Tag Archives: স্বর্ণালংকার

কুমিল্লা গার্ডেন সিটি ভবন থেকে

কুমিল্লা গার্ডেন সিটি ভবন থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ ২৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি

কুমিল্লা গার্ডেন সিটি ভবন থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সহ ২৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি

শাহ ইমরান:

কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঝাউতলা ছাতি মসজিদ গেইটের কাছে অবস্থিত গার্ডেন সিটি নামীয় একটি বিল্ডিংয়ের ৬ষ্ঠ তলার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে প্রায় ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

উক্ত চুরির ঘটনায় শরিবার (২৩ নভেম্বর) রোমানা আক্তার আয়েশা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ তিনি উল্লেখ করেন যে, তার সৌদি প্রবাসী স্বামী কিছুদিন আগে সৌদি রিয়াল ও ডলার সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুদ রেখেছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকালে ভাড়াটিয়া বাসাটি তালাবদ্ধ করে তারা গ্রামে বেড়াতে যান। কিন্তু রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে বাসায় ফিরে দেখতে পান যে, বাসার দরজায় লাগানো তালা ভেঙে চোরেরা বাসার ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ৯,০০০ সৌদি রিয়াল, ১,০০০ ডলার, ৯ ভরি সোনার অলংকার এবং ৯,৮০,০০০ টাকা নগদ রয়েছে।

তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, বিল্ডিংয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এক মহিলা মুখে মাস্ক এবং ত্রিপিছ পরিহিত অবস্থায় বাসায় ঢুকতে এবং হাতে ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা যায়। সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে সন্দেহ করা হচ্ছে যে, বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা প্রহরী এবং চোরেরা মিলে এই চুরি সংঘটিত করেছে।

এ ঘটনায় পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

কুমিল্লায় ডাকাতি মামলায় চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

যাত্রী বেশে বাসে উঠে ধারালো চা-পাতি ও চুরি দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ গুরুতর আঘাত করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি ডাকাতির অপরাধে চারজনের প্রত্যেককে দু’টি ধারায় ১০বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন। সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার হীরাঝিল গ্রামের মৃত মোঃ আজিজের ছেলে রাতুল ওরফে কাউছার, একই জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারারকান্দি গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জামসেদ মোল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের দক্ষিণ পৈরতলার আবদুল হাকিমের ছেলে ইলিয়াস প্রকাশ সুমন ও নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব গ্রামের সরুফ মিয়ার ছেলে মোঃ সফিকুল ইসলাম প্রকাশ রফিক।

মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০১০ সালের ২০ জুলাই ঢাকা সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড হতে বাস ছেড়ে যায়। ডাকাতদল যাত্রীবেশে বাসে উঠে। মেঘনা ব্রিজ অতিক্রম করার পরপরই চা-পাতি ও ছোরা বের করে বাসটির চালককে গাড়ির স্টিয়ারিং হতে উঠিয়ে ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। যাত্রীদের উপর হামলা করে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। যাত্রীদের শোর চিৎকার করলে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ বাসটির পিছু ধাওয়া করে। বাসটি দাউদকান্দি আসলে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ গৌরীপুর বাস স্ট্যান্ডে ব্যারিকেড দিয়ে কয়েকজন ডাকাতকে আটক করে। এ ব্যাপারে ২০১০ সালের ২০ জুলাই চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার চন্দ্রাকান্দি গ্রামের কামাল হোসেন বাদী হয়ে ডাকাত রাতুল ওরফে কাউছার, জামসেদ মোল্লা, মোঃ সফিকুল ইসলাম রফিক ও ইলিয়াস প্রকাশ সুমন এবং পলাতক ডাকাত মোঃ ফারুক (২২) ও সোলায়মানসহ (২৫) অজ্ঞাতনামা আরও ৫ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রাতুল ওরফে কাউছার, জামসেদ মোল্লা, মো. সফিকুল ইসলাম রফিক, ইলিয়াস প্রকাশ সুমনের বিরুদ্ধে সাত বৎসরের সশ্রম ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তিন বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামি সোলাইমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অভিযোগের দায় হতে খালাস প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বাবু।