Tag Archives: আওয়ামীলীগ

এক যুগ পর অফিস পেলো দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগ

এক যুগ পর অফিস পেলো দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগ

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

প্রায় ১২ বছর পর আওয়ামীলীগের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা শাখা কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা শাখার কার্যালয় উদ্বোধন করেন।

দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি একেএম সফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আবদুল মতিন মুন্সি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর, যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক একেএম সফিকুল আলম ভিপি কামাল, সহ দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল হোসাইন, ইউএসএ শেখ রাসেল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা.ফেরদৌস খন্দকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার, মো. জলিল চৌধুরী, মফিজ উদ্দিন দুলাল, মো. মোসলেহ উদ্দিন মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখারুল আলম তুষার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকার, দপ্তর সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন ভঁ‚ইয়া মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইঞ্জি. গাজী রাসেল বিল সালাম সহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেনসহ পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে দোয়া-মুনাজাতের মাধ্যমে দেবিদ্বারে উপজেলা শাখা আওয়ামীলীগের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

আওয়ামীলীগ নেতারা চান খালি মাঠে ওয়াকওভার: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো অংশ নিক ক্ষমতাসীনরা সেটি চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা চান খালি মাঠে ওয়াকওভার।

নব্বইয়ের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মণির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে লড়াই সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনি ব্যবস্থা সঠিকভাবে করার জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ভোট দিতে পারব কি পারব না তার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। আমার ভোট আমি দিতে পারব কিনা তার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, এমনভাবে কথা-বার্তা আসে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্য থেকে যে, মনে হয় এটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং এটা একজনেরই সম্পত্তি।

তিনি জানায়, ‘এখন আওয়ামী লীগের যে বক্তব্য, তাতে ওই কথাই প্রধান হয়ে উঠে আসে—আরে এটা তো আমার সম্পত্তি, তুমি আবার এর মধ্যে কোত্থেকে নাক গলাও! এই জিনিসটা এসে গেছে তাদের মধ্যে।’

এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জাগপা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদত হোসেন, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এডিপি চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, বিকল্প ধারার নূরুল ইসলাম বেপারী, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এস এম শাওন সাদেকি, মাইনরিটি জনতা পার্টির চেয়ারম্যান সুকৃতি মন্ডল প্রমুখ।

রুহুল আমিনকে অবাঞ্চিত ঘোষকদের এবার অবাঞ্চিত ঘোষণা করলেন এমপি রাজী ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি বলেছেন,  কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রুহুুল আমিন সাহেবকে যারা  অশিক্ষিতদের মত অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে , আমিও এসব অবাঞ্চিত ঘোষকদের  অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম । সেই সাথে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। যারা অশিক্ষিতদের মত হীন আচরণ করে তাদেরকে স্কুলে গিয়ে প্রকৃত শিক্ষা আহরণ করার অনুরোধ করছি।

বুধবার (১০ মে) সকালে  দেবিদ্বার পৌর মিলনায়তনে  আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে  তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় সভায় সাংসদ রাজী ফখরুল এ কথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ কে এম মনিরুজ্জামান মাষ্টারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধুরি’র সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি।

এসময় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্যিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম ওমানী, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী সভাপতি নেত্রী ও জেলা পরিষদ সদস্য শিরিন সুলতানা, আওয়ামীলীগ নেতা আবুল খায়ের, হাজী আব্দুল কাইয়ুম ভূইয়া, হাজী কেফায়েত উল্লাহ, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগ নেতা মোঃ সাইফুল ইসলাম শামীম, দেবিদ্বার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জীবন দাশ, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান সুমন, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ইকবাল হোসেন রুবেল ও উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ খাঁনসহ প্রমূখ।

ঘোমটা পরে বিএনপি নির্বাচনে আসবে: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচনে ৩০টি সিট জুটবে কি না সেটা ভেবেই বিএনপি নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি না এলেও ঘোমটা পরে আসবে। এটা তাদের রাজনীতির আরেক ভণ্ডামি।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক ‌‘মুজিবনগর দিবস’ পালন উপলক্ষে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং এখানকার দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা মহল বিএনপির নেতৃত্বে। এরা কখনো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত দিবসগুলোকে পালন করে না, উপেক্ষা করে। এর মধ্যে ১৭ এপ্রিল একটি। এদিন দেখবেন বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।

বিএনপি ৭ মার্চ পালন করে না উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পথে স্বাধীকার আন্দোলনে ৭ জুন গুরুত্বপূর্ণ। এদিনও তারা পালন করে না। এরা নাকি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী! দেখবেন তাদের বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু নেই। তাদের অনুষ্ঠানমালায় বঙ্গবন্ধু নেই। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার মহানায়ক নেই।’

জিয়াউর রহমান যা শুরু করে দিয়েছিল সেই ধারা বিএনপি এখনো অব্যাহত রেখেছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি এমনটা করেছে, এখনো তারা সেই ভাবধারা বহন করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় তারা বিশ্বাস করে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার পাঠক মাত্র। ঘোষণার পাঠক ঘোষক হতে পারে না। স্বাধীনতার ঘোষণা অনেকেই পাঠ করেছেন। স্বাধীনতা ঘোষণার একমাত্র বৈধ অধিকার ছিল বঙ্গবন্ধুর। সত্তরের নির্বাচনে জনগণ তাকে সেই ম্যান্ডেট দিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুদীর্ঘ ও সুবিশাল ইতিহাস স্বাধীনতা সংগ্রামের। একটা বাঁশির ফুতে হয়নি। সেখানে বীরের বীরত্ব আছে, পাশাপাশি ষড়যন্ত্রও আছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের ফুটনোট হতে পারে, তাকে নায়ক -মহানায়ক বানানো বিএনপির উদ্ভট কল্পনা, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে যারা স্বাধীনতার আদর্শ বিরোধী, চেতনা বিরোধী- এই অপশক্তি বাংলাদেশে বিস্তার করছে। এই বিষবৃক্ষ উৎপাটন পর্যন্ত আমাদের লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপির নেতৃত্বের অপরাজনীতিকে পরাজিত করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, উপপ্রচার সম্পাদক আবদুল আউয়াল শামীম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ নির্দিষ্ট জেলাসমূহের দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

 সরি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করলে বাংলার মানুষ নৌকা মার্কাকে ফিরিয়ে দেবেনা: হুইপ স্বপন  

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দলীয় নেতাকর্মিদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দয়া করে অহংকার করবেন না। এখন থেকে জনগণের দুয়ারে যান। ভুল মানুষ করে, ভুল ফেরেশতা করেনা। ভুল মানুষ করে, মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের দুয়ারে যান,তাদেরকে বুঝান তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমি বিশ্বাস করি বাংলার মানুষের কাছে যদি আমরা সরি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি বাঙলার মানুষ নৌকা মার্কাকে ফিরিয়ে দেবেনা।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বপন বলেন, আমাদের সৌভাঘ্য আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার থেকে বাঙালির কোন আপনর মানুষ নেই। বঙ্গবন্ধু যে ভাবে বাঙলার প্রত্যেকটি মানুষকে ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন বাঙলার প্রত্যেকটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানের কথা বলে গেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর রক্ত আদর্শের উত্তরাধিকারী। বঙ্গবন্ধুর কন্য এ রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ভোগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হননি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করেননা। তিনি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য রাজনীতি করেন। তার মত দক্ষ রাষ্ট্র নেতা, অভিজ্ঞ রাষ্ট নেতা পৃথিবীতে কম আছে। বাঙলার মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তিনি নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা ছাড়া এ মুর্হূতে বাঙলার মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাবে এমন কোন নেতা নেই। এজন্য আমাদের একজন নেতার উপর অভিমান করে দয়া করে সিন্ধান্ত নিতে ভুল করবেন না।

সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকেরের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাবুল বাবুর সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন,সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুর রহমান বেলায়েত, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা খানম, নোয়াখালী ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোরশেদ আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ.এম ইব্রাহিম, জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন শাহীন, সহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খন্দকার রুহুল আমিন ও ফুয়াদ হোসেন।

সম্মেলন শেসে বেলা আড়াইটার দিকে নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীে সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের কে সভাপতি সম্পাদক আ.ফ.ম বাবুল বাবুকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ঘোষিত কমিটি ঘিরে বির্তকের ঝড়

 

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:
দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পদপ্রাপ্তিদের নিয়ে যেমন অভিনন্দনের বার্তা প্রকাশ হচ্ছে, তেমনি ত্যাগি পদবঞ্চিতদের সমর্থকরা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।
মাঠ পর্যায়ের ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে হত্যা মামলার আসামি, স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও বেশিরভাগ নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘোষিত এ যুবলীগ কমিটি নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় এখন তুঙ্গে।

এত বছর পর নতুন কমিটি হল, সমালোচনা কেন হচ্ছে ? স্থানীয় ত্যাগি নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রকৃত মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ কমিটিতে স্থান পায় নি। ঘোষিত কমিটিতে স্থান পাওয়াদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া বেশিরভাগই মাঠে নিস্ক্রিয় ছিলেন । তাছাড়া এই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে স্থান পাওয়া আবদুস ছোবহান খন্দকার সেলিম কুমিল্লার নগরীর আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি । এছাড়া সদস্য পদে থাকা মো: সোহেল সামাদ ( বরুড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক) বরুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ( দোয়াত কলম) হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া দুয়েকজনকে নিয়ে ফেসবুকে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। কমিটিতে কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস আতিকুর রহমান পিন্টু ও গাজী রিয়াজসহ অন্তত এক ডজন ত্যাগি নেতার স্থান হয়নি । বিশেষ করে আতিকুর রহমান পিন্টু ও গাজী রিয়াজ মাহমুদের না থাকাটা অবাক করেছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

কুমিল্লা সদর , সদর দক্ষিণ, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, নাঙ্গলকোট, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নিয়ে দক্ষিণ জেলা গঠিত। ১৯৯৭ সালে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট ৩ বছর মেয়াদের দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে শাহীনুল ইসলাম শাহীনকে সভাপতি ও মঞ্জুর মোর্শেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১২ সালের ১৭ জুন ওই কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এরপর আর কমিটি হয়নি। বর্তমানে দক্ষিণ জেলায় বাংলাদেশ সরকারের দুইজন প্রভাবশালী মন্ত্রী রয়েছেন। তাই দুই মন্ত্রীর লোকজনই কমিটিতে বেশ প্রাধান্য পেয়েছে। তাছাড়া সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের কয়েকজন কর্মী কমিটিতে জায়গা পেয়েছে। কমিটিতে স্থান পায়নি আফজল খান গ্রুপের কোন নেতাকর্মী।

কমিটির আহ্বায়ক পদে রয়েছেন কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মো. কামরুল হাসান শাহিন , যিনি অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মোস্তফা কামাল এমপির ভাতিঝা। ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন লাকসাম পৌরসভার মেয়র মো: আবুল খায়ের, যিনি এলজিইডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সমর্থিত এবং ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস ছোবহান খন্দকার সেলিম সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব সমর্থিত।

কমিটিতে এক নম্বর সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়া চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার । অনেকে ভেবেছিলেন এমপির সাথে বিরোধের কারণে হয়তো পদ নাও পেতে পারেন শাহজালাল মজুমদার। কিন্তু তিনি কমিটিতে ভালভাবেই স্থান পেয়েছেন। এই কমিটিতে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী সমর্থিত ৩ জন স্থান পেয়েছেন।

জানা যায়, কমিটিতে কুমিল্লার প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিবিদ আফজল খানের মেয়ে সংরক্ষিত এমপি আনজুম সুলতানা সীমা ও ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান সমর্থিত কোন নেতাকর্মী স্থান পায় নি। গাজী রিয়াজ, মুকিত বিন হেলাল, আব্দুর রহমান, বাবু, গোলাম মোস্তফা শরীফসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী কমিটিতে স্থান পেতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু আফজল খান গ্রুপের কেউই কমিটিতে জায়গা পায়নি।

কমিটি ঘোষণার পূর্বে শীর্ষ পদে প্রার্থী হিসেবে মো. কামরুল হাসান শাহিন , আতিকুর রহমান পিন্টু, গাজী রিয়াজ মাহমুদ, মো: আবুল খায়ের, শাহজালাল মজুমদার, আবদুস ছোবহান খন্দকার সেলিমের নাম আলোচনায় ছিল। কিন্তু কমিটিতে আতিকুর রহমান পিন্টু ও গাজী রিয়াজ মাহমুদ অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে স্থান পায় নি। এছাড়া কমিটিতে সাইফুল ইসলাম সুমন, কাজী নাহিদ, গোলাম মোস্তফা শরীফ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু তৈয়ব অপি, সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক মুকিত বিন হেলাল ও হুসাইন মোহাম্মদ মনিরের নাম অন্তত সদস্য হিসেবেও আসতে পারতো বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, ওয়ান ইলেভেনের সময় আ’লীগ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার প্রতিবাদে কুমিল্লা টাউনহলের সামনে আতিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। এছাড়া মাঠে সব সময় সক্রিয় ছিলেন যুবলীগ নেতা পিন্টু। গাজী রিয়াজ মাহমুদও মাঠে সব সময় সক্রিয় ছিলেন। তাদের দুজনের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় । অথচ তারাই কমিটিতে নেই।

ত্যাগি নেতাদের কমিটিতে না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে প্রতিবাদে সোচ্চার নেতাকর্মীরা।

ফেসবুকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা কাজী নাহিদুল হক লিখেছেন- “ যোগ্যতা থাকাটাই সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা কুমিল্লার আওয়ামী রাজনীতিতে। ”

এমডি মুরাদ লিখেছেন- “ আতিকুর রহমান পিন্টু ও গাজী রিয়াজ মাহমুদের প্রতি অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। জয় হউক তেলবাজের। ”

চামেলি মনির লিখেছেন- “ ত্যাগীদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। ”

যুবলীগ নেতা মো: জসিম খান লিখেছেন- “ গাজী রিয়াজ মাহমুদসহ অনেক সাবেক সফল, মেধাবী, ত্যাগি এবং ভাল সংগঠক ছাত্রলীগ নেতারা জেলা যুবলীগের কমিটিতে নেই, বিষয়টা মেনে নিতে কস্ট হচ্ছে।” মাঠের আরো নেতাকর্মীদের প্রতিবাদে সোচ্ছার এখন ফেসবুক।

কমিটিতে স্থান না পাওয়া নিয়ে কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক জি এস আতিকুর রহমান খান পিন্টু জানান, কমিটিতে মাঠের সক্রিয় ও পরিশ্রমি নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অনেক নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীরা কমিটিতে স্থান পেয়েছে। হত্যা মামলার আসামি আবদুস ছোবহান খন্দকার সেলিম কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক। মাঠের ত্যাগি নেতাদের কমিটিতে স্থান না পাওয়া হতাশার বিষয়।

কোতয়ালী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী রিয়াজ মাহমুদ জানান, কুমিল্লার রাজনীতিতে গ্রুপিং অনেক। এর কারনেই আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই কমিটিতে মাঠের সক্রিয় কর্মী নেই। সেন্টারিং মিস্ত্রি,তরকারি বিক্রেতা ও রাজমিস্ত্রিরা স্থান পেয়েছে কমিটিতে ।

আবদুস ছোবহান খন্দকার সেলিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটা রাজনৈতিক মামলা। এসব ষড়যন্ত্র করে সফল হওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য যে, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে কমিটির অনুমোদন দেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা হলেন, শাহজালাল মজুমদার, সুমির বড়ুয়া তপু, আবদুল মোতালেব, আবদুল কাদের, সোহেল সামাদ, আবাদ উদ্দিন বঙ্গবাসী, ইসরাক মাহমুদ মাসুদ, আলা উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ সাহিদুল ইসলাম টিপু, মাহবুবুর রহমান, জিয়াউর রহমান খান, মোশারফ হোসেন মজুমদার, আবদুল আলিম, মাহবুবুল হক মোল্লা বাবলু, আবুল কালাম আজাদ, বক্তার হোসেন, মাসুদ আলম, নজরুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, আশিকুর রহমান ভূঁইয়া জুয়েল, গাজী মো. মনির হোসেন, আলাউদ্দিন আহমেদ রিপন, ওমর ফারুক, আল মাহমুদ ভূঁইয়া, জালাল উদ্দিন, ফোরকান আহাম্মদ সবুজ, মহসিন আলম খান, শাহ আলম, ইমতিয়াজ হাবিব সিনহা, সফিউল আলম সুমন, আশিকুর রহমান হাওলাদার হিরণ, গোলাম কিবরিয়া, জাহিদুল হাসান পলাশ, এয়ার আহাম্মদ সেলিম, আবদুল করিম মিয়াজী, রাসেদুর ইসলাম আশরাফ, নাজমুল হক ও অপু ভট্টাচার্য। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সব শাখার সম্মেলন শেষ করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সম্মেলন করতে হবে বলে কেন্দ্রে থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দেবিদ্বার আ’লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের আশংকা, সভাপতি-সম্পাদক পদে প্রায় ৫০ প্রার্থী

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

দীর্ঘ ২৭ বছর পর দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুক্রবার । সম্মেলন মূলত ছিল ২১ জুলাই। এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় সম্মেলন পিছিয়ে ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলন ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব উৎসব ভাব দেখা গেলেও রয়েছে কমিটি ঘোষণা নিয়ে চরম উৎকন্ঠা ও সংঘর্ষের আশংকা। বেশ কয়েক মাস ধরে উত্তপ্ত দেবিদ্বারের রাজনীতি। সংঘর্ষ-হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিলে উপজেলা আ’লীগের রাজনীতি এখন উত্তেজনায় ভরপুর। দেবিদ্বার উপজেলা আ’লীগ মূলত এখন দুভাগে বিভক্ত। এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান – এই দুই গ্রুপে বিভক্ত উপজেলা আ’লীগ। সম্মেলনের দিনে কমিটি ঘোষিত হলে সেখানেই দুগ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হতে পারে বলে স্থানীয় বেশির ভাগ সূত্র দাবি করে। বিগত ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা নিয়েও সংঘর্ষ, অবরোধ হয়েছে। তাই উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন চরমে। সংঘর্ষ ও যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে সম্মেলনস্থলে কমিটি ঘোষণা না করে ঢাকা থেকে কমিটি ঘোষণা à¦