All posts by jitu

কুবি শাখা ছাত্রদলের কর্মী নিয়ে জমি দখলের অভিযোগ ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে জোরপূর্বক এক কর্মচারীর জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মচারী জহিরুল ইসলাম গত ৫ মে (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াত, মালী কামাল ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী হাসান ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীর নামে এ অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষক জি. এম মনিরুজ্জামান আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং আবুল হায়াত বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে আওয়ামী সরকার আমলে কুবি শিক্ষক সমিতিতে যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন৷ আর যে-সব শিক্ষার্থীদের নামে অভিযোগ করেছেন, তাদের সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা যায়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

১০-১৫ জনের নামে অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৮ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল মালেক আকাশ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুদ, একই বর্ষের আইন বিভাগের আজহারুল ইসলাম ইমরান, ইংরেজি বিভাগের জহিরুল ইসলাম জয়, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সৌরভ কাব্য এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী খান মোহাম্মদ নাঈম।
এছাড়াও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোহাম্মদ শাহিন নামেও আরেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি।

শাখা ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, সাইফুল মালেক আকাশ, জহিরুল ইসলাম জয়, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুদ ও খান মোহাম্মদ নাঈম এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন। এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ১ নং বিজয়পুর লালমাই পাহাড়ের ধনমোরা এলাকায় মোছলেম মিয়ার কাছ থেকে ২০১৯ সালে ৩০ শতক ভূমি ক্রয় করেন জহিরুল ইসলাম (যার আর. এস খতিয়ান নং- ৯৩৪ ও বি. এস খতিয়ান নং- ১২৭২, সাবেক দাগ নং- ৫৫৪৩ ও হাল বি.এস দাগ নং- ১১৪৯৫)। একই পাহাড়ে পাশাপাশি হালিমা নামের এক নারীর কাছ থেকে ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াত।

এই জায়গার পূর্বের মালিক ছিলেন মো. আবদুল মোতালেব ও আবদুল গফুর। এর মধ্যে আবদুল মোতালেবের অংশ ১০ শতক আর আবদুল গফুরের অংশ রয়েছে ২০ শতক (যার বি. এস খতিয়ান নং- ১২৭২, সাবেক দাগ নং- ৫৫৪৩ ও হাল বি. এস দাগ নং- ১১৪৯৬)। তবে জি. এম মনিরুজ্জামান ও আবুল হায়াত সংশোধিত দলিল মূলে আবদুল গফুরের ১১৪৯৫ দাগের ২০ (বিশ) শতক ভূমির মালিক হন।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, “গত ২ মে সকাল ১১টার দিকে ধনমোড়া পাহাড়ে গিয়ে আমার জায়গা দখল করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াত। তাদের সাথে ছিলেন মালী কামাল হোসেন এবং কুবি শাখা ছাত্রদলের ৯ জন কর্মী।” অভিযোগ অনুযায়ী, এই দখল কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশেই পরিচালিত হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী বলেন, “ওখানে যাওয়া শিক্ষার্থীরা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘এই খুঁটিগুলো তুললে তোর হাত ভেঙে ফেলব। আমরা যেটা করেছি সেটাই রাইট (সঠিক)। থানায় মামলা করিস, সবাই আমাদেরকে চিনে।’ স্যারেরাও একই কথা বলেছেন।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত পক্ষ তার জমির পূর্ব পাশে বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের আওতায় পৃথকভাবে জমি ক্রয় করলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার নিজস্ব জমি অবৈধভাবে দখল করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম মনিরুজ্জামান বলেন, “আমাদের জমিগুলো পাশাপাশি। আমরা তাকে বলেছি, তুমি যার থেকে জমি কিনেছ তাকে ডাকো এবং একজন আমিন (ভূমি পরিমাপক) ডাকো; আমরাও আমাদের জমির পূর্বের মালিক ও আমিন ডাকব। তখন আলোচনার মাধ্যমে এটা সমাধান করা যাবে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট একটা চাকরি করে, সে ভুল করতেই পারে। কিন্তু সে আমাদের সাথে তখন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে।”

বিরোধপূর্ণ জমিটি যেহেতু শিক্ষক ও কর্মচারীর এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা যেত, সেখানে কেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হলো এবং তারা কেন হুমকি দিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে সাথে করে নিয়ে যাইনি। তারা হয়ত নতুন ক্যাম্পাস দেখতে গিয়েছিল। ফেরার সময় শিক্ষকদের সাথে কর্মচারীর বাগ্‌বিতণ্ডা দেখে সেখানে এগিয়ে আসে। তবে তারা কোনো হুমকি দেয়নি। আমরা অবশ্যই আইনের মাধ্যমেই এটা সমাধান করতে চেয়েছি, কিন্তু সে মানেনি। আমরা এখনো চাচ্ছি এটি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হয়ে যাক। আমরা সবাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করি, একই পরিবারের অংশ।”

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুল হায়াত। তিনি বলেন, “এই জমিটা আমরা তিনজন ২০১৯ সালে কিনেছি। সে তিন-চার মাস আগে এসে বলছে সে জায়গায় রাস্তা বেশি পাবে। ইন দ্য মিন টাইম (এরই মধ্যে) সে আমাদের জায়গার গাছ কেটে ফেলেছে।”

শিক্ষার্থীদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা এসে জাস্ট (শুধু) তাকে জিজ্ঞেস করেছে যে সে কেন শিক্ষকদের সাথে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছে।”

কিন্তু ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষকরা তাদেরকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, “শিক্ষকদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় তারা আমাদেরকে বলেছে যে তারা একটা বিপদে পড়েছে। আমরা যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের যে-কোনো সমস্যায় যাই তাই এখানেও গিয়েছি। কাউকে কোনো হুমকি দেইনি বরং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দেখে তাকে বলেছি, মামা আপনারা বসে আলোচনা করে এটা সমাধান করে ফেলেন এবং তিনিও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এখানে টাকা-পয়সার কোনো কথাই আসেনা। এটা ভিত্তিহীন।”

আরেক অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মাহমুদ মাসুদ বলে, “আমরা ঐদিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম, গিয়ে দেখি আমার ডিপার্টমেন্টের একজন স্যার আর ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের একজন স্যার, এমনি তারা পূর্ব পরিচিত তো তাদের সাথে কথা বললাম, এতটুকুই। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কে অভিযোগ দিয়েছে বা কার জায়গা জমি আমি জানি না কিছু। খুঁটি বসানোর মতো কোনো কিছু আমি দেখিনি। এমনিতে তারা কথা বলছিল তা দেখে আমরা চলে আসি।”

এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহীন বলে, শিক্ষকদের সমস্যার কথা শুনে আমরা সেখানে গিয়েছি। যেহেতু ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলো, তাই সেই ডিপার্টমেন্টের আমার বন্ধু জহিরুল আমাকে বলেছে টিচারদের জমি মাপবে সেখানে যাওয়ার জন্য। জমি মাপা শেষ হচ্ছিলো না, তাই আমি দুইটার দিকে চলে এসেছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা হবে। কেউ যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকে, তাহলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি এ অভিযোগ পেয়েছেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বাজেট বৃদ্ধি করেছে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিক্ষা ও শিক্ষকতার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এজন্য সরকার বাজেট বৃদ্ধি করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলতে উন্নত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই । একটি সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ কথা বলেন। বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে বলেও মন্ত্রী যোগ করেন

৭ মে হোটেল শেরাটনে ‘Bringing Learning to Life: Innovations in Teaching, Learning, and Student Engagement’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সন্তানদের গড়ে তুলতে অভিভাবকরা সর্বোচ্চ ব্যয় করছেন। সরকারও মানব সম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। তাই উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকতার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য সরকার বাজেট বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি গ্রহণ করছে।সরকারের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সরকারি কর্মচারীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইউনিসেফ এর চিফ অফ এডুকেশন দীপা শঙ্কর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

‎চৌদ্দগ্রামে ব্যবসায়ী নয়ন হত্যার ঘটনায় আটক ২

‎চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চাঞ্চল্যকর পান ব্যবসায়ী নয়ন হত্যার ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় নয়নের সহধর্মিণী তাছলিমা আক্তারের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, নয়নের পাশ্ববর্তী বাড়ির নাসির আহমেদ চৌধুরীর ছেলে নুরুল আমিন চৌধুরী প্রকাশ সোহেল, খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রকাশ টিটু।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন বলেন, ‘আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

‎মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টার সময় উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের গাংরা রাস্তার মাথার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বেতিয়ারা গ্রামের আনোয়ার হোসেন নয়ন (৩৫) এর উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহন হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। একই রাতে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেয়ার পথে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

‎বুধবার (০৬ মে) নয়নের সহধর্মিণী তাছলিমা আক্তার বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখসহ ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িসহ গরু ডাকাতি

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়াসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িচালককে বেধে ও মারধর করে ১০টি গরু ডাকাতি করে নিয়ে গেছে ডাকাত চক্র। এসময় গাছের সাথে বেধে চালক ও হেলপারকে গুরুতর আহত করে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বালুজুড়ি নামক স্থানে। তথ্যটি দুপুরে নিশ্চিত করেছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাজশাহীর চারঘাট বাজার থেকে ১০টি গরু বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ঢ-১২-৩৮০০) চট্টগ্রামের মদিনা ঘাট রওনা করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ট্রাকটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বালুজুড়ি নামক স্থানে পৌঁছালে ৮/১০ জনের একদল ডাকাত পিছন থেকে গরু বোঝায় ট্রাকটি ধাওয়া করে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে চালক আক্রাম হোসেনকে কুপিয়ে আহত করে ট্রাকটি ডাকাত দলের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

পরে ডাকাতদল ট্রাকটি উপজেলার চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম আঞ্চলিক সড়কের ফেলনা মোল্লা বাড়ীর সামনে নিয়ে ডাকাতদের বহনকৃত একটি পিকআপে ১০টি গরু নিয়ে চালক আক্রাম হোসেন ও তার সহকারী দেলোয়ার হোসেনকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে চলে যায়।

ভোরবেলায় স্থানীয়রা খালি ট্রাক ও চালকদেরকে গাছে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।

ট্রাক চালক আক্রাম হোসেন বলেন, আমি আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর অনুমান ৩ ঘটিকায় চৌদ্দগ্রামের বালুজুড়ি নামক স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যান এসে আমার গরু বহনকৃত ট্রাকটির সামনে দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে।

এ সময় ৮/১০ জনের একদল ডাকাত দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে কুপিয়ে ট্রাকটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরবর্তীতে তারা ফেলনা মোল্লা বাড়ীর সামনে গিয়ে আমাকে ও আমার সহকারী দেলোয়ারকে গাছের সাথে বেঁধে গরুগুলো তাদের ব্যবহৃত পিকআপে করে নিয়ে চলে যায়।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, সকাল বেলায় ফেলনা গ্রাম থেকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় কে বা কাহারা গাছের সাথে বেঁধে রেখেছে এবং একটি খালি ট্রাকও রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহতদেরকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং খালি ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরে ট্রাকের চালক আক্রাম হোসেন ও হেলপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডাকাত দল তাদের বহনকৃত গরু বোঝাই ট্রাকটি ফেলনা গ্রামে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপে করে ১০টি গরু নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গরুর মালিক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনার পরই পুলিশ লুট হওয়া গরু গুলো উদ্ধার ও অজ্ঞাতনামা ডাকাতদলকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোজাম্মেল পাটওয়ারী (২৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মামলায় মো. বশির (৪৪) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত বশির রহমতপুর আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর বাসার মৃত তাজুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে।

নিহত মোজাম্মেল একই এলাকার ৯৬ নম্বর বাসার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বশির একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ছিলেন। এলাকায় মাদক বিক্রির সময় মোজাম্মেল প্রায়ই তাকে বাধা দিতেন। এক পর্যায়ে মাদক মামলায় পুলিশ বশিরকে গ্রেপ্তার করে।

এতে বশির সন্দেহ করেন, মোজাম্মেল পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন।

পরে জামিনে বের হয়ে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বশির ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ির সামনে মোজাম্মেলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ২১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন ২২ ডিসেম্বর নিহতের মা মরিয়ম বেগম (৫০) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বশিরকে। এ ছাড়া সহযোগী আসামি করা হয় বশিরের ভাই মো. নাছির (৪৫), মো. মামুন (২৫), মো. মহিসন (২৭) ও তাদের মা মনি বেগমকে।

মামলাটি তদন্ত করেন তৎকালীন চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক কামাল। তদন্ত শেষে তিনি ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম জানায়, দীর্ঘদিন বিচারিক কার্যক্রম চলার পর আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারক তার উপস্থিতিতে এ রায় দেন। অন্যদিকে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।

নতুন আঙ্গিকে একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: চাঁদপুরে পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাটে বিশ্বখাল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী প্রস্তুতির সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং কাজের গুণগত মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খাল খনন। জনস্বার্থে এই কাজকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউ রহমান খাল খননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। যা ছিলো একটি আন্দোলন ও বিপ্লব। তবে আমাদের উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য মহৎ। নতুন আঙ্গিকে ও নতুন উদ্যোমে একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এর জন্য সবার সহযোগিতা বিশেষভাবে প্রয়োজন। সেই ধারাবাহিকতায় তার জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশের কয়েকটি স্থানে খালন খনন উদ্বোধন করেছেন। সেই সাথে শাহমাহমুদপুরের এ খালটিও তিনি খননের উদ্বোধন করবেন।

​এ সময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এবং চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিমউল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।

দেবীদ্বারে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল শিকলবন্দি প্রতিবন্ধী যুবকের

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে আনিসুর রহমান (৩৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ছোটনা গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গ্রামের মিন্নত আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় আনিসুর রহমানকে ঘরের ভেতর শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

রাতে তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শিকলবন্দি থাকায় আনিসুর বের হতে পারেননি এবং আগুনে দগ্ধ হন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।

তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।

শরিফুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরের আসবাপত্র পুড়ে যায়, শিকলবন্দি আনিসকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে বাইরে আনা হলেও তাকে হাওপাতালে নেওয়া হয়নি।

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানায়, অগ্নিকাণ্ডে একজন দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।

ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পাঁচটি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযান ও ওয়ারেন্ট তামিল (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর) করার লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম এই অভিযানে অংশ নেয়। পৃথক এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই ডিএম মজিদ, এসআই সৈকত মজুমদার, এএসআই নূর আল-আহসান, এএসআই রতন কুমার মল্লিক এবং এএসআই নাছির উদ্দিন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। তারা হলেন— জিআর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি শশীদল উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে সোলেমান এবং সিআর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি দক্ষিণ তেঁতাভূমি এলাকার জজু মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম। এছাড়া পরোয়ানাভুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন— গোপালনগর এলাকার জামাল মিয়া, মকিমপুর এলাকার ইমন মিয়া এবং মিরপুর এলাকার মোহাম্মদ ফারুক।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানায়, নিয়মিত মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কুমিল্লায় ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ১০১ জন তরুণ-তরুণী

কুমিল্লায় ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ১০১ জন তরুণ-তরুণী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মাত্র ১২০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন কুমিল্লার ১০১ জন তরুণ-তরুণী।

বুধবার কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন কুমিল্লা জেলার নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান। এ সময় নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পুলিশ সুপার জানায়, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ কার্যক্রমে শুরু থেকেই শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রাথমিক বাছাই শেষে কুমিল্লা জেলার যোগ্য প্রার্থীরা শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও পিইটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

পরবর্তীতে নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি “ফেইস ডিটেকশন” ব্যবস্থার মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৪১ জন। পরে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১২ জন প্রার্থী কৃতকার্য হন। তাদের মধ্য থেকে মেধাক্রম ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ১০১ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া আরও ১১ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণা শেষে পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি মহান দায়িত্ব। তিনি নবনিযুক্তদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে।

হোমনায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় ২৭ পিস ইয়াবাসহ উজ্জ্বল সিকদার (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে পৌনে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।

আটকৃত উজ্জ্বল সিকদার উপজেলার মুন্সিকান্দি উত্তর পাড়ার মৃত নোয়াজ আলীর ছেলে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোমনা থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে, এএসআই (নিঃ) সুজন কুমার দে সহ একটি দল মুন্সিকান্দি এলাকার কনু মিয়া মার্কেটের একটি দোকানে অভিযান চালায়। এসময় সন্দেহভাজন হিসেবে উজ্জ্বল সিকদারকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।