All posts by jitu

নাঙ্গলকোটে বৃদ্ধকে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে বন্যার পানিতে এক জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নৌকায় করে অসুস্থ বৃদ্ধকে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে বন্যার পানিতে ডুবে সিরাজুল হক (৬৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। সিরাজুল উপজেলার ঢালুয়া ইউপির গোরকমুড়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নদীঅঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। গতকাল রবিবার বিকেলে গোরক মুড়া থেকে নৌকা দিয়ে অসুস্থ এক বৃদ্ধকে নদী পার করতে যান সিরাজুল হক। এরপর ফেরার পথে পানির স্রোতে নৌকা উল্টে নিখোঁজ হন সিরাজুল। পরে সন্ধ্যার পর থেকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় এক ব্যক্তি জুবায়ের হোসেন বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর আমাদের স্পিডবোটের খুব প্রয়োজন ছিল তাকে উদ্ধার করার জন্য। আমরা স্পিডবোট না পাওয়াতে সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে চাঁদপুর থেকে একদল ডুবুরি এনে আজ দুপুর ১২টার দিকে খোঁজাখুঁজি করে সিরাজুল হকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ওই এলাকার অনেক পানি হওয়ায় তাদের বারবার করে আমরা রিকোয়েস্ট করেছি। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে কিন্তু তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আসছে না।

ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৭০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার:

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গোমতী ও সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রথমে বুড়িচং উপজেলা প্লাবিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়ও বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া শশীদল ইউনিয়নের সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বন্যার পানি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই দুই নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

বন্যার কারণে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই জীবন বাঁচাতে তাদের ঘর তালাবদ্ধ করে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঢাকা থেকে ড্রাম এনে ভেলা তৈরি করে উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স ম আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোমতী ও সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার পরিবারকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে কাজ করছে।

হাসানুল হক ইনু আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) গুলশান জোনের উপ-কমিশনার জিয়াউদ্দীন আহমেদ।

তিনি জানান, ইনুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা আছে।

হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট কেন্দ্রীয় ১৪ দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এর আগে গত ২২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ১৪ দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও গ্রেফতার হন।

সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের নামে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা হয়েছে।

১৪ দল নেতা রাশেদ খান মেনন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নামেও হত্যা মামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীসভা সদস্যদের নামে গণহত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে জিয়া পরিবার নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার জাসদের পক্ষ থেকে দলটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লোকমান আহমেদসহ কয়েকজনের নামে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়।

জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে, অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চায় যে, দেশে দীর্ঘদিনের দ্বি-মেরুকৃত বিভাজিত রাজনীতিতে হাসানুল হক ইনু বা দলগতভাবে একটি রাজনৈতিক পক্ষের।

এদিকে একটি রাজনৈতিক মেরুতে অবস্থানে থাকলেও কোটা সংস্কারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের শুরু থেকেই এই আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে কোনো বক্তব্য, বিবৃতি এবং অবস্থান গ্রহণ করেননি।

মির্জার বালু উত্তোলন, তলিয়ে গেছে মুছাপুর রেগুলেটর

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের যোগসাজশে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ডাকাতিয়া নদী এলকা থেকে ৫০ কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে উজানের পানির চাপে তলিয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মছাপুর রেগুলেটর।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৪ সালে ডাকাতিয়া নদীর মুখে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে মুছাপুর রেগুলেটেরর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এর কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালের দিকে। এতে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর, চরপাবর্তী, চরহাজারী ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গা এবং অতিরিক্ত জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পায়। সোমবার সকালের দিকে প্রথমে রেগুলেটরে একটু ফাটল দেখা দেয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে রেগুলেটরের মাঝ খানের অংশ ভেঙ্গে যায়। একপর্যায়ে পুরো রেগুলেটর ভেঙ্গে ডাকাতিয়া নদীতে তলিয়ে যায়।

এর আগে, গত ২৪ আগস্ট নোয়াখালীর বন্যার পানি নামাতে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটরের তিন মিটার বাই তিন মিটার আয়তনের ২৩টি গেটের সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হয়। ফলে কোম্পানীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙ্গে যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎকন্ঠা দেখা গেছে।

মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন বলেন, গত ৪বছর ধরে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ও তার ছোট ভাই জলদস্যু জালাল মুছাপুর রেগুলেটর এলাকার ডাকাতিয়া নদী থেকে অন্তত ৫০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে। ওই বালু উত্তোলনের ফলে আজ মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙ্গে তলিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বালু উত্তোলনের টাকার ভাগ পেত জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, কাদের মির্জার স্ত্রী আক্তার জাহান বকুল ও তার ছেলে তাশিক মির্জা কাদের। সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্তপূর্ব আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের ফোনে কল করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তাদরে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন তার যোগসাজশে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্য নয়।

কুমিল্লা গোমতী নদীর পানি কমলেও বিপদ কাটেনি

স্টাফ রিপোর্টার:

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যা কুমিল্লার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর আগে কখনো গোমতী নদী এতটা পানি ধারণ করেনি। তবে গত শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পানি কমেছে ৯২ সেন্টিমিটার, তবুও এখনো বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে বুড়িচং এলাকায় গোমতীর বাঁধ ভাঙার ফলে শুক্রবার সকাল থেকে নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে ৯২ সেন্টিমিটার কমে এখনো বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমার নিচে নেমে যাবে। তবে আমরা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নই।’

তিনি আরও বলেন, বুড়বুড়িয়া এলাকায় ধসেপড়া গোমতী বাঁধ ক্রমেই প্রশস্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ মিটার প্রশস্ত হয়ে নদী থেকে পানি বের হয়ে বুড়িচং এবং ব্রাহ্মণপাড়ায় পানির পারিমাণ বাড়ছে।

এরআগে মধ্যরাতে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী বাঁধের একটি অংশ ধসে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। এতে শনিবার সকাল পর্যন্ত বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা হোসেন মামুন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে গোমতী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শহররক্ষা বাঁধও নরম হয়ে গেছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবেদ আলী জানান, ১৭টি উপজেলার মধ্যে চান্দিনা, হোমনা এবং মেঘনা উপজেলা বাদে বাকি ১৪টি উপজেলা তলিয়েছে বানের পানিতে। সরকারি হিসাবে জেলায় সাত লাখ ৯৩ হাজার ১৪২ জন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেসরকারি হিসেবে তা ১০ লাখের কাছাকাছি। চলমান বন্যায় জেলায় মোট এক লাখ ৬৩ হাজার ৪২৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে এক হাজার ৮০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নগদ ৪৫ লাখ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলাজুড়ে ৭২৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৫ হাজারের মতো বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ হাজার ২৯২ জন পুরুষ, ২২ হাজার ১৯৭ জন নারী, ১২ হাজার ৫০৫ শিশু এবং ২৮১ প্রতিবন্ধী রয়েছেন।

নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটর ধসে যাওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নোয়াখালীতে গত কয়েকদিনের ভয়াবহ বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৮৭ ইউনিয়ন ও ৭ পৌরসভার ১৯ লাখ ৮১ হাজার ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। জেলায় এক হাজার ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে এক লাখ ৮২ হাজার ৩০৯ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ মেট্রিকটন চাল ও এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ৯১৮ মেট্রিকটন চাল মজুত রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় বন্যায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ৮৮টি মেডিকেল টিম বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট।

এদিকে বন্যায় বেড়েছে সাপের উপদ্রব। গত তিন দিনে নোয়াখালীতে ৬৩ জনকে সাপে কেটেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাপে কেটেছে ২৮ জনকে। বন্যার কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১০৮ জন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম বলেন, মেডিকেল টিম ছাড়াও হাসপাতালে সার্বিক চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা খোরশেদ আলম জানান, ফেনীর মুহুরী নদীর উজানের পানি প্রবেশ করায় জেলার সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী উপজেলার আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলায় গত দুদিন বৃষ্টি না হলেও উজানের পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ও সড়ক তলিয়ে গেছে। স্কুলে ঢুকে পড়েছে পানি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।

কবিরহাটের বাসিন্দা মো. সফি উল্যাহ বলেন, বন্যা ও ভারী বর্ষণের কারণে কবিরহাটের সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে বন্ধ রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে যার পরিমাণ ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা নিকটস্থ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এলাকার সবগুলো প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশিরভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

এছাড়া সোমবার ভোরে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ২৩ ভেন্ট রেগুলেটরটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এতে সাগর থেকে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রোববার গভীর রাতের দিকে রেগুলেটরে ফাটল ধরে। আজ ভোরে এটি মাঝ বরাবর দেবে গিয়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এতে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বন্যাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহার এবং ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলার মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, রেগুলেটরের আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরআগে কোম্পানীগঞ্জের ৬৭ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজার আশ্রিত থাকলেও এর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন বলেন, রেগুলেটর ধসে গেলেও বন্যার পানি নিষ্কাশনে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। তবে প্রতিদিনকার ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জোয়ার আসলে আগে এ পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারতো না এখন তা লোকালয়ে প্রবেশ করবে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতি আমি সরেজমিন পরিদর্শনে আছি। আমরা চেষ্টা করছি দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে রেগুলেটর এলাকায় নিয়োজিত করা হচ্ছে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২৫ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। সরকারি-বেসরকারি দুই মাধ্যমেই এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে এ বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়ের পর আর সময় বাড়ানো হবে না।

