All posts by jitu

ঢাকার প্রবেশ পথে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি

ঢাকার প্রবেশ পথে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে কঠোর অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকালের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি কার্যক্রম।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ও শিমরাইল মোড় ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সড়কে চলাচলকারী ঢাকাগামী পরিবহন আসতেই থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। প্রতিটি চেকপোস্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে ঢাকাগামী দূরপাল্লাসহ আঞ্চলিক পরিবহন থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করছে। এতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষদের।

বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী মানুষ বলছেন, দু-দলের কর্মসূচি ঘিরে অসহায় তারা। সময় মাফিক কর্মস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিজেদের আক্রোশের কারণে জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য করছেন।

মহাসড়কে বেড়েছে পুলিশি তৎপরতা, পরিবহনে চলছে তল্লাশি

সাইনবোর্ডে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকে তল্লাশি করা হয়েছে এক যাত্রীকে। তিনি জানিয়েছেন, গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে তিনি যাচ্ছিলেন। তার ব্যাগ তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকায় সমাবেশকে ঘিরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে এসব স্থাপনা।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা বলেন, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় দুদলেরই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবেশকে ঘিরে কেউ যেনে কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা নাশকতা সৃষ্টি না করতে পারে এজন্য নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর, কাঁচপুর, শিমরাইল মোড়, সাইনবোর্ড, চাষাঢ়া পয়েন্টসহ পুরো জেলাজুড়ে প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন আছে।

জামায়াত অনুমতি ছাড়া সমাবেশের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: আসাদুজ্জামান

জামায়াত অনুমতি ছাড়া সমাবেশের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: আসাদুজ্জামান

ডেস্ক রিপোর্ট:

জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি, তার পরও চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) মতিঝিলের নটরডেম-আরামবাগ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশের পর্যাপ্ত ফোর্স।

এদিকে মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় শুক্রবার রাত থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শাপলা চত্বরে প্রবেশের সব পথেই সকাল থেকে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ। কাউকেই যেতে দিচ্ছে না চত্বরের দিকে। তবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আরামবাগ মোড়ে স্থাপন করা ব্যারিকেড তুলে ফেলেন নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ দ্রুতই নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে আবারও ব্যারিকেড বসায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই আরামবাগ মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে যাওয়ার পথের মুখে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ। এতে কমলাপুর থেকে আসা পল্টনের সমাবেশমুখী মিছিলগুলোর যেতে সমস্যা হচ্ছিল। সকাল থেকেই এই মোড়ে কয়েক বার বসে পড়ার চেষ্টা করেছেন সমাবেশমুখী নেতাকর্মীরা। পথে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় কয়েক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় পুলিশের সঙ্গে।

সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কমলাপুরের দিক থেকে আসা কয়েকটি মিছিলের নেতাকর্মীরা একযোগে এসব ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলেন। এ সময় পুলিশ শান্ত ও সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে ব্যারিকেড ভাঙার পরে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয় পড়ে। পরে পুলিশ হুইসেল দিয়ে নেতা-কর্মীদের দিকে আগাতে থাকলে পিছু হটেন নেতাকর্মীরা। ২ মিনিটের মধ্যে নেতাকর্মীদের কয়েক শ গজ দূরে সরিয়ে দেয় পুলিশ এবং ব্যারিকেডগুলো আগের স্থানে বসিয়ে দেয়।

মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকা পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। রাজধানীর আরামবাগ, করিম চেম্বার ভবন, কালভার্ট রোডের মতো শাপলা চত্বরে ঢোকার যত প্রবেশমুখ রয়েছে সবগুলোই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ব্যারিকেড পার হয়ে কাউকেই শাপলা চত্বরের দিকে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ। দু-একজন ঢুকলেও পড়তে হচ্ছে ব্যাপক পুলিশি জেরায়। সন্দেহ হলেই করা হচ্ছে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ।

আরামবাগে জামায়াত নেতাকর্মীরা, অপেক্ষা অনুমতির

আরামবাগে জামায়াত নেতাকর্মীরা, অপেক্ষা অনুমতির

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকারের পতন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যদিও এখনো পর্যন্ত মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তবে, ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন মতিঝিলের আশপাশে। তাদের দাবি, আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলেই সমাবেশস্থলে প্রবেশ করবেন তারা।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার পরে রাজধানীর আরামবাগের নটরডেম কলেজের সামনে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।

