All posts by jitu

বন্যার্ত মানুষের ক্ষোভ

চৌদ্দগ্রামে আশ্রয়কেন্দ্রে চেয়ারম্যানের আগমনে বন্যার্ত মানুষের ক্ষোভ!

 

স্টাফ রিপোর্টার:

ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি এবং অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ২২শে আগষ্টের ভয়ংকর কালোরাতের আগেরদিন ও পরদিন চৌদ্দগ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করে। উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ৭-৮ শতাধিক মানুষ অবস্থান করে। এখানে মুসলমানদের পাশাপাশি বেশকিছু হিন্দু পরিবারও আশ্রয় গ্রহণ করে।

২৮শে আগষ্ট দুপুরে সরেজমিনে ধোড়করা আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, গত ২২শে আগষ্টের পর তারা চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু তাহের মজুমদার থেকে কোন ধরনের সহযোগীতা পান নাই। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হলে ২৬শে আগষ্ট সকালে চেয়ারম্যান কিছু পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এসময় আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের তোপের মুখে পড়েন চেয়ারম্যান আবু তাহের। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ইউনিয়নেরর সাঙ্গিশ^র গ্রামের লতিফা বেগম জানান, গত ২২শে আগষ্ট পরিবার নিয়ে এই আশ্রয়কেন্দ্রে আসি। আজ মঙ্গলবার চেয়ারম্যান মুরি এবং ১প্যাকেট বিস্কুট নিয়ে আমাদের দেখতে আসেন। আশ্রয়কেন্দ্রের বয়োবৃদ্ধ মহিলা হালিমা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান একদিন এসে দেখে গেছে। আমাদের খাবার, ঔষধ প্রদানে এ এলাকার স্বেচ্ছাসেবী ছেলেরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

শাকতলা গ্রামের প্রদীপ কুমার বলেন, আমাদের সকল দায়িত্ব সাধারন মানুষ পালন করছে। আমরা বাড়িতে কিংবা এখানে সরকারী কোন সহযোগীতা পাইনি। শাকতলা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মহিলা হোসনেয়ারা বলেন, ২২শে আগষ্টের পর থেকে আমরা কোন সরকারী ত্রাণ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের কোন ত্রাণ পাই নাই। আজ মঙ্গলবার চেয়ারম্যান কিছু চিড়া মুরি ও শুকনো বাটার বন নিয়ে আসে। আমরা বাড়িতে না থাকায় সামাজিক কোন সংগঠনের ত্রাণও পাই নাই। তাই চেয়ারম্যান আসায় অনেকেই ক্ষুদ্ধ হয়। পাশ^বর্তী নেতড়া পশ্চিমপাড়ার রোকসানা জানান, চক্ষুলজ্জায় চেয়ারম্যান আবু তাহের আজকে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা চেয়ারম্যান থেকে কোন সহযোগীতা পাইনি।

ধোড়করা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক শফিউল ইসলাম জিয়া বলেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার কোন সহযোগীতা করেনি। এই দুর্যোগেও তাদের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়।

স্থানীয় ইউপি সচিব রুহুল আমিন জানান, চলমান দুর্যোগে আমরা ৩টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এর মধ্যে ২টন চাল রাজনৈতিক নেতারা বিতরণ করবে বলে নিয়ে গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, বরাদ্দকৃত ২টন চাল রাজনৈতিক নেতারা বিতরণের জন্য নিয়ে গেছে। তারা কোথায় দিয়েছে জানি না। আশ্রয়কেন্দ্রের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সাধ্যমতো আজ মঙ্গলবার সহযোগীতা করেছি।

দেবিদ্বারে রুবেল হত্যা মামলা নিয়ে রাজনৈতিক ছলছাতুরি

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৪ আগষ্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করা হয় রুবেল নামের এক আন্দোলনকারিকে।পরে ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর নিহত রুবেলের এক আত্মীয় বাদি হয়ে ২০ আগষ্ট দুপুরে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরদিনই একই ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় নিহতের মা বাদি হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। আর এখানেই দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ এখানে বিএনপির দুই গ্রুপ এই দুই মামলা নিয়ে খেলছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বতন্ত্র এমপি আবুল কালাম আজাদের পাশাপাশি সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত নেই যে লোক, তাকেই আসামি করায় মামলাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে আশংকা করছেন অনেকেই।

