Tag Archives: রাজনৈতিক

চূড়ান্ত হচ্ছে জুলাই সনদ: রাজনৈতিক দলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া!

চূড়ান্ত হচ্ছে জুলাই সনদ: রাজনৈতিক দলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া!

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্ত করার জন্য কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ঐকমত্য কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপের আলোচনায় যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো ইতিমধ্যে লিখিত আকারে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপেরগুলোও শিগগিরই পাঠানো হবে। দলগুলোর পরামর্শ বা সংশোধনী নিয়ে সেগুলো সমন্বয় করে জুলাই সনদ খুব দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সই নেওয়া হবে।

কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে জুলাই সনদ, তা নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে আগামীকাল রোববার ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শেষে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে। এরপর তা দলগুলোকে দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কমিশন দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে। এ ক্ষেত্রে কমিশন অনুঘটকের দায়িত্ব পালন করবে। এর বাইরেও যতটুকু প্রয়োজন, সবাইকে সমন্বিত করে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। তার আগে জাতীয় সনদকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া দরকার। আগামী কয়েক দিন কমিশন সে কাজ করবে। তারপর বাস্তবায়নের পথ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে।

খুব দ্রুতই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হবে বলে আশাবাদী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এটি যখনই চূড়ান্ত হয়ে আমাদের কাছে আসবে, আমরা স্বাক্ষর করব। এই সনদ যেন বাস্তবায়িত হয়, সেই জন্য আমরা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের এক কর্মসূচিতেও জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলেন। জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই সনদে যেসব সুপারিশ থাকবে, সেগুলো দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বলে সব রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান, আইন ও বিধিবিধানের যেসব সংশোধনী প্রয়োজন হবে, সেগুলো আমরা করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা এবং তাতে সব ঘরানার দলের উপস্থিতিকে খুবই ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তবে তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি কী হবে, এর বাস্তবায়ন কীভাবে ও কখন হবে, এ বিষয়ে বিরাট ফাঁক রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে দেবে। কারণ, শুধু পরামর্শের জন্য এত আলোচনার দরকার ছিল না।

জামায়াতের পক্ষ থেকে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নেওয়া এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া যায়। এটি লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক, অধ্যাদেশ, গণভোট বা ফরমান জারির মাধ্যমে হতে পারে। এই সংস্কারের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন হওয়া দরকার, এটাই আমাদের দাবি।’

জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গতকাল বলেন, ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (আইনগত কাঠামো আদেশ), গণপরিষদ নির্বাচন অথবা গণভোট-যেকোনো পদ্ধতিতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। কোন পদ্ধতিতে সেটি হবে, সেটা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।’

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বিএনপি বলছে, তারা এটাকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছে, সাংবিধানিক স্বীকৃতি নয়। অর্থাৎ, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি তারা দিতে চাচ্ছে না। আইনি ভিত্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব কি না, সেটা পুনর্বিবেচনা করব।’

দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদের খসড়া নিয়ে গতকাল শুক্রবার পর্যালোচনা বৈঠক করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনূছ আহমাদের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) বিষয়টি ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার এজেন্ডায় না রাখায় নিন্দা জানানো হয়।

সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিশনগুলোর মধ্যে ছয়টি কমিশনের ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য কমিশন। প্রথম পর্বে (২০ মার্চ-১৯ মে) দলগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে কমিশন। প্রথম পর্বে ঐকমত্য হয়নি, এমন ২০টির মতো মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গত ৩ জুন থেকে সব দলকে একসঙ্গে নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা শুরু করে ঐকমত্য কমিশন, যা গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়। ২৩ দিনের বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় মৌলিক সংস্কারের ১৯টি প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ৮টি বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে। বাকি ১২টিতে বিভিন্ন দলের ভিন্নমত বা মন্তব্যসহ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্ধু, চীন উন্নয়নের বন্ধু: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা চীন সফরে যাচ্ছি। চীনের সঙ্গে আমাদের উন্নয়নে পার্টনারশিপ রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্ধু, চীন উন্নয়নের বন্ধু।

তিনি বলেন, কর্ণফুলীর তলদেশে সেতু, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লাইন কনন্সট্রাকশন চীনারা করেছে। মেট্রোরেলের জন্য জাপান সহযোগিতা করেছে। উন্নয়নের জন্য যেখানে আমি সুবিধা পাবো সেটা আমি কেন নেব না? আমার তো সাহায্য দরকার।

শনিবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এলেন। পরদিন সকালে কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি। সেদিন ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধ। ওইদিন তাদের দরজার সামনে ফুল-মিষ্টি নিয়ে কোনো দল হাজির হয়েছে? মনে নেই! নতজানু কারা? মেরুদণ্ডহীনরা নতজানু হয়েছে। শেখ হাসিনা কখনো নতজানু হয়নি।

বিএনপি আন্দোলনের ইস্যু পায় না উল্লখ করে কাদের বলেন, বিএনপি আন্দোলনের যৌক্তিক কোনো ইস্যু খুঁজে পায় না। তারা নিজেরা রাস্তায় একটা আন্দোলন করতে পারে না। এখন তারা অন্যের ইস্যু খুঁজে বেড়ায়। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা তারা আন্দোলনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। কে শোনে জাতিসংঘের কথা? গাজা যুদ্ধ বন্ধে এত প্রস্তাব হয়েছে? জাতিসংঘের কথায় কি যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে? জাতিসংঘের কথায় কি ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে?

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন কোটা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। কোটার বিষয়ে আদালতের আদেশ আছে। এখানে সরকারের কি দোষ?

পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগবে। সেখানে মূল সমস্যা ভূমি। এর সমাধান এত সহজ নয়। এ সমস্যা ছাড়া গত ১৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বদলে গেছে। যেদিকে তাকাই শুধু উন্নয়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রশ্ন আসলে অন্য এলাকার সঙ্গে তুলনা করলে পার্বত্য চট্টগ্রামেও একই উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, একটা সময় ছিল আনারস পাহাড়ের প্রধান ফল। এক সময় এই ফল ঢাকায় আসতে পারত না। আজ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির কারণে প্রতিদিন সুমিষ্ট ফল ঢাকা-চট্টগ্রাম চলে আসে। এখন শুধু আনারস নয়, সব ধরনের ফল পাহাড়ে হয়। পাহাড়ের মতো আম আমি সিঙ্গাপুরে দেখিনি। এখন সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত মানের ফল পার্বত্য চট্টগ্রামে পাওয়া যায়।

বিএনপি কখনোই জনগণতান্ত্রিক দল হয়ে উঠতে পারেনি: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

যারা গণতান্ত্রিক পন্থার ব্যত্যয় ঘটাতে সন্ত্রাস-সহিংসতাকে উস্কে দেওয়ার পাঁয়তারা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার বিএনপির একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এগুলো জনগণের সামনে প্রকাশিত হওয়ায় বিএনপি বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়েও তারা মিথ্যাচার করছে। তিনি চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন। তার মুক্তি কোনো রাজনৈতিক বিষয় না বরং আইনগত বিষয়। এ বিষয়ে বিএনপি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা না করে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন করছে। কিন্তু সেই আন্দোলনে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুকে প্রাধান্য না দিয়ে একটি অরাজনৈতিক বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যু করার অপচেষ্টা করছে। আর বিএনপি যখনই তাদের তথাকথিত আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামে তখন তারা তাদের সন্ত্রাসী ও ক্যাডারবাহিনীকে সক্রিয় করে। বিএনপি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী ও ক্যাডারবাহিনীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অপচেষ্টা করে। আর এ সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ মিথ্যাচার-অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যায়নি। আওয়ামী লীগ সবসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিএনপি এবং তার দোসররা সর্বদা তৎপর থেকেছে। এটা বিএনপির জন্মগত রাজনৈতিক লিগ্যাসি। কারণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচারের হাতে প্রতিষ্ঠিত দল কখনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন করতে সক্ষম হতো বা তাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে পারতো তাহলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সৎ সাহস দেখাতে পারত। সেটা না থাকার কারণে বরাবরই বিএনপি সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, যারা গণতান্ত্রিক পন্থার ব্যত্যয় ঘটাতে সন্ত্রাস-সহিংসতাকে উস্কে দেওয়ার পাঁয়তারা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উপজেলা নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক ’ফ্লেভার’ নেই: ইসি আলমগীর

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক নির্বাচন নয়। কারণ বর্তমান সরকার দলীয় রাজনৈতিক দল স্থানীয় সরাকর নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কাজেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক কোনো ‘ফ্লেভার’ নেই।

তারপরও যাতে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন, সেটার অপশনও রাখা হয়েছে, অর্থাৎ ভোট ফ্লেক্সিবল করা হয়েছে। ইচ্ছে করলে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন; রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। আবার চাইলে অনেকে রাজনৈতিক পরিচয়েও নির্বাচন করতে পারবেন, তাতেও কোনো সমস্যা নেই।’

আজ শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে হরিরামপুর ও সিংগাইর উপজেলার প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও তাদের অনেক সমর্থক-প্রার্থী আনঅফিশিয়ালি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সুতরাং এটা বলার সুযোগ নেই যে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে না।’

ইসি আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে এবং কোনোমতেই যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না হয়। অন্যায়ভাবে কেউ যাতে কোনো প্রার্থীকে প্রচারে ও ভোটদানে বাধা দিতে না পারে। সবাই যাতে সমানভাবে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা করতে পারে এবং ভোটরা যাতে স্বাধীনভাবে তার ভোট দিতে পারে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কার কোন আত্মীয় অংশ নিল বা কে অংশ নিল না- সেটা আমাদের বিষয় নয়; সেটা রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক বিষয়, কিন্তু আমাদের নির্বাচনী আইনে যদি কোনো ব্যক্তি ওই এলাকার ভোটার হয় এবং তার বিরুদ্ধে যদি কোনো আইনী ঝামেলা না থাকে তাহলে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন। আমাদের আইনে আত্মীয়তার সঙ্গে কোনো সর্ম্পক নেই।’

এ সময় জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুজন সরকার ও জেলা নির্বাচন অফিসার আমিনুর রহমান মিঞাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন

পুরো দেশটাই এখন জুলুমের নগরীতে পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

সারাদেশটাই এখন জুলুমের নগরী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

‘আজ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালত কতৃর্ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের জামিন নামঞ্জুর এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে’ এ বিবৃতি দেন ফখরুল।

তিনি বলেন, সারাদেশটাই এখন জুলুমের নগরী। হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমের আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। আইনের শাসন ও সুশাসন দেশ থেকে চিরতরে বিদায় করে জনগণকে অত্যাচার আর উৎপীড়নের মধ্যে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ প্রতিবাদী হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে না পারে। এক সর্বগ্রাসী অরাজকতা দেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। দেশে এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও নব্য বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠিত করতেই শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্কের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী অতি মাত্রায় বেপরোয়া ও হিংস্র হয়ে উঠেছে। মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকৌশলের মাধ্যমে অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল, ভিন্ন মত ও পথের মানুষদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে অব্যাহতভাবে। কারাগারে বন্দি করা হচ্ছে নির্বিচারে। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে স্বাধীন দেশটাকে আওয়ামী লীগের জমিদারী বানানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে বিরোধী নেতাকর্মীদের জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণ করার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

ফখরুলের মুখে জানমালের নিরাপত্তার কথা বলাটা ভূতের মুখে রামনাম ছাড়া কিছু নয়: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশ ধ্বংসের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে তৎপর বিএনপি। সূচনালগ্ন থেকেই বিএনপি অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পথ রুদ্ধ করে রাজনীতি করে আসছে। সুতরাং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণতন্ত্র ও সুশাসনের কথা বেমানান।

গণতন্ত্র ও ‍সুশাসন নিযে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলাটা ভূতের মুখে রামনাম ছাড়া কিছু নয়। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নির্বিচারে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যারা হত্যা করেছিল; যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল, যারা ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানি করেছিল, যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে কয়েকশ নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, সেই খুনিদের দল যখন জননিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে তখন জনগণ আরও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানি করছে, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিএনপির যেসব ক্যাডার অগ্নিসন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতার করাটা কোনোভাবেই হয়রানিমূলক হতে পারে না। সন্ত্রাসীদের আইন ও বিচারের মুখোমুখি করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, একথা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও প্রমাণিত যে, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের জনগণ যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বস্তিতে বসবাস করছে। যেকোনো মূল্যে আমরা জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাব।

বিএনপির আন্দোলন বাস্তবে না হলেও মুখে আছে: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে হামলা করে পালিয়েছে। এসব অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। অপরাধ করেছে বলেই তারা তখন পালিয়েছে। বিএনপির আন্দোলন বাস্তবে না হলেও মুখে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার ( ২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে বিরোধী দলের রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সব দোষ সরকারের ওপর দেওয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গিয়ে মানবাধিকার আর গণতন্ত্র নিয়ে নালিশ করা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির ৫৪ দলীয় ঐক্যজোটের হদিস নেই। পাগলের প্রলাপ বকে বিএনপি। অংশগ্রহণ না করেও নির্বাচনে জয় পায় তারা।

বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের অবস্থান জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংখ্যার দিক দিয়ে সংসদে বিরোধী দল দুর্বল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের লাগাম কবে টানা হবে–এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় দলের বিভিন্ন স্তরের সম্মেলন সফল করতে খুব শিগগিরই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।