All posts by jitu

রোজায় বেড়েছে ওমরাহ যাত্রীদের প্লেনভাড়া

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ওমরাহ হজের প্লেন ভাড়া। গোটা রমজান মাসজুড়ে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের সব রুটের প্লেন ভাড়া দেড় থেকে দুই গুণ বেড়েছে। প্লেনের ভাড়া বাড়ায় ওমরাহ হজযাত্রীদের প্যাকেজের খরচ অনেক বেড়েছে।

ট্রাভেল এজেন্সি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওমরাহ যাত্রীরা সাধারণত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা শহরে যায়। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের এই দুই রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে কেবল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সাউদিয়া)। এই রুটে স্বাভাবিক সময়ে রিটার্ন ভাড়া ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। একই ভাড়া থাকে সাউদিয়ার। তবে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেদ্দা রুটের ভাড়া ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। মদিনা রুটের ভাড়া ১ লাখ ১০ হাজার। জেদ্দা ও মদিনা রুটে সৌদি এয়ারলাইন্সের বর্তমান ভাড়া ১ লাখ ২২ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে এয়ারলাইন্সগুলো বলছে, এই মৌসুমে এটাই স্বাভাবিক ভাড়া। প্রতিবছরই রোজায় ওমরাহ হজযাত্রীদের সংখ্যা বাড়ে। সেই তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা না বাড়ায় প্লেনের ভাড়া বাড়তি থাকে।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বলছে, করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই ওমরাহ যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মূল হজের প্যাকেজ খরচ বেড়ে যায়। তখন থেকেই অনেকেই হজ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে কম খরচে ওমরাহ হজ করার সিদ্ধান্ত নেন। অতিরিক্ত সওয়াবের আশায় তারা রমজান মাসকে বেছে নেন। একারণেই যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি, সে অনুযায়ী টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

ভাড়া বাড়িয়েছে থার্ড ক্যারিয়ারগুলো

বিমান বাংলাদেশ ও সাউদিয়া ছাড়াও ১১টির মতো এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে যাত্রী নিয়ে নিজ দেশে ট্রানজিট দিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রী পৌঁছে দেয়। ট্রানজিট ও যাত্রার লম্বা সময়ের কারণে এসব ফ্লাইটের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে তারাও ফ্লাইটের দাম দেড় থেকে দুইগুণ বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ারলাইন্স, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, ফ্লাই দুবাই, গালফ এয়ার, জাজিরা এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়া, ভিস্তারা এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ার এবং সালাম এয়ার ওমরাহ যাত্রী বহন করে।

এয়ার ইন্ডিয়া ও ভিস্তারা এয়ারলাইন্স স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় যাত্রী বহন করত। রমজানে এয়ার ইন্ডিয়া ভারতে ট্রানজিট দিয়ে ভাড়া ধরেছে ৯০ হাজার টাকা, অপরদিকে ভিস্তারা এয়ারলাইন্স ৯৭ হাজার টাকা। একইভাবে ওমান ও সালাম এয়ার ৬৫ হাজার টাকার ভাড়া ৯৬ হাজার টাকা নিচ্ছে। এমিরেটস এয়ারলাইন্স ১ লাখ ৬ হাজার এবং গালফ এয়ার ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছে।

এবিষয়ে একাধিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে বিমানের একজন কর্মকর্তা বলছে, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রতিবছরই এমনটি হয়।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষ রমজান মাসে ওমরাহ পালনে যেতে চান। এয়ারলাইন্সগুলো এই সুযোগে তাদের বেসিক ইকোনমি ক্লাসের টিকিটগুলো বিক্রি বন্ধ করে অতিরিক্ত দাম ধরে ইকোনমি ফ্লেক্সি এবং ইকোনমি প্রিমিয়াম ক্লাসের দাম নিচ্ছে। প্রতিবছরই এমন হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ারলাইন্সগুলোর অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এয়ারলাইন্সের কমার্শিয়াল ফ্লাইটগুলো দেখার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। এছাড়া খুব ডায়নামিক প্রক্রিয়ায় দাম নির্ধারণ করে। যখন চাহিদা বাড়ে ও ক্যাপাসিটি কম থাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বাড়ায়। ওমরাহতে অনেকেই সৌদি আরব যায়, সেসময় শুধু এয়ারলাইন্স না মক্কা-মদিনায় হোটেলের দামও অনেকগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি তেলের দাম ও ডলারের দরবৃদ্ধির কারণে ভাড়া একটু বেশি আছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও বিশিষ্ট এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইটের সিট না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ভাড়া বাড়ে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনাকারীরা যাত্রীর চাহিদা দেখে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশীয় এয়ারলাইন্সের সম্প্রসারণ দরকার, তাদের ফ্লাইট বৃদ্ধি করা দরকার।

