Tag Archives: প্রধানমন্ত্রী

স্যামসাংয়ের আয়োজনে কে-পপ কনসার্ট

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে অনুকরণীয় সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে কোরিয়া সপ্তাহ ২০২৩ উদযাপন করা হয়েছে। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে, কোরিয়া সপ্তাহের ‘শোকেস কোরিয়া ২০২৩’ মেলায় স্যামসাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের প্রথম কে-পপ কনসার্ট আয়োজিত হয়।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ও তায়কোয়ান্দো দলের এ মনোমুগ্ধকর পারফরমেন্স।

দু’দিনব্যাপী এ মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই -এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন; এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লি জাং কিউন।

অতিথিদের নিবন্ধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরে প্রধান অতিথি বেলা দেড়টায় ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। দুই দিনব্যাপী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে কোরীয় পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। অতিথি ও দর্শনার্থীদের সামনে কোরিয়ার সঙ্গীত ও সংস্কৃতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে কে-পপ কনসার্টের আয়োজন করা হয় স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই কে-পপ কনসার্টে ছেলেদের গ্রুপ ‘ট্যান’ ও মেয়েদের গ্রুপ ‘আইসিইউ’ অংশ নেয়। পাশাপাশি, কোরীয় মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দো প্রদর্শন করে ‘নলজা’। আয়োজনটি স্যামসাংয়ের টাইটেল স্পন্সরে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, অনুষ্ঠানে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস ও গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের সর্বশেষ সংস্করণ প্রদর্শন করে স্যামসাং।

অনুষ্ঠানে স্যামসাংয়ের সদ্য উন্মোচিত ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন গ্যালাক্সি এস২৩ আলট্রা (২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা) প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া, সেখানে স্যামসাংয়ের ফ্রেম ও সেরিফ টিভির মতো লাইফস্টাইল টিভির পাশাপাশি সর্বাধুনিক মডেলের টিভি, সদ্য উন্মোচিত বিস্পোক রেফ্রিজারেটর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রণের সুবিধাযুক্ত ওয়াশিং মেশিন প্রদর্শন করা হয়।

ক্রেতাদের আস্থা ও পছন্দের জায়গা থেকে স্যামসাং মোবাইল ও স্যামসাং টিভি ইন্টারব্র্যান্ড কর্তৃক সেরা ৫ গ্লোবাল ব্র্যান্ডের একটি এবং বাংলাদেশে সুপারব্র্যান্ডস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের নিদর্শন সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রাখছে স্যামসাং। পাশাপাশি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে গর্বিত অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে স্যামসাং।

দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য বদলাতে আসিনি, জনগণের ভাগ্য বদলাতে এসেছি

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য বদলাতে আসিনি, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। কেউ যখন মিথ্যা অপবাদ দেয়, সেই অপবাদ নিতে আমি রাজি না।

শনিবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন। নিজেদের সন্তান যেন মাদক, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়।

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন, মহামারির কারণে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। শত সমস্যার মধ্যেও আমরা দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, কোটালীপাড়াবাসিকে আগে শুধু পানি, খাল-বিল, বাঁশের সাঁকো পার হতে হতো। আজকে শুধু এখানে রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ করে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থিক সুবিধা করে দিয়েছি। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া আসতে ২২ ঘণ্টা সময় লাগতো লঞ্চ বা স্টিমারে। মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে আমরা এখানে পৌঁছে গেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক এই অপবাদ দিতে চেষ্টা করেছিল। তারা সফল হয়নি, তারা সেটা পারেনি। আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি বলে আজ এতো দ্রুত কোটালীপাড়ায় আসতে পারছি। বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে চলে, আমাদের কেউ অপবাদ দিলে আমরা তা মানব না।

 সরি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করলে বাংলার মানুষ নৌকা মার্কাকে ফিরিয়ে দেবেনা: হুইপ স্বপন  

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দলীয় নেতাকর্মিদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দয়া করে অহংকার করবেন না। এখন থেকে জনগণের দুয়ারে যান। ভুল মানুষ করে, ভুল ফেরেশতা করেনা। ভুল মানুষ করে, মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের দুয়ারে যান,তাদেরকে বুঝান তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমি বিশ্বাস করি বাংলার মানুষের কাছে যদি আমরা সরি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি বাঙলার মানুষ নৌকা মার্কাকে ফিরিয়ে দেবেনা।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বপন বলেন, আমাদের সৌভাঘ্য আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার থেকে বাঙালির কোন আপনর মানুষ নেই। বঙ্গবন্ধু যে ভাবে বাঙলার প্রত্যেকটি মানুষকে ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন বাঙলার প্রত্যেকটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানের কথা বলে গেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর রক্ত আদর্শের উত্তরাধিকারী। বঙ্গবন্ধুর কন্য এ রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ভোগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হননি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করেননা। তিনি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য রাজনীতি করেন। তার মত দক্ষ রাষ্ট্র নেতা, অভিজ্ঞ রাষ্ট নেতা পৃথিবীতে কম আছে। বাঙলার মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তিনি নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা ছাড়া এ মুর্হূতে বাঙলার মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাবে এমন কোন নেতা নেই। এজন্য আমাদের একজন নেতার উপর অভিমান করে দয়া করে সিন্ধান্ত নিতে ভুল করবেন না।

সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকেরের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাবুল বাবুর সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন,সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুর রহমান বেলায়েত, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা খানম, নোয়াখালী ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোরশেদ আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ.এম ইব্রাহিম, জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন শাহীন, সহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খন্দকার রুহুল আমিন ও ফুয়াদ হোসেন।

সম্মেলন শেসে বেলা আড়াইটার দিকে নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীে সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের কে সভাপতি সম্পাদক আ.ফ.ম বাবুল বাবুকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

আমি বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত: জানালেন শেখ হাসিনা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’ বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটানা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। এরমাঝে অনেক চড়াই-উৎরাই, খুন-খারাবি, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে অগ্নিসন্ত্রাস নানা কিছু ঘটেছে। তারপরও কিন্তু আমরা ক্ষমতায় ছিলাম বলে আজকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশটা ছোট। রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে আমাদের যে সমস্যা, সেটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছি। যেহেতু আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের ফেলে দিতে পারি না। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছি।’

বিশ্বশান্তি নিশ্চিতে জোর দিয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

সারাবিশ্বের মানুষের জীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে নিউইয়র্কে ইউএনজিএ-এর ৭৭তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বহুপাক্ষিকতার ওপর জোর দেবেন। আমরা শান্তির প্রতি জোর দেবো, আমরা বলবো যে, কোনো ধরনের সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সর্বোত্তম উপায় হলো সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এ বিষয়টিও উল্লেখ করবেন যে, বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারিকে খুব ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে এবং মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ যথেষ্ট অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে এবং তা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা তুলে ধরবেন।

মোমেন বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ এবং প্রণোদনা দিয়েছি। আমরা সেগুলোও সেখানে তুলে ধরবো। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে জলবায়ু সমস্যাও তুলে ধরবেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় বলি যে, আমাদের বিশ্বকে বাঁচাতে হবে এবং এই বিশ্বকে বাঁচাতে যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা অবশ্যই ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়া উচিত নয়। আমরা প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না, এতে বিশ্বকে বাঁচাতে প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আশা করে যারা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব ভাগ করে নেবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সেটাই তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।

মোমেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে ভূমিহীনদের ঘর দিচ্ছে। আমরা মানুষকে একটি বাড়ি এবং একটি জীবন দিচ্ছি। আমরা বিশ্বকে দেখাবো যে, আমরা খুব ভালো কাজ করেছি।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মূল ফোকাস হচ্ছে দেশটি শান্তি চায়। শান্তি ও স্থিতিশীলতা সাধারণ মানুষের মঙ্গলের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

ভিক্ষুকরা এখন আর পান্তাভাত খায় না,ভূমিহীনরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে: মতিয়া চৌধুরী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নে রোল মডেল। উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকবার আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কার পেয়েছেন। তাই বিশ্বে বাংলাদেশের উন্নয়নে স্বীকৃতি পেলেও বিএনপি তা চোখে দেখে না।

শনিবার দুপুর ১২টায় চরফ্যাশন টাউন হলে সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্মরণসভায় পৌর আওয়ামী লীগ সম্পাদক অধ্যক্ষ মনির আহমেদ শুভ্রর সঞ্চালনায় বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করেন। জনগণের মৌলিক পাঁচটি চাহিদা প্রধানমন্ত্রী পূরণ করেছেন। ভিক্ষুকরা এখন আর পান্তাভাত খায় না। ভূমিহীনগণ জমি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে।

বিএনপি দেশের মধ্যে হামলা-মামলা, ভাঙচুর করা ছাড়া কিছু জানে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে বানানো হবে। এ ধরনের হাস্যকর বক্তব্য দেওয়ায় জনগণ থেকে পর্যায়ক্রমে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।

শোকসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। এ ছাড়াও ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোমিন টুলু, চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন, সাধারণ সস্পাদক নুরুল ইসলাম ভিপি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

স্কুলে বিনামূল্যের বইয়ে ভুল তথ্য, ঝুঁকিতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ শুরু করেছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এসব বইয়ের বেশিরভাগেই দেশের সংবিধান, ভোটাভুটির ফল আর উৎসব নিয়ে ‘খটরমটর’ সব তথ্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন বর্ষের বই নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধানে এসব বিষয় উঠে এসেছে। এসব বই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ভুলে ভরা এসব বই দিয়েই শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে পড়াশোনা শুরু করেছে। নতুন বইয়ে এমন তথ্যে বিব্রত শিক্ষক, শিক্ষাবিদসহ সচেতন মানুষ।

তথ্যমতে, নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি ও নাগরিকতা বইয়ের ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন’ অধ্যায়ে ৭৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘একটি দল নির্বাচিত হয়ে সঠিকভাবে জনগণের জন্য কাজ না করলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ সাধারণত সেই দলকে আর নির্বাচিত করে না। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের এটি যেমন সত্যি তেমনিভাবে অনুন্নত দেশের ক্ষেত্রেও সত্যি। তেমনি, বাংলাদেশে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপিকে এবং ২০০৮ সালে বিএনপির পরিবর্তে আওয়ামী লীগকে এ দেশের জনগণ ক্ষমতায় বসায়’।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও রাজনীতিকরা বলছেন- পাঠ্যবইয়ে এটি লেখার মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের শাসনামলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। একইভাবে সরকারকেও বিব্রত করা হয়েছে চরমভাবে। বাংলাদেশের সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হলেও সংবিধান অধ্যায়ে ৫১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ‘১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে এ পর্যন্ত সংবিধান মোট ১৬ বার সংশোধন করা হয়েছে।’ অথচ ২০১৮ সালের এপ্রিলে সপ্তদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর তিন বছর পার হতে চললেও এটি সংশোধন করেনি এনসিটিবি।

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা অধ্যায়ে ৫৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘দেশের প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত। মন্ত্রিপরিষদই প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী’। অথচ সংবিধানের ৫৫ (২) অনুযায়ী- ‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাহার কর্তৃত্বে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।’ ৫৭ পৃষ্ঠায় রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- ‘কোন ব্যক্তি পর পর দুই মেয়াদ অর্থাৎ একটানা ১০ বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেন না’। অথচ সংবিধানের ৫০ (২) অনুযায়ী- ‘একাদিক্রমে হউক বা না হউক- দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।’ বইটির এ অধ্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও রাষ্ট্রপতি নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দেশে মোট ১১টি সংসদ নির্বাচন হলেও ৭৫ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে দেশে ১০ বার সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ৮৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলার জনগণ দ্বারা সরাসরি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়। অথচ জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী- ‘প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশন যদি থাকে তাহলে মেয়র ও কাউন্সিলরগণ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমন্ডলী গঠিত হবে।’

এদিকে সরকার শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে নিরুৎসাহিত করলেও পাঠ্যবইয়ে কোচিংকে শিক্ষার বাড়তি ‘সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটির ১১১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘মীনার বড় ভাই বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষকদের কাছে কোচিং করলেও তাকে কখনো এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়নি’। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, পাঠ্যবইয়ে এমন পাঠ সংযোজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে আগ্রহের অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন অধ্যায়ে ১৩৭ নং পৃষ্ঠায় জাতিসংঘ সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘শুরুতে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫০’। অথচ প্রতিষ্ঠাকালীনই জাতিসংঘের সদস্য ছিল ৫১টি দেশ। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। কিন্তু নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ের ১৮৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন’। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, জাতীয় এ নেতাকে ভুলভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভুল ইতিহাস শেখানো হচ্ছে। ডা. শামসুল আলম খান মিলন তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলেও বইয়ের ২১৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন’। নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ বইয়ে বাংলাদেশের উৎসবের বিবরণে ২১ ফেব্রুয়ারি ও মহররমকে উৎসব হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং মহররমের ১০ তারিখে আশুরা, যা শোক হিসেবে পালিত হয়। এ ছাড়া বইটির ১২৭ পৃষ্ঠায় বৈশাখী মেলার বিবরণ দেওয়া হলেও পয়লা বৈশাখে রমনার বটমূলে দেশের বৃহৎ আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। পাঠ্য বইগুলোতে অনেক বানান ভুল লক্ষ্য করা গেছে।

অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা বইয়ের ২৭ পৃষ্ঠায় ‘বিব্রত’ শব্দের শব্দার্থ হিসেবে লেখা হয়েছে ব্যাকুল, ব্যতিব্যস্ত। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে ‘রহমানের মা’ অধ্যায়ে লেখকের পরিচয়ে বলা হয়েছে- রণেশ দাশগুপ্ত ঢাকার লৌহজংয়ের গাউপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জানা গেছে, এ লেখক ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। বইটির ‘পোস্টার’ অধ্যায়ে লেখকের পরিচয়ে বলা হয়েছে- আবুল হোসেন খুলনা জেলার ফকিরহাট থানায় জন্মগ্রহণ করেন। কার্যত, ফকিরহাট থানা বর্তমানে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। ফকিরহাট একসময় খুলনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই হিসাবে লেখার ক্ষেত্রে ‘তৎকালীন’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত ছিল। বইটিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। দুই শ্রেণির দুটি বইয়ে একই লেখকের পরিচিতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ে ‘অবাক জলপান’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে ‘সুকুমার রায় ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।’ অথচ নবম-দশম শ্রেণির ‘ছায়াবাজি’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে- এ লেখকের মৃত্যু হয় ১৯২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। এনসিটিবি প্রণীত একই লেখকের ভিন্ন ভিন্ন তথ্যে বিভ্রান্ত শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরাও। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা পাঠ্যবইয়ের এসব ভুল সম্পর্কে প্রতিবেদককে বলেন, বইগুলো ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে। ভুল হয়ে থাকলে এসব বইয়ের লেখক, সম্পাদনা পরিষদ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বসব আমরা। লেখকরা কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এসব লিখেছেন সে ব্যাপারে বাখ্যা চাওয়া হবে। যাচাই করে ভুল পাওয়া গেলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে।