All posts by jitu

১৯৭১ এর এই দিনে শত্রুমুক্ত হয়েছিলো নোয়াখালী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

আজ সাত ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। একাত্তরের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালীর মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা, শত্রুমুক্ত হয় নোয়াখালী।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাক হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষনিক জোন এর রাজনৈতিক প্রধান আলী আহম্মদ চৌধুরী সহ অন্যান্য কমান্ডারবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসে এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাক বাহিনী ও রাজাকারদের উপর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডি-জোনের কমান্ডার রফিক উল্যাহ্’র বাহিনী সহ মুক্তিযোদ্ধারা সবাই মিলে যৌথ অভিযান চালিয়ে মাইজদী ভোকেশনাল, নাহার মঞ্জিল, কোর্ট ষ্টেশন, রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড ষ্টোরিজ সহ সব রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসে। বাকি ছিলো শুধু পাকিস্থানি বাহিনীর মূল ক্যাম্প মাইজদী পিটিআই। অন্য সবগুলো ক্যাম্প দখল নেওয়ায় একা হয়ে যায় পিটিআই।

একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল, অন্যদিকে আক্রমন করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে ৩ তলা বিল্ডিং এ রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ বিল্ডিং ভাঙার মতো কোন বিধংসি অস্ত্র ছিলোনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মোটার এনে তা থেকে তিন তিনটা মোটার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্প এর পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর শহর মাইজদীর হেড কোয়ার্টার হানাদার মুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি পাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল উঠে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘‘মুক্ত নোয়াখালী’’। আর বর্তমান সরকার মতায় আসার পর একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানী বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানীরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাটি গাড়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। তাদের সাথে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট। এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্র জনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। শহীদ হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিলো শতাধিক ব্যক্তিকে।

ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।

নোয়াখালীতে তেল কম দেওয়ায় ফিলিং স্টেশন সিলগালা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে তেল কম দেওয়ায় মেসার্স আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের দিঘীরজান এলাকায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রতিনিধিসহ হাজির হন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ। এ সময় বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত পরিমাপক যন্ত্রে প্রতি ১০ লিটার অকটেনে ৪৮০ মিলিলিটার কম তেল পাওয়া যায় এবং ডিসপ্লে নষ্ট অবস্থায় তেল বিক্রি করতে দেখা যায়। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করায় আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ বলেন, পেট্রল পাম্পটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তারা জরিমানার টাকা নগদ পরিশোধ করেছেন। পরবর্তীতে নতুন ডিসপ্লে প্রতিস্থাপন ও মেশিন ক্যালিব্রেশন করে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ডিসপেন্সিং ইউনিট পুনরায় চালু করবে।

হলিউড ছাড়ছেন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

ডেস্ক রিপোর্ট:

হলিউড থেকে বিদায় নিচ্ছেন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েই অভিনেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

হলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তবে এখন সেই সবকিছুই প্রাক্তন। ২০১৬ সালে একটি প্রাইভেট বিমানে তাদের দুজনের মধ্যে তুমুল ঝামেলা হয়। ঘটনাটি পুরোনো হয়ে গেলেও তাদের এই দ্বন্দ্ব আজও রয়ে গেছে।

বিমানে সেই ঝামেলা চলাকালীনই নাকি জোলির গায়ে মদ ঢেলে দেন ব্র্যাড। তাদের সন্তানদের সামনেই এই কুরুচিকর ঘটনা ঘটে বলেও জানা যায়। তারপরেই ব্র্যাডের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করেন অভিনেত্রী। তাদের দুজনের ওয়াইনের ব্যবসা নিয়েও একাধিক ঝামেলা হয়েছে তাদের মধ্যে।

তবে অ্যাঞ্জেলিনার চিরকালের মতো হলিউড ছাড়ার এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নেট পাড়ায় আলোড়ন ফেলেছে। বেলস পালসি রোগে আক্রান্ত এই অভিনেত্রী। সেই কারণেই হলিউড ছাড়ছেন তিনি। তাছাড়াও ব্র্যাডের সঙ্গে তার ঝামেলাও একটি কারণ বলে জানতে পারা যাচ্ছে।

এক সংবাদ মাধ্যমকে অভিনেত্রী জানান, ব্র্যাডের সঙ্গে ঝামেলার পর থেকে তিনি স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারছেন না। আজকাল তার এই বিবাদ নিয়ে খারাপ লাগে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, আমার শরীর স্ট্রেসের কারণে খারাপ হতে শুরু করেছে। আমার ব্লাড সুগার প্রায়ই বাড়ে কমে। আমার বিচ্ছেদের ঠিক ছ’মাস আগে আমি বেলস পালসি রোগে আক্রান্ত হই। হলিউড মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। হলিউডে থাকলে আমি কখনোই স্বাভাবিকভাবে জীবন কাটাতে পারব না।

অভিনেত্রী বলেন তার ছয় সন্তানই তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তাদেরও স্বাধীনভাবে জীবন কাটানোর অধিকার আছে। পিট এবং তার বিচ্ছেদের সময়কালে তিনি মোট ৪টি সিনেমায় কাজ করেছেন। যদিও পিট এই সময় বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন, এবং অস্কারও জিতে নিয়েছেন।

প্রাণ গোপালের স্ত্রীর ২২ ভরি সোনার দাম ২১ হাজার টাকা!

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমপি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, স্ত্রীর ২২ ভরি সোনা রয়েছে। প্রতি ভরি সোনার দাম ধরা হয়েছে ৯৫৫ টাকা। অর্থচ বর্তমান বাজারে সোনার ভরি লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

প্রাণ গোপাল দত্ত হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, বিয়েতে উপহার হিসেবে ২২ ভরি সোনা পেয়েছে তার স্ত্রী জয়শ্রী রায় জয়া। এর দাম ধরা হয়েছে ২১ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি ভরি সোনার দাম পড়েছে ৯৫৫ টাকা।

একই হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নিজের ২৫ ভরি সোনা থাকার কথা উল্লেখ করেন প্রাণ গোপাল। যার দাম ধরা হয় চার লাখ ৫২ হাজার টাকা। সে হিসেবে তার নিজের মালিকানায় থাকা সোনার ভরির দাম পড়েছে ১৮ হাজার ৮০ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি কুমিল্লা শাখার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান জানায়, আজকের (৬ ডিসেম্বর) বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৪ হাজার টাকা।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ মারা যান। পরে একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে ওই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। এবারও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবার ১১০ ইউএনও বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১১০ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলির জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রস্তাব দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ১১০ জন ইউএনও বদলির জন্য প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। এখনো কমিশন অনুমোদন দেয়নি।

এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সব ইউএনও বদলির জন্য নির্দেশনা দিয়ে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয় ইসি।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারা দেশে প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর)। সারা দেশে ১৯৮৫ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৭৩১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কুবিতে ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ফিন্যান্স ও বাংলা বিভাগ

কুবি প্রধিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টের (ছাত্র-ছাত্রী) ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছাত্র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ এবং ছাত্রী ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলা বিভাগ।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে উত্তেজনাপূর্ণ দুটি ম্যাচে এ জয় পায় দলগুলো। এতে ছাত্র ক্যাটাগরিতে রানার আপ হয় মার্কেটিং বিভাগ এবং ছাত্রী ক্যাটাগরিতে রানার-আপ হয় লোকপ্রশাসন বিভাগ। প্রতিযোগিতায় ছাত্রদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের খেলোয়াড় মোহাম্মদ রাশেদ এবং ছাত্রীদের মধ্যে লোকপ্রশাসন বিভাগের খেলোয়াড় মানসুরা আফরিন।

খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রার্নাস আপ দলের সদস্যদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম আবদুল মঈন। এসময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকে। ক্রীড়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আজকে ভলিবল টুর্নামেন্ট আমাদের অন্যতম অর্জন। বিশেষ করে আমাদের ছাত্রীদের। আমরা এরই ধারাবাহিকতায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যাতে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্ধ বৃদ্ধি করেছি। আমরা শীঘ্রই একটি ভলিবল গ্রাইন্ড পেতে যাচ্ছি। এছাড়া বাস্কেটবল গ্রাউন্ড এবং মাঠের পশ্চিম পাশে একটি গ্যালারি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ স্কলারশিপে অন্তর্ভুক্ত করেছি। যেখানে ১০ জন কে দেওয়ার কথা ছিল সেটি আমি ১৮ জন করে দিয়েছি।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর শেখ কামাল কাপ আন্তঃবিভাগ ভলিবল (ছাত্র-ছাত্রী) প্রতিযোগিতা-২০২৩ এর উদ্বোধন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় ছাত্র ক্যাটাগরিতে ১৬টি এবং ছাত্রী ক্যাটাগরিতে ১২টি বিভাগ অংশগ্রহণ করে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতি ও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনার পরবর্তী তারিখ আগামী ১৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ আদেশ দেন।

ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মামলাটিতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মো. ইউনূসকে অব্যাহতি ও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। বিচারক তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে হাজিরা দিতে হবে। এছাড়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়া পরবর্তী তারিখ আগামী ১৪ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

গত ৬ জুন ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অন্যরা হলেন-এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও শাহজাহান।

৮ মে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা বাতিলের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

গত বছরের ১৭ আগস্ট বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলা বাতিলে ইউনূসের আবেদনে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন। এরপর ড. ইউনূস আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

রাজধানীর মানিকনগরে একুশে এক্সপ্রেসের ৩ বাসে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর মানিকনগর চৌরাস্তা এলাকায় একুশে এক্সপ্রেস পরিবহনের তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট কাজ করেছে।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে আগুন লাগে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।

তিনি জানান, মানিকনগর চৌরাস্তা এলাকায় একুশে এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে আগুন লাগার খবরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, দুর্বৃত্তরা একুশে এক্সপ্রেসের তিনটি বাসে আগুন দেয়। এরমধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ও একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ৫টা ২৬ মিনিটে সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ করে।

যেভাবে এক টুকরো কাপড় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠল

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলা এবং পরবর্তীতে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বোমা হামলার কারণে ফিলিস্তিনে মৃত্যু ও ধ্বংসের অনেক গল্প বেরিয়ে এসেছে।

ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে বিক্ষোভ ও মিছিল। ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে এসব মিছিলে বিক্ষোভকারীদের ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহ নামক বিশেষ ধরনের স্কার্ফ পরতে দেখা যায়।

ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাতে কেউ এই স্কার্ফটি তাদের গলায় জড়ায়, কেউবা মাথায় বাঁধে।

এটি স্কার্ফ অন্যান্য কাপড়ের চাইতে এতটাই আলাদা যে চাইলে এর থেকে নজর সরানো কঠিন। এ কারণে এই স্কার্ফটির গুরুত্ব সাধারণ সুতির কাপড়ের চাইতে অনেক অনেক বেশি।

বেশিরভাগ ফিলিস্তিনিদের কাছে কেফিয়াহ হল তাদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক। এটি এক ধরনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হাতিয়ার যা গত ১০০ বছরে ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

এমনকি এই স্কার্ফকে ফিলিস্তিনের ‘বেসরকারি পতাকাও’ বলা হয়। কিন্তু কেফিয়াহ কোথা থেকে এসেছে? এই বিশেষ স্কার্ফের পেছনের গল্প কী? কখন এটি এতটা প্রতীকী হয়ে উঠল এবং আজ এই স্কার্ফ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

এই পোশাকের উৎপত্তি ঠিক কোথায় তা একদম নিশ্চিত করে বলা যাবে না। অনেক ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্কার্ফ ব্যবহারের চর্চা শুরু হয়েছিল খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে ইরাকের কুফা শহর।

সেই শহরের নাম থেকেই স্কার্ফটির নাম হয়ে যায় কেফিয়াহ। কারও কারও মতে এই স্কার্ফ আরও প্রাচীন আমল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্ভবত ইসলাম বিস্তার লাভের আগেও কেফিয়াহর অস্তিত্ব ছিল।

সত্য যাই হোক না কেন, বাস্তবতা হল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে কেফিয়াহর ব্যবহার বেড়েছে। তবে এর পেছনের কারণ সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নয়, বরং বাস্তবিক কারণে এর ব্যবহার বেড়েছে।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে, কৃষক এবং আরব বেদুইনরা (যাযাবর আরব) সূর্যের প্রচণ্ড তাপ, গরম বাতাস, মরুভূমির বালি এবং ঠাণ্ডা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কেফিয়াহ পরিধান করতেন।

অবশ্য শহরগুলোয় ফিলিস্তিনিদের এই স্কার্ফ তেমনটা পরতে দেখা যায় নি। শহুরে মানুষেরা আরও বেশি ‘কেতাদুরস্ত ও মার্জিত’ পোশাক পরতে পছন্দ করতেন।

সে সময় শহরে ‘ফেজ’ নামক লাল রঙের টুপি পরার প্রথা প্রচলিত ছিল, যা কিনা টারবুশ নামেও পরিচিত। এই টুপিটি কিছুটা ঝুড়ির মতো যার মাঝ বরাবর একটি ট্যাসেল ঝোলানো থাকে।

এই টুপিটি মূলত অটোমান সাম্রাজ্যের শাসক দ্বিতীয় মাহমুদের শাসনামলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৯৩০-এর দশকে ফিলিস্তিনি সমাজে কেফিয়ার একটি আলাদা অর্থ হয়।

তখন থেকে কেফিয়াহর গুরুত্ব বাড়ার সাথে সাথে এর ব্যবহারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৩০-এর দশকে, ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলো ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর লিগ অফ নেশনস ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ অঞ্চলের প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্রিটেনকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ফিলিস্তিন ১৯২০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে ছিল।

এই সময়কালে,ব্রিটেনের আধিপত্য স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। কারণ তাদের ধারণা ছিল যে ব্রিটিশরা ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক আন্দোলন জায়নবাদী বা ইহুদিবাদী প্রকল্পকে সমর্থন করছে।

ইউরোপে যখন ইহুদিদের ওপর অত্যাচার বেড়ে যায়, তখন থেকে বিপুল সংখ্যক ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আসতে শুরু করে।

তখন থেকে ওই অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী আরবদের বিদ্রোহ শুরু হয়, যা ‘মহান আরব বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।

এই বিদ্রোহ ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তিন বছর স্থায়ী হয়েছিল এবং এই সময়কালে এই অঞ্চলে ব্যাপক সংঘাত- সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ওই সংগ্রামে কেফিয়াহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইতিহাসবিদ জেন টাইনানের সারা বিশ্বে কেফিয়াহর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ফিলিস্তিনিরা ব্রিটিশদের উপস্থিতির কারণে খুব হতাশ হয়ে পড়ছিল। তখন কারা কারা প্রতিরোধ করছিল তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল না। এতে বিদ্রোহীদের পক্ষে চলাফেরা করা ও তাদের কার্যকলাপ চালানো সহজ হয়ে যায়। তখন থেকে কেফিয়াহ বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। এবং এই স্কার্ফটি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে।

১৯৩৮ সালে, বিদ্রোহী নেতারা শহরে বসবাসকারী সমস্ত আরবদের কেফিয়াহ পরিধান করার নির্দেশ দেন।

বলা হয় যে ব্রিটিশরা পরে এই স্কার্ফটি নিয়ে এতটাই বিচলিত হয়েছিল যে তারা কেফিয়াহ নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা তাতে সফল হয়নি।

আ সোশিও পলিটিকাল হিস্ট্রি অফ কেফিয়াহর লেখক অনু লিঙ্গালার মতে, কেফিয়াহ একটি কার্যকর সামরিক কৌশলের অংশ ছিল, কিন্তু এটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ প্রদর্শনের প্রতীকও হয়ে ওঠে।

তার মতে, ১৯৩৮ সালে এই স্কার্ফটি ফিলিস্তিনি সংস্কৃতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। একে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতির একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসাবেও বিবেচনা করা হয়। কারণ তাদের নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকলেও নতুন বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী অভিযানে তারা সব পার্থক্য ভুলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

জেন টাইনানের মতে, সেই সময় থেকে কেফিয়াহ ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ন্যায়বিচার, ঐক্য এবং সংহতির একটি দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠে। এটা ছিল বিদ্রোহীদের বলার একটা উপায় যে আমরা সবাই তোমাদের সাথে আছি।

প্রকৃতপক্ষে, কেফিয়াহ বিভিন্ন রঙ এবং ডিজাইনের হয়। এরমধ্যে সাদা-কালো কেফিয়াহ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

এর তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হল: জলপাই পাতা, লাল রং ও কালো রেখা।

জলপাই পাতা হল এই এলাকার জলপাই গাছের প্রতীক এবং এই পাতা তাদের জমির সাথে শহরের সংযোগকে প্রতিনিধিত্ব করে।

লাল রঙ ফিলিস্তিনি জেলেদের এবং ভূমধ্যসাগরের সাথে তাদের সংযোগকে প্রতিনিধিত্ব করে।

কালো রেখা ফিলিস্তিনের প্রতিবেশী অংশীদারদের সাথে ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য পথের যোগাযোগকে প্রতিনিধিত্ব করে।

১৯৩০ সালের বিদ্রোহের পর, কেফিয়াহ ফিলিস্তিনি জাতি পরিচয়ের একটি অপরিহার্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই আন্দোলন ‘নাকবা’ অর্থাৎ ‘মহা বিপর্যয়’-এর পরে গতি লাভ করে।

ওই সংঘাতের ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। সংঘাত থেকে পালাতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে।

এর ফলশ্রুতিতে ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে গঠিত হয় ইসরাইল। ‘নাকবা’কে ফিলিস্তিনের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখজনক দিন বলে বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু কেফিয়াহ ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিকভাবে তেমন একটা পরিচিত হয়ে ওঠেনি।

বৈশ্বিক স্তরে, কেফিয়াহ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইয়াসির আরাফাতের কারণে। যিনি নিজেই ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের মুখ হয়ে উঠেছিলেন।

কেফিয়াহ ছাড়া ইয়াসির আরাফাতের ছবি খুব কমই দেখা যায়। সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননে যুদ্ধ করার সময় তিনি এটি পরেছিলেন।

১৯৭৪ সালে যখন তিনি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, সে সময় তিনি কেফিয়াহ পরেছিলেন।

২০ বছর পর যখন তাকে অসলোতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়, তখনও তাকে এই স্কার্ফ পরা অবস্থায় দেখা যায়।

জেন টাইনানের মতে, যেকোনো রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়ার সময় তিনি কেফিয়াহ পরতেন। তিনি তার ডান কাঁধে এই স্কার্ফটি ত্রিভুজাকার আকৃতিতে বিশেষভাবে ভাজ করতেন যা ১৯৪৮ সালের আগের ফিলিস্তিনের মানচিত্রের মতো মনে হতো।

নির্বাচন কমিশনে ৩৩৮ ওসির বদলির তালিকা

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে দেশের সব থানার ওসিদের বদলির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার প্রেক্ষিতে ইসিতে ৩৩৮ থানার ওসির বদলির তালিকা পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।

বুধবার নির্বাচন কমিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানো হয়। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব থানার ওসিদের বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের বেশি চাকরির মেয়াদ হয়েছে, তাদের অন্যত্র বদলি করতে গত ৩০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে চিঠি দেয় ইসি। তার প্রেক্ষিতে আজ (বুধবার) ৩৩৮ থানার ওসির বদলির প্রস্তাব পাঠাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নির্বাচন কমিশন ওই প্রস্তাব অনুমোদন করলে বদলির আদেশ জারি করবে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরির লক্ষ্যেই মূলত এ রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েকজন ডিসি ও এসপিকে প্রত্যাহার করার জন্য বলেছে ইসি। তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী পক্ষপাত ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সামনে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে- বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যদের বেশিরভাগই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। মাঠপ্রশাসন ও পুলিশের অনেক কর্মকর্তা একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে তাদের অনেকের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে ইসি। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, বাছাই ১-৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।