Tag Archives: কুমিল্লা বিভাগ

মধ্যরাতে কুমিল্লায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মশাল মিছিল

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের সদর দক্ষিণ-লালমাই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ বেতার এলাকায় মশাল মিছিল করেছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার মধ্যরাত ৩টায় ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির সমর্থনে তারা এই মিছিল করে। মিছিলে সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে। সদর দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিন হোসেন ও লালমাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রাব্বি মিছিলে সরাসরি না থাকলেও তারা নিরাপদ স্থানে থেকে দিকনির্দেশনা দিয়ে মিছিলটি করিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ওই সময়ে সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন অটোরিকশা চালক জানায়, মধ্যরাতে হঠাৎ জামান ফিলিং স্টেশন ও আরএফএল ফ্যাক্টরির গলি থেকে কিছু লোক মুখোশ পরে বের হয়ে ব্যানার ও মশাল হাতে নিয়ে মিছিল শুরু করে। ব্যানারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার কন্যা নাফিসা কামালের ছবি রয়েছে। তবে মিছিলের পক্ষের কিছু লোক লালমাই বাজার মোড়ে ও কিছু লোক লোটাস কামালের বাড়ির সামনে বেকাপ দিতে অপেক্ষমাণ ছিল।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মিছিলটি লালমাই থানা এলাকায় হয়নি। বাংলাদেশ বেতার এলাকাটি সদর দক্ষিণ এলাকায় পড়েছে। তারপরও আমরা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

মেঘনায় আওয়ামী নাশকতা ঠেকাতে মাঠে বিএনপি–গণ অধিকার–ইসলামী আন্দোলন, নির্দেশনা পায়নি জামায়াত

বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আওয়ামী লীগের “ঢাকা লকডাউন” কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে জামায়াতে ইসলামী বলছে, তাদের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উপজেলার এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা দৈনিক আজকের কুমিল্লাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যা থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সম্ভাব্য নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।

দলের স্থানীয় নেতা বলেন, “আমরা মাঠে থাকবো যাতে কোনোভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন গণ অধিকার পরিষদ, ছাত্র অধিকার ও যুব অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ নিয়ে আওয়ামী লীগের আগুন সন্ত্রাস ঠেকাতে আমরা মাঠে থাকবো।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মেঘনা উপজেলা শাখার আহবায়ক মাওলানা মোঃ আখতার হোসেন বলেন,আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেবেন, যেন আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কোনো নাশকতা করতে না পারে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মেঘনা শাখার আমীর মো. লোকমান হোসেন বলেন,আমাদের হাইকমান্ড থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়মমাফিক চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ অনলাইনে আগামী ১৩ নভেম্বর “ঢাকা লকডাউন” কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতা চালাচ্ছে এবং ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিছ আক্তারকে স্বপদে বহালের দাবী

স্টাফ রিপোর্টার:

বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
—————
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল, বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ভালো পড়াশুনা এবং ভালো ফলাফল করে আসছিল। ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর স্কুলটিতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির কারণে অধ্যক্ষ নার্গিছ আক্তারকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না। আমরা মনে করি এটা অন্যায় ।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আইন-আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার করো আছে বলে আমরা মনে করি না । আর যেহেতু এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এটি জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে, তাই জেলা প্রশাসকের কাছে অধ্যক্ষকে পূর্ণ নিরাপত্তাসহ কর্মস্থলে যোগদান করানোর দাবী জানাচ্ছি।