এর আগে, জামায়াতের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে সকাল ৯টার দিকে দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হন শাপলা চত্বরের দক্ষিণ পাশে। এসময় পুলিশ দলটির নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। তারা একটু দূরে গলিতে অবস্থান নেন। তবে কোনো পক্ষই মারমুখী আচরণ করেনি। বেশ শান্তিপূর্ণভাবেই মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের।

জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন- সমাবেশের বিষয়ে তাদের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করবেন তারা।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের এক নেতা জানান, দাগনভূঞা থেকে অন্তত ৫০০ নেতাকর্মী ঢাকার মহাসমাবেশে এসেছেন। আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলে শাপলা চত্বরে সমবেত হবেন তারা।

এর আগে সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি রাশেদ বলেন, ‌‌‘মতিঝিল ও আশপাশে কোনো ব্যক্তি থাকবে না। একটি পাখিও থাকতে পারবে না।’ এরপর সবাইকে মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

অবসরের ইঙ্গিত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের

অবসরের ইঙ্গিত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আইসিসি ইভেন্ট মানেই যেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের চোখ ধাঁধানো পারফর্ম্যান্স। ২০১৫ বিশ্বকাপ, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৩ বিশ্বকাপ। বয়স বাড়লেও বৈশ্বিক মঞ্চে রিয়াদের ব্যাটে ধার কমেনি মোটেই। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। বড় ব্যবধানে হারতে থাকা বাংলাদেশ সেদিন মান বাঁচিয়েছিল রিয়াদের ব্যাটে ভর করে।

এবার সেই আইসিসি ইভেন্টের মঞ্চ থেকেই যেন অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন দ্য সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ। আইসিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াদ জানিয়েছেন, এটিই হতে চলেছে তার শেষ বিশ্বকাপ। ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় রিয়াদের বয়স হবে ৪১। সেসময় তার না খেলাটাই স্বাভাবিক। তবে এরপরেও কেমন হবে লাল-সবুজ জার্সিতে তার যাত্রা সেই আভাসও পাওয়া গেল এদিন।

আইসিসির ভিডিওতে রিয়াদ বলেন, ‘দেশের হয়ে অনেকদিন ধরেই খেলছি আমি। ২০০৭ সালে আমার অভিষেক হয় বাংলাদেশের জার্সিতে। এরপর অনেক সময় হয়ে গেলো আমি খেলছি, আইসিসি ইভেন্টে চারটি সেঞ্চুরি করতে পারায় আসলে আমি নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করি।’

এরপরই নিজের শেষ বিশ্বকাপের কথাও বলেন দ্য সাইলেন্ট কিলার, ‘সত্যি কথা বলতে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর বাংলাদেশের হয়ে আমি আর কতদিন খেলতে পারবো তা নির্ভর করছে আমার শরীর এবং পারফর্ম্যান্সের উপর। তবে খুব তাড়াতাড়ি হোক বা আরও কিছু সময় পরেই হোক, আমাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হবে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের আস্থার নাম পঞ্চপাণ্ডব। যার একজন রিয়াদ। এই পাণ্ডবের মধ্যে মাশরাফি আগেই চলে গিয়েছেন। রিয়াদও যাবেন। এরপর কি হবে তা নিয়ে শঙ্কা অনেকেরই। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আশাবাদী তরুণদের নিয়ে, ‘ক্রিকেট সামনে এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ ক্রিকেটও সামনে এগিয়ে যাবে, আমাদের ড্রেসিংরুমে মুস্তাফিজ, তাসকিন, মিরাজরাই হবে সিনিয়র ক্রিকেটার, ভবিষ্যতে ওরাই হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কিংবদন্তি।’

সমাবেশের অনুমতি পেল আওয়ামী লীগ-বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট:

অবশেষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে তাদের পছন্দের জায়গায় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার রাতে ডিএমপির পক্ষ থেকে এ বিষয়টি জানানো হয়।

ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান রাতে জানান, কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে বিএনপিকে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, আওয়ামী লীগকেও তাদের পছন্দের জায়গা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর সরকার পতনের একদফা দাবিতে ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের দিয়েছিল বিএনপি। এরপর আওয়ামী লীগও একই দিনে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশের ডাক দেয়।

বিএনপি ২১ অক্টোবর পুলিশকে চিঠি দিয়ে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার কথা জানায়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৬ অক্টোবর বিএনপিকে চিঠি দিয়ে মহাসমাবেশের জন্য দুটি বিকল্প জায়গা ঠিক করাসহ ৭টি বিষয় জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে ওই দিনই বিএনপি পুলিশকে জানায়, তারা সমাবেশ নয়াপল্টনেই করবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগও তাদের সমাবেশের কথা পুলিশকে জানায়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগকে চিঠি দিয়ে সমাবেশের জন্য দুটি বিকল্প জায়গা ঠিক করাসহ ৭টি বিষয় জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে ওই দিনই আওয়ামী লীগ পুলিশকে জানায়, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটেই শান্তি সমাবেশ করবে তারা।

মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে দুদলের একই দিনে বড় সমাবেশ ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে দুদলের পক্ষ থেকেই। ফলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিন (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তবে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার রাতে ডিএমপির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, জামায়াতকে মহাসমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

মহাসমাবেশের অনুমতি চেয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে আগেই ডিএমপি জানিয়েছিল, জামায়াতকে অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল পুলিশ।

তবে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান অনুমতি না পেলেও মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে : চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে : চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ এবং জিডিপির ৪ বাগ সেখানে বিনিয়োগ করা দরকার। যখন আমরা সারা বিশ্বের গুনি শিক্ষায় জিডিপি কতভাগ বিনিয়োগ। এর মানে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে বুঝা যাচ্ছে তিনি সময়ের চাইতে কতখানি এগিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশটিকে শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছিলেন এবং তিনি কুদরত-ই খোদা শিক্ষা কমিশন তৈরী করেছিলেন। সেই কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেটি ছিল অনেক সমৃদ্ধ। সেটি যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারতাম আজকে আমরা শিক্ষায় বিশ্বে অনেক বেশী এগিয়ে থাকতাম। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন আমরা পিছিয়েছি, শিক্ষাও তেমনি পিছিয়েছি।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ঢাবিয়ান চাঁদপুরের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যারা তখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তারা কিন্তু এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। কাজেই তারা এদেশের মানুষকে এগিয়ে নিবে এই চিন্তা তাদের মাথায় ছিল না। যে কারণে তারা গতানুগতিক শিক্ষাকে চালিয়ে নিয়েছে, চালু ছিল এবং চালু থাকত যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা দায়িত্বে না আসতেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে শিক্ষায় একটি বড় ধরণের পরিবর্তন আনবার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছেন। এরপর তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষার দিকে নজর দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দ্বিতীয় মেয়াদে যখন ক্ষমতায় এসেছেন, সেই সময় তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি ছিল তরুন প্রজেন্মর জন্য ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন আমরা দিন বদলের সনদ দিচ্ছি, এটি আমাদের তরুন প্রজন্মের জন্য। বদলে যাওয়া দিনের কান্ডারী হবে তরুন প্রজন্ম এবং তারাই এর সুফলভোগী হবে। তারা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হবে। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবতা। আমরা এখন স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছি এবং সেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বার জন্য কাজ করে চলেছি। স্মার্ট বাংলাদেশের ৪টি স্তম্ভ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সমাজ। আর এর কেন্দ্র হচ্ছে স্মার্ট নাগরিক। সেই স্মার্ট নাগরিক হতে হলে শিক্ষার দিকে অর্থাৎ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মনোভাব নিয়ে তৈরী হতে হবে। তার সবকিছু আমরা আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমে নিয়ে এসেছি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ভাল পড়ালেখা করবে এবং জ্ঞানের সাথে দক্ষতা অর্জন করবে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হবে। তারা মূল্যবোধকে তাদের জীবন চর্চার অংশ করে নিবে। আর যে দক্ষতাগুলো বর্তমান বিশ্বে আছে এবং আসছে সেগুলোর জন্য তৈরী হবে। যেগুলোকে আমরা বলছি সফ্ট স্কীল। সবকিছু মিলিয়ে তারা যেন দক্ষ, যোগ্য, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হয় সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষাক্রমে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে এবং গুজব রটানো হচ্ছে। যারা কোচিং ও গাইড বই বিক্রি করছেন তারাও এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। তারা এই ব্যবসা না করে অন্য ব্যবসা করতে পারবেন। তাদের কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আমাদের এই শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তানদেরকে এখন আর গাইড বই কিনে দেয়া লাগবে না। তারা প্রাইভেট পড়তে হবে না। তারা আনন্দের মধ্যে শিখবে। আমি সারাদেশের শিক্ষকদের সাথে কথা বলছি। তারা এই শিক্ষাক্রমের বাস্তবচিত্র আমার কাছে তুলে ধরছে। তারা বলছেন শিক্ষার্থীরা খুবই আগ্রহী এই শিক্ষাক্রমে।

ঢাবিয়ান চাঁদপুরের আহবায়ক ও চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক আলমগীর হোসেন বাহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকার সম্পাদক এবিএম শামছুল হাসান হিরু।

অনুষ্ঠানে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে চাঁদপুর জেলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ঢাবিয়ান চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও সুধীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কুমিল্লায় সাংগঠনিক সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কুমিল্লা জেলা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান।

সংগঠনের কুমিল্লা জেলার সভাপতি আবদুল কাদের এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিৱ বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেন খান, কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন খান, প্রধান উপদেষ্ঠা মোঃ ফারুক খান, মহাসচিব মোঃ আসাদুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম খাঁন। কুমিল্লা জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম খাঁনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক ও জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবদুল হালিম। এ সময় উপস্থিত ছিলন,কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি কামিনুল ইসলাম,অতিরিক্ত মহাসচিব ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ, যুগ্ন সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক শায়লা শারমীন, ধর্ম বিষয় সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সফদার আলী,বি-বাড়িয়া জেলার সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম খোকন,কুমিল্লা জেলার সাবেক সভাপতি আবুল হাসেম মজুমদার, সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদুর রহিম,কুমিল্লা জেলার বর্তমান সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুঃ,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজাহান,অর্থ সম্পাদক মোবারক হোসেন,দপ্তর সম্পাদক তারেক বিল ওয়ালী, ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ- প্রচার সম্পাদক যোবায়ের হোসেন,নির্বাহী সদস্য হেলাল উদ্দিন আশরাফী,ফিরোজ খান,মনির উদ্দিন,আবদুল আলিম,পন্কজ আচ্যর্য,রাজিব মিত্র প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানেৱ শুরুতে অতিথিদেরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ ও শেষে সম্মননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আল-আকসা মসজিদে জুমা আদায়ে মুসল্লিদের বাধা

আল-আকসা মসজিদে জুমা আদায়ে মুসল্লিদের বাধা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ে বাধা দিচ্ছে ইসরাইলি পুলিশ। নামাজের জন্য আসা বেশিরভাগ মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশের আগেই ফিরিয়ে দিচ্ছে তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার জানিয়েছে, দখলদার ইসরাইলি পুলিশ মুসল্লিদের বাধা প্রদান করায় ও অল্প কয়েক মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায়— আল-আকসার আশপাশের এলাকার পরিস্থতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তবে কেন মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেটির কারণ ব্যাখ্যা করছে না পুলিশ। এ কারণে সেখান উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল।

এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের দ্বন্দ্ব লাগে। তখন তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সিএনএন জানিয়েছে, পুলিশের এমন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের ভিডিও করার সময়— তাদের সামনেই এক তরুণীকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে ইসরাইলি পুলিশ।

বর্তমানে ওই এলাকা থেকে পুলিশ মুসল্লিদের সরিয়ে দিয়েছে এবং তরুণ বয়সি কাউকে সেখানে হাঁটতেও দিচ্ছে না। এমনকি সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সিএনএনের সাংবাদিক ও ক্রুদেরও সরে যেতে বলেছে তারা।

এর আগে গত মঙ্গলবার আল-আকসা মসজিদটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। ওইদিন থেকে কোনো মুসল্লিকে আর পবিত্র এ মসজিদটিতে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর বদলে ইহুদিদের সেখানে অবাধে প্রবেশ করতে দেয় তারা। যা আন্তর্জাতিক আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের বিভিন্ন অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তাদের ওই হামলার পর থেকে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করছে ইসরাইলি পুলিশ।

আমরা সরকারে আছি, কেন অশান্তি করব: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা শান্তি সমাবেশ করছি, আগামীকালও শান্তি সমাবেশ করব। আমরা অশান্তি করতে চাই না, আমরা সরকারে আছি, আমরা কেন অশান্তি করব? বিএনপি অশান্তি করতে চায়।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপি বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে চায়। তাদের রাজনীতি হলো যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করা। বর্তমানে তারা সেটারই প্র্যাকটিস করছে। তারা জনগণের ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাতে চায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিএনপি বিতর্কিত করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করিনি। বাতিল করেছে আদালত। বিচারপতি খায়রুল হক সংবিধানের কচুকাটা করেননি, বরং বিএনপি সংবিধানকে কচুকাটা করেছে, ছিন্নভিন্ন করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকা মানে আমাদের দেশকে ছোট করা, দেশের অর্জনকে ছোট করা।

লড়াই করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানায়, দেশ কি ৪৭ এর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে চলবে নাকি মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার আদর্শে চলবে। সমাধান আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাই আমাদের আজ লড়াই করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মো. ফারুক খান, শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন প্রমুখ।

পরিবারের ১২ সদস্যকে সমাহিত করার পরদিনই কাজে ফিরলেন সাংবাদিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরাইলের নির্বিচার বিমান হামলায় নিহত পরিবারের ১২ সদস্যকে সমাহিত করার একদিন পরেই কাজে ফিরেছেন গাজায় আলজাজিরার ব্যুরো প্রধান ওয়ায়েল আল-দাহদু।

বৃহস্পতিবার হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বুধবার ইসরাইল দক্ষিণ গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালায়। এ হামলায় নিহত হন ওয়ায়েলের স্ত্রী আমনা (৪৪), ছেলে মাহমুদ (১৬), মেয়ে শাম (৭) ও অপ্রাপ্তবয়স্ক নাতি অ্যাডাম। পরিবারের আরও আটজন সদস্যও এই হামলায় প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে আছেন তার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে হাদির ও তার চার সন্তান। তারা সবাই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ মেনে উত্তর গাজা ছেড়ে দক্ষিণে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

আলজাজিরার ডিজিটাল চ্যানেল এজে প্লাসে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ওয়ায়েল আল-দাহদু জানায়, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মারা গেলেও দ্রুত কাজে ফেরা তার ‘দায়িত্ব’ ছিল।

গাজার ব্যুরো প্রধান ওয়ায়েল আরও বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এখনো সবখানে হামলা চলছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কাছাকাছি একটি জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠছে। সেদিকে আঙ্গুল দেখিয়ে ওয়ায়েল বলেন, এটা হচ্ছে বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণের পরবর্তী দৃশ্য এবং হামলা থামছে না।

ওয়ালের বড় মেয়ে বিসান (২৭) সে সময় শিবিরে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। তার আরও চার ভাই-বোন সোনদোস, খোলুদ, বাতুল ও ইয়াহিয়া আহত অবস্থায় আল-আকসা মারটায়ার্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এই সাংবাদিকের শাশুড়ি হানান (৮১) হামলায় বেঁচে গেলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। ওয়ায়েলের শ্যালক আলি বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে এই তথ্য জানান।

ওয়ায়েলের পরিবার উত্তর গাজার তাল আল-হাওয়া মহল্লায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি তারা নুসিরাত শিবিরে আসেন।

বেশ কয়েক বছর ধরে সাংবাদিক ওয়ায়েল গাজা ও অন্যান্য অধিকৃত অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন। যে হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন, তিনি সেটারই লাইভ কভারেজ দিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব।

গাজায় ওয়ায়েলের সহকর্মী ও অন্যান্য সাংবাদিকদের তোলা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাসপাতালে এসে সন্তানদের কাপড়ে মোড়ানো রক্তাক্ত লাশ জড়িয়ে ধরে বসে আছেন। এছাড়া তাকে দুই নারীর সহায়তায় নাতির লাশ বহন করে এগিয়ে যেতেও দেখা যায়।

এজে প্লাস নেটওয়ার্কের ভিডিওতে ওয়ায়েল জানান, তিনি অনেকের কাছ থেকে শোকবার্তা ও সান্ত্বনার বাণী পেয়েছেন, যার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

পরিবারের সব সদস্যকে হারানোর পরেও ওয়ায়েল গাজার মানবিক সংকটের সংবাদ পরিবেশনের কাজ দেওয়া চালিয়ে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে অবর্ণনীয় বেদনা ও যাতনার মধ্য দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যত দ্রুত সম্ভব ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাদের কাছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসাটা আমার দায়িত্ব।

বার্তা সংস্থা এপি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় সাত হাজার ২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই হাজার ৯১৩ জন শিশু। এই সংঘাতে মারা গেছেন এক হাজার ৪০০ ইসরাইলি।

ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সন্দেহ প্রকাশ করলেও হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন সরকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়ার সংখ্যাটিই ব্যবহার করছে।