All posts by jitu

বন্যায় কুমিল্লার

বন্যায় কুমিল্লার পাঁচ উপজেলায় শতাধিক ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষতি

বন্যায় কুমিল্লার পাঁচ উপজেলায় শতাধিক ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রলয়ংকরী বন্যায় কুমিল্লার পাঁচ উপজেলার শতাধিক ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ এবং বুড়িচং উপজেলাগুলোর অধিকাংশ ইটভাটা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তবে দাউদকান্দি, মেঘনা, হোমনা, তিতাস, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা ও মুরাদনগরের ইটভাটাগুলোর ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানা গেছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, বুড়িচং এবং মুরাদনগর উপজেলার প্রায় ৭০-৮০টি ইটভাটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যার কারণে এসব ভাটাগুলোর কিলনের দেওয়াল এবং জিগজ্যাগের পাইপ লাইন নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটাগুলো মেরামত করতে ২০-৩০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

ইটভাটার মালিকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ বন্যার কারণে মেশিনপত্র, মূল্যবান দলিলাদি এমনকি গাড়িগুলোও সরিয়ে নেওয়া যায়নি, ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া কাজ না করিয়েও শ্রমিকদের বেতন এবং খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির কুমিল্লা জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং লাকসাম শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, তার ব্রিক ফিল্ডে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রাম শাখার সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, তার উপজেলায় ৪০টি ব্রিক ফিল্ডের প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বুড়িচং থানার ওসি আবুল হাসানাত খন্দকার জানান, এ উপজেলায় ২৪টি ইটভাটার মধ্যে ১১টির ক্ষতি হয়েছে। এসব ভাটার প্রতিটি মেশিনের মূল্য ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত, ফলে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ লাখ টাকা।

তবে, দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় কোনো ইটভাটায় বন্যার কারণে তেমন ক্ষতি হয়নি বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মুহাম্মদ রাজীব জানান, কুমিল্লায় ২৯১টি ইটভাটার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি সম্পূর্ণরূপে নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে, এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

জনবল নিয়োগ দেবে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

ডেস্ক রিপোর্টঃ

‘ড্রাইভার’ পদে জনবল নিয়োগ দেবে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আগ্রহীরা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১

জনবল নিয়োগ

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: কুমিল্লা

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহীরা কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের ঠিকানা: জেনারেল ম্যানেজার, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, চান্দিনা, কুমিল্লা। ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। সরাসরি আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: জেনারেল ম্যানেজার, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অনুকূলে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার করতে হবে। টাকা জমার রশিদ অবশ্যই আবদেনপত্রের সঙ্গে পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: ইত্তেফাক, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কুবিতে সাংবাদিকের

কুবিতে সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

কুবিতে সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বের সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সাংবাদিকদের দৌড় কতটুকু দেখার হুমকিও দেন তারা।

শুক্রবার রাত ১১ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পুরাতন ব্লকের পাঁচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ঐ সংবাদকর্মী দৈনিক ভোরের ডাক ও ডেইলি বাংলাদেশ পত্রিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রকিবুল হাসান। মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকারীরা শিক্ষার্থীরা হলেন, বাংলা ১৬ তম ব্যাচের হামিদুর রহমান, আইন বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের ওলি আহমেদ দয়াল শাহ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের ওবায়দুল্লাহ ও মার্কেটিং বিভাগের ১৫ তম মুনতাসীর। এছাড়াও এসময় সাংবাদিককে গালি দেন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুদীপ চাকমার রুমের সামনে থেকে ফুলের টব নিয়ে আসেন বাংলা ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকুর। সুদীপ বিষয়টি জানতে পারলে সাকুরের রুমের সামনে বিবাদে জড়ায়। পরে এসময় সুদীপকে পায়ে ধরে মাফ চাওয়ানো হলে সেটি নিয়ে ফের সাকুরের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা৷ এসময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রতিবেদকের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় একজন সংবাদকর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাংবাদিকদের দৌড় কতটুকু তা দেখে নিব।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ চাকমা বলেন, আমার রুমের সামনে গাছগুলো আমার দাদা উপহার দিয়েছিল। হলে দেখি গাছগুলো নাই। খুঁজতে খুঁজতে ৫০৬ নম্বর রুমের সামনে গাছগুলো দেখে উত্তেজিত হয়ে যাই। পরবর্তীতে আমি উপলব্ধি করলাম, এটা করা উচিত হয়নি।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর সাকুর গাজী বলেন, প্রথমে সুদীপ আমার সাথে রাগারাগি ও গালিগালাজ করছিল। পরে আবার ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু সবাই মনে করেছে সুদীপ আমার পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু এটা সঠিক নয়। সে নিজেও স্বীকার করেছে। পরে আমার রুমের সামনে এটা নিয়ে সুদীপের ডিপার্টমেন্টের পোলাপান উচ্চবাচ্য করেছে।

