All posts by jitu

চান্দিনায় নৌকার সমর্থকদের হামলায় ৩ সাংবাদিকসহ ১৭ জন আহত 

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় নৌকা সমর্থকদের পৃথক হামলায় ৩ জন সাংবাদিকসহ ১৭জন আহত হয়েছেন। এসময় একজন সাংবাদিকের একটি মোবাইল ও আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয় নৌকার সমর্থকরা। গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর ও কালিয়ারচরে এসব সংঘর্ষ হয়। আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক মুক্ত খবরের চান্দিনা প্রতিনিধি মো. সোহেল রানা, দৈনিক যুগান্তরের মো. আব্দুল বাতেন ও নয়াদিগন্তের মো. জাকির হোসেন। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ও বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকালে চান্দিনা উপজেলা সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদর ঘুরে মাধাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুরে আসলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটুর গণসংযোগের মুখোমুখি হয়। এসময় প্রাণ গোপালের মিছিল থেকে টিটুর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নেতৃত্ব দেন উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন সরকার।

যুগান্তরের চান্দিনা প্রতিনিধি আবদুল বাতেন জানান, আমরা নিউজ কাভার করার জন্য নৌকার প্রার্থী প্রাণ গোপালের গাড়িবহরের পাশে থাকি। হোসেনপুর বাজারে নৌকার মিছিল চলাকালে ঈগল সমর্থকদের গণসংযোগ করতে দেখা যায়। এ সময় ঈগল সমর্থকদের ওপর হামলার পর সংঘর্ষ বাধে। আমরা সে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুমন সরকারের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়। বেদম মারধরের শিকার হন মুক্তখবরের সোহেল রানা।
এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের কালিয়ারচর এলাকায় ঈগল প্রতীকের প্রচারণার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটুর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৪ কর্মীকে আহত করেন নৌকার সমর্থকরা। উভয় হামলার ঘটনায় নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, আমরা কোনো সংঘর্ষের খবর পাইনি। দুই প্রার্থীর সমর্থক ও সাংবাদিকদের সাথে ভুল বোঝাবুঝির খবর জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘বঙ্গবন্ধু কন্যার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি’

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন, শাহরাস্তি:

শাহরাস্তিতে (ট্রাক) প্রতিকের (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আলহাজ্ব মো: শফিকুল আলম ফিরোজের বিশাল জনসভা সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টায় নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তুষার এর পরিচালনায় বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শফিকুল আলম ফিরোজ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাএলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি। শেখ হাসিনার ডাকেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, আগামী ৭ ই জানুয়ারী ট্রাক প্রতিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে আমরা এ আসনটি উপহার দিব ইনশাআল্লাহ।

আপনারা সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে, এগিয়ে যাবেন দুরন্ত গতিতে। আপনাদের সরব উপস্থিতি, প্রমাণ করে আপনারা দীর্ঘদিন জুলুম, অত্যাচার,নির্যাতন, প্রতিহিংসার সমুচিত জবাব ৭ই জানুয়ারী আপনারা ট্রাক প্রতিকে মূল্যবান রায় দিবেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, সাবেক পৌর আওয়ামিলীগ আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম মিন্টু, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ খিজির হায়দার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল মজুমদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, চৌধুরী মোস্তফা কামাল, শাহরাস্তি পৌর আওয়ামিলীগ সভাপতি আহসান মঞ্জরুল ইসলাম জুয়েল, হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামিলীগ সাধারণ মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সফিউল আজম স্বপন, সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহতাবউদ্দিন হেলাল, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জহিরুল আলম মানিক, সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি আবুল বাশার পাটোয়ারী, সাধারন সম্পাদক মাসুদ আলম পাটোয়ারী, টামটা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ নেতা আলমগীর কবির পলাশ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাধু, সাবেক ছাএনেতা হুমায়ুন কবির হিরো, মহসিন পাটোয়ারী, এফ কাদের বাবু, এমরান হোসেন, মনিরুজ্জামান শান্ত, সুমন বর্ধন, ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ নেতা মানিক মুন্সি, সাবেক ছাএনেতা রফিকুল ইসলাম রকি, পিযুশ দাস, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হায়দার, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন প্রমুখ। জনসভায় উপজেলা আওয়ামীলীগ, পৌর আওয়ামিলীগ, ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেষ মুহূর্তে কূটনীতিকদের যা জানাল সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ বৈঠক হয়।

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ভোট দিতে ভোটারদের চাপ নয়; বরং ভোট দিতে আসতে বোঝানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম কারণ তারা সব সময় নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সবার একটাই প্রত্যাশা : নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা জানতে চেয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা। আমরা আমাদের পদক্ষেপগুলো তাদের জানিয়েছি।’

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ সদস্য মাঠে আছে এবং ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা থাকবে বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুরে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে চাঁদপুর সদর উপজেলার হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসার সেই অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকাবাসী।

উক্ত এলাকাবাসীকে সন্দেহ করে থানায় মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসার সামনের সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেয় উক্ত এলাকার সকল বয়সী নানা শ্রেনী পেশার মানুষ।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া রুবেল মাল, ফয়সাল পাটওয়ারী, রাকিব প্রধানীয়া, সুলতান প্রধানীয়া, মনির প্রধানীয়া সহ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, আমাদের এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক অধ্যক্ষ এসেছে। কখনো কোনদিন এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে কিছু বলে না। এমনকি যখন এই মাদ্রাসাটি টিনশেড ছিল কখনো কোন চুরির ঘটনাও ঘটেনি। কিন্তু এই অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন আসার পর এলাকাবাসীকে বিভিন্ন মাধ্যমে হয়রানি করে আসছে। এবং গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পরিকল্পিত চুরির ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীকে সন্দেহ করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, এই অধ্যক্ষ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে বাড়তি টাকা নিয়ে থাকেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করতে তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন। আমরা এলাকাবাসী অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের পদত্যাগ চাই। নিজ ইচ্ছায় স্বনামধন্য এ মাদ্রাসা হতে অব্যাহতি নিবেন নতুবা তাকে অপমানের সাথে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী তার জিম্মি থেকে মুক্ত হতে চায়। আমরা প্রশাসন ও কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো, এই অধ্যক্ষকে এখান থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োজিত করে মাদ্রাসার সুনাম ফিরিয়ে আনুন। মানববন্ধন শেষে পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার হোছাইনপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে টেবিলের ড্রয়ার থেকে রহস্যজনকভাবে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম সহ পুলিশ ও বিজিব সদস্যরা। মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে ৫ লক্ষ টাকার একটি সরকারি অনুদান আসে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কাজে ব্যায় করা হবে। বাকী এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের প্রণোদনা হিসেবে আর ৭৫ হাজার টাকা তালিকাভুক্ত কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেয়ার কথা। গত ১৭ ডিসেম্বর একটি পোগ্রাম শেষে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এর আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজের ড্রয়ারে রেখে যান বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চুরির ঘটনার দৃশ্য দেখে তিনি বিষয়টি মাদরাসা কমিটির সঙ্গে বসে সমাধান করার পরামর্শ দেন। এদিকে গত রবিবার সকালে সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে মাদ্রাসার অফিস থেকে বের করে মাদ্রাসার মূল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
পরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম এদিন দুপুর ১টায় সঙ্গীয় ফোর্স ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এবং মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থান নেয়া এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সহ ৫জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে যান এবং প্রকৃত আসামীকে খুঁজে বের করার আশ্বাস প্রদান করেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, গত ৩১ তারিখের পর থেকে অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন এখনো মাদ্রাসায় আসেন নি।

দাউদকান্দি তিতাসে ৭০ মতো নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে : ইঞ্জিঃ আব্দুস সবুর

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লা- ১(দাউদকান্দি-তিতাস) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিঃ আব্দুস সবুর বলেন, ৭০সালের মতো নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দাউদকান্দি তিতাসে। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে নৌকা মার্কার প্রতি আস্থাশীল হয়ে ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে তারা নৌকাকে বিজয়ী করতে উন্মুখ হয়ে আছেন।

প্রচারণার শেষদিন বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলায় পৃথক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর আরও বলেন, দাউদকান্দি তিতাসবাসী চায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ। তাদের চাওয়া মতে কথা দিচ্ছি নির্বাচিত হলে, এখানে কোনো চাঁদাবাজি হবে না। কোনো ব্যবসায়ীকে চাঁদা দিতে হবে না। দাউদকান্দি তিতাসের জনগণের চাওয়া প্রত্যেকটি সমস্যা সমাধান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যা উন্নয়ন হয়েছে ৪০ বছরে ইতিহাসে তা কেউ করে দেখাতে পারেনি, এ ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় আনতে হবে। উন্নয়নের করতে চাইলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকতে হবে, বাংলাদেশের উন্নয়নে আওয়ামীলীগ যা করেছে অতীতে তা কেউ কোনো দিন করে নাই। এই এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আরো আধুনিক করে স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে কাজ করবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর মার্কা নৌকা এবং শেখ হাসিনার মার্কা নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে শেখ হাসিনাকে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। তাহলে দেশ বাঁচবে, জাতি বাঁচবে, আপনারা বাঁচবেন।

তিতাস উপজেলার গাজীপুর কলেজ মাঠ এবং দাউদকান্দি বিশ্বরোড ঈদগাঁ মাঠ ও পৌরসদরের রাসেল স্কয়ারের সামনে পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মান্নান জয়, বশিরুল আলম মিয়াজী, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ আহসান হাবীব চৌধুরী লীল, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিঃ মহিউদ্দিন শিকদার, তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুজিবুর রহমান মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক মহসিন ভূইয়া প্রমূখ।

কূটনীতিকরা সন্তুষ্ট কি না এটা তো চেহারা দেখে বলা মুশকিল: মাসুদ বিন মোমেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) । তবে ইসির তথ্যে কূটনীতিকরা সন্তুষ্ট কি না, তা জানেন না পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো চেহারা দেখে বলা মুশকিল।’ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে ইসির বৈঠক শেষে সচিব একথা বলেন।

বৈঠকের পরে বিদেশে কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রদূতদের মতামত বা রিঅ্যাকশন কী, তারা আপনাদের কথায় কনভিন্স কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘এটা তো চেহারা দেখে বলা মুশকিল। তারা ইন্ডিভিজুয়ালি সন্তুষ্ট কি না এটা বলা মুশকিল। তবে ইলেকশন কমিশন যথাসাধ্য বোঝাতে সক্ষম হয়েছে।

তাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ৭ তারিখ যদি জনগণ ভোট দিতে আসে তাহলে তাদের চেষ্টা সফল হবে।’

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন আজ ইলেকশন কমিশন থেকে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ঢাকাস্থ যে বিদেশি দূতাবাসগুলো আছে, তাদের যে প্রধানরা আছেন তাদের জন্য একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় সব কটি দেশের রাষ্ট্রদূত আজ এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এখানে নির্বাচনের বিষয়ে তাদের বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।’

বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সব কিছু বললেন। পরে তাদের মধ্য থেকে প্রশ্ন আহ্বান করলেন। পরে যেটা বোঝা গেলো,পশ্চিম দেশের দুই একজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আমার বক্তব্য তাদের বললাম, পাঁচ বছর পর পর ইলেকশন হয়, এমন একটা সুযোগ সব দেশের রাষ্ট্রদূতের হয় না। আমি নিজেও রাষ্ট্রদূত ছিলাম সুযোগ আসেনি। যেহেতু তারা সুযোগ পেয়েছে এ সুযোগকে তারা যেন ভালোমতো ব্যবহার করেন।’

তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশের দুই একজন রাষ্ট্রদূত আমাকে বললেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।

তারাও ইলেকশন কমিশনে এসেছেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন। তার আগের থেকে অনেকখানি আপডেট তাই এখানে এত প্রশ্ন হয়নি। একটা প্রশ্ন আসতে পারে তারা অনেক বেশি প্রশ্ন করেনি কেন? বলে রাখা ভালো, তারা বেশ কয়েকবার দফায় দফায় মিটিং করেছে ইসির সঙ্গে। তাই সেগুলো তারা অনেকখানি ওয়াকিবহাল।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, এখন পর্যন্ত ৬০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক দেশে এসে পৌঁছেছেন। সর্বমোট ১২৭ জন পর্যবেক্ষক আসার কথা। এছাড়া ৭৩ জন বিদেশি সাংবাদিক অ্যাক্রিডিটেশন পেয়েছেন।

বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে ১৭ জন বৃহস্পতিবার এসে পৌঁছেছেন। শুক্রবারের মধ্যে সবাই এসে পৌঁছে যাবেন। এখানে আমাদের একটা অফিস খোলা হয়েছে, আমরা সেখান থেকে আপনাদের আপডেট দিতে পারবো।

মোমেন বলেন, তারা একটা প্রশ্ন করেছে ইলেকশন কমিশনের কোনো চাপ আছে কি না, অথবা বিষয়টা কতখানি সত্য? এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এ ধরনের কোনো চাপ নেই, চাপ দেওয়ার সুযোগও নেই। তবে যারা ভোট বর্জন করেছে, তাদের পক্ষ থেকে ভোট না দেওয়ার জন্য ভোটারদের ওপর একটা চাপ আছে।

পর্যবেক্ষকরা কোথায় যাবে এ বিষয়ে পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাবজেক্ট আছে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা তাদের বলতে পারি না তারা যদি যেতে চায় যেখানে আমাদের এয়ারপোর্টগুলো আছে, সেসব জায়গায় তারা চাইলে যেতে পারে আমরা সহযোগিতা করবো। তারা যেখানেই যাক আমরা শুধু সহযোগিতা করতে পারি।

তিনি বলেন, আর তারা যদি ঢাকার মধ্যে ইলেকশন অবজার্ভ করতে চায় আমরা ঢাকার মধ্যে দুই ঘণ্টায় যেতে পারে বা দুই ঘণ্টায় আসতে পারে এ রকম একটা রোড প্ল্যান আমরা তাদের দিতে পারি। এর মধ্যে তারা যদি বলে আমি নারায়ণগঞ্জ যাবো, আমি গাজীপুর যাবো, আমি দোহার যাবো কিংবা আমি কুমিল্লায় যাবো, তখন আমরা তাদের বলতে পারি হ্যাঁ, তুমি দুই ঘণ্টার মধ্যে যেতে পারবে। বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কতজন রাষ্ট্রদূত বা কূটনৈতিক এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আমরাতো সবাই দাওয়াত করেছি, সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারবো না, তবে পঞ্চাশের অধিক দেশের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন আজকের বৈঠকে।

লুটের টাকা ডামি ভোটে ঢালছে আওয়ামী লীগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আজকে দেশের অর্থনীতির করুণ অবস্থা। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, শুধু ব্যাংক খাত থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন সেই লুটের টাকা ডামি ভোটে ঢালছে আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার নগরীর বিআরটিসি ষ্টেশন রোড় ফলমন্ডি এলাকায় নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে এসব কথা বলেন।

এছাড়াও নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি নেতা হাজী আবু ফয়েজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ রিপন, মাঈনুদ্দীন খান রাজিব উপস্থিত ছিলেন। নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলমের নেতৃত্বে দেওয়ানহাট, এরশাদ উল্লাহর নেতৃত্বে মোহরা হামিদচর, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রবিউল হোসেন রবির নেতৃত্বে শাহ আমানত ব্রীজ এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করায় দ. আফ্রিকার ওপর ক্ষুব্ধ আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করায় দক্ষিণ আফ্রিকার কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘনিষ্ঠতম মিত্রের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, গাজায় কোনো গণহত্যাই হয়নি।

আগামী সপ্তাহে দ্য হেগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলাটিতে গাজার মানুষদের ওপর গণহত্যার বিচার এবং ফিলিস্তিনি উপত্যাকায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত সামরিক অভিযান বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, আমরা মনে করি না, এটি কোনো ফলপ্রসূ পদক্ষেপ। এখন পর্যন্ত গণহত্যা বলা যায়, এমন কোনো কাজ আমরা দেখিনি।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) সংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, গণহত্যা অবশ্যই একটি জঘন্য নৃশংসতা। এ ধরনের অভিযোগ হালকাভাবে করা উচিত নয়।

দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিকার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে নিজেদের বর্ণবাদের ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করেছে তারা।

আন্তর্জাতিক আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকা অভিযোগ করেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে ইসরায়েল।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আচমকা হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও তার মিত্ররা। এতে অন্তত ১ হাজার ১৪০ জন নিহত হন।

এরপর থেকেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের নির্বিচার বোমাবর্ষণে ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে গাজার বেশিরভাগ এলাকা। প্রাণ হারিয়েছেন ২২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ইসরায়েলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব যেসব কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে যোগ দিতে রাজি হয়নি প্রিটোরিয়া। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা রাশিয়ার কাছে জাহাজবোঝাই অস্ত্র পাঠিয়েছিল অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যেই প্রিটোরিয়ার সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।