All posts by jitu

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের নতুন নাম ‘বিজয় ২৪’

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা। হলটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘বিজয় ২৪’।

বুধবার (৭ আগস্ট) হলের নাম পরিবর্তন করেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম স্প্রে দিয়ে মুছে অপর পাশে ‘বিজয় ২৪’ নামকরণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক নাদিম আহমেদ একটি স্প্রে দিয়ে নোটিশ বোর্ডে থাকা বঙ্গবন্ধুর নামটি মুছে ফেলেন।

শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন। মিছিলের শুরুতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে থাকা কাচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এরপর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি ড্রিল মেশিন ও হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।

দুদিন ধরে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। জাতীয় সম্পদের ক্ষতি ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চাইলে, তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে : চাঁদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি মানিক

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন দেশের শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিশিষ্টজনরা। উদ্বিগ্ন দেশের সচেতন মানুষও। সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন তারা। তাই দেশের এই পরিস্থিতিতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

কেউ হামলা, অগ্নিসংযোগ কিংবা লুটপাটে সম্পৃক্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে জোড়ালো পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া বাজারে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এক পথসভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন সহ চাঁদপুরের সবকটি এলাকায় যাতে আর কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিন খপয়াল রাখতে হবে। এবং দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ কিংবা হত্যাকান্ডের মত ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে সাথে সাথে আমাকে জানাবেন। আমরা দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

চাঁদপুরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দির-গির্জা পাহারা দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোন দুস্কৃতকারী যেনো অঘটন ঘটিয়ে আমাদের দলের বদনাম করতে না পারে। তাই এই দেশ ও দেশের মানুষের রক্ষার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। এখন থেকে সকল নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সাথে মাঠে থেকে আইনী কাজে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি সকল পুলিশের সাথে ভালো আচরণ করে তাদের কাজেও সহযোগীতা করার আহবান করেন তিনি।

এ সময় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, কোষাধ্যক্ষ কাদির বেপারী, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন মিয়াজি, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আশেক এলাহী, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন পাটওয়ারী নয়ন সহ বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দেশ থেকে পলায়ন রোধে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিজয় পরবর্তী পরিস্থিতিতে কতিপয় দুর্নীতিবাজ ও দুস্কৃতিকারী ব্যক্তিবর্গ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে, যাতে কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে।

জনসাধারণকে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়া রোধে সহায়তার জন্য বিজিবির হটলাইন +৮৮০১৭৬৯-৬০০৬৮২ এবং +৮৮০১৭৬৯-৬২০৯৫৪ নাম্বারে ফোন করে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল ইসলাম, পিবিজিএমএস স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সীমান্তে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ আইসিপি থেকে ০১ জন, যশোরের বেনাপোল আইসিপি থেকে ০১ জন এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আইসিপি থেকে ০২ জন মোট ০৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

ধ্বংস নয়, আমরা শান্তি চাই: খালেদা জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা ধ্বংস চাই না, শান্তি চাই। ছাত্র-তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া একথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, এ বিজয় আমাদের নতুন সংগ্রামে নিয়ে এসেছে। এখন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। আসুন তরুণদের হাত শক্তিশালী করি।

এর আগে দুপুর পৌনে তিনটায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়েই নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। তাদের হাতে জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন নেতাকর্মীদের ব্যানার ফেস্টুন দেখা গেছে। স্লোগানে মুখরিত পুরো এলাকা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশের শুরুতেই বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের সব ইউনিটকে যোগদানের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ব-স্ব ইউনিটে যোগদানের নির্দেশনা দিয়েছেন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম।

বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, সারাদেশের পুলিশ সদস্যদের বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার মধ্যে স্ব স্ব পুলিশ লাইন্স, দপ্তরে, পিওএম, ব্যারাকে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইজিপি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। এর কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকেই স্ব স্ব ইউনিটে নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা নতুন করে শুরু করতে চাই। তাই সবাইকে আগামী ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ছাত্র আন্দোলন দমনে অপারেশনাল ভুলত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করে আইজিপি বলেন, ছাত্র, সাধারণ মানুষ, পুলিশসহ অনেকেই নিহত হয়েছেন। সবকিছুর জন্য আইজিপি হিসেবে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