ইতোমধ্যে অনেক দিন হয়ে গেছে, অধ্যক্ষবিহীন বা অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে পড়াশুনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে অধ্যক্ষ মহোদয়কে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাসহ যোগদান করানোর জন্য জেলাপ্রশাসকে আহ্বান জানাই ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- জহিরুল হক দুলাল- সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, হাজী মো. ফরিদ উদ্দীন– মুক্তিযোদ্ধা, আবদুর রাজ্জাক – রাজনীতিক, আবুল কাশেম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শেখ আবদুল মান্নান রাজনীতিক, আহসানুল কবীর– লেখক ও গবেষক, সফিকুল বোরহান– কবি ও কথাশিল্পী, হালিম আবদুল্লাহ– কবি ও প্রকাশক, শিহাব উদ্দিন– কবি ও গীতিকার, মো. শাহ আলম– চিত্রশিল্পী, নন্দন ভৌমিক– নাট্যকর্মী, গাজী মোহাম্মদ ইউনুস– কবি ও কথাশিল্পী, জসীম উদ্দিন আহমেদ– সংস্কৃতি কর্মী, নির্মল সূত্রধর– সংগীত শিল্পী, স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ– আইনজীবী।

ফরিদগঞ্জে বিক্রয় প্রতিনিধিকে রাতের আঁধারে গুলি করে হত্যা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুর:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রুহুল আমিন (৩৫) নামে এক সেলসম্যান নিহত হয়েছেন। গুলি করে হত্যার সংসদ পেয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও হাজীগঞ্জ -ফরিদগঞ্জ সার্কেল মুকুর চাকমা ঘটনাস্থলে আসেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের সমিতির পোলের গোড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত রুহুল আমিন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব বড়ালি এলাকার মিজি বাড়ির হোসেন মিজির বড় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিটি কোম্পানির বেঙ্গল গ্রুপের সেলসম্যান হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রাড়ি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. কাউসার বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমি দোকানের সামনে বসে ছিলাম। হঠাৎ গৃদকালিন্দিয়া সড়ক দিক থেকে দ্রুতগতিতে একজন লোক দৌড়ে এসে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে। পরে লোকটি রাড়ি বাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়। তার পেছন পেছন একটি জিক্সার মোটরসাইকেলে করে দুজন লোক ভেতরে ঢোকে। কিছুক্ষণ পরই তারা দ্রুত বের হয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, এসময় ব্রিজের পাশে মাছ ধরছিল সোহেল নামে এক যুবক। সন্ত্রাসীরা পালানোর সময় সোহেল তাদের বাধা দেয় এবং একজনকে টেঁটা দিয়ে আঘাত করে। তখন তারা সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর কিছুটা দূরে পশ্চিম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রুহুল আমিন। ঘটনাটি মাত্র আধা মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায়।

গুলির শব্দে মুহূর্তেই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ভিড় করে। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি ডাকাতির ঘটনা নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে খুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। আমাদের এলাকায় এই প্রথম প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য: গুলিবিদ্ধ যুবকের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

মুরাদনগরে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ৬ জন আটক

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতাবৃত্তি ও মানব পাচারের অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে উপজেলা সদরের নিমাইকান্দি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার চাপিতলা গ্রামের শাহ পরান (২১), মুরাদনগর সদরের নাঈম আহমেদ (১৮), রানীমুহুরী গ্রামের রাকিব (১৮), চাপিতলা গ্রামের রুমা আক্তার (১৯), রাণীমুহুরী গ্রামের সাদিয়া (১৯), ও নবীপুর পশ্চিম পাড়ার নুরুন্নাহার (২০)। তবে এই ব্যবসার মূল হোতা লুনা আক্তার ও তার স্বামী বিল্লাল হোসেন অভিযান শুরুর আগেই পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এঘটনায় হোমনা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর এলাকার খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নামে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী খাদিজা আক্তার জানান, রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে তার মেয়ে সুমনা আক্তারের সাথে শাহপরান নামে একটি ছেলের পরিচয় ঘটে। সেই পরিচয় থেকে শাহপরান তার মেয়ে সুমনাকে নিমাইকান্দি এলাকার ওই বাসায় নিয়ে যায় । ওখানে পূর্বে থেকে অবস্থানন করা বাকী আসামীরা সুমনার সাথে থাকা স্বর্নের চেইন, কানের দোল আংটি ও পায়ের নুপুর ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও তাঁকে যৌন নিপীড়নের জন্য প্রচুর নির্যাতন করেন। এসময় তিনি উল্লেখিত আসমীদ্বয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী লুনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পতিতাবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তারা একাধিকবার একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু আইনের দুর্বলতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তি ব্যবসার অভিযোগে ৮ জনের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মূল হোতা বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী লুনাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা শহরের আমলারা নিজেদেরকে বড় আওয়ামী লীগার মনে করে: এমপি বাহার

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, আপনারা (ইঞ্জিনিয়াররা) আমলাদের বিরুদ্ধে দুঃখের কথা বলেছেন। তাদের কথা কি বলবো? ঢাকা শহরের আমলারা নিজেদেরকে এমপি বাহারের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার মনে করে!

শনিবার (৮ অক্টোবর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) কুমিল্লার ২৫তম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, আমেরিকায় নির্বাচন নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পও হতাশ। তিনি ফলাফল মেনে নিতে চাননি। সেখানে আনকনটেস্টে (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ার সবুর (অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আবদুস সবুর) আনকনটেস্টে জিতলে সমস্যা?

কুমিল্লা-৬ আসনের এই সাংসদ বলেন, যেখানে (মেঘনা নদী) বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক গোসল করতো, সে নদীর নামে কীভাবে কুমিল্লা বিভাগ হয়? এই কুমিল্লার অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। ১৫শ’ বছর আগে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এই কুমিল্লার সন্তান বাবু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পার্লামেন্টে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে কথা বলেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তিনি জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বেগম রোকেয়ার জন্মের সাত বছর পূর্বে নবাব ফয়জুন্নেছা নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় কুমিল্লায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। কুমিল্লার সন্তান শচীন দেব বর্মণের গান ভারতবর্ষে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। কুমিল্লা আদালতে ১৮৬৭ সালে প্রথম বাংলায় রায় দেওয়া হয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা ভেবে কুমিল্লা বিভাগ কুমিল্লা নামেই দিন।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) কুমিল্লার সভাপতি আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সাবেক সভাপতি মো. নুরুল হুদা, অধ্যাপক ড. এম. শামীম জেড বসুনিয়া, মো. আব্দুস সবুর এবং বর্তমান সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শিবলু।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইইবি কুমিল্লার সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মীর ফজলে রাব্বী। আলোচনা সভা শেষে দু’টি সেমিনার, বার্ষিক সাধারণ সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রকৌশলী রহমত উল্লাহর একটি চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লা বিভাগ: অপেক্ষার অবসান কবে ?

বিশেষ প্রতিবেদন:
কুমিল্লা বিভাগ হচ্ছে, হবে এমন আশ্বাস শুনতে শুনতে ক্লান্ত কুমিল্লার জনগণ। কুমিল্লাকে বিভাগ করা নিয়ে এত আলোচনা, এত বাহানা। উপমহাদেশের প্রাচীণ জনপদ কুমিল্লাকে কেন অবহেলা করা হচ্ছে ? কুমিল্লার এত মন্ত্রী – সাংসদ তারাই বা কেন এক সাথে এ দাবিতে সোচ্ছার হচ্ছে না ? একজন দুইজন দাবি তুললে অন্যরা কেন সেই দাবির সাথে এক হতে পারছে না ? কেন তারা কুমিল্লা বিভাগের দাবির প্রশ্নে নিস্ক্রিয় থাকছে ? আবার বিভাগের নাম পাল্টে ময়নামতি নামে করার পক্ষে আছেন দুই একজন জনপ্রতিনিধি । কেন একটি উপজেলার একটি ইউনিয়নের নামে হবে কুমিল্লার বিভাগ ? এমন হাজারো প্রশ্নের অন্তরালে চাপা পড়ে আছে কুমিল্লার বিভাগ বাস্তবায়ন।

কুমিল্লা অনেক আগেই যৌক্তিকভাবে বিভাগ হওয়ার অন্যতম দাবিদার ছিল। কুমিল্লার যে ঐতিহ্য তাতে রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহের আগেই কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার দাবিদার। সরকার যেভাবে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করছে, তাতে পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন বিভাগ করা যেতেই পারে। আর তার জন্য রাজধানী ঢাকা আর বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ঠিক মাঝখানে শিক্ষা-সংস্কৃতি-যোগাযোগের কেন্দ্রে থাকা প্রাচীন জনপদ কুমিল্লার চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু তারপরেও নানা ইস্যু, না বাহানার ছলে কুমিল্লা এখনো বিভাগ বঞ্চিত।
এক সময় অবিভক্ত ভারতের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ছিল কুমিল্লা। গোমতী-মেঘনা-তিতাস-ডাকাতিয়া বিধৌত কুমিল্লা একসময় অবিভক্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানীও ছিল। বাংলাদেশ শুধু নয়, এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদের একটি কুমিল্লা। এই জনপদের স্তরে স্তরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। কুমিল্লার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নজরুলের অনেক স্মৃতি। এই শহরে নজরুল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন, এই শহরে নজরুল হাঁটতেন, এখানে বসে নজরুল কবিতা লিখতেন, এখানে আড্ডা মারতেন, এই কুমিল্লার বাতাসে ভেসে আসে উপমহাদেশের সংগীত সাধক শচীন দেব বর্মণের কণ্ঠ । এখানে এসেছেন অহিংসার বাণী নিয়ে ভারতবর্ষের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধী। বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদধূলিতে ধন্য হয়েছে এই কুমিল্লা। বুদ্ধদেব বসুর জন্ম কুমিল্লায়। ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ’দের সেতার ঝঙ্কার তুলেছে কুমিল্লার বাতাসে। পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলা ভাষার প্রস্তাবক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কুমিল্লার সন্তান। বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার অন্যতম সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলামও কুমিল্লার। এখানে রয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত দেশের একমাত্র সার্ভে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউট। কুমিল্লায় রয়েছে অষ্টম শতকে নির্মিত কোটবাড়ীর শালবন বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রত্নসম্পদ। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। আরো রয়েছে লালমাই পাহাড়,শাহ সুজা মসজিদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওয়ার সিমেট্রি, নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে যা আকর্ষণ করে ইতিহাসবিদ ও পর্যটকদের। এখানকার কোটবাড়িতে রয়েছে ড. আখতার হামিদ খানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), যেখানের সমবায় ধারণা আলোচিত বিশ^জুড়ে। কুমিল্লার খাদি শিল্প, তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ ও কারু শিল্প, রসমালাই, মিষ্টি, ময়নামতির শীতল পাটি সুনাম দেশজুড়ে। রসমালাই আর খাদির সুনাম তো বিশ্বজুড়ে । ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার রাজেশপুরে রয়েছে ইকোপার্ক। কুমিল্লা ইপিজেড, কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর, কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দিদার সমবায় সমিতি, দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষ এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে আসছে। সব মিলিয়ে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে কুমিল্লা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এই কুমিল্লাকে বলা হতো ব্যাংক আর ট্যাংকের শহর। যদিও অনেক দীঘি-পুকুর ভরাট করে ফেলেছে ভূমিদস্যুরা। তবু এখনও ঐতিহ্যে ভরপুর ধর্মসাগর, রাণীর দীঘি, নানুয়ার দীঘির মত অনেক জলাশয় টিকে আছে। একসময় অবিভক্ত ভারতের ব্যাংকিং আর সমবায়ের প্রাণকেন্দ্র ছিল কুমিল্লা।

কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাপ্তরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি। কুমিল্লা সবকিছুতেই অগ্রসরমাণ। কুমিল্লায় সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের অনেকগুলো দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এখানে বিদ্যমান রয়েছে। কুমিল্লায় সরকার আইটি ভিলেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু নানা কারণে কুমিল্লা অবহেলার পাত্রেই রূপ নিয়েছে।

প্রাচীনকালে সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল কুমিল্লা এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল। কুমিল্লা নামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত মতের মধ্যে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াং চোয়াঙ কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্ত থেকে। তার বর্ণ