Tag Archives: দৈনিক কুমিল্লার কাগজ

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়

কান্নাভেজা চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন সুয়ারেজ

কান্নাভেজা চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন সুয়ারেজ

ডেস্ক রিপোর্ট:

উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়া ৩৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় আগামী শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে) প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানাবেন।

গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে সুয়ারেজ তার অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। তবে জানাচ্ছি, আগামী শুক্রবারই জাতীয় দলের হয়ে আমার শেষ ম্যাচটি খেলব।”

তিনি আরও বলেন, “সৌভাগ্যবশত, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। কারণ আমি জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে যেতে চাই। আমার বয়স ৩৭ বছর, এবং আমি জানি, পরের বিশ্বকাপে খেলা অনেক কঠিন হবে। তবে এটা আমাকে সান্ত্বনা দেয় যে, আমি নিজের ইচ্ছায় অবসর নিতে পারছি। ইনজুরির কারণে নয় বা দল থেকে বাদ পড়ার কারণে নয়, বরং নিজের সিদ্ধান্তে অবসর নিতে পারছি। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমি নিজের ১০০ শতাংশ দিবো।”

গত জুলাইয়ে কোপা আমেরিকায় কানাডার বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন সুয়ারেজ। তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম আমার সন্তানরা দেখে যে, আমি দেশের হয়ে কিছু বড় অর্জন করেছি। শেষ গোলটি ওদের জন্য আনন্দের ছিল। আমরা ট্রফি জিততে পারিনি, তবে আমার সন্তানেরা আমার গোল দেখে খুশি হয়েছিল।” ঘরের মাঠে খেলে অবসর নিতে চেয়েছিলেন সুয়ারেজ, সেই কারণেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি বেছে নিয়েছেন।

২০০৭ সালে উরুগুয়ের জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত ১৪২টি ম্যাচ খেলেছেন এবং সর্বাধিক ৬৯টি গোলের রেকর্ড তার ঝুলিতে। ক্লাব ফুটবলে বর্তমানে তিনি আমেরিকান ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলছেন। এর আগে তারা বার্সেলোনাতেও একসঙ্গে খেলেছেন।

ভেজাল মদে সর্বনাশ

দিলীপের ভেজাল মদে সর্বনাশ

দিলীপের ভেজাল মদে সর্বনাশ

স্টাফ রিপোর্টার:

উন্নতমানের কাচের টুকরো বা নকল হীরা বিক্রিতে আলোচিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার ভেজাল মদে সর্বনাশ হচ্ছে লাখো মানুষের। আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য দিলীপের মদ বিক্রির কোম্পানি গুলশানের সাবের ট্রেডার্স লিমিটেড বা এসটিএল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড -এনবিআরের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্র বলছে, এসটিএল কূটনৈতিকদের ব্যবহারের জন্য আনা বন্ডেডওয়্যার হাউস সুবিধার মদ কালোবাজারে বিক্রি করে বিগত সাত বছরে সরকারের প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। এদিকে দেশে বন্ড সুবিধার মদে ভেজাল দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। ভেজাল ও নিম্নমানের মদ পানে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, মদ বিক্রির কোম্পানি সাবের ট্রেডার্স লিমিটেড বা এসটিএলে চট্টগ্রামভিত্তিক বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার ছিলেন এমপি আনার হত্যাকান্ডে আলোচিত সোনা ও হীরা চোরাকারবারির ডনখ্যাত দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিপন্থি হয়ে ওঠে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

এস আলম গ্রপের মালিকানাধীন ৭৫ শতাংশ শেয়ার থাকার পরও, মাত্র ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হয়ে দিলীপ রাতের আঁধারে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন পুরো সাবের ট্রেডার্স লিমিটেড। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েক শ কোটি টাকার শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মদের মজুদ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিলীপের মদের কোম্পানি সাবের ট্রেডার্সে এনবিআরের নজরদারি বাড়ানোর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে চলতি বছরের ২০ জুন রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি অফিসকক্ষ থেকে ফরহাদ (২১) ও ইমন (২৩) নামে দুই তরুণের লাশ উদ্ধার করে পল্টন থানা পুলিশ। এই দুজন বিষাক্ত মদ পানের কারণে মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ। এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল নওগাঁর মান্দায় বিষাক্ত মদপানের পর অসুস্থ তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকরা হলেন- উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে শারিকুল ইসলাম পিন্টু (২২), পাকুড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আশিক হোসেন (২২) ও প্রসাদপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের নেকবর আলীর ছেলে নাঈমুর রহমান নিশাত (২০)।

সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধের (মানস) হিসাব মতে, দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এর মধ্যে ১ কোটি মাদকাসক্ত এবং বাকি ৫০ লাখ মাঝেমধ্যে মাদক সেবন করে। সেই হিসাবে দেশের প্রায় ১৭ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে গড়ে প্রতি ১২ জনে (১১ দশমিক ৬৭) একজন মাদকসেবী। শতাংশের হিসাবে মোট জনংসংখ্যার ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ মাদকসেবী। মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করায় বাংলাদেশ মাদকের বড় ঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া সহজে পাওয়া যাচ্ছে যেকোনো মাদক। ফলে দিন দিন বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন পথে নতুন মাদকের অনুপ্রবেশ আরও বেশি আসক্ত করে তুলছে তরুণ ও যুবকদের। পাশাপাশি পূর্ণবয়স্ক এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যেও মাদকাসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৩-এর জুলাই পর্যন্ত মাদকাসক্ত হয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) চিকিৎসা নিতে গেছে অন্তত ৫০ হাজার মাদকসেবী। আর গত পাঁচ বছরে রিহ্যাবে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মাদকাসক্ত নারীর সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ গুণ। ১৫ ও তার কম বয়সী মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ।

মানসের চেয়ারম্যান ও জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের উপদেষ্টা সদস্য অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর মতে- মাদক হলো সব অপরাধের জনক। খুন, ধর্ষণ, পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার বেশির ভাগ ঘটছে মাদকের কারণে। এনবিআর সূত্র বলছে, বর্তমানে সারা দেশে দেড় শতাধিক লাইসেন্স পাওয়া মদের বার রয়েছে। যার ৮০ শতাংশ রাজধানীতে। এ ছাড়া বন্ড সুবিধায় আসা মদ কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা (প্রিভিলেজড পারসন) বেশি কেনেন। আমাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে তথ্য এসেছে, তারা ওই মদের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেন। এ ছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি, চোরাইপথেও মদ আসে। এসব মদ সরাসরি যায় দিলীপের মদ বিক্রির কোম্পানি সাবের ট্রেডার্স লিমিটেড বা এসটিএলে। এনআর সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধায় দেশে ছয় ধরনের মদ বা অ্যালকোহল-জাতীয় পানীয় বাংলাদেশে আসে।

আমদানি করা মদের মধ্যে রয়েছে- বিয়ার, স্পিরিটজাতীয় পানীয়, হুইস্কি, রাম ও টাফিয়া, গিন ও জেনিভা, ভদকা, লিকারস ও করডিয়ালস। এনবিআরের অধীন কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিস শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকা ছয়টি বারে মদের আমদানি ও সরবরাহ দেখভাল করে। এগুলো হলো- সাবের ট্রেডার্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ডিপ্লোম্যাটিক সার্ভিসেস, টস বন্ড, ন্যাশনাল ওয়্যারহাউজ, ঢাকা ওয়্যারহাউজ ও এইচ কবির অ্যান্ড কোম্পানি। এর মধ্যে পাঁচটি গুলশানে এবং একটি মহাখালীতে অবস্থিত। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রিভিলেজড পারসনদের শুল্কমুক্ত সুবিধার সনদ দিয়ে থাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধাপ্রাপ্ত বারগুলো বিপুল পরিমাণ শুল্কমুক্ত মদ এনে বাইরে বিক্রি করে দিত। এতে বারগুলো লাভবান হলেও সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাত। এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে ২০১৭ সালে ছয়টি বন্ডেড ওয়্যারহাউজে মদ আমদানি, তা বিক্রির পাস বই সংরক্ষণ; ক্রেতার শুল্কমুক্ত সুবিধার সনদ দেখানো এবং কোন ব্র্যান্ডের কতটুকু বিক্রি হলো তা প্রতি মাসে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। তবে শুরুর দিকে তা পরিপালন না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিরবতা ভেঙেছে এনবিআর।

এনবিআরের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, একজন প্রিভিলেজড পারসন বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মদ শুল্কমুক্ত সুবিধায় গ্রহণ করতে পারেন। এখন প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে পাস বইয়ের কপি ও শুল্কমুক্ত সুবিধার কপি জমা নেওয়া হচ্ছে প্রতি মাসে। ফলে অনিয়ম করে বাড়তি আমদানির সুযোগ কমে গেছে।

৫ ১০ ও ২০ টাকার নোট

৫, ১০ ও ২০ টাকার নোট বদলে যাবে

৫ ১০ ও ২০ টাকার নোট বদলে যাবে

ডেস্ক রিপোর্ট:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাজারে ৫, ১০ এবং ২০ টাকার কাগুজে নোটের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সরকার শিগগিরই এই নোটগুলো পরিবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, চলতি মাসে অথবা আগামী মাসে বাজেট পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আমরা ইতোমধ্যে বন্ধ করেছি। বর্তমানে জিডিপির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের মানুষকে মুদ্রা যত্ন সহকারে ব্যবহার করার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

মাদকের টাকার জন্য ঝগড়া

মাদকের টাকার জন্য ঝগড়া, বাবার আঘাতে ছেলের মৃত্যু

মাদকের টাকার জন্য ঝগড়া, বাবার আঘাতে ছেলের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মর্মান্তিক এক ঘটনায় এনায়েতুল (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে খুন করেছেন তার বাবা।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। ঘটনার পরপরই পুলিশ নিহতের বাবা, জয়নাল আবেদীন (৫৫), কে আটক করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসহাক মোল্লা জানিয়েছেন, এনায়েত মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে পরিবারে চাপ সৃষ্টি করতেন এবং টাকার জন্য চুরি করতেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তার বাবা তাকে বিদেশ পাঠান, কিন্তু বিদেশে গিয়েও এনায়েত থামেননি। দেশে ফিরে আবারও নেশার টাকার জন্য ঝগড়া শুরু করেন।

ইউপি সদস্য আরও জানান, এ নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। রোববার রাতে নেশার টাকার জন্য এনায়েত তার বাবার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জয়নাল রড দিয়ে ছেলের মাথায় আঘাত করেন, যা এনায়েতকে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর জয়নালকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য এনায়েতের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

৭ লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি

এখনো ৭ লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩ লাখ মানুষ

এখনো ৭ লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩ লাখ মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের ১১টি বন্যাক্রান্ত জেলার মধ্যে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, ফেনী, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কক্সবাজার। এছাড়া মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে এবং কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। এখনো প্রায় ৭ লাখ ৫ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫৩ লাখ ছাড়িয়েছে।

গতকাল রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশের চলমান বন্যা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেও এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, এখনো দেশের বন্যা আক্রান্ত জেলা ১১টি। সেগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর এবং কক্সবাজার।

এখনো দেশের ৬৮টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন বা পৌরসভা রয়েছে ৫০৪টি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বন্যায় গতকাল নতুন করে কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে পুরুষ ৪১ জন, নারী ছয় জন এবং শিশু ১২ জন।

এদের মধ্যে কুমিল্লায় মারা গেছেন ১৪ জন, ফেনীতে ২৩ জন, চট্টগ্রামে ছয় জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন, কক্সবাজারে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজন। এছাড়া এ সময়ে মৌলভীবাজারে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

বন্যায় পানিবন্দি বা ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৪২ জন মানুষ এবং ৩৪ হাজার ৫১৮টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১টি জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য মোট ৫১০টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৪ কোটি ৫২ লাখ নগদ টাকা এবং ২০ হাজার ৬৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩৫ লাখ টাকা শিশু খাদ্যের জন্য এবং ৩৫ লাখ টাকা গো-খাদ্যের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সংগৃহীত মোট ১ লাখ ৫৯ হà