All posts by jitu

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ-নির্যাতন, বাদ যায়নি শিশুরাও

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ-নির্যাতন, বাদ যায়নি শিশুরাও

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে জমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপণের বহু অভিযোগ রয়েছে। তবে, এবার ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পুলিৎজার বিজয়ী কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফ প্রকাশিত একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী মতামত প্রতিবেদনে যৌন নির্যাতনের শিকার ১৪ জন ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েলি কারাগারে দেশটির সেনা, কারারক্ষী, বসতি স্থাপনকারী ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের দ্বারা ব্যাপক যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কলামিস্ট ক্রিস্টফ লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আমাদের ভিন্নমত থাকলেও ধর্ষণের নিন্দায় আমাদের এক হওয়া উচিত। ইসরায়েলি নেতারা ধর্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে কোনো প্রমাণ না থাকলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এমন একটি ‘নিরাপত্তা কাঠামো’ তৈরি করেছে যার মাধ্যমে যৌন সহিংসতা ইসরায়েলের ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’-এর অংশে পরিণত হয়েছে।

১৪ সাক্ষ্যদাতার মধ্যে ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সামি আল-সাই বলেন, ২০২৪ সালে আটক হওয়ার পর কারারক্ষীরা তার ওপর প্রায়শই নির্যাতন চালিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা সবাই আমাকে মারছিল আর একজন আমার মাথা ও ঘাড়ের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিল। কারারক্ষীরা আমাকে বিবস্ত্র করে বিভিন্ন বস্তু দিয়ে নির্যাতন করছিল এবং অট্টহাসিতে মেতে উঠেছিল। এটা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। আমি মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করছিলাম।

ক্রিস্টফ এক ফিলিস্তিনি কৃষকের সাক্ষ্য তুলে ধরেছেন। কারারক্ষীদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ওই কৃষক অভিযোগ করতে গেলে তাকে ধাতব লাঠি দিয়ে বারবার নির্যাতন করা হয়। তার দাবি, শিন বেত (ইসরায়েলের অভ্যন্তীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য) কর্মকর্তারা তাকে প্রকাশ্যে কথা না বলতেও হুমকি দিয়েছিল।

নারী, শিশু ও গাজার বন্দিরা

প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের পর গ্রেফতার হওয়া এক ফিলিস্তিনি নারীর বক্তব্যও রয়েছে। ওই নারী বলেন, ইসরায়েলি সেনারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ধর্ষণের হুমকি দিয়েছিল। তার ভাষায়, তাকে বারবার বিবস্ত্র করা হয়, মারধর করা হয় এবং যৌন হেনস্তা করা হয়

ওই নারী বলেন, তাদের (ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যদের) হাত আমার পুরো শরীরে ছিল।

গাজার আরেক সাংবাদিকও আটক অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, কেউ তাদের যৌন নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি।

ক্রিস্টফ কয়েকজন ফিলিস্তিনি কিশোরের সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। কিশোররা জানায়, আটক অবস্থায় ধর্ষণের হুমকি ছিল নিয়মিত ঘটনা।

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের ভাষ্য অনুযায়ী, কারারক্ষীরা বলেছিল, এটা করো (যৌনতার ইঙ্গিত), না হলে এই লাঠি তোমার শরীরে ঢুকিয়ে দেব।

ক্রিস্টফ তার প্রতিবেদনে জাতিসংঘ, বি’তসেলেম , সেইভ দ্য চিলড্রেন, ইউরো মেইড হিউম্যান রাইটস মনিটর এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জারনালিস্ট থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য সংযুক্ত করেছেন।

ইউরো-মেডের এক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী যৌন সহিংসতাকে ‘পদ্ধতিগত’ এবং ‘রাষ্ট্র-সমর্থিত সংগঠিত নীতি’র অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘গুরুতর যৌন সহিংসতার ধারা’ নথিভুক্ত করেছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম। অন্যদিকে সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি শিশুদের মধ্যে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি বলেছে তারা যৌন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে বা নিজেরা এর শিকার হয়েছে।

তবে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে এক মুখপাত্র বলেন, তারা সুস্পষ্টভাবে অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।

ক্রিস্টফের মতে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি এসব নির্যাতন চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

ইসরায়েলে নির্যাতনবিরোধী পাবলিক কমিটির নির্বাহী পরিচালক সারি বাশিই বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক যৌন নির্যাতন বাস্তব ঘটনা। কারাগারে এসব স্বাভাবিক করা হয়েছে।

