Tag Archives: আদালত

মাকে কুপিয়ে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দায়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আমেনা বেগম নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দায়ে তার ছেলে রেদওয়ান হোসেন মিলনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১১ মে) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে এ রায় দেন।

মিলন রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি নিজেই তার মাকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও এজাহার সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিলন রাগ করে তার মা আমেনাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে কাপড় ও কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা তাদের বাসার গ্লাস ভেঙে দেখতে পায় মেঝেতে আগুন জ্বলছে। পরে দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে সবাই মেঝেতে আমেনার লাশ দেখতে পায়। আগুনে আমেনার শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে আটক করে। একইদিন আমেনার ভাই টিপু সুলতান বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

জবানবন্দিতে বলা হয়, চিকিৎসার জন্য মিলনকে ২-৩ জন ডাক্তার দেখায় তার মা আমেনা। এ নিয়েই তিনি মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এতে ফজরের আযানের আগ মূহুর্তে মিলন তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে কাপড় ও কম্বল মুড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

২০২২ সালের ২২ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. অলিউল্লাহ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সন্দেহাতীতভাবে আসামী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এ রায় দেওয়া হয়।

ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মাদরাসার আবাসিক ছাত্রকে (১২) বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের নাম হোজায়ফা (২২)। সে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ভবভদ্রী গ্রামের আমিন উল্যার বাড়ির মনিরুল আলম ভুঁইয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (৯ মে) বিকেলের দিকে ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রকে তার মাদরাসার শিক্ষক গত রোববার ৭ মে রাত ১১টার দিকে মাথা টিপার কথা বলে তার রুমে ডেকে নেয়। পরে তাকে কৌশলে বলৎকার করে ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে ভিকটিমকে ২শত টাকা দেন কাউকে বিষয়টি না বলার জন্য।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, এ ঘটনায় নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

কুমিল্লায় শিক্ষক হত্যায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষক সাইফুল আজম সুজনকে হত্যার ঘটনায় ছয় জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ মে) বেলা ১১টায় কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানায়, ২০১০ সালে কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকার শিক্ষক সুজনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আট আসামির মধ্যে এক জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর একজন বিচারাধীন সময়ে মারা যান।

তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মো. নয়ন, মো. কামাল ও মো. জামাল পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি মিঠুন, মো. ইলিয়াস ও জাকির হোসেন।

কুমিল্লায় বৃদ্ধা জবা হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় বৃদ্ধা জবা হত্যা মামলায় খোরশেদ আলম নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টায় এ রায় দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক বেগম সেলিনা আক্তার।

মামলার বিবরণে জানা যায়- অত্র মামলার এজাহারকারী স্ব-পরিবারে চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রাম থাকার কারণে তাহার ছোট ভাই জসিম উদ্দিনের স্ত্রী স্বপ্না বেগম তাঁর বৃদ্ধ মাতা জবা বেগম (৭৫) কে দেখাশুনা ও খাবার সরবরাহ করত। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১১টার সময় দালান ঘরের দরজা জালানা প্রতিদিনের ন্যায় বন্ধ করে পূর্ব পাশের ফ্লাটের দক্ষিণ পূর্ব পাশের রুমে ঘুমায়। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার সময় স্বপ্না বেগম তাঁর শাশুড়ি মাকে নাস্তা খাওয়ানোর জন্য দালান ঘরের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শাশুড়ি (জবা বেগম) কে বিছানায় শায়িত এবং মুখে বালিশ চাপা দেখিয়া ডাকাডাকি করে। একপর্যায়ে বালিশ সরাইয়া শাশুড়ির গলা কাটা রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় দেখিয়া চিৎকার করিলে অহিদুর রহমান মোবাইল ফোনে মৃতার বড় ছেলে মোঃ নুরুল আমিনকে জানাইলে চট্টগ্রাম হতে বেলা ২টায় বাড়ি পৌছে মায়ের লাশ দেখেন।

আরও জানা যায়- ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১১টা হইতে পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা অজ্ঞাত সংখ্যক দুস্কৃতিকারী কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার চুরি এবং বাদীর বৃদ্ধামাতা জবা বেগম (৭৫) কে ধারালো অস্ত্রাঘাতে খুন করে। এ ব্যাপারে ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নস্থ চান্দলা মিজান মিয়ার বাড়ীর মৃত মোঃ আব্দুর রশিদ এর ছেলে মোঃ নুরুল আমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দঃ বিঃ ৪৫৭/৩৮০/৩০২/৩৪ ধারার বিধান মতে নাঙ্গলকোট থানায় এজাহার দায়ের করেন (যাহার নাঙ্গলকোট থানার মামলা নং-১২, তাং- ২৭/১২/২০২১ইং)। এরপর র‍্যাব-১১ ছায়া তদন্ত শুরু করিলে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে খুনি খোরশেদ আলমকে চিহ্নিত করে ৩১ তারিখ একই উপজেলার সিজিয়ারা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর এর ছেলে মোঃ খোরশেদ আলম (২৫) কে আটক করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন সুমন ঘটনার তদন্তপূর্বক ২০২২ সালের ৩১ মার্চ বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ( যাহার নং-৩১)। এরপর মামলাটি বিচারে আসিলে রাষ্ট্র পক্ষে মানীত ১৩জন সাক্ষীর মধ্যে ১০জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানী অন্তে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মোঃ মজিবুর রহমান বাহার ও এড. শেখ মাসুদ ইকবাল মজুমদার এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট আ.হ.ম তাইফুর আলম ও এড. মোঃ ফারুক আহমেদ।

এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে এড. বাহার বলেন, শীঘ্রই এ রায় কার্যকর রাষ্ট্রপক্ষ ও এজাহারকারী দেখতে চায়।

কুমিল্লায় পরকীয়াতে বাঁধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা, ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

 

ইসতিয়াক আহমেদ:

কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পরিবহন নেতা রেজাউল করিম রাজা মিয়াকে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। এই সময় তিনজনকে ১০ হাজার করে অর্থদণ্ড প্রদান করে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত-৫ এর বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল (২৫), একই উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের আউয়াল কমিশনারের বাড়ীর মৃত রেজাউল করিম রাজা মিয়া স্ত্রী মোসাঃ আলো আক্তার (৩০) এবং চান্দিনা উপজেলার বশিকপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া জয়নাল মেম্বার বাড়ীর আঃ সামাদ প্রকাশ্যে সামাদ সরকার এর ছেলে মোঃ রাসেদ (২৮)।

মামলার এজাহারে জানা যায় মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার পুরাতন চরচাষি ছায়েদ আলী মুন্সী বাড়ীর মৃত ছোয়াব আলী বেপারীর ছেলে মৃত মোঃ রেজাউল করিম রাজা মিয়া তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তাহার শ্বশুর সাবেক কাউন্সিলর আঃ আউয়াল মিয়ার বাড়ির পাশে জমি ক্রয় করে বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করতেন।

এই সময় দাউদকান্দি বাসষ্ট্যান্ডে গজারিয়া পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত ছিলেন।

রাজা মিয়ার চাচা আঃ রউফ দাউদকান্দি উপজেলাধীন দোনারচর গ্রামে বসবাসরত অবস্থায় ২০১৪ সালের ১২ জুন রাত সাড়ে ১০টায় আঃ রউফ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মৃত রাজা মিয়াকে জানাতে মোবাইলে ফোন করে না পেয়ে তার বড় ভাই খাজা মিয়া ঐ রাতে দোনারচর চলে যান। এর পরদিন ১৩ জুন খাজা মিয়ার ছেলে সোহাগ ফোন করে জানায় আঃ আউয়ালের বাড়ির পাশে উঠানে রাজা মিয়াকে মেরে ফেলে রেখেছে । খবর পেয়ে খাজা মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজা মিয়ার লাশ দেখতে পান।

২০১৪ সালের ১৪ জুন ভিকটিমের বড় ভাই খাজা মিয়া বাদী পরকীয়া প্রেমের জের ধরে রাজা মিয়াকে হত্যার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। পরে পুলিশ সন্ধেহজনভাবে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী আলো আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অপর দুই আসামী তাপস চন্দ্র শীল ও রাসেদ এর নাম বললে পুলিশ অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।

আসামি গণ আদালতে ১৬৪ ধারার বিধানমতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করলে দাউদকান্দি থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রঞ্জন কুমার ঘোষ মামলার ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে আসামীগণের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করলে আদালত ২০১৫ সালের ২৭ মে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে।

রাষ্ট্রপক্ষ ২১জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে পলাতক আসামী তাপস চন্দ্র শীল, পলাতক আসামি মোসাঃ আলো আক্তার এবং আসামি মোঃ রাসেদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষনাকালে আসামি রাসেদ ডকে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি মোসাঃ আলো আক্তার ও তাপস চন্দ্র শীল পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি এড. মোঃ নজরুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. নোমান ও এড. মাসুদ সালাউদ্দিন।

এদিকে, রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এপিপি নজরুল বলেন- এর ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার এজাহারকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষ শীঘ্রই রায় কার্যকর করার জন্য জোর দাবী জানান।

অপরদিকে, আসামী পক্ষের বিজ্ঞ কৌশলী বিজ্ঞ এডভোকেট মোঃ মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, এ রায়ে আসামী পক্ষ ক্ষুদ্ধ। রায়ের কপি হাতে পেয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।

অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, ৮ জন গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ৮ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সুমন (৪০), হাছান (২০), আলাউদ্দিন প্রকাশ ইমন (২৫), মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (২৮), আব্দুর রহিম (২০). মো. সোহাগ (২৮), মো.ইয়াছিন আরাফাত সাকিব (২৩), সাবের হোসেন ওরফে সাব্বির (২১)।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আসামিদের নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, একইদিন ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকাগামী একটি হায়েস তল্লাশি করে দাউদকান্দি ব্রিজের সামনে থেকে আসামিদের গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রায় উত্যক্ত করত একই এলাকার সুমন। একই সাথে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় উপজেলার যাদবপুর গ্রামে ভিকটিমের বাড়িতে যায় সুমন ও তার ৪-৫ জন সাঙ্গপাঙ্গ। এ সময় তারা ভিকটিমের ভাবিকে মারধরে মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কবিরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ ১৩ জন গ্রেফতার

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ওয়ারেন্ট ও সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জয়মঙ্গলপুর গ্রামের আবু তাহের মজুমদারের ছেলে রাসেল মাহমুদ মজুমদার টিটু, উজিরপুর ইউনিয়নের সুয়ারখিল গ্রামের উজির আলীর ছেলে আক্তার হোসেন, উজিরপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান, ছিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী আছমা বেগম ও ছেলে মো: হোসেন, শুভপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে মনির হোসেন, ঘোলাপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গ্রামের দলিলুর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম খলিল, চিওড়া ইউনিয়নের ডিমাতলী গ্রামের সৈয়দুজ্জামানের ছেলে রফিকুল ইসলাম দুলাল, সাঙ্গিশ্বর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে মো: রিপন, একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মো: মুরাদ হোসেন, গুনবতী ইউনিয়নের খাটরা গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মনির হোসেন ও আলকরা ইউনিয়নের পূর্ব ডেকরা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে রিদোয়ান প্রকাশ হৃদয় ও বিজয়। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাজমুল হক।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা ও সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃতদেরকে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একাধিক অভিযানে ৪৩ কেজি গাঁজাসহ আটক ৫

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একাধিক অভিযানে ৪৩ কেজি গাঁজাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ এপ্রিল) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান, আলমগীর হোসেন ও মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায় ২৫ কেজি গাঁজাসহ জয়নাল আবেদীন ও নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মো: নাছির (২৭) প্রকাশ টোকাই নাছির, সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৪০), ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বেউতা এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে জয়নাল আবদীন (৩৫), একই এলাকার আলী আক্কাসের ছেলে নুরুজ্জামান (৩৮) ও চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে শাহাদাত (৩৩)।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক লিটন চাকমা ও বিকাশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের ঘাসিগ্রাম এলাকার মাহবুবুর রহমানের বাড়ির রাস্তার উপর হতে ১৪ কেজি গাঁজাসহ নাছির ও সুমন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

অপরদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক কাইয়ুম হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স পৌরসভার লক্ষীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রান্নাঘর থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ শাহাদত নামে একজনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’