All posts by jitu

চাঁদপুরে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ইজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের এক পর্যায়ে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওমর ফারুক (২২) নামে যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা (ঢালী বাড়ি) গ্রামের খালেক ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হত্যার শিকার ওমর ফারুক ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামে তার নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হাসমত উল্যাহর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা (৩০), বিল্লাল মৃধা (২৫), হাসান মৃধা (২৮) ও হাবিব মৃধাসহ (২১) কয়েকজনের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া-বিবাদ দেখা দেয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক ঝগড়া থামাতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ওমর ফারুক ও তার নানার পরিবারের লোকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় তারা দিশাহারা হয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের মধ্য থেকে একজন ধারালো দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ মারে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর হাইমচর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, ‘ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত হাবিবসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এই বিষয়ে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত, ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের মাঝে জার্সি বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের উদ্যোগে কুমিল্লা জেলা দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল এবং ক্রীড়া সংগঠকদের নিয়ে এক আনন্দঘন ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের অফিসিয়াল জার্সি উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দও স্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে জার্সি বিতরণ করেন লন্ডনপ্রবাসী কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কর্ণধার আমিনুল ইসলাম সিহান। পরে অতিথি, ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা একসঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে অবস্থান করেও আমিনুল ইসলাম সিহান কুমিল্লার ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। জেলার ক্রিকেটের উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে তার এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় সিহানের বাবা ও ক্রীড়া সংগঠক মো. হাসান বলেন, “আমি চেয়েছিলাম আমার একটি সন্তান ক্রিকেটার হোক। সিহান আমার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। ছোটবেলা থেকেই তার খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল, যা আজ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত রূপ পেয়েছে।”

আমিনুল ইসলাম সিহান বলেন, “কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার এই আয়োজন আমাকে সত্যিই সম্মানিত করেছে। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স সবসময় জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জেলার ক্রিকেটারদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও জাতীয় ক্রিকেট কোচ এমদাদুল হক ইমদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক বদরুল হুদা জেনু।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার তারিকুল ইসলাম ওশী, সাবেক ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও জেলা ক্রিকেট দলের ম্যানেজার ফখরুল আলম উল্লাস, জেলা ক্রিকেট কোচ হাবিব মোবাল্লেগ জেমস, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক ক্রিকেটার আলামিন ভুঁইয়া, ক্রীড়া সংগঠক মো. হাসান এবং জেলা ক্রিকেট দলের কোচ মানিক কুমার দাসসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

বায়োটেক গবেষণায় আন্তর্জাতিক সাফল্য, জাপানের সম্মাননা পেলেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি, কুবি:

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।

বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করেছে জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে)।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি জানান, বায়োটেকনোলজি বিষয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধ ও বায়োমলিকিউলের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে এ অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। উন্নত বিশ্বের গবেষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এ সম্মাননা অর্জন দেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এসবিজের ৭৮তম বার্ষিক সম্মেলনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে এসবিজে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়ন ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের এ অর্জন যেমন তার ব্যক্তিগত গৌরব, তেমনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তার এ সাফল্য দেশের তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বুড়িচংয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ৪ চালককে জরিমানা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে চার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে।

গতকাল সোমবার (১ জুন) বিকেলে বুড়িচং পৌরসভার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাবলিহা আনবার।

অভিযানকালে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চার চালককে মোট ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

জরিমানাপ্রাপ্ত চালকরা হলেন মো. শাহাদাত, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মনির হোসেন এবং এনাম হক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাসনগাছা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশাসন এর আগে একাধিকবার ভাড়া নির্ধারণ ও অভিযান পরিচালনা করলেও কিছু অসাধু চালকের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত ছিল।

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন যাত্রীরা। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

হঠাৎ হাসপাতালে হাজির হাসনাত আবদুল্লাহ, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসককে শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচ চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।

প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ পরিদর্শনে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মহিবুস ছালামসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ২৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজনকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে শোকজের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। তারা এর ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তাদের অনুপস্থিত দেখতে পান। কেন তারা যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য তাদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও অবহিত করা হবে।”

