All posts by jitu

মুরাদনগরে বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন হায়দরাবাদ উত্তরপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩নং আন্দিকুট ইউনিয়নের হায়দরাবাদ উত্তরপাড়া এলাকার খায়ের মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) রিয়াজুল মোস্তফা। এ সময় তার সঙ্গে এএসআই মোঃ আল আমিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে বাড়িটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে মোঃ আল আমিন (৩৪) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু মিয়া (৭০) নামের আরেকজনের কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে পলাতক আসামি খায়ের মিয়ার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে মোট ৮ বোতল বিদেশি মদ (প্রায় ২ দশমিক ৭২৫ লিটার), ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ২৩ হাজার টাকা এবং একটি বাটন ফোন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হায়দরাবাদ এলাকার মোঃ আল আমিন (৩৪) ও মোঃ হাবিবুর রহমান @ হাবু মিয়া (৭০)। এছাড়া একই এলাকার খায়ের মিয়াকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-১৩, তারিখ ১৩ মে ২০২৬। মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) মোঃ নাজিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ জানায়, এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নাঙ্গলকোটে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল নসিমন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি নসিমন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সংঘর্ষে নসিমনটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট ও হাসানপুর স্টেশনের মাঝামাঝি গোমকোট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় আধা ঘণ্টা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল।

নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে হাসানপুর স্টেশন অতিক্রম করে গোমকোট বাজারসংলগ্ন আলিয়ারা সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় রেললাইনের ওপর একটি নসিমন আটকে ছিল। ট্রেনটি সেটিকে ধাক্কা দিলে নসিমনটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, গোমকোট এলাকায় ট্রেনটি একটি নসিমনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

কুমিল্লায় হাম উপসর্গে মৃত্যু আরও এক শিশুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রাব্বি নামে পাঁচ মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলাটিতে চলমান হাম পরিস্থিতিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

শিশুটি জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কাউছার আহমেদের ছেলে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানায়, গত ৯ মে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তার শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। বুধবার (১৩ মে) ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে ২ জন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৯ জন।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় মোট ১ হাজার ৫২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১০২ জন। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে বেশিরভাগই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৯৬২ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

হামের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জেলাজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করতে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ২য় মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ এক অস্ত্রধারী যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২।

আজ বুধবার সকালে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ মে রাতে র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল কুমিল্লা নগরীর ২য় মুরাদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আমজাদ হোসাইন রিপন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আমজাদ হোসাইন রিপন কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা (থিরা পুকুরপাড়) এলাকার মাহে আলমের ছেলে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, রিপন দীর্ঘদিন ধরে ২য় মুরাদপুরসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

র‌্যাব আরও জানায়, র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

কুমিল্লায় সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং গত তিন মাসে কুমিল্লায় সম্পাদিত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে জেলা তথ্য অফিস, কুমিল্লার আয়োজনে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নুরুল হক সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের চলমান কার্যক্রম এবং গত তিন মাসে বাস্তবায়িত কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজি মাহমুদ মিথুন। তিনি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় সাংবাদিকরা সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়িত কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন, মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসাধারণের মাঝে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ

দক্ষিণ কোরিয়ায় BIC Sports Day 2026 সফল আয়োজনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বুসান, দক্ষিণ কোরিয়া — Tongmyong University-এর BIC Sports Day 2026 সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজনের সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে Tongmyong University Student Ambassadors (TSA) এবং আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবকরা। বিশেষভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে।

মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জামান ফাইয়েস ইবনে ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও TSA সদস্য হিসেবে ক্রীড়া সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তোরজয় গোলাম মোরশাদ, ইনফরমেশন সিস্টেম অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফটোগ্রাফি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুরো অনুষ্ঠানের মিডিয়া ও ফটোগ্রাফি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এছাড়া হাসান নাহিদ মিডিয়া ক্লাবের মাধ্যমে প্রচার ও ডিজিটাল কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

এছাড়াও বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠ ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় কাজ করেন। BIC কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল TSA সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের নাম অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানাবে।

মানবিক কাজ করে প্রশংসায় ভাসছে হোমনা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক জহিরুল ইসলাম

আতিকুর রহমান, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় অসহায় এক নারীর বিনামূল্যে জরায়ুর টিউমার অপারেশন করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হোমনা জেনারেল হাসপাতাল। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করছেন হোমনাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফুটবলার কামরুল হাসানের স্ত্রী দীর্ঘদিন জরায়ুর টিউমারে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে আছেন।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ভিডিও সংবাদ প্রকাশ করেন। পরে সংবাদটি নজরে আসে হোমনার জনপ্রিয় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সোনিয়া ও ডা. ইফতেখার আল সামছ ইমনের। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এগিয়ে আসে হোমনা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এতে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম, ম্যানেজার ডালিমসহ প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ও শেয়ারহোল্ডারদের সার্বিক সহযোগিতায় বিনা খরচে ওই নারীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

এ মানবিক উদ্যোগের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রশংসায় ভাসছে হোমনা জেনারেল হাসপাতাল। স্থানীয়রা বলছেন, বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয় প্রশংসায় ভাসছে।

স্বামী কামরুল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,
“আমি গরিব মানুষ। স্ত্রীর অপারেশনের খরচ জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। হোমনা জেনারেল হাসপাতাল ও যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আল্লাহ যেন সবাইকে ভালো রাখেন।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে মানবিক কাজে এগিয়ে এলে অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের বিজ্ঞপ্তির আড়ালে কাজী মুনসুর উল হককে মানহানির অপচেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

২০১৬ সালে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর মৌজায় অবস্থিত ২.০৬ একর জমি ক্রয় করেন কুমিল্লার গোবিন্দপুর (কাজী বাড়ি) নিবাসী কাজী মুনসুর উল হক। জমিটির বিক্রেতা ছিলেন রাকেশের পাড় নিবাসী আজহারুল হাসান মজুমদার, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

উক্ত জমির অবস্থান বড় ধর্মপুর (১২৪) মৌজার অধীন হোল্ডিং নং ১৮৫৪, খতিয়ান নং ১৮১৫ এবং দাগ নং ৪০৫৫/৪১৮৯/৪২২১। মৃত মাস্টার আমিরুল ইসলাম মজুমদারের পুত্র জনাব আজহারুল হাসান মজুমদারের নিকট হতে ২৫/০২/২০১৬ তারিখে ১,৬৪,৬৫,০০০/- (এক কোটি চৌষট্টি লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার) টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করা হয়।

কাজী মুনসুর উল হক এই জমিতে একটি ইউনানী ঔষধ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে কোম্পানির নামে সম্পত্তি স্থানান্তরের সময় দ্বিগুণ রেজিস্ট্রেশন ব্যয় এড়ানোর লক্ষ্যে তিনি সরাসরি নিজের নামে দলিল না করে ২৫/০২/২০১৬ তারিখে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নং ১৮৮৯ মূলে একটি অ-প্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারনামা (Irrevocable Power of Attorney) নিজের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করান। উক্ত দলিলে জমির পূর্ণ মূল্য পরিশোধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং বিক্রয়, হস্তান্তর, বন্ধক, উন্নয়নসহ সম্পত্তির উপর পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে তিনি এই প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অর্থ, শ্রম ও সময় বিনিয়োগ করেন এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) থেকে ইউনানী ঔষধ উৎপাদনের লাইসেন্সও সংগ্রহ করেন।

জমির মূল্য বৃদ্ধির পর বিরোধের সূত্রপাত:

সাম্প্রতিক সময়ে জমির বাজারমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর আজহারুল হাসান মজুমদার বিদেশ থেকে উক্ত জমি পুনরুদ্ধারের অপচেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ লক্ষ্যে তিনি—

রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন;

কাজী মুনসুর উল হকের উপর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের চাপ প্রয়োগ করেন।

দাবি না মানলে শারীরিক ক্ষতির হুমকিও প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

১২ মে ২০২৬: বিভ্রান্তিকর সংবাদপত্র বিজ্ঞাপন:

১২ মে ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার দুটি স্থানীয় দৈনিক পেপারে “পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের বিজ্ঞপ্তি” শিরোনামে অর্থের বিনিময়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

উক্ত বিজ্ঞাপনে একাধিক বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২০২ অনুযায়ী মূল্যের বিনিময়ে প্রদত্ত অ-প্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারনামা একতরফাভাবে বাতিলযোগ্য নয়। অথচ বিজ্ঞাপনদাতা আজহারুল হাসান মজুমদার এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছেন। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায় — আদৌ কি উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইনগতভাবে বাতিল হয়েছে?

বিজ্ঞাপনে আরও দাবি করা হয় যে, জনাব কাজী মুনসুর উল হক নাকি আজহারুল হাসান মজুমদারের “আত্মীয়” এবং কেবল “রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে” এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পরিকল্পিত হয়রানির অভিযোগ:

কাজী মুনসুর উল হকের পরিবার কুমিল্লার সুপরিচিত ও সম্মানিত পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতা মরহুম কাজী আব্দুল হক ছিলেন কুমিল্লা জেলার সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট এবং পৌরসভার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

সাধারণ জনগণকে আমার সঙ্গে কোনো প্রকার লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়ে আমার সম্পত্তির বাজারযোগ্যতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা সরাসরি আমার সামাজিক সম্মান ও ব্যবসায়িক সুনামের উপর আঘাত।

পরিকল্পিত হয়রানি ও মানহানির অভিযোগ আজহারুল হাসান মজুমদারের কার্যকলাপ নিছক কোনো আইনি মতবিরোধ নয়; বরং একজন বয়স্ক, সরল ও বিশ্বাসী ক্রেতাকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিত হয়রানি, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক ক্ষতিসাধনের অপচেষ্টা।

ঘটনার প্রকৃতি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়— প্রায় এক দশক নীরব থাকার পর জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ামাত্রই বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে;

নিজের স্বাক্ষরিত ও রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে মূল্য গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার থাকার পরও প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করা হচ্ছে; বিদেশে অবস্থান করে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে ভয়ভীতি, মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে; সংবাদপত্রে অসত্য তথ্য প্রকাশ করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে; পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাব
এই ধারাবাহিক হয়রানি ও অপপ্রচারের ফলে আমি আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। দীর্ঘদিনের শিল্প প্রকল্প কার্যত পরিত্যক্ত হয়েছে; DGDA লাইসেন্স সংগ্রহে ব্যয়িত সময়, অর্থ ও শ্রম নষ্ট হয়েছে;

প্রকাশ্য অপপ্রচার, হুমকি ও অনিশ্চয়তার কারণে জমির বাজারমূল্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আমার সামাজিক সম্মান ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে;

আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।

আমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, আমার জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়ে রেলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ঢাকা কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন (কর্ডলাইন) নিয়ে তৈরি করা ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে টেকনিক্যাল টিম। ভিডিও প্রেজেন্টেশনে ঢাকা কুমিল্লা সরাসরি রেললাইনের গুরুত্ব ও দেশের অর্থনীতিতে এর অবদান উল্লেখ করা হয়।

মনিরুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, ঢাকা কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালু আমার দীর্ঘদিনের আন্দোলন। কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের ব্যানারে আমরা এ দাবি তুলে আসছি অনেকদিন ধরেই। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এ বিষয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাথেও বৈঠক হয়েছে। তারা অর্থ দিতেও সম্মত হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি সরকার আসার পর আবারো এ রেললাইন চালুর বিষয়ে আবেদন করি। তারই প্রেক্ষিতে আজকে ফলপ্রসু বৈঠক হয়েছে। আশা করি শিগগিরই রেললাইনের কাজ দৃশ্যমান হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সচিব ফাহমিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা, আটক ৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র‍্যাবের তিন গোয়েন্দা সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রাতে র‍্যাব-৯-এর সাঁড়াশি অভিযানে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- খাগাতুয়া গ্রামের মৃত গোলাম ওয়াহেদের ছেলে আব্দুল কাদির (৬২), নয়ন মিয়ার ছেলে মো. রাহিম আহমেদ (২০), মুসলেম মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান প্রকাশ অপু মিয়া (১৯), হুমায়ুন কবিরের ছেলে নুর আলম প্রকাশ নুরনবী (১৯) ও জামাল মিয়ার স্ত্রী ছানোয়ারা বেগম (৪৮)।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে জেলা শহরের দক্ষিণ পৈরতলায় র‍্যাব-৯-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কম্পানিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব-৯-ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরন্নবী জানান, সোমবার বিকেলে নবীনগরের ওপর দিয়ে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় র‍্যাবের তিনজন গোয়েন্দা সদস্য তথ্য সংগ্রহের জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নবীনগরের খাগাতুয়া গ্রামে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলাকার কুখ্যাত ডাকাত শফিক ও তার বাহিনী।

এ সময় ডাকাত শফিকের ক্যাডাররা র‍্যাব সদস্যদের জিম্মি করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাদের আটকে রেখে মারধর করা হয়।

শফিক বাহিনীর লোকজন র‍্যাবের এক সদস্যের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও দুজনের হাত পিটিয়ে ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে জেলা থেকে র‍্যাবের অন্য সদস্যরা খাগাতুয়া গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে সোমবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত খাগাতুয়া গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় শফিক ডাকাত পালিয়ে গেলেও র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব জানান, হামলাকারীদের অন্যতম হোতা আব্দুল কাদিরকেও আটক করা হয়। এ সময় কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করে র‍্যাব।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় র‍্যাব ৫ জনকে আটক করেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এখনো আটকদের নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি এবং মামলার এজহারও আমরা পাইনি। এজাহার পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।