তিনি বলেন, যখন দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট বাড়িয়ে বেশি যাত্রী বহন করবে তখন জোগানটা বাড়বে তখন আর ভাড়া অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাবে না। এখন যেহেতু ফ্লাইট কম তাই এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে।

২০২৩ সালে রমজান মৌসুমে প্রায় ১ কোটির বেশি মুসল্লি ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল সৌদি আরব।

আমার ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে দিচ্ছে না : সাক্কু

স্টাফ রিপোর্টার:

কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগসহ ভোটের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন উপনির্বাচনের মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু।

শনিবার (৯ মার্চ) কুমিল্লা নগরীর হোচ্ছাম হায়দার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সাক্কু বলেন, আমি সিটি কর্পোরেশনের দুইবার মেয়র ছিলাম। মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বাস প্রতীকের সমর্থকেরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে দিচ্ছে না। রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পথে পথে পাহারা বসানো হয়েছে যেন আমার ভোটাররা কেন্দ্রে না আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তিনটা ওয়ার্ডে আমার কোনো এজেন্টকে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। ভোটের পরিবেশ একদম ভালো নয়। আশা করছি নির্বাচন কমিশন যদি উদ্যোগ নেয়, ভোটাররা যদি কেন্দ্রে আসতে পারে, আমি জয়ী হব।

এ নির্বাচনে অন্যদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার (বাস প্রতীক), বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও দুইবারের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (ঘড়ি প্রতীক) ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া প্রতীক)।

এই সিটি নির্বাচনে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলছে। শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সিটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন। নারী ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ২৭৮ জন, পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৮ হাজার ২৮২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুজন রয়েছেন।

কুমিল্লা নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে ২ জন গুলিবিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণকালে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি এম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এম আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক এবং বাস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় সুমন নামের এক ছাত্রলীগ নেতা কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করলে তুহিন হোসেন এবং জহির আহমেদ নামের ঘোড়া প্রতীকের দুই সমর্থকের পায়ে গুলি লাগে। পরে পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গুলিবিদ্ধ ঘোড়া প্রতীকের দুই সমর্থককে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় অন্য সমর্থকরা।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হাসান আহমেদ কামরুল বলেন, গোলাগুলির ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিল। আমি তাৎক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছি। পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স এলে উভয় পক্ষ পালিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার (বাস প্রতীক), বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও দুইবারের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (ঘড়ি প্রতীক) ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া প্রতীক)।

কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে চারজন মেয়রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- ডা. তাহসীন বাহার সূচনা, সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার ও নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম। চার প্রার্থীর সবাই জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। মেয়র নির্বাচিত হলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করে নিজের পরিকল্পনামতো নগরীকে নতুন করে সাজানোর কথা জানান তারা।

তবে নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রার্থীরা। আর ভোটাররা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারবেন তারা।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কাজ করছেন তারা। সেক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেও দেখছেন তারা।

আল-আকসা মসজিদের আশপাশে মুসল্লিদের মারধর করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, জেরুজালেমের পুরনো শহরের লায়ন্স গেটে মুসল্লিদের ওপর হামলা ও মারধর করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানিয়েছে, পবিত্র আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের বাধা দেয় ইসরায়েলি সেনারা এবং তাদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পর সেনারা ওই এলাকা ঘিরে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে বলে জানা গেছে।

ওয়াফা বলেছে, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদের গেট এবং ওল্ড সিটিতে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে।

পশ্চিম তীরের নাবলুস, হেবরন, বেথেলহেম, রামাল্লাহ ও কালকিলিয়া শহরেও রাতভর ও সকালে অভিযান ও কিছু ক্ষেত্রে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

দ্রুত রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ খ ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, জিয়াউর রহমান রাজাকারদের মুক্তি দিয়েছেন। আর আমরা ক্ষমতায় এসে বিচার করেছি, রাষ্ট্র কখনো রাজাকারদের বিচার করতে দায় নেবে না। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের ২০ বছর পূর্তি ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের গ্র্যান্ড রিইউনিয়নের অনুষ্ঠানে শুক্রবার বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কখনো রাজাকারদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। যারা প্রধান রাজাকার ছিল তাদের বিচার করা হচ্ছে। আর যাদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করছে তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলমান। তবে রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিচার করবে না।

রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে, গ্রামপর্যায় থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর ফরহাদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল প্রমুখ।

সন্ধ্যায় কনসার্টে গান পরিবেশনা করবেন সংগীতশিল্পী হৃদয় খান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দল এমবিএমসি।