সোমবার (২৬ আগস্ট) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, এ বছরও ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন। সৌদি সরকার আরও আগেই বাংলাদেশের জন্য এই কোটা ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্বের কিংবা নতুন প্রাক-নিবন্ধিত যেকোনো ব্যক্তি তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে পারবেন। হজ প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট টাকা প্যাকেজে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এবছরের হজ প্যাকেজ মূল্য সৌদি পর্বের ব্যয় ও বিমান ভাড়া নির্ধারণ সাপেক্ষে ঘোষণা করা হবে। তবে ২০২৫ সালের সাধারণ হজ প্যাকেজ মূল্য গত বছরের চেয়ে কমানোর চেষ্টা করা হবে।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের প্রাক-নিবন্ধন ফি ৩০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এই কোটা পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

সাধারণ প্যাকেজের বাড়ি কিংবা হোটেলে একরুমে সর্বোচ্চ ৬ সিট থাকবে। তবে প্যাকেজ আপগ্রেডেশন সুবিধা থাকবে। হজ এজেন্সিগুলো বিশেষ প্যাকেজের সুবিধা দিয়ে হজযাত্রী প্রেরণ করতে পারবে। হজ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে যোগ্য এজেন্সির তালিকা www.hajj.gov.bd এ পাওয়া যাবে। তাছাড়া, ১৬১৩৬ নম্বর ফোন করে জানা যাবে হজ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য।

ই-হজ সিস্টেম (www.hajj.gov.bd), e-Hajj BD মোবাইল অ্যাপ থেকে সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিরা সকল ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বায়তুল মোকাররম মসজিদ এবং ঢাকার আশকোনার হজ অফিস হতে প্রাক-নিবন্ধন ও প্রাথমিক নিবন্ধন করতে পারবেন। বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে অনুমোদিত এজেন্সি কর্তৃক প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় প্রাক-নিবন্ধন সনদ ও পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, স্থানীয় কার্যালয় শাখা, মতিঝিল ঢাকার সেল প্রসিডস অব হজ ডিপোজিট শীর্ষক হিসাবে ০০০২৬৩৩০০০৯০৮ হিসাব নম্বরের অনুকূলে টাকা জমা দিতে হবে। সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধনের টাকা জমা দেওয়া যাবে। বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে প্রাথমিক নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে হবে।

ক্যান্সার, অ্যাডভান্সড কার্ডিয়াক, লিভার সিরোসিস, কিডনি রোগ, সংক্রামক যক্ষ্মা, ডিমেনশিয়া প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং গর্ভবতী মহিলা ও চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদেরকে হজের নিবন্ধন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে পানির চাপে ভেঙে গেছে স্লুইসগেট, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে তীব্র পানির চাপে ভেঙে গেছে মুছাপুর স্লুইসগেট। এতে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। তাদের আশংকা, এতে নোয়াখালী ও ফেনীর কিছু কিছু জায়গায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়তে পারে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ভারতের উজানের ঢল থেকে আসা পানি ফেনীর মুহুরী নদী হয়ে ও ভারী বর্ষণের ফলে কোম্পানীগঞ্জে জমে থাকা পানি মুছাপুর স্লুইসগেটের রেগুলেটরের ২৩টি গেইট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। কিন্তু সোমবার সকালে তীব্র পানির চাপে সবকটি রেগুলেটর ভেঙে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তাসিব বলেন, সকালে মুসাপুর ক্লোজারের স্লুইচগেট ভেঙে গেছে। এর আগে এতদিন ভাটার সময় গেট খুলে দিলে ফেনী ও নোয়াখালীর বন্যার পানি সাগরে নেমে যেতো আর জোয়ারের সময় আটকে দেওয়া হতো যাতে সাগরের পানি না ঢুকে। এখন এই গেট ভেঙে যাওয়ায় ফেনী-নোয়াখালীবাসির জন্য দুঃসংবাদ। কারণ, এখন জোয়ার আসলে পানি উল্টো ঢুকবে।

মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, তীব্র পানির চাপে রেগুলেটর ভেঙে গেছে। আমাদের মুছাপুর ক্লোজার শেষ। স্থানীয় মানুষজন কান্নাকাটি করছে। সবাই অসহায় হয়ে পড়েছে। জোয়ার হলে এখন পুরো কোম্পানীগঞ্জ ভেসে যাবে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নাই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরাও বিষয়টি জেনেছি। আসলে রেগুলেটরের ২৩টি গেইট দিয়ে প্রচুর পানি নেমেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।