সংবাদকর্মীর ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও তাকে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এ বিষয়ে হামিদ বলেন, ওখানে একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলতেছিলো। হুট করে ঢুকে ভিডিও করা শুরু করে। হুট করে উনি ওখানে ভিডিও করবে কেন? আর উনি সংবাদকর্মী হলেই সব জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ করবে! তাছাড়া, ওখানে ধাক্কাধাক্কির মাঝে হয়তো ধাক্কা লাগতে পারে। আমি ইচ্ছা করে দেইনি।

এ বিষয়ে জানতে মার্কেটিং বিভাগের মুনতাসীরকে কল দেওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপনি আমাকে কল দেওয়ার কে? আমিতো সেখানে একা ছিলাম না। আরো অনেকেই ছিল।

সংবাদকর্মীকে ধাক্কা দেওয়া ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দয়াল বলেন, উনি সাংবাদিক বলে হুট করে ভিডিও ধারণ করতে পারেন না। এটা হলের ইন্টার্নাল বিষয়।

সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া ও বিচারের বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধু হলে যেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কালকে হলে ঘটেছে তা সাধারণত হল প্রভোস্ট হ্যান্ডেল করেন। কিন্তু হলে যেহেতু প্রভোস্ট নেই তাই জড়িত ডিপার্টমেন্টের সাথে আলোচনা করেছি। একজন সংবাদকর্মীকে সংবাদ সংগ্রহে কোনো ভাবেই বাধা দেওয়া যায় না। তিনি নিজের প্রফেশনাল কাজ করছেন। বরং তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা উচিত ছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

কুমিল্লায় দা'ঈ প্রশিক্ষণ

কুমিল্লায় দা’ঈ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় দা’ঈ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মহানগরীর মানবসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে দা’ঈ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার কুমিল্লা নগরীর একটি কলেজের হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালার মূল বিষয় ছিল ‘প্রতিকূল পরিবেশে দাওয়াতী কাজের কৌশল’।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ‘প্রতিকূল পরিবেশে দাওয়াতী কাজের কৌশল’ বিষয়ে আলোচনা করেন কুমিল্লা মহানগরীর মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সোহেল।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা রাখেন, হাজীগঞ্জ আহমদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা ড. হিফজুর রহমান, একই মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস আবু নছর আশ্রাফী, দেবিদ্বার ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো: আলাউদ্দিন, ইসলামী আলোচক নাগাইশ দরবারের পীর মাওলানা মোশতাক ফয়েজী, অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মাসউদ, ড. আবু উসামা, অধ্যাপক সহিদুল ইসলাম, মাওলানা সাইফুল হক চৌধুরী, মাওলানা তাজুল ইসলাম ও মুফতি মাহবুবুল আলম।

 

মুখোশের অন্তরালে

মুখোশের অন্তরালে দিলীপ আগরওয়ালার মাফিয়া সাম্রাজ্য

মুখোশের অন্তরালে দিলীপ আগরওয়ালার মাফিয়া সাম্রাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার:

সোনা চোরাচালানকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। অর্থবিত্ত আর অবৈধ সম্পদের সিঁড়ি বানিয়ে হয়ে ওঠেন অপরাধজগতের বেপরোয়া মাফিয়া

 

মানবিকতার ফেরিওয়ালা সেজে মুখোশের আড়ালে সোনা চোরাচালানের অপ্রতিরোধ্য নায়ক হয়ে ওঠা দিলীপ আগরওয়ালার উত্থান সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে উঠে আসা সাধারণ দিলীপ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতা, নারী আর সোনা চোরাচালানকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। আর এটিকেই নিজের অর্থবিত্ত আর অবৈধ সম্পদের সিঁড়ি বানিয়ে হয়ে ওঠেন অপরাধজগতের বেপরোয়া মাফিয়া। নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার পরিচয়ে সভা-সমাবেশে, বক্তব্যে অনিয়ম-দুর্নীতি, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সততার বন্দনা করেছেন অবিরাম।

অথচ আড়ালে ছিলেন অন্ধকারজগতের কারিগর। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের নাম ভাঙিয়ে গত দেড় দশকে গ্রামের সাধারণ দিলীপই হয়ে ওঠেন হাজার কোটি টাকার মালিক।

সরেজমিন চুয়াডাঙ্গা ঘুরে ও তাঁর এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্যই পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দিলীপ আগরওয়ালার মুখোশের আড়ালের ছবিটি সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতেন না।