মাহে রমজানকে সামনে রেখে চান্দিনায় হতদরিদ্রের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় মাহে রমজানকে সামনে রেখে সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে এআর এসএ দরিদ্র তহবিল ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।

শুক্রবার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের করতলা গ্রামে ফাউন্ডেশনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সহস্রাধিক পরিবারে ছোলা, ডাল, খেজুর, তেল, পেয়াজ, মুড়ি,আলু সহ ৮ আইটেমের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি।

অনুষ্ঠানে এআর-এসএ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো.শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- এ আর ইন্টারন্যাশনাল এর স্বতাধীকারী হাজী মো.ফারুক আহমেদ। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- সাবেক মেম্বার মো.রফিকুল ইসলাম, মো.আলমগীর হাজী প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- মো.আবদুল গনি, হাফেজ মো.রবিউল ইসলাম, মাওলানা রবিউল ইসলাম, যুবলীগ নেতা মো.বোরহান উদ্দিন, মো.শরীফুল ইসলাম সহ এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জানা যায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনটি উদ্বোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশাবাদী তারা।

ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মিশন। এতে বেশকিছু বিষয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হলেও, মানবাধিকার ও বিরোধী দলগুলোর প্রতি সরকারি দলের দমন-পীড়নের মতো কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচন কিছু গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।

ইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণগ্রেফতারের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চুক্তি এবং আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী ও দলের সঙ্গে যুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ভোটারদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়নি। মিডিয়া এবং সুশীল সমাজও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ছিল না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক সময়রেখা মেনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। এ নির্বাচন ছিল একটি অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার জোট শরিকরা নির্বাচন বয়কট করায় সত্যিকারের প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। বিরোধীরা সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছিল, যা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

প্রাক-নির্বাচনকালীন বিরোধী দলের ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ব্যাপক সহিংসতা ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর রূপ নেয়। পরবর্তীতে বিএনপি নেতাদের গণগ্রেফতার ও আটকের ফলে দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়।

নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে বিরোধী দলগুলোর সমাবেশ, সমিতি, আন্দোলন এবং বক্তৃতার স্বাধীনতা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়। গ্রেফতার এড়িয়ে যে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষমতা বিএনপির পক্ষে অসম্ভব ছিল।

বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক আচরণের জন্য মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার অপরিহার্য, যা বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বলা আছে। কিন্তু এ অধিকারগুলো ক্ষুণ্ন করা হয় আইন দ্বারা যা অযথা বাকস্বাধীনতার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে।

সমান ভোটাধিকারের নীতিকে পুরোপুরি সম্মান করা হয়নি। বিদ্যমান আসনের সীমানা নির্ধারণের ভিত্তিতে সংসদীয় আসনপ্রতি ভোটার সংখ্যায় তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম আইনি প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার আইনি আদেশের এখতিয়ারের মধ্যে ছিল এবং লজিস্টিক প্রস্তুত ছিল। তবে কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। তাই তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে সক্ষম হয়নি বলে মনে করে কিছু স্টেকহোল্ডার। তাদের ধারণা, ভোটদান এবং গণনা প্রক্রিয়ার সময় কমিশনের স্বাধীন মর্যাদা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয়নি।

স্টেকহোল্ডারদের মতে, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে যার ফলে নিয়মিত আপডেট এবং ডেটা মিলেছে। ১ জানুয়ারি ২০২৩ এর মধ্যে যারা ১৮ বছরে পৌঁছায়নি তারা এ নির্বাচনে ভোট দিতে অযোগ্য ছিলেন।

সাধারণভাবে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনের দিন সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ব্যালট বাক্স ভর্তি এবং জালিয়াতির প্রচেষ্টাসহ নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় প্রার্থীরা ভোটে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটির তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল। ২৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তবে অন্যান্য ঘটনা অবহেলিত ছিল এবং পর্যাপ্তভাবে তদন্ত করা হয়নি।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটের হার ছিল ৪১.৮ শতাংশ। এটাই সারা দেশে ব্যাপক বৈষম্যের চিত্র প্রদর্শন করে।

চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্রার্থীরা ২২৩টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি, জাতীয় পার্টি পায় ১১টি আসন। আসন ভাগাভাগির চুক্তিতে আরও দুটি দল একটি করে আসন পেয়েছে। চূড়ান্ত আসনটি কল্যাণ পার্টি জিতেছে।

প্রতিবেদনে নির্বাচনী কিছু এলাকায় উন্নতির জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে ইইউ। সেগুলো হলো- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সহ সংসদীয় সম্পর্কিত সমস্ত আইন, প্রবিধান এবং বিধিগুলোর একটি ব্যাপক পর্যালোচনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আইনি নিশ্চয়তা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার বোর্ড নিয়োগের ব্যবস্থা যোগ্যতাভিত্তিক ও স্বাধীন নিয়োগের মাধ্যমে হওয়া উচিত। যা জনস্বার্থে কাজ করার লক্ষ্যে কমিশনের হাত শক্তিশালী করবে।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০২৩-এর বিধানগুলোর পর্যালোচনা করতে হবে। অস্পষ্ট এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিনিষেধগুলো সরানো যেতে পারে।

সুশীল সমাজ যাতে নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) আইনের বিধান, ২০১৬ এর সীমাসহ সুশীল সমাজের কার্যক্রম এবং অতিমাত্রায় এর ওপর আমলাতান্ত্রিক নিবন্ধনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

ভোট ও গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বর্ধিত সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। তার জন্য ভোট কেন্দ্রের আশপাশে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের ওপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্মার্ট সমাজ বিনির্মাণে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নকে টেকসই করতে ও স্মার্ট সমাজ বিনির্মাণে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। এ মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জন্মগ্রহণ করেন। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ ও নির্যাতিত দুই লক্ষ মা-বোনকে। আমি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণ করছি। সবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘স্মরণ করছি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন; মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সেবা দিয়েছেন। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, যিনি সারাজীবন আমার বাবার পাশে থেকে পরামর্শ ও সাহস জুগিয়ে দেশসেবা করে গেছেন, তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘‘নারীদেরও পুরুষদের মতো সমান অধিকার এবং তা রাজনীতির ক্ষেত্রেও। আওয়ামী লীগ যেমন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে তেমনি নর-নারীর সমান অধিকারেও বিশ্বাস করে।’’

জাতির পিতা মাত্র নয় মাসেই একটি সংবিধান দিয়েছিলেন। সেই সংবিধানের ২৮- (১)/(২)/(৩)/(৪) অনুচ্ছেদে তিনি নারী অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’’ গঠন করেছিলেন।’

নারীদের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নেওয়া আরও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মেয়েদের শিক্ষ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেছিলেন, সমাজে সব জায়গায় নারীরা সমান সুযোগ লাভ করে সে ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন। পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের ১০ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করেন। তিনি পাকিস্তানি আইন পরিবর্তন করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে মেয়েদের যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেন। রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য পার্লামেন্টে তাদের আসন সংরক্ষিত করেন। গ্রামের নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য কৃষিভিত্তিক কর্মসূচিও তিনি হাতে নিয়েছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতার নিজের লেখা ‘‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’’, ‘‘কারাগারের রোজনামচা’’ এবং ‘‘আমার দেখা নয়াচীন’’ বইয়ে তিনি নারী অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট সমাধানের কথাও তিনি বলেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছেন, ‘‘একজন নারী যদি নিজে উপার্জন করে ১০টা টাকাও কামাই করে তার আঁচলের খুঁটে বেঁধে আনে, তবে সংসারে তার গুরুত্ব বাড়ে।’’ এ কথাটা আমি আমার বাবার মুখে বারবার শুনেছি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আজন্ম সহযোদ্ধা ছিলেন আমার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। একজন সাধারণ বাঙালি নারীর মতো স্বামী-সংসার, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি নিজের জীবনকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করেছিলেন দেশ মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে। মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের মহান আত্মত্যাগ সমগ্র নারী জাতির জন্য অহংকারের।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রথম সন্তানের পরিচয়ে বাবার সঙ্গে মায়ের নাম অর্ন্তভুক্তি বাধ্যতামূলক করেছি। জাতীয় সংসদ, শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কূটনীতি, শান্তিরক্ষী বাহিনী, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, বিমান পরিচালনা, চিকিৎসা, প্রকৌশলী, ব্যবসা, পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, খেলাধুলা, পর্বতারোহন এবং শিল্প-সংস্কৃতিতিসহ সব ক্ষেত্রে দেশের নারীরা আজ সফলতার সাক্ষর রেখে চলেছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেও নারীদের অংশীদারত্ব দেশের অন্যান্য দলের চেয়ে বেশি। মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ৬ মাস করেছি। প্রতি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ; এগিয়ে নিতে হবে বিনিয়োগ।” প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। সমগ্র বিশ্বে এখন নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে নারী ও কন্যা শিশুর দরিদ্রতাকে চিহ্নিত করে নারীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিকভাবে ক্ষমতায়নের দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নারীর উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নে আমরা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে আমরা আমাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছি। আমরা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৪৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য পঞ্চদশতম জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করেছি। বাজেটে জেন্ডার সম্পৃক্ত বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ৩৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। জেন্ডার বাজেটকে তিনটি থিমেটিক এরিয়ায় ভাগ করে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরের জেন্ডার বাজেটে ‘‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি’’ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে জেন্ডার সম্পৃক্ত মোট বাজেটের ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ, ‘‘উৎপাদন, শ্রমবাজার ও আয়বর্ধক কাজে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণ’’ খাতে ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং ‘‘সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে নারীর সুযোগ বৃদ্ধি’’ খাতে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছি। অসহায় নারী, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং সমাজের অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারিত করেছি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা পাচ্ছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের ক্ষমতায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে পুরুষদের। একটি পরিবারে একজন পুরুষ কোনো নারীর স্বামী, কন্যা সন্তানের পিতা, বোনের ভাই। কাজেই পরিবারের নারীদের সুশিক্ষিত করে, স্বাবলম্বী করে তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব পুরুষের। সংসারের ঘরকন্নার কাজ শুধু নারীরাই করবে, পুরুষগণ চেয়ে চেয়ে দেখবে এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি নারীকেও শিক্ষা গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নিজেদের সচেষ্ট হতে হবে। পরনির্ভরতা হওয়ার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তবেই আমাদের নারীরা সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতার নির্দেশে নারী অধিকার নিশ্চিত ও মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’’ গঠন করে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। যা আজকের ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জেন্ডার সমতা ভিত্তিক সমাজ ও সুরক্ষিত শিশু- এই লক্ষ্যে নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ উন্নয়নের মূলধারায় নারীকে প্রতিষ্ঠার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারী ও শিশুর প্রতি যে কোনো ধরনের সহিংসতা বন্ধে গ্রহণ করা হয়েছে সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগ। এ মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি উইংস- মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জাতীয় মহিলা সংস্থা, বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি, জয়িতা ফাউন্ডেশন ও ডিএনএ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা নারী ও শিশুকে সুরক্ষা বলয়ের আওতায় রেখেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারীর দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য আমরা সময়োপযোগী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এর ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি, আইন প্রণয়ন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে, সাংবাদিকতা, তথ্য-প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং খেলাধুলাসহ পেশাভিত্তিক সব স্তরে আজ আমাদের নারীদের গর্বিত পদচারণা। এভারেস্ট বিজয় থেকে শুরু করে মানবাধিকার রক্ষা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও নারীরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এশিয়ার দেশগুলোর শীর্ষে। জেন্ডার সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বিশ্বে সপ্তম। এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে ১৯ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে সংরক্ষিত আসন ও নির্বাচিত ১৯ জনসহ মোট ৬৯ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। নতুন গঠিত মন্ত্রিসভায় দুইজন পূর্ণমন্ত্রী এবং ছয়জন প্রতিমন্ত্রিসহ মোট আটজন নারী রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী, তৈরি পোশাক কর্মীদের ৮০ শতাংশের বেশি নারীকর্মী। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা ১০ হাজারের অধিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা জাতিসংঘের ‘‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। এসডিজি অর্জনে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকায় আমরা ‘‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’’ অর্জন করেছি। তাই বাংলাদেশ আজ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়।’

তিনি বলেন, ‘নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য। আশা করা হচ্ছে ২০৩৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ ‘‘স্মার্ট বাংলাদেশ’’। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুরক্ষা পায় এবং উন্নত ভবিষৎ গড়ে তুলতে পারে, সেজন্য আমরা ডেল্টা-প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন করেছি। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে আমরা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, মা ও শিশু মৃত্যুর হার ও লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, তথ্য-প্রযুক্তিতে নারীর অন্তর্ভূক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আমরা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছি। চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুন-তরুণীর দক্ষতা এখন বিশ্বমানের।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নকে টেকসই করতে একুশ শতকের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে স্মার্ট সমাজ বিনির্মাণে নারী-পুরুষ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আসুন, নারীর প্রতি ইতিবাচক ব্যবহার করি এবং নারী-পুরুষ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নারী-পুরুষ প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব, ‘‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’’ এ এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখাউড়ায় নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশার ধাক্কায় শাহার মোল্লা (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে পৌর এলাকার শান্তিনগরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহার মোল্লা শান্তিনগরের গেদু মোল্লার ছেলে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, ফজর নামাজ আদায় করে সকাল সোয়া ৬টার দিকে ওই বৃদ্ধ বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে আখাউড়াগামী একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন।

আশেপাশের লোকজন তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অটোরিকশা চালক পালিয়ে যায়।