All posts by jitu

ইঞ্জিঃ আব্দুস সবুর নীতি আদর্শে উদার নেতার পরিচয় বহন করে : ব্যারিষ্টার মহিউদ্দিন আহমেদ

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি উদারনৈতিক মতাদর্শের সংগঠন হিসেবে নেতাকর্মীদের ধারণ করার জায়গা করে দিয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গত ১৫ বছর দাউদকান্দির ত্যাগী-আদর্শবাদী পোড়খাওয়া নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হামলা মামলার স্বীকার হতে হয়। দলীয় রাজনীতির অন্তরালে পারিবারিক রাজনীতির কালো থাবায় তার সকল নেতাকর্মীরা হামলা মামলার শিকার হওয়ার পরও তাদেরকে প্রতিশোধ না নিয়ে সকল সাথে নিয়ে কাজ করার আহবান করেন ইঞ্জঃ আব্দুস সবুর। তাঁর এ ধরনের নীতি ও আদর্শ একজন উদার নেতার পরিচয় বহন করে।

মঙ্গলবার(৫ডিসেম্বর) দাউদকান্দির পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কাউসিলারদের আয়োজনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডঃ আহসান হাবিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ইঞ্জিঃ মহিউদ্দিন শিকদারের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবঙ কুমিল্লা -১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিঃ আব্দুস সবুর।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. আব্দুল মান্নান জয়, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, পৌর মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসা: পারুল আক্তার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জিএস সুমন সরকার প্রমূখ।
জাকির হোসেন হাজারী

ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে জমকালো নবীন বরণ ও বৃত্তি প্রদান

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল:

কুমিল্লা ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে জমকালো আয়োজনে অনার্স ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার বৃত্তি প্রদান অনুুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় কলেজ মিলনায়তনে উক্ত অনুুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান শাহীন।

বিশেষ অতিথি হিসবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার, কলেজ উপাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক কামরুর রশীদ ও সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আবু জাহেদ এবং কলেজ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থিরা সহ আরো অনেকে।

অনুুষ্ঠান শুরুর পূববর্তী সময় থেকেই নবীনদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস আঙ্গিনা।অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতেই বিপুল করতালিতে অতিথিদের অভিবাদন জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কলেজ মিলনায়তনে কানায় কানায় পূর্ণ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের ৭টি বিভাগ ও ডিগ্রি শাখার নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী দিনে জাতির কর্ণদার। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।কারণ নিজের মধ্যে এসব গুনাবলী না থাকলে অন্যকে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে- শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম মজুমদার বলেন, শিক্ষার জন্য এসে সেবার জন্য বেরিয়ে যাওয়ার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হতে পারলেই সুনাগরিক হওয়া সম্ভব।এক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করাই হতে পারে নবীনদের একমাত্র আদর্শ।

নবীনদের উদ্দেশে প্রতিষ্ঠান অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে আগামীতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি মেধাবীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে মহানুভবতার পরিচয় দেয়ায় সাবেক অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

অতিথিদের জ্ঞানগর্ব আলোচনা শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে পরিবেশন করা হয় গান, কবিতা, আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতা।

অনুষ্ঠানে অনার্স ও ডিগ্রি শাখার ২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার বৃত্তি তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভালো সিজিপি নিয়ে অনার্স কমপ্লিট করা ৭ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে রাজনীতিবিদদের প্রতিকৃতি : ইঞ্জিঃ আবদুস সবুর

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) আসনের আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, আওয়ামী লীগের জন্মই হয়েছে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আন্দোলন যেমন জানে আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নও কিভাবে করতে হয় সেটাও জানে।

স্বাধীনতা যেমন আওয়ামী লীগের কাছে নিরাপদ, উন্নয়নও আওয়ামী লীগের কাছে নিরাপদ। তার প্রমান জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি আজকে সারা বিশ্বে রাজনীতিবিদদের প্রতিকৃতি হিসেব গণ্য হয়েছেন। এটা আমাদের আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের গৌরবের বিষয়। আমাদের গৌরব ধরে রাখতে দলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি বাজারস্থ উপজেলা আ.লীগের প্রধান কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপত মুক্তিযোদ্ধা মো.শওকত আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন ভূইয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ড.আবদুল মান্নান জয়, সদস্য তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন সিকদার, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পলাশ, কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাঃ পারুল আক্তার, তিতাস উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি মজিবুর রহমান,কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সদস্য আলহাজ্ব মো.নাছির উদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন আহম্মেদ।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মো.রাজা মিয়া সওদাগর, তিতাস উপজেলা আ.লীগের সাবেক সদস্য সচিব দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মো.আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, মো. শাহ আলম শান্তি, মোয়াজ্জেম হোসেন আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আলম সরকার,স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মালেক মোল্লা,ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক মো.মোসলেম মিয়া সরকার,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো.মোস্তফা কামাল মোল্লা,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো.ছাইদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মীর শওকত লিটন,সহ প্রচার সম্পাদক মো.মোবারক হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো.সারওয়ার হোসেন বাবু, কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.শের-ই- আলম, কড়িকান্দি সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ, সাতানী ইউপি চেয়ারম্যান মো.শামসুল হক সরকার, জগতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.মজিবুর রহমান,ভিটিকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আহমেদ, নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকা,জিয়ারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.আলী আশরাফ,মজিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলম সরকার,
কলাকান্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার,নারান্দিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাহউদ্দিন,
কড়িকান্দি ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আবু ইউসুফ চিশতী, সাধারণ সম্পাদক মো.ছাইদুর রহমান মেম্বার,জগতপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক টিটু,বলরামপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো.ছাদেক পাঠান,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হোসেন,কলাকান্দি ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ মো.গিয়াস উদ্দিন,ভিটিকান্দি ইউনিয়ন আ.লীগের সিনিয়র সহসভাপতি কবির সিকদার,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো.শহিদুল্লাহ সরকার,নারান্দিয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.মজিবুর রহমান শান্তি,জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো.আজমল সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের,মজিদপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো.মোস্তাক আহমেদ ভূইয়া,উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুকবল মাহমুদ প্রধান,নাজমূল হাসান কিরণ,
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো.কামাল পারভেজ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.নজরুল ইসলাম,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একেএম কামরুল হাসান তুষার,সাধারণ সম্পাদক খায়রুল খন্দকার রুবেল, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তারসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মতলবের মায়া পুত্র দীপু চৌধুরীকে নিয়ে অভিনেতা শাকিব খানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এর জৈষ্ঠ পুত্র ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদুল হোসেন চৌধুরী (দীপু) গত ২ ডিসেম্বর শনিবার চলে যান না ফেরার দেশে। রবিবার দুপুরে মতলবের মাটিতে জানাজা ও সোমবার ঢাকায় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে শায়িত করা হয় তাকে।

দীপু চৌধুরীর এমন মৃত্যু পরিচিত অপরিচিত সহ আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধব সবাইকে কাঁদিয়েছে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন আবেগঘন কথা। সাজেদুল হোসেন দীপু চৌধুরীর সাথে কাটানো স্মৃতিময় আবেগঘন কিছু কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ চলচিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেন-

আমার বন্ধু দিপু . . . কোন শব্দে তোকে নিয়ে লিখবো কোন ভাষায় তোর পরিবারকে সান্ত্বনা জানাবো ভেবে পাচ্ছি না। একদিন আমাদের সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে এটাই নির্মম সত্য। কিন্তু তুই এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবি সেটা আমার চিন্তার ঊর্ধ্বে ছিল।

এইতো কিছুদিন আগে তোর অফিসে নিয়ে গেলি, তোর সন্তানের এনিমেটেড সিনেমার কাজ দেখালি; আগামীতে কত কি করতে চাস সেইসব স্বপ্নের কথাগুলো বললি। সেই তুই হঠাৎ করে সবাইকে চিরদিনের জন্য ছেড়ে চলে গেলি! তুই নেই সেটা মানতে এখনো আমার কষ্ট হচ্ছে।

আমি যেখানে থাকতাম কিছুদিন পর পর ফোন করে খবর নিতি। কেমন আছি কবে আসবে কবে দেখা হবে কত কিছু জানতে চাইতি। সেই তোকে যখন মর্গে গিয়ে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল একটু পরেই উঠে দোস্ত বলে ডাক দিবি। যেমনটা দেখা হলেই তোর বন্ধুত্ব আর ভ্রাতৃত্বের পরম ভালোবাসা আমি অনুভব করতাম।

যে বনানীর রাস্তা দিয়ে আমরা বহুবার একসঙ্গে যাতায়াত করেছি, সেখানে তোকে চিরদিনের জন্য সমাহিত করা হয়েছে। দূর থেকে শুধু তোর নিথর দেহকে দেখেছিলাম। তোর চলে যাওয়ায় আমি যে স্বজন হারানোর শূন্যতা অনুভব করছি সেটা বলে বোঝানোর উপায় নেই।

বন্ধু হিসেবে তোর ভালোবাসার শূন্যতা আমার জীবনে কখনো পূরণ হবে না। কারণ তুই যে কতো বড় মনের অধিকারী এবং ভালো মানুষ ছিলি সেটা তোর শেষ বিদায়ে মানুষের ঢলই বলে দেয়। যতদিন বেঁচে থাকবো তোকে খুব মিস করবো রে দিপু। ওপারে অনেক ভালো থাকিস বন্ধু আমার। তোর বিদেহী আত্মার শান্তি ও দোয়া কামনা করি। মহান আল্লাহ তোকে জান্নাতবাসী করুন।

হামাসের টানেল নেটওয়ার্ককে ডুবিয়ে দিতে পানির পাম্প বসিয়েছে ইসরাইল

ডেস্ক রিপোর্ট:

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা টানেল নেটওয়ার্ককে সমুদ্রের পানি দিয়ে ডুবিয়ে দিতে চায় ইসরাইল। যাতে এসব টানেলে লুকিয়ে থাকা হামাস যোদ্ধাদের বাইরে বের করে আনা যায়। এই লক্ষ্যে দেশটি এরই মধ্যে বিশাল সেচ ব্যবস্থার জোগাড় করে ফেলেছে।

গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই ইসরাইল এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। এরই মধ্যে তারা সমুদ্র থেকে পানি টেনে আনার জন্য গাজা আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের পাশে অন্তত পাঁচটি পানির পাম্প স্থাপন করেছে। যেগুলো প্রতি ঘণ্টায় কয়েক হাজার ঘনমিটার পানি বয়ে আনতে পারবে। সেই হিসাবে একবার পানি টানা শুরু করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাজার টানেলগুলো পানিতে ভরে যাবে।

তবে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত নয় যে, ইসরাইল সব জিম্মিকে মুক্ত করার আগেই এসব পাম্প ব্যবহার করবে কিনা। কারণ এখনো হামাসের কাছে শ’খানেক ইসরাইলি জিম্মি রয়ে গেছে। হামাস জানিয়েছে, এসব জিম্মি টানেলের ভেতরে সুরক্ষিত অবস্থানে রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, টানেলগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলাটা ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি করতে গিয়ে দেশটি নতুন কোনো পদ্ধতির আশ্রয় নিতেই পারে। তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী হামাসের সক্ষমতাকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে বিভিন্ন কৌশলে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন সামরিক কৌশল ও যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করছে।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকার গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রকে এ পরিকল্পনার বিষয়ে জানায়। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতদূর এগিয়েছে, সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তিনি।

তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইসরাইল এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দেশটি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।

আদালত-বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইজিপিকে চিঠি

ডেস্ক রিপোর্ট:

সারাদেশের সব আদালত-ট্রাইব্যুনাল এবং বিচারকদের গাড়ি ও বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. মশিয়ার রহমানের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা ও জেলা জজ আদালত, খুলনায় বোমা হামলা হয়েছে।

এর আগে কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় বিচারপ্রার্থীকে হত্যার ঘটনা ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিতে সারাদেশের বিচারকরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দেশের বিচার ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ, বিচারকদের বহনকারী গাড়ি এবং বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

চিঠিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সারাদেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ এবং বিচারকদের বহনকারী গাড়ি ও বাসভবনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছেন। এমতাবস্থায় সারাদেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ, বিচারকদের বহনকারী গাড়ি এবং বাসভবনে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা ও পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স প্রদানসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের সুনির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। গেল এক মাসে বিএনপির কত নেতাকর্মী আটক হয়েছেন? বলা হচ্ছে তাদের অনেকেই কারাগারে মারা গেছেন। এ ছাড়া মুখোশপরা বাহিনীও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করছে। এ অবস্থায় মানবাধিকার পরিস্থিতি আপনি কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনি কি ভুলে গেছেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে আমাদের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছিল। আমাদের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ভুয়া মামলা দায়ের করেছিল তারা, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সেগুলো আপনারা কি ভুলে গেছেন?

২৫ হাজার ভুয়া মামলার বিচার করেছেন কি না, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব মামলার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল না। এ কারণে এর অনেকগুলোই বাতিল হয়ে গেছে। ২৩ জুলাই থেকে আজকের তারিখ পর্যন্ত দৈনিক গড় গ্রেপ্তার হলো ১ হাজার ৯৫৬ জন। আর প্রতিদিন প্রায় সমানসংখ্যকই জামিন পাচ্ছেন। আমি মনে করি, যারা অপরাধ করেছেন, তারাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিনা অপরাধে, বিনা পরোয়ানায় আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আপনি সেই প্রমাণ অবশ্যই দিতে পারবেন না।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ কিংবা র‍্যাব যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তারা অগ্নিসংযোগ করেছেন। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারা আমাদের কত নেতাকে হত্যা করেছেন, সেগুলো বুঝি মানবাধিকারের পর্যায়ে পড়ে না! এগুলোকে যদি মানবাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসা হতো, তাহলে তার একটি সদুত্তর আপনারা পেতেন।

এ সময়ে বিএনপিকে প্রধান বিরোধী দল বলায় আপত্তি তুলে মন্ত্রী বলেন, তারা প্রধান বিরোধী দল না। জাতীয় সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তারা একটি রাজনৈতিক দল, বলুন।

২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘাতের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেদিন তারা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ঢুকে গিয়েছিলেন, যা আপনাদের ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। সেগুলো তো এক-দুজন করেননি, কয়েক হাজার লোক সেখানে ছিলেন। তারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ভেতরে ঢুকে পড়েন, পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে পড়েন। তারা পিটিয়ে পিটিয়ে পুলিশ ও আনসারকে হত্যা করেন। তাদের হামলায় সাংবাদিকরা পুলিশ হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে তাদের পেটানো হয়।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সভায় আমাদের নারী কর্মীরা যাচ্ছিলেন, তাদের পৈশাচিকভাবে পেটানো হয়। সেগুলো দেখলে আপনার চোখে জল এসে যেতো। প্রশ্ন করার সময় সেগুলো তুলে ধরলে আমার মনে একটু প্রশান্তি আসবে যে, আপনি (আপনারা) একদিকে কথা বলেন না। আপনার চোখ চতুর্দিকে খোলা রাখলে আরও সুন্দর করে প্রশ্ন করতে পারবেন।

সাজা পাওয়া কুমিল্লার সেই বিচারকের আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

আদালত অবমাননার দায়ে হাইকোর্টে এক মাসের সাজাপ্রাপ্ত কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সোহেল রানা আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ক্ষমার আবেদনে তিনি বলেছেন, আমাকে ক্ষমা করে সাজা থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন ভালো বিচারক হওয়ার সুযোগ দিন।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতে বিচারকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও শাহ মঞ্জুরুল হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট রাফিউল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।

এর আগে, গত ২১ নভেম্বর কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।একইসঙ্গে এই দিন পর্যন্ত হাইকোর্টের সাজার রায় স্থগিত থাকবে বলে আদেশে বলা হয়।

গত ১২ অক্টোবব সন্ধ্যায় কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানার সাজার রায় ২০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তিনি তার খাস কামরায় এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের সাজার আদেশের পর জামিন আবেদনের পাশাপাশি চেম্বার আদালতের কাছেও একটি আবেদন নিয়ে যান বিচারক সোহেলের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। তখন চেম্বার আদালত তার খাস কামরায় বসেই সাজা স্থগিত করে আদেশ দেন।

এর আগে, একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালত অবমাননার দায়ে বিচারক মো. সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। কিন্তু ৩ ঘণ্টা পর দুপুরে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক আদালত প্রাঙ্গণে কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হলেও আইনের দিক থেকে এখানে কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে জানান আইনজীবীরা।

বিচারকের আদালত অবমাননার প্রেক্ষাপট

মামলার নথি থেকে জানা যায়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। মামলার কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে মামুন-রিয়া দম্পতির করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। একইসঙ্গে মামলার কার্যক্রম চার মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ৬ মার্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এ স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা গত ১০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগ গঠন করেন।

উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে মামলার কার্যক্রম চালানো এবং অভিযোগ গঠন করায় বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে অভিযোগ করেন আসামি মামুন চৌধুরী।

গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট এক আদেশে বিচারক সোহেল রানাকে তলব করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করার বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে ২১ আগস্ট তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তিনি হাইকোর্টে হাজির হন। পরবর্তী সময়ে জবাব দাখিল করেন। তবে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৮ আগস্ট সোহেল রানার প্রতি আদালত অবমাননার স্বপ্রণোদিত রুল দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ৯ অক্টোবর তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত অবমাননার রুলের পর গত ৩১ আগস্ট বিচারক সোহেল রানা কুমিল্লার সেই মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রত্যাহার করেন। হাইকোর্টের ধার্য তারিখে হাজির না হয়ে তিনি সময়ের আবেদন জানান। হাইকোর্ট ১২ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন।

সে অনুযায়ী বিচারক সোহেল রানা হাইকোর্টে হাজির হন এবং আদালত অবমাননার বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ না করে হাইকোর্ট কারাদণ্ড দেন এবং জরিমানা করেন।

১০ ডিসেম্বর থেকে ৪৬তম বিসিএসের আবেদন শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট:

সর্বোচ্চ পদ নিয়ে ৪৬তম বিসিএসসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি। এই বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে ৩ হাজার ১৪০টি ফাঁকা পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১০টি বিসিএসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি ক্যাডার পদ।

মঙ্গলবার পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বিসিএসে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের আবেদন ফরম পূরণ ও ফি জমাদান কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর। সেদিন সকাল ১০টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলবে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফি জমা দেওয়া যাবে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের আগে বা পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

এই বিসিএসে সর্বোচ্চ সংখ্যায় প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডার, ক্যাডারের প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল পদে নিয়োগ দেওয়া। এসব শূন্য পদের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪টি। এছাড়া অন্যান্য ক্যাডার পদ মিলিয়ে এই বিসিএস থেকে মোট ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি টেস্ট ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও নির্দেশনা যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে ৩৪তম বিসিএসে ২ হাজার ১৫৯ জন, ৩৫তম বিসিএসে ১ হাজার ৮০৩, ৩৬তম বিসিএসে ২ হাজার ১৮০, ৩৭তম বিসিএসে ১ হাজার ২২৬, ৩৮তম বিসিএসে ২ হাজার ২৪, ৪০তম বিসিএসে ১ হাজার ৯২৯ ও ৪১তম বিসিএসে ২ হাজার ৫২০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া ৪৩তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জন, ৪৪তম থেকে ১ হাজার ৭১০ ও সর্বশেষ ৪৫তম থেকে ২ হাজার ৩০৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৩৯তম ও ৪২তম বিসিএস দুটি ছিল চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস।

এবারের নির্বাচন ভাগাভাগির নির্বাচন : রুহুল কবির রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভাগাভাগির নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, দুয়েকদিনের মধ্যে তাদের আসন ভাগাভাগি শেষ হয়ে যাবে। আসলে এটি হচ্ছে ভাগাভাগির নির্বাচন। তারা যাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে, আর তাদের তথাকথিত জোটের যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদেরকে হালুয়া রুটির কিছু অংশ দিয়ে ৭ জানুয়ারি তারা একটা নির্বাচনী ফলাফলের ঘোষণা দেবেন। সেটি পাঠ করবে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। সেই কথাটাই বলার চেষ্টা করছেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এখানে জনসাধারণ কোনো ফ্যাক্টর নয়। এখানে জনসাধারণের ইচ্ছাও কোনো ফ্যাক্টর নয়। ফ্যাক্টর হচ্ছে শেখ হাসিনার ইচ্ছা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে চান এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে চান, এটাই হচ্ছে বড় কথা। এজন্য নির্বাচন প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করছেন ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন গংরা। এখানে জনসাধারণের সঙ্গে কমিটমেন্ট ও নীতি-নৈতিকতা এগুলোর কোনো কিছুর দরকার নেই। এগুলোকে তারা কথার কথা বলে মনে করেন।

সারা দেশে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ জনের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৫টি। এজহার নামীয়সহ অজ্ঞাত এক হাজার ৩৯৫ জনের বেশি কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মোট ৬৫ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

রিজভী বলেন, গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এর চার/পাঁচ দিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মোট মামলা হয়েছে ৫৩৪টির বেশি। এই সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ১০৮ জনের বেশি। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। এর মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

সূত্র : ঢাকাপোষ্ট