রিজার্ভ সেনাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রত্যাহারের পর কড়া মন্তব্য করেন বাশিই। বাশিই-এর ভাষায়, অভিযোগ প্রত্যাহার করা মানে ধর্ষণের অনুমতি দেওয়া।

প্রতিবেদনের শেষে কলামিস্ট ক্রিস্টফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আর্থিক ও সামরিকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তাই এসব অভিযোগ মোকাবিলার দায় ওয়াশিংটনেরও রয়েছে।

তিনি লেখেন, আমাদের আমেরিকান করের অর্থ ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোকে সহায়তা করছে। ফলে এমন যৌন সহিংসতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত।

গৌরীপুর হাই স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ভিপি জাহাঙ্গীর

জাকির হোসেন হাজারী দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ সদস্যের এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা। এতে দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলমকে বোর্ড কর্তৃক সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের স্বাক্ষর করা গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া পদাধিকারবলে প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম মিয়াকে সচস্য সচিব,মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে অভিভাবক প্রতিনিধি ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে শিক্ষক প্রতিনিধি করা হয়।
ভিপি জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।

নবনির্বাচিত সভাপতি ভিপি জাহাঙ্গীর আলম সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কুমিল্লায় ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্পমেলন কক্ষে পরামর্শ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের যৌথ সভায় ওয়াসা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরন করে। এরই প্রেক্ষিতে ওয়াসা গঠনের লক্ষ্যে পরামর্শ সভা আহ্বান করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

পরামর্শ সভায় ওয়াসা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঢাকা ওয়াসা থেকে ডেপুটেশনে একজনকে এমডি হিসেবে নিয়োগ ও সিটি করপোরেশনের পানি ও পয়ঃনিস্কাশন বিভাগের জনবলকে ওয়াসায় ন্যস্ত করা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার যুগ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা ওয়াসা নাই, সুয়ারেজ সিস্টেম নাই, স্বল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিলো কুমিল্লায় ওয়াসা গঠন। সে লক্ষ্যে আমি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই চিঠি প্রদান করি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই দ্রুত সময়ে কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় আপনারা এসে দেখে যান কুমিল্লার মানুষ কি কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঈদের পর কুমিল্লা সফরের আশ্বাস দেন।

পরামর্শ সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদুল হাসান, জণপ্রশাসন দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

নাঙ্গলকোটে মৃত ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর নড়েচড়ে উঠলেন যুবক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ঘোষণার প্রায় তিন ঘণ্টা পর নড়েচড়ে উঠেছেন খোকন নামের এক যুবক। মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

শাহাদাত হোসেন খোকন (৪০) উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের মৃত জিতু মিয়ার ছেলে ও গ্রামপুলিশ কালুর ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খোকন অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে দুপুরে আবারও অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা খোকনকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেন এবং জানাজার জন্য মাইকিংও শুরু করা হয়। এরই মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খোকন নড়েচড়ে ওঠেন। পরে স্বজনরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসকরা খোকনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফিয়া মজুমদার জানান, উনাকে সকালে হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু উনি বাড়িতে চলে যান। পরে বিকালে আবার অসুস্থতা অনুভব করলে পুনরায় হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। মানুষ মারা যাওয়ার ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরের কোনো কোনো অংশ নড়াচড়া করতে পারে। কারণ তখনো শরীরের সব নার্ভ মারা যায় না।

৮ বছরে শত কোটি টাকার মালিক জনস্বাস্থ্যের ড্রাফটম্যান কুমিল্লার শাহিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শুভপুর ইউনিয়নের তেলিহাটি গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহিন আলম। বাবা জয়নাল আবেদীন একসময় স্থানীয় বাজারে বাদাম বিক্রি করে তিন ছেলের সংসার টানতেন। অভাবের সেই সংসারে ২০১৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটম্যান পদে চাকরি পান মেজ ছেলে শাহিন। আর এই সরকারি চাকরিতে যোগদানের মাত্র আট বছরের মাথায় আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো বদলে যায় তার ভাগ্য।

নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে শাহিন আলম এখন শত কোটি টাকার মালিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর শাহিন আলমের প্রথম কর্মস্থল ছিল কুমিল্লার বরুড়া। সেখান থেকেই শুরু হয় তার অবৈধ আয়ের মিশন। ১০ম গ্রেডের কর্মচারী হয়েও ড্রাফটম্যানের পদবি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি নিজেই ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

