All posts by jitu

কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (৯ মে) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিহত মো. মুরসালিন (২০) কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. হেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী। নিহত অন্যজনের নাম জানা যায়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্রায় ১৫ বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চালানের উদ্দেশে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।

পরে ভারত থেকে চালানি মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিতে আহত অন্য একজনও একই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তাদের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজিবি আরও জানান, নিহত দুই ব্যক্তি আগে থেকেই চোরাচালানি মালামাল পরিবহণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিএসএফ জানিয়েছে, তাদের হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ফেরত দেওয়া হবে। বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজ ছাত্র। অপর নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

নিহত কাস্টম কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সাথে দেখা করলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত কাস্টম কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।

শুক্রবার (০৮ মে) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জে বুলেট বৈরাগীর বাসভবন গিয়ে তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় কাস্টম কর্মকর্তা নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি এ বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি এবং প্রধানমন্ত্রী অবহিত করেছি। ২৪ ঘন্টার ভিতরে র‍্যাব অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সেজন্য র‍্যাব কর্মকর্তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আজকে আমি বুলেট বৈরাগীর বাসায় দেখা করেছি। তার স্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি মানবিক মানুষ, আশা করি সাড়া দিবেন। ইতিমধ্যে সরকার থেকে নির্দেশ এসেছে একটা নির্দিষ্ট সময়ে পর্যন্ত বুলেট বৈরাগীর বেতন যেন তার স্ত্রীকে প্রদান করা হয়।

এ সময় আপ্লুত হয়ে পরেন মনিরুল হক চৌধুরী এমপি। বুলেট বৈরাগীর পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তিনি কুমিল্লায় তাঁর পরিবারের স্থায়ী নিবাসের আশ্বাস দেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীকে চাকরি দেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় তিনি বুলেট বেড়ে গেলে স্ত্রী ও বাবা মাকে সান্তনা দেন এবং দ্রুত সময়ে বুলেট বৈরাগী হত্যার বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

বেদে শিশুদের শিক্ষায় এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর বেতনের সিংহভাগ দান

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

সমাজের পিছিয়ে পড়া বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া প্রথম মাসের বেতনের সিংহভাগ তিনি বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের দান করেছেন।

শুক্রবার (৮ মে) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।

জানা যায়, সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বেদে জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে তিনি ‘Let’s Meet Gypsy Genius’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় তাঁর প্রথম মাসের বেতন থেকে বেদে সম্প্রদায়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে নগদ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া একই কর্মসূচির আওতায় উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে।

বেদে সম্প্রদায়ের সভাপতি আলাউদ্দিন ওঝা বলেন, সংসদ সদস্যের এমন ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তরিকতা পিছিয়ে পড়া বেদে জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সহায়তার মাধ্যমে তাদের সন্তানরা যাযাবর জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বেদে সম্প্রদায় আমাদের সমাজেরই অংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলিত এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাদের সন্তানদের মাঝে থাকা মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থের অভাব যেন কোনো শিশুর শিক্ষাজীবনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের প্রথম মাসের বেতনের অংশ তাদের কল্যাণে ব্যয় করতে পেরে আমি আনন্দিত।”

নাঙ্গলকোটে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে যুবদল নেতার ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ ধরা পড়ার অভিযোগ

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের তুগুরিয়া নোয়াপাড়া এলাকায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সৌদি প্রবাসী ইয়াকুব আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় যুবদল নেতা তোফায়েল আহমেদ গভীর রাতে প্রবাসীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন।

প্রবাসীর স্ত্রী কোহিনূর আক্তার জানান, তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে কিছুদিন ধরে আমার সম্পর্ক ছিল। তিনি আমাকে বিভিন্ন ধরনের লোভ-লালসা ও বাড়ি করে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। গত ০৬ মে রাতে তিনি ফোন দিয়ে জানান, রাতে বাড়িতে আসবেন এবং জানালায় নক করবেন। প্রথমে আমি রাজি না থাকলেও পরে তিনি জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন।

অন্যদিকে, কোহিনূর আক্তারের বাসুর দাবি, রাত ১টার দিকে আমি তাদের ঘরের ভেতরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তোফায়েল আমার পা ধরে ক্ষমা চান। আমি তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি জোরপূর্বক পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় তার লুঙ্গি ও জুতা ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে।

ঘটনার বিষয়ে সৌদি প্রবাসী ইয়াকুব আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই বউ আমি আর রাখবো না।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সমাধানের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কুদ্দুস মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও পরে স্বীকার করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বসেছেন সমাধানের জন্য।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মহসিনের নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় হুমকি ও ধাক্কা দিয়ে তাদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে, তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তার শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ; আটক ২

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় এক নারী উদ্যোক্তাকে জোর পূর্বক শ্লীলতাহানি করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) ভোরে চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বাজার সংলগ্ন এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গাড়ি চালক মো. রুবেল (২৮) ও একই পাড়ার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জামাল (৪০)।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান- তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে পার্লারের কাজ শিখে মহিচাইল বাজারে পার্লারের ব্যবসা দেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ওই নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। তাতেও ওই নারী কর্ণপাত না করায় বৃহস্পতিবার (৭মে) দুপুরে তারা ওই নারী উদ্যোক্তার বিউটি পার্লারে গিয়ে জোর পূর্বক তার শ্লীলতাহানি করে এবং শ্লীলতাহানির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান- ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আমরা মামলা গ্রহণ করে বিশেষ অভিযানে পর্ণোগ্রাফী উৎপাদন, সংরক্ষণ ও মর্যাদাহানির জন্য ভীতি প্রদর্শনসহ যৌন পীড়নের অপরাধে তাদেরকে আটক করি। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লার ইলিয়াস হত্যা মামলার পলাতক আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ইলিয়াস হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. রুবেলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। যৌথ অভিযানে তাকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের যৌথ আভিযানকারী দল বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকার ডিটি রোডে অভিযান চালিয়ে রুবেলকে গ্রেফতার করে। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেরলা এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।

র‌্যাব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ইলিয়াস হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর পলাতক আসামি রুবেল সীতাকুণ্ডে অবস্থান করছেন। পরে এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

মামলাটি চৌদ্দগ্রাম থানায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির হত্যা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহযোগিতা-সংক্রান্ত একাধিক ধারা উল্লেখ রয়েছে।

র‌্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানায়, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দাউদকান্দিতে ডাকাতসহ ৩ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ১ জন ডাকাত, পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত এজাহারভুক্ত ১ জন ও ১ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকায় সঙ্গীয় ফোর্সসহ এসআই নাজমুল সাকিব, এসআই কমল কৃষ্ণ, এএসআই দেলোয়ার ও এএসআই রিপন পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান পরিচালনাকালে দাউদকান্দি থানার পাঁচগাছিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ডাকাত সদস্য ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল (২২), পশ্চিম হুগলিয়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে পাঁচ বছরের এজাহারভুক্ত ও অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস (৩২) ও হরিপুর গ্রামের মৃত মনিরুল হকের ছেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি জিয়া আলাউদ্দিন মোল্লাকে (৪৫) গ্রেফতার করেন।

দাউদকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আ. বারী জানান, দাউদকান্দি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে একজন ডাকাতসহ তিনজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় গাঁজা ও বাজিসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রান্নাঘর থেকে ৩০ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘কিং কোবরা’ বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক কারবারি মো. কাউসার মিয়াসহ (৪০) মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) মধ্যরাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রামচন্দ্রপুর (ভাল্লক) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই রাতে পৃথক আরো তিনটি অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত তিন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার কাউসার উপজেলার রামচন্দ্রপুর উত্তরপাড়া এলাকার ফুল মিয়া মেম্বারবাড়ির বাবরু মিয়ার ছেলে। অপর গ্রেপ্তাররা হলেন—সাজাপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান ওরফে হাফেজ এবং পরোয়ানাভুক্ত মো. ওসমান ও মো. তাজুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউসার মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তার রান্নাঘর থেকে ৩০ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১ হাজার ৯৫০ প্যাকেট ভারতীয় ‘কিং কোবরা’ বাজি জব্দ করা হয়।

পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই মো. আল আমিন। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে অংশ নেয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘কাউসারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া সব আসামিকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

পরিকল্পিত বসুন্ধরাকে বিশৃঙ্খল নগরে পরিণত করার শঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি:

কোলাহল, বিশৃঙ্খলা, মাদক-সন্ত্রাসী এবং অপরাধীদের থাবামুক্ত বিশেষায়িত একটি নগরীর নাম বসুন্ধরা। এটি রাজধানী ঢাকার নিরাপদ এবং অভিজাত আদর্শ আবাসিক এলাকা।

এর শৈল্পিক কাঠামো ও অবয়ব মিথের মতো মনে হবে! শিল্পীর তুলিতে আঁকা এর নান্দনিক ছবি যেন নৈসর্গিক দৃশ্যের বাস্তব চিত্র। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্যপট কোনো জাদুমন্ত্রে গড়া নয়, বরং এখানকার দক্ষ, কঠোর ও আপসহীন ব্যবস্থাপনার কাঙ্ক্ষিত ফসল। আজকের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আদর্শ নাগরিকদের শান্তির নীড়। রাজধানীর অন্য যেকোনো আবাসিক এলাকার নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির তুলনায় এ যেন একচিলতে প্রশান্তির আঙিনা।

বছরের পর বছর ধরে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের বসুন্ধরা। তাদের গড়ে তোলা সুন্দর গোছানো আবাসিক এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য চলছে নানা অপতৎপরতা।

 

তিলোত্তমার তিলকে গড়া অপরূপ এই স্পেশালাইড নগরীরকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ নিয়ে নাগরিকরা শঙ্কিত।

বাস্তবতা হলো এই যে, রাজধানী ঢাকার দুই সিটির আওতায় যত আবাসিক এলাকা রয়েছে, সেগুলোর কোনোটাই পরিপূর্ণভাবে বসবাস উপযোগী করে রাখতে পারেনি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। নাগরিকদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারেনি। সড়ক বাতি, ফুটপাত কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ কোনো সেবাই সন্তোষজনক নয়। তারপরও নাগরিকদের কাছ থেকে মাসের পর মাস সেবামাশুল ঠিকই নেওয়া হচ্ছে।

 

বসুন্ধরার কাছাকাছি বেশ কিছু আবাসিক এলাকা, বিশেষ করে বাড্ডা, ভাটারা, খিলক্ষেত, কালাচাঁদপুর, জগন্নাথপুর কিংবা নিকুঞ্জ—কোনো এলাকাই বসুন্ধরার মতো পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় চলছে না। ওই সব এলাকায় প্রতিনিয়ত খুন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানি নিত্যদিনের ঘটনা।

এসব এলাকার পায়ে পায়ে অপরাধ। সেখানকার দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, ব্যানার আর স্লোগান সম্বলিত নানা সাইনবোর্ড-ফেস্টুন। যাতে সৌন্দর্যের নেই কোন বালাই। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার তো বলতে গেলে কোনো মা-বাপই যেন নেই! প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী আর কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। সেবা না পেয়েও ওই সব এলাকার নাগরিকরা কিন্তু ঠিকই সিটি করপোরেশনকে সেবামাশুল দিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীর এত সব আবাসিক এলাকার নাগরিকসেবা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রায় তলানিতে। অথচ সিটি করপোরেশন এখন বসুন্ধরার মতো শান্তিপূর্ণ, সাজানো-গোছানো একটি আবাসিক এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশৃঙ্খল, অনিরাপদ ও নানা অপরাধের আরেকটি এভিনিউ বানানোর চেষ্টা করছে বলে বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ গড়ে উঠছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা কেন মানুষ পছন্দ করে? বসবাসের জন্য কেন সবাই এখানে ছুটে আসে? আমার কাছে মনে হয়, এটি রাজধানীর অন্য সব এলাকা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি সাধারণ কোনো আবাসিক এলাকা নয়, বরং এটি রাজধানীর ভেতরে আভিজাত্য আর আধুনিক জীবনাচারের একচিলতে অনিন্দ্য আভাসস্থল। সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি আর যেকোনো ধরনের অন্যায়-অবিচারমুক্ত সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ স্থান।

অথচ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা কিভাবে এত পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠল? এর নেপথ্যের গল্পই বা কী? অপরিকল্পিত ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণের বাস্তবতায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আজ এক ব্যতিক্রমী নগর-দর্শনের উত্কৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

 

রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় অবকাঠামোগত বিশৃঙ্খলা, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নিত্যদিনের বাস্তবতা; সেখানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের অনন্য কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে গড়ে উঠছে।

১৯৮৭ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সুদূরপ্রসারী, সৃষ্টিশীল উদ্যোগে যে পরিকল্পিত নগরায়ণের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষের এই ঢাকা মেগাসিটির ভেতরে শান্ত, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসন মডেল হিসেবে বাস্তব রূপ নিয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অন্যতম প্রধান শক্তি হলো এর কঠোর নির্মাণ নীতিমালা এবং রাজউকের বিধি-বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন। ঢাকার বহু এলাকায় যেখানে একটি ভবন আরেকটির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে, আলো-বাতাসের চলাচল নেই, অনেকটা অন্ধকার প্রকোষ্ঠের মতো; সেখানে বসুন্ধরায় ভবনের চারপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। ফলে প্রতিটি বাসায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ থাকে, যা শুধু বসবাসকে আরামদায়কই করে না, বরং স্বাস্থ্যকর নগরজীবন নিশ্চিতও করে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা একটি আবাসিক এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বসুন্ধরা সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই গড়ে উঠেছে।

ফলে যে কেউ বসুন্ধরায় এসে কান পাতলেই এখানে নাম না জানা কত পাখির কিচিরমিচির শুনতে পাবে। সবুজ নিসর্গের প্রশান্তিময় ছোয়া পাবে। এখানকার প্রতিটি ব্লকে সন্ধ্যার পর থেকেই স্নিগ্ধ এক আবহ তৈরি হয়। চারপাশে ঝিঁঝি পোকার ডাক যে কাউকেই মোহিত করবে। বিরক্তিকর নাগরিকতার বিষাক্ত বাস্তবতার আড়ালে এ যেন মন ভরে শ্বাস নেওয়ার একান্ত নিজের জায়গা!

 

অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এলাকাটি রাজধানীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত। প্রচলিত পিচঢালা রাস্তার পরিবর্তে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই কংক্রিট ব্লক প্রযুক্তি, যা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সহায়ক এবং জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ঢাকার বহু এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বসুন্ধরার পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সেই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি প্রশস্ত সড়ক, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, ফুটপাত এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নাগরিক জীবনকে আরো আরামদায়ক করে তুলেছে।

নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিচারে বসুন্ধরা আজ একটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ নগরে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্যও পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও স্থান বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর ফলে বাসিন্দারা তুলনামূলক নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারেন। রাজধানীর অনেক এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব, দখলদারি, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি কিংবা অবৈধ ব্যবসা নিয়ে যে অস্থিরতা, বসুন্ধরার নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে তার উপস্থিতি বলতে গেলে নেই-ই।

এলাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সামাজিক ও পরিবেশগত শৃঙ্খলা। এখানে হকার, ভাসমান বস্তি কিংবা অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট, টি-স্টল নেই বললেই চলে। ফলে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও তুলনামূলক নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য প্রতি ব্লকে একাধিক সুপরিকল্পিত মসজিদ, ভিন্নমতাবলম্বীদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থনালয় এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমানভাবে বজায় রাখছে। অধিবাসীদের জন্য কমিউনিটি পার্ক, খেলার মাঠ বসবাসের পূর্ণতা দিয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা একটি শক্তিশালী কমিউনিটির পরিচয় দিয়েছে। যখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, তখন এখানকার বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের এলাকা নিরাপদ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার প্রকৃত শক্তি কেবল অবকাঠামোতে নয়, বরং তার বাসিন্দাদের সামাজিক সংহতি ও দায়িত্ববোধও এখানে অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

অর্থনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার বাসিন্দাদের মতে, সিটি করপোরেশনের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, উচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিজস্ব ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা অধিক ফলপ্রসূ ও সম্মানের। কারণ একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। একজন সাধারণ মানুষ, যিনি সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাস গড়ে তুলতে চান, তাঁর কাছে এই শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা ও পুঁজি।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি। এখানে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিকমানের স্কুল ও কলেজ। পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ ও নিরাপদ করে তুলেছে।

বিনোদন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রেও বসুন্ধরা অনন্য। এখানে রয়েছে আধুনিক শপিং মল, আন্তর্জাতিকমানের রেস্টুরেন্ট, কফি শপ এবং লাইফস্টাইল আউটলেট, যা শহুরে জীবনের প্রয়োজন ও রুচির সৌন্দর্যকে উপস্থাপন করে। এ ছাড়া দেশসেরা স্পোর্টস সিটি, গল্ফ কোর্স, বিশ্বব্র্যান্ডের জিম ফ্রেঞ্চাইজি এবং উন্মুক্ত সবুজ এলাকা নাগরিকদের জন্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের এক ব্যতিক্রমী ভারসাম্য তৈরি করেছে।

বসুন্ধরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হলো এর পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। হাজারো নিরাপত্তারক্ষীর নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, নিয়মিত টহল, হাজার হাজার সিসি ক্যামেরার চোখ এবং সার্বক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনিক নজরদারি সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। এ কারণে বাসিন্দারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনকে তুলনামূলক নিশ্চিন্ত, ভাবনাহীন ও সহজ ভাবছেন।

এখানকার বাসিন্দাদের অনেকের সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা হয়েছে। তাঁরা এর বিদ্যমান স্বকীয়তার টেকসই রূপ চান। তাঁরা মনে করেন, এটিকে নিরাপদ ও অপরাধপ্রবণতার বলয়মুক্ত রাখতে হলে একে ডিএনসিসির নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে হবে। কারণ ডিএনসিসি এখনো ওই দক্ষতা ও আস্থা তৈরি করতে পারেনি, যা এর সার্বিক নিরাপত্তা, আভিজাত্য বজায় রাখতে পারবে। কারণ ডিএনসিসি তার আওতাধীন বিদ্যমান এলাকার সব নাগরিকসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে—এটা সবাই জানে। বসুন্ধরাকে সিটির আওতায় নেওয়া হলে এখানের মানুষ আরো অনিরাপদ ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ একটি নাগরিকতায় প্রবেশ করবে। হাতে ধরে একটি গোছানো আবাসিক এলাকাকে বিনষ্ট করার বিষয়টি এখানের অধিবাসীরা কোনোভাবেই মানবেন না।

বসুন্ধরার অধিবাসীরা আরো জানান, সত্যিকার অর্থে তাঁরা শুধু একটি ফ্ল্যাট বা প্লট কেনেন না; বরং তাঁরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় আস্থা রাখেন, আত্মমর্যাদার সুরক্ষা দেন। এ কারণেই রাজধানীর অনেক এলাকার তুলনায় তুলনামূলক বেশি মূল্যে হলেও মানুষ বসুন্ধরায় বসবাসের স্বপ্ন দেখেন। পরিকল্পিত নগরায়ণের অনন্য এ আবাসিক এলাকাটি বহু বছরের প্রচেষ্টায় যেভাবে গড়ে উঠেছে, তা এক লকমায় বিনষ্ট হলে, এর গৌরব ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন হবে। তাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নান্দনিকতা, পরিবেশগত ভারসাম্য, আধুনিকতা ও সুশৃঙ্খল চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখা কেবল এর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়, বরং এর স্বকীয় রূপ, আভিজাত্য ও মর্যাদার সুরক্ষা দেওয়া এখন প্রতিটি বাসিন্দার সম্মিলিত দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত।

লাকসামে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং, চুরি, যানজট ও জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে লাকসাম উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জননেতা মোঃ আবুল কালাম এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, লাকসামের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সকল কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নার্গিস সুলতানা সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষ্ণ মল্লিক এবং লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল নাহার লায়লি।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আইন-শৃঙ্খলা সভা আয়োজন করা হয়ে থাকে, যেখানে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।