All posts by jitu

কুমিল্লায় পেশীশক্তি ও অর্থের প্রভাবে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বৈধ কাগজপত্র ও দীর্ঘদিনের দখলে থাকা জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, পেশীশক্তি, অর্থের প্রভাব ও সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে তাদের জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের উত্তর পাশে নিমসার জুনাব আলী কলেজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি জমি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন মৃত অহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল হোসেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বুড়িচং থানার নিমসার মাধবপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সুলতান, মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে রানা, জনি, স্বপ্না এবং আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে সুলতানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে যান।

বাবুল হোসেন জানান, মহাসড়কের উত্তর পাশে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি জমি রয়েছে। প্রথম জমিটি তার, এরপর পন্ডপের ওয়ারিশ রুহুল আমিনদের, তারপর জমির উদ্দিনের ওয়ারিশ হারুন মিয়ার জমি। এর পরের অংশ অবৈধভাবে রানা-জনি গং দখলে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে নিজেদের অবস্থানের দুই দাগ পেছনে থাকা সত্ত্বেও সামনের তার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন বাবুল।

তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমার জমি দখলের চেষ্টা চলছে। এখন টাকার প্রভাব, সন্ত্রাসীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

বিষয়টি নিয়ে তিনি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি কুমিল্লার প্রশাসন, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দিন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত জমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, “বিষয়টি জমিজমা সংক্রান্ত হওয়ায় পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। যেন কোনো ধরনের হামলা বা সংঘর্ষ না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। উভয় পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রানা ও জনিদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার জেরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই ফয়সাল খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই মোর্শেদকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ফয়সাল (৩৫) গোয়ালগাঁও গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত মোর্শেদ তার আপন বড় ভাই।

ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানায়, স্থানীয় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন অভিযুক্ত মোর্শেদের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি নাইট শিফটে ডিউটি করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে ঘুমাতে যান। সকালে ঘরের পাশে শিশুরা হৈ-হুল্লোড় করলে মোরর্শেদ ঘর থেকে বের হয়ে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে তাদের বকা দেন। এ সময় ছোট ভাই ফয়সাল বড় ভাইকে নিষেধ করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা দুজনই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

এরপর দুপুর দেড়টার দিকে দুই ভাই পুনরায় বাড়ি ফিরে আবারও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মোর্শেদ ঘর থেকে দা নিয়ে এসে ছোট ভাই ফয়সালকে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় সুয়াগাজী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোর্শেদকে আটক করা হয়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ।

কুমিল্লাসহ দেশের ১১ বিশ্ববিদ্যালয় পেল নতুন ভিসি

কুমিল্লাসহ দেশের ১১ বিশ্ববিদ্যালয় পেল নতুন ভিসি

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (ভাইস চ্যান্সেলর) পরিবর্তন করা হয়েছিল। এবার একযোগে ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ আগে থেকেই ফাঁকা ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

১১টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর (ডুয়েট), জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

দাউদকান্দিতে অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদে মহাসড়কে যানবাহনে চলাচল ঠিক রাখতে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ইলিয়টগঞ্জ বাজারের অবৈধ গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক দোকান ও গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে তিনটি মিষ্টির দোকানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পুলিশ ও দাউদকান্দি সহকারী কমিশনার ভূমি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেদওয়ান ইসলাম জানায়, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ বাজারে দুই পাশে ফলের দোকান, চায়ের টং দোকান অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছে। যার ফলে রাস্তায় যানবাহন চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তাই ঈদের আগেই উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক জনপথের উদ্যোগে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম ও তার পুলিশ সদস্যরা এবং ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন ও তার গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে তিন মিষ্টির দোকানে বাসি মিষ্টি রাখায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

দাউদকান্দি সহকারী কমিশনার ভূমি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেদওয়ান ইসলাম জানান, মহাসড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হোমনা উপজেলার ওই শিশুটি গত ২১ এপ্রিল ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ বলেন, “শিশুটি গত মাসে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তবে তার হাম পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাকে কুমিল্লা জেলার মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

এদিকে কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে; যার মধ্যে তিনজনের জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৬ জন।

এছাড়া চলতি বছরে এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৫৬০ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

তিনি জানান, “জেলায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ায় একজনকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই শিশু।”

কুমিল্লার পশুর হাটে নতুন চমক ‘সুলতান’

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার পশুর হাটে যোগ হয়েছে ভিন্ন এক আকর্ষণ, বিশাল আকৃতির উট ‘সুলতান’। দর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি এগ্রো ফার্মে আনা হয়েছে বিশাল আকৃতির উট। এর নাম দেওয়া হয়েছে সুলতান।

প্রায় দুই মাস আগে রাজস্থান থেকে আনা এই উটটি খামারি ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদের উদ্যোগে বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই সংযোজন ইতোমধ্যেই কুমিল্লাজুড়ে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক কৌতূহল।

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন উট ‘সুলতান’কে একনজর দেখতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে উৎসাহ ও আগ্রহ।

উটের দেখভালকারী শ্রমিকরা জানান,গরুর তুলনায় উট পালন সহজ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উট সাধারণত গরুর মতোই খাবার খায় এবং এর পরিচর্যায়ও কম কষ্ট হয়।

খামারি ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ বলেন, ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই রাজস্থান থেকে উটটি আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে উট পালন দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে বিশ্বাস করি।

স্থানীয়দের মতে, কুমিল্লার পশুর হাটে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন আগে খুব কমই দেখা গেছে। ফলে ‘সুলতান’ এখন হাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

হোমনায় কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে নছিমন চালকের মৃত্যু

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় কুকুর কে বাঁচাতে গিয়ে এক নছিমন চালকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে হোমনা পৌরসভার বাঘমারা বাজার সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে তার মৃ’ত্যু হয়।

নিহত ব্যক্তি আসাদপুর ইউনিয়নের কলাগাছিয়া উত্তর পাড়া মোঃ রমজান মিয়ার ছেলে মোঃ রুবেল মিয়া (২৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেল মিয়া প্রতিদিন ভোরে বাঞ্ছারামপুর হতে নছিমন দিয়ে মুরগি আনেন। আজ ভোরে মুরগি আনার জন্য বাঞ্ছারামপুর যাওয়ার পথে হোমনা বাঘমারা বাজার মোড়ে হঠাৎ একটি কুকুর গাড়ির সামনে চলে আসে। তাৎক্ষণি কুকুরটিকে বাঁচাতে গিয়ে নছিমন গাড়িটি উল্টে তার নিজের উপরে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে রুবেলের মৃ’ত্যু হয়।

পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

মালয়েশিয়ায় বাজার সম্প্রসারণে দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের জোরালো উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা বর্তমানে মালয়েশিয়া সফর করছেন। মূলত দেশবন্ধু গ্রুপের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বিক্রয় বৃদ্ধি এবং মালয়েশিয়ায় ব্র্যান্ডের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই মার্কেট ভিজিটে অংশ নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড থেকে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ কন্টেইনার বিভিন্ন ধরনের বেভারেজ ও খাদ্যপণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও বৃহৎ পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সফরকালে চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা মালয়েশিয়ায় দেশবন্ধু পণ্যের আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে একাধিক আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মতবিনিময় সভায় অংশ নিচ্ছেন। এসব বৈঠকে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্য সংযোজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।

আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কীভাবে মালয়েশিয়ার বাজারে দেশবন্ধুর পণ্যের বিক্রি আরও বাড়ানো যায় এবং স্থানীয় ভোক্তাদের কাছে ব্র্যান্ডটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা যায়। পাশাপাশি আধুনিক বিপণন কৌশল, ডিজিটাল মার্কেটিং, সুপারশপ ও খুচরা বাজারে পণ্যের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বেভারেজ ও খাদ্যপণ্য বাজারে উন্মুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় ভোক্তাদের মাঝেও দেশবন্ধুর বিভিন্ন পণ্যের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে কোমল পানীয়, জুস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য ইতোমধ্যে বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সফরের অংশ হিসেবে চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মার্কেট পরিদর্শন করছেন। তিনি দেশবন্ধু গ্রুপের পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র ও আউটলেট ঘুরে দেখেন এবং সরেজমিনে পণ্যের ডিসপ্লে, গ্রাহকদের আগ্রহ, বাজারের চাহিদা ও বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বাজার পরিদর্শনের সময় তিনি বিক্রয় প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের রুচি ও চাহিদা বিবেচনায় এনে নতুন পণ্য উদ্ভাবনের পরামর্শও দেন।

মালয়েশিয়ায় দেশবন্ধু গ্রুপের পণ্যের আমদানিকারক মোহাম্মদ শামসু এবং কাউসার আহমেদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন চেয়ারম্যান। এসব বৈঠকে আমদানি কার্যক্রম, বাজার পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশবন্ধু গ্রুপের এই উদ্যোগ মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তারা আরও বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে মালয়েশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশি খাদ্য ও বেভারেজ পণ্যের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্পন্ন পণ্য ও কার্যকর বিপণন কৌশলের মাধ্যমে দেশবন্ধু গ্রুপ ভবিষ্যতে এ বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানে যা জানা গেল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেইস, ডায়েরি, আইডি কার্ড, ডিজিটাল ফি ও সিলেবাস বিক্রির লভ্যাংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই এসব অর্থ বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও প্রশাসনিক খাতে ব্যয় করা হয়েছে। বিভিন্ন খাত থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ কোম্পানির পাওনা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী বা তাদের নিকট আত্মীয়ের বিয়ে, মৃত্যু, অসুস্থতায় সহায়তা প্রদান।

এছাড়াও মামলা পরিচালনা, শিক্ষা সফর, অতিথি আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

জাতীয় দিবস পালন, ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন, অভিনন্দন ব্যানার-ফেস্টুন নির্মাণ, ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও লভ্যাংশের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সব ধরনের ব্যয় সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ “স্টাফ কাউন্সিল” তহবিলে জমা করা হয়।

পরে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত সকলের মধ্যে সমান হারে তা বণ্টন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিদিনের আয় নিয়মিত ব্যাংকে জমা রাখা হয় এবং ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ও রেজুলেশনের মাধ্যমেই সব ব্যয় সম্পন্ন করা হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে একটি মহল পত্রিকা ও ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবাদলিপিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। অতীতে এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক-কর্মচারী কিংবা অন্য কারও কোনো আপত্তি ছিল না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

তিতাসে লতিফ হত্যায় জড়িত ১ জন আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চঞ্চল্যকর আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া(৪৫) হত্যায় জড়িত একজনকে আটক করে তিতাস থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১৩ মে) সকালে তাকে মানিককান্দি গ্রাম থেকে আটক করা হয়। আটকৃত ব্যক্তি মো. রাজিব (২০) সে মানিককান্দি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক।

সূত্রে জানা যায়, লতিফ হত্যাকাণ্ডের সময় রাজিব সরাসরি জড়িত ছিল। নিহত লতিফের স্বজনদের দাবি জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলের নাম পাওয়া যাবে । এদিকে লতিফ হত্যার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

ওসি মমিরুল হক জানান, মানিককান্দি গ্রামে লতিফ হত্যাকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। নিহতের স্বজনরা রাজিব নামের একজনকে আটক করে মারধর করে ডিউটিরত পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছেন।

প্রসঙ্গত, মানিকান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভূঁইয়ার ছেলে আবদুল লতিফ ভূঁইয়াকে (৪৫) সোমবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন দাঁড়ালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর লতিফ মারা যায়।