সবার চোখে ধুলা দিয়ে চোরাকারবারির কালো অধ্যায় গড়ে তুলেছেন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেতা দীলিপ কুমার আগরওয়ালা। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বন্ধু ওয়াজ কুরুনি টিটুর সঙ্গে চুয়াডাঙ্গায় ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন দিলীপ। ঠিকাদারি ব্যবসায় সুবিধা করতে না পারলেও নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে জনরোষের শিকার হয়ে পালিয়ে যান ঢাকায়। সেখানে গিয়ে তাঁর কাকা পবন আগরওয়ালার সঙ্গে সিনেমার কাজ শুরু করেন।

সেই সুবাদে তখনকার উঠতি বয়সী মডেল-নায়িকাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন দিলীপ। সিনেমা ব্যবসার পাশাপাশি রাজধানীতে সোনার দোকান ছিল পবনের। সেই ব্যবসার কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান দিলীপ।

চতুর দিলীপ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিশেই সোনা ব্যবসার গোমর জেনে যান। কৌশলে বাড়তি অর্থ আয়ের পথ খুঁজে বের করেন তিনি।

সীমান্তবর্তী এলাকায় জন্ম নেওয়া দিলীপের চোরকারবারিদের সঙ্গে কৈশোর থেকেই চেনাজানা ছিল। ফলে সহজেই সীমান্তবর্তী চৌগাছা, মহেশপুর ও জীবননগরের বিভিন্ন পয়েন্টের কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছিলেন না দিলীপ। এরপর কৌশল হিসেবে উঠতি বয়সীদের নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। যারা বিনিয়োগের জন্য অর্থের সংস্থান করে। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ধীরে ধীরে ব্যবসার সম্প্রসারণ করেন তিনি।

সূত্র বলছে, ব্যবসার শুরুতে পবনের দোকান থেকে দুবাই, সিঙ্গাপুর থেকে পাচার হওয়া সোনা সংগ্রহ করতেন ব্যবসায়ীরা। ধীরে ধীরে এই ব্যবসা প্রসার হতে থাকে। ২০০৫ সালের দিকে কৌশলে পবনের প্রতিষ্ঠান দখলে নিয়ে গড়ে তোলেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন আমলা-মন্ত্রীদের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। এমনকি তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্য উঠতি বয়সী মডেল ও নায়িকাদের ব্যবহার করতে থাকেন। এরপর দিলীপকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।
ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা ছাড়াও ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা সীমান্তে গড়ে তোলেন শক্ত সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার, যশোরের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহিন চাকলাদার, ঝিনাইদহের আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুল করিম মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলমসহ কয়েক উপজেলার অন্তত ২৫ জন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ছিলেন বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে। এক পর্যায়ে দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ থেকে অবৈধ পন্থায় সোনা এনে ভারতে পাচার করতে থাকেন। এভাবেই কয়েক বছরের ব্যবধানে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

মানবসেবার গাড়িতে সোনা পাচার

‘মানবসেবাই ধর্ম’ স্লোগানে দিলীপ কুমার তাঁর মা তারা দেবীর নামে চুয়াডাঙ্গা শহরে গড়ে তোলেন তারা দেবী ফাউন্ডেশন। কথিত এই মানবিক ফাউন্ডেশন জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন নেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ফাউন্ডেশনের আড়ালে সোনা চোরাচালান করতেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এ জন্য ফাউন্ডেশনের নামে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সও কেনেন। অ্যাম্বুল্যান্সগুলো মাঝেমধ্যে দিনের বেলায় জনসেবার জন্য ব্যবহৃত হলেও রাতে সোনা নিয়ে সীমান্তের দিকে ছুটে চলত বলে জানিয়েছে স্থানীয় অনেকেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মানবাধিকারকর্মী জানান, এজাতীয় প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিভাবে চলছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। এ রকম শত শত প্রতিষ্ঠান মানবিক কর্মকাণ্ডের নামে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশিদ বলেন, ‘তারা দেবী ফাউন্ডেশনের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। এমনকি ওই নামের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আবেদনও করা হয়নি।’

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রজীবনে অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির ছিল দিলীপ। সে সময় তার পারিবারিক সচ্ছলতা ছিল না। তার বাবা একটি সিনেমা হল পরিচালনা করতেন। হঠাৎ করেই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যায় সে। বছর দুয়েক আগে লোকমুখে শুনি দিলীপ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। শুনে আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছিল। পরে জানতে পারলাম সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে সে। এখন এলাকায় এসে সততার মুখোশ পরে মানবিক কাজকর্ম করে দানবীর হতে চাচ্ছে।’