নিজের প্রভাব খাটিয়ে ছোট ভাই সোহেল রানা ও এক নিকটাত্মীয়ের নামে ‘রানা হাইটেক বিল্ডার্স’ ও ‘শম্পা এন্টারপ্রাইজ’ নামক দুটি লাইসেন্স তৈরি করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি ঠিকাদারি ব্যবসা দেখভালের জন্য প্রবাস থেকে দুই ভাই মনির ও সোহেলকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। লাকসামে কর্মরত থাকাকালীন শাহিন আলমের দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক মন্ত্রীর স্বজনদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৩৬২টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ভুয়া বিল ভাউচার করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া চৌদ্দগ্রামে প্রায় ১৯ কোটি টাকার একটি ড্রেন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজ শেষ না করেই সরকারি প্রভাবে বিলের সিংহভাগ উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের দায়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চগড় ও ফেনীতে বদলি করা হলেও তার সম্পদের বিস্তার থামেনি।

শাহিন আলমের অর্জিত সম্পদের তালিকায় রয়েছে চোখ ধাঁধানো সব খতিয়ান। তিনি ইফাদ মোটরস থেকে ৫টি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ কিনেছেন যা বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। পণ্য পরিবহনের জন্য তার রয়েছে ১১টি ডাম্প ট্রাক এবং মাটি কাটার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি স্কেভেটর (ভেকু)। এছাড়া তেলিহাটি গ্রামে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নান্দনিক ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। শুধু জমিই নয়, কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ও ঢাকার খিলগাঁওয়ে রয়েছে তার দামি ফ্ল্যাট। এছাড়া চান্দিনা ও তেলিহাটি মৌজায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি রয়েছে তার দখলে। টয়োটা প্রিমিও গাড়ি রয়েছে দুটি।

কৌশলী শাহিন এসব সম্পদ ভাই ও দুই স্ত্রীর নামে কিনলেও গোপনে নোটারি পাবলিক করে নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছেন। বর্তমানে শাহিন আলম ফেনীতে কর্মরত থাকলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগে তার বেতন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি অন্যতম আসামি। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর থেকে একাধিকার কৈফিয়ত তলব করে বিভিন্ন স্মারকে শাহীন আলমকে নোটিশ করা হয়।

তাছাড়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত, চার বার কিফিয়ত তলবের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ২০২৫ সালের ১৯ জুন প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশরী মো: শফিউল হক।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফেনীর সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শফিউল হক জানান, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই, পাহাড় সমান অভিযোগ। সে খুবই বিরক্তিকর, উর্ধ্বতন অফিসারদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। ড্রাফটম্যান পদ থাকলেও মূলত এই পদের দৃশ্যমান কোন কাজ নেই। আমরা নকশা তেমন করিনা। সে সুযোগে শাহীন আলম বিভিন্ন লাইসেন্সে ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন। তাঁর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে আমরা আগে থেকেই জানি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে এসেছি। সে ঠিকমতো অফিসও করেনা। তাঁর বেতনও বন্ধ আছে চার মাস ধরে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেল তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী, আমি দুই মাস আগে যোগদান করিছি। তাঁর বিষয়ে অভিযোগের কিছুটা জানা আছে তবে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছিনা। খবর নিয়ে দেখতে হবে।

এদিকে, শাহীন আলমের প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তার মুঠোফোনে জানান, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে একটি মহল। গরীব পরিবারের সন্তান টাকা পয়সার মালিক হলে সমাজের অনেকেই মেনে নিতে পারেনা। আমার স্বামীর সাথে এমনটাই হয়েছে। দশম গ্রেডের চাকরির পাশাপাশি আমার স্বামী ব্যবসায় করেই সম্পদ কামিয়েছে। দিন রাত পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এসব সম্পদ।

শাহীন আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী লিমা আক্তারের কাছে তাঁর স্বামীর অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মিথ্যা। আমি ভাড়া বাসায় থাকি। আমি শুধু শোনেই যাচ্ছি সম্পদের কথা, কিন্তু কিছুই দেখছিনা। সবকিছু ষড়যন্ত্র। এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহিন আলমের তিনটি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবাসিক এলাকায় মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবাসিক এলাকায় মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

 

‎চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবাসিক এলাকায় মুরগীর খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে নীতিমালা উপেক্ষা করে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের তেলিগ্রাম মধ্যমপাড়ায় বসতবাড়ির পাশে ওই খামারটি গড়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো: সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে তিনি দ্রুত দুর্গন্ধযুক্ত মুরগির খামারটি অপসারণের দাবী জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবাসিক এলাকায় মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

‎অভিযোগে জানা যায়, কাজী সাদ্দাম হোসেন বাপ্পী দীর্ঘ দিন ধরে গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকায় মুরগির খামার স্থাপন করে ব্যবসা করে আসছেন। বাপ্পী তেলিগ্রাম এর মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে। বর্তমানে তার খামারে প্রায় আড়াই হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। সাইফুল ইসলামের ঘরের ৭/৮ ফুট দূরত্বে খামারটি অবস্থিত। বাড়ির পাশে বড় গর্ত করে ফেলা হয় মুরগির বিষ্ঠা। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ সাইফুলের পরিবারসহ আশপাশের মানুষ। দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। মুরগির বিষ্ঠায় খামারের পাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত খামারের র্দুগন্ধে ঘরে থাকা অসম্ভব বলে জানান সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ, খামারটি অপসারণের জন্য বারবার বলার পরও তারা সেটি বন্ধ করবেন বলে বন্ধ করছেন না।

অথচ, নীতিমালা অনুযায়ী একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা পরিত্যাগ করে খামার স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে খামারী বাপ্পী সে আইনকে তোয়াক্কা না করে নির্বেগ্নে পরিবেশের ক্ষতি করে খামারের ব্যবসা করছেন। তার খামারের নেই কোন নিবন্ধন এবং নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতিপত্রও।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাপ্পী বলেন, মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে তিনি বায়োগ্যাস প্লান্ট করবেন।তিনি স্বীকার করেন মুরগির বিষ্ঠার গন্ধে পরিবেশের ক্ষতি হয়। এবং তিনি লেয়ার মুরগির আরেকটি ব্যাচ করে খামারটি অপসারণ করবেন।

‎উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আবদুল্লাহ আল মামুন সাগর বলেন, লোকালয়ে খামার করার কোন সুযোগ নেই, লোকালয় থেকে কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে নির্জন স্থানে যেখানে জনবসতি নেই, কোলাহল মুক্ত: সেখানে খামার করতে হবে। লোকজনের যাতায়াত কম এসব জায়গায় খামার করা উত্তম। আপনি যদি বাণিজ্যিকভাবে খামার করতে চান অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে। আপনি যদি ছোট আকারে করেন, সে ক্ষেত্রেও আপনাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিবেশী ও মানুষের কোন অসুবিধা না হয়। খামার বর্জ্যের বায়ো সিকোরিটি মেইনটেইন করতে হবে। যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয়, দূর্গন্ধা না ছড়ায়।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম করার কোন বিধান নেই। যদি কেউ করে থাকেন তাহলে এটা অন্যায় হয়েছে। আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম করলে অনেক গুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। হাঁস মুরগীর বর্জ্য থেকে জীবাণু বায়ুবাহিত হয়ে আমাদের শরীরে যদি নিয়মিত ঢুকতে থাকে, তাহলে আমাদের এলার্জি জনিত সমস্যা হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত এজমা ও নিউমোনিয়া হতে পারে। পোল্ট্রি বর্জ্যের তীব্র গন্ধে চোখে, ত্বকে এলার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়াতে পারে। এ ধরনের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকলে মানুষ শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য নয় শুধু মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

‎কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাব্বের হোসেন রাজিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করে দেখবো। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে পরিবেশ আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হোমনায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে আয়োজিত এ সভায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মোট ৯১টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশগ্রহণ করেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোমনা-তিতাসের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া। তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং দলকে আরও সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং দেশ পুনর্গঠনের সংগ্রামের প্রতীক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান বারবার বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে রাজনীতিকে মানুষের কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন,দলীয় পরিচয়ের চেয়ে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূলে নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণ সমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ঐক্যবদ্ধ বিএনপিই আগামী দিনের শক্তি। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ভুলে দলের স্বার্থে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তৃণমূলই বিএনপির প্রাণ, তাই ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই দল আরও শক্তিশালী হবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি) মুকুল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ছানাউল্লাহ সরকার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মোল্লা চেয়ারম্যান, মো. আলমগীর হোসেন সরকার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেফালী বেগম, মিজানুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আব্দুল লতিফ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন লাল রায়সহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবীদ্বারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ ইটভাটা, ১০ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ দুটি ইটভাটাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজজ বুধবার (১৩ মে) সকালে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন “এমবিসি” ব্রিক্স ফিল্ডে ভ্রাম‍্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের কিশোর কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

একই দিন বেলা সোয়া ১টায় পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়া ৩ নং রসুলপুর ইউপি চেয়ারমান মোঃ শাহজাহান সরকারের “একতা ব্রিক্স ফিল্ড”টি গুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সাথে “এমবিসি ব্রিক্স ফিল্ড” ও “একতা ব্রিক্স ফিল্ড”র মালিককে ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এ সময় দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ, মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের ওয়‍্যার হাউজ’র মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল ফায়ার সার্ভিস কর্মী, কুমিল্লা র‍্যাব-১১’র ডিএডি মো. মনসুর আহমেদের নেতৃত্বে একদল র‍্যাব সদস‍্য ও জেলা, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস জানায়, আমরা কোন রাজনৈতিক প্রভাবে বা ব্যক্তি বিবেচনায় অভিযান পরিচালনা করছি না।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ২০১৩ সালের ১৫এর (১) ধারায় ২ টি ইটভাটার চুলার চিমনি এবং কাঁচা ইটগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পাঁচ লাখ টাকা করে দুই ইট ভাটার মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার মো. ফয়সল উদ্দিন জানান, দেবীদ্বারের ২৪ টি ইটভাটার মধ‍্যে ১৬টি ইটভাটার কোন বৈধতা নেই, এমনকি পরিবেশ ছারপত্রও নেই। আজকের ২টি ইটভাটাসহ মোট ৭ টি ইটভাটা ধ্বংস করা হয়েছে। বাকী ৮টি অবৈধ ইটভাটা পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করা হবে।

কুমিল্লার তিতাসে রক্সি সীডসের হাইব্রিড ভুট্টার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামে ব্লেসিং এগ্রোভেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উদ্যোগে রক্সি সীডসের হাইব্রিড ভুট্টা বীজ ‘পিএসি-৭৫১’ এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভান্টা (আমেরিকা) বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রধান কৃষিবিদ ফারুক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্লেসিং এগ্রোভেটের হেড অব বিজনেস কৃষিবিদ ড. গোলাম মাবুদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্লেসিং এগ্রোভেটের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বাতাকান্দি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদ, এরিয়া ম্যানেজার রাজু আহমেদ ও মইনুল হোসেন, এরিয়া এক্সিকিউটিভ কামরুল হাসান, সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার কামাল ও সিরাজুল ইসলামসহ প্রায় ৫০ জন মডেল কৃষক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, রক্সি সীডসের ‘পিএসি-৭৫১’ জাতের ভুট্টা উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধী হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এর চাহিদা বাড়ছে।

ব্লেসিং এগ্রোভেটের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “এই ভুট্টার চাষে প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৫৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা প্রতি বিঘায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।”

প্রধান অতিথি কৃষিবিদ ফারুক হোসেন বলেন, “পিএসি-৭৫১ জাতের ভুট্টায় রোগবালাই তুলনামূলক কম হয় এবং অধিক ফলন পাওয়া যায়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আরও লাভবান করা সম্ভব।”

বিশেষ অতিথি ড. গোলাম মাবুদ বলেন, “আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষকদের অধিক মুনাফা নিশ্চিত করতে ব্লেসিং এগ্রোভেট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া কৃষক বসির হোসেন জানান, “আমি ৩০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করে ৪৫ মণ ফলন পেয়েছি। অনেক বছর ধরে ভুট্টা চাষ করছি, কিন্তু এবারই সবচেয়ে বেশি ফলন পেয়েছি।”

অপর কৃষক শাহআলম বলেন, “আমি চার কানি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ফলন দেখে আমি অনেক খুশি। ভুট্টার এতো ফলন এর আগে কখনই পাইনি।”

সারাদেশে অস্ত্র উদ্ধারে ৩য় ও মাদক উদ্ধারে ২য় স্থান অর্জন: অনন্য কৃতিত্ব গড়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার:

অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। ২০২৫ সালের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান মূল্যায়নে সারাদেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে তৃতীয় এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ।

ভারতের সাথে ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এবং ১৮টি থানা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা জেলা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। নদীবেষ্টিত ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চোরাকারবারিদের মূল লক্ষ্য থাকে এই জেলাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা। তবে বর্তমান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট একযোগে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ শুরু করে।

তাঁর সুযোগ্য দিক-নির্দেশনায় অস্ত্র, মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়, যার ফলশ্রুতিতে গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এর নিকট থেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

পুরস্কার গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম বলেন, “এই গৌরবময় অর্জন কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের ত্যাগ, সাহসিকতা এবং নিরলস পরিশ্রমের ফসল। কুমিল্লা একটি সীমান্তবর্তী ও জনবহুল জেলা হওয়ায় এখানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়া। আইজিপি মহোদয়ের নিকট থেকে প্রাপ্ত এই সম্মাননা আমাদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এই সাফল্যের জন্য জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের এই অভিযান আগামীতে আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।”