Tag Archives: প্রধান উপদেষ্টা

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন: পরিবেশ উপদেষ্টা

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন: পরিবেশ উপদেষ্টা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ইসিও সে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি একনেক সভায় অংশ নেন।

নির্বাচনের সময় ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব হিসাব-নিকাশ বা কৌশল থাকতে পারে। তবে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।”

এসময় দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদেশি মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদেও আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্কও নেই।”

এছাড়া সিলেটে পাথর লুটের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেখানে প্রশাসনের যোগসাজশ ছিল বা তারা নীরব থেকেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।”

সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি। এবারের সম্মেলনে ৩৫৪টি প্রস্তাব উপস্থাপিত হবে। সম্মেলন শেষ হবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিসি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনগুলো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে কার্য-অধিবেশন এবং সমাপনী অধিবেশন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নবনির্মিত ভবনে হবে। এসব অধিবেশনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সভাপতিত্ব করবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দিক-নির্দেশনা দেবেন।

ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কার্য-অধিবেশনের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে। এ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

এছাড়াও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

এছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং মন্ত্রিপরিষদ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর ফিডব্যাক অধিবেশন ও সম্মেলনের মূল্যায়ন এবং সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেওয়াজ থাকলেও এবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে এ বছর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সাক্ষাৎ হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, সরকারের নীতিনির্ধারক এবং জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য সাধারণত প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ সম্মেলন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ডিসি সম্মেলন।

 

সংস্কার প্রতিবেদন থেকে হবে নতুন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

সংস্কার প্রতিবেদন থেকে হবে নতুন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

সংস্কার প্রতিবেদন থেকে হবে নতুন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

চারটি সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই সংস্কার প্রতিবেদনের মাধ্যমে যা গঠন করা হবে, তার উদ্দেশ্য হলো গণঅভ্যুত্থানের একটি চার্টার তৈরি করা, যা হবে নতুন বাংলাদেশের একটি চার্টার। এটি মতৈক্যের ভিত্তিতে তৈরি হবে, নির্বাচন হবে, সবকিছুই হবে, কিন্তু এই চার্টার থেকে সরে যাওয়া যাবে না।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই প্রতিবেদনগুলো কমিশনের সদস্যরা জমা দেন। এরপর বৈঠকে বসেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বহু ধরনের কমিটি গঠিত হয়, প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, আনুষ্ঠানিকতা হয়, কিন্তু আজকের এই আনুষ্ঠানিকতা তাদের চেয়ে অনেক উচ্চতর। এটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে, কারণ এই কমিশনগুলো ইতিহাসের প্রবাহ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির পুনরুত্থান ঘটেছে, এটি ইতিহাসের সৃষ্টি, এবং আজকের এই অনুষ্ঠান তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি আরও বলেন, আজ যে প্রতিবেদনগুলো আমরা হাতে নিয়েছি, এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা। কেউ এর গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারবে না। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে কমিশনের মাধ্যমে কাঠামো তৈরির কাজ আপনাদের হাতে দিয়েছিলাম। এখনও সেই স্বপ্নের রূপরেখা তুলে ধরতে হবে। এটি শেষ নয়, একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো। এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে আমরা জানব, আমরা কী করতে চাই। এটি হবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আলোচনার মূল উপাদান, এবং আমরা জানব, সবার মন এতে সায় দিচ্ছে কিনা।

ড. ইউনূস বলেন, এটি একটি স্বপ্ন, এবং সেই স্বপ্ন যদি মানুষের অংশ না হয়ে থাকে, তাহলে তা হতে পারে না। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চাই, যা ভেতর থেকে উদ্ভূত হবে, বাইরের চাপের মাধ্যমে নয়।

তিনি বলেন, যে আলোচনাগুলি হবে, সেখানে কমিশনের সদস্যরাই নেতৃত্ব দেবেন, কারণ আপনারাই তাদের পক্ষ থেকে স্বপ্ন দেখেছেন। এই স্বপ্ন আমাদের একত্রিত করবে, এবং আমরা একটি গণঅভ্যুত্থানের চার্টার গঠন করতে চাই। নতুন বাংলাদেশের চার্টার মতৈক্যের ভিত্তিতে তৈরি হবে, এবং নির্বাচনসহ সবকিছু এই চার্টারের ভিত্তিতে হবে, তবে এই চার্টার থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। এটি হবে আমাদের জাতীয় কমিটমেন্ট, কোনো দলীয় কমিটমেন্ট নয়। আমরা আশা করি, সব দল এই চার্টারে সাইনআপ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এটি একটি বাংলাদেশি, বাঙালি জাতির সনদ, যেটি আমাদের বুকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাব। যত দ্রুত সম্ভব, যত বেশি সম্ভব এটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হবে, সেটিও এই চার্টারের ভিত্তিতে হবে। নির্বাচনও হবে ঐকমত্যের নির্বাচন, নাহলে চার্টার হারিয়ে যাবে। তাই এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুদার, দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বেপজাকে বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে প্রচার করতে হবে

বেপজাকে বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে প্রচার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

বেপজাকে বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে প্রচার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) বিদেশে বাংলাদেশের প্রচার ও দেশের শিল্প খাতে আরও বিনিয়োগ আনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

৬ জানুয়ারি সোমবার, তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে এলে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বেপজা কর্মকর্তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থনৈতিক কূটনীতি পরিচালনা করতে একটি দল গঠন করার এবং বিদেশে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচার চালানোর আহ্বান জানান।

বিনিয়োগকারীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে, বিশেষ করে চীন ও জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলন এবং বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত তিন সপ্তাহে চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে এবং আরো বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল চালু রয়েছে, যেখানে ৪৫২টি কারখানা রয়েছে। এছাড়া ১৩৬টি কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে। চলমান কারখানাগুলোর মধ্যে ১০০টির বেশি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন, বাকি কারখানাগুলো যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত।

মেজর জেনারেল জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে জানালেন যে, বিনিয়োগকারীদের কিছু দাবির মধ্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, বেপজা এলাকায় বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা, চট্টগ্রাম-সাংহাই সরাসরি বিমান যোগাযোগ, এবং সাংহাই শহরে ভিসা কাউন্সিলর সেবা।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বেপজাকে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং গ্যাস অনুসন্ধান ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শক্তি আমদানি করে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখতে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী, যিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন এবং বেপজা ও বেজাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে, যাতে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ আসতে পারে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার প্রধান সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা সেনা সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা সেনা সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুস বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা সেনা সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এর জন্য আভিযানিক দক্ষতা, সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্ব অর্জনের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ বাস্তবসম্মত হতে হবে। রোববার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১:৩০টায় ৫৫ পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত রাজবাড়ী সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় ‘সেনাবাহিনীর ম্যানুভার অনুশীলন-২০২৪/২৫’-এ একটি পদাতিক ব্রিগেড গ্রুপের অনুশীলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মুহম্মদ ইউনুস বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির অহংকার ও বিশ্বাসের প্রতীক। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘প্রশিক্ষণই সর্বোত্তম কল্যাণ’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আভিযানিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে সেনাসদস্যরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণের এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আরও এগিয়ে যাবে।

অনুশীলনস্থলে প্রধান উপদেষ্টার আগমনকালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, যশোর এরিয়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান রাজবাড়ী সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় সেনাসদস্যদের জন্য প্রশাসনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি রাজবাড়ী সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন বছরে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের

নতুন বছরে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক: প্রধান উপদেষ্টা

নতুন বছরে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালি এবং বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নতুন বছরের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, নব উদ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়। নতুন বছরের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির নতুন শিখরে আরোহণে অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লাখো শহীদের রক্ত ও গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতাকে সর্বদা রক্ষা করার অঙ্গীকার করছে। আমরা দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করব এবং যেকোনো সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করব।’

নতুন বছরে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক এই কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৫ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি।’

২০২৫ সালের শেষের দিকে

২০২৫ সালের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে: প্রধান উপদেষ্টা

২০২৫ সালের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি অল্প কিছু সংস্কার এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়, তবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যদি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে হয়তো আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের মেয়াদে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, যা এখন দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জাতীয় সংহতি বিনষ্টের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি সবাইকে সচেতন থেকে জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সার্ক আমার কাছে অত্যন্ত

সার্ক আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা

সার্ক আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সার্ক আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই আমি সার্ককে সক্রিয় করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। ভারত-পাকিস্তানের কিছু ইস্যুর কারণে