বরুড়ায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বরুড়ায় কামাল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে বরুড়া উপজেলার পৌর সদর বাজারের জিরো পয়েন্টে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নিহত কামাল হোসেন বরুড়া পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বরুড়া পৌর সদরের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন পাটোয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, যুবদল নেতা কামাল হোসেন বরুড়া পৌর বাজারে ফলের ব্যবসা করতেন। বুধবার দুপুরে বরুড়া পৌর সদরের জিরো পয়েন্টের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসেছিলেন কামাল হোসেন।

এ সময় একদল দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে কামাল হোসেনের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করলে গলার এপাশ দিয়ে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বের হয়। মারাত্মক আহত হন কামাল হোসেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে বরুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, থানা ও ডাকঘরসহ সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দিন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আনুমানিক বেলা ১১টার সময় নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর নাঙ্গলকোট জোনাল অফিস ভাঙচুর করা হয়। অফিসটি পৌর মেয়র ও যুবলীগ নেতা আবদুল মালেকের বাড়িতে ভাড়া হিসেবে চলছিল।

এরপর কয়েকবার নাঙ্গলকোট থানা ভাঙচুরের চেষ্টা করলে ওসি দেবাশীষ চৌধুরী ও পুলিশ সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে রক্ষা পান। দুপুরে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করার পর বিএনপির কিছু নেতাকর্মী থানার সামনে অবস্থান নেন এবং কোনো ধরনের সহিংসতা না করতে থানা পাহারা দেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিকেলে আনন্দ মিছিল নিয়ে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা এসে পুরো থানা ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের উপপরিদর্শক সোহেল মিয়া আহত হন। তবে ওসিসহ অন্য সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।

পরে সরকারি ডাক অফিস ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসব হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

আগামীকাল দুপুরে দেশে ফিরছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে দেশে ফিরবেন। বর্তমানে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে রয়েছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার পরে বঙ্গভবনের বাইরে সাংবাদিকদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ড. ইউনূসের একটি মাইনর অপারেশন হয়েছে। বুধবারই দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। আজ রাতে অথবা কাল সকালের মধ্যে উনি দেশে পৌঁছাবেন। এর মধ্যে আমাদের তালিকাটিও চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ২৪ ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে শপথ সেটা হয়তো আমরা করে ফেলতে পারবো।

তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম বৈঠকে আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। মহামান্য রাষ্ট্রপতিও সম্মতি দিয়ে বলেছেন, তাকে প্রধান করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার পরপরই বঙ্গভবনে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ সমন্বয়ক।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কবে নাগাদ স্থগিত এ পরীক্ষাগুলোর সময়সূচি প্রকাশ করা হবে, তা সম্পর্কেও কিছুই জানানো হয়নি।

বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী।

আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১১ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসমূহ অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষাসমূহের নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‌‌আসলে এখন পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। সেজন্য স্থগিত পরীক্ষাগুলো নতুন সময়সূচিতেও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়কে আমরা পরিস্থিতি জানিয়েছি। তারা সে অনুযায়ী আদেশ জারি করে বিষয়টি জানিয়ে দেবেন।

এর কিছুক্ষণ পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিতের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হলো।

গত ৩০ জুন সিলেট বোর্ড বাদে সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। রুটিন অনুযায়ী ৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর আর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।

সূচি অনুযায়ী, এখনো ১৩ দিনের পরীক্ষা মোট ৬১টি বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ বাকি। বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বিষয় থাকায় এতগুলো পরীক্ষা আটকে গেছে। যদিও প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১৩টি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এরমধ্যে বাধ্যতামূলক বাংলা ও ইংরেজির চারটি বিষয় (প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র) এবং আইসিটি। ৮টি বিষয় ঐচ্ছিক (অপশনাল)।

সর্বশেষ সব পরীক্ষা স্থগিত করে ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। সে অনুযায়ী আগামী ৮ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ ও সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বোর্ডগুলো। বোর্ড কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।

এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় শিল্পী রাহুল আনন্দকে

ডেস্ক রিপোর্ট:

উত্তাল বাংলাদেশ। একদিকে বইছে আনন্দের জোয়ার ঠিক যেন আলোর উলটো পিঠের অন্ধকারের মতো ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। একের পর এক স্থানে চলছে হামলা ও খুন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক তারকাও। কখনও প্রযোজক-অভিনেতাকে খুন, কখনও প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কের বাড়িতে ভাঙচুর। এসবের হাত রক্ষা পাননি ফোকব্যান্ড ‘জলের গান’-এর শিল্পী রাহুল আনন্দও।

‘এমন যদি হতো’, ‘বকুল ফুল’সহ বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গানের গায়ক রাহুল আনন্দ। সোমবার শিল্পীর বাড়ি এবং সেখানে থাকা শতাধিক যন্ত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। এটি শুধু গায়কের বসতবাড়ি ছিল না, ব্যান্ডের অনেক গান লেখা থেকে সুর হয়েছে এ বাড়িতে। গানের অফিশিয়াল স্টুডিও হিসেবেও ব্যবহৃত হতো বাড়িটি। দলের সবার দলগত সংগীতচর্চা থেকে শুরু করে সব স্টুডিও ওয়ার্ক-রেকর্ডিং, মিক্সিং, এডিটিং হতো এখানেই।

বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সব সময় সক্রিয় দেখা গেছে রাহুল ও তার দলকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়েও নিজের দলের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর রবীন্দ্রসরোবরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে ছাত্র-জনতার বিজয়ের পর সহিংসতা থেকে রক্ষা পেলেন না তিনি।

এরপরও তছনছ করা হয়েছে তার বাড়ি। দলনেতা ও ভোকাল রাহুল আনন্দের বাড়িতে হামলার বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে জলের গান। বিবৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে একটি গান। এই বাড়িতে রেকর্ড করা শেষ গান।

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ওই সড়কেই থাকতেন জলের গানের অন্যতম এই সদস্য।

জলের গানের মূল ভোকালিস্ট রাহুল আনন্দ এক গণমাধ্যমে জানান, কিছু ছেলেপেলে এসে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলল, প্রতিবাদ করে গায়ক তাদের বলেন, তিনিতো দেশের মানুষের জন্য গান করেন। বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনেরও সমর্থক ছিলেন। তবুও তার বাড়িতে কেন হামলা করছে?

রাহুলের কথা শুনেই চটে যায় দুর্বৃত্তরা। গায়কদের দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরে গায়ক বের হয়ে আসলেই শুরু হয় বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। ঘর থেকে লেপ-তোষকও নিয়ে যেতে দেখা যায়। এসিও খুলে নিয়ে যায় লুটপাটকারীরা।

আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট হওয়ার পর ব্যান্ড জলের গানের অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। শেখানে তারা লিখেছেন, ‘যারা নিয়মিত এই বাড়িতে যাতায়াত করতেন, তারা জানেন যে রাহুল আনন্দ ও উর্মিলা শুক্লার বাড়িটির সাদা গেটটি সবসময় খোলাই থাকতো। তাতে তালা দেয়া হতো না। যে কেউ, যেকোনো দরকারে যেন দাদার কাছে পৌঁছোতে পারে সেই ভাবনায়। আর যারাই দিনের যেকোনো প্রান্তে এই বাড়িতে এসেছেন, সকলেই একটি চিত্রের সঙ্গে খুব পরিচিত, তা হলো- রাহুল আনন্দ মাটিতে বসে একটি সিরিশ কাগজ হাতে নিয়ে তার নতুন বাদ্যযন্ত্রের কাঠ ঘষছেন। জলের গানের করা পোস্টে সবার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে ব্যান্ডটি লিখেছেন, ‘তবে কি এই ঠিকানায় আবাস হওয়াটাই কিছু মানুষের এত ক্ষোভের কারণ? এত রাগের বহিঃপ্রকাশ? যারা ইতিমধ্যে সেখানে গিয়েছেন কিংবা ফেসবুকে পোস্ট দেখেছেন তারা সকলেই খবরটি জানেন। সকলের জন্য নিরন্তর ভেবে যাওয়া মানুষটিকে পরিবারসহ এক কাপড়ে তার নিজ ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব হয়তো আজ