Tag Archives: কুমিল্লা জেলার উপজেলা সমূহ

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত কুমিল্লা ইপিজেডের দুই শ্রমিক

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত কুমিল্লা ইপিজেডের দুই শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর আশ্রাফপুর ইয়াছিন মার্কেট এলাকার ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে কাভার্ডভ্যানের চাপায় মো. মাসুম মিয়া ও মো. হাসান মিয়া নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তারা দুজনেই কুমিল্লা ইপিজেডে অবস্থিত চায়না প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিলেন।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মাসুম হোসেন ইপিজেডের ওয়েজিং বিডি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের টেক টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন, এবং হাসান মিয়া একই প্রতিষ্ঠানের মেটাল ব্রাঞ্চের ট্রেইনি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) কবির আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ছুটি হলে তারা দুজন মোটরসাইকেলে করে বাসার দিকে রওনা দেন। ইয়াছিন মার্কেট এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান তাদের মোটরসাইকেলে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই হাসান মিয়া মারা যান। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় মাসুমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ পরিদর্শক কবির আহমেদ জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

গণঅধিকার পরিষদের

গণঅধিকার পরিষদের চিওড়া ইউনিয়ন কমিটি গঠন

গণঅধিকার পরিষদের চিওড়া ইউনিয়ন কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) এর কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রবিবার (৮ই সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার প্যাডে উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক এবং সদস্য সচিব মোঃ ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পঁচিশ সদস্য বিশিষ্ট চিওড়া ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়।

এতে আহবায়ক হিসেবে কাজী মোঃ হাসান এবং মোঃ ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলো; যুগ্ম আহবায়ক- আসফাকুর রহমান, শাহাবুদ্দিন, কামাল মিয়া, জাকারিয়া রবিন, আরিফুর রহমান, কাজী বিপ্লব, যুগ্ম সদস্য সচিব- তৌহিদ হোসেন, ইকবাল হোসেন বাপ্পি, আবদুল হান্নান, শহিদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, ইমরান হোসেন, কার্যকরী সদস্য- ইসমাইল হোসেন, মিল্লাল হোসেন, তারেক রহমান, খোরশেদ আলম, মহিউদ্দিন, সুমন, আবুল ফয়সাল, মোঃ বাবলু, শিপন, রাজন, নজরুল। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘোষিত কমিটি ০৬ (ছয়) মাস সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।

এদিকে চিওড়া ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের নব-মনোনীত ২৫সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক কে এম ফরিদ আমিন। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি মনোনীত নেতৃবৃন্দের এবং ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক কাজের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দির পিপইয়াকান্দি আমানুল উলুম ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছেন ওই প্রতিষ্টানের শিক্ষক কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। রবিবার বেলা ১১টায় মাদরাসার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমবাবেশ বক্তব্য রাখেন মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক ছালেহ উদ্দিন ভুঞা, আবুল কালাম বিশ্বাস, প্রভাষক রাশিদা আক্তার, মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র সাচার কলেজের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন ও স্থানীয় কামাল হোসেন প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ২০০১সালে এই মাদরাসায় যোগদান করেন। প্রথম দিকে ভালো থাকলেও পরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। এমন অভিযোগ মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের জুন মাসে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। পরে কূটকৌশল অবলম্বন করে প্রভাবশালী লোকজনের মাধ্যমে একবছর তিনমাস পর আবার সে মাদরাসায় যোগদান করেন। এরপর তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতে মেতে উঠেন।

মাদরাসার পানি নিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সরকারি অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের মাধ্যমে টাকার বানিজ্য করেছেন।

বক্তারা বলেন , গত ১সেপ্টেম্বর মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীরা অধ্যক্ষের অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। বার বার অভিযোগ করলেও টাকার জোরে ধামাচাপা দিয়ে দেয় অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বক্তারা আরও বলেন, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মাদরাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীসহ অন্যান্য ছাত্রীদের যৌন হয়রানী করাসহ নানা কৌশলে ছাত্রীদের বিরক্ত করতেন। দুইজন মহিলা প্রভাষক রাশিদা আক্তার- (গণিত) ও রাশিদা আক্তার (জীব বিজ্ঞান) অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গত মার্চ মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। মাদরাসার শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং কুরুচিপূর্ণ ও অশালিন ভাষা ব্যবহার করতেন। সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করাসহ ছুটির আবেদনপত্র আবেদনকারী শিক্ষকের সামনেই ছিড়ে ফেলে দিতেন। আমরা এমন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের দ্রুত অপসারণের দাবী জানাচ্ছি।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ওখান থেকেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আউয়াল কমিশনের

আউয়াল কমিশনের পদত্যাগের ঘোষণা

আউয়াল কমিশনের পদত্যাগের ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাজী হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

কমিশনের অন্য চার সদস্য হলেন—অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর এবং আনিছুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনের পর, ইসি সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন বলে জানা গেছে।

২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজী হাবিবুল আউয়াল দেশের ১৩তম সিইসি হিসেবে নিয়োগ পান। তার কমিশনের অধীনে গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, এই কমিশনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন এবং উপনির্বাচনও পরিচালিত হয়।

এর আগে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পর এই নির্বাচন কমিশনাররা পদত্যাগ করেন। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন।

শেখ হাসিনার পতনের

শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যেসব পরিবর্তন হলো

শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যেসব পরিবর্তন হলো

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন এই সরকারের হাতে গত এক মাসে প্রশাসনের শীর্ষপদে ব্যাপক রদবদলের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনো চলছে কার্যক্রম। সেইসঙ্গে, দেশের আর্থিকখাতসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে সংস্কার উদ্যোগ।

স্থানীয় জনপ্রতিধিদের অপসারণ করে তাদের জায়গায় বসানো হয়েছে প্রশাসক। ব্যাংকখাত সংস্কারে সিদ্ধান্ত হয়েছে আলাদা কমিশন গঠনের। সেইসঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, অনিয়ম-জালিয়াতির ঋণ ও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার।

কর্মবিরতি ও হামলার ভয় কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরেছে পুলিশ। পোশাক ও লোগো পরিবর্তনসহ নানা সংস্কারের মাধ্যমে বাহিনীকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলার কথা বলছে নতুন সরকার।

এদিকে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আমলের এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হতে দেখা যাচ্ছে, গ্রেফতারও হয়েছেন অনেকে। এর বিপরীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক মামলার সাজা বাতিল করা হয়েছে। মুক্তি দেওয়া হয়েছে কারাগারে বন্দি বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। সেইসঙ্গে জামিন দেওয়া হয়েছে জঙ্গি কার্যক্রমসহ গুরুতর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে, যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক মাসে ঠিক কী কী ঘটনা ঘটেছে?

পুলিশের থানায় ফেরা

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন এলাকার বহু থানায় নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সারা দেশের ৬৩৯টি থানার মধ্যে অন্তত ৪৫০টি ‘আক্রান্ত’ হয়েছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। ভাঙচুর করে থানা জ্বালিয়ে দেওয়া, অস্ত্র ও মালামাল লুট, এমনকী পুলিশ হত্যার ঘটনাও তখন ঘটতে দেখা গেছে। সরকার পতনের আগে-পরে সহিংসতায় সারা দেশে পুলিশের কমপক্ষে ৪৪ জন সদস্য নিহত হন বলে জানান কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে নিরাপত্তা, পুলিশ হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণসহ বেশকিছু দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। এতে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়াসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতে ব্যাপক অবনতি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাত জেগে পাড়া-মহল্লায় পাহারা দেওয়া শুরু করেন। ফলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সারা দেশে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।

এ অবস্থায় ১১ অগাস্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে থানায় ফেরেন পুলিশ সদস্যরা। যদিও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে বাহিনীর পোশাক ও লোগো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও পোশাক ও লোগো পরিবর্তনের ফলে পুলিশের কাজে কতটুকু পরিবর্তন আসবে, সেটি নিয়ে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেছেন, প্রশ্ন আছে বিপুল ব্যয় নিয়েও।

প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল

গত এক মাসে প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে ব্যাপক রদবদল হতে দেখা গেছে। বিশেষতঃ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর। স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নতুন করে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ করা হয়েছে কয়েকশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে। অনেকেই হয়েছেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওএসডি)। বেশ কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরেও পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাদ পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দায়িত্বে থাকা তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করা মাসুদ বিন মোমেন।

একইভাবে চাকরি হারিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান।

এর আগে গত ৬ আগস্ট চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের চুক্তি বাতিল করে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) করা হয় অতিরিক্ত আইজিপি’র দায়িত্বে থাকা মো. ময়নুল ইসলামকে। বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ আরও অনেক কর্মকর্তাকে।

অন্যদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে যাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা ‘শেখ হাসিনার সরকারের অনুগত’ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের জায়গায় আগের কোণঠাসা বা বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তারা প্রাধান্য পাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।

সরকারি কর্ম কমিশনের পরীক্ষার সবধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গত দেড় যুগে নিয়োগ না পাওয়া আড়াইশ’র বেশি ব্যক্তিকেও সম্প্রতি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কাজে গতি আনতেই প্রশাসনে রদবদল আনা হচ্ছে।

‘দায়িত্বে থেকে এখন যারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না, সে সব জাতীয় জায়গায় দ্রুত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।-বলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি এটাও জানিয়েছেন, প্রশাসনের আগের চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে।

বিচার বিভাগে বড় পরিবর্তন

শেখ হাসিনার পতনের পর বিচার বিভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে দেখা গেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে গত ১০ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরাও তার সঙ্গে পদত্যাগ করেন।এ ঘটনার পর নতুন বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন আপিল বিভাগের বিচারক সৈয়দ রেফাত আহমেদ। একইভাবে, আপিল বিভাগে নতুন আরও চার বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান।

অন্যদিকে, আগের নিয়োগ বাতিল করে সম্প্রতি সারা দেশে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ২২৭ জন আইনজীবীকে নতুন নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ৬৬ আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৬১ আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পদত্যাগের হিড়িক

শেখ হাসিনার পতনের পর সরকারি, আধা-সরকারি, এমনকী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ছেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, অপমান-অপদস্তসহ নানান চাপের মুখে কর্তা ব্যক্তিরা পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত চার সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ শীর্ষ পদের ব্যক্তিরা দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিগগিরই নতুন উপাচার্য নিয়োগ হবে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

সেইসঙ্গে, কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে গত ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তার আগের দুইদিনে ডেপুটি গভর্নরসহ অন্তত চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাদা কাগজে লিখিত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়।

পরবর্তীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) সদ্য সাবেক নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরকে নতুন গভর্নর করা হয়। একইভাবে, গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকা ওয়াসা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকসহ অন্তত আটটি ব্যাংকের আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া প্রেসক্লাবের মতো প্রতিষ্ঠানেও শীর্ষপদে পরিবর্তন আসতে দেখা গেছে। একই ঘটনা ঘটেছে, সময় ও একাত্তর টেলিভিশনে।

বন্দি থেকে মুক্তি

মুক্তি দেওয়া হয়েছে কোটা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চলাকালে গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন গত দেড় দশকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ও কারাবন্দি বিএনপি, জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে ২০০৭ সালে যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন গিয়াস উদ্দিন আল মামুনও রয়েছেন।

এছাড়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দীন রাহমানী এবং হত্যা মামলার আলোচিত আসামি শেখ আসলাম, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়।

শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা

দুর্নীতি, হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানান অভিযোগ থাকার পরও গত দেড় দশকে যাদের বিরুদ্ধে সেভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি, আগের সরকারের সেইসব ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন মামলা হতে দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে ইতোমধ্যেই শতাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যেগুলোর বেশিরভাগই হত্যা মামলা।

একইভাবে আসামি হয়েছেন সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ সভাপতির পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের অনেকে।

সেইসঙ্গে, সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধে মামলা হতে দেখা গেছে।

বিভিন্ন মামলায় ইতোমধ্যেই আনিসুল হক, টিপু মুনশি, দীপু মণি, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমদ পলকসহ অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। আদালতে নেওয়ার সময় তাদের অনেকের উপর হামলাও হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শেখ হাসিনাসহ আগের সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট।

এছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, চট্টগ্রাম বন্দরের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলসহ অনেকে।

তবে কিছুক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ঢালাওভাবে বিভিন্ন মামলায় আসামি করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের কোনো শাস্তি হবে কি-না, সেটি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গুমের ঘটনা তদন্তে কমিশন

আওয়ামী লীগ আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া বা গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেরই খোঁজ মিলছে শেখ হাসিনার পতনের পর।

আগের সরকারের নির্দেশেই বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে তুলে নিয়ে বছরের পর পর আটকে রেখেছিলেন বলে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় জানা যাচ্ছে।

তেমনই একজন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর প্রয়াত গোলাম আজমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ২০১৬ সালের ২৩শে আগস্ট গুম হওয়ার আট বছর পরে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

একইভাবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক দল ‘ইউপিডিএফ’র সংগঠক মাইকেল চাকমা।

গুম থাকা এসব ব্যক্তিদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ‘আয়নাঘর’ নামে কথিত এক গোপন বন্দিশালার কথা। কথিত সেই ‘আয়না ঘর’ থেকে আরও মুক্তি পেয়েছেন জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে আহমেদ বিন কাশেম আরমান।

ফলে শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ যত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের স্বজনরাও এখন আশায় বুক বাঁধছেন।

তাদের দাবির মুখে সম্প্রতি পাঁচ সদস্যের একটি গুম তদন্ত কমিশন গঠন করেছে সরকার। গত দেড় দশকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণ হওয়া বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছে।