়া হঠাৎ করে বিএনপিতে এসে নেতা দাবী করলেই কি ১৬ বছরের অপকর্মের পাপ মোচন হয়ে যাবে এমন প্রশ্ন এলাকার সকলের মুখে।

০৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর থেকে সাদা পাঞ্জাবি পরে নিজে বিএনপির ত্যাগি নেতা দাবী করে ওঠা বসা শুরু করেন বিএনপি নেতাদের সাথে। স্কুলের গণ্ডি পার হতে না পারা কাশেম সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে দখলের চেষ্টা করেন এলাকার গ্রাম্য সালিশের বিচারের আসন অথচ তার বিরুদ্ধেই শত অন্যায় ও জমি দখলের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় ভাবে ঘোষণা  অনুযায়ী আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া দলের ক্ষতি করা কোন লোক আপাতত বিএনপিতে আসার কোন অনুমতি না থাকা সত্বেও কিভাবে সে রং বদলিয়ে বিএনপিতে আসে সে প্রশ্ন এলকাবাসীর মুখে মুখে। এছাড়াও তার এসব অতীত ভূলে বিএনপি নেতারা তাকে সাথে নিয়ে অনুস্ঠানের মঞ্চে বসার কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতা কর্মীরা।তারা মনে করেন এমন ব্যাক্তিরা দলে বিষফোঁড়া।

এছাড়া রতনপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিন বলেন, এ অরন্ডি কাশেম একজন ক্রিমিনার প্রকৃতির লোক সে গত ১৬ বছর আওয়ামিলীগ নেতাদের সাথে থেকে এলাকার লোকদের জ্বালাইছে আওয়ামী লীগের পক্ষ হয়ে বিএনপির অনেক কর্মীর জমি দখল করেছে এখন বোল বদলে নিজেকে বিএনপির নেতা দাবী করে বিএনপিতে এসে এলাকার বিএনপির রাজনৈনিক পরিবেশ নষ্ট করতেছে। আমি একটি সংবাদ সম্মেলনে তার ক্রিমিনালীর একটা প্রতিবাদ করেছি।গত ২৫ অক্টোবর বারপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কমিটি নির্বাচনের সময় সে অন্যায় ভাবে হাত তোলে আমার প্রতিপক্ষ রুহুল আমিন কে সমর্থন করেছে অথচ সে ৯নং ওয়ান্ডের লোক।এলাকার রাজনৈনিক পরিবেশ তার জন্য নষ্ট হচ্ছে তার জন্য আর তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে রতনপুর এলাকার বিএনপির কিছু লোক।তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে কাশেম এলকার বিএনপির এ নেতাতের সাথে রেখে অতীতের সকল কর্মকান্ড আবার ও চালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।তা না হলে তার সম্পর্কে সবকিছু জেনেও তারা কেন এ ক্রিমিনাল কে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে একই মঞ্চে বসে?এবং তাদের সাথে রেখে বিএনপির রাজনীতিতে এনে এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ করে দেয়? যার প্রমান স্বরুপ বলতে চাই সে দিন বারপাড়া স্কুলে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা বিএনপির ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের নেতাদের সামনে ঘটেছে। বিষয়টা সমাধান না করে মামলা পর্যন্ত গড়ায়।কাশেম আওয়ামীলীগের চামচা হয়ে মামলা করার সাহস পায় কোথায়? এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ ধ্বংস করতে এমন একজন কাশেম যথেষ্ট। দ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে খারাপ যে কোন পরিস্হিতির দায়ভার নেতৃবৃন্দের নিতে হবে।

এসব বিষয়ে কাশেমকে  মুঠোফোনে  জিজ্ঞাসা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আর কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং যেকোনো হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চায়।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার সাংবাদিকদের জানান, “আমরা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখতে চাই।”

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় যে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো হামলার ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে এই একই অবস্থান ধরে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

কমলার পরাজয়ের জন্য

কমলার পরাজয়ের জন্য বাইডেনকে দুষলেন ন্যান্সি

কমলার পরাজয়ের জন্য বাইডেনকে দুষলেন ন্যান্সি

ডেস্ক রিপোর্ট:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি পেলোসি বলেন, জো বাইডেন যদি আগেই নির্বাচনি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াতেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা আরও ভালো ফল করতে পারতেন।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট যদি প্রচারণায় না থাকতেন, তাহলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা আরও ভালো করত।” মঙ্গলবারের নির্বাচনে হেরে ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তার এই মন্তব্য বাইডেনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

জুলাইয়ের শেষের দিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর বাইডেন নির্বাচনি ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর তিনি তড়িঘড়ি করে ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন।

ন্যান্সি বলেন, বাইডেন সরে যাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বাইডেন তাড়াহুড়ো করে কমলাকে মনোনীত করেন।

ন্যান্সি মনে করেন, যদি বাইডেন শুরু থেকেই কমলাকে বাদ দিয়ে অন্য ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে প্রচারণা চালাতেন, তাহলে হয়তো কমলা হ্যারিস নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারতেন। এছাড়া, বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং ইসরায়েলপন্থী অবস্থান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি

মোঃ শরিফ খান আকাশ:

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১ টি টয়োটা গাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলাধীন সীমান্তের টিক্কারচর এলাকা থেকে অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়।

সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিজিবি সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা আদর্শ সদর সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ানের বিওপির একটি টহল দল।

এ সময় বিজিবির অবস্থান টের পেয়ে আদর্শ সদর সীমান্ত পিলার ২০৮০/এম থেকে আনুমানিক ২ কিঃ মিঃ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টিক্কারচর নামক স্থানে অবৈধ মালামাল গুলো জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করে তল্লাশি চালানো হলে তাতে ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৬৪,০০০ পিস ও একটি টয়োটা গাড়ি পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা।

এব্যপারে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০বিজিবি) পিএসসি, এসি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এ এম জাবের বিন জব্বার বলেন, সর্বদা সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৬০ বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে।

ধ্বংসস্তুপ হয়ে আছে মৌলভীপাড়া পুকুরের চারপাশ, অসহনীয় ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা নগরী ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে উপমহাদেশের সময় থেকেই  পরিচিত।  নগরীজুড়ে যে কয়েকটি বড় পুকুর  রয়েছে তার মধ্যে  কুমিল্লা নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের পুরাতন মৌলভীপাড়ার পুকুরটি অন্যতম। এই পুকুর ও পুকুরের চারপাশের রাস্তা  এই ওয়ার্ডের কাশারীপট্টি, পুরাতন মৌলভীপাড়া, কাটাবিল, বজ্রপুর এলাকার প্রায় ১২ হাজার মানুষের ব্যবহারের অন্যতম উৎস। এই পুকুরের চারপাশ ৩টি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম পথ। এছাড়া এই পুকুরের পানি গোসলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছে তিন গ্রামের  মানুষ।

কিন্তু বিগত ৮ মাস ধরে এই পুকুর ও চলাচলের ৩ পাশের রাস্তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ৮ মাস পূর্বে পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে অত্যাধিক  মাটি তুলে বিক্রি করায় পুকুরের ৩ পাশের রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। বিদ্যুতের খুঁটিগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।  রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। এখন যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় মানুষ কোনরকমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। ৫ই আগষ্টের পূর্বে এই সড়কটি পুণ:নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা  হয়। কাজ পেয়েছিলেন স্থানীয় কুসিক কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য কাজ শুরু করে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। সম্প্রতি কাজ শুরু করার কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোন কাজ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন জানান, ৮ মাস ধরে এই পুকুর ও ৩ পাশের রাস্তার বেহাল অবস্থা। কাজে ধীরগতি, এখন আবার ২/৩ মাস ধরে কাজ বন্ধ । ফলে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। রাস্তাটির  দ্রুত  সংস্কার দরকার।

সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  মো: ছামছুল আলম জানান, এ রাস্তার কাজটির টেন্ডার হয়েছে। কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোন একটা কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। আমি সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়েছি। ঠিকাদার আবার কাজ শুরু করেছে। কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য ঠিকাদারের হাতে এখনো ৯ মাস সময় আছে।

কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে

কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশু নিহত

কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশু নিহত

স্টাফ রিপোটার:

কুমিল্লায় বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ছগুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু শিক্ষার্থীরা হলেন জুনায়েদ হোসেন (১২) এবং ফাহিমা (৯)। তারা উভয়ই হোসেনপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সন্তান এবং ছগুরা এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে জাহাঙ্গীর আলম তার দুই সন্তানকে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ছগুরা আবাসিক মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। মাদ্রাসার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সুগন্ধা পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জুনায়েদ ও ফাহিমা প্রাণ হারায়। এ দুর্ঘটনায় তাদের বাবা জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও তিনজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, সুগন্ধা পরিবহণের বাসটি সিএনজির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়, যার ফলে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। দুর্ঘটনার পর বাস ও সিএনজি উভয় যানবাহনকে জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লায় পিকআপ ভ্যানের

কুমিল্লায় পিকআপ ভ্যানের বডির ভিতর থেকে গাঁজা উদ্ধার, আটক ২

 

স্টাফ রিপোর্টার:

অভিনব কায়দায় পিকআপ ভ্যানের বডির ভিতরে গোপনে প্রকোষ্ট বানিয়ে গাঁজা পরিবহন করার সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব ১১ সিপিসি ২। এই সময় তাদের কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ মাদক বহনকারী একটি পিক আপ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার তৈলকুপি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন হৃদয় (১৯) কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার মিরপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে এবং মোহসীন (৫৮) মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার ধীরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য আসে একটি পিক আপের বডির ভিতরে প্রকোষ্ঠ বানিয়ে মাদকের চালান যাচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর উপজেলার তৈলকুপি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। আটক করা হয় পিক আপটিকে। পিকআপের বডির ভিতরে প্রকোষ্ঠ তৈরি করে মাদক সাজিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এই ব্যবসায়ীরা। পরে পিক আপের বডি খুলে মাদক উদ্ধার করে র‍্যাব সদস্যরা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ১১ সিপিসি ২ কোম্পানি অধিনায়ক লে: কমান্ডার মাহমুদুল হাসান বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন যাবত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করতো। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী প্রক্রিয়ার জন্য কোতোয়ালি থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি নামবে শীত

নভেম্বরের মাঝামাঝি নামবে শীত, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহ

নভেম্বরের মাঝামাঝি নামবে শীত, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহ