All posts by jitu

কবিতা: মৃত্যুর অবসান 💔

মাইসারা সুলতানা মৈত্রী:

বাতাসে পোড়ার গন্ধ।
মাটিতে লাশের স্পর্শ।
আছে কি মৃত্যু অবসানধারী
যে জন চলে যায়,
ফিরে কি তারে পাই,
কৃষ্ণ- দ্বাদশীর জোছনা যখন মরিয়া,
নদীর ওপারে,
ফিরে কি পাবে তারে!,
বেহুলা ও এদিকে গাঙুরের জলে ভেলা নিয়ে ভাসে,
মৃত্যুজয়ের গতিবেগে।
যে জন চলে যায়
ফিরে কি তারে পাই।
মৃত্যু এত গর্বিত হইচ না,
অথচ কেউ একজন বলেছিল! আমায়,
মৃত্যুপুরীতে যেতে চাও
যাও, যাও তুমি তমসাকে স্বাগতম জানাও।
বেচারা মৃত্যুর এত অহংকার!
পারলে পরাস্ত করে দেখা তো,
কীর্তিমান দের নাম ঠিকানাকে।
বেচারা মৃত্যু পারবে না কাউকে মারতে।
যখন মৃত্যু তোর নিজের অবসান হবে তখন,
মৃত্যুর এত অহংকার কিসের?
শান্তি, অশান্তি বিশ্রামের খেলা,
তা তো তোর এই বৈ প্রতিরূপ এছাড়া কিছুই নয়।
যারা চলে গেছে তারা তো তোর সাথেই পড়ে থাকে।
অস্থিতগুলো ঠিক রেখে শুধু আত্মাগুলোকে মুক্তি দেয়,
মৃত্যুর এত অহংকার কিসের।
মৃত্যু তুই তো,
নাম মাএ দৈব শক্তি।
রাজা উন্মত্ত জনের ক্রীতদাস।
তোর এত প্রতিচ্ছবি কিসের।
পারবি কি তুই,
সবকিছু সর্বশান্ত করে,
যুম কে নিরযুম করে দিতে?
আফিম এর জাদুটোনা এনে দিতে পারে অজস্র যুম।
মৃত্যু তুই তো তার থেকেও অধম!
মৃত্যু তোর এত অহংকার কিসের?
মুহূর্তকালের যুম শেষে ও
জেগে থাকবে সবাই অন্তকাল এ।
মৃত্যু ও বেঁচে রইবি না, একদিন।
তোর ও অবসান ঘটবে।

 

 

নোয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পায়ের রগ কাটল যুবলীগ কর্মী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ফখরুল ইসলাম (৩০) নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার পায়ের রগ কেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মাসুম ও তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের রইছ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফখরুল ইসলাম গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আফতাব আহমেদের ছেলে এবং একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়রা তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে।

তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) শাহজাহান সাজু রবিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুল স্থানীয় রইছ মার্কেটের একটি চা দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় মাসুম বাহিনীর প্রধান মাসুমের নেতৃত্বে ৫-৬ জন মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে এসে মার্কেটে হামলা চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুলকে গুলি করে ও কুপিয়ে জখম করে। পরে হত্যা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীরা তার পায়ের রগ কেটে দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গেলে ফাকা গুলি ছুড়ে এবং আশপাশের কয়েকজনকেও পিটিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

মেম্বার সাজু জানান, গত ১৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দিনগত রাতে মধুপুরের লেদু মেম্বার বাড়ির আমির হোসেনের রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে দূর্বৃত্তরা। এ নিয়ে মামলা দায়েরের পর স্থানীয় মাসুম বাহিনীর সদস্য শাকিলকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে যুবলীগ কর্মী মাসুম ও ইউসুফকেও আসামি করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম ওই মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর আক্রমণ করেন মাসুম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

তিনি আরও জানান মাসুম ও ইউছুফ বাহিনীর অত্যাচারের বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপাল পুর ইউনিয়নবাসী অতিষ্ঠ। তারা সর্বত্র চাঁদাবাজি মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে যাচ্ছে। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের কে দ্রুত আইনেন আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যুবলীগ কর্মী মাসুমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার পায়ের রগ কাটার বিষয়টি বিষয়টি কয়েক দিন আগে ঘটেছে বলে আমি মৌখিক ভাবে শুনেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশব্যাপী তিনদিনের সড়ক-রেল ও নৌপথ অবরোধের ডাক জামায়াতের

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ৩০ অক্টোবর এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার পরিবর্তে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসার পথে পথে বাধা দেয়। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করে এবং বাস, লঞ্চ, ট্রেন থেকে নামার পর গণহারে গ্রেফতার করে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারগ্যাস, গুলি ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়। পুলিশের টিয়ারগ্যাস এবং গুলির আঘাতে সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৪ জন নিহত এবং কয়েক হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মহাসমাবেশ ও হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলের প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, সরকারের পদত্যাগ, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেফতার সব রাজবন্দি, আলেম-ওলামার মুক্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতিরোধ, ২৮ অক্টোবর বিরোধী দলের মহাসমাবেশে হামলা, সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের হত্যা এবং সরকারের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঘোষিত অবরোধের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমি জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন চাইলে বিএনপি এমন সন্ত্রাস করত না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপির লক্ষ্য নির্বাচনকে বানচাল করা, অংশ নেওয়া নয়। বিএনপির অবরোধ থেকে দেশের স্থাপনা রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহরায় থাকার নির্দেশও দেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর, সহযোগী সংগঠন ও নির্বাচিত দলীয় জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থার নিরিখে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তার দল আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় যাবে।

২৮ অক্টোবর শত উসকানি সত্ত্বেও শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করায় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ২৮ অক্টোবর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিক্টরি মনোভাব দেখেছি, এটাই আমাদের বিজয়। এটাই বিরোধীদের ব্যর্থ আন্দোলনের বিরুদ্ধে নির্বাচনমুখী আমাদের বিজয়ের অভিযাত্রা।

এ সময় দলের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমসহ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা।

ইসলাম শান্তির ধর্ম, সহিংসতা পছন্দ করে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিশৃঙ্খলা, সহিংসতার পথ পরিহার করে সবাইকে শান্তির ধর্ম ইসলামের দিকে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা পছন্দ করে না ইসলাম। নিরীহ মানুষকে যেন হত্যা না করা হয়।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে জাতীয় ইমাম সম্মেলনে এ নির্দেশনা দেন তিনি। এসময় দেশের তরুণ প্রজন্ম যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকে সম্পৃক্ত না হয়, সেদিকে ইমামদের দৃষ্টি রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, সেটা আমরা বিশ্বাস করি। কোনো ধরনের সন্ত্রাস যেন না হয়। তৃণমূল পর্যায়ে যেন শান্তি থাকে, সেটাই চাই।

তিনি বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি, আমরা শান্তি চাই। অশান্তি বা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের ভয়াবহতা আমরা জানি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সহনশীল ধর্ম। এটা আমাদের নবী শিখিয়েছেন। তার বিদায় হজের বাণী আমরা অনুসরণ করি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকে সম্পৃক্ত না হয়, আপনারা (ইমাম) সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মের লোকও আছে। তারাও যেন নিজ নিজ ধর্ম যথাযথভাবে পালন করতে পারে। কেউ যদি অন্যায় করে, আল্লাহ বিচার করবেন। আমরা বলতে পারি না, কে মুসলমান, কে মুসলমান না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আপনাদের দোয়া চাই। সারা বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ চলছে ফিলিস্তিনে তাদের ওপর যে আক্রমণ, ছোট্ট শিশুদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে আমরা আর তা চাই না। ফিলিস্তিনে বাংলাদেশ থেকে সহায়তা পাঠিয়েছি। পৃথিবীর সব রাষ্ট্র প্রধানদের আমি অনুরোধ করেছি যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের হাজিরা যেন কষ্ট না পায়। হজের ইমিগ্রেশন সহজ করতে ব্যবস্থা নিয়েছি। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিয়েছি। ৩৫ হাজার মসজিদে পাঠাগার করে দিয়েছি। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছি। ওলামারা বিপদে পড়লে সহযোগিতা নিতে পারে। যাকাত তহবিল প্রণয়ন আইন করেছি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী আজ (সোমবার) সকালে সৌদি আরবের মদিনার পবিত্র মসজিদ-ই-নববীর ইমাম শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বুয়াইজানের সঙ্গে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে ‘৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন এবং জাতীয় ইমাম সম্মেলন ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৩’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানস্থলে তিনটি প্যান্ডেল তৈরি করে সারা দেশ থেকে আগত ইমামদের সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এবং পবিত্র মসজিদ-ই-নববির ইমাম উভয়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত ইমামদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

হলি আর্টিজান মামলা: ৭ জনের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড

হলি আর্টিজান মামলা: ৭ জনের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা মামলায় ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসা‌মিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ।

রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিরা স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া কারাগারেই থাকবেন।

এর আগে বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মুল কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর আলোচিত এ মামলায় সাতজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষ হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।

এ ঘটনার মামলায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান একজনকে খালাস দিয়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে।

সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।

দে‌শের ই‌তিহা‌সে অন্যতম নৃশংস এ হামলায় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।

হামলার পর জিম্মি অবস্থার অবসানে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছিলেন পাঁচ জঙ্গি। তারা হলেন- মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ওরফে মামুন, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন নব্য জেএমবির আরও ৮ সদস্য। তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজা করিমও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

আলু আমদানির সিদ্ধান্ত সরকারের

ডেস্ক রিপোর্ট:

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। ডিমের পর এবার আলু আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশ থেকে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে আলু আমদানি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগ্রহী আমদানিকারকদের মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আলু আমদানির পরিকল্পনা করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে গত ৭ অক্টোবর এর বিরোধিতা করে মতামত দিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। ফলে তখন ব্যবসায়ীদের আলু আমদানির অনুমতি দিতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং আরও বেড়েছে। এমতাবস্থায় ডিমের পর আলুও আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার।

গত মাসের মাঝামাঝি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলু, দেশি পেঁয়াজ ও ডিম- এই তিন পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সেই দাম সরকার কখনোই কার্যকর করতে পারেনি। দেড় মাস ধরে বাড়তি দামেই এসব পণ্য কিনেছেন ক্রেতারা।

সম্প্রতি আলুর বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর। সেখানে আমদানির সুপারিশ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে আলু সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগ্রহী আমদানিকারদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার অনুরোধ জানানো হলো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার বেলা ১১ টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসির সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়েছে। নির্বাচন সফল করতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি দল এতে অংশ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

বৈঠকে পুলিশ মহাপরিদর্শক, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড, এসবির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবরা উপস্থিত রয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনের উপকরণ প্রায় কেনা শেষের পথে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইসি। সরকারি মুদ্রণালয়কে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য উপকরণ ছাপানোর নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি।

আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি তফশিল ঘোষণা করা হবে। আর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে। এ নিয়ে বাহিনীগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করছে নির্বাচন কমিশন।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে কানাডার দুই পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হয়েছেন কানাডা অ্যান্ড রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সদস্য কেবিন দুগ্গান ও লয়েড শোয়েপ।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হন তারা। চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান ৩০ অক্টোবর তাদের আদালতে এসে তাদের সাক্ষ্য দিতে এ সমন জারি করেন। এদিন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমকে জেরা করার দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী হাজিরা দাখিল করেন।

এরপর খালেদা জিয়াসহ অপর আসামির পক্ষে বাদীকে জেরা করেন তাদের আইনজীবীরা। জেরা শেষ হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) একজন এবং কানাডিয়ান রয়েল মাউন্টেড পুলিশের দুজনকে অনুমতি দেন আদালত। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যরো অব ইনভেস্টিগেশনের অবসরপ্রাপ্ত সুপারভাইসরি স্পেশাল এজেন্ট ডেবরা লাপরিবট্ট গ্রিফিথ, কানাডা অ্যান্ড রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সদস্য কেবিন দুগ্গান ও লয়েড শোয়েপ।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া ও হান্নান ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

এরপর ২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্à¦