৪ আগষ্ট সরকার পতনের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে স্বতন্ত্র এমপি আবুল কালাম আজাদ ও তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের ( যার ভিডিও নিউজ হয়েছে সব মিডিয়ায়) । আদালত ও থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় এমপি আজাদ ও তার ভাইদের আসামি করা হয়েছে। আর থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বতন্ত্র এমপি আবুল কালাম আজাদের পাশাপাশি সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলকে আসামী করায় ঘটেছে বিপত্তি। কারণ সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের সাথে সাবেক এমপি রাজী মো: ফখরুলের রয়েছে বৈরি সম্পর্ক। বিগত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর এমপি রাজী ফখরুল এলাকায় তেমন আসেন না। তার নেতাকর্মী বেশ কয়েকজন এমপি আজাদের গ্রুপে যোগ দিয়েছেন। বাকিরা নির্যাতন ও মামলায় এলাকা ছাড়া। এছাড়া এমপি রাজী ফখরুলকে ভিডিও বা ছবিতে আন্দোলন চলাকালে দেখা যায়নি। ফলে অনেকটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, দেবিদ্বার বিএনপিতে দুই ভাগ। এক ভাগের নেতৃত্বে সাবেক এমপি মনজুরুল আহসান মুন্সি। আরেক ভাগের নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর জেলার বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সি। সাবেক এমপি মনজুরুল আহসান মুন্সির গ্রুপের সাথে স্বতন্ত্র এমপি( উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা, পরে বহিষ্কৃত হয়েছেন) আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের সখ্যতা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা জানান, রুবেল হত্যা মামলায় আদালতে দায়ের করা মামলাটিই যথেষ্ট ছিল। আদালত মামলাটি এফআইআর করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দেবিদ্বার বিএনপির আরেকটি অংশ মামলাটি বির্তকিত করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন সাবেক এমপির (রাজী ফখরুল) নাম জড়িয়ে দেয়ার জন্য থানা ঘেরাও করে আবার মামলা নিতে বাধ্য করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, এমপি রাজী ফখরুল ১০ বছর এমপি থাকাকালে কোন দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন নি। অথচ এই রাজনীতিবিদকেই রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করার জন্য মামলায় নাম জড়িয়ে দেয়া হল। এতে করে মামলাটি গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, সাবেক এমপি রাজী ফখরুলকে আরো কয়েকটি সাজানো মামলায় আসামি করার পরিকল্পনা চলছে। যেমন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানে চাদাবাজি ও নানা হুমকির মিথ্যে মামলায় সাবেক এমপি রাজী ফখরুলকে আসামি করার পরিকল্পনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি পূর্র্বতী দায়িত্বে থাকা ওসি সাহেব রেকর্ড করে গেছেন। তবে এখন মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

নোয়াখালীতে পানিবন্দি ২১ লাখ মানুষ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। এখনো জেলার ৮টি উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নের ২১ লাখ ২৫ হাজার ৫শত মানুষ পানি বন্ধি রয়েছে। ১৩০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২লাখ ৬৪হাজার ৭৪৩জন মানুষ আশ্রিত রয়েছে। এখন নতুন করে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র মুখি হচ্ছেন। তবে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কথা বলে জানা গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নুতন করে মানুষ উঠার জায়গা নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতের বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অপরদিকে, জেলার দুর্গম অনেক এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে জানান বাসিন্দারা। ত্রাণ পেতে হাহাকার করছে বন্যার্তরা।

স্থানীয়রা জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যা কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। আর জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক আরজুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল নয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।

বেগমগঞ্জের বাসিন্দা দিদার হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে বেশি কষ্টে আছে। কিন্ত চলাচলের পথ দুর্গম হওয়ায় আমরা ত্রাণ পাচ্ছিনা। প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় না থাকায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে।

কবিরহাটের কালামুন্সি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই আশ্রয়েকেন্দ্রে ছোট একটি কক্ষে ৬টি পরিবার গাদাগাদি করে থাকেছে। এর মধ্যে অনেকে নতুন করে আসছে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার জন্য। কিন্তু থাকার জায়গা নেই।

কোম্পানীগঞ্জের রানা নামে এক যুবক জানান, বাবা হার্টের রোগী। বসতঘরে পানি উঠে যাওয়ায় সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। বসুরহাট বাজারে বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য রিকশা নিয়ে ঘুরছি। এ পনিস্থিতি বাসা ভাড়া পাওয়াও কঠিন।

এদিকে, এই পর্যন্ত জেলায় বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ১২৪টি ও বেসরাকারি ১৬টি মেডিকেল টিম মাঠে চালু রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

ছাত্রদের ত্রাণ সামগ্রী ছিনিয়ে নিল বিএনপি নেতা, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী-পুলিশ

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাটের সুন্দলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.একরামের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ত্রাণ সামগ্রীর ৬০০ প্যাকেট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই সময় বিএনপি নেতা একরামের অনুসারীরা এক ছাত্রকে কুপিয়ে ও আরেকজনকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সেনবাহিনী ও কবিরহাট থানার একদল পুলিশ ছিনিয়ে নেওয়া ত্রাণ গুলো উদ্ধার। এর আগে,একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের কালামুন্সি বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক মো.সৌরভ (১৮) উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দই বাড়ির জাহের হোসেনের ছেলে।

হামলার শিকার শিক্ষার্থী তাসরিফউর রহমান ওরফে নিহাদ অভিযাগ করে বলেন, উপজেলার কালামুন্সি বাজার এলাকার ছাত্ররা ঢাকা থেকে ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করে নিজেদের এলাকার বন্যা দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ত্রাণ সামগ্রীর প্যাকেট গুলো কালামুন্সি বাজারে আসে। তখন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরাম নানা অজুহাতে ছাত্রদের ত্রাণ গুলো ছিনিয়ে নিয়ে সুন্দলপুর ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখে। তখন একরাম অনুসারী ছাত্রদল নেতা সোহেলের নেতৃত্বে সৌরভ, রিপাত,নুমান ও বাপ্পী ছাত্রদের ওপর চালায়। হামলাকারীরা মো.মাইন উদ্দিন আকাশ (১৬) নামে এক ছাত্রকে কুপিয়ে ও নিহাদ (১৬) নামে আরেক ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে ছাত্ররা বিষয়টি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে তারা ছাত্রদের ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.একরাম অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ত্রাণ গুলো উদ্ধার করে। এরপর যাদের ত্রাণ তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের লোক দিয়ে ত্রাণ সামগ্রী গুলো বিতরণ করে। স্থানীয় ভাবে জানা যায়, সেখানে ১৪০-১৫০ প্যাকেট ত্রাণের প্যাকেট ছিল। স্থানীয় ভাবে জানা যায়, সেখানে ১৪০-১৫০ প্যাকেট ত্রাণের প্যাকেট ছিল। সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সাথে ছবি গুলো পারিবারিক অনুষ্ঠানের।

কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা হয়েছে। দলীয় বৈঠকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও বলেন, ওই ত্রাণ বিতরণের সাথে কয়েকজন ছাত্রলীগের ছেলে জড়িত ছিল। যারা ৫ আগস্টের আগের আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে। আসলে ছোট বিষয়টিকে বড় করা হয়েছে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হুমায়ন কবির বলেন, খবর পেয়ে ছাত্রদের ত্রাণ সামগ্রী গুলো উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া হেেয়ছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ছাত্ররা লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথাও জানান।

কর্নেল অলি’র গাড়িতে হামলা: ডা. প্রাণ গোপালসহ ২ শতাধিক আ’লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

 

চান্দিনা  প্রতিনিধি:

এলডিপি’র প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এর গাড়িতে হামলা, হত্যা চেষ্টা ও গাড়ী ভাঙচুরের অভিযোগ এনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সহ ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ নোতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এলডিপি’র মহাসচিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বাদি হয়ে চান্দিনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

সোমবার (২৬ আগস্ট) মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এতে ৪৯ জন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়। অপর ১৬০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামী করা হয়।

মামলার বিবরণে জানাযায়, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের ক্যাম্পাস-২ মমতাজ ভবন এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চান্দিনায় এসেছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি’র প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। সভাস্থলে যাওয়ার সময় রাস্তায় তার গাড়ি বহরে হামলা ও ভাংচুর হয়। ওই ঘটনায় দীর্ঘ ৬ বছর পর মামলাটি দায়ের করা হয়।

এতে মামলায় কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক নেতা শামীম হোসেন, চান্দিনা উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি মনির খন্দকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার, হুন্ডা শাহজাহান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামিরুল খন্দকার রবি, প্রাণ গোপাল দত্তের এপিএস সমীর দাস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান টিপু, এতবারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম, দিদার আহম্মেদ ভূইয়া মিঠু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান জনি, সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জনি সহ চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোর্শেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার বাদির লিখত অভিযোগ পেয়ে মামলাটি প্রাথমিক তদন্ত বিবরণী (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মানবতার ফেরিওয়ালা বন্ধু ফোরামের উদ্যোগে বুড়িচংয়ে বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাবার বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

মানবতার ফেরিওয়ালা বন্ধু ফোরাম ( ছিকুটিয়া, গোবিন্দপুর, ইসলামপুর, মজলিশপুর) এর উদ্যোগে বন্যা কবলিত এলাকা বুড়িচং উপজেলার বুড়িচং, বাকশিমুল , রাজাপুর এলাকায় মঙ্গলবার ২৫০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবারের পাশাপাশি জরুরী ওষুধ পত্র বিতরণ করা হয়।

এই সময় সংগঠনের  প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণসহ বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয়ে নৌকাযোগে দুর্গম এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানিবন্দি মানুষদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এলাকার যুব সমাজের উদ্যোগে দেশের ও দেশের বাহিরের অর্থায়নে বানভাসি মানুষের জন্য এই মানবিক কার্যক্রম এর উদ্যোগ নেয়া হয়।এতে এলাকার ছোট বড় সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মানবিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করে।

উল্লেখ্য যে, গত ২২ তারিখ বুড়িচং বুড়বুড়িযা এলাকায় গোমতী নদীর বেড়িবাধ ভেঙে বুড়িচং ও বিপাড়ার থানায় বন্যা শুরু হয়।এতে এই অঞ্চলের মানুষদের চরম দুর্ভোগে দিন যাপন করতে হচ্ছে। বানভাসি মানুষদের জন্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য সংঘটনের প্রতিষ্ঠাতাগণ এলকার যুব সমাজ ও সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এই সময় সংঘটনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ময়নাল হোসেন, মিজানুর রহমান, আক্তার হোসেন, ইঞ্জি: আজিম উদ্দিন ,ইঞ্জি: কাজী সাইফুল, মানিক হাসানসহ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য শরীফ, ফারুক, হাসান, ওয়াসিম, নুরুল, সাগর, জাকির,মেহেদি ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বর্ণ পাচারে সহযোগী

শেখ সেলিমের স্বর্ণ পাচারে সহযোগী দোলন; ২০ হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত দিলীপ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

স্বর্ণ চোরাচালানের দুই মাফিয়া ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এবং ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভার্সের মালিক এনামুল হক খান ওরফে দোলনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সূত্র জানান, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের হুন্ডি ব্যবসা ও সোনা চোরাচালানের সহযোগী হলেন এনামুল হক খান দোলন। অন্যদিকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সিন্ডিকেট গত পাঁচ বছরেই দেশ থেকে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও অর্থ পাচার ছাড়াও রয়েছে খুনের মামলা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর বাড্ডায় ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে শিবচরের সন্ন্যাসীর চর এলাকার হৃদয় হোসেন শিহাব নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগরওয়ালাসহ ১৬১ জনের নামে মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে। ২২ আগস্ট বাড্ডা থানায় শিবচর পৌরসভার সাবেক কমিশনার শাহাদাত হোসেন খান মামলাটি করেন। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বর্ণ চোরাচালান রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনার খুনের ঘটনাটি ঘটে। চাঞ্চল্যকর ওই খুনের ঘটনার তদন্তেও বেরিয়ে আসে দিলীপ আগরওয়ালার নাম। স্পর্শকাতর দুই মামলার আসামি হলেও তাঁরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালনের মাফিয়া এনামুল হক খান দোলন বিগত সরকার আমলে শেখ সেলিমের অবৈধ কারবারের সহযোগী ছিলেন। শেখ সেলিমের হয়ে বিদেশে অর্থ পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান করতেন। দুবাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে তাঁদের চোরাকারবারের সিন্ডিকেট রয়েছে; যা এখনো সক্রিয়।
সূত্র জানান, নামে-বেনামে বেশুমার সম্পত্তি থাকার পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয় বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে। যাঁর বিরুদ্ধে সোনা, হীরা চোরাচালানসহ বিস্তর অভিযোগ। দেশে বিদেশে হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থাকা এ ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেন দুকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কমিশন। ২০২১ সালের ১০ মার্চ ইকবাল মাহমুদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের পাঁচ মাসে নিষ্পত্তি হওয়া ৪০৮টি নথি নতুন করে তদন্ত শুরু করছে দুদক। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক বিতর্কিত ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালাসহ ৪ শতাধিক ব্যক্তির বেশুমার দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে দুদক কমিটিও গঠন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাই কোর্ট যে ৪০৮ মামলার নথি তলব করেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার মামলা ও অভিযোগ। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের অবসরে যাওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে মামলা দায়ের ও অতিদ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা সব মামলার নথি তলব করেছেন হাই কোর্ট। প্রতিবেদন আকারে মামলাগুলোর নথি দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওইসব নথির মধ্যে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালার নথি রয়েছে। ওই নথির তথ্য এবং দুদকে জমা হওয়া অভিযোগমতে মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। ’৯০-এর দশকে ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের দিলীপ নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিপুলসংখ্যক শোরুম। তাঁর সামগ্রিক উপার্জনের বৈধতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগে বলা হয়, মূলত সোনা ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন তিনি। তা ছাড়া দিলীপের বৈধ আয়ের চেয়ে অবৈধ সম্পদের পরিমাণই বেশি। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সোনা এবং হীরা চোরাচালান ও বিদেশে অর্থ পাচারের ব্যাপক তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পাহাড়সম সম্পদ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। রাজধানীর গুলশানে একটি হোল্ডিংয়েই তাঁর নামে কেনা হয় সাতটি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া দেশের বাইরে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে পান্না ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, ২৫৩ রবীন্দ্র সরণি, বিবেকানন্দ রোডের বড়বাজার, ধর্মতলার গোল্ডেন মল, ডবসন রোডের রাঘব প্লাজা মল, অস্ট্রেলিয়ার ২৯ রেলডল্প স্ট্রিটে রয়েছে মিরোরা বাই ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম।

দিলীপের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মৃধার নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম অনুসন্ধান শুরু করে। টিমের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান সিকদার ও উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ জামান। অভিযোগটি দুদক বিধিমালা ২০০৭ মোতাবেক অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদক থেকে সম্পদ বিবরণীর নোটিস পাঠানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দফা চিঠি দেওয়া হয় দিলীপ কুমারকে। অনুসন্ধান দলের এক সদস্য জানান, দিলীপের বিরুদ্ধে সোনা, হীরা চোরাচালানসহ বিদেশে অর্থ পাচারের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এসব তথ্য-উপাত্ত যাচাইবাছাই করে যথাযথ প্রমাণ হাতে নিয়েই ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর নথিপত্রসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। কিন্তু নথিপত্রসহ দুদকে হাজির হতে দুই মাসের সময় চান দিলীপ। তবে পরবর্তী সময়ে পুনরায় চিঠি দিয়ে দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সম্পদের তথ্য বিবরণী আর দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। দিলীপ কুমারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে দুদকের টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা বিভাগ, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ডাক সঞ্চয় অধিদপ্তর, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে চিঠি দেয়। শুধু দিলীপই নন, চুয়াডাঙ্গার আগরওয়ালা সম্প্রদায়ের প্রায় সবারই কলকাতায় ‘গদিঘর’ নামে ব্যবসায়িক ঠিকানা পাওয়া যায়। বংশানুক্রমেই তাঁদের সীমান্তের ওপারে যাতায়াত আর নানা পণ্য সরবরাহ ও বেচাকেনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর যাচাইবাছাই শেষে মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কিন্তু তিনি তদন্ত প্রভাবিত করে সময় ক্ষেপণ করান। প্রায় তিন বছর ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর দুদক হঠাৎই অভিযোগ নথিভুক্ত (দায়মুক্তি) করে। দায়মুক্তির ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন দুদকের ওই সময়কার মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাইদ মাহবুব খান। দিলীপের দায়মুক্তির নথি নম্বর ০০.০১.০০০০.৫০২.০১.১৭২.১৭। দিলীপকে দায়মুক্তি দেওয়ায় প্রশ্ন ওঠে দুদকের কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে। এ ছাড়া ইকবাল মাহমুদ অবসরে যাওয়ার আগে যেসব দায়মুক্তি দেন সেগুলো নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে।