All posts by jitu

কুমিল্লায় গোমতীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার প্রাণপ্রবাহ গোমতী নদীর দুই পাড়ে গিড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ঝাঁকুনিপাড়া এলাকা থেকে এ অভিযান চলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, গোমতী নদীর দুই পাড়ে মোট ১৪৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দিনের অভিযানে তালিকাভুক্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে প্রায় ৬০টি স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানে এক্সাভেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার এবং কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান খান।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোমতী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে দোকান, ঘর ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার কারণে বাঁধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এটি একদিনের অভিযান নয়। গোমতী নদীর তীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অভিযান চলবে।

দাউদকান্দিতে সাংবাদিকের অফিসের আসবাবপত্র নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সাংবাদিকের কার্যালয়ে তালা ভেঙে চেয়ার টেবিল ও ল্যাপটপসহ মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় মোহনা টেলিভিশনের কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ সাহাব উদ্দিন দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানান, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় কয়েকদিন আমার অফিসটি বন্ধ ছিল। গতকাল বুধবার অফিসে গিয়ে দেখি নতুন তালা ঝুলছে। পরে নিচে এসে স্থানীয় আশেপাশের দোকানদারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কয়েকদিন আগে বিকাল ৩/৪টার দিকে  ৭-৮ জনের একটি দল তালা ভেঙে মালামাল নিচে নামিয়ে কয়েকটি ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে গেছে। মোহনা টেলিভিশনের ডিজিটাল সাইনবোর্ডসহ তারা নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদারদের বরাতে সাহাব উদ্দিন জানান, তালা ভাঙ্গা এবং মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে দোকানদারদের  ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি ।

তিনি আরো জানান, অফিসে আমার মূল্যবান নথিপত্র এবং ল্যাপটপ সহ একাধিক চেয়ার, টেবিল, সোফা, লাইট, ফ্যানসহ অনেক কিছু ছিলো, সব নিয়ে গেছে। যার আনুমানিক মুল্য প্রায় পাঁচলাখ টাকার বেশি। আশপাশের ভবনে একাধিক সিসি ক্যামেরা লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার দাবী জানান তিনি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম  জানান, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিষিদ্ধ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের টুর্নামেন্টে উপ-উপাচার্য, নোবিপ্রবিতে সমালোচনা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বলে সমালোচিত কয়েকজন শিক্ষকের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন অভিযোগ করেছে, এ ধরনের উপস্থিতি বিতর্কিত শিক্ষক নেতাদের পুনর্বাসনের বার্তা দিতে পারে। তবে উপ-উপাচার্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি অনুষ্ঠানটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন মাইজদী শহরের একটি টার্ফে নোবিপ্রবির একাংশ শিক্ষক এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল বারেক।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন নীল দল ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের বিভিন্ন সময়ের পদধারী একাধিক শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া (সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নীল দল), ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান (স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের অন্যতম নেতা), পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ পুইয়ান (সাবেক কোষাধ্যক্ষ, নীল দল), অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মজনুর রহমান (সাবেক শিক্ষক সমিতির সদস্য), এমআইএস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম (সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য, নীল দল), সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মমিন সিদ্দিকী (সাবেক সহ-সভাপতি, নীল দল) এবং কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুরুজ্জামান (স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে সমালোচিত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার একই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক পুনর্বাসনের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সাদা দলের শিক্ষকরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নীল দলের সদস্যদের সামনে আনার চেষ্টা করছেন কি না, সে প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। আপনারা একসময় আমাদের আন্দোলনের সঙ্গী ছিলেন। তাই এই ঘটনায় আমরা হতাশ।”

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো শিক্ষক কোথায় যাবেন, সেটি আমাদের বিষয় নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী কোনো সংগঠন সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। এর আগেও আমরা এ ধরনের অভিযোগে মানববন্ধন করেছি এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।”

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, “বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। প্রশাসনের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।”

তবে অভিযোগ নাকচ করে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “খেলাটি সম্পর্কে বিস্তারিত আমি জানতাম না। আমার সহকর্মী অধ্যাপক আব্দুল মমিন সিদ্দিকী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী আমি সেখানে গিয়ে পুরস্কার বিতরণ করি। উপস্থিত হওয়ার পর জানতে পারি এটি শহরে অবস্থানকারী শিক্ষক ও আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি খেলা। সেখানে আর কারা ছিলেন, সে বিষয়েও আগে আমার জানা ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের আক্ষেপের জায়গাটি আমি বুঝতে পেরেছি। আমি কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করছি না। প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা বিষয়। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। আমি আমার আদর্শে স্থির আছি এবং থাকব।”

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ক্যাম্পাসে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মেঘনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম খলিল ওরফে শ্যামল (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচর নোয়াগাঁও গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভুক্তভোগী আট বছর বয়সের শিশুটি স্থানীয় ব্রাহ্মণচর নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে নিয়মিত অভিযুক্তের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফাতেমার কাছে প্রাইভেট পড়তে যেত। গত ৮ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ভুক্তভোগী তার সহপাঠী তামিমকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেট পড়তে অভিযুক্তের বাড়িতে যায়। সে সময় অভিযুক্তের মেয়ে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় অভিযুক্ত মোবাইল ফোন দেখানোর প্রলোভন দিয়ে শিশুটিকে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে শিশুটি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দৌড়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত ‘ম্যাডাম এসেছেন’ বলে আবার শিশুটিকে বাড়িতে ডেকে নেন। শিশুটি সেখানে গেলে তিনি তাকে পুনরায় নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং তার পরিহিত প্যান্টের ভেতর হাত দিয়ে যৌনাঙ্গে স্পর্শ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজ বাড়িতে গিয়ে মাকে পুরো ঘটনাটি জানায়। পরে শিশুটির মা বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হন। এরপর ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর বাবা রাত ১২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত শ্যামলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। পরে সকালে যথাযথ পুলিশ স্কর্টে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

৫০ বছরের জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণে খাদ্য নিরাপত্তার পথ খুঁজছে নোবিপ্রবি, প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

আজ (০৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা–২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (BCCT)-এর স্টলে প্রদর্শিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালিত “মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন” শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, গবেষণা পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গবেষণাটিতে মেঘনা অববাহিকার জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভবিষ্যৎ জলবায়ুর অনুকরণ, বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় সম্ভাব্য ফসলের অভিযোজন সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন করে ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, “আমাদের এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা। এ জন্য আমরা গত ৫০ বছরের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও জলবায়ুগত পরিবর্তনের পূর্বাভাস মূল্যায়ন করছি।

বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন ও বার্লির বৃদ্ধি, ফলন এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা এই গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা হবে। গবেষণাটি শুধু ফলনের পরিবর্তন নির্ণয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতিতে কোন ধরনের ফসল চাষ অধিক উপযোগী হবে এবং কীভাবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, সে বিষয়েও কার্যকর সুপারিশ প্রদান করবে।

তিনি আরও জানান, গবেষণার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনহাউস ও মাঠ—উভয় পরিবেশেই পরীক্ষামূলকভাবে সয়াবিন ও বার্লির চাষাবাদ করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত ফসল নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

ড. মহিনুজ্জামান আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই গবেষণা উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আমাদের উৎসাহ প্রদান করেছেন।”

চৌদ্দগ্রামে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৭০ কেজি গাঁজাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল আলম ও রোকসানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। র‌্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে পৌর এলাকার গোমারবাড়ি পূর্বপাড়ায় মাদক ব্যবসায়ী রিপন হোসেনের ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের এর সহকারী পরিচালক(মিডিয়া) এএসপি এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার গোমারবাড়ী পূর্বপাড়া জনৈক রিপন হোসেনের বসতবাড়িতে মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ শেষে মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান করছে। বুধবার বিকেলে র‌্যাব ও বিজিবি’র যৌথ আভিযানিক দল সেখানে উপস্থিত হলে টের পেয়ে বসতঘর থেকে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে রিপনের স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও জসিম উদ্দিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী রবিউল আলমকে আটক করে। পরে তাদের তথ্য মতে রিপন হোসেনের ঘর থেকে সাত লক্ষ টাকা মূল্যের ৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পলাতক রয়েছে রোকসানা আক্তারের স্বামী মাদক ব্যবসায়ী রিপন হোসেন।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত দুইজনই সুকৌশলে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকদ্রব্য গাঁজা ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে রিপন-রোকসানা দম্পত্তির ঘরে মজুদের পর রবিউল আলমের সহায়তায় বিভিন্ন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নিকট অধিক মূল্যে বিক্রয় করে আসছে।
র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের এর সহকারী পরিচালক(মিডিয়া) এএসপি এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ৭০ কেজি গাঁজাসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে।

কুমিল্লা নগরীতে ৪৮ হাজার অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ১০ হাজারে আনার উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেছেন, বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশাকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে নগরীতে যানজট ও দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এসব অটোরিকশার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে।

এতে অনেকেই আহত হচ্ছেন ও পঙ্গুত্ববরণ করছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত অটোরিকশায় চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে।

এসব প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, ফলে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।

কেউ প্রতারণা করে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

দাউদকান্দিতে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ২

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে  ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি প্রাইভেট কারসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার পশ্চিম নাসিরাবাদ এলাকার ফজু মিয়া কন্ট্রাং রোডের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ ফিরোজ (৪৬) ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মিলন গাজী।

পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়িতে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা আটটি প্যাকেটে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ সাজেদুল ইসলাম  জানান, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার এবং প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে।  আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে  মামলা প্রক্রিয়াধীন ।

চান্দিনায় অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার জমিতে বসতবাড়ি ভাঙচুর, শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

চান্দিনা:

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নে অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের (৮৫) ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো ধরনের আইনি নোটিশ ছাড়াই হামলা, বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং শতাধিক পরিণত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি দিনের বেলায় একদল ব্যক্তি এক্সকাভেটর নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা বসতবাড়ির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুরের পাশাপাশি জমিতে থাকা শতাধিক পরিণত ও মূল্যবান গাছ কেটে ফেলে। পরিবারের দাবি, এক্সকাভেটর দিয়ে তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরের পাড় কেটে ফেলার ভয় দেখিয়ে আব্দুল কাদেরকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং কিছু গাছ কাটতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গল্লাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুল করিম দর্জির সহযোগিতায় দারোরা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি চেয়ারম্যানের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন এবং তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। অভিযানে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরটি একই গ্রামের মো. মামুনের মালিকানাধীন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর আব্দুল কাদের ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “হঠাৎ করেই একদল লোক এক্সকাভেটর নিয়ে আমাদের ব্যক্তিগত জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে বাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ ঘটনায় পরিবারটি জেলা প্à¦