Tag Archives: মৃত্যুদণ্ড

মহানবীকে অবমাননার দায়ে

মহানবীকে অবমাননার দায়ে ইরানে পপ তারকার মৃত্যুদণ্ড

মহানবীকে অবমাননার দায়ে ইরানে পপ তারকার মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে অবমাননা করার অভিযোগে ইরানের একটি আদালত পপ গায়ক আমির হোসেইন মাগসুদলু, যাকে তাতালু নামে পরিচিত, তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানায়।

ইরানি পত্রিকা “এতেমাদ”-এর বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির আপত্তি মেনে ব্লাসফেমির (ধর্ম অবমাননা) মামলায় আগে দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনরায় চালু করা হয় এবং আসামিকে নবী (সা.)–এর অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

তেহরানের প্রথম ফৌজদারি আদালত তাতালুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে এই রায় এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এটি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। তবে, ইরানি সংবাদমাধ্যম “ইরান ইন্টারন্যাশনাল” জানিয়েছে, তাতালুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর দেশটির বিচার বিভাগ অস্বীকার করেছে এবং তারা জানিয়েছে যে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি।

তাতালু ইরানের আন্ডারগ্রাউন্ড সংগীতশিল্পী। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ছিলেন, পরে তাকে ইরানে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং সেসময় থেকেই তিনি আটক রয়েছেন।

র্যাপ, পপ ও আরএন্ডবি মিশ্র সংগীতের জন্য পরিচিত তাতালু এর আগে ‘বেশ্যাবৃত্তি’ প্রচারের অভিযোগে ১০ বছরের সাজা পেয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও ‘অশ্লীল বিষয়বস্তু’ প্রকাশের অভিযোগ ছিল। তবে, বিতর্কিত ইমেজ থাকা সত্ত্বেও তিনি একসময় রক্ষণশীল ইরানি রাজনীতিকদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ২০১৭ সালে তিনি ইরানের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও অংশ নেন।

এছাড়া, ২০১৫ সালে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থনে একটি গান প্রকাশ করেন। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কর্মসূচিটি বাধার মুখে পড়ে।

কুমিল্লায় জোড়া খুনের মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ২০১৬ সালের একটি জোড়া খুনের মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সাত আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জহিরুল ইসলাম সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরী গ্রামের আতর আলীর ছেলে তোফায়েল আহমেদ তোতা (৩৮), মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন (৪৮), আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (২৮), মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে মো. বাবুল (৩৫) ও মৃত আনোয়ার আলীর হারুনুর রশিদ (৪৫)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরীর মৃত জনাব আলীর ছেলে হায়দার আলী (৬৫), আব্দুর রহিমের ছেলে আবদুল মান্নান (৩২), মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন (৪৫), মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবুল বাশার (২৮), মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে জাকির হোসেন, মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল কাদের (৩২) ও মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪৫)।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আমান (৪০) ও গ্রাম চৌয়ারার জুনাব আলীর ছেলে সেলিম মিয়া (৫০)।

আদালত সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালে ১২ আগস্ট রাত সোয়া ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাইতরী এলাকায় গিয়াসউদ্দিন ও জামাল হোসেন নামের দুজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মামলা করেন। পরে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

কুমিল্লায় অটোরিকশা চালককে হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় মো. নাজমুল হাসান (১৪) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোরপাই গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৬), মৃত আলম মিয়ার ছেলে মো. শিহাব (২০) ও নয় কামতা গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে মো. সোহেল মিয়া (২৮)। এ ছাড়া সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একই উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আবুল বাশার (৩৮)।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জানান, ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে মো. নাজমুল হাসান সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে ঘাতকরা তার পথরোধ করে তাকে জবাই করে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। নিহত অটোরিকশাচালক নাজমুল জেলার চান্দিনা উপজেলার মধ্যমতলা এলাকার আব্দুর রবের ছেলে। পরে নিহতের বাবা আব্দুর রব বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর বুড়িচং থানা পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তদন্তে নেমে চারজনের সংশ্লিষ্টতা পান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক সুমন ও বাশারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে তারা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ সময় অপর দুই আসামি শিহাব ও সোহেলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল সুমন, বাশার, শিহাব ও সোহেলকে অভিযুক্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারে এলে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিবেচনা করে আসামি সুমন, শিহাব ও সোহেলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অপর আসামি বাশারকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় সুমন, সোহেল ও বাশার কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিহাব পলাতক রয়েছেন।

কুমিল্লায় তিতাসে চাচাকে হত্যায় ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার তিতাসে হাজি নবী হোসেনকে (৬৪) গলা কেটে হত্যার দায়ে ভাতিজা আবদুল আউয়ালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি মজিবুর রহমান বাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল আউয়াল উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের কৈয়ারপাড় গ্রামের আবদুর রবের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি একটি মামলায় আবদুল আউয়ালকে গ্রেফতার করে তিতাস থানা পুলিশ। তিনি সন্দেহ করেন চাচা নবী হোসেনই তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। পরে আউয়াল জামিনে বেরিয়ে ২৪ মে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চাচা নবী হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং গলা কেটে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা নবী হোসেনকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওই দিন নবী হোসেনের ছেলে রাসেল বাদী হয়ে চাচাতো ভাই আউয়ালসহ অজ্ঞাতনামা দুই জনকে আসামি করে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম আউয়ালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

কুমিল্লায় হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইকতার হোসেনকে হত্যার দায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায়ে দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দাউদকান্দি উপজেলার কালাইরকান্দি গ্রামের নলি মিয়ার ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০), দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ (মন্তাজ সাহেবের বাড়ি) গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে ইমরান (১৮) এবং দাউদকান্দি উপজেলার জুরানপুর গ্রামের ডিপটির ছেলে সুমন (২২) ও দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ (রহমান সাহেবের বাড়ি) গ্রামের রুবেল (২৩)।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইকতার হোসেন রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তার পরিবার। পরদিন দাউদকান্দি থানা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, দুইজন ছিনতাইকারীকে দাউদকান্দি থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থানীয়রা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। আরও জানতে পারেন যে, ছিনতাইকারীরা যাত্রীবেশে সিএনজিতে উঠে ইকতারকে এলোপাতাড়ি মারধর ও পরে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর কচুরিপানা দিয়ে ডেকে মরদেহ গুম করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. আক্তার হোসেন বাদী হয়ে একই উপজেলার কালাইরকান্দি গ্রামের নলি মিয়ার ছেলে মো. জাহাঙ্গীর, দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে ইমরান এবং দাউদকান্দি উপজেলার জুরানপুর গ্রামের ডিপটির ছেলে সুমন ও দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের রুবেলকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে চারজনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার বাকচী তাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামি জাহাঙ্গীর ও ইমরানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় কোনো আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আব্দুর রব নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি প্রদীপ কুমার দত্ত এতথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে নাঙ্গলকোটের বামবাতাবাড়িয়ার আব্দুর রবের সঙ্গে বিয়ে হয় নিহত ঝর্ণা আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই আবদুর রব যৌতুকের জন্য ঝর্ণাকে নির্যাতন করতে থাকেন। বিভিন্ন সময় ঝর্ণাকে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুকের টাকায় আদায়ও করেন। একপর্যায়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুর রব। এরপর আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করা হলে ঝর্ণা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। টাকা না দিলে ঝর্ণাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন আব্দুর রব।

২০১০ সালের ২৯ নভেম্ব রাত আড়াইটার দিকে আব্দুর রবের মা রাবেয়া আক্তার ঝর্ণার বাবা শামসুল হককে ফোন করে জানান, আব্দুর রব তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর মারধর করে হত্যা করেছেন। পরে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ঝর্ণার মরদেহ দেখতে পান শামসুল হক।

এ ঘটনার পরদিন (৩০ নভেম্বর) শামসুল হক বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানি শেষে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর আদালত এ রায় দেন।

চাঁদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

চাঁদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরে স্ত্রী হত্যায় মাসুদ আলম ঢালী নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ আলম ঢালী উপজেলার মিরপুর গ্রামের মৃত বশির উল্যা ঢালীর ছেলে। হত্যার শিকার সেলিনা বেগম একই উপজেলার কড়ইতলী গ্রামের মৃত হাজী আবুল হাশেম খানের মেয়ে।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, মাসুদ আলম ঢালীর সঙ্গে ১৯৯৮ সেলিনা বেগমের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে সন্তান হয়। এরমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌতুক নিয়ে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মাসুদ সেলিনার গলাচেপে হত্যার চেষ্টা করে ব্যাপক মারধর করে। মার সহ্য করতে না পেরে সেলিনা ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাসুদ আবার সেখান থেকে ধরে এনে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করে। এরপর স্বজনরা তাকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সেলিনার মা আয়েশা বেগম ২০০৮ সালের ৫ জুলাই ফরিদগঞ্জ থানায় মাসুদ আলম ঢালীসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৭ জুলাই গৃহীত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সময় ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুভাষ কান্তি দাস তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সায়েদুল ইসলাম বাবু জানায়, মামলাটি ১৪ বছরের অধিক সময়ে চলমান অবস্থায় আদালত ১২ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আসামি অপরাধ স্বীকার করায় আদালত এ রায় দেন।

কুমিল্লার হোমনায় হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

কুমিল্লার হোমনায় হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার হোমনায় জজ মিয়া হত্যা মামলায় আজাদ মিয়া (৩৫) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিচারক আসামি আজাদ মিয়ার মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অপর দুই আসামি সালাউদ্দিন ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করা হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন।

আজাদ মিয়া হোমনা উপজেলার হোমনা সদরের সরদার বাড়ির বাহাদুর মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ মে সন্ধ্যায় জজ মিয়া বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে বাড়ির পাশে পৌর নতুন বাস স্ট্যান্ড খোলা মাঠে বসে মোবারক মিয়াসহ গল্প করছিলেন, এ সময়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা জজ মিয়াকে কিল ঘুষি লাথি এবং একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করে। এ ঘটনায় আহত জজ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

এ ব্যাপারে ২৩ মে মৃতের বড়ভাই হোমনা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মো. জুলহাস বাদী হয়ে হোমনা সরদার বাড়ির বাহাদুর মিয়ার ছেলে আসামি আজাদ মিয়া (৩৫), সালাউদ্দিন (২৮) ও নাসির উদ্দিনসহ (২২) চার জনের বিরুদ্ধে হত্যা মমালা দায়ের করেন। পুলিশ ২৮ মে আসামি আজাদ মিয়াকে গ্রেফতার করেন। অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. নরুল ইসলাম বলেন, আশা করছি মহামান্য হাইকোর্ট এ রায় বহাল রেখে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করবেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচ এম আবাদ বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

কুমিল্লায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা: ১৩ বছর পর ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার হোমনায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আবদুল করিম (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ১৩ বছর পর ২ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৪ জুন) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন। এসময় আদালত দুই আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেরও আদেশ দেয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাগমারা গ্রামে মো. মজনু মিয়া ও কবির মিয়