পরিদর্শন শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “হাসপাতালে কিছু অনিয়ম আমার নজরে এসেছে। কয়েকজন চিকিৎসক সময়মতো হাসপাতালে আসেন না। আজ পাঁচজন চিকিৎসককে কোনো পূর্ব অবহিতকরণ ছাড়াই অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এজন্য তাদের শোকজ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মহিবুস ছালাম হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে দিনের কার্যক্রম সংক্রান্ত ব্রিফিং করবেন। ওই সভার উপস্থিতির তালিকা আমাকে পাঠাতে হবে। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।”

চলে যাওয়ার আগে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মহিবুস ছালাম জানান, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে শোকজপ্রাপ্ত পাঁচ চিকিৎসককে তাদের লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তা বিতরণ

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার দরিদ্র, দুঃস্থ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।সোমবার (১ জুন) সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ২০৪ জন অসহায় ও দু:স্থ মানুষের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কারা নির্যাতিত নেত্রী আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি অসহায় মানুষকে ঈদ উপলক্ষে আমার
মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করেছেন। আপনারা শৃঙ্খলাভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা গ্রহন করবেন। দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে কাজ করছেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আফতাবুল ইসলাম, চাঁদপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ (অব:) মো: ইসমাঈল তপাদার কাঞ্চন, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, এমপির পিএস মো: রায়হান সানি এবং মোঃ জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে রাজধানীর মুগদায় মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও শপথ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার (২ জুন) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, তাদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধেও সমৃদ্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে মাদকবিরোধী সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটন বলেন, “যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় তরুণদের নিয়ে মানবিক, সচেতনতামূলক ও সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণরাই পারে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।”

বসুন্ধরা শুভসংঘ মুগদা থানা শাখার সভাপতি সোহান আহমেদ বলেন, “মাদকবিরোধী সচেতনতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক আন্দোলন। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

সাধারণ সম্পাদক সাগর হোসেন বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
আবদুল হান্নান মিলটনের সার্বিক নির্দেশনায় এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ মুগদা থানা শাখার সভাপতি সোহান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর হোসেনের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয়। শপথে অংশগ্রহণকারীরা মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি রানা হোসেন ও আল-আমিন সিয়াম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন আহম্মেদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রাব্বি হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মনির হোসেন, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা আকন ও জিনিয়া আক্তার, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ইমরান হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক জিসান আলম, পাঠাগার ও বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক রাফসান আহমেদ রিফাত, শিশু ও নারীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক লিজা আক্তার ও সোনালী আক্তার এবং প্রচার ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক রাতুল আহমেদ।

এ ছাড়া সংগঠনের সদস্য আরাফাত, সিয়াম শেখ, ওমর, কামরুল, পাখি, কারিমা, লিভা, আরিফা ইসলাম, রিয়াদ ও মুন্নাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণেরা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

কুমিল্লার লাকসামে স্কুল ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, ভাঙচুর-লুটপাটেরও দাবি

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় দুবাই প্রবাসীর বাড়ি থেকে ফিল্মি কায়দায় এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ও ৩৫ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা এবং ওই বাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা কুসুম বেগম লাকসাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ১২ টায় লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের হালা খোলা গ্রামে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ (৩২) দীর্ঘদিন ধরে তাহমিনা আক্তার স্মৃতি (১৬) নামের ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এ বিষয়ে এর আগেও একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

স্মৃতির পিতা দুবাই প্রবাসী আলম মিয়া জানান, বিগত পাঁচ মাস আগে মাসুদ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে আমি আইনের শরণাপন্ন হলে পুলিশ ১৫ দিন পর আমার মেয়েকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। আদালত আমার মেয়েকে আমার কাছে হস্তান্তর করে, আর অপহরণকারী মাসুদকে জেলে পাঠান। গত দশদিন আগে মাসুদ জেল থেকে বের হয়ে লাকসামে এসে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে গতকাল আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার ঘরের দরজার লক ভেঙ্গে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ও ৩৫ ভরি স্বর্ণ লুট করে এবং আমার মেয়েকে জোর করে নিয়ে যায়। আমি ৯৯৯ তে কল দিলে পুলিশ আসে। তারা পুলিশের সামনে আমার বাড়িঘর লুট করে ও আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় আমার পরিবারের সাথে এমন ঘটনা ঘটলো। আমি এর বিচার চাই। আশা করি প্রশাসন আমার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে দিবে।

লাকসাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন নাহার লাইলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই তারা মেয়েকে নিয়ে গেছে। আমাদের সামনে কিছু ঘটেনি। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। পুলিশ এর আগে ওই মেয়েকে একবার উদ্ধার করে দিয়েছে। শুনেছি ওই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক । মেয়েটির উদ্ধারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি পঠন দক্ষতা

মাহমুদা জাহান:

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ও পঠন দক্ষতা একটি শিশুর সারাজীবনের শিক্ষার ভিত্তি। এটি শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, জাতীয় উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। কারণ, এই দক্ষতার উপর ভিত্তি করেই শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে অগ্রসর হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই শতভাগ রিডিং বা পাঠদক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয়, যা শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শতভাগ রিডিং পড়তে না পারার কারণসমূহ

করোনাকালীন শিখন ঘাটতি: দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর বেইজ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পারিবারিক অসচেতনতা: অনেক বাড়িতে শিক্ষার পরিবেশ বা অভিভাবকদের তদারকির অভাব রয়েছে।

পর্যাপ্ত পাঠ্য উপকরণের অভাব: অনেক স্কুলে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই, গল্পের বই কিংবা রিডিং ম্যাটেরিয়াল পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চর্চার সুযোগ পায় না।

শিক্ষকের অভাব বা প্রশিক্ষণের ঘাটতি: অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই আবার কিছুক্ষেত্রে শিক্ষকরা যথাযথ প্রশিক্ষিত না হওয়ায় শিশুর মনস্তত্ত্ব বুঝে তাদের পাঠ শেখাতে পারেন না। ফলে শিশুরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব:

অনেক শিশুর পরিবারে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বা সময় না থাকার কারণে তারা বাসায় রিডিং চর্চা করতে পারে না।

অহেতুক ভীতি: ইংরেজি বা কঠিন বাংলা যুক্তবর্ণের প্রতি শিশুদের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে।

মনোযোগের অভাব ও স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার: বর্তমান প্রজন্ম অনেক সময় মোবাইল বা টিভি-নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, যা পাঠে মনোযোগ কমিয়ে দেয়।

ভাষাগত জটিলতা: অনেক শিক্ষার্থী মাতৃভাষা ও পাঠ্যভাষার ভিন্নতার কারণে বুঝতে পারে না, ফলে রিডিংয়ে পিছিয়ে পড়ে।

জবাবদিহিতার অভাব:

বিদ্যালয়ের SMC, AD-HOC committee, PTA, UPEO, AUPEDO, URC- Instructor ইত্যাদির সমন্বয় বৃদ্ধিকল্পে এবং পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতি রোধকল্পে জবাবদিহিতার অভাব।

অপ্রতুল শিক্ষা উপকরণ:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি ও পাঠ ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণের অভাবে শিক্ষার্থীরা কঠিন বিষয়কে সহজে আয়ত্ত করতে পারেনা।

শ্রমজীবী শিশু: অনেক দারিদ্র্য শ্রেণির অভিভাবকগণ নাম মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে রেখে শ্রমিকদের সাথে মাঠে পাঠান টাকা উপার্জনের জন্য। এতে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে যায় সেই শিশুটি।

বেড়াতে যাওয়ার প্রবনতা: অসচেতন অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদেরকে শুক্র শনিবার বন্ধ ভেবে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি পাঠায় ঘনঘন। তাই সাপ্তাহিক বাড়ির কাজ অসম্পূর্ণ থাকে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়া নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের প্রতিদিন অন্তত ৫ পৃষ্ঠা জোরে শব্দ করে রিডিং পড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

১০০% পঠন দক্ষতা অর্জনের জন্য কার্যকর কিছু কৌশল

জোরে পড়া : প্রতিদিন অন্তত ৫ পৃষ্ঠা জোরে পড়তে হবে। এতে মুখের জড়তা কাটে এবং বানান ভুলের প্রবণতা কমে।

ধ্বনিভিত্তিক পদ্ধতি: শুধু মুখস্থ না করে বাংলা ও ইংরেজির ক্ষেত্রে বর্ণের সঠিক উচ্চারণ ও ধ্বনি শেখার ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

নিয়মিত রিডিং কার্ড: জটিল বাক্যগুলো ভেঙে ছোট ছোট বাক্যে রিডিং কার্ড তৈরি করে অনুশীলন করা যেতে পারে।

শিক্ষক ও অভিভাবকের তদারকি: বানান ও উচ্চারণে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা শুধরে দেওয়া এবং প্রতিদিনের পড়া বুঝিয়ে দেওয়া।

ওয়ান টু ওয়ান কেয়ার : পুরো ক্লাসের সব শিক্ষার্থীকে একসাথে না দেখে, যারা একদমই পড়তে পারছে না তাদের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করুন। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট তাদের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ রাখুন।

সহপাঠী শিক্ষা: ক্লাসের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলুন। শিশুরা অনেক সময় শিক্ষকের চেয়ে বন্ধুর কাছে সহজে শেখে।

প্রগতি প্রমাণক রাখা: ক্লাসের কোন শিক্ষার্থী আগে কেমন ছিল এবং বর্তমানে তার উন্নতির হার কতটুকু, তার একটি লিখিত প্রতিবেদন রাখতে হবে। এটি কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রমাণ হিসেবেও কাজ করবে।

সহায়ক শিক্ষা উপকরণ : পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ‘রেমেডিয়াল প্যাকেজ’ বা সহায়ক শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

রিডিং কর্নার স্থাপন ও পাঠাগার উন্নয়ন: প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় বইসমূহের রিডিং কর্নার গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা আগ্রহ নিয়ে বই পড়তে পারে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ:

শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে শিশুদের উপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদানের কৌশল শেখাতে হবে।

অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবারে পড়ার পরিবেশ গড়ে তুলতে অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। নিয়মিত শিশুরা বাসায় কি পড়ছে, তা খেয়াল রাখতে হবে।

ই-লার্নিং ও অডিও-বুকের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

সহপাঠ কার্যক্রম বৃদ্ধি:

পাঠ প্রতিযোগিতা, গল্প বলা, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রিডিংয়ে উৎসাহী করতে হবে।
শিক্ষকদের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।

পঠন দক্ষতা শিশুর জ্ঞান অর্জনের প্রথম ধাপ।

পড়ার পাঁচটি মৌলিক উপাদান রয়েছে। যেমন-

১। ধ্বনি জ্ঞান / বর্ণজ্ঞান

২। শব্দ জ্ঞান

৩।বাক্য জ্ঞান

৪। পঠন সাবলীলতা

৫। বোধগম্যতা

এগুলো প্রাক – প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির মধ্যেই সমাপ্ত করা সম্ভব। আর এগুলো সম্ভব করতে পারলেই পঠন দক্ষতা অর্জন হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি শতভাগ পঠন দক্ষতা অর্জন করতে না পারে তবে ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনে তারা বারবার হোঁচট খাবে। তাই সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে প্রতিটি শিশু পাঠে দক্ষ হয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

-লেখক
মাহমুদা জাহান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি: মৌলভীবাজারে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণ। এই চেতনাকে ধারণ করে গরিব, দুস্থ, অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কুরবানির মাংস বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।

গত ২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তর জগন্নাথপুর এলাকার বোরহানাবাদে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ও সামাজিক ও মানবিক সংগঠন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৌলভীবাজারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শতাধিক মানুষের মধ্যে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে সমাজের অসচ্ছল মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক পরিবার আছে, যারা আর্থিক সংকটের কারণে কুরবানির মাংস সংগ্রহ করতে পারে না। তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।

কর্মসূচির শুরু থেকেই স্বেচ্ছাসেবীরা মাংস প্রস্তুত, প্যাকেটজাত ও বিতরণের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সুশৃঙ্খল পরিবেশে সুবিধাভোগীদের হাতে মাংসের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। অনেকেই এই সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইএসের মহাসচিব নাজমুল হোসাইন, শুভসংঘ মৌলভীবাজারের কার্যকরী পরিষদের সদস্য মাহবুব রহমান ইয়ামিম, রেদওয়ান আহমদ ছামীসহ উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি সামর্থ্যবানদের সঙ্গে অসহায় মানুষের হৃদ্যতার বন্ধন দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে। কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগের মাধ্যমে মানবতার সেবা করা এবং সেই চেতনাকে বাস্তবায়ন করতেই এই উদ্যোগ।

বক্তারা বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দুর্যোগকালীন সহায়তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাংস বিতরণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাদের মতে, ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনেও পৌঁছে যায়।