Tag Archives: জনদুর্ভোগ চরমে

তিতাসের সড়ক ধ্বসে পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জনদুর্ভোগ চরমে

 

তিতাস  প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর-লালপুর সড়কের শাহপুর শাহআলম শান্তির বাড়ির সামনে সড়ক ধসে পড়েছে। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সড়ক ধসের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, সড়কের উত্তর পাশে রয়েছে মাছের প্রজেক্ট দক্ষিণ পাশে তিতাস নদী। সড়ক ধসে পড়া স্থানের আশপাশে একটি কালভার্ট ছিল উক্ত কালভার্টটি বন্ধ করে ফেলায় মাছের প্রজেক্টের পানির চাপে সড়কটি ধসে পড়েছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

মাছের প্রজেক্ট মালিক শাহ আলম সরকার বলেন, যেখান দিয়ে সড়ক ধসে পড়েছে এখানে একটি কালভার্ট ছিল, এই কালভার্টটি বন্ধ করে দিয়েছে সড়কের পাশের বাড়ির শান্তি ভাই। যার ফলে সড়ক ধসে পড়েছে এতে করে আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে, প্রজেক্টের সব মাছ চলে গেছে।

এবিষয়ে শাহআলম শান্তি বলেন, আমি কোনো কালভার্ট বন্ধ করি নাই, যার মাছের প্রজেক্ট তারাই কালভার্ট বন্ধ করেছে।

মজিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, সকালে সড়ক ধসে পড়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.পারভেজ হোসেন সরকার ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, শিবপুর- লালপুর সড়কের শাহপুর অংশে সড়ক ধসে পড়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং মৎস্য প্রজেক্ট মালিককে বলে আসছি সড়ক মেরামত করে কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার জন্য।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনি আরও বলেন জনগণের দুর্ভোগ লাগবে উজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ অর্থায়নে সড়কটি মেরামত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দিবো এবং মৎস্য প্রজেক্ট মালিককে নোটিশ করেছি যাতে করে মৎস্য চাষ আইন মেনে মাছ চাষ করে।

ব্রাহ্মণপাড়ার দুলালপুর-বালিনা সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর-বালিনা সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় সড়কের দুই পাশে ভেঙ্গে এবং সড়কের মাঝখানে ছোট বড় গর্ত হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিনি শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মালবাহী পিক্যাপ ভ্যান, শত শত সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা। এই সড়কে চলাচলকারী পথচারীরাও নেই ঝুঁকির বাহিরে। উপজেলা সদর থেকে দুলালপুর হয়ে বালিনা যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দুলালপুর-বালিনা সড়কের বেশিরভাগ অংশেই ছোট বড় গর্ত হয়ে আছে। এ সড়কের বিভিন্ন অংশে দু’পাশ ভেঙ্গে খালে ও পুকুরে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়াও একটু বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের জন্য এক ঝুঁকিতে পরিনত হচ্ছে। যার জন্য শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চালক ও পথচারীদের।

দেখা গেছে, এ সড়কে কোথাও কোথাও চালকরা এবং যাত্রীরা সিএনজি ও অটো রিক্সা থেকে নেমে সড়কের পাশ থেকে মাটি ও ইট এনে গর্তে ফেলে তারা তাদের যানবাহন পারাপার করছে। কোথাও আবার যাত্রীরা পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাদের মালবাহী পিক্যাপ ভ্যান, শত শত সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা গর্ত পার করতে হচ্ছে।

এব্যাপারে আকরাম হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। বর্তমানে এ সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে যা আমাদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ভোগ। এ সড়কটি দিয়ে না পারতেছি হেটে চলাচল করতে, না পারতেছি যানবাহনে চলাচল করতে।

চালক আজাদ মিয়া বলেন, দুলালপুর-বালিনা সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার হচ্ছে না। আমরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। আর এ সড়কে চলাচলের কারনে প্রতিদিন আমাদের গাড়ি কোন না কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এ সড়কটি দ্রæত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিদের আহবান জানাই।

স্থানীয় আবুল কাশেম জানান, কয়েকদিন পর পর ইঞ্জিনিয়ারগণ এসে এই সড়কটি মেপে যান। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি দেখিনা। শুনেছি সড়কটি সংস্কারের জন্য নাকি নতুন করে আবারো অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু কেন যেন কাজ শুরু হচ্ছে না তা জানি না।

দুলালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান রিপন ভূইয়া বলেন, উপজেলার বড়ধুশিয়া থেকে গোলাবাড়িয়া ও বালিনা খালপাড় হয়ে দুলালপুর-বালিনা এ সড়কটি সংস্কার কাজের জন্য মাননীয় এমপি এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফলতিতে সংস্কার কাজের বিলম্ব হচ্ছে। তিনি জানান, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ প্রাথমিকভাবে সংস্কার করতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বৃষ্টি শেষ হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।