দিলীপের স্কুলজীবনের সহপাঠী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিলীপ পড়ালেখায় তেমন ভালো ছিল না। টেনেটুনে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ার পর্যন্ত পড়েছিল। অভাব-অনটনে পড়ে নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে ঢাকায় চলে যায়। সে সময় এলাকায় আসত না দিলীপ। হঠাৎ ২০০৯ কিংবা ২০১০ সালের দিকে দামি গাড়িতে করে এলাকায় আসে। তখন তার মুখ থেকেই শুনলাম সে নাকি আওয়ামী লীগের বড় নেতা হয়েছে। বড় বড় মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে মোবাইল ফোনে ছবি দেখাল।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরে জানতে পারি, দিলীপ সোনা চোরাকারবারে জড়িয়ে এত অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে। এলাকায় তারা দেবী ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছে। শুনেছি ওই প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে অবৈধ সোনা চোরাচালান করে থাকে দিলীপ।’

মাদকের আগ্রাসন

রূপগঞ্জে মাদকের আগ্রাসন; নিয়ন্ত্রণে পাপ্পা গাজী এমদাদ, মিজান

রূপগঞ্জে মাদকের আগ্রাসন; নিয়ন্ত্রণে পাপ্পা গাজী এমদাদ, মিজান

স্টাফ রিপোর্টার:

 

রাজধানী ঢাকার পাশের উপজেলা রূপগঞ্জ। ব্যস্ত এই উপজেলায়ও প্রসার ঘটছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প-কারখানার। কাজের প্রয়োজনে তাই এখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি বসবাস বাড়ছে বহিরাগতদেরও। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই উপজেলায় বিস্তার ঘটেছে মাদকের।

দ্রুত ধনী হওয়ার নেশায় অনেকেই এ কাজে জড়াচ্ছে। পুলিশ কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের নজরদারি কম থাকায় ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ ব্যবসা। স্থানীয় তথ্য বলছে, গোলাম মূর্তজা পাপ্পা গাজী, এমদাদুল হক দাদুল ও মিজানুর রহমান মিজানের হাতেই মূলত রূপগঞ্জের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ। তাঁদের আশ্রয়-প্রশয়ে রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে এ ব্যবসা চালিয়ে গেছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। মাদক ব্যবসার বদৌলতে রূপগঞ্জেই কোটিপতি হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। গত এক দশকে রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসার ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ১৪ জনের খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর গত এক বছরেই মাদক আইনে মামলা হয়েছে ৩৮টি এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৪ জনকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপগঞ্জে মাদকের এই যে কারবার, এর মূল হোতাই গোলাম দস্তগীর গাজীর ছেলে গোলাম মূর্তজা পাপ্পা, এমদাদুল হক দাদুল ও মিজানুর রহমান মিজান। রূপগঞ্জের ফেনসিডিলের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজের হাতে। জানা গেছে, রূপগঞ্জেও ৪০০ স্পটের মাদকের টাকা যেত এঁদের তিনজনের কাছে। প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার ভাগ পেতেন তাঁরা। চনপাড়া পুনর্বাসনের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক ছিলেন শমশের আলী।

আর শমশেরের মাধ্যমে এমদাদের কাছে প্রতি মাসে যেত ২০ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, রূপগঞ্জ শিল্প এলাকা হওয়ায় ভাসমান শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। এসব শ্রমিককে টার্গেট করে এক শ্রেণির মাদক ব্যবসায়ী শিল্প-কারখানার আশপাশে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ আবাসন কম্পানি গড়ে ওঠায় এসব এলাকায় জমির ব্যবসাও জমজমাট। জমির ব্যবসার কাঁচা টাকা হাতিয়ে নিতে এক শ্রেণির মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে বলতে গেলে রূপগঞ্জের অনেক কিছুই এখন এই মাদককে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের এক শ্রেণির লোক অসৎ রাজনীতিবিদ এবং অসাধু পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কিছু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এলাকায় মাদক বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছে। গড়ে তুলছে টাকার পাহাড়। বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও ভেতরে ভেতরে তারা মিলেমিশে ওই কাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা, তারাব পৌরসভা, কায়েতপাড়া, দেইলপাড়া, নগরপাড়া, ইছাপুরা, বাগবাড়ী, দাউদপুর, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, ভুলতা ইউনিয়ন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চনপাড়া বস্তি হচ্ছে মাদকের হাট। এখানে সন্ধ্যা হলেই ফেনসিডিল ও ইয়াবা মেলে। দাউদপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম, গোবিন্দপুরসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে চোলাই মদের কারখানা।

বিভিন্ন গবেষণা তথ্য থেকে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৭০ হাজার মাদকসেবী রয়েছে। বছরে এসব মাদকসেবীর অপচয় হয় প্রায় ১২২ কোটি টাকা। মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে প্রায় ৫০০। আর খুচরা ব্যবসায়ীও প্রায় এক হাজার ২০০। এসব মাদকের ছোবলে হাজার হাজার তরুণের জীবন প্রায় বিপন্ন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও রাঘব বোয়ালরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, রূপগঞ্জে সড়ক ও নৌপথে অবাধে মাদকদ্রব্য আসে বলে জানান পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা। মাদক প্রবেশের সবচেয়ে নিরাপদ রুট হচ্ছে বালু নদ। এ নদে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে মাদক আনা-নেওয়া করে। এ ছাড়া শীতলক্ষ্যা নদ দিয়েও মাদকদ্রব্য রূপগঞ্জে ঢোকে। এই নদ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজে করে মাদক ঢোকে রূপগঞ্জে। এদিকে কুমিল্লা থেকে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে মাদক ঢোকে রূপগঞ্জে। আশুগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে মাদক ঢোকে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা হচ্ছে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট। আখাউড়া, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইন বাস, নাইট কোচ, সংবাদপত্রবহনকারী মোটরসাইকেল কিংবা ট্রাকযোগে ওই এলাকায় আসে।

পাচারের নানা কৌশল : পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে মাদক বহন করে থাকে। ইয়াবা ও ফেনসিডিল বহন করা হয় লাউ, নারিকেল আর ম্যাচের বাক্সের ভেতরে করে। হেরোইন বহন করা হয় মিষ্টির প্যাকেটের ভেতরে করে। আর গাজা বহন করা হয় চটের ব্যাগের ভেতরে করে। মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হয় কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের। সূত্রটি জানায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের দিয়ে মাদক বহন করা হয়। মহিলাদের স্পর্শকাতর জায়গায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাজা রেখে বহন করা হয়। মাদক ব্যবসার সুবিধার্থে রূপগঞ্জে সাত শর বেশি শিশু-কিশোর সেলসম্যান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

মাদককে ঘিরে ১৪ খুন : থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, গত ১০ বছরে নেশার কাজে বাধা ও প্রতিবাদে ১৪ জন খুনের শিকার হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট মাদকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের মাহনা এলাকায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম মোল্লাকে তাঁর নেশাসক্ত ছেলে মিলন মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা হত্যা করে। ২০১৪ সালে চনপাড়া বস্তিতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় তারা মিয়া নামে একজনকে খুন করে পিচ্চি মালেক। ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর চনপাড়া বস্তিতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে দিবালোকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ীরা।

২০২১ সালে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মাছিমপুর এলাকায় নজরুল ইসলাম বাবু নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। ২০১৮ সালে হাটাবো এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সোহেল মিয়া নামের এক যুবককে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহেদী হাসান বাবুকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২০ সালের ৬ মে চনপাড়ায় মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারকে হত্যা করা হয়। ২০২০ সালের ৩১ মে রূপসী কাজীপাড়া এলাকায় রাজনকে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের চনপাড়া পুনর্বাসনের খোরশেদ আলমকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর মুড়াপাড়া এলাকায় দ্বীন ইসলামকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে পাঁচ শতাধিক। মাদক সেবন করে গত কয়েক বছরে মারা গেছে পাঁচজন।

১৫ মাদক সম্রাজ্ঞী : রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ২০ মাদক সম্রাজ্ঞী মাদক জগৎ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের কেউ ড্রাগ কুইন, ফেন্সি কুইন, মাদক সম্রাজ্ঞী, কালনাগিনী নামে পরিচিতি লাভ করেছে। আবার কারো বা নাম ডেঞ্জার লেডি। এরাও এলাকায় মাদক ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ সমাজকে ক্ষতির মুখে নিয়ে যাচ্ছে। এরা মাদকের পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপেরও বিস্তার ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্ৰশাসনের বক্তব্য : রূপগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত যোবায়ের হোসেন বলেন, ‘মাদক নিয়ে রীতিমতো অভিযান চলবে। রূপগঞ্জে অনেক এলাকা দুর্গম। এসব এলাকায় যেতে অনেক সময় লাগে। এই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।’ বেচাকেনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘অনেক সময় ভুলে মাদক সেবনকারীদের ধরে নিয়ে আসে। এ সময় তদবির হলে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

দাউদকান্দিতে যুবককে

দাউদকান্দিতে যুবককে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা