All posts by jitu

রাজনীতি, সন্ত্রাস ও দুনীর্তিমুক্ত ভিক্টোরিয়া কলেজ চায় শিক্ষার্থীরা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজনীতি, সন্ত্রাস ও দুনীর্তিমুক্ত ভিক্টোরিয়া কলেজ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার এ আয়োজন করে তারা।

লিখিত বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মাকসুদা আক্তার বলেন,কলেজের সদ্য পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান ও কতিপয় শিক্ষক কলেজের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রয়েছে ৪জন শিক্ষক ও ৩জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়টি নিয়ে দুদকের তদন্ত চলমান।

দুর্নীতিবাজ এসব শিক্ষা ক্যাডারের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে কলেজের প্রায় ৮৫ ভাগ শিক্ষক। একই সাথে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্বৈরাচার পন্থীদের বিনাভোটের শিক্ষক পরিষদ।

অনার্সে পড়ুয়া এ ছাত্রী বলেন, উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি কতিপয় আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর, দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে আবার কলেজে ফিরিয়ে আনতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ছাত্রদের রক্তের উপর দিয়ে অধ্যক্ষকে চেয়ারে বসাবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। কলেজের যে সকল শিক্ষক এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। শিক্ষকদের সম্মানের খাতিরে আমরা তা প্রকাশ করছি না।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিনি বলেন, আমাদের যুদ্ধ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। অনিয়ম ও দুনীর্তির বিরুদ্ধে। যদি কোন শিক্ষার্থী আহত বা নিহত হয়, এ দায়বার স্বৈরাচার-অতিউৎসাহী শিক্ষকদের নিতে হবে। আপনারা চাকুরিবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করুন। সংষ্কারের এ সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে যৌক্তিকভাবো আমরা অতিরিক্ত ফি কমানোর দাবি জানাচ্ছি। বিনা ভোটে নয়, আপনাদের সরাসরি ভোটে শিক্ষক পরিষদ গঠন করা হোক। নতুন অধ্যক্ষ যোগদান না করা পর্যন্ত যে কোন একজন জৈষ্ঠ্য অধ্যাপক কলেজের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আমরা আপনাদের সন্তান। রাষ্ট্র সংষ্কার ও কলেজ সংষ্কারের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সবার সহযোগীতা চাই। আমরা জানি, আইন মানুষের কল্যাণে, আইনের কল্যাণে মানুষ নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আল মামুন, রবিউল হাসান, লামিনা ইসলাম, হাসিবুল ইসলাম, আফরোজা মীম, বেলায়েত হোসেনসহ কলেজের উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখার অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা বলেন। যদি কেউ রাজনীতি, সন্ত্রাস ও দুনীর্তির সাথে আপোষ করে, সে আমাদের সদস্য নয়।

ব্রাহ্মণপাড়ায় নৌকা তৈরির হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে চরম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঢলের পানিতে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, এবং বাড়িঘর ডুবে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না। ফলে ব্রাহ্মণপাড়ার বন্যা পরিস্থিতি এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে, এবং এর ফলে উপজেলায় ডিঙি নৌকা তৈরির হিড়িক পড়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা নানান আকারের ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আলকাতরা মাখাচ্ছেন, কেউ কাঠ কেটে জোড়া লাগাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তাদের জন্য দম ফেলার সময় নেই।

প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন। অনেকে অগ্রিম বায়না দিচ্ছেন। দাম বেশি হলেও বিপদের সময় নৌকা পেতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট-বড় নৌকা বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, একসময় এই উপজেলায় নৌকার প্রচুর কদর ছিল। তবে গত তিন দশকের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের ফলে নৌকার চাহিদা কমে যায়। বর্তমানে গোমতী ও সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায়, দীর্ঘদিন পর আবারও নৌকার চাহিদা বেড়েছে। তাই কারিগররা নতুন উদ্যমে নৌকা তৈরিতে মনোনিবেশ করেছেন, এবং ক্রেতারাও নৌকা কিনতে ভিড় করছেন।

নৌকা তৈরির এক কারিগর জানান, সারা বছর কাঠমিস্ত্রির কাজ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করি। এ উপজেলায় নৌকার তেমন চাহিদা নেই। তাই পুরো বছরে বর্ষা মৌসুমে দু-চারটা নৌকা তৈরি করি। তবে এ বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো ব্রাহ্মণপাড়াও বন্যাকবলিত হওয়ায় হঠাৎ করে নৌকার চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই আমরা কারিগররা এখন সব কাজ ফেলে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছি।

নৌকা কিনতে আসা আবদুল হান্নান জানায়, আমাদের কখনো নৌকার প্রয়োজন পড়েনি। তবে এ বছর সালদা নদী ও গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙনে আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অন্যান্য এলাকাও প্লাবিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। চলাচলের জন্য এখন নৌকাই ভরসা। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। দাম একটু বেশি, তাও নৌকা পাওয়া যাচ্ছে এটাই শুকরিয়া।

নোয়াখালীতে পানিবন্দি গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাড়িতে কেবলই বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। তাতে দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে আছেন গর্ভবতী মুক্তা বেগম। উপায় না পেয়ে ফোন দিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। খবর পেয়ে দ্রুত ওই নারীকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে, সোনাপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মুক্তা বেগম নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদের স্ত্রী।

ওই নারীর স্বামী শাকিল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে পানিতে আটকা পড়ে ঠাণ্ডায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনো উপায় না দেখে সেনাবাহিনীর নোয়াখালী ক্যাম্পে ফোন দিলে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেছেন। আমি সেনা সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞ।

সেনাবাহিনীর ১৬ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সোনাপুর রেল স্টেশন এলাকায় পানিবন্দি একটি পরিবারের সসদ্যদের কাছ থেকে জরুরি কল পেয়ে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় পাঁচ মাসের গর্ভবতী এক নারীকে উদ্ধার করে তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভালো আছেন। আমরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, আজ দুই দিন নোয়াখালীতে সূর্যের আলোর দেখা মিললেও অবস্থার উন্নয়ন ধীরে ধীরে হচ্ছে। মূলত ভারী বর্ষণ ও ফেনীর মুহুরী নদীর পানিতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীসহ আট উপজেলা প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েন অন্তত ২০ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ। জেলার ৮২৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। অনেকে পানিবন্দি হয়ে নিজের বসতবাড়িতে আছেন। আমরা সবার মাঝে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। তবে বন্যা-পরবর্তী সুপেয় পানি পাওয়া ও পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্তি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেটি মোকাবিলায় আমরা সজাগ আছি।

নাঙ্গলকোটে প্রাণ বাঁচাতে মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যার্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

উজানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। এর মধ্যে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী গ্রাম চান্দেরবাগ অন্যতম। সেখানে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায়, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন জীবন রক্ষার্থে পাশের গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।

ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত সীমান্তবর্তী চান্দেরবাগ গ্রামে প্রায় ২৩০ থেকে ২৫০ জন মানুষ বসবাস করেন, যার মধ্যে মাত্র দুটি মুসলিম পরিবার রয়েছে, বাকি সবাই হিন্দু। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামটি প্লাবিত হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে গ্রামটি তলিয়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র না পাওয়ায় গ্রামের লোকজন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া, কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন বাড়ির ছাদে।

গ্রামটির বাসিন্দা গিতা রানী বলেন, পুরো গ্রাম ডুবে গেছে। কোনোরকম জীবন নিয়ে মসজিদে অবস্থান করছি। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা এখনো পাইনি। আশেপাশের কয়েকজন মানুষ কিছু শুকনো খাবার দিয়েছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, আমরা বিষয়টা শুনেছি, খোঁজখবর নিয়ে সহায়তা করা হবে।

 

বন্যায় বিপর্যস্ত বুড়িচংয়ের দুই লাখ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার:

বন্যায় ডুবে গেছে কুমিল্লার ১৪টি উপজেলা। কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই উপজেলার মধ্যে বুড়িচং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে পুরো বুড়িচং উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নই পানির নিচে। প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যার ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসি মানুষরা।

বেশ কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও, অনেকেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বানের পানি কমে গেলে নিজ ভিটেমাটিতে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ বুড়িচংয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বাকি সব মানুষ রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। ৫০ হাজার পানিবন্দি পরিবারের অপেক্ষা শুধু বন্যা শেষ হয়ে গেলে পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার।

বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চারপাশ থই থই পানিতে ভরা। ঘোলা পানিতে মাছের ঘের, হেক্টরজুড়ে ফসলি জমি, এবং গরুর খামার ডুবে গেছে। ঘরবাড়িও পানির নিচে তলিয়ে আছে। নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া মানুষদের কেউ কেউ সাঁতরে তাদের ভিটেমাটি দেখে আসছেন।

আজমীর হোসেন নামে খাড়াতাইয়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, মুহূর্তের মধ্যে এত পানি কোথা থেকে এলো বুঝি না। যে ক্ষতিটা আমাদের হয়েছে, জানি না কী দিয়ে পোষাবো।

এদিকে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে কুমিল্লার আকাশ রৌদ্রময়। শনিবার সকালেও ঝলমলে রোদ দেখা গেছে কুমিল্লার আকাশজুড়ে। বৃষ্টি না থাকলেও পানি কমছে খুবই কম আকারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্র মতে, বাঁধ ভাঙার পর থেকে গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার পানি কমছে। যা বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপ্রতুল।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান জানায়, এখনও বিপৎসীমার বেশ ওপরে গোমতীর পানি। আমরা এখনও বেশি ঝুঁকিতে আছি। পরিস্থিতির উন্নতি হতে আরও সময় লাগবে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটা মানুষও যেন অভুক্ত না থাকে আমরা সেভাবে কাজ করছি।

ত্রাণ সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসায় যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারত থেকে আসা পানি এবং টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ১২টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ‘গণত্রাণ’ কর্মসূচি শুরু করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। হাজারো মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছেন ত্রাণ পৌঁছে দিতে।

শুক্রবার থেকে সেখানে ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন ত্রাণ দিতে আসছেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন অনেকেই। ত্রাণদাতাদের কর্ম দেখে অনেকেই তাদের প্রশংসা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীও।

শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে টিএসসির ত্রাণ কর্মসূচি নিয়ে একটি পোস্ট দেন আজহারী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিকেলের ঝালমুড়ি আর ফুচকা যাদের মিস হয় না, বাসে হাফ ভাড়ার জন্য যারা তর্ক জুড়ে দেয়- সেই ছাত্রছাত্রীরা আজ তাদের পুরো মাসের হাত খরচটা অবলীলায় দিয়ে দিচ্ছে টিএসসির ত্রাণ তহবিলে। মাশাআল্লাহ! আমরা তো এমন বাংলাদেশেরই স্বপ্ন দেখি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক পোস্টে তিনি লেখেন- ‘উপকূলীয় এলাকায় একটানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানের পানিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চল। বন্যাকবলিত এসব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি দেশের আপামর তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান রইল।’

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই উদ্যোগে গণত্রাণ কর্মসূচিতে শামিল হতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন পরিবহনে করে বন্যার্তদের জন্য খাবার, জামা-কাপড়, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসেন। অসংখ্য মানুষ তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। তা ছাড়া বিকেলে বিজিবির একটি কাভার্ড ভ্যান ভর্তি করে ত্রাণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৭ টাকা। শেষ ৫ ঘণ্টায় সংগ্রহ ৬৭ লাখ টাকা। অনলাইন-অফলাইনে চলছে ত্রাণ সংগ্রহ।

কুমিল্লা-নোয়াখালীতে টেলিযোগাযোগ সেবার উন্নতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দেশের অন্তত ১২ জেলা। এসব জেলায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে টেলিযোগাযোগ সেবা। ফলে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা। পানিতে আটকা পড়া অসহায় মানুষ যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজনদের সঙ্গে। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কয়েক লাখ মানুষ।

বিটিআরসির তথ্যমতে, শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত থেকে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে টেলিযোগাযোগ সেবার উন্নতি হতে শুরু করেছে। বিদ্যুৎসংযোগ ফেরায় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কও ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জেলার সংখ্যাও কমেছে।

তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ফেনী। জেলাটিতে অচল হয়ে পড়া মোবাইল টাওয়ারগুলো চেষ্টা করেও সচল করা যাচ্ছে না। উল্টো আরও বেশি সংখ্যক টাওয়ার অচলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯৩ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে মানুষের।

বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের সবশেষ তথ্যমতে, বন্যাকবলিত ১২ জেলার মধ্যে ১০ জেলার কিছু এলাকায় এখনো টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। সেগুলো হলো- ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে ফেনী। জেলাটির ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার বা সাইট এখন অচল। সেখানে থাকা ৬৫৩টি টাওয়ারের মধ্যে ৬০৫টি অচল হয়ে পড়েছে। সচল আছে মাত্র ৪৮টি। সেগুলোও কতক্ষণ সচল রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় অপারেটররা।

গত দুদিন ধরে খারাপ পরিস্থিতি থাকলেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর টেলিযোগাযোগ সেবা। নোয়াখালীর এক হাজার ১৫১টি টাওয়ারের মধ্যে ১৭৫টি এবং কুমিল্লায় ২ হাজার ৫২৯টি টাওয়ারের মধ্যে ২৪৩টি অচল রয়েছে। বাকিগুলো সচল। অচল টাওয়ারগুলোও দ্রুত সচল করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে অপারেটরগুলো।

এছাড়া লক্ষ্মীপুরে ৩৬টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০টি, চট্টগ্রামে ৮৬টি, খাগড়াছড়িতে ৩০টি, হবিগঞ্জে তিনটি, মৌলভীবাজারে ৪০টি এবং সিলেটে ৭টি মোবাইল টাওয়ার অচল।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০টি ভি-স্যাট প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে পাঁচটি ফেনী জেলার প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে। ভি-স্যাটগুলো ব্যবহার করে টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখার যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

টেলিকম অপারেটরদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অটুট রেখে পর্যাপ্ত পাওয়ার ব্যাকআপ (ব্যাটারি ব্যাকআপ, ডিজেল জেনারেটর, পোর্টেবল জেনারেটর ইত্যাদি) রাখার ব্যবস্থা নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মোবাইল অপারেটরগুলো জানিয়েছে, মূলত বিদ্যুৎসংযোগ না থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলো অচল হয়ে পড়ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নির্দেশনায় তারা টাওয়ারগুলো সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট ও ফ্রি মিনিট দিচ্ছেন তারা।

বুড়িচংয়ে বন্যার পানি বেড়েই চলেছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে কুমিল্লায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। বুড়িচং উপজেলার নতুন নতুন এলাকাও এখন প্লাবনের কবলে পড়ছে। প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে বহু মানুষের স্বপ্ন, আর ঘরবাড়ি ছেড়ে সবাই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে।

সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পানিবন্দিদের উদ্ধার ও সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী এবং সামাজিক সংগঠনগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১১টায় সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম, লড়িবাগ, বারেশ্বর এবং শংকুচাইলসহ আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বুড়বুড়িয়া এলাকার গোমতী বাঁধ ধসে পড়ার পর থেকে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দিশেহারা হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার মানুষ। বসতি ছেড়ে মানুষ ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে। সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততোই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চারদিকে মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। অনেকেই শুধু পরনের কাপড় নিয়ে ঘর ছেড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম, লড়িবাগ, বারেশ্বর এবং শংকুচাইলসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকার গোমতী বাঁধের একটি অংশে ধসে পানি ঢুকতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই প্লাবিত হয়ে যায় বুড়বুড়িয়া এলাকা।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহিদা আক্তার জানিয়েছেন, উপজেলায় ক্রমেই পানি বাড়ছে। নতুন করে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ গোলযোগ এবং নেটওয়ার্ক সমস্যায় তিনি সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। নতুন করে মোট কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে জানাতে সময় লাগবে।

দেশে বন্যায় ১৫ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

হঠাৎ বন্যায় ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ দেশের ১১ জেলা তলিয়ে গেছে। কারও কোনো প্রস্তুতি ছিল না। ফলে ঘরবাড়ি, সহায়সম্বল ফেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছোটেন মানুষ।

এসব জেলাগুলোতে বন্যায় এখন পর্যন্ত (শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত) ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

এতে জানানো হয়, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি (ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার)। ৭৭ উপজেলা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫৮৯টি।

১১ জেলায় মোট ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৯ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৯ জন, মারা গেছেন ১৫ জন‌। পুরুষ ১৩ জন, নারী ২ জন। মারা যাওয়ার মধ্যে কুমিল্লায় ৪, ফেনীতে ১, চট্টগ্রামে ৪, নোয়াখালীতে ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১ এবং কক্সবাজারে ৩ জন রয়েছেন।

তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, পানিবন্দি/ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ১৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০ জন লোক এবং ১৮ হাজার ৯৬টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬৩৯টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

বন্যা আক্রান্ত জেলাসমূহের জেলা প্রশাসককে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেডিকেল টিম ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তথ্য ও সহযোগিতার জন্য ০২৫৫১০১১১৫ নম্বর চালু রয়েছে। ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বিজিবি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এবং